আপাততঃ খই ভাজি...

তুই জীবন ছাড়িয়া গেলি নিধূয়া পাথারে

২৭ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:২৯

শেয়ারঃ
0 0 0

গত বছর শীতের শেষদিকে আমি একটি বিনিদ্র রাত কাটিয়েছিলাম। আমার চোখের সামনে একটি রাতের জন্ম শুরু হয়। তার যৌবন পেরিয়ে যখন মধ্যবয়স তখন আমি ছাতে উঠে গেলাম। শুক্লপক্ষের তারাজ্বলা আকাশ। আমাদের পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়া নোংরা সিঁড়িঘরটা মোটেই সুন্দর দেখাচ্ছিল না তাতে। তবু সেই ঘরের বাইরের দেয়ালে ঠেস দিয়ে আমি বসে থাকি। ধীরে ধীরে রাত বুড়ো হতে থাকে। আমি অস্থির হই। আমার খুব ইচ্ছেকরে সমস্ত পৃথিবী হঠাৎ অন্ধকারে ডুবে যাক।

রাতের বয়স আরো বাড়ে। নগরের আলো ফ্যাকাশে হতে হতে একসময় মিইয়ে যায়। কেবল তারার সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে। লক্ষ লক্ষ তারার শাঁদেলিয়ের আমার চারপাশে ভুতুড়ে অন্ধকার জমাট বাঁধতে দেয় না। আমি ঠায় বসে থাকি। ভেতরের দেয়ালে একটা টিকটিকি ডেকে ওঠে সরে পড়ে দ্রুত... এক ঝলক বাতাস পেছনের দেবদারু গাছের পাতায় সড়সড়ে আওয়াজ তুলে মিলিয়ে যায়... অনেক দূরের কোন রাস্তায় জোরে হর্ণ বাজিয়ে ছুটে যায় কোন ট্রাক কিংবা ভারি লরি। তারপর একসময় সব চুপচাপ। একঘেয়ে নৈঃশব্দ নেমে আসে চারপাশে। আমার অদ্ভুত ভাল লাগতে শুরু করে সবকিছু। যথারীতি পুরনো সুখস্মৃতিরা এসে ভিড় জমালে সেই দূর্দান্ত রাতের হাওয়ায় সেসব ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে। রাত আরো গভীর হলে মদিরা বাতাসে আমার তন্দ্রামত আসে, হয়ত ঘুমিয়েও পড়ি।

...চোখ মেলে দেখি আরেকটি নতুন দিনের জন্মক্ষণ। মুয়াজ্জিনের আযান ভেসে আসছে। একটা, দু'টো করে শুরু হয়... তারপর একসাথে অনেকগুলো... আরেকটু পর আমি উঠে দাঁড়াই। পেছন দিকটায়, পূবাকাশে তখন পবিত্র আলো। তারও কিছু পর এই ইট-পাথরের স্তুপের শহরে সূর্য উঁকি দেয়। ভবিষ্যতের পথে নতুন আরেকটা দিনের যাত্রা শুরু হল। আমি অবাক তাকিয়ে দেখি... আমার চোখের সামনে সূর্যটা একটু একটু করে জেগে ওঠে... মাঝ আকাশের দিকে ডিঙি বায়...

ঠিক তখন অনেক অনেকদিন পর আমার খুব কান্না পায়। আমার পাঁচ বছরের ছোট্ট বয়স দরজার ওপাশ থেকে আমাকে ছুঁতে চায়। আমি তার কান্না কান্না মুখ দেখি কিন্তু আমার পা সরে না।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৫২
কৌশিক বলেছেন: ভাল লেগেছে লেগেছে লেগেছে।
কত বার লেগেছে কত বার বলবো!
৩. ২৭ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:১৭
তারেক রহিম বলেছেন: কৌশিকদা, ধন্যবাদ আপনাকে।
সাধারণের অসাধারণ লেগেছে জেনে ভাল লাগল।
৪. ২৭ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৩
ইরতেজা বলেছেন: দারুন দারুন...কি অসাধারন লিখেছেন। আমার মন বিষন্ন হয়ে গেল।
৫ দিলে পোষ্ট মান কমে যাবে তাও দিতাম।
তারেক ভাই ধন্যবাদ
৫. ২৭ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৪
তারেক রহিম বলেছেন: ইরতেজা, মন বিষন্ন হলে তো সমস্যা। আমিই দায়ী হয়ে যাচ্ছি! :(
৬. ২৯ শে জুন, ২০০৭ ভোর ৫:৩২
তুমান বলেছেন: অসাধারন অসাধারন এবং অসাধারণ।
৮. ০৬ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৪
আপন তারিক বলেছেন: তারেক ভাই আপনার লেখার হাত দুর্দান্ত! এমন লেখা আরো চাই।
৯. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ৭:৩১
মানবী বলেছেন: চমৎকার লেখা, শিরোনামটি আরো ভালো হয়েছে। ধন্যবাদ তারেক রহিম।
১০. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ৭:৪৩
তারেক রহিম বলেছেন: ধন্যবাদ তারিক ভাই।
ধন্যবাদ মানবী।
১১. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ৮:১৫
এস্কিমো বলেছেন: ভাল লেগেছে। ব্লগের ফাকে ফাকে বড় করে লিখুন এবং ওয়েব ফোরামে দিন।

ব্লগের জীবন কাল কয়েক ঘন্টা মাত্র ...আর ওয়েব পোর্টালে অন্তত কিছু দিন থাকবে ...মানুষ ধীরে সুস্থে পড়তে পারে ...উপভোগ করতে পারবে।

লেখে যান...
১২. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪১
তারেক রহিম বলেছেন: পোর্টালে দেওয়ার মত লেখালেখি হয় না আসলে। মাঝে মাঝে লিখি, তবে ফাজলামো করতেই আমার বেশি ভাল লাগে

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২২৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কত আর পথ চাওয়া সুদিনের
বাড়ে শুধু ঋন প্রতিদিনের
শুধুই দীর্ঘশ্বাস, মেঘলা অমন আকাশ
হারিয়েছে সূর্যের প্রয়োজন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ