বিশ্ব নেতৃবৃন্দ,
জেনে রাখুন, কোন মতবাদ বা আদর্শ বিশ্বমানবতাকে তার দুর্ভোগ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না, তার নিরাপত্তা ও সভ্যতার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না; একমাত্র তাদের স্রষ্টার পক্ষ থেকে তাদের জন্য মনোনীত ধর্মই তা দিতে পারবে। “আপনি বলুন, হে আহলে কিতাব (ইহুদী ও খ্রিস্টান) আমাদের নিকট ও তোমাদের নিকট সমানভাবে গ্রাহ্য একটা কথায় আস। তা হলো আমরা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করব না। তার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার বানাব না এবং আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে আমাদের কেউ একে অপরকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করবে না।”[সূরা আলে ইমরান ৬৪] আসুন আমরা সকলে মিলে মৌলিক পাঁচটি অধিকার রক্ষা করি। যে পাঁচটি অধিকার রক্ষার ব্যাপারে সকল আসমানী ধর্ম একমত। সেগুলো হল- ধর্ম রক্ষার অধিকার, সম্পদ রক্ষার অধিকার, ইজ্জত রক্ষার অধিকার, জান রক্ষার অধিকার, বিবেক-বুদ্ধি রক্ষার অধিকার। আসুন আমরা এ অধিকারগুলো নিশ্চিত করি। জুলুম অত্যাচারকে প্রতিরোধ করি। উন্নত আদর্শ ও উত্তম চরিত্রের উপর গুরুত্বারোপ করি। পরিবারগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে হেফাযত করি। বিশ্ব তখনই নিরাপত্তার নেয়ামত পাবে যখন সেখানে নীতি নৈতিকতার প্রতি সম্মান থাকবে। ডিক্টেটরশীপের মাধ্যমে, গণবিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখা যায় না। দেশ দখল ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দিয়ে নিরাপত্তা অটুট রাখা সম্ভব নয়। অবরোধ, অনাহার, অধিকার হরণের ফলাফল কখনোই কল্যাণকর নয়। এগুলোর ফলে শত্রুতা আরো তীব্র হয়। জুলুম আরো বেড়ে যায়। সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে।
বিশ্বের শাসকবৃন্দ,
জেনে রাখুন, আল্লাহ্ তাআলার চিরায়ত নিয়ম হলো- ‘জুলুম-অত্যাচার’ সভ্যতা ধ্বংসের এবং জাতিসমূহের পতনের মূল কারণ। রাসূল (সাঃ) বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ্ অত্যাচারীকে সুযোগ দিতে থাকেন। কিন্তু যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন তাকে রক্ষা করার আর কেউ থাকে না।”[বোখারী, মুসলিম, তিরমিজী] আজ গোটা বিশ্ব জুলুম-অত্যাচার ও যুদ্ধ-বিগ্রহে চরমভাবে নিষ্পেষিত। আসুন আমরা সবাই মিলে এসব আতঙ্ক থেকে বিশ্ববাসীকে নিরাপদে রাখি। এসব ধ্বংসাত্মক কর্ম থেকে তাদেরকে মুক্ত করি।
ফিলিস্তিনের ভায়েরা,
আমি আপনাদেরকে নসীহত করছি- আল্লাহ্কে ভয় করুন, তাকওয়া অর্জন করুন। আমার নসীহত হচ্ছে- আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। আপনাদের বাস্তব অবস্থাকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। বিধবা নারীদের প্রতি করুণা করুন, অসহায় এতিমের প্রতি রহম করুন, আপনাদের দেশবাসীর প্রতি দয়াশীল হোন। ও ফিলিস্তিনের মুসলমানেরা, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। নিজেদের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলুন। শত্রুর যাবতীয় চক্রান্ত থেকে সতর্ক থাকুন। আপনারা নিজেরাই একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করাকে ব্যবসা মনে করবেন না। বরঞ্চ সবাই মিলে একক শক্তি গড়ে তুলুল। উম্মাহ্র কল্যাণে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। যে পরিমাণ হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড আপনাদের পারস্পারিক কোন্দলের কারণে ইতিমধ্যে ঘটে গেছে এগুলো অনেক বেশী। আর কিছু যেন না ঘটে। আমরা আল্লাহ্র তাআলার কাছে আপনাদের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও সুস্থতার দোয়া করি।
ইসলামী সোমালিয়ার ভায়েরা,
আপনাদের মাঝে কেন এই অনৈক্য, কেন এই বিচ্ছেদ!? আপনাদের মাঝে কি কোন সুবোধ লোক নেই? কেনই বা স্বদেশভূমিকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছেন? নিজেদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছেন? আল্লাহ্কে ভয় করুন।
পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত দেশের ভায়েরা,
মুসলমানদের উচিত তাদের ধর্ম, তাদের ইমেজ, তাদের দেশকে রক্ষার করার জন্য সবকিছু বিলিয়ে দেয়া। যাবতীয় সকল অনিষ্ট থেকে উম্মাহ্কে রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। আল্লাহ্ তাআলা আপনাদেরকে বুলন্দ করুন। সকলকে নিরাপদে রাখুন।
আল্লাহ্র ঘরের হজ্ব আদায়কারী হাজীবৃন্দ,
এই পবিত্র ভূমিতে পৌঁছাটা অনেক কষ্টকর ছিল। হজ্ব আদায় করা ছিল সবচেয়ে কঠিন ইবাদত। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ তাআলা এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ্ আব্দুল আযিযকে তাওফিক দেন। তিনি সকল মতানৈক্যকে মিটিয়ে দেশকে একতাবদ্ধ করতে সক্ষম হন। বিচ্ছিন্ন অন্তরগুলোকে আল্লাহ্ তার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করে দেন। তার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলা এদেশে নিরাপত্তা দান করেন। তিনি দেশে ইসলামী শরীয়া আইন চালু করেন। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেন। হাজীদের সুবিধার্থে সাধ্যানুযায়ী সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আব্দুল আযিযের মৃত্যুর পর তার সন্তানেরা যারা ক্ষমতায় এসেছেন সৌদ, ফয়সাল, প্রথম খাদেমুল হারামাইন- ফাহাদ, বর্তমান খাদেমুল হারামাইন- আব্দুল্লাহ্ প্রত্যেকেই হাজীদের কল্যাণে, তাদের যাতায়াত ও অবস্থান সহজীকরণে বড় বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। দুই হারাম শরীফকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন নতুন রাস্তা বাঁধা হয়েছে। সুড়ঙ্গ পথ খোলা হয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা এর মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু চান না। আল্লাহ্ তাআলা এসব আমলের মাধ্যমে তাদের নেকীর পাল্লাকে ভারী করুন। আল্লাহ্ তাআলা হাজীদের সেবায় নিয়োজিত সকলকে তাদের উত্তম খেদমত করার তাওফিক দিন। নিশ্চয় তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


