আমার প্রিয় পোস্ট
- দ্য সান অলসো রাইজেস - মাসকাওয়াথ আহসান
- কাজি গলির মেসবাড়ি (হোসেইনকে দেয়া হোসেইনের কবিতাঞ্জাল) - হোসেইন
- সময়ের গোলমাল ও ট্রানসেনডেন্ট ঈশ্বর - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- চোরের স্রষ্টার পক্ষ থেকে কৈফিয়ত - চোর
- একটি মোবাইলঘটিত দুর্ঘটনা - হিমু
- অসমাপ্ত গল্পচিন্তায় অস্থিরতা - হিমু
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
- একজন বিভ্রান্ত বেজন্মা ও কিছু অসংলগ্ন প্রলাপ - অরূপ
- গোয়েন্দা ঝাকানাকা (আগের 7 খন্ড + শেষ খন্ড = অখন্ড) - হিমু
ছাইপাশের খসড়া
২৯ শে জুন, ২০০৭ রাত ১১:১৮
নিমগ্ন অতীতের সুরে সহজিয়া বিষন্নতার ডাক ছেলেটিকে অবিরাম ডেকে চলেছে। শঙ্খশুভ্র মেঘের ভীড়ে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া অথবা দৃশ্যমান দিগন্তের বাঁকে আবার ফিরে আসা অব্যক্ত কথামালার দূর্বিষহ যন্ত্রণা ছেলেটির ফুসফুসে অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে দেয়। কয়েক সেকেন্ড পরে তার ঘোলাটে চোখের দৃষ্টি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসলে ঐ সময়ের মধ্যেই - কাছে কোন গাছের পাতা ঝরে পড়ে... রাস্তায় কিছু নুড়ি গড়িয়ে যায়... দল বেঁধে একঝাঁক পাখি হারিয়ে যায় কোথাও এবং একটি নিঃসঙ্গ চিলের গতিপথে আরেকটা অর্ধবৃত্ত সম্পূর্ণ হয়ে আসে প্রায়।
শীর্ণ পা, মাথাভর্তি ফ্যাকাশে কাল চুলের ছেলেটা এসবের কিছুই খেয়াল করে না। আরেকটু ভাল বোধ করলে ময়লা চটের থলেটা কাঁধে ঝুলিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হাঁটতে শুরু করে। সামনের দীর্ঘ পথ তাকে মনে করিয়ে দেয় দূরের মজা পুকুরের কচুরিপানার ফুল, আষাঢ়ের উঠোন ছেয়ে যাওয়া কৃষ্ণচূড়ার বিছানো চাদর নয়ত বয়সী হেমন্তের সকালে ন্যাড়া জমিনের আল ধরে ধবলডাঙার বাজারে নতুন খেজুড় রসের হাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে নাকে লেগে থাকা ভেজা খড়ের গন্ধ। ফেলে আসা রোমাঞ্চকর সময়ের টানে চলার গতি দ্রুত হয় তার। একসময় কাঁধ থেকে থলেটা খসে পড়লে সে দৌঁড়ুতে শুরু করে... চোখ মেলে রাখতে কষ্ট হয়, ভিজে আসে উজানবাতাসের ধাক্কায়। মাথার উপরে উড়তে থাকা চিলটা এ ফাঁকে বর্ধিত ব্যাসের কয়েকটা বৃত্ত পুরো করে ফেলে। দম ফুরিয়ে আসছে টের পায় সে... তবু থামে না... দ্রুততর হতে থাকে গতি...
তার মতই নামগোত্রহীন, দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া টুকরো ইট, ভাঙা ডাল অথবা ওরকমই অন্য কিছুতে হোঁচট খেয়ে ছেলেটা পড়ে যায় একসময়। বরাবরের মত দিগন্তটা ধরাছোয়াঁর বাইরে থেকে গেল এবারও; যথারীতি ব্যর্থ এবং অসফল। তার উদ্ভ্রান্ত দৌঁড়, সিক্ত মুখের ঘাম, চোখের পানি কিছুই আলাদা করা যায় না আর... সেই স্থবির মুহূর্তে ছেলেটার ধূলিমলিন মুখে এক টুকরো অনুভূতিশূণ্য জড় হাসি খেলে যায়; ক্লান্ত চোখের মণি ছোট হয়ে আসে ক্রমশঃ...
সেই ভর দুপুর রোদে অলক্ষ্যে একটা উল্কাপতন হল। কেউ কেউ জানল, কেউ জানলোই না।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০০৭ ভোর ৬:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
তারেক রহিম বলেছেন:
দুই দিন ধরে জ্বর। কিছু ভাল লাগছে না। এটা লেখা হল আজ সকালে। খসড়া! কি লিখতে চেয়েছিলাম ছাই নিজেই জানি না।
তুমান বলেছেন:
হুমমমমমমমম
অবরজ বলেছেন:
কঠিন লেখা! আমি কিছু কিছু বুঝছি
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
বেশি করে লেখেন জ্বর ভালো হয়ে যাবে।শরীর খুব বেশি খারাপ লাগলে পিয়া ভাবরী শুনেন, মন খারাপ হতে হতে ভালো হয়ে যাবে, লেখারও খোরাক পাবেন আশা করা যায়।
লিংক না থাকলে এখানে ট্রাই করতে পারেন।
http://dishant.com/jukebox.php?songid=22549
তারেক রহিম বলেছেন:
ধন্যবাদ ধূসরদা, জ্বর এখন অনেকটাই ভাল। চারদিক কেমন হাসিখুশি।গানটা পেলাম না। রেজিস্টার করতে হবে মনে হয়। ঐ হ্যাপার মধ্যে আর যেতে ইচ্ছা করছে না এখন।
খালেক সাজেদিন বলেছেন:
আপূর্ব উপমা আর শব্দ চয়ন।খসড়ার মাঝেই আমি নাকে ভেজা খড়ের গন্ধ পেয়ে গেছি-মূল হলে তো খেজুরের রসই খেয়ে ফেলব মনে হচ্ছে।
তারেক রহিম বলেছেন:
খাইছে। ভেজা খড় জোগাড় করা তো তবু সহজ। কিন্তু এই ঘোর আকালে খেজুড়ের রস কই পাবেন?
কৌশিক বলেছেন:
অদ্ভুত সুন্দর। গ্রেট। আপনার লেখা নিয়ে কনফিউসনের কিছু নেই। কনফিউজড হতে হবে এখন আমার নিজের লেখার মান নিয়ে। গুড ওয়ার্ক, ব্রেভো ফ্রেন্ড!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















