somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিডিআরের বিদ্রোহ বিষয়ে ১২ জন নাগরিকের একটি বিবৃতি
-----------------------------------------------------------------------------

২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে বিবৃতি
তারিখ : ০৯ মার্চ ২০০৯
২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশার্থে ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি নিম্নলিখিত বিবৃতি প্রদান করেছেন। এরাঁ হলেন : বদরুদ্দীন উমর (চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক), ফরহাদ মজহার (কবি ও প্রাবন্ধিক), ডা. ডট আলী (চিকিৎসক) প্রাণেশ সমাদ্দার (সাংস্কৃতিক সংগঠক), ড. আকমল হোসেন (অধ্যাপক), মামুনর রশীদ (নাট্যকার), শিবলী কাইয়ুম (রাজনীতিক), ফয়জুল হাকিম (রাজনীতিক), সজিব রায় (শিক্ষক), আদিলুর রহমান খান (আইনজীবী), হাসিবুর রহমান(অধ্যাপক) ও মাসুদ খান(রাজনীতিক)
১.
২৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকার বিডিআর হেড কোয়ার্টারে এক বিদ্রোহ হয়েছে। বেতন ভাতা রেশনের স্বল্পতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অভাবের বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন বিডিআর জওয়ানদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। তাদের চোখের সামনে অফিসারদের সুযোগ সুবিধার প্রাচুর্য ও দুর্নীতি তাদের মধ্যে এই ক্ষোভ তীব্রতর করছিল। এর প্রতিকারের জন্য জওয়ানরা অফিসারদের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবী দাওযা পেশ করার চেষ্টা করলেও তাঁদের চেষ্টা সফল হয় নি।
বিডিআর জওয়ানদের দাবী দাওয়াগুলি সঙ্গত ও তার ন্যায্যতা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। এই ন্যায়সঙ্গত ও ন্যায্য দাবী দাওয়া দীর্ঘদিন ধরে অপূর্ণ থাকা ও সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের উপেক্ষা তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র করতে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। অর্থাৎ ক্ষোভ পরিণত হয় বিদ্রোহে।
ক্ষোভের মধ্যে স্বতস্ফুর্ততা থাকলেও এবং ক্ষোভকে অবলম্বন করে বিদ্রোহ ঘটলেও বিদ্রোহ কখনো নিতান্ত স্বতস্ফুর্তভাবে হয় না। তার জন্য উদ্যোগ প্রয়োজন হয় এবং সে উদ্যোগ অল্প সংখ্যক লোকই গ্রহণ করে থাকে। ২৫ ফেব্রুয়ারীর বিডিআর বিদ্রোহ এদিক দিয়ে কোন ব্যতিক্রম নয়।
বিডিআর জওয়ানদের বঞ্চনা ও ক্ষোভকে অবলম্বন করেই বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই বিদ্রোহ অল্প সময়ের মধ্যেই যেভাবে সহিংস আকার ধারণ করে নিরস্ত্র অফিসারদের নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এটা এই ধরনের বিদ্রোহের কোন স্বাভাবিক পরিণতি নয়। কাজেই জওয়ানদের ক্ষোভ এবং উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে এই নৃশংস হত্যাকান্ড খুব পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে।
২.
জওয়ানদের বিক্ষোভ ও বিদ্রোহকে সমগ্র দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে পৃথকভাবে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশে শ্রেণী বিভাজন ও শ্রেণী শোষণ নির্যাতন আছে এবং রাষ্ট্র ও সরকারের কোন সংস্থা ও সংগঠন এর আওতামুক্ত নয়। কাজেই বিডিআর-এ এই শ্রেণী বৈষম্য এক স্বাভাবিক ব্যাপার। এই স্বাভাবিক শ্রেণী বৈষম্য থেকে উদ্ভূত জওয়ানদের দাবী দাওয়া ও ক্ষোভকে ব্যবহার করে বিদ্রোহ ঘটানো হয়েছে। বিদ্রোহের এই শ্রেণীগত ভিত্তির কারণেই দেশের সর্বত্র শ্রমজীবী জনগণের মধ্যে এই বিদ্রোহের প্রতি শুরুতে ব্যাপক সমর্থন ও সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছিল।
৩.
বিদ্রোহের মাধ্যমে জওয়ানদের অবস্থার প্রতিকার করা এই বিদ্রোহের প্রকৃত নায়কদের উদ্দেশ্য ছিল না। পরিকল্পিতভাবে হঠাৎ করে অফিসার হত্যা শুরু করে যে নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল তার ফলে অর্ধ শতাধিক সামরিক অফিসারের নির্মম অকাল মৃত্যু ঘটিয়ে তাঁদের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করা হয়েছে এবং সেই সাথে তা সামরিক বাহিনীকেও ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। কিন্তু লক্ষ্য করবার বিষয় যে, এর দ্বারা জওয়ানদের অবস্থারও কোন প্রতিকার হয় নি। তাদের মধ্যে যে অল্প সংখ্যক জওয়ান বিদ্রোহের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল তারা তো নিজেদের সর্বনাশ করেছেই, তার বাইরে প্রায় চৌদ্দ পনেরো হাজার জওয়ান ও তাদের পরিবারও বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের দাবী দাওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা পড়েছে, উপরন্তু কর্মস্থলে রিপোর্ট সত্ত্বেও তাদের, ও বিশেষ করে তাদের পরিবারের লোকদের দূর্দশার শেষ নেই।
এর থেকে যা স্পষ্টভাবে দেখা যায় তা হচ্ছে, বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহের নামে সামরিক অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে এবং এর ফলে জওয়ানদের লাভ হয় নি। পরিস্থিতির এই দুই দিকের তাৎপর্য বিবেচনা করা সহজ হবে যদি এ বিষয়টি লক্ষ্য করা যায় যে, এই বিদ্রোহে মূল ভূমিকা পালন করেছে অল্পসংখ্যক জওয়ান এবং বহিরাগত কিছু সশস্ত্র লোক।
৪.
২৫ ফেব্রুয়ারী বিডিআর বিদ্রোহ কোন সাধারণ বিদ্রোহ অথবা অরাজনৈতিক ব্যাপার নয়। এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যাপার। তবে একে এখন সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে যে রাজনৈতিক চরিত্র প্রদানের চেষ্টা চলছে তার কোন গ্রাহ্যতা নেই এবং তা নিন্দনীয়, কারণ এর দ্বারা সঠিক তদন্ত বিপথগামী ও প্রকৃত অপরাধীকে চোখের আড়ালে ঠেলে দেওয়ার ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।
এটা বিস্ময়কর ব্যাপার যে প্রধানমন্ত্রী ২৫ তারিখে সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলে সেভাবেই কাজ করলেও বিদ্রোহের তদন্তের জন্য যে সরকারী কমিটি হয়েছে তাতে কোন রাজনৈতিক প্রতিনিধি নেই। যেহেতু বিডিআর বিদ্রোহ মূলতঃ একটি রাজনৈতিক ব্যাপার, এ কারণে তদন্ত কমিটিতে সর্বদলীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অনুপস্থিতিতে এই তদন্ত কাজ কখনোই সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণ হতে পারে না।
বিডিআর এর কিছু লোক বাইরের কিছু লোকের সাথে পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে ২৫ ফেব্রুয়ারী বিদ্রোহ পরিচালনা করেছে। কে বা কারা এ কাজ করেছে এটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না হলেও এর রাজনৈতিক চরিত্র বিষয়ে সন্দেহ পোষণ অবাস্তব ও দেশীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। যে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে তার মাধ্যমে এটা মোটামুটিভাবে জানা সম্ভব যে, কারা এই ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল, কারা বিদ্রোহ পরিচালনার ক্ষেত্রে সামনে ছিল। কিন্তু এর পেছনে কারা প্রকৃত পরিকল্পনাকারী এবং এই চক্রান্ত কারা করেছে এটা এই তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা মোটেই সহজ নয়।
৫.
প্রকৃত পক্ষে জওয়ানদের ন্যায্য দাবী দাওয়া ও ক্ষোভকে অবলম্বন করে বিডিআর বিদ্রোহ ঘটিয়ে সামরিক অফিসারদের হত্যার মাধ্যমে একটি স্তরের চক্রান্ত ও পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, যাদের এভাবে বিদ্রোহের মূল পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য সরাসরি নিযুক্ত করা হয়েছে তারা নিজেরা ব্যবহৃত হয়েছে অন্যদের দ্বারা, যারা দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণের (remote control) মাধ্যমে এক সুচতুর রাজনৈতিক চক্রান্ত কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে দুই স্তরের পরিকল্পনা তৈরী হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহের হত্যাকান্ড এবং এসব থেকে সৃৃষ্ট বিশৃংখল পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে সারাদেশে নৈরাজ্য ছড়িয়ে দেয়া হলো এর দ্বিতীয় স্তরের চক্রান্ত ও পরিকল্পনার লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাদের বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা যে বিডিআর এর এই ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ এমন নয়। অন্য ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি ঘটানোও এই দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ শক্তির বৃহত্তর চক্রান্ত ও পরিকল্পনার অংশ। দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির এই চক্রান্ত দেশের সকল জনগণের জন্যই এক অতি বিপজ্জনক ব্যাপার। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে বহির্শক্তি কর্তৃক এভাবে দেশে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির দৃষ্টান্তের অভাব নেই।
বাংলাদেশে এখন আভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনের তাগিদ সর্ব স্তরের জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে। এই তাগিদ বিশ্বের দেশে দেশে সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি হিসেবে রেখেই সাম্রাজ্যবাদীরা বিভিন্ন দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এর মোকাবেলা করতে নিযুক্ত হয়েছে। নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা দেখেছে যে শুধূ সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং র‌্যাব এর দমন পীড়নের দ্বারা জনগণের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও বিপ্লবী আন্দোলন ঠেকিয়ে রাখা বা নস্যাৎ করা সম্ভব নয়। তার জন্য এমন সামাজিক অবস্থা তৈরী করা দরকার যা এই ধরনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিবন্ধক। এই প্রতিবন্ধক হলো সমাজে নৈরাজ্যের প্রাধান্য। এই মুহূর্তে বিশৃংখলা ও নৈরাজ্যের থেকে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও বিপ্লবী আন্দোলনের বড় প্রতিবন্ধক আর কিছু নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদীরা দেশে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। পাকিস্তান এর একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। সেখানে যে তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সকল প্রকার প্রগতিশীল আন্দোলনের পথ রুদ্ধ করে রেখেছে তাই নয়, এর দ্বারা এমন নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে যাতে মার্কিনীরা এখন সেখানে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি থেকে পাকিস্তানের জনগণের ওপরই বোমা বর্ষণ করছে।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এখন সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিণত করার দিকে ঠেলে দিতে পারে । এদিক দিয়ে বুশ এবং ওবামার পররাষ্ট্র নীতির মধ্যে কোন মৌলিক, এমনকি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। বাংলাদেশ সহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় এই চক্রান্ত এখন অগ্রসর হচ্ছে।
এই আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশীয় পরিপ্রেক্ষিতকে উপেক্ষা করে অথবা আড়ালে রেখে আমাদের দেশের পরিস্থিতিকে, বিশেষতঃ বিডিআর বিদ্রোহের মত ঘটনাকে দেখা অবাস্তব। কাজেই তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সাথে সরাসরি কারা যুক্ত ছিল তাদের পরিচয় উদ্ঘাটনই যথেষ্ট নয়। এর পেছনে যে দূরবর্তী নিয়ন্ত্রকরা সক্রিয় আছে এবং এই দুই স্তর বিশিষ্ট চক্রান্ত কার্যকর করতে নিযুক্ত হয়েছে তাদের পরিচয় উদ্ঘাটনের জন্য যা কিছু করা দরকার সেটা করা সকল গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক জনগণের এক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
বার্তা প্রেরক
ফয়জুল হাকিম, ০১৭১৩০৬৩৭৭৬]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28922176 http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28922176 2009-03-10 00:53:08
ঘোড়ার ডিম আর আদিপাপের ফ্যালাসি: রিফাত হাসানের পোস্ট গুম হওয়া প্রসঙ্গে সামহোয়ারইন ব্লগের একটি পর্যালোচনা। রিফাত হাসানের পোস্ট গুম হওয়া বিষয়ে কিছু বলা কর্তব্য মনে করছি।

প্রথমে অন্যদের কথা খানিক টানি। পোস্ট গায়েব প্রসঙ্গে সুমন বলছেন, সামহোয়ার 'একমত একমত' মার্কা ব্লগে পরিনত হইছে। খুব আন্তরিক ভাবেই রিফাতের গায়েব পোস্ট ফেরত দেবার দাবিও জানাইছেন আশা না হারায়ে। একই ব্লগের কমেন্টে রিফাতের বিরুদ্ধে বিতর্কে অবতীর্ন হবার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় সামহোয়ারকে দুষেছেন আবদুর রাজ্জাক শিপন। অবিচার শুধু রিফাতের উপর না, তারও সাথে। একইভাবে আরো পাঠক যারা আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করেছেন তাদের সাথেও। এটা 'গুম' হওয়া মনে করছেন জাতেমাতাল। মুসতাইন ব্লগীয় ব্যাপারের বাইরে এসে সামহোয়ারের রাজনৈতিক মেটামরফসিসের ইঙ্গিত দিছেন, ইসরাঈলী গণহত্যার বিরোধীতাই পোস্ট ডিলিটের মূল কারণ বলে তিনি মনে করছেন। একই বিষয়ে অন্য এক পোস্টে আরজু মনে করেন মডারেটররাই যত নস্টের গোড়া। আরো অনেকেই একই সুরে কথা কইছেন। মজার ব্যাপার ইনাদের কাউরেই রিফাতের সাথে একমত একমত করতে দেখি নাই, যুদ্ধপরাধের বিচারের বিরোধীতা করতে দেখি নাই, তারপরও সামহোয়ারের এহেন আচরণের বিরোধীতা করছেন তারা। এদের মধ্যে খোমেনীর পজিশনটা একটু অন্যরকম, কারণ সামহোয়ারকে ফ্যাসিবাদের সমার্থক বলে ভাবলেও, এর বিরোধীতাকে উনি ভদ্রলোকি প্রতিবাদ মনে করেন। বেশীরভাগ ব্লগার যখন সামহোয়ারের কাছে ভালো কিছু এখনও আশা করেন সেখানে তাকে খুব হতাশ মনে হচ্ছে। সামহোয়ারের শিকড় চেনার চেস্টা করলেও শেষ চেষ্টাটা আমাদের দিক থেকে কি হওয়া উচিৎ এখানে খোমেনীর তেমন কোন কথা নাই।

এখানেই আমার কথা বলা শুরু। যার যেই পলিটিক্সই থাকুক না কেন একটা ব্লগে সবাই ব্লগিংই শুধু করে। ব্লগ-ব্লগার-ব্লগিং, এটা একটা সাধারণ দিক। এখানে ব্যতিক্রম সামহোয়ার কর্তৃপক্ষ, তারা নিয়ন্ত্রণকারী। ক্ষমতা তার হাতেই যখন, তখন সেখানে তার পলিটিক্সের ক্ষমতা প্রদর্শন যেকোন ভাবেই থাকতে পারে- এমনটা ভাবা যৌক্তিক হলেও, তার আগেও কথা আছে। এই মহা ক্ষমতাবান কর্তৃপক্ষও এসব যখন করে তখন একটা কিছুর বরাত(!) তাকে দিতে হয়। বরাত হাওয়াই হলেও তাকে ছাড়া চলে না। বলাই বাহুল্য সামহোয়ারের হাওয়াই বরাত হলো তার নীতিমালা, রাস্ট্রের কাছে যেমন সংবিধান। যত যাই হোক এই বরাতে ইমান এনেই সামহোয়ার নামক সিসটেমের ভিতরে আমাদের যত কায়কারবার। সিসটেমের কন্ট্রোলও আমাদের আদর করুক, চুমা দিক বা যতই কোপাক না কেন, নিয়মের কথা বলেই তাকে তা করতে হবে। পাঠক খেয়াল করবেন নিয়ম ভালো না খারাপ এই আলাপ আমি করছিনা। ক্ষমতা দিয়ে যা ইচ্ছা তা করলেও বরাতের কথা বলতেই হবে এমনকি নতুন বরাত তৈরী করে হলেও বলতে হবে। সামহোয়ারসহ যে কোন সিসটেমের কনট্রাডিকশন ধরতে এই দিকটাকে আলগা করা খুব দরকারি মনে করি আমি, যদিও অন্যান্য দিকও গুরুত্বপূর্ণ। এটা না বুঝলে সিসটেমের বর্ডার হিসেবে আমাদের কর্তব্য কী সেটা ফকফকা হবে না।

এখানে ঘটনা পরিস্কার। রিফাত হাসানের পোস্ট গুম হওয়া। কারণ খুঁজতে দেখলাম সামহোয়ারের মডারেটররা অথবা সামহোয়ারের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ফ্যাসিস্ট বা সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতি এমনকি ইদানিং ঘটে যাওয়া একমত একমত মার্কা কোন মেটামরফসিসের কথা বলছেন সবাই। কিন্তু নিক রেজিস্ট্রশনের সময় বুঝে বা অবুঝে আমরা প্রথমেই 'একমত' হয়েই যার যার বারামখানার চাবিটা সামহোয়ারের কাছে তুলে দিয়ে আসছি আমরা সবাই। যেই বেহেশতের স্বপ্ন সামহোয়ার দেখাইছে তাতে প্রথমেই সবার সম্মতি খোদাই করা হইছে। সামহোয়ারের ফ্যাসিজমের মেওয়ায় তো ভাই আমাদের সবার শেয়ার আছে তাইলে দেখা যাচ্ছে। তাইলে এখন কি সব কথা বৃথা? তাইলে আবার কিসের মেটামরফসিস অথবা নতুন করে একমত, আগেই তো সব ঠিকঠাক। এখন কি তাইলে বসে বসে সব মেনে নেওয়া? এইখানে বুঝা যায় 'ছাগু' আর 'অছাগু' সবাই সমান। আবার আসব এইখানটায়।

এখন আপনারা একখান জিনিস দেখেন-
সামহোয়ার রিফাতের উপর কোপটা দিছে যেই নিয়মের বরাত দিয়া সেটা, আরজুর ব্লগে রিফাতের কমেন্ট থেকে পাওয়া, হলো:
"3j. posts which are denying, opposing, ridiculing or twisting facts about the freedom and sovereignty, history or religion of bangladesh or any other recognized nation may be deleted and the privileges of the blogger withdrawn temporarily or permanently"

আবার তাদের পয়লা কথা হলো:
1a. Free voice:
somewhere in…blog was created as a platform where general people can share their ideas, opinion, creativity and so on. We support freedom of thought and expression no matter how radical or conservative it maybe, as long as it does not interfere with the law of the nation.

তাহলে যা দাড়ায় তা হলো, আমরা একমত হইছি এমন কিছুর সাপেক্ষে যার নিজের মধ্যেই বিশাল বিরোধিতা। তাহলে সামহোয়ারের জাজমেন্ট যেমন কনট্রাডিকটরি, এর সাথে আমাদের অরিজিনাল সিন অর্থাৎ সর্বাগ্রে একমত হওয়াটাও অর্থহীন। কেননা দুই পরস্পর বিরোধী প্রস্তাবে একসাথে আমাদের একমত হওয়া অর্থহীন। কাজেই ব্লগারদের ব্লগিং আর ব্লগের মডারেশনের সত্যিকার দার্শনিক ভিত্তি হলো একটা ঘোড়ার ডিম। এইকথা হলো সকল ব্লগিং/মডারেশন বিষয়ে সকল সমালোচনার পূর্বগামী। তাইলে এই সত্য একটু মনে রাখলে একটা মজা ঘটে। আমরা যখন রিফাতের পোস্ট গুম হওয়ার বিচার করি তখন বলি কই রিফাততো 3j নিয়ম তো ভঙ্গ করে নাই, কিন্ত্তু এটা কখনও ভাবি না 3j নিয়মটারই বা ন্যায্যতা কোথায়।

মডুদের এসব ভাবার টাইম নাই। তারা ব্লগারদের মু্ক্ত ব্লগিং এর প্লাটফর্মের
স্বপন দেখানর কাজে ব্যস্ত থাকেন আর মোছামুছি করেন। অহংকারে মাটিতে তাদের পা পরে না। 'নিরাপদ', 'সাধারন' এইসব ক্যাটাগরী চালু রেখে শুরুতেই সিসটেম হওয়া ব্লগারদের খাতনা স্কীম অনন্তকালের জন্য জারী রাখা হইছে। সামহোয়ার যদি অনিরাপদ ব্লগ হয় তাইলে তার সাথে ব্লগারদের সম্পর্ক ডায়ালজ্যিকাল না হয়ে হয়ে যায় ডায়াবলিকাল। তারপরও সত্যটা হইলো ঐ যে বল্লাম- ঘোড়ার ডিম।

এখন শর্ষের ভিতরেই যে ভুত তারে তাড়াই কেমনে? সামহোয়ারের অহংকারে ছাই পড়লেও, তাকেও একটা উপায় বাতলে দেয়া উচিৎ। এক কাজ করেন, 1a. সহ অন্যান্য একই রকম নিয়ম গুলিও মুছে ফেলেন। ভেজাল ফ্যাসিস্ট হয়ে কী লাভ? অরিজিনাল ফ্যাসিস্ট হন। তাইলে পোস্ট গুম খুন করার জন্য আর কোন নিয়মের বরাত আপনাদের দিতে হবে না।

আর যদি উল্টা দৃষ্টান্ত দেখাইতে চান তাইলে রিফাতেরটা সহ সকল গুম হওয়া পোস্ট ফেরৎ দেন। আর ব্লগারদের বলেন নতুন নীতিমালা খসরা তৈরী করতে- আপনারাও অংশ নেন। ব্লগার-ব্লগিং-ব্লগ সম্পর্ক একমাত্র পারে ঘোড়ার ডিম প্যারাডক্স মুক্ত হতে আর মুছে যাবে সকল আদিপাপ

ততদিন গোপন ফ্যাসিজমের সাথে শুরুতে যতই একমত হন ব্লগারকুল, সত্যকথা চালায়া যান। কোনকিছু মেনে নেয়ারও দরকার নাই, অপেক্ষা করারও দরকার নাই। অন্যান্য সকল প্যারাডক্সের কথা প্রকাশ করেন। তাতে ব্যান খেতে পারেন হয়ত, কিন্ত্তু ডায়াবলিকাল কর্তৃপক্ষের মত আদিপাপ বা ঘোড়ার ডিমের বোঝা হতে মুক্ত হতে পারবেন অবশ্যই।

পুনশ্চ: @সামহোয়াইন:এত কথার পরও যদি রিফাতের গুম হওয়া পোস্ট ফেরৎ না দেন তাইলে israelblog একেবারে বন্ধ করেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28899681 http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28899681 2009-01-19 23:11:20
বাংলাদেশঃ স্বাধীনতা ও জাতীয় মুক্তির প্রশ্ন স্বাধীনতার আরও এক বছর পার হলো। বর্তমান সময়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় মুক্তির প্রশ্ন কী হবে সেটাই আমার আলোচ্য বিষয়। এখানে খেয়াল রাখা দরকার আমি স্বাধীনতা নামক কোনো একাট্টা, ধ্রুব ও পরম কোনো ধারণার খরিদ্দার নই। আবার এ-রকম পরম ধারণার পিছনে যে-আবেগ কাজ করে, বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর সে-আইডেন্টিটিকেও ইতিহাসের মধ্যে ধরার কর্তব্য এতো বছর ধরে আমরা শেষ করতে পারিনি। স্থায়ী, ধ্রুব বা আবেগজাত ধারণা আকারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও যুদ্ধকে বিচার না করে এ-অঞ্চলের জনগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণীর রাজনৈতিক বাসনা-জাত ঐতিহাসিক সক্রিয়তাকে জানা বা বুঝাটাই আমি কর্তব্য জ্ঞান করি। লেনিনও জাতীয় মুক্তির পক্ষেই থাকবেন, কিন্তু কেনো এবং কীভাবে তিনি চলেন, তা বুঝার চেষ্টা করি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে পোলিস বিপ্লবী রোজা লুসেমবুর্গের সাথে লেনিন জাতীয় মুক্তি আন্দোলন প্রসঙ্গে তর্কে অবতীর্ণ হন। রোজা মনে করতেন, জাতীয় স্বাধীনতা শ্রমিক শ্রেণীর জন্য এক অলীক স্বপ্ন, যা তাদের আরও বেশি-করে জাতীয় বুর্জোয়াদের অধীনস্হ করবে। বিপরীতে লেনিন জাতীয় মুক্তি প্রসঙ্গটি সাম্রাজ্যবাদ এবং শ্রমিক শ্রেণীর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐক্যের সাপেক্ষে বিচার করেছেন এবং এ-সাপেক্ষেই জাতীয় মুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদী ধারা কর্তৃক অন্য দেশে পরিচালিত আগ্রাসনের ক্ষেত্রে লেনিন শ্রমিক নেতৃত্বকে সতর্ক করেছেন। যেমন মার্কসের সময় বৃটেনে শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির অন্যতম প্রতিবন্ধকতা ছিলো আইরিশদের প্রতি তাদের বর্ণবাদী মনোভাব। আজকে আমাদের মধ্যে আফগানিস্তান বা ইরাকের জাতীয় মুক্তির চাইতে তালেবান বা আল-কায়দা বিরোধিতা প্রবল হতে দেখা যায়। এ-মনোভাবকে ক্রিটিক্যালী না দেখলে সর্বহারার আন্তর্জাতিকতার উন্মেষ সম্ভব নয়। লেনিন এ-দিকেই জোর দিতেন এবং যার আলোকে নিজ ও অন্য দেশের জাতীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন তিনি বিচার করেছেন।

কিন্তু এটা বুঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, কীসের ভিত্তিতে শ্রমিক শ্রেণী জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেবে? জাতীয় মুক্তি অর্জিত হলেই তো আর শ্রেণী বিরোধের মীমাংসা হয় না। তাই লেনিন এ-ব্যাপারে সতর্ক করেন যে, বুর্জোয়াদের সাথে জাতীয় ঐক্যের উপরে সর্বহারার আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ঐক্যকে স্থান দিতে হবে। জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে লিপ্ত শ্রমিক শ্রেণীকে অবশ্যই নিজস্ব রাজনৈতিক এবং পার্টিগত অবস্থানে সুসংহত হতে হবে। এবং সংগ্রামের নেতৃত্ব দখল করতে হবে। আমাদের স্বাধীনতায় এ-প্রক্রিয়া কতোটুকু সম্পন্ন হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। ছাত্রলীগ নিউক্লিয়াস (পরবর্তীতে জাসদ) ৭১-এ বুর্জোয়া নেতৃত্বের একদম ভিতর থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের পলিসী নেয়। মস্কোপন্থীরাও আওয়ামী লীগের ধামাধরা হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তারপরও হাস্যকরভাবে কোন কোন অর্বাচীন এখনও ছাত্রলীগ নিউক্লিয়াসকে স্বাধীনতার যুদ্ধের সবচাইতে সংগঠিত অংশ বলে মহিমান্বিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইতিহাসেও আমরা প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখি। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সবচাইতে বড়ো ভূমিকা নেয় সেখানকার শ্রমিক শ্রেণী। অথচ তারা জাতীয়তাবাদী এএনসির নেতৃত্বের বাইরে লড়াই সংগ্রাম পরিচালিত করতে না পারায় বর্তমান তাদের বেহাল অবস্থা। কাজেই লেনিনের কাছে জাতীয় মুক্তির প্রশ্ন মানে শুধু যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া নয়। বরং শ্রেণীগত অবস্থানে ছাড় না দেয়া, সংগ্রামের নেতৃত্বে আসীন হওয়া এবং সর্বোপরি সর্বহারার আন্তর্জাতিকতা এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার আলোকে অবস্থান নেয়া। বিষয়গুলো আলাদা নয়। বরং একত্র। এর সাপেক্ষেই অন্য শ্রেণীর সাথে রাজনৈতিক মিত্রতা হতে পারে জাতীয় প্রশ্নে।

আমাদের ইতিহাসের নদী একই দিকে বহে নাই। ৭১-এ আওয়ামী-লীগ তথা উঠতি বাঙালী মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক এ-দুই শ্রেণীর মধ্যে জাতীয় মুক্তি প্রশ্নে সাধারণ স্বার্থ ছিলো, কিন্তু লেনিনীয় অর্থে কোনো ঐক্য হয় নাই। তদুপরি শ্রমিক-কৃষক শ্রেণীর অংশগ্রহণ এবং চরম আত্মত্যাগকে আওয়ামী-পন্থীরা সম্পূর্ণভাবে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। যুদ্ধের সময় ভারতের প্রত্যক্ষ মদদপুষ্ট মুজিব বাহিনী কর্তৃক নকশাল দমন অভিযানের নামে দেশ-প্রেমিক বিপ্লবীদের হত্যার ঘটনা মনে করিয়ে দেয় শ্রমিক-কৃষক প্রশ্নে শ্রেণীগত ঐক্য তো দূরের থাকুক বরং চরম নির্মমভাবে দমন-পীড়নে যুদ্ধ-কালীন সময়েও পিছপা হয় নাই আওয়ামী-লীগ। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও অভাবনীয় ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তান গণ-পরিষদের সদস্যরা নিজেদেরকে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান সভার সদস্য দাবী করে বাংলাদেশের সংবিধান তৈরীতে হাত দেন। কিন্তু কোনো ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে? ভারতীয় মদদে সংবিধান সভার সভ্যদের প্রণীত এ-সংবিধানই তবে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের নিয়তি? সংবিধান সভার ন্যুনতম শর্তও পুরন হল না কেন?তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ভারতীয় কমান্ডে যুদ্ধ পরিচালনা, ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ ইত্যাদি বিষয় মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী-লীগের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ৭১-এর স্বাধীনতা-যুদ্ধে সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বে সর্বহারা পার্টি দক্ষিণ বঙ্গে পাক-হানাদার এবং সম্প্রসারনবাদী ভারতীয় দালালদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।এর আগে বারবার সর্বহারা পার্টির নেতৃত্ব জাতীয় মুক্তির রুপরেখা আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য পার্টির কাছে স্পষ্ট করেন।কিন্তু কোন সারা না পেয়ে জাতীয় মুক্তির প্রশ্নে 'ছয় পাহাড়ের দালাল' আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করা হয় এবং একমাত্র শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বেই জাতীয় মুক্তি সম্ভব একথা জোর করে বলা হয়। বর্তমানে আওয়ামী সিমপাথাইজার তথাকথিত বামদের কেউ-কেউ ভ্রান্তি বিলাসে আক্রান্ত হয়ে এমনটা প্রচার করেন যে, ৭১-এ উঠতি বাঙালী মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক-কৃষকের শ্রেণীগত স্বার্থের ঐক্য ছিলো। কিন্তু বাস্তবে শ্রমিক-কৃষক শ্রেণীর জন্য এটা ছিলো স্ব-নেতৃত্ব সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়ে পেটি-বুর্জোয়া শ্রেণীর স্বার্থে নিজেদের ব্যবহৃত হওয়া, অবশ্যই ঐক্য নয়।

লেনিন সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নে ছাড় দিয়ে জাতীয় মুক্তির সপক্ষে অবস্থান অসম্ভব বলে মনে করতেন, এটা আগেও বলেছি। আমাদের বরেণ্য (?) অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান ও গং স্বাধীনতা পূর্ব-কালে দুই-অর্থনীতির তত্ত্ব দেন। পূর্ব-পাকিস্তানে কৃষি ও শিল্পের বিকাশ এবং তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-মূলক সম্পর্কের বিচার না করে এ-তত্ত্বে বাঙালী বনাম পাঞ্জাবী - এই বর্ণবাদী বিরোধিতাই প্রধান হয়ে উঠেছে। জাতীয় মুক্তির প্রশ্নকে জাতিতে-জাতিতে দ্বন্দ্বের মধ্যে পর্যবসিত করার প্রতিক্রিয়াশীলতা সম্পর্ক আমরা মোটামুটি ওয়াকিবহাল। বর্তমানে তথাকথিত সিভিল সোসাইটির পুরোধা এই রেহমান সোবহানরা সাম্রাজ্যবাদের স্থানীয় এজেন্সীর ভূমিকা পালন করছেন বেশ ভালোভাবেই।

সাম্রাজ্যবাদ প্রসঙ্গ কীভাবে জাতীয় মুক্তির আলোচনায় প্রাসঙ্গিক তা আরও ভালোভাবে বুঝা যাবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে। বলে রাখা ভালো, জাতীয় মুক্তি কোনো ক্যালেন্ডারের বিষয় নয় যে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরেই সব চুকেবুকে গেছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় লাফিয়ে-লাফিয়ে নিজের প্রমোশন দেখতে পেয়েছে (২০০৮-এ ১২তম, ২০০৭-এ ১৬তম, ২০০৬-এ ১৯তম)। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে এ-পরিভাষাসমূহ তৈরী করা হয় এবং দেশীয় প্রৌপাগেটরদের সাহায্যে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে তা প্রয়োগ করা হয় । এ-কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করছে ডেইলী স্টার গ্রুপ। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান 'বাংলাদেশ কি অকার্যকর রাষ্ট্র?' (প্রথম আলো, ২৭ এপ্রিল ২০০৪) শিরোনামে এক লেখায় আমাদের প্রায় অকার্যকর নাগরিক বানিয়ে ছেড়েছিলেন। এখন তাদের মতে একে কার্যকর করার পদ্ধতি হলো আরও বেশি তাবেদারী করা আর মার্কিন নীতিতে ঈমান আনা।

সাম্রাজ্যবাদকে শুধুই ঠাণ্ডা-যুদ্ধের আলোকে দেখলে (যে-ভুল প্রায় অনেকেই করেন) প্রগতিশীল রাজনীতি কখনও পায়ের তলায় মাটি পাবে না। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে এখন ওয়ার অন টেররের যুগে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভিতর যেসব গুণগত পরিবর্তন এসেছে তাকে না বুঝলে নিজেদের অকার্যকর রাষ্ট্রের ব্যর্থ নাগরিকের বেশি কিছু মনে হবে না। আবার ১/১১র অসাংবিধানিক, অবৈধ, জনগণ-বিচ্ছিন্ন এবং বিদেশী ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাসীন সরকারকে দূর্নীতি বিরোধী মেসিয়াহ মনে হবে। সুশাসনের ভাওতাবাজি বুঝতে হলে জানতে হবে ওয়ার অন টেররের যুগে রাষ্ট্রের কাজ শুধু জঙ্গী দমন, ইসলামিস্টদের ঠেকানো, রাজনৈতিক বিকাশ রহিত করে দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিজম এবং নব্য একনায়কতন্ত্র কায়েম করা। আর রাষ্টের অন্য সবকিছুর দায়িত্ব পালন করবে এনজিও, বহুজাতিক এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন কৌম্পানী। রাষ্ট্রের কাজ শুধু নিরাপত্তা বিধান। বাংলাদেশে এ-রকম একটা সিকিউরিটি স্টেইট কায়েম হলে সাম্রাজ্যবাদ এবং তার তাঁবেদারদের উদ্দেশ্য হাসিল হলেও নাগরিকরা কেনো এ-ব্যবস্থা মানবে? তারা কি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে গণ-দমনে দক্ষ র‌্যাব-পুলিসের হাতে ধুঁকে-ধুঁকে মরাকেই নিয়তি বলে মেনে নিবে? না। কারণ, জনগণ বুঝে ১/১১ পরবর্তী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের একটি স্থানীয় রূপ মাত্র।

গোলামীর জিঞ্জির পরেই আরেকটা নির্বাচনের কথা ভাবছে সবাই। কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তো আমেরিকান ব্যাপার- তাও ইসলামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গীদের বিরুদ্ধে, তার সাথে আমাদের জাতীয় প্রশ্ন কিভাবে জড়িত? হ্যাঁ, এটাই সেই মিসিং লিংক। ফাঁক পূরণ হলেই বুঝবেন কারজাই-মালিকী-ফখরুদ্দীন এই তিন মুসলমান কীভাবে সন্ত্রাসের (ইসলাম) বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের পার্টনার হন।

ঠাণ্ডা-যুদ্ধের পর বিশ্বপুঁজির বিকাশে ব্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নব্বইয়ের দশকের শেষে মোকাবেলা করতে হয় আরেক অভাবনীয় শত্রুর, যে কি-না ঠান্ডা-সময়ে তারই কৌশলগত মিত্র ছিলো । কিন্তু আধুনিকতার যুক্তিতে আপাদমস্তক মোড়া মার্কিনী এবং তাদের বন্ধুরা এ-মিত্রতা বা শত্রুতার আগাগোড়া বুঝে উঠার আগেই তার সাথে ভয়াবহ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। অবশ্যই এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কথায়- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ। এরপর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেক দেশ সরাসরি আমেরিকার রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। লক্ষ্যভেদে চকিত ও মরিয়া মার্কিনী ও তাদের মিত্ররা ত্বরিত অ্যাকশনের নীতি গ্রহণ করে। এ-যুদ্ধে আমরা হয় মার্কিনীদের পক্ষে, নয় বিপক্ষে। আমরা চাই বা না চাই কোন্ সরকার কোন্ উসিলায় ক্ষমতাসীন হবে, এর সবই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের ভিত্তিতেই সাজানো হবে। শুধু রাষ্ট্র বা সরকার কেনো প্রয়োজনে রাজনীতিই বাদ যাবে।

ওয়ার অন টেররের এ-যুগে ইসলামের সাথে আমাদের সম্পর্ক বিচারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুদীর্ঘ উপনিবেশিক গোলামীর মধ্যে দিয়ে আমাদের মধ্যবিত্ত সংস্কৃতিতে আধুনিকতা আর এনলাইটমেন্টই সব কিছুর মাপকাঠি হয়ে উঠেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাব, ধর্ম আচারের বিরোধিতার মধ্যে দিয়েই এ-মধ্যবিত্তীয় সংস্কৃতি পুষ্ট হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা ও হেয় প্রতিপন্নকারী এ-মানসিকতাই সাম্রাজ্যবাদী লুন্ঠনের সাংস্কৃতিক বৈধতা দেয়। নানাভাবে এ-বৈরীতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়াতে ইসলামকেও সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করা হয়। তাই একই সাথে যারা ইসলামী রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের কর্তব্যও কম নয়। সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী বৈশ্বিক লড়াইকে ধর্মতাত্ত্বিক লড়াই থেকে বিশ্ব নিপীড়িত মানুষের মুক্তির লড়াইতে পরিণত করতে পারবেন কি-না, এটাও একটা চ্যালেঞ্জ। কাজেই সাম্রাজ্যবাদের এই বিশেষ কালে ইসলামও আমাদের জাতীয় প্রশ্ন।

আরও কিছু বাকি রইলো।আপাতত লেনিনের পদ্ধতি অনুসারে, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী রাজনীতির ঐতিহাসিক পর্যায় বিচার সাপেক্ষে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে শোষিত-নিপীড়িত মানুষের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐক্য এবং আমাদের জাতীয় মুক্তির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো খানিক আলোচনার চেষ্টা হলো এখানে। এ-দিক গুলো বিবেচনায় না আনলে ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বরে অর্জিত স্বাধীনতা আর জাতীয় মুক্তি সমার্থক হবে না।

সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

ধন্যবাদ সবাইকে।স্বাধীনতা দিবসের শুভেচছা রইলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28883870 http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28883870 2008-12-17 17:37:03
ডাক্তার টুটুলের মা নভেরা খাতুনের সাক্ষাৎকার http://www.ukbengali.com থেকে নেয়া।
আমি পাঠকদের জন্য সরাসরি তুলে দিলাম।
http://www.ukbengali.com কে ধন্যবাদ।
----------------------------------------------------------------------------------

আল্লাহ আমার ফরিয়াদ শুনলো নাঃ
ডাক্তার টুটুলের মা নভেরা খাতুনের সাক্ষাৎকার

গত ২৫ জুলাই সকালে রাপিড এাকশন ব্যাটেলিয়ান ফৌর্সের [রাব] সদস্যরা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) সম্পাদক ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুলকে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে। তবে সংবাদ মাধ্যমের কাছে তথ্যটি গোপন কের কর্তৃপক্ষ। ডাঃ টুটুলকে আটক করার খবর পাবার পর ছেলেকে 'ক্রসফায়ারের' হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সাংবাদিক সমেমলন করে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তার মা নভেরা খাতুন। কিন্তু মায়ের আর্তির প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি বাংলাদেশ রাষ্ট্র। ২৭ জুলাই ভোর রাতে রাজশাহীর তানোতে তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধে পুলিসের হাতে নিহত হন ডাঃ টুটুল।

কয়েকদিন আগে টুটুলের মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিলো ইউকেবেঙ্গলির বিশেষ প্রতিনিধির। আলাপচারিতার বিবরণ পড়ূন নিচেঃ

ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনি কেমন আছেন?

নভেরা খাতুনঃ আমার বয়স হয়েছে। বিভিন্ন রোগে ভূগছি। বুড়ো বয়সে এতোটা আঘাত পাবো ভাবিনি। আমার ছেলের মৃত্যু নিয়ে কথা বলার মতো বাকশক্তি এখন আর নেই। কোথায় আগে মরবো আমি, সে-মরা মরলো ও। আমি আল্লাহ'র কাছে রাত-দিন কাঁদতাম - আল্লাহ, ও মরার অন্ততঃ একদিন আগে আমাকে নিয়ো। কিন্তু আল্লাহ আমার ফরিয়াদ শুনলো না।

ইউকেবেঙ্গলিঃ আমরা সংবাদ-মাধ্যমে জানতে পারলাম ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুলকে রাব ২৫ জুলাই রাতে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে। পরে আবার ২৭ জুলাই সংবাদ-মাধ্যমেই জানলাম তার মৃত্যুর খবর। পুলিস-রাব গ্রেফতারের খবর অস্বীকার করে আসছিলো। প্রকৃত ঘটনা কী?

নভেরা খাতুনঃ ঢাকার উত্তরা থেকে সে গ্রেফতার হয়নি, গ্রেফতার হয় মিরপুর থেকে। মিরপুরের ৮ নং রোডে ডি ব্লকের ৬ নং সেকশনের একটি বাড়ী থেকে আমার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানতে পেরেছি। ওকে ২৫ জুলাই রাতে গ্রেফতার করা হয়নি, ২৫ জুলাই সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরের দিন সকালে অর্থাৎ, ২৬ জুলাই সকালে আমাদের বাড়ী পুলিস আসে। পুলিস ওর বাবার সঠিক পরিচয় যাচাই করে। তখন আমার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে পুলিসই আবার টুটুলকে গ্রেফতারের খবর আমাদেরকে দেয়। তখন আমি আমার আত্মীয়-স্বজন ও নিকট-জনদের নিয়ে ঝিনাইদহ ডিসি অফিসে স্মারকলিপি দিতে যাই এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করি। রাব ও পুলিস তখন পর্যন্ত সংবাদ-মাধ্যমের কাছে টুটুলের গ্রেফতারের তথ্য গোপন করে। তারা হয়তো ভেবেছিলো গ্রেফতারের খবর গোপন রেখে খুব সহজে তাকে হত্যা করা যাবে। যে-ভাবে আর সব ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে ও-রকম কিছু একটা করে ফেলবে। কিন্তু যখন দেখা গেলো টুটুলকে বিনা-বিচারে হত্যা করার আগেই অনেকে কথা বলছে, প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তখনই কর্তৃপক্ষ টুটুলের গ্রেফতারের খবর অস্বীকার করতে শুরু করলো। তবে আরও প্রতিবাদ হবার আগেই হত্যা করা হয়।

ইউকেবেঙ্গলিঃ ডাঃ টুটুল গ্রেফতার হবার পর বিনা বিচারে হত্যা ঠেকানোর জন্য আপনি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক-লিপি নিয়ে গিয়েছিলেন। আপনি আপনার সন্তানকে প্রচলিত আইনের মুখোমুখি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক আপনার স্মারক-লিপি গ্রহন করেননি। কেনো তিনি স্মারক-লিপি গ্রহন করেননি?

নভেরা খাতুনঃ আমরা জেলা প্রশাসকের বাসায় ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় স্মারক-লিপি দিতে যাই। কিন্তু তার পিএ স্মারক-লিপি নিতে অস্বীকার করেন। পরের দিন সকাল ৯টায় অফিস খুললে স্মারক-লিপি দিতে বলেন। আমাদের পক্ষ থেকে বারবার স্মারক-লিপি গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। তবু স্মারকলিপি নেয়া হয়নি। পরের দিন স্মারক-লিপি দেয়ার কোনো প্রয়োজনও ছিলো না। স্মারক-লিপি না-নেয়াটা ছিলো পূর্ব-পরিকল্পনা-প্রসূত। স্মারক-লিপি গ্রহণ না-করার ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, আমার ছেলেকে হত্যা করার পরিকলপনা আগেই করে ফেলা হয়েছিলো।

ইউকেবেঙ্গলিঃ জেএমবি-হরকাতুল জেহাদ, বাংলা ভাই-আব্দুর রহমান সারা দেশে বোমা ফাটিয়ে দেশকে ফেলার পরেও তাদেরকে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় আওতায় আনা হয়েছিলো। কিন্তু আপনার ছেলেকে সে-সুযোগ দেয়া হয়নি। এ-ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

নভেরা খাতুনঃ কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রের আইনানুযায়ী আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেই কেবল তিনি শাস্তি পেতে পারেন। জেএমবি একটি নাটক ছিলো বলে আমার মনে হয়। এ-সব নাটক বিদেশীদের দ্বারা ঘটানো হয়। কিছু মানুষ আছে, যারা এ-নাটকে না বুঝেই অংশগ্রহণ করে। আমি কোনো প্রকার বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি না। তবুও এটা বলবো যে, জেএমবির প্রতি সরকারের আচরণ পক্ষপাতমূলক।

আর একটা কথা বলতে চাই। তা হলো, সশস্ত্র ধারার বামপন্থী কমিউনিস্ট আন্দোলন ঠিক-না-বেঠিক তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে এদের সততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিথ্যাচার করা হবে।

ইউকেবেঙ্গলিঃ বিনা-বিচারের হত্যাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

নভেরা খাতুনঃ এটা যার করছে তারা এক অর্থে রাষ্ট্র রাষ্ট্রদ্রোহীতার কাজ করছে। প্রত্যেকটি মানুষের আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত। তা না হলে আমরা আর সভ্য হলাম কী-করে? যারা বিনা-বিচারের হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তাদের বিচার হওয়া উচিত - তারা রাষ্ট্রদ্রোহী।

ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনার ছেলের সম্পর্কে কিছু বলুন।

নভেরা খাতুনঃ একেবারে ছেলেবেলায় ও খুব দুষ্টু ছিলো। তবে মেধাবীও ছিলো। হাইস্কুলে পড়াকালীন সময় থেকে সে ধীর-স্থির হতে থাকে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পড়া-কালীন সময় সে কমিউনিস্ট রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে। মেডিক্যাল কলেজে পড়া শেষ না করেই সে পুরোপুরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তে চেয়েছিলো। ওর বাবা তখন ওকে বললো, তোমার পিছনে এতো টাকা খরচ করলাম, তুমি অন্ততঃ ডাক্তারী পাসটা করো। ডাক্তারী পাস করার পর টুটুল একদিন ওর বাবার সামনে এসে বললো, 'এই নাও তোমার ডাক্তারী পাশের সার্টিফিকেট।' এরপর ওর বাবা ওকে চাকুরীতে ঢোকার জন্য খুব পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। টুটুল মাত্র ১ মাস সরকারী চাকুরী করে। এরপর থেকে পুরোপুরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

আমার এক ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়েটা মাস্টার্স পাস করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-কালে তার বিয়ে হয়। আর টুটুল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে। আমাদের আশা ছিলো, ও প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হবে। আমাদের একটি সুখী পরিবার হবে। কিন্তু কমিউনিস্ট রাজনীতিতে ঢুকে চাকুরীতো করলোই না, উপরন্তু গরীব মানুষের উপকার করতে গিয়ে আমাদের বেশির-ভাগ জায়গা-জমি বিক্রি করে দিলো। এখন আমি একাই থাকি। বাজারে ঘর আছে; সেখান থেকে ভাড়ার কিছু টাকা পাই। মাঠে অল্প কিছু জমি অবশিষ্ট আছে, সেখান থেকে কিছু পরিমাণ শষ্য আসে।

টুটুল খুলনার ফুলতলায় আমাদের এক এক দূর-সর্ম্পকীয় আত্মীয়ের লুসিকে বিয়ে করে। বিয়ের পর লুসি বেশ কয়েক বছর পার্টির সাথে জড়িত ছিলো। ওদের একটি সন্তান হয়। নাম রাখে পিতুল। পিতুলকে লালন পালনের জন্য লুসি পার্টি করা থেকে বিরত থাকে। পরে একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকুরী নেয়। প্রায় ১২ বছর বিবাহিত জীবন কাটানোর পরে লুসি- টুটুলের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। পিতুল গত বছর এইসএসসি পাশ করেছে।

টুটুল একটি শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার কথা বলতো। আমি বলতাম বড়োলোকেরা তাদের সম্পদ ত্যাগ করবে না। তুই তাদের শত্রু হয়ে যাবি। সরকারও বড়োলোকদের পক্ষে থাকবে। ওরা তোকে বাঁচতে দিবে না। শহীদকে (মোফাখকার চৌধুরী) ক্রসফায়ারে হত্যা করার পর পুলিস এসে খবর দেয় টুটুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে জানা যায়, ওটা ছিলো ভুল খবর। এরপর ওর সাথে যোগাযোগ হলে বলি, শহীদকে ওরা হত্যা করেছে এবার কিন্তু তোকে খুঁজে বের করবে। তোকে বাঁচতে দেবে না। আমি জমি বেঁচে তোকে টাকা দিচ্ছি; তুই বিদেশে চলে যা। আমার কথা শুনে ও চুপ করে থাকতো আর মিটমিট করে হাসতো।

ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনারা কি দেশের প্রচলিত আদালতে এ-হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো আইনী লড়াইয়ে যাবেন?

নভেরা খাতুনঃ এ-বয়সে আমার পক্ষে দৌড়াদৌড়ি করাটা বেশ কষ্টকর। আমার সে-শারীরিক ক্ষমতা নেই। ছেলে বেঁচে থাকলে তার জন্য তবুও ছুটতাম, শেষ সময় পর্যন্ত আমি চেষ্টা করেছি। ঝিনাইদহ আদালতে কেইস করা হলে আমি দৌড়াতে পারবো। কিন্তু ঢাকায় যেয়ে আমার পক্ষে দৌড়ানোটা খুব কঠিন। তবে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা যদি এ-হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য এগিয়ে আসে তবে আমি তাদের স্বাগত জানাবো।

ইউকেবেঙ্গলিঃ ডাঃ টুটুলের সংগঠন জনগণের উপরে নির্যাতন চালায় ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে বলে বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। এ-ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

নভেরা খাতুনঃ পত্রিকায় লাল পতাকা সর্ম্পকে বানোয়াট রিপৌর্ট করানো হতো। পত্রিকাতো ওদের দলের মতামত প্রকাশ করতো না। টুটুল দুনিয়ার মানুষের উপকার করে বেড়াতো। ওর মুখের দিকে তাকালে, ওর চেহারা দেখলে কেউই বলতে পারবে না ও কোনো খারাপ কাজ করতে পারে। যে-মানুষটা ডাক্তারী পাস করার পর নিজের সুখ-সাচ্ছন্দ্য না দেখে গরীব মানুষের জন্য কাজ করতে গেলো, সে-খারাপ লোক হয় কী-করে?

ইউকেবেঙ্গলিঃ ডাঃ টুটুল সম্পর্কে এলাকাবাসীর ধারণা কী?

নভেরা খাতুনঃ এলাকাবাসীর কাছেই জিজ্ঞেস করুন তারা টুটুল সম্পর্কে কী ধারণা করে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে - শুধু এটা বলতে পারি।

আপলৌডঃ ১২ আগস্ট, ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28830462 http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28830462 2008-08-13 16:12:35
একজন এনার্কিস্টের (সেলিম রেজা নিউটন) মত সমকালীন দেশীয় রাজনীতি বিষয়ে সেলিম রেজা নিউটনের একটি লেখা
(Click This Link) বিষয়ে চিন্তা করছিলাম।
বলে রাখা ভাল নিউটনের এই anarchist ব্যখ্যার সাথে আমি মোটেও একমত নই।
লক্ষ্য করুন উনি বলশেভিক পার্টিকে স্বৈরতান্ত্রিক বলেছেন।স্পেন ও প্যারিসের ছাত্র-শ্রমিক-বিক্ষোভের মত চিরচেনা উদাহরন দিয়ে দুই একজন anarchist র নাম নিয়ে বলেছেন এই দেশে anarchist literature r সাথে পরিচয় মেলা ভার। তথাকথিত বামদের কারো ক্ষেত্রে (যারা Marx না বুঝেই Marxist ) এ অভিযোগ সত্যি হলে হতেও পারে কিন্তু যারা seriously Marx পড়েন তাদের কাছে এটা একটা প্রাথমিক পাঠ। First International এ Paris Commune এর পর হেগ কংগ্রেসে বাকুনিন আর মার্ক্সের দন্দ্বের কথা কে না জানে? তারপর নানা আন্দোলনের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই শিবিরের তর্কের কোনো শেষ নাই। রাজনীতির মনোযোগী পাঠক হলে এসব জানা আহা মরি কোনো ঘটনা না।
জানলেও কোনো আন্দোলনের ব্যাখ্যায় তত্তটি যথেষ্টকিনা তা বুঝার উপায় কি?তত্তটি যদি ঐ বিশেষ আন্দোলনের ঐতিহাসিক বাস্তবতার সাথে মিলে এবং আন্দোলনের মধ্যে উঠে আসা প্রশ্নের উত্তর সার্থকতার সাথে দিতে পারে তাহলেই বুঝব সব কুছ ঠিক হ্যায়।এখানেই আমার দাবি নিউটনের ব্যাখ্যার সমস্যা অনেক।

যাই হোক কে কি জানে আর না জানে সেই বিচার না করে আমরা দেখি নিউটনের রাজনীতি ব্যাখ্যার সমস্যা কি?

প্রথমত,তিনি Chomsky কে আকাশে উঠাইছেন।Chomsky,যে কোনো
বিচারে একজন লিবারেল তথা ব্যক্তি মানুষের চরম মুক্তিই তার লক্ষ্য। যতোই বিদেশ নীতি নিয়ে আস্ফালন করুন না কেনো তিনি আমেরিকান spirit র সমর্থক। তার বিশ্বাসে আমেরিকা"greatest country in the world"
( "Interview with Noam Chomsky, Bill Bennett", May 30, 2002 American Morning with Paula Zahn CNN )
পাঠক Chomsky র নিচের উক্তি দেখুন:
"In many respects, the United States is the freest country in the world. I don't just mean in terms of limits on state coercion, though that's true too, but also in terms of individual relations. The United States comes closer to classlessness in terms of interpersonal relations than virtually any society"
(Chomsky on Democracy & Education. Routledge)

মজার ব্যাপার আমেরিকান রাষ্ট্রযন্ত্র Chomsky র মত বুদ্বিজীবিদের পোষে কারন তারা দেখাতে চায় আমেরিকা is FREE।পাঠক খেয়াল করেন, এভাবেই anarchism মার্কিন রাষ্ট্রযন্ত্রের নায্যতা দেয় মানুষের মনে মুক্তির ধর্মতাত্বিক কল্পনা দিয়ে।সংস্কৃতিগত ভাবে anarchist রাই আসলে মার্কিন।এখানে Libertarian Socialist এবংNeo Conservative রা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। নগ্ন হয়ে সম্পুর্ন
স্বাধীন হয়ে যুদ্ববিরোধী মিছিলের নাটক করতে থাকে anarchist রা আর
গুয়ানতানামো কারাগারে পচতে থাকে ইসলামি জিহাদিরা।
হে: হে: ভালোইতো তাই না!!!

দ্বিতীয়ত,উনি প্রুধো(কথিত আছে ইনি সকল anarchist দের পিতা)
বলে আরেক anarchist র নাম লয়েছেন।পাঠক এই
প্রুধোর লিখিত 'The System of Economic Contradictions, or The Philosophy of Poverty' র দার্শনিক ও অর্থনৈতিক চিন্তা নিয়ে
মার্ক্স ' The Poverty of Philosophy' রচনা করেন।সেখানে মার্ক্স দেখান প্রুধোর চিন্তার মধ্যে বুর্জোয়া ব্যবস্বা থেকে সর্বিক মুক্তির দিক নাই কারন ইতিহাস কি চিজ তা প্রুধো বুঝেন নাই।
এছাড়াও আরো নানা লিখায় মার্ক্স প্রুধোকে Critic করেন।যেমন-
১৮৪৬ সালে পাভেল আলেনকভ কে এক চিঠিতে মার্ক্স প্রুধোর চিন্তার দৈন্যতা ব্যাখ্যা করে নিম্নোল্লিখিত মন্তব্য করেন-
"Unable to follow the real course of history, Mr Proudhon provides a phantasmagoria which he has the presumption to present as a dialectical phantasmagoria. He no longer feels any need to speak of the seventeenth, eighteenth or nineteenth centuries, for his history takes place in the nebulous realm of the imagination and soars high above time and place. In a word, it is Hegelian trash, it is not history, it is not profane history—history of mankind, but sacred history—history of ideas. As seen by him, man is but the instrument used by the idea or eternal reason in order to unfold itself. The evolutions of which Mr Proudhon speaks are presumed to be evolutions such as take place in the mystical bosom of the absolute idea. If the veil of this mystical language be rent, it will be found that what Mr Proudhon gives us is the order in which economic categories are arranged within his mind. It would require no great effort on my part to prove to you that this arrangement is the arrangement of a very disorderly mind."

এখন বলেন চমস্কি, প্রুধোকে নবী মেনে আমাদের মুক্ত হতে হবে?

এ নিয়ে আরো বিস্তারিত মজার আলোচনা করা যায়, আপাতত আমরা পরের(৩য়) point এ যাই।

নিউটন বলছেন,' অক্টোবর-মহাসঙ্কটের সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্যই এইটাঃ জনগণের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান।
এ-দীর্ঘমেয়াদী সুবিস্তৃত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার নিকট থেকে সতর্ক দূরত্ব রচনা করার কৌশলগত যে-অবস্থান গণমানুষ গ্রহণ করেছে, সেটাই বিশেষ করে ২০০৬-এর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ২০০৭-এর জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময়কালের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আর এখানেই আমাদের দূর্বল গণতন্ত্রের যাবতীয় মুশকিলের বীজ নিহিত। শাসকশ্রেণী এবং তাদের রাজনীতি সম্পর্কে গণমানুষের এই নির্লিপ্ততা একদিকে যেমন সুচিন্তিত, অন্যদিকে তেমনি দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণের ফলও বটে। এর কারণ ও প্রেক্ষাপট আলোচনা করা এখানে সম্ভব হবে না। কিন্তু এটুকু এমনিতেই বোধগম্য, রাজনৈতিক ক্ষমতা ভাগ-বাঁটোয়ারা করার যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকেই জনগণ নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, কিংবা পুরো প্রক্রিয়াটিকেই হয়তো তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তোলার উদ্যোগ তাঁরা নেননি। যদি নিতেন, বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী দিনে জনগণের সক্রিয়তার ওপরই।'

কথাটা স্ববিরোধী কারন গণমানুষের এই নির্লিপ্ততা যদি সুচিন্তিত অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণের ফল হয় তবে 'জনগণের সক্রিয়তা' বা 'বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তোলার উদ্যোগ' এর অভাবের কথা নিউটন কেনো বলছেন?আবার বিকল্প শক্তি হিসেবে সংগঠিত ও সক্রিয় যদি হয়েই যদি বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন করতে হয় তবে কেনো গণমানুষের এই নির্লিপ্ততার পক্ষে উনি সাফাই গান? এই সাফাই গেয়ে উনি কি ছাত্র/শ্রমিক আন্দোলন (১/১১ পরবর্তি সময়ে) কে redicule করলেন না?আবার এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তার জেলে যওয়া।

যাই হোক তারপরও 'সক্রিয়তার' জন্য নিউটনকে ধন্যবাদ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28820193 http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28820193 2008-07-14 15:21:16
বাণী চিরন্তন-৩ আজকে প্রধান উপদেস্টার বিশেষ সহকারি ম. তামিম সাহেব বলেছেন যে, দেশের অর্থনীতির পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা মাত্র ১০ শতাংশ।বাকী ৯০ শতাংশ ভূমিকা বেসরকারি খাতের।

আমরা বলি তাহলে আপনাদের কি দরকার?

By the way, মাত্র কয়েকদিন আগে অর্থ উপদেস্টা বলেছেন কৃষকই খাদ্য মূল্য বৃদ্ধির কারন।

Fellow bloggers: আপনারা কনতো সত্যি কইরা এসবের আলামত ১/১১ র সময় কি ধরবার পারছিলেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28818647 http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28818647 2008-07-09 21:43:04
বাণী চিরন্তন-২ ভাগ্যিস উনি বলেন নাই যে আমরা ৩ বেলা খাই বলেই দেশে খাদ্যের অভাব।
দেশে বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলনের পর তার এই বাণী সত্যিই বাংলার কৃষকের জন্য সব চাইতে বড় পাওয়া!!!
এই সরকার কৃষকের কত বড় বন্ধু তার সরাসরি প্রমান দেবার জন্য উপদেস্টা সাহেবকে অনেক ধন্যবাদ!!!!!!!!!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28817189 http://www.somewhereinblog.net/blog/tarequl/28817189 2008-07-06 00:50:52