ডাক্তার টুটুলের মা নভেরা খাতুনের সাক্ষাৎকার

১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১২

শেয়ারঃ
0 1 0

নিচের সাখ্খাতৎকারটি http://www.ukbengali.com থেকে নেয়া।
আমি পাঠকদের জন্য সরাসরি তুলে দিলাম।
http://www.ukbengali.com কে ধন্যবাদ।
----------------------------------------------------------------------------------

আল্লাহ আমার ফরিয়াদ শুনলো নাঃ
ডাক্তার টুটুলের মা নভেরা খাতুনের সাক্ষাৎকার

গত ২৫ জুলাই সকালে রাপিড এাকশন ব্যাটেলিয়ান ফৌর্সের [রাব] সদস্যরা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) সম্পাদক ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুলকে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে। তবে সংবাদ মাধ্যমের কাছে তথ্যটি গোপন কের কর্তৃপক্ষ। ডাঃ টুটুলকে আটক করার খবর পাবার পর ছেলেকে 'ক্রসফায়ারের' হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সাংবাদিক সমেমলন করে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তার মা নভেরা খাতুন। কিন্তু মায়ের আর্তির প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি বাংলাদেশ রাষ্ট্র। ২৭ জুলাই ভোর রাতে রাজশাহীর তানোতে তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধে পুলিসের হাতে নিহত হন ডাঃ টুটুল।

কয়েকদিন আগে টুটুলের মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিলো ইউকেবেঙ্গলির বিশেষ প্রতিনিধির। আলাপচারিতার বিবরণ পড়ূন নিচেঃ

ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনি কেমন আছেন?

নভেরা খাতুনঃ আমার বয়স হয়েছে। বিভিন্ন রোগে ভূগছি। বুড়ো বয়সে এতোটা আঘাত পাবো ভাবিনি। আমার ছেলের মৃত্যু নিয়ে কথা বলার মতো বাকশক্তি এখন আর নেই। কোথায় আগে মরবো আমি, সে-মরা মরলো ও। আমি আল্লাহ'র কাছে রাত-দিন কাঁদতাম - আল্লাহ, ও মরার অন্ততঃ একদিন আগে আমাকে নিয়ো। কিন্তু আল্লাহ আমার ফরিয়াদ শুনলো না।

ইউকেবেঙ্গলিঃ আমরা সংবাদ-মাধ্যমে জানতে পারলাম ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুলকে রাব ২৫ জুলাই রাতে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে। পরে আবার ২৭ জুলাই সংবাদ-মাধ্যমেই জানলাম তার মৃত্যুর খবর। পুলিস-রাব গ্রেফতারের খবর অস্বীকার করে আসছিলো। প্রকৃত ঘটনা কী?

নভেরা খাতুনঃ ঢাকার উত্তরা থেকে সে গ্রেফতার হয়নি, গ্রেফতার হয় মিরপুর থেকে। মিরপুরের ৮ নং রোডে ডি ব্লকের ৬ নং সেকশনের একটি বাড়ী থেকে আমার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানতে পেরেছি। ওকে ২৫ জুলাই রাতে গ্রেফতার করা হয়নি, ২৫ জুলাই সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরের দিন সকালে অর্থাৎ, ২৬ জুলাই সকালে আমাদের বাড়ী পুলিস আসে। পুলিস ওর বাবার সঠিক পরিচয় যাচাই করে। তখন আমার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে পুলিসই আবার টুটুলকে গ্রেফতারের খবর আমাদেরকে দেয়। তখন আমি আমার আত্মীয়-স্বজন ও নিকট-জনদের নিয়ে ঝিনাইদহ ডিসি অফিসে স্মারকলিপি দিতে যাই এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করি। রাব ও পুলিস তখন পর্যন্ত সংবাদ-মাধ্যমের কাছে টুটুলের গ্রেফতারের তথ্য গোপন করে। তারা হয়তো ভেবেছিলো গ্রেফতারের খবর গোপন রেখে খুব সহজে তাকে হত্যা করা যাবে। যে-ভাবে আর সব ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে ও-রকম কিছু একটা করে ফেলবে। কিন্তু যখন দেখা গেলো টুটুলকে বিনা-বিচারে হত্যা করার আগেই অনেকে কথা বলছে, প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তখনই কর্তৃপক্ষ টুটুলের গ্রেফতারের খবর অস্বীকার করতে শুরু করলো। তবে আরও প্রতিবাদ হবার আগেই হত্যা করা হয়।

ইউকেবেঙ্গলিঃ ডাঃ টুটুল গ্রেফতার হবার পর বিনা বিচারে হত্যা ঠেকানোর জন্য আপনি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক-লিপি নিয়ে গিয়েছিলেন। আপনি আপনার সন্তানকে প্রচলিত আইনের মুখোমুখি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক আপনার স্মারক-লিপি গ্রহন করেননি। কেনো তিনি স্মারক-লিপি গ্রহন করেননি?

নভেরা খাতুনঃ আমরা জেলা প্রশাসকের বাসায় ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় স্মারক-লিপি দিতে যাই। কিন্তু তার পিএ স্মারক-লিপি নিতে অস্বীকার করেন। পরের দিন সকাল ৯টায় অফিস খুললে স্মারক-লিপি দিতে বলেন। আমাদের পক্ষ থেকে বারবার স্মারক-লিপি গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। তবু স্মারকলিপি নেয়া হয়নি। পরের দিন স্মারক-লিপি দেয়ার কোনো প্রয়োজনও ছিলো না। স্মারক-লিপি না-নেয়াটা ছিলো পূর্ব-পরিকল্পনা-প্রসূত। স্মারক-লিপি গ্রহণ না-করার ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, আমার ছেলেকে হত্যা করার পরিকলপনা আগেই করে ফেলা হয়েছিলো।

ইউকেবেঙ্গলিঃ জেএমবি-হরকাতুল জেহাদ, বাংলা ভাই-আব্দুর রহমান সারা দেশে বোমা ফাটিয়ে দেশকে ফেলার পরেও তাদেরকে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় আওতায় আনা হয়েছিলো। কিন্তু আপনার ছেলেকে সে-সুযোগ দেয়া হয়নি। এ-ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

নভেরা খাতুনঃ কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রের আইনানুযায়ী আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেই কেবল তিনি শাস্তি পেতে পারেন। জেএমবি একটি নাটক ছিলো বলে আমার মনে হয়। এ-সব নাটক বিদেশীদের দ্বারা ঘটানো হয়। কিছু মানুষ আছে, যারা এ-নাটকে না বুঝেই অংশগ্রহণ করে। আমি কোনো প্রকার বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি না। তবুও এটা বলবো যে, জেএমবির প্রতি সরকারের আচরণ পক্ষপাতমূলক।

আর একটা কথা বলতে চাই। তা হলো, সশস্ত্র ধারার বামপন্থী কমিউনিস্ট আন্দোলন ঠিক-না-বেঠিক তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে এদের সততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিথ্যাচার করা হবে।

ইউকেবেঙ্গলিঃ বিনা-বিচারের হত্যাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

নভেরা খাতুনঃ এটা যার করছে তারা এক অর্থে রাষ্ট্র রাষ্ট্রদ্রোহীতার কাজ করছে। প্রত্যেকটি মানুষের আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত। তা না হলে আমরা আর সভ্য হলাম কী-করে? যারা বিনা-বিচারের হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তাদের বিচার হওয়া উচিত - তারা রাষ্ট্রদ্রোহী।

ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনার ছেলের সম্পর্কে কিছু বলুন।

নভেরা খাতুনঃ একেবারে ছেলেবেলায় ও খুব দুষ্টু ছিলো। তবে মেধাবীও ছিলো। হাইস্কুলে পড়াকালীন সময় থেকে সে ধীর-স্থির হতে থাকে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পড়া-কালীন সময় সে কমিউনিস্ট রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে। মেডিক্যাল কলেজে পড়া শেষ না করেই সে পুরোপুরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তে চেয়েছিলো। ওর বাবা তখন ওকে বললো, তোমার পিছনে এতো টাকা খরচ করলাম, তুমি অন্ততঃ ডাক্তারী পাসটা করো। ডাক্তারী পাস করার পর টুটুল একদিন ওর বাবার সামনে এসে বললো, 'এই নাও তোমার ডাক্তারী পাশের সার্টিফিকেট।' এরপর ওর বাবা ওকে চাকুরীতে ঢোকার জন্য খুব পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। টুটুল মাত্র ১ মাস সরকারী চাকুরী করে। এরপর থেকে পুরোপুরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

আমার এক ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়েটা মাস্টার্স পাস করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-কালে তার বিয়ে হয়। আর টুটুল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে। আমাদের আশা ছিলো, ও প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হবে। আমাদের একটি সুখী পরিবার হবে। কিন্তু কমিউনিস্ট রাজনীতিতে ঢুকে চাকুরীতো করলোই না, উপরন্তু গরীব মানুষের উপকার করতে গিয়ে আমাদের বেশির-ভাগ জায়গা-জমি বিক্রি করে দিলো। এখন আমি একাই থাকি। বাজারে ঘর আছে; সেখান থেকে ভাড়ার কিছু টাকা পাই। মাঠে অল্প কিছু জমি অবশিষ্ট আছে, সেখান থেকে কিছু পরিমাণ শষ্য আসে।

টুটুল খুলনার ফুলতলায় আমাদের এক এক দূর-সর্ম্পকীয় আত্মীয়ের লুসিকে বিয়ে করে। বিয়ের পর লুসি বেশ কয়েক বছর পার্টির সাথে জড়িত ছিলো। ওদের একটি সন্তান হয়। নাম রাখে পিতুল। পিতুলকে লালন পালনের জন্য লুসি পার্টি করা থেকে বিরত থাকে। পরে একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকুরী নেয়। প্রায় ১২ বছর বিবাহিত জীবন কাটানোর পরে লুসি- টুটুলের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। পিতুল গত বছর এইসএসসি পাশ করেছে।

টুটুল একটি শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার কথা বলতো। আমি বলতাম বড়োলোকেরা তাদের সম্পদ ত্যাগ করবে না। তুই তাদের শত্রু হয়ে যাবি। সরকারও বড়োলোকদের পক্ষে থাকবে। ওরা তোকে বাঁচতে দিবে না। শহীদকে (মোফাখকার চৌধুরী) ক্রসফায়ারে হত্যা করার পর পুলিস এসে খবর দেয় টুটুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে জানা যায়, ওটা ছিলো ভুল খবর। এরপর ওর সাথে যোগাযোগ হলে বলি, শহীদকে ওরা হত্যা করেছে এবার কিন্তু তোকে খুঁজে বের করবে। তোকে বাঁচতে দেবে না। আমি জমি বেঁচে তোকে টাকা দিচ্ছি; তুই বিদেশে চলে যা। আমার কথা শুনে ও চুপ করে থাকতো আর মিটমিট করে হাসতো।

ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনারা কি দেশের প্রচলিত আদালতে এ-হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো আইনী লড়াইয়ে যাবেন?

নভেরা খাতুনঃ এ-বয়সে আমার পক্ষে দৌড়াদৌড়ি করাটা বেশ কষ্টকর। আমার সে-শারীরিক ক্ষমতা নেই। ছেলে বেঁচে থাকলে তার জন্য তবুও ছুটতাম, শেষ সময় পর্যন্ত আমি চেষ্টা করেছি। ঝিনাইদহ আদালতে কেইস করা হলে আমি দৌড়াতে পারবো। কিন্তু ঢাকায় যেয়ে আমার পক্ষে দৌড়ানোটা খুব কঠিন। তবে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা যদি এ-হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য এগিয়ে আসে তবে আমি তাদের স্বাগত জানাবো।

ইউকেবেঙ্গলিঃ ডাঃ টুটুলের সংগঠন জনগণের উপরে নির্যাতন চালায় ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে বলে বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। এ-ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

নভেরা খাতুনঃ পত্রিকায় লাল পতাকা সর্ম্পকে বানোয়াট রিপৌর্ট করানো হতো। পত্রিকাতো ওদের দলের মতামত প্রকাশ করতো না। টুটুল দুনিয়ার মানুষের উপকার করে বেড়াতো। ওর মুখের দিকে তাকালে, ওর চেহারা দেখলে কেউই বলতে পারবে না ও কোনো খারাপ কাজ করতে পারে। যে-মানুষটা ডাক্তারী পাস করার পর নিজের সুখ-সাচ্ছন্দ্য না দেখে গরীব মানুষের জন্য কাজ করতে গেলো, সে-খারাপ লোক হয় কী-করে?

ইউকেবেঙ্গলিঃ ডাঃ টুটুল সম্পর্কে এলাকাবাসীর ধারণা কী?

নভেরা খাতুনঃ এলাকাবাসীর কাছেই জিজ্ঞেস করুন তারা টুটুল সম্পর্কে কী ধারণা করে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে - শুধু এটা বলতে পারি।

আপলৌডঃ ১২ আগস্ট, ২০০৮

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নভেরা খাতুনের সাক্ষাৎকার ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৬
আলী বলেছেন: বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক
২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩২
ঐক্যতান বলেছেন: বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক
৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১
সৌমিত্রমজুমদার বলেছেন:
তরিকুল ভাই
আপনার একটা তথ্য ভুল আছে। সেটা হলো ডাঃ টুটুলকে রাজশাহীর তানোতে না ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে নওগঁার রানীনগরে।
১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৫১

লেখক বলেছেন: ভাই সৌমিত্র,

এটা তো আমার তথ্য না।শুরুতেই বলেছি সাক্ষাৎকারটি http://www.ukbengali.com থেকে সরাসরি নেয়া।

৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৯
রবিউলকরিম বলেছেন: পড়লাম। কিন্তু কেন যেন সুপারইমপোজ মনে হলো। তিনি যেভাবে কথা বললেন, যে ভাষায় কথা বলেছেন তা মেকি মনে হলো। এটা নিশ্চয় এডিট করা হয়েছে। তা না হলে এরকম মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক।
১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনার সন্দেহ http://www.ukbengali.com কর্ত্ৃপক্ষকে জানান।এটা এডিট করা কিনা তা আমার একেবারেই জানা নাই।
ধন্যবাদ।

৫. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০৩
নীলাদ্র বলেছেন: বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক
৬. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১০
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: ডা: টুটুলের প্রতি শ্রদ্ধা।
কিন্তু সন্তানহারা কোন মা এইরকম গুছিয়ে কথা বলেছে,তা একটু কৌতুহলোদ্দীপক।
বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক।
৭. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১২
খোমেনী ইহসান বলেছেন: মধ্যবিত্ত বোধাইরা নিজেদের যে কী মনে করে!

‌'কিন্তু সন্তানহারা কোন মা এইরকম গুছিয়ে কথা বলেছে,তা একটু কৌতুহলোদ্দীপক।' এমন মন্তব্য করার মাধ্যমে কী কারও বিশেষ ওজন প্রকাশ পায়?
একজন বিপ্লবী তাত্ত্বিকের মা এভাবে কথা বলতে পারেন না, সাক্ষাৎকার দিতে পারেন না এটা ভাবার কোনও কারণ আছে। সন্তানহারা মা তত্ত্ব প্রয়োগ করে কী তার রাজনৈতিক চেতনাকে অস্বীকার করা হচ্ছে না। যারা করছেন তাদের উদ্দেশ্য কী?
৮. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: @খোমেনী ইহসান, বক্তব্যটা বুঝে কমেন্ট করলে মনে হয় ভালো হতো।

এইখানে বিপ্লবী তাত্ত্বিকের মায়ের মানসিক গড়ন কিংবা গঠন নয়, তাঁর
মানসিক অবস্থার প্রতি ইনডিকেইট করা হয়েছে।বাক্যে "সন্তানহারা"
শব্দটা কি আপনার চোখে পড়েনি?

এক বৃদ্ধ মহিলার সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে,তাও নিষ্ঠুরভাবে তার আর্জি-আর্তিকে উপেক্ষা করে।সে যে মানসিকভাবে ভেংগে পড়বে এইটাই স্বাভাবিক।মানসিকভাবে ভেংগেপড়া মানুষ এতো গুছিয়ে কথা সচরাচর বলতে পারার কথা না।

না বুঝে কাউকে মধ্যবিত্ত বলে গালি দেয় তারাই,যারা আপনার ভাষায় মধ্যবিত্ত বোধাই।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৫

লেখক বলেছেন: আসলে আমার মনে হয় সন্তানহারা মানসিকভাবে ভেংগেপড়া মানুষও গুছিয়ে কথা বলতে পারেন যদি তার স্বভাবে রাজনৈতিকতা থাকে।আবার ভেংগে পড়লেও উনি যে মচকান নাই তা বোঝা যায়।

৯. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৯
খোমেনী ইহসান বলেছেন: আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: @খোমেনী ইহসান, বক্তব্যটা বুঝে কমেন্ট করলে মনে হয় ভালো হতো।
কী মনে করেন? নিজেই সব বুঝেন?
মিঞা বোধাই কোথাকার। ডা. টুটুলের মা যে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বেন এই বিদ্যা কোথায় পাইলেন। এই ধর্ম বিদ্যা হচ্ছে মারধর করে বিপ্লবী চিন্তা ও লড়াইকে থামিয়ে দেয়া যায় এমন ধরণের বাঝে ভাবনা। এই ভাবনার সমর্থকরা সন্তানহারা মায়ের অসহায় মন বুঝতে চেয়ে মধ্যবিত্তীয় রোমান্টিক ভন্ডামিই ফেরি করে। কিন্তু তারা কখনও বুঝতে চায় না যে, একজন শোকার্ত মা ইনসাফের জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রকাশ করতে পারেন, আর সব লড়াকু মানুষকে উদ্বুব্ধ করতে পারেন। তারা মূলত চায় ডা. টুটুলের আচল পেচিয়ে নাকি কান্না কেঁদে কারও দয়া ভিক্ষা করুক।

'না বুঝে কাউকে মধ্যবিত্ত বলে গালি দেয় তারাই,যারা আপনার ভাষায় মধ্যবিত্ত বোধাই। ' এসব ফালতু প্রবোধ নিয়া নিজেকে কী রক্ষা করা যায়। বরং আপনার উচিত ছিল ডা. টুটুলের মায়ের সাক্ষাৎকারের ব্যাপারে অভদ্রভাবে সংশয় প্রকাশ করে যে নীচতার পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা। ]
আকলমান্দ ইশারা লিয়ে কাফি।
১০. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: @ত,হু, "বিপ্লবীর মা" যে "বিপ্লবী মা" হবে কিংবা হতেই হবে এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম আছে।কাউকে ধরে বেধে বিপ্লবী বানানো কিন্তু হীতে বিপরীত হতে পারে যদিও এই রোমান্টিক ট্রেন্ড আমাদের সমাজে কাজে কর্মে ঠনঠন শুধু ভাবনায় বিপ্লবীদের মধ্যে ব্যাপক অর্থে
বিদ্যমান।ফিদেল ক্যাস্ট্রো'র পিতা-মাতাও ছিলো নিষ্ঠাবান খ্রিষ্ঠান।
বিপ্লবী অবস্থান হতে তাদের অবস্থান ছিলো ৮০ হাত দূরে। তাই বলে,
"ডা: টুটুলের মা বিপ্লবী নন", এই ররকম বাক্যও আমি নিশ্চিত হয়ে
লিখে নাই।আমার যা বক্তব্য তার সোর্সও এই সাক্ষাৎকার।

"টুটুল একটি শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার কথা বলতো।আমি
বলতাম বড়োলোকেরা তাদের সম্পদ ত্যাগ করবে না। তুই তাদের
শত্রু হয়ে যাবি। সরকারও বড়োলোকদের পক্ষে থাকবে। ওরা তোকে বাঁচতে দিবে না"। এই কথাগুলো ডাক্তার টুটুলের মা নভেরা খাতুনের, যা পাঠে সন্তানের নিরাপত্তা চিন্তায় উদ্বিগ্ন মায়ের ছবিও ফুটে ওঠে।

দ্বীতিয়ত সাক্ষাৎকারটি অনুলিখন এমনটাও বলা নাই।সাক্ষাৎকার দিতে অনভ্যস্ত লোকের সাক্ষাৎকার অনূলিখন হিসেবে পত্রিকায় ছাপা হয়।জাতীয় দৈনিকগুলোতে এটা দেখা যায়।আমি ধরেই নিচ্ছি নভেরা
খাতুন সাক্ষাৎকার প্রদানে নিয়মিত নন।সবকিছু বিবেচনায় মন্তব্যটা করেছি।

@খো,ই,
নতুন বিপ্লবী হিসাবে নাম কামাইতে চান মনে হয়।অভিনন্দন রইলো।
আশা করি,এই বিপ্লবী চেতনা শুধু ব্লগে সবকিছুর বিপ্লবী কিন্তু ভুল
ইন্টারপ্রেটেশনে ব্যবহৃত হবেনা।আর বাংলা ভাষা নিয়ে আরো পড়াশোনার দরকার আছে আপনার।

আপনি লিখেছেন"অভদ্রভাবে সংশয় প্রকাশ করে যে নীচতার পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা"।দেখাযাক কি ছিলো
আমার বক্তব্য "কিন্তু সন্তানহারা কোন মা এইরকম গুছিয়ে কথা বলেছে,
তা একটু কৌতুহলোদ্দীপক"।আপনি কৌতুহলোদ্দীপক কথাটার অর্থ
কি বলেন তো।কৌতুহলোদ্দীপক কথাটার সন্ধিবিচ্ছেদ হলো:কৌতুহল + উদ্দীপক।সারাংশ করলে কি দ্বারায়, কোন ব্যাক্তি বা বিষয় সম্পর্কে
জানার আগ্রহ।আপনারে জিগায়, কৌতুহল শব্দটা পজিটিভ অর নেগেটিভ কোন ইন্টারপ্রেটেশনে ব্যবহৃত হয়? আমি কিন্তু জানি সংশয়
নেগেটিভ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আর আপনাকে মধ্যবিত্ত বলে নিজেকে সান্তনা দেয়নি,আপনাকে গালি
ফিরিয়ে দিয়েছি।আপনার টোনে মধ্যবিত্ত গালি হিসেবে ব্যবহৃতহয়েছে
এইটা বোঝার মতো বুদ্ধি আমার আছে।



১১. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০১
তরিকুল হুদা বলেছেন: @ আহা শিমুল: আপনি কইছেন,"............. "বিপ্লবীর মা" যে "বিপ্লবী মা" হবে কিংবা হতেই হবে এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম আছে।কাউকে ধরে বেধে বিপ্লবী বানানো কিন্তু হীতে বিপরীত হতে পারে যদিও এই রোমান্টিক ট্রেন্ড আমাদের সমাজে কাজে কর্মে ঠনঠন শুধু ভাবনায় বিপ্লবীদের মধ্যে ব্যাপক অর্থে
বিদ্যমান।ফিদেল ক্যাস্ট্রো'র পিতা-মাতাও ছিলো নিষ্ঠাবান খ্রিষ্ঠান।
বিপ্লবী অবস্থান হতে তাদের অবস্থান ছিলো ৮০ হাত দূরে। তাই বলে,
"ডা: টুটুলের মা বিপ্লবী নন", এই ররকম বাক্যও আমি নিশ্চিত হয়ে
লিখে নাই।আমার যা বক্তব্য তার সোর্সও এই সাক্ষাৎকার।"

না কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নাই।আর উনারে "বিপ্লবী মা" আমি বলি নাই।ফিদেলের বাপ মার নিষ্ঠাবান খ্রিষ্ঠান হওয়া আর বিপ্লব হইতে ৮০ হাত দুরে থাকার মধ্যে আপনি কি সম্পর্ক দেখাইবার চান ব্যাখ্যা করেন। আপনার মতো মহাবিপ্লবিরে কই শোনেন, ফিদেলের বন্দ্ধু চে'র ল্যাটিন আমেরিকায় অনেক 'নিষ্ঠাবান খ্রিষ্ঠান' বিপ্লব থেকে ১ চুলেরও কম দূরত্বে নিজেদের অবস্থান নামায়া আনবার চেষ্টা করছিলেন।ইতিহাসে উনাদের চিন্তা Liberation Theology বলে খ্যাত।আর বিখ্যাত টমাস মুনজের কৃষক বিদ্রোহের ডাক দিছিলেন বাইবেল হাতে নিয়া, যারে নিয়া আঙ্গেলস লিখছেন 'জার্মানীর কৃষক বিদ্রোহ'।

ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব আর বিপ্লবের সম্পর্ক এমন অবশ্যম্ভাবী বৈরী ভাবে দেখার মধ্যে চিন্তাগতভাবে অনেক ভুল আছেরে ভাই।তার চাইতে সম্পর্কটা দান্দ্বিকভাবে স্হাপন করে, স্বভাবের দিক থেকে নানা মিল অমিল খেয়াল রেখে,ইতিহাসের ভিতরে এদের গতি বাক ইত্যাদি হিসাব করে বিচারটা করা উচিত,তাই না?আর 'বিপ্লব' জিনিসটা কি খায় না পরে....আসলে এটা কেমন? সেটাও পরিস্কার করা দরকার।তাই আলোচনা করি অযথা ভূল না ধরে.......তাতে সময়টা কিছু কাজে লাগবে।ধন্যবাদ।
১২. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:২৩
মনজুরুল হক বলেছেন: মাফ করবেন। আপনারা সম্ভবত একটা নিরাপদ এ্যাঙ্গেল থেকে বিষয়টি দেখছেন।টুটুলে মা নিশ্চই বিপ্লবী নন,আবার আর দশজন সাধারণ মায়ের মতও নন।৩০/৩২ বছর ধরে তার ছেলে বিপ্লবী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, সেই ছেলে কে যে মা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে একের পর এক জমি বিক্রি করে টাকা তুলে দিতেন সেই মা কোন তুল্য বিচারে নয়, আদর্শীক ভাবেই গোর্কীর সেই পাভেলের মায়ের মত।

যদিও এধরণের স্বাক্ষাৎকার এডিট হয়েই রিলিজ হয়, তার পরও মনে রাখা দরকার টুটুলদের বাড়ি যেখানে, সেখানকার মানুষ সাধারণত প্রমিত বাংলায় কথা বলে। জায়গাটা এক সময় নদীয়া-শান্তীপুরের অর্ন্তগত ছিল।ভদ্রমহিলা লেখাপড়াও জানেন। তার বাপের বাড়ি খুলনার ফুলতলাও বিপ্লবী রাজনীতির পরিচিত ক্ষেত্র। ওই মায়ের ভাইয়ের ছেলেদের তিন ভাইয়ের একজন 'ক্রসফায়ারে' মারা গেছে, দ্বিতীয় জনের একটি হাত বোমা মেরে ইড়িয়ে দেয়া হয়েছে, এবং তৃতীয় জন নিখোঁজ ! এই উত্তরাধিকারের একজন মানুষ নিয়ে বোধহয় আমরা........

যাগ্গে, লেখাটার উদ্দেশ্য বোধহয় অন্যকিছু, বুঝি না, অনেক কিছুই বুঝি না।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৭৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই