আমার প্রিয় পোস্ট
- ফরাসি কবি পল এলুয়ার্দ-এর একটি কবিতা : স্বাধীনতা ... - ইমন জুবায়ের
- ছোট গল্পঃ পোয়াতি বিলাই - আমি ও আমরা
- ফেসবুক থেকে নেয়া পতিত বিদ্রোহীদের কিছু মুখোশচ্ছবি - কৌশিক
- বাফটা এওয়ার্ডস উইনার লিস্ট ২০০৯ - দারাশিকো
- যাদুঘরের চাকা - তৈমুর রেজা
- রেডিক্যাল কহে অ্যাকটিভিস্টরে, 'তুই তো আসল রাস্তা চিনলি না রে!' - ব্রাত্য রাইসু
- কয়েকটা রেপিডশেয়ার প্রিমিয়াম লিংক জেনারেটর সাইট। - লুলুপাগলা
- ৫০ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রকাশ করেছে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম - অণৃণ্য
- ওয়েস্টার্ন জাঁরের প্রতিমা - ৈতমুর েরজা
- ফরিদ উদ্দীন আত্তারের The Conference of the Birds - ইমন জুবায়ের
- জলশয্যা - সোহেল হাসান গালিব
- বছরের সেরা প্রেস রিলিজ
- শওকত হোসেন মাসুম
- বাংলাদেশে এক্টিভিস্ট হওয়া কি আদৌ সম্ভব (চার পর্ব একসঙ্গে) - ফাহমিদুল হক
- ইমরান ব্লগ স্রষ্ট া - দেবরা
- ক্রিয়েটিভ কমনস্ বিষয়ে কিছু তথ্য.. - আশাবাদী!!
- লাইটহাউজ - তারিক টুকু
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- ফ্রি সিনেমা ডাউনলোড করতে চাই (হেল্প মি) - লেখাজোকা শামীম
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- কবিতা - আল-ইমরান সিদ্দিকী
- একটি রক্তাক্ত ভুখন্ডের লাল ইতিহাস - জাগারণ
- 'মানুষই মানুষের গা ঘেঁসিয়া বসিয়া থাকে' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- পিনো দায়েনির পেইন্টিং - রানা
- Google AdSense ... ওয়েব থেকে আয়-উপার্জন (১) - ত্রিভুজ
- বাংলা গল্পের উত্তরাধিকার: প্রতিক্রিয়া পর্ব - ফজলুল কবিরী
- অনলাইনে ফ্রী ল্যান্স কাজ - মদন
- প্যাস্টেল পেইন্টিংস..... - রানা
- বৈশ্বিক খাদ্যসংকট: ভুখা বাঙালির ভাতের কষ্ট বনাম শতাব্দীর বৃহত্তম জোচ্চুরির ইতিহাস - ফারুক ওয়াসিফ
- যে বই গুলো পড়া দরকার (সবগুলোর লিস্ট) - সপ্নীল
- আমার Google AdSense Account Disabled করা হয়েছে!!!!! - মনযূর মান্নান
- বাঁক - সফেদ ফরাজী......
- তুমি, তোমার সরাইখানা এবং হারানো মানুষ - মাসুদ খান
- জনপ্রিয় কিছু ওয়েব সাইট এর ঠিকানা.......... - গিফার
- ফ্রী ইবুক - শিমুল
- কার্টুন: ধান কাটা উৎসব - বহুরূপী মহাজন
- রেডিও সিরিজ - মৃদুল মাহবুব
- প্রেম নয়, প্রেমের সন্ধান করাটাই জীবন! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- সতত জনম; মূল: মৃণাল সেন - ফাহমিদুল হক
- বাকশাল, বঙ্গবন্ধু ও আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ - বিবর্তনবাদী
- আপনার ফায়ারফক্সের স্পিড বাড়িয়ে তুলুন ১০ গুনঃ টিপস - আহমাদ মুজতবা
- এখনকার বাংলাদেশের কিছু লেখা নিয়ে আন্দাজ ০ দেবেশ রায় - মাহবুব মোর্শেদ
- নীল অশ্বারোহী (২) - তারিক টুকু
- কুড়িগ্রাম - মাসুদ খান
- কাছিমের গ্রাম - মৃদুল মাহবুব
প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগগুলো লেখকসম্মানী দেয় না কেন?
২১ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০০
বাংলাদেশে মোটামুটি সচল/অচল সব মিলিয়ে তিন-চারশ লিটলম্যাগ আছে বলে জানি। এর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের লিটলম্যাগ সহ অনক ধরনের লিটলম্যাগই দেখা যায়।
এই লিটলম্যাগগুলোর মধ্যে পত্রিকা বিক্রি করে লাভ করে, এমন লিটলম্যাগ কম হলেও নগন্য নয়। আমরা সবাই তাদের চিনি। এখন প্রশ্ন হলো তাঁরা পত্রিকা করে 'খাবেন' কিন্তু লেখকদের সম্মানী দেবেন না, এটা কেমন কথা ?
আমার মনে হয়, লেখক সম্মানী দিলে একজন লেখক আরও দায়িত্বশীলভাবে নিজের কাজটুকু করতে পারেন। বা সম্পাদক সেটা করিয়ে নিতে পারেন। আবার, লেখকরাও কি সবার কাছ থেকে টাকা নেবেন নাকি? আমার মনে হয় কোনো লেখকই তা করতে যাবেন না। কিন্তু যারা লেখকের কাছ থেকে লেখা নিয়ে লাভ করেন, অথচ লেখকের প্রাপ্যটুকু দেন না, তাদের কছে টাকা চাওয়া যেতে পারে।
আমার জানামতে ব্লগে এখন তিন/চারজন লিটলম্যাগ সম্পাদক, লিটলম্যাগ এ লেখেন- এমন অসংখ্য লেখক আছেন। তাঁরা প্রাথমিকভাবে কী বলেন, এখন সেটাই দেখার।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
সব খানেই দেখি কাগজ কেনার জন্য সম্পাদকরা নগদ টাকা দেয়। কালি প্রেসের টাকা যথাসময়ে মেটায়। বিজ্ঞাপনের টাকাও ঠিকঠাক তোলে। কোনো ফাঁক নাই। বিক্রির টাকার হিসাব ঠিকঠাক রাখে। কিন্তু লেখকদের টাকা দেওয়ার ব্যাপারে বেশিরভাগ বড় কাগজ এবং সব ছোট কাগজ হাত লুকিয়ে ফেলে।
লেখক বলেছেন: ঠিকই বলেছেন মাহবুব ভাই : 'লেখকদের টাকা দেওয়ার ব্যাপারে বেশিরভাগ বড় কাগজ এবং সব ছোট কাগজ হাত লুকিয়ে ফেলে।'
আপনার পুরো কমেন্টটা এই পোস্টের সথে যুক্ত হোক।
ভালো লাগলো আপনার কমেন্ট পেয়ে।
অনেক ধন্যবাদ।
সেজুল হোসেন বলেছেন:
ঠিক বলেছেন।
লেখক বলেছেন: সেজুল, আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
নাফে মোহাম্মদ এনাম বলেছেন:
জনাব তারিক, আপনি একটা লিটল ম্যাগ বের করা যেমন সোজা ভাবছেন আসলে ঠিক তা না। এরকম হলে জাতীয় পত্রিকার মতন এগুলো সর্বদা চালু থাকত। হঠাৎ হঠাৎ বের হতে হতে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যেত না। যারা সত্যিকার সাহিত্য এবং লেখালেখিকে মর্যাদার আসনে আসীন করে রাখছেন তাদের বৃহ্ৎ ভাগই হলেন এই ছোটকাগজ সম্পাদকেরা। লেখককে টাকা দেয়া দূরে থাক, কাগজটি চালিয়ে যাওয়াটাও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। তবে জাতীয় পর্যায়ের পত্রিকাগুলোর ব্যাপার আলাদা। যাইহোক, এসব ব্যাপার যিনি একবার কাগজ প্রকাশনায় নেমেছেন তিনি ভাল বুঝবেন...তবু্ও আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: শ্রদ্ধার এনাম,
লিটলম্যাগ আমি করেছি এভং সম্পাদক না হত পারি, ঐ পত্রিকার জন্য কী কী অভিজ্ঞতা আমাদের পোহাতে হয়েছে সেটা আমার স্পষ্ট মনে আছে।
আমি তেলে-জল মিরাইনি, আমি বলিনি সবাই টাকা দিক। কারা দিতে পারে, কাদের কছ থেকে লেখকরা টাকা নেবেন না; সেটা যতটুকু স্পষ্ট করা যায়, তাই করেছি। বোধহয়, আপনি আমার লেখাটি পুরোপুরি পড়ার সময় পেয়ে ওঠেন নি। আশাকরি সময় পাবেন।
কাগজ চলানো যাদের জন্য দুঃসধ্য হয় পড়ে-- এমন অনেক লিটলম্যাগকেই আমি বা আমার বন্ধুরা লেখা দেয়া ছাড়াও যতদূর পারি সাহায্য করেছি, করি।
যাক, আপনাকেও ধন্যবাদ।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
আমরা একসময় "সহবাস" নামে একটা লিটিলম্যাগ করতাম । ছিমছাম গল্পের পত্রিকা । আমরা শুরুতেই দু্টো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ।
প্রথমটি হচ্ছে , বিজ্ঞাপন নেব না । বিজ্ঞাপনের জন্য একে তাকে তেলানো পোষাবে না ।
সার্কুলেশন দিয়ে পত্রিকার খরচ উঠে আসতে হবে । যাদের পোষাবে তারা কিনে পড়বে ।
এটাতে আমরা বেশ সফল হয়েছিলাম । ৭০০'র মতো সার্কুলেশন ছিল , নিয়মিত বের করতে কোন অসুবিধা হয় নি শেষ সংখ্যা পর্যন্ত ।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত ছিল লেখকের সম্মানী দেয়া হবে । তবে পত্রিকার সম্পাদনা পরিষদের কেউ সম্মানী নিবেন না , প্রথম দুই বছর ।
আমার মনে আছে , প্রথম সংখ্যায় আমাদের লস হয় , তখন ছাত্র ছিলাম নয়তো ছোট চাকুরিতে ছিলাম সবাই , লস কাভার করা বেশ কষ্টের ছিল । তবু আমরা গল্পকারদেরকে ১০ টাকা থেকে ২০টাকা পর্যন্ত সম্মানী দিয়েছিলাম ।
আপনার পোস্ট পড়ে সেই স্মৃতি মনে এলো ।
লেখক বলেছেন: আরিফ ভাই,
আপনি বোধহয় টোনটা ধরতে পেরেছেন। লিটলম্যাগ লেখককে টাকা দেবে, এটা একা ট্র্যাডিশন হওয়া উচিত---বড় কাগজ থেকে টাকা পেয়েই একজন যেমন খেয়ে পড়ে বেচে থাকতে পারবেন না, তেমনি লিটলম্যাগ থেকেও না।
এটা শুধুই একটা সম্মান।
দুঃখের কথা, এটুকু সম্মান করার মতো সম্পাদক আমাদের আশপাশে নেই...
আপনার পত্রিকা নিয়ে অভিজ্ঞতাটি সবার কছে শিক্ষনীয় হতে পারে।
অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: শুধু আনন্দ পেলে হবে কেমনে?
প্র্যাকটিসটাতো ভাই শুরু করতে হবে। তাই না?
এভাবে এড়িয়ে গেলে অন্যান্য সম্পাদকরা কী করবেন ?
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
টুকু,প্রস্তাব ভালো । খারাপ না। তবে কিছু কথা আছে। লিটলম্যাগকে জাতীয় দৈনিক পর্যায়ে না ফেলার পক্ষপাতী আমি। যেখানে জাতীয় দৈনিকে লিখলে পত্রিকা টাকা দেয় না সেখানে লিটলম্যাগ-এ লিখে টাকা দাবি করাটাকি যৌক্তিক পর্যায়ে পড়ে। বলা যেতে পারে কথা বলা উচিত এই সমস্ত জাতীয় দৈনিক নিয়ে। আরও কথা আছে এমন ও জাতীয় দৈনিক আছে যেখানে আমরা জানি এরা কোনদিনই লেখক সম্মানী দেবে না। কিন্তু তার পরও দেখেছি লেখকেরা সমানে লিখছে। তার মানে দাড়ায় টাকাটা জাতীয় দৈনিকের ক্ষেত্রে মুখ্য না। মূখ্য হলো '' নাম'' এবং '''প্রচারণ''। ফলে কবি, লেখক,গল্পকার লিখছে এবং লিখবে। মাগার আমাদের লেখকেরা এই নিয়ে কথা বলছেন না; বলছেন না যে '' আমার টাকা কই?'' বলে না কারণটা সহজ, বোধগম্য--তা হলো '' প্রচারে প্রসার"। যাক সে কথা। জাতীয় দৈনিকের এই চরিত্র নিয়ে কথা বলাটা জরুরী ছিলো বোধ করি। লিটলম্যাগ আলোচনা তার পর করা যেতো।
এখন কথা হলো তুই যে লিটলম্যাগের কথা উল্লেখ করেছিস তারা কি আসলেই লিটলম্যাগ নাম পাবার যোগ্য? যেমন ধর যে সমস্ত লিটল ম্যাগ হলো এনজিও ধর্মী, যারা লেখক এবং লিটলম্যাগ সম্পাদক নামক পোষ্টোর সিল বানায়, যারা আদৈও জানে না পত্রিকায় কার লেখা গেলো, যাদের টাকা আসে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে, এবং যারা জানে না আসলে লিটলম্যাগ কন্সেপ্টটাইবা কি তাদের কি তুই লিটল ম্যাগ বলবি। সে গুলো লিটলম্যাগ না। এর নাম আমি দিয়েছি " ভোম্বল মোটাকাগজ"। আমরা কি এদের কাছেও টাকা দাবি করবো? আমি কোনদিনই করবো না। এই জাতীয় লিটলম্যাগের কাছে টাকা দাবির থেকে এদের কে বর্জন করা উচিত। কথিত এই সমস্ত লিটলম্যাগ বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা জানি এরা কারা, আমরা জানি এদের উদ্দেশ্য কি। সবাই জানি বুঝি, কিন্তু লিখি। কিন্তু কেন লিখি? কেনই বা এদের কাছে টাকা দাবি করবো। এদের টাকা এবং এদের মোটাকাগজের উপর আমি মুত্রত্যাগ করতেও রাজি নই। বড় কিছুর কথা না হয় নাই বলাম।
আর আমরা এও জানি কারা আসলে লিটলম্যাগ। কাদের কে আমার ভালোবাসতে পারি। কোন ম্যাগগুলো ভালোবাসার যোগ্য। তাদের কাছে আমি টাকা দাবি করার পক্ষে না।
আমি জানি তোরও সেই মত।
লেখক বলেছেন: মৃদুল,
জাতীয় দৈনিক নিয়ে কথা বলিনি একারণে যে, আমার মনে হয়েছে জাতীয় দৈনিক লেখকসম্মানী দেয় না কেন-- এই প্রশ্ন তোলা অবান্তর। আমরা যারা সেখানে লিখি, তারা, প্রত্যেকটি কাগজের অবস্থা জেনেবুঝেই লিখি।
কিন্তু আমার ধারনা, আমরা প্রত্যেকে জাতীয় দৈনিকের চেয়ে লিটলম্যাগেই বেশি লিখি, এটা জেনেও যে, এদেশে, যে লিটলম্যাগের কথাই বলা হোক না কেন, আমি অন দ্য রেকর্ড বলতে পারি, তাদের কোন চরিত্র নেই। এই কারণেই কোন্ লিটলম্যাগ ভালো আর কোন লিটলম্যাগ খারাপ-- এ জাতীয় তর্কে আমি যাইনি, যেতে চাইনি। বিদেশি বিনিয়োগের পত্রিকায় তুই/ আমি লিখে থাকি, এবং আমি জানি, আমাকে আবার লিখতে বললেও হয়তো লিখবো। এ নিয়ে লুকানোর কিছু আছে বলে মনে হয় না। কারণ, যেখানে গোটা সেক্টরটাই কীভাবে দাড়িয়ে আছে সেটা আমরা জানি, সেখানে কে ভালো আর কে খারাপ-- এমন করতে গেলে ঠগ বাছতে গা উজাড় হবার জেগাড় হবে।
এসব কারণে আমি আমার মূল পোস্টে এসব কথা তুলিনি। আমি শুধু জানতে চেয়েছি, যে সব কাগজ লেখকদের লেখা বেচে নিজেরা লাভ করে, তার লেখক সম্মানী দেয় না কেন?
আমার মনে হয় তোকে এতক্ষনে বোঝাতে পারলাম।
ভাল থাকিস।
সাইফ সামির বলেছেন:
সহমত!
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
নাফে মোহাম্মদ এনাম বলেছেন:
আমি একটা ছোটকাগজ বের করার উদ্যোগ নিয়েছি। নাম হররপত্রিকা[আমার ব্লগে গেলে দেখতে পাবেন। আমার নামের ওপর ক্লিক করুন।]। প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদটা নিশ্চয় আহামরী কিছু নয়। কিন্তু জানেন, আমি আমার কাগজে একটা ছোটগল্পের জন্য কত দিচ্ছি? ৫০ টাকা। প্রচ্ছদশিল্পী কেউ হলে তাকে ১০০ টাকা। অলংকরনের জন্য ১০০ টাকা। এভাবে যারাই অংশগ্রহন করবেন তাদেরকে একটা না একটা সম্মনীর ব্যবস্থা রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি আমি। পুরো কাগজের প্রকাশনা এবং অন্যদের পারিশ্রমিক সবমিলিয়ে পুরোটাই তো আমার ঘাড় থেকে যাচ্ছে। কেবল এই স্বপ্ন দেখছি যে একসময় এ কাগজটি সবাই কিনবে গ্রাহক হবে। তখন যেমন আমার ব্যয়কৃত টাকা উঠে আসবে তেমন আমি আমার লেখকদের্ও সম্মান রক্ষার্থে এগিয়ে আসতে পারব। আমি আমার এ কাগজটাকে উপার্জনের মাধ্যম করতে চাই। এখন আপনি বলুন-কোন এমন লেখক আছেন যারা আমার মতন ছোটকাগজ সম্পাদককে সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসেন? যারা লিখেন তাদেরকে সম্মাণী্ও দিতে হয় আবার মুফতে পত্রিকাও। পকেটের পয়সা খরচা করে এককপি কাগজ কিনতে তো দেখি সবার আক্ষেপ।
লেখক বলেছেন: "আমি আমার এ কাগজটাকে উপার্জনের মাধ্যম করতে চাই"-- এটা কতটা সম্ভব , সেটা আমি জানি না। এমন স্বপ্ন অনেকে দেখেছেন, পরে বেশ ভুগেছেন-- আপনার মঙ্গলের জন্য এটুকু বলতে পারি।
আর আপনি যে পত্রিকা করছেন-- সেটাকে কমার্শিয়াল পত্রিকা বলা হবে না লিটলম্যাগ বলা হবে, সেটা নিয়ে আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি।
আমার মনে হয়, আপনি আরও ভাবুন।
হিমু রুদ্র বলেছেন:
টুকুভাই,একটা ঘটনা না বলে পারছি না। টাংগাইল থেকে 'উতঙ্ক' নামে একটা লিটলম্যাগ বের হয় প্রতিবছর। এই বছরও বেরিয়েছে তবে বিজ্ঞাপন ছাড়া ! কারণ বিজ্ঞাপন এর খোঁজ করতে গিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিলো তাতে করে সম্পাদক সাহেব এর সাধ্য ছিলো না - লিটলম্যাগটি প্রকাশ করার। টাংগাইল এর একটি শিক্ষা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর বিজ্ঞাপন-এর জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা করতো। তবে পরবর্তীতে তারা তাদের ভুল ( ! ) বুঝতে পারে যে - ছোটকাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কোনো লাভ নেই ! খালি টাকা জলে ফেলা.. সম্পাদক এই কথোপকথন এর অংশ বিশেষ তুলে দেন এবং তার মাধ্যমে ঘটনাটা জানাজানি হয়। তো, একথাও মাথায় রাখতে হবে - কিছু লিটলম্যাগ এর সম্পাদক এর আর্থিক অবস্থা বেশি ভালো না এবং তারা নিজেদের টাকা দিয়েই পত্রিকা বের করেন... আরও একটা বিষয় - অনেকে লিটলম্যাগ পয়সা খরচ করে কিনতে চান না ফ্রি নিতে চান ! এতে করেও সম্পাদক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোন... পত্রিকা বের করাতেই যদি এত সমস্যা হয়... তাহলে তরা লেখকদের সম্মানী দিবেন কি করে ? আর একটা কথা... এখন অনেক জাতীয় পত্রিকাও কবি / লেখকদের সম্মানী দেয় না... এর কারণটা কি ? আমরা কি এতই অবহেলিত...!
লেখক বলেছেন: রুদ্র,
আমি উতঙ্ক পত্রিকার মতো পত্রিকাকে লক্ষ্য করে এই পোস্ট টা দেইনি। এটা আশাকরি বুঝবেন। আমি বরং চাই উতঙ্ক আমাদের ভোবাসার মধ্য দিয়েই বেচে থাকবে।
অনেক পত্রিকার সম্পাদক আছেন, পত্রিকা করে ইদের খরচের মতো খরচ সামলান। আমি যে সম্মনী দিতে বলেছি, সেটা তাদেরকেই বলেছি।
আশাকরি বোঝাতে পারলাম।
সফেদ ফরাজী...... বলেছেন:
টুকু, প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগগুলো লেখকসম্মানী দেয় না কেন? আপনার প্রস্তাবটি অবশ্যই ভালো এবং বাস্তবায়ন হওয়াও উচিত। এ প্রসঙ্গে মৃদুলের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোও তো আমাদের অনেক ঠকাইছে বা টাকা মাইরা খাইছে বা টাকা দেবে বইলাও টাকা দেয় নাই। যেমন ধরুন ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীর কাছে আমি প্রায় ২/৩ হাজার টাকা পাবো। তাও ৩/৪ বছর হয়ে গেছে। দেয় না। অতএব আমিও আর লেখা দেই না। আজকের কাগজের সুবর্ণরেখায় লিখে আমি কোনোদিনই বিল পাইনি। প্রায় ৬/৭ হাজার টাকার মতো বিল পাবো। বিল দেওয়া হবে, এমত আশ্বাস বাণী নিয়ে অপেক্ষা করেছি দীর্ঘদিন। কিন্তু দেয় না। একসময় পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেলে আর পাই নাই। জনকণ্ঠের কাছে টাকা পাব, সমকালের কাছে টাকা পাব, ডেসটিনির কাছে টাকা পাব। কই কেউ সময়মতো লেখার বিল তো দেয়ই না, সময়ের পরেও দেয় না। কেন দেয় না? এই বিষয়টি ভাবনার ব্যাপার।
আমি তথাকথিত লিটলম্যাগ বা দৈনিকের সাহিত্যপাতাকে আলাদা ভাবছি না, দুটোই আমার কাছে এক। অতএব কম হোক বেশি হোক উভয়টাতেই যারা লিখবেন (`শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে'-ইসলাম ধর্মের এ তত্ত্বটি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।) তাদেরকে লেখা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ খুব কম সময়ের মাঝেই লেখকসম্মানী দেয়া উচিত। কেউ যদি লেখকসম্মানী না নিতে চায়, সেটা ওই লেখকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দিতে চাওয়ার মানসিকতা গড়ে উঠতে হবে। এ বিষয়ে লেখকরাই কর্তৃপক্ষকে শিক্ষা দিতে পারেন, লেখা চাওয়ার সময়।
লেখক বলেছেন: আমি একমত।
অনেক ধন্যবাদ।
মজনু শাহ বলেছেন:
কথা হচ্ছে, চাররঙ্গা প্রচ্ছদ করতে, অফসেট কাগজে ছাপতে কিছু ছোটকাগজের বাধে না, লেখকরা টাকা চাইলেই মুখ কালো...এভাবে কতদিন !
লেখক বলেছেন: ভাই,
এটাই বলতে চেয়েছি। উনাদের কছে টাকা চাইলেই দোষের হয়ে যাবে আর উনারা পত্রিকা করে ঈদের খরচের মতো খরচ সামলাবেন--এটা কীভাবে হয়।
সুতুরাং আমাদের খুব তাড়াতাড়ি এই বিবেচনাগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দেখা উচিৎ।
ভলো থাকবেন।
অভিক শাওন বলেছেন:
ব্লগগুলারও টাকা দেওন উচিত।
লেখক বলেছেন: রাইট।
অনেক ধন্যবাদ।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
তারিক টুকুর মূল প্রস্তাবের সাথে আমি একমত নই। কারণ লিটলম্যাগ কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। ব্যবসা করার জন্য এটার যাত্রা শুরু হয় না। দীর্ঘ যাত্রায় হয়ত কোনো কোনো কাগজ এরকম অবস্থায় পৌঁছে যেটা ৫০০ কপি তক বিক্রি হয় (যেগুলোকে হয়ত প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগ বলা হচ্ছে), কিন্তু ওটা করে সম্পাদকরা খান-দান, আমাদের দেশে এই বাস্তবতা এখনো তেমন করে তৈরি হয় নি। হয়ত হতো, যদি বাণিজ্যিক কাগজগুলো, অর্থাৎ সংবাদপত্রগুলো সাহিত্যের সালাদ তৈরি না করত।লেখক সম্মানীর প্রশ্ন ওই সংবাদপত্রগুলোর ক্ষেত্রেই কেবল যুৎসই। ওদেরই ছাই দিয়ে ধরা দরকার, যাতে সফেদ ফরাজীর মতো কোনো কবির এরকম একটা করে তালিকা ঝুলিয়ে দেবার দরকার না হয় যে, কোন কাগজ তার কত টাকা মেরে খেল। অথচ ওই প্রশ্নে আপনি নিরুৎসাহিত ও নিরুদ্যম। কেন?
কিছু সাহিত্যের কাগজ, শুরুতেই লিটলম্যাগ নয় বরং সাহিত্যের কাগজ হিসেবে বেরোবে এ ঘোষণা দিয়েই বেরোয়। অবশ্যই দরকারি সেসব কাগজ। যেমন নতুন দিগন্ত, কালি ও কলম। মূলধারার সাহিত্যকে একটা ভালো পরিসর দেয় এসব কাগজ। সারাদেশে ওদের একটা ভালো নেটওয়ার্কও তৈরি করবার অবকাশ থাকে। বাণিজ্যও হয় হয়তো বা। সেক্ষেত্রে সম্মানীর প্রশ্ন যদি আসে, লিটলম্যাগের মতো দেখতে হলেও এদের কাছ থেকে সেটা দাবি করা চলে। দিতে পারার সামর্থ্য তৈরি হলে এরা হয়ত সেটা দেবেও। এসব কাগজ বের করার জন্য নির্দিষ্ট মাসোহারায় স্থায়ী কর্মকর্তাও নিয়োজিত আছেন।
কিন্তু কী করে আপনি গাণ্ডীবের কাছে সেটা চাবেন, বা শিরদাঁড়া-প্রতিশিল্পের কাছে চাবেন? বছরে, দু'বছরে, কখনোবা তিনবছরে একটা সংখ্যা করে এরা কী এমন বেচাবিক্রি করে যে লেখককে সম্মানীও দেবে? আর আপনি তো জানেনই যে, লিখে করে খাওয়াকে এ ধরনের কাগজ উৎসাহিত করে না। এরা তাদের লেখাই ছাপে, যারা কখনো সম্মানী দাবি করবার স্বপ্নও দেখে না। এগুলো বদ্ধস্রোত, মাঝে মাঝে পদ্ম ফোটে তবু, এগুলোকে এগুলোর মতোই থাকতে দেয়া ভালো।
নিজেদের ভূমিকায় স্পষ্ট নতুন দিগন্তের মতো কাগজের প্রতি আমি খুবই সন্তুষ্ট। কারণ এরা যা করে তাই বলে। কিন্তু যারা লিটলম্যাগ করতে এসে নতুন দিগন্ত-এর মতো কাগজ করে, যাদের ভূমিকা দৈনিক কাগজের রক্ষিতার অধিক কিছু নয়, সন্দেহ নেই তারা প্রতারক। লেখক হিসেবে এসব কাগজকে বর্জন করা দরকার, যতই চাররঙা প্রচ্ছদে ও দামি কাগজে এসব ছাপা হোক না কেন। সে কাজটুকুই আমরা করে উঠতে পারছি না বলে ওরা বিষয়টা উপলব্ধিও করতে পারছে না যে ওরা যা করছে সেটা লিটলম্যাগ নয়, অন্যকিছু।
আপনার পোস্ট কিছু ব্যাপারে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কিছু কিছু কাগজের কাছে আপনি সম্মানী চাওয়ার পক্ষে না, পারলে বাড়তি শ্রম দিতে রাজি। নিশ্চয়ই স্বল্পায়তনের অনুজ্জ্বল অব্যবসায়িক আয়োজনে নতুন স্বর কব্জা করুয়া কাগজগুলোর কথাই আপনি এই তালিকায় রেখেছেন। আমার মতে, এগুলোই বস্তুতপক্ষে লিটলম্যাগ। এগুলোর জন্য সব উজাড় করে দেয়া যায়, কেবল যদি এ গ্যারান্টিটা থাকে যে এরাও স্থূল হয়ে উঠবে না, বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখবে না একদিন।
প্রাথমিকভাবে আমার বক্তব্য এটুকুই। দরকারে পরে কথা হবে।
আরেকটা কথা, বিদেশী বিনিয়োগে হয় এরকম লিটলম্যাগ কোনগুলোকে বলছেন? নাম ধরে বলুন না প্লিজ। মৃদুল মাহবুব এনজিওধর্মী কাগজ বলতে ঠিক কীরকম কাগজকে বুঝিয়েছেন, তাও ঠিক চিন্তায় আনতে পারছি না। আরো খোলাসা হলে ভালো হতো।
লেখক বলেছেন: মুজিব ভাই,
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আপনার এই মন্তব্যে আমিও কিছুটা ভিন্নমত রাখতে চাই:
১.আপনি যে সব লিটলম্যাগের নাম উল্লেখ করলেন, তাঁদের প্রতি আমাদের সত্যিকারের সম্মান অবশ্যই আছে। কিন্ত আলোচনার সুবিধার্থে সবাইকে একসাথে লিটলম্যাগ বলেছিলাম। তার আগে একটা শব্দ রেখেছিলাম 'প্রতিষ্ঠিত'। তারপরও আপনি প্রশ্ন করলেন: 'কী করে আপনি গাণ্ডীবের কাছে সেটা চাবেন, বা শিরদাঁড়া-প্রতিশিল্পের কাছে চাবেন?'
আমার উত্তর, কখনোই চাইবো না। আমার মূল পোস্টে সে ইংগিত যে আছে, তা আপনিও লক্ষ্য করেছেন।
কিন্তু লিটলম্যাগ বানিজ্য এখনকার সময়ে খুব ভাল একটা ব্যবসা, মুজিব ভাই, এটা আপনি জানেন। কভার আর ব্যাককভার পাতা সহ চারপাচটা বিজ্ঞাপণে এখন দুই/তিন লাখ টাকাও উঠে আসে। বছরখানেক আগে এক পত্রিকার প্রকাশনা উৎসবেই শুনেছি ১.৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।
এর মানে আপনি আমি যেভাবে ভাবছি, লিটলম্যাগ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, লিটলম্যাগ অমুক করেনা, তমুক করেনা; এমন কথা খুব একটা বেশি ক্ষেত্রে এখন আর খাটে না। লিটলম্যাগ কে নিয়ে আমরা যেভাবে ভাবতাম, যেভাবে স্বপ্ন দেখতাম--এখন আর সেই জায়গাগুলো নেই বোধহয়। লিটলম্যাগের বানিজ্যিকায়ন এমনভাবে হয়েছে যে, আপনি মুজিব মেহদী, সত্যিকারের লিটলম্যাগের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে তিন-চারশ পত্রিকার মধ্যে তিন-চারটি পত্রিকার বেশি নাম নিতে পারছেন না। এর মধ্য দিয়েই হয়তো লিটলম্যাগগুলোর বদলে যাওয়ার একটা চিত্র পাওয়া যায়।
২. এখন প্রশ্ন হলো আমরা যদি অমন লিটলম্যাগগুলোতে লিখি, তাহলে টাকা চাইবো না কেন? না চাওয়ার কেনো যথার্থ্য আমার জানা নেই। আপনি বলেছেন, দৈনিকের ব্যাপারে আমি কথা বলিনি কেন। একবার, আমাদের বন্ধুরা মিলে এক পত্রিকার সম্পাদকের (সহিত্য সম্পাদক নন) কাছে গিয়ে আমাদের পাওনা সম্মানী চাওয়ারও প্লান হয়েছিল, মুখে মুখে সবাই রাজিও হয়েছিল, কিন্তু তারিখ মতো দিনে দেখলাম আমরা তিন -চারজন ছাড়া আর কেউ নেই(সফেদও ঘটনাটার সাক্ষী)। আমরা একেকজন চার পাঁচটি দৈনিক পত্রিকার কাছ থেকে দশ বা পনের হাজার টাকার কম পাবো না। কিন্তু, কাদের নিয়ে কথা বলবো। আমরা সবাই যে নিরাপত্তা চাই। তাই না?
৩.বিদেশি বিনিয়োগের লিটলম্যাগ বলতে সেগুলোকেই বুঝিয়েছি, যাদের সম্পাদকেরা দেশের বাইরে বসে বসে লেখক সিলেক্ট করেন, অনুমতি নিয়ে বা না নিয়ে কারও কারও লেখা ইচ্ছা হলে পত্রিকার জন্য বাছেন এবং উনাদের দেশিয় এজেন্টদের মাধ্যমে পত্রিকা ছেপে মার্কেটে আনেন। মানে, একজন লিটলম্যাগ সম্পাদকের যে শ্রম, তা তার একদম না দিলেও চলে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভাল থাকবেন।
শেখ জলিল বলেছেন:
বাহ্ । আলোচনা বেশ জমে উঠেছে। তবে আমি লিটলম্যাগ প্রকাশকদের পক্ষে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও লেখকদের সম্মানী দিতে পারেন না অনেক লিটল ম্যাগ প্রকাশকগণ। অবশ্য বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রকাশনার কথা আলাদা।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে।
আর সবচেয়ে বড় একটা বিষয় লিটল সাইজের ছোটো কাগজ-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো বিজ্ঞাপন। ৬৪ পৃস্ঠার কাগজে ২৫ পৃষ্ঠা বিজ্ঞাপন। রঙিনসাদাকালো, কভার পর্যন্ত। তারা মূলত করে ব্যবসা। তারা কেউ কেউ প্রথম প্রথম ২-৪ টাকা দেয় পরে খালি ঘুরায়।
এতসব না লেখলেও চলতো। তবু তালে তালে যা মনে এলো লিখলাম। কিন্তু বড় প্রব্লেমটা হচ্ছে লেখকদের মধ্রে করয়েকজন সিরিয়াস বাকি সবাই ইতর শ্রেণীর। ইতর শ্রেণা লেখা ছাপলেই খুশি। টাকা পালে উল্পো সম্পাদককে গিফ্ট করে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এবং লেখরা লেখাপ্রতি একটা টাকার অংক নির্ধারণ করলে, লেখা জমা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাপার ব্যাপারে বাউন্ডেন্স দিলে আর কাগজ প্রকাশের পর লেখককপি সময়মত পাঠানোর অঙ্গীকার নিলে ... ভালো হয়। এ ব্যাপারের আজিজ মার্কেটে একটা কমিটি গঠন করা গেলেও ভালো হয়, গুণ দাকে সভাপতি বানানো যায়।
গুণদা আবার টাকা হাতে না পেলে লেখা ছাড়েন না। অনেকসময় আগে টাকা নিয়ে খরচ করার পর লেখা জমা দেন।
আশা করি আপনারা এ ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এগুলো খুবই তাৎক্ষণিক মতামত। কারো বিরক্তি লাগলে ক্ষমা করবেন।
লেখক বলেছেন: একমত সুজন। আপনাকে অনেক ধন্যবদ।
ভালো থাকবেন।
মাঠশালা বলেছেন:
আমি দেখতে চাই নিজের বিরুদ্ধে আপনারা কতদূর জান, মোল্লা এবার যাবে মসিজদের বিরুদ্ধে, হাহ হা! তা কি যায় কোনিদন!
লেখক বলেছেন: বুঝলাম না। একটু বুঝিয়ে বলবেন, প্লিজ।
মাঠশালা বলেছেন:
না বোঝাই কৌশলগতভাবে মনে হয় ঠিক, তাই না? না বোঝার মতো কি বললাম?
লেখক বলেছেন: ভাই, আপনি যা বলতে চান, তা দয়া করে স্পষ্ট করে বলেন। অভিমান করে থাকলে কী করে চলবে। অথচ, আপনার কথায় মনে হচ্ছে একটা অভিমান লুকানো আছে।
আসেন, আমরা যা বলার সরাসরি বলি।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
আপনার পয়েন্টগুলো ধরে আরেকটু কথা বলা যায়--১. তালিকাটা এত খাটো না টুকু। অন্তত তিনটা তো নয়ই। আরো বলা যাবে নাম। আমি উদাহরণ দিতে গিয়ে ওই তিনটার কথা বলেছি। এ মুহূর্তেই আরো কয়েকটা নাম মনে পড়ছে। যেমন ধরুন পত্তর, দুয়েন্দে, দ্রষ্টব্য, চালচিত্র, অনিন্দ্য ইত্যাদি। এসব কাগজ কট্টর। এগুলো লেখার চেয়ে লেখক ছাপে বেশি। এগুলোর অনেকগুলোই আমার লেখা ছাপে নি। তাতে অসুবিধে নেই। লিটলম্যাগের কথা বলতে গেলে এদের কথা বলতেই হবে। একটা উদাহরণ তো আপনি জানেনই যে আমরা ৫ জন (রবিউল করিম, মজনু শাহ, সুহৃদ শহীদুল্লাহ, লাকু রাশমন ও আমি) কয়েকজন মিলে শিরদাঁড়া শুরু করেছিলাম। এখন কাগজটির সঙ্গে রবিউল করিম, মজনু শাহ ও আমি নেই। ওটি বেরোচ্ছে স্বল্পায়তন ছেড়ে বৃহদায়তনে। নতুন নতুন লেখক এসেছেন। ভালো হয়েছে যে কাগজটা আছে। আমরা নিজেরা একাধটু বদলে গেছি বা বদলে গেছি বলে কেউ কেউ মনে করেছেন, সেজন্যেই ওর সঙ্গে আমরা নেই। কিন্তু কাগজটি তো তার জায়গায় থাকুক।
এখান থেকেও বলা যায়, লিটলম্যাগ যে জায়গায় ছিল সে জায়গায়ই আছে, থাকবে। আরো নতুন নতুন কাগজ আসবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের মতো করে বিশুদ্ধ লিটলম্যাগই হয়ত করবে। কেউ কেউ হয়ত তাদের কাগজটিকে বড়ো কাগজে যাবার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবে, কেউ কেউ ব্যবসাও করবে। আমাদের দায়িত্ব তাদেরকে চেনা, লেখা না দেয়া।
লিটলম্যাগগুলো সে জায়গায় নেই বলে আপনি আসলে লিটলম্যাগারদের জায়গা বদলকেই আড়াল করে দিয়েছেন। আপনি আপনার 'কোমলগান্ধার'-এর কথা মাথায় রেখে ভাবলে দেখবেন যে, ওই কাগজটি ওর জায়গায় ইতিহাস হয়ে আছে নিজস্ব চরিত্র নিয়ে। বদলে গেছেন কেবল আপনি। আপনি এখন রীতিমতো 'প্রথম আলো'তে শোভা পান। কোমলগান্ধারের অবস্থান থেকে আপনার বদলটা শিরদাঁড়ার অবস্থান থেকে আমার বদলের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। আমি শিরদাঁড়া, গাণ্ডীব ছাড়িয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দেশের বিভিন্ন লিটলম্যাগে লিখেছি, দলের বাইরে এসেছি। ওটাই আমার স্খলন। দৈনিক অবধি যাই নি, যেতে হয় নি, যেতে চাইও না। তো, আপনার-আমার বদলাবদলির এই দায়টা লিটলম্যাগগুলো কেন বহন করবে?
এই কট্টর ঘরানার বাইরে সারাদেশে কম করেও ৫০টি কাগজ বেরোয় যেগুলোর উদ্দেশ্য ব্যবসা করা নয়। ওসব কাগজেও লেখা যায় সম্মানীর প্রশ্নটা বেমালুম ভুলে গিয়ে। এদের দমবন্ধকর কট্টরামি নেই, ভালো লেখার প্রতি যত্ন আছে। শূন্য দশকের লেখকদের সম্পাদনায় যেসব কাগজ বেরোয় সেগুলোও এই কাতারের। বাণিজ্য এদের উদ্দেশ্য নয়, ভালো লেখাই অভীষ্ট। সুতরাং আপনার তোলা প্রশ্নটা অধিকাংশ লিটলম্যাগের নয়, কতিপয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ অচলগুলো আপাতত আলোচনার বাইরেই থাকুক। সচল কাগজ শ'খানেকের বেশি নেই। তার মধ্যে ব্যবসা যদি একান্ত করতে পারেই তো করে ২/৩টা কাগজ, নাকি আরো বেশি ৪/৫টা?
২. দৈনিক কাগজগুলোতে আপনারা নতুনরা যারা লেখেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তাদের একটা আন্দোলনই গড়ে তোলা দরকার। একবার প্ল্যান করলেন হলো না তো উদ্যোগটাই ভেস্তে গেল। এটা তো কোনো কাজের কাজ হলো না। পরে আরো পদক্ষেপ নেয়া যেত। যেমন একটি পদক্ষেপ হতে পারত ব্লগে লিখে ইস্যুটিকে পরিচিত করা ও সমর্থন সংগ্রহ। এমনকি এই পোস্টটাই পরিকল্পিত হতে পারত দৈনিকগুলো যাতে ঠিকঠাক সম্মানী দেয় সেই জায়গা থেকে (মৃদুল এ ব্যাপারে বলেছেন)। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, সেটা ব্লগে ঠিক হতে পারত। এখনো হতে পারে। ওটাই জরুরি প্রশ্ন।
আমার ধারণা, শূন্য দশকের লেখকেরা যদি একটা সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন যে, সম্মানী না দিলে কোনো দৈনিকেই লিখবেন না, তাহলে পত্রিকাগুলো বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হলেও হতে পারে।
এ ব্যাপারে নিরাপত্তার প্রশ্ন কেন? কোন নিরাপত্তা এটা, খ্যাতির নিরাপত্তা নাকি শারীরিক?
৩. ওই কাগজটি আমি দেখেছি। বাংলাভাষাভাষী লেখক যারা বিদেশে থাকেন ওদের বাংলাদেশে পরিচিত হবার আকাঙ্ক্ষা থেকে ওই কাগজটি হয়েছে। টাকা যুগিয়েছেন ওখানকার লেখকদেরই কয়েকজন। খুব সস্তায় বিক্রির উদ্যোগটাও বেশি বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছবার আকাঙ্ক্ষা থেকেই উৎসারিত। বিদেশী বিনিয়োগে লিটলম্যাগ হয় এটা বললে কিন্তু অন্যরকম গন্ধ পাওয়া যায়। ব্যাপারটা আদৌ ওরকম না।
আমি আপনার সাথে একমত যে, ওই কাগজের সম্পাদক নিজে শ্রম দেন নি, শ্রমটা টাকা দিয়ে কিনেছেন। দেশেও কি এটা হয় না?
লেখক বলেছেন: কী বলবো মুজিব ভাই।
আমি আপনাকে হয়তো অনেক কিছুই বোঝাতে পারিনি। যা হয়তো অনেকে বুঝেছেন।
সেক্ষেত্রে তর্ক বাড়িয়ে লাভ কী ?
যাক ভাল থাকবেন।
বিপ্র বলেছেন:
হুম...
লেখক বলেছেন: হুম
মুজিব মেহদী বলেছেন:
সারছে। না বুঝেই তবে কথা বললাম এ বেলা?
যাহোক, তর্ক করতে চান না যখন তখন আমিও অফ যাই বরং।
লেখক বলেছেন: কোমলগান্ধারের অবস্থান থেকে আপনার বদলটা শিরদাঁড়ার অবস্থান থেকে আমার বদলের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে।
আপনার এই কথার পর আমার মনে হয়েছে, যেহেতু আমার পারভার্শনের রেটটা আপনার চেয়ে বেশি, সেহেতু আমি আপনার সথে তর্ক করার যোগ্য নই।
হয়তো লিটলম্যাগ এর এই প্রসঙ্গটাও আমার অধিকারে মধ্যে আর পড়ে না। যেমন টা আপনার পড়ে।
একারণেই বলেছি, কী বলবো।
ভালো থাকবেন মুজিব ভাই।
আপনার মঙ্গল হোক।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
@মুজিব ভাই,আপনি একটা প্রশ্ন রেখেছিলেন আমার কাছে। যেহেতু লিটলম্যাগ এবং জাতীয় দৈনিক এই প্রস্তাবে আমার তেমন কোন মনযোগ নাই বা মনযোগ দেবার কোন সুযোগ কোনদিন তৈরি হয়নি ফলে এই জাতীয় আলোচনায় আমার আগ্রহ কম। ফলে আলোচনা বহু দূর অগ্রসর হবার পর চোখ পড়লো এতে। দেরিতে উত্তর লেখার জন্য দুঃখিত।
আমি আমার কথা আগেই বলে দিয়েছি কাদের কে আমি লিটলম্যাগ হিসাবে দেখি আর কাদের কে দেখি না। ( যদিও লিটলম্যাগ নিয়ে আমার জানা বুঝা বরাবরই কম, এ বিষয়েপড়াশোনাটাও কম। একথা স্বীকার করি।)
আর বিদেশি বিনিয়োগকারীর হাত ধরে কারা লিটলম্যাগ হয়ে উঠতে চায়, নিজেদের খেতাবটা বজায় রাখতে চায় তা আমি আপনি বুঝি। আমার এমনই ধারণা। আবার এ কথাও বলবো বিদেশি অর্থায়নে ভালো কাগজও হয়েছে। ভালো কাগজ এই অর্থে বলাম যে, সে সমস্ত পত্রিকায় আমি ভালো লেখা পেয়েছি, যত্নের দেখা মিলেছে। ফলে সেটা লিটলম্যাগ না অন্য কিছু সে প্রশ্নে আমি আর যেতে চাইনি। ভালো লেখা, যা আমার এবং আমার ভালো লাগে,সেই অবস্থান থেকে এদের ভিতর কোন দোষ দেখি না। । ভালো লেখাটা যেকোন মাধ্যমেই আসতে পারে তা লিটলম্যাগ, জাতীয় দৈনিক বা আমার উল্লেখিত ভোম্বল মোটাকাগজ সে যাই হোক না কেনো। কোন সমস্যা দেখি না। আর আমি এও বিশ্বাস করি না যে একমাত্র লিটলম্যাগই নতুন চিন্তা চেতনা বিশ্বাস কে ধারণ করতে পারে। ধারকটা অন্য কোথাও। সারাজীবন লিটলম্যাগ, মাগার ভালো কিছু তৈরি করতে পারলাম না তবে আর কি হলো! কিছু না। যদিও ভালো মন্দ আপেক্ষিক।
সব মিলেয়ে আমার আর কোন ভাবনা নাই এই সমস্তে। আমার এও মনে হয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠান-বিরোধীতা অতি পুরানো একটা ধারণা। আর এই সমস্ত শেখানোর দাযিত্ব সুবিমল মিশ্রের উপর ছেড়ে দিয়ে এ থেকে আমি মুক্তি চাই ব্যক্তিগত ভাবে। আবার প্রতিষ্ঠানও পারে না একজন কবি বা শিল্পী তৈরি করতে। আসলে আমরা অদেখা ভূতের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। শিল্পী অতি অতি স্বাধীন। তাকে কোন কিছুই বেঁধে বা ধরে রাখতে পারে না। আমি ১০০ হাত দঁড়ি গলায় ঝুলিয়ে বলতে পারবো না আমি অনেক স্বাধীন। মদের টেবিলের স্বাধীনতা চাই। আমার যা ইচ্ছা তাই করবো। এই সমস্ত আলোচনা মাঝে মাঝে অর্থহীন লাগে।
তবে যদি যুক্তিহীন কোন মমতার কথা বলেন তবে আমি বলবো আমি লিটলম্যাগের প্রতি আমার দুর্বলতা বেশি। কারণ? জানা নাই। কনস্পেচুয়াল জায়গা থেকে এই ভালোবাসার জন্ম না এও জানি। আর লিটলম্যাগে লিখে টাকা-- এই বিষয়ে আমার ধারণা আগেই উল্লেখ করেছি।
আর প্রতিষ্ঠানের কথা বললে বলবো ১০০% টাকার জন্য লিখেছি। কিন্তু টাকা তারা ঠিক মত দেয়নি কেউ। দিবে না, যে টাকা পাবো তার লিস্ট দিয়েও লাভ নাই। পাওয়া যাবে না। বুঝে গেছি। আর কেন টাকার প্রয়োজন হলো এই উত্তরে বলবো মূলত বই কেনার জন্যই লিখেছি। কেননা আমরা জানি বইয়ের বাজার মূল্য কত। ছাত্র জীবনে এছাড়া উপায় ছিলো না। জাতীয় দৈনিকে লেখা না লেখা নিয়েও কোন ভাবনা ছিলো না। তবে বন্ধুত্বের খাতিরেও লিখেছি।
মুজিব ভাই, অনেক কথা আপনার প্রশ্নের সাপেক্ষে অপ্রসঙ্গিক। তার পরও বলাম। কেননা আমি আমার অবস্থান পরিস্কার করলাম। ভাবলাম যেনো আর বেশি কথা না বলতে হয় এই বিষয়ে। আপনার উত্তর দেবার সাথে সাথে নিজের কথাগুলোও বলে ফেললাম। যা হোক।
ভালো থাকুন সবাই।
মাঠশালা বলেছেন:
"বাংলাদেশে মোটামুটি সচল/অচল সব মিলিয়ে তিন-চারশ লিটলম্যাগ আছে বলে জানি।"তো টুকু লিটিল ম্যাগাজিন বলতে আপনি কি বোঝান আর এর সংখ্যাইবা কিভাবে গোনেন তা কিন্তু এই লেখায় জানাননি। এটা খোলাসা না করেই প্রত্যেকেই "লিটিল ম্যাগ" শব্দটিকে খাবলে চলেছেন। তদপূরি নিজেদের পদস্খলনের কথাও সগৌরবে বলে চলেছেন। এক পত্রিকায় না লিখে বা ত্যাগ করে বা ত্যাক্ত হয়ে বা এমনিই অন্য আরেকটি কাগজে লিখতে যাওয়া/চাওয়াই কি স্খলন বোঝায়? এ প্রশ্ন সহজেই সামনে চলে আসে। এথিক্স এবং আত্ম সমালোচনার ও লেখকের দায়িত্ব নেয়ার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলে এরকম অবস্থায় আমার মনে পড়ে-নির্বাচন বা লীগ সামনে রেখে নেতা/খেলোয়াড়দের দলবদলের কথা। যার মোদ্দাকথাটা দাড়ায় ক্ষমতা ও পদ নিশ্চিত করার ভেতর দিয়ে নিজের দাম ভঁাড়িয়ে নেয়া। এখানেও লেখক হিসেবে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে দুয়েকদিন কিছু পত্রিকা ও দৈনিকে লিখে এবার নিজের বাজার চাহিদা বিবেচনা করে বা না করেই লেখার পণ্যমূল্য আদায়ের করুন প্রচেষ্ঠা দেখা যাচ্ছে। নিজে দায়ীত্ব স্বীকার না করলে নিজেকে সমাজের পুরোহিত শ্রেনীর প্রতিনিধি বলেই মনে হয়, সেরা জীব, আশরাফ। আর তার জন্য সকল আতরাফ সম্পাদকেরা লেখকের টাকার ব্যবস্থা করবেন।যেহেতু তারা তাদের লেখা ছেপেই নিজেদের(সম্পাদকেরা) দৃশ্যমান ও দামী করে তোলেন। আর এ প্রক্রিয়া জারি থাকে বলেই সম্পাদক নিজেকে মধ্যসত্বভোগী হিসেবে আবিস্কার করেন। সেইসাথে নিজেকে প্রায়শই ২য় শ্রেনীর সৃজনশীল জীব হিসেবে তারই(সম্পাদক) লেখকদের চোখেমুখে ফুটে থাকতে দেখেন। তখন সেও খেলায় নামে আর লেখকদের খেলনা বানিয়ে ছাড়ে ও টুর্নামেন্ট জমে ওঠে; একদিন হঠাৎ দেখা যায় দুএকজন সম্পাদকের বানিজ্য ভালোই হচ্ছে লেখককে ফাঁকি দিয়ে আর লেখক তখন আত্মপ্রতারিত মনে করে। কিন্তু লেখকের নিজের দায়ীত্বে অবহেলা হেতু যে এই অনাসৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয় তা আর লেখক মনেই করতে পারে না। কোনো লেখক প্রতিবাদ করতে গেলে দেখা যায় তার লেখা নেই বা তাকে গ্রীনরুমে বসিয়ে একাধিক অযোগ্য বদলি খেলোয়ার নামিয়ে দেয়া হয়েছে।আর গ্রীনরুমে বসে উনি চেচাতে থাকেন আমরাতো জানি "এদেশে, যে লিটলম্যাগের কথাই বলা হোক না কেন, আমি অন দ্য রেকর্ড বলতে পারি, তাদের কোন চরিত্র নেই। এই কারণেই কোন্ লিটলম্যাগ ভালো আর কোন লিটলম্যাগ খারাপ-- এ জাতীয় তর্কে আমি যাইনি, যেতে চাইনি। "যা হাস্যকর লাগে এবং প্রায়শই হাসি। লেখকেরই চরিত্র ঠিক নাই সেখানে পত্রিকার চরিত্র কি করে ঠিক থাকে? তদুপরি অনেকের নিজমুখে সগৌরবে পদস্খলনের কথা শুনে আমার বাংলা সিনেমার ভিলেনদের অশ্লিলতা বিরোধী আন্দোলনের কথাই মনে পড়ে।
কিন্তু নিজেরাই যেসব কাগজের লেখক সেগুলোকে লানৎ দেয়া সত্বেও লিটলম্যাগাজিন নয় বলার সাহস আর অর্জন করতে পারে না। মোল্লা কি মসজিদের বিরুদ্ধে যেতে পারে? কারন এসব পত্রিকার পেছনে তাদের খাদেমগিরি আছেতো। আর যারা কাগজগুলো চরিত্র নিয়ে আপোষ করে নিজের লেখা নয় নিজের নাম প্রচারণায় লেংটি কেঁচে নেমে পড়েন তারাতো সব পত্রিকা/কাগজ দেখলেই তাকে লিটল ম্যাগাজিন সিল মেরে নিজেকে সান্দানোর ঠাপাঠাপিতে নেমে পড়েন। সেক্ষেত্রে এদেশে সক্রিয় লিটিল ম্যাগাজিনের সংখ্যা ৩/৪শত কেন হাজারখানেকও হতে পারে। আমার এসব মন্তব্যে আমাকে কট্টর বলে মনে নাকরে নিজেকে লিবারেল বলায় পারদর্শী হন।
"এর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের লিটলম্যাগ সহ অনক ধরনের লিটলম্যাগই দেখা যায়।"
পড়ে এ ধরনের পত্রিকাকে যখন লিটল ম্যাগাজিন বলা হয় তখন নিশ্চই আমার কথ্ বলার আছে। তবে আপনি কোন ক্রাইটোরিয়ায় এদের লিটিল ম্যাগ বলছেন তা জানার পরই আমার উত্তর দেয়া শ্রেয়।
আজ এ পর্যন্তই । ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: বাপরে বাপ, আপনার জ্ঞানগম্যি দেখে তো পুরা সাহিত্যজগতের ভড়কে যাবার কথা। অন্তত আমি ভড়কে গেছি। তো, এত জ্ঞানগম্যি যার ভাই, তিনি আমার ব্লগে আসলেন, দয়া করে কিচু কথা বলে গেলেন... তার জন্য আমি আপনার প্রতি প্রথমেই কৃতজ্ঞ থাকতে চাই।
মাগার আমি আপনার কথাগুলার উত্তর পয়েন্ট করে দিতে চাই, ছিদ্রান্বেষণের সুযোগ আপনাকে কে দেবে বলুন:
১. আপনি লিখেছেন : তো টুকু লিটিল ম্যাগাজিন বলতে আপনি কি বোঝান আর এর সংখ্যাইবা কিভাবে গোনেন তা কিন্তু এই লেখায় জানাননি।
কিন্তু ওস্তাদ, আপনি তো জানিয়ে দিতে পারতেন। আপনি জানিয়ে দিলে কৃতার্থও হতাম। তা তো করেন নি। আপনার মতো এতো সিরিয়াস মানুষ এতো বড় ফাক রেখে আগায় কীভাবে?
কিন্তু আগায়। কেননা, আক্রমণ করা লাগে যে। দেখাতে হবে না, আমি অনেক বুঝি।
আর নিজের দাম ভাড়িয়ে নেয়ার কথা বললেন না, একটু অস্বস্তি হয়তো লাগবে শুনতে, আমি দাম ভাড়াতে কোথাও যাইনি। দাম ভাড়াতে তারাই গেছিলেন, যারা নিজেদের কতৃর্ত্ব ধরে রাখতে নিজেদের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন কায়দায় লিটলম্যাগ করিয়েছেন। আবার যখন তারাই ধোয়ার সাথে উবে গেছেন, তখন তাদের তল্পিবাহক লিটলম্যাগগুলোও নাই হয়ে গেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, তারা এভাবে উবে গেলেন কেন? আমি কি বলবো, নিজেদের দাম ভাড়াতে না পেরে তারা উবে গেছেন? এক্ষেত্রে আপনার একটা কথা খুব সত্যি: লেখকেরই চরিত্র ঠিক নাই সেখানে পত্রিকার চরিত্র কি করে ঠিক থাকে?
যাক, আরো কথা বলা যেত, কিন্তু আমার মনে হয়েছে আপনি নিজে কট্টর না হলেও বিভ্রান্ত। এ কারনেই পুরা পোস্টটা + কমেন্টগুলো না পড়ে কমেন্ট করতে এসেছেন। আমি কেন সম্মানী দেয়ার কথা বলছি, কাদের বলছি তা মুজিব মেহদীকে দেয়া প্রথম কমেন্টের উত্তরেই বলেছি। আপনার অত পড়ার সময় কোথায়? আপনার দরকার কমেন্ট করা।
পদস্খলন নিয়ে যা বলে গেলেন, তা সবচেয়ে হাস্যকর।এখনকার যুগে একজন লেখক এমন ভাবতে পারেন, এটা ভাবলেও শংকা জাগে। আধুনিক মানুষের কাছে এথিক্স কী জিনিস, সেটা বুঝলাম না। এথিক্স তো ধর্মে থাকে, সামাজিক শোষনের নানান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থাকে। লেখকের আবার এথিক্স কী রে ভাই। লেখক কার কাছে দায়বদ্ধ?
এ প্রসঙ্গে বলছি, নৈতিকতা বিষয়ে নীটশের লেখাগুলো পড়ে দেখতে পারেন।
শেষ কথা, আপনার শেষ প্রশ্নটি খুব হাস্যকর। 'আপনি কোন ক্রাইটোরিয়ায় এদের লিটিল ম্যাগ বলছেন তা জানার পরই আমার উত্তর দেয়া শ্রেয়।'
সবচেয়ে মজার কথা হলো আমি কাকে লিটলম্যাগ বলছি, বলছি না - সেটাই আপনি ধরতে পারেন নি। কোন শ্রেয়বোধ কাজ করেনি আপনার মাঝে। একটা পো্স্ট+ এতগুলো কমেন্ট পড়েও আপনি মুল কথাটাই উদ্ধার করতে পারেন নি। কিন্তু 'কত কথা বলে রে...'।
আপনার সাথে আর কী কথা বলবো, বলেন?
মুজিব মেহদী বলেছেন:
তারিক টুকু,আমার এখন মনে হচ্ছে আপনার উদ্ধৃত ওই বাক্যটা আমি না লিখলেও পারতাম। কিছুটা শীবের গীতই হয়ে গেছে ওখানে। আপনার উত্থাপিত লিটলম্যাগগুলোর বদলে যাওয়ার প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিতে আমাকে ওরকম করে বলতে হয়েছিল। বলেছিলাম মনে রেখে কথা বলতে।
আমি কি একবারও বলেছি বা কোনোভাবে বুঝাতে চেয়েছি যে লিটলম্যাগ বিষয়ে কথা বলাটা আপনার অধিকারের মধ্যে পড়ে না? ওটা আপনার অনর্থক অনুমান। আর বললেই আপনি তা মানবেন কেন? আসলে সবাই সব বিষয়ে কথা বলতে পারে। এখন যদি তপন বড়ুয়া এসে আমাকে বলেন যে আমি লিটলম্যাগ বিষয়ে কথা বলতে পারব না, তা কি আমি মানব?
মৃদুল মাহবু্ব,
'সারাজীবন লিটলম্যাগ, মাগার ভালো কিছু তৈরি করতে পারলাম না তবে আর কি হলো!' যেহেতু আপনার পুরো মন্তব্যটাই আমাকে অ্যাড্রেস করে শুরু হয়েছে, ফলে এ বাক্যের ইঙ্গিতটা আমি আমার ঘাড়ের উপরই নিচ্ছি। খুবই খাঁটি কথাই বলেছেন আপনি। ভালো কিছু তৈরি করতে না পারলে লিটলম্যাগ দিয়েই কী হয় আর বিগম্যাগ দিয়েই কী হয়! হয় না। ভালো-মন্দ অবশ্যই আপেক্ষিক। কিন্তু আমি ওই বিবেচনার আগেই জানি ভালো কিছু আমি করতে পারি নি, করার চেষ্টায়ই প্রাণপাত করছি মাত্র। এখনো যে তা পারি নি, তা অবশ্যই আমারই অযোগ্যতা-অক্ষমতা। এক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে আমার পার্থক্যটা কেবল এ জায়গায় যে, আপনি/আপনারা মনে করেন আপনারা ভালো কিছু করেছেন ও করছেন আর আমি মনে করি যে আমি ভালো কিছুই করি নি। অবশ্য আমিও এটা মনে করি যে আপনারা ভালো কিছু করছেন, এজন্যই এত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাদের সব লেখাপত্র খুঁজেখেটে পড়ি, কথা বলি। ভালো লেখা না লিখতে পারি, ভালো লেখা আমি পড়েছি কিছু, আরো পড়তে চাই।
প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা শব্দগুলো এ যাবৎ আসে নি এ পোস্টে, আপনিই প্রথম কথিত 'পুরানো' বিষয়টি আনলেন। প্রসঙ্গটা অন্যভাবে এসেছে যদিও। লিটলম্যাগ নিয়ে কথা বলবেন অথচ প্রসঙ্গটা আসবে না তাই বা কেন হবে। সুতরাং ভালোই করলেন। কিন্তু আনলেনই যখন তখন তা কেবল সুবিমল মিশ্রের উপরই ছেড়ে দেবেন কেন? সব বিষয়েই তো অনেকেই কথা বলেছেন, কেউ কেউ চমৎকার করে বলেছেন। তা বলে কি আমরা সেসব নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। যত অনর্থকই লাগুক কথা বলতেই হবে। এই যে পড়ালেখা রেখে এখানে কথা বলছি এটাও কি অনর্থক। নয় মোটেই।
লেখালেখির স্থান নির্বাচন ও এর পশ্চাদতাড়না বিষয়ে আপনার অবস্থান জানা থাকল।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
এখানে দেখি বিরাট আলোচনা হয়েছে। আমিও দুয়েক কথা বলি।
আমি নিজে প্রবন্ধ লিখি, গল্প লিখি এবং একটি পত্রিকা সম্পাদনা করি।
লিটল ম্যাগ করিয়েদের প্রতি লেখক হিসেবে আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে। তবে গল্প বা কবিতার ক্ষেত্রে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, লিটল ম্যাগাজিন ও দৈনিক সাময়িকীর মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য খুব বেশি আমার অভিজ্ঞতায় দেখিনা। সম্প্রতি একটি দৈনিক সাময়িকী একটা গল্প প্রত্যাখ্যান করে এই বলে যে গল্পটিতে শরীরী ব্যাপার যেমাত্রায় আছে তা তারা ছাপতে পারছে না। পরে অনলাইনের একটি সাহিত্য সাময়িকীতে তা ছাপা হয়। এই একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রমাণ করে কিছু পার্থক্য আছে, তবে খুব বেশি নয়।
তবে প্রবন্ধের ক্ষেত্রে এসে এই পার্থক্যটা বেড়ে যায়। যেমন আকারই একটা সমস্যা। একটু বড়ো প্রবন্ধ হলেই দৈনিক তা ছাপবে না, সব ধরনের প্রবন্ধ তো ছাপবেই না। আমি যেধরনের প্রবন্ধ লিখি তা দৈনিকের খুপুরিতে আঁটে না, প্রবন্ধ লিখে দৈনিকে ছাপবো তা আমি ভাবিওনা।
আমি একটা পত্রিকা সম্পাদনা করি, 'যোগাযোগ' নামে। আট সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু এটাকে কেউ লিটল ম্যাগাজিন বলেনা। হয়তো এতে কবিতা গল্প থাকেনা, তাই। কেবলই প্রবন্ধের পত্রিকা, মিডিয়া ও সংস্কৃতি বিষয়ের লেখা ছাপা হয় শুধু। একাডেমিক ফ্লেবার বেশি। এসব কারণেই হয়তো একে কেউ লিটল ম্যাগাজিন বলেননা। একবার মাহবুব মোর্শেদ কেবল তার পাতায় রিভিউ করেন, লিটল ম্যাগাজিন হিসেবেই। কিন্তু পাঠকের রেসপন্স যেমন পাই, পত্রিকা হিসেবে এর একটা পরিচিতি দাঁড়িয়েছে। কিন্তু লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে দাঁড়ায়নি। কিন্তু এর উৎপাদন, বিপণন এবং আদর্শিক জায়গায় পরিশ্রম ও ত্যাগ আমাদের কারও চেয়েই কম নয়। কবিতা গল্প নাই, এর আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এজন্যই কিনা। আমি জানিনা।
এই পত্রিকাটা আমরা বিজ্ঞাপন ছাড়া ছাপি। বন্ধু-কলিগদের কাছ থেকে প্রতিবার কিছু চাঁদা তুলি। আপাতত দু'জন মিলে পত্রিকাটা বের করছি, সিংহভাগ টাকা ছাপোষা দুই সম্পাদকের পকেট থেকেই প্রতিবার যাচ্ছে। কিছুদিন পর্যন্ত হিসেব রাখি, কত টাকা বিক্রি থেকে উঠলো। একপর্যায়ে দেখি বিনিয়োগ উঠে আসার সম্ভবনা নেই, তখন হিসেব রাখাটাও ঠিকঠাকমতো হয়না।
লেখক সম্মানী তাই দিতে পারিনা।
লেখক বলেছেন: ফাহমিদুল হক ভাই,
যে সব পত্রিকা লিটলম্যাগ করে ব্যবসা করে, তাদের লেখকসম্মানী দেয়া উচিত, এমনই বলা হচ্ছে, আপনার মতো যারা কষ্ট করে, নিজের পয়সায় পত্রিকা করেন- তাঁদের কথা বলা হচ্ছে না।
অনেক ধন্যবাদ আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
@মুজিব ভাই, এটা আপনি কি বুঝলেন? এই কারনেই আমি প্রথমেই আলোচনায় আসতে চাইনি। কারন এখানে ভুল বুঝা বুঝির ক্ষেত্রটা দিন দিন বিশাল থেকে বিশালতর হচ্ছে।
'সারাজীবন লিটলম্যাগ, মাগার ভালো কিছু তৈরি করতে পারলাম না তবে আর কি হলো!' এই কথার ইন্টারপিটেশন এই ভাবে করবেন এবং এর প্রেক্ষিতে ''আপনি/আপনারা মনে করেন আপনারা ভালো কিছু করেছেন ও করছেন আর আমি মনে করি যে আমি ভালো কিছুই করি নি।'' এই কথা বলবেন আমি কল্পনাও করতে পারিনি। সরাসরিই কথা বলা ভালো, এটাতো আমার কাছে আপনার কটাক্ষ মনে হলো আমার দিকে। আর আপনি যে ''আপনাদের'' কথা বলের সেই রূপ কোন ''আপনাদের'' সাথে আমাকে সম্পর্কিত না করলেই ভালো হয়। আপনি যে মনযোগের কথা বলেছেন, সেই মনযোগ যদি আপনার থাকে এবং আমার লেখা ছাপাছাপির দিকে তাকান তবে দেখবেন এই বূপ আপন-পর এর মধ্যে আমি নাই। কোনদিন ছিলাম না। এবং থাকার কোন সম্ভাবনা নাই। শেষ পর্যন্ত আমি একান্তই আমার।
আর আমার কথা কেন আপনি পুরোটাই আপনার দিকে নিয়ে নিলেন। আপনাকে এবং আপনার লেখাকে আমি গুরত্বের সাথেই দেখে থাকি। এবং আমি সর্বদা বৈচিত্রের পক্ষে সে কথাতো আমার নানা লেখায় উল্লেখ করেছি। তাহলে কি বলতে পারি একটা লাইনকে কোট করে আপনি একটা ভূল সিদ্ধান্তে পৌঁচাচ্ছেন আমার সম্পর্কে। আর আমার ঐ কথাটাতো ছিলো লিটলম্যাগএর কর্মদক্ষতা প্রসঙ্গে। কেন যে আপনি কথাটা আপনার ব্যক্তিগত লেখা প্রসঙ্গে ওটাকে টেনে নিলেন বুঝতে পারলাম না। আমিতো শেষে আরও পরিস্কার করেছি লিটলম্যাগ নিয়ে আমি কি ভাবি এটা তারই একটা খসড়া মাত্র। নিজের অবস্থান পরিস্কার করার নিমিত্তেই নানা কথা হলো। বেশি কথা হলো এবং শেষ পর্যন্ত একটা ভুল বুঝাবুঝির সূত্রপাত হলো। আমি কি এতই নির্বোধ যে আপনার কবিতা নিয়ে একটা সাদামাটা কথা বলে দিবো। আপনার বই ধরে ধরে আমার পড়ার সুযোগ কখনও হয় নাই। ফলে এমন একটা হটকারি সিদ্ধান্তে আমি পৌচ্ছাবো এটা আপনি ভাবেন কিভাবে।
আপনার লেখালেখিকে এখানে টেনে না আনলে আমি আপনার কথা ধরে আলোচনায় আসতাম। এখন আর আসি কিভাবে? কারণ কথা বলেইতো এই যে বিশাল একটা না বুঝার সমীকরণ তার সমাধান আমি কিভাবে করবো।
আমি কি বুঝাতে পারলাম আপনাকে? জানি না।
আর নিজের লেখা লেখি নিয়ে আমার ভেতর বিশাল কোন উচ্চ ধারণা নেই। নিজের লেখাকে আমি কি দৃষ্টিতে দেখি তা হয়েতো কেউ কেউ জানে। খুব কম লোকই। আর আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ ''আপনারা'' পদটা আমার ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না। আমি এই সবে নেই। 'ভালো-সম্পর্ক' আর 'সংঘ' দুটোকে আলাদা ভাবেই দেখি আমি। আপনি কিভাবে দেখেন জানি না।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
ধন্যবাদ মৃদুল। আপনি বুঝাতে পেরেছেন। আশা করি আমি বুঝেছিও। 'সারাজীবন লিটলম্যাগ, মাগার ভালো কিছু তৈরি করতে পারলাম না তবে আর কি হলো!'-- এই বক্তব্যটাকে আমি কেন পুরোটা আমার উপরে নিয়েছি তার কারণ উল্লেখ করেই আমি আনুপূর্বিক ব্যাখ্যায় গিয়েছি। কাজেই আমার দিক থেকে ব্যাপারটা লজিক্যালই ছিল। আপনার এবারের মন্তব্যে আমি সেটা আমার কাঁধ থেকে সরিয়ে পুরো লিটলম্যাগ এলাকার উপরে রাখলাম। তখন যে বাক্যটা বলে রাখতে হয় সেটা এরকম যে, এটা প্রযোজ্য কেবল লিটলম্যাগ এলাকার জন্য নয়, বরং সমভাবে সব এলাকার জন্যই।
লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝিটা গদ্য যে লজিকের উপর দাঁড়ায় তার খামতি থেকে সৃষ্টি হয় বলে আমার ধারণা। বিতর্কের গদ্যকে আমি আবেগ নয়, বরং লজিক দিয়ে বুঝতে অভ্যস্ত। আর যদি কোনো কারণে কুয়াশার ভিতরে দাঁড়িয়ে সূর্য দেখতে হয়, তখন খামতিটা (এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা) সূর্যের যেমন চোখেরও তেমনি থাকে বলে মানতে চাই। এ দু'য়ে সঙ্গমের ফলে যার জন্ম হয়, সেও হয় কুয়াশাচ্ছন্ন কিছু, ঘষাকাচরূপী।
আমার ও আমার লেখালেখি ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানা গেল। এটা এ বিতর্কের একটা উপজাত, তাই বাড়তি পাওনা। কাজে দেবে।
ভালো-সম্পর্ক ও সংঘকে আলাদাভাবে দেখেন জানলাম। এভাবে দেখাই বোধকরি ভালো। আমারটাও আপনি জানতে পারেন। আমার কেবল সম্পর্ক, ভালো-সম্পর্ক ও খারাপ-সম্পর্ক আছে, সংঘ নেই। সংঘ না থাকার যা কিছু ক্ষতি, তা আমি কড়ায় গণ্ডায় বুঝে পাচ্ছি, পাবও।
'আপনারা' বিষয়ক লাল সংকেত স্মৃতিতে বাঁধিয়ে রাখলাম।
আমি টুকুর লেখার সাথে একমত। কেন লেখকরা তাদের সম্মানী পাবে না? প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগ বা দৈনিক তাদের লেখকদের সম্মানী দিতে বাধ্য। তবে কথা আছে।
আমি নিজে ব্যাস নামে একটি কথাসাহিত্যের কাগজ সম্পাদনা করি। বছরে কিংবা দু বছরে একটি সংখ্যা বের করতে সক্ষম হই। বিজ্ঞাপন পাই দু/একটা। তাতে অর্ধেক খরচ হয়ত ওঠে। যেধরণের লেখা প্রকাশ করতে চাই তা লেখক বন্ধুদের কাছ থেকে পেতে পেতেই এতটা সময় চলে যায়। পত্রিকা বের হলে আজিজ মার্কেট, সিলেট, বগুড়া সহ কয়েকটা জায়গায় পাঠাই আর কিছু লেখক-কপি(২-৫ টি, কেননা আমি মনে করি লেখকরা তাদের প্রিয়জনদেরও একটি কপি উপহার দিক), আর কিছু সৌজন্য কপি তো লেখক বড় ভাই, শুভানুধ্যায়ীদের দেই। বছর শেষে হয়ত ৬০/৭০ কপি বিক্রির টাকা পাওয়া যায় আজিজ মার্কেট থেকে। তবুও ব্যাপক যোগাযোগ যেমনটা বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে করতে হয় তেমনটা দরকার হয়। তাতে করে হয়ত চা-সিগারেটের টাকা ওঠে।
তাহলে এই আমরা যারা এইসব কাগজ করি তারা টুকুর কথামতো টাকা দিব এইতো? টুকু মনে হয় ভুলে গেছেন যে কোমলগান্ধার যখন প্রকাশিত হয়েছিল তখন তাকে আমি একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠিটির কথা কি মনে আছে টুকু। ওতে এসবই লেখা ছিল- আমাদের উদ্দেশ্য, করণীয়। টুকু এই কাগজগুলো হয় তা যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন তা একটা দায় থেকে, ভালোবাসা থেকে। টুকু কি ভালোবাসা কিনতে বা বিক্রি করতে বলছ? তুমি বলবে লিটলম্যাগদের টাকা দিতে হবে। লিটলম্যাগরা বলবে ভাইজান আপনে বড়কাগজে লেখেন, এখানে লেখার দরকার নাই। এটা বিপণনের জায়গা না টুকু, এতটুকু তো বুঝতে হবে। তোমার লেখা নিয়ে একটা ছোটকাগজ কতটুকু বাণিজ্য করতে পারে, ফয়সা লুটতে পারে। দৈনিক পারে।
আর এসব ছোটকাগজে লেখে কারা তাদের নামের দিকেও তাকাও। এমন অনেককে জানি যারা দৈনিকে লেখে আবার ছোটকাগজে লেখে। কারণ দৈনিক অনেক লেখারই ভার বহনের ক্ষমতা রাখে না। ছোটকাগজ রাখে। তুমি যে ভারবহনের ক্ষমতা রাখে তার উপরই আরো ভার চাপাতে চাইছো? কেন দিবে সম্পাদকরা টাকা? কে ছোটকাগজ করে একটা গাড়ি কিনেছে? গাড়ি তো দুরে থাক, তার সন্তানের প্রতিমাসের দুধের টাকাও দিতে সক্ষম নয় ছোটকাগজ। বরং এমনও অনেক সম্পাদক আছে তারা সন্তানের দুধের টাকাও মেরে দিয়ে পত্রিকা বের করে।
দৈনিক টাকা দিল কি দিল না তোমরা আন্দোলন করো। কিন্তু ছোটকাগজকে কেন টেনে আনলে বুঝলাম না। তুমি উদাহরণ দাও, কে কে পত্রিকা বিক্রি করে, আমাদের লেখা বিক্রি করে গাড়ি, বাড়ি করছে? এখন আর ভালো লাগছে না, পরে আরো কথা বলা যাবে।
লেখক বলেছেন: বাবুল ভাই,
প্রথমেই কয়েকটা কথা বলে নেয়া দরকার :
অন্তত পাঁচজন লিটলম্যাগ সম্পাদকের নাম আমি জানি, যারা শুধু পত্রিকা করতে গিয়ে নিজের সংসারের টাকা এনে পত্রিকায় ঢেলেছেন। এর মধ্যে আপনিও আছেন। কামরুল হুদা পথিকের কথাটা এখনে বলার মতো, উনি ফ্রিজ কেনার জন্য টাকা রেখেছিলেন। কিন্তু তা হয়ে ওটেনি। দ্রষ্টব্যে'র সুবিমল মিশ্রের উপর সখ্যায় টাকা টান পড়লে সেই ফ্রিজ কেনার টাকা তিনি দ্রষ্টব্যে ঢেলে দিয়েছিলেন।
এখন আপনি আমাকে প্রশ্ন করেছেন: টুকু কি ভালোবাসা কিনতে বা বিক্রি করতে বলছ?
কোথায় বললাম?
ব্যাস কি প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগ বা দ্রষ্টব্য, গাণ্ডীব? এরা কয় টাকার বিজ্ঞাপন পায়? এরা কতটুকু নিজের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে? আমরা তো জানি, এদের টাকা কীভাবে আসে, লেকা জোগড়ের জন্য এরা কতটা কষ্ট করে। এ কারণেই আমি পোস্টটায় লিটলম্যাগ গুলোর নাম নেয়ার বদলে 'প্রতিষ্ঠিত' শব্দটি ব্যবহার করেছি। যাতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমে। কিন্তু যারা আমাকে 'লিটলম্যাগ বিরোধি' বলতে চাইছেন, তাঁরা এ শব্দটি খেয়াল করেন নি।
তো, খেয়াল না করলে কী আর করার আছে বাবুল ভাই।
ছোটকাগজের বা পত্রিকার লেখকসম্মানী ভালভাবে পেয়েও একজন লেখকের পক্ষে শুধু লিখে এই বাজারে বেঁচে থাকাই সম্ভব নয়। এটা শুধুই একটা সম্মান।
আমি কী বলতে চেয়েছি, কী বলতে চাই, তা মুজিব মেহদীর প্রথম কমেন্টের উত্তরে বিস্তৃতভাবে বলেছিলাম। এবার দেখি আপনিও সে একই অভিযোগ আমার দিকে তুললেন। আপনি আমার কাছে শুধু একজন সম্পাদক নন, আপনার সাথে সম্পর্কটা বোধহয় আরো গভীর। এ কারণেই আবার ব্যাখ্যা করলাম।
আশাকরি বুঝবেন।
ভালো থাকবেন।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
@মুজিব ভাই,''আমার ও আমার লেখালেখি ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানা গেল। এটা এ বিতর্কের একটা উপজাত, তাই বাড়তি পাওনা। কাজে দেবে।''
এই কথার পর আর পরিস্কার হলো না আপনি কি বুঝলেন বা কি বুঝালেন। এই বিষয়ে আলোচনা থাক। আলোচনা বোধ হয় অন্য দিকে সরে যাচ্ছে। লিটলম্যাগ থেকে সরাসরি আপনার লেখালেখির দিকে।
আমার মনে হয় আপনি আমার কথা বুঝে থাকবেন। ধন্যবাদ।
এবং আনন্দিত হলাম।প্রথম প্রতিক্রিয়াতেও তাই বলেছিলাম।
আমার মনে হয়, যে কাগজগুলোকে আমরা লিটল ম্যাগ মনে করি সেগুলো ছাড়া বাকি লিটল সাইজের কাগজগুলোতে লেখা দেওয়ার সময় টাকা বিষয়টাও উত্থাপিত হতে পারে। প্রস্তাব।
রবিউল করিমকে লেখার সন্মানী প্রসঙ্গে লেখা আপনার মত_এটা শুধুই একটা সম্মান।
শুধু সন্মানের জন্য সন্মানী নেওয়াও অসন্মানের, আমার মত....
টাকার আবেদন আরও শক্ত হওয়া প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে সেসকল সম্পাদকও লেখা ছাপার ব্যাপারে সর্বচ্চ স্বাধীনতা পাবেন আশাকরি।
লেখক বলেছেন: 'শুধু সন্মানের জন্য সন্মানী নেওয়াও অসন্মানের, আমার মত...'
এটা মানতে পারলাম না সুজন। একদমই না।
'টাকার আবেদন আরও শক্ত হওয়া প্রয়োজন'
আবেদন কেন করবো, কোন লেখকই টাকার জন্য লেখেন বলে মনে হয় না। কিন্তু, আপনি/আমি জানি , টাকা পেলে আমাদের ভালো লাগে, বইটইকিনতে পারি, পান ভোজনে নিজের পকেট থেকে পয়সাটা সরাসরি যায় না। তাই যে সব সম্পাদক পারেন, তাদের নিজ থেকেই সম্মানীটা দেয়া উচিৎ।
সম্পাদকরা তো লেখা ছাপার ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা রখেন। উনাদের স্বাধীনতা আবার কে নিয়ে নিলো ? কী জানি, আমি হয়তো আপনার কথাটা বুঝতে পারলাম না।
যাক, অংশগ্রহনের জন্য ধন্যবাদ।
যে সব সম্পাদক পারেন, তাদের নিজ থেকেই সম্মানীটা দেয়া উচিৎ।
তারা দিলে তো আর এত কথার প্রয়োজন ছিল না। যেহেতু দেয় না সেহেতু আবেদন।
আপনি/আমি লেখার টাকার যাই করি তা গৌণ।
আমরা এমনও অনেক লেখককে দেখি যারা মনে মনে করেন যা লেখা হয়, সম্পাদককে দেওয়া হয় তাই ছাপার যোগ্য। একটা বা দুটো বাতিল হলেই অত্যাচার।
ভালো থাকেন।
লেখক বলেছেন: আপনি বাস্তবতার কথা বলেননি , যেটা নিজে মনে করেছেন সেটাকেই বাস্তব বলে ভেবে ফেলেছেন।
লেখা, লেখক বা সম্পাদক নিয়ে এখন কথা বলতে চাচ্ছি না সুজন। এটা অফ-টপিক, এখন থাক এই বিষয়টা। সম্পাদক কতটা ক্রেডিবল, সেটার সাথে সাথে লেখকের ক্রেডিবিলিটিও ভাবতে হবে। যাক।
আবেদন করবো কেন, লেখার টাকা নিয়ে যা করি তা গৌন হতে পারে কিন্তু টাকা পেলে খুশি তো হই।
এই আর কী।
আপনারও মঙ্গল হোক।
বিগব্যাং বলেছেন:
এই ব্লগেই কোথাও পড়েছিলাম যে শূওরের বাচ্চাদের দাত গজালে নাকি প্রথমেই বাপের পাছায় কামড় দিয়ে ধার পরীক্ষা করে...এই ফুটোঅলা ব্লগে কয়েকজন মিডিয়া এক্সট্রা (অবশ্য তারা নিজেরা নিজেদের কবি বলে মনে করেন) মুজিব মেহদীর মন্তব্যের যেসব ইন্টারপ্রিটেশন করেছেন, তা দেখে কথাটা আবার মনে পড়লো...লেখক বলেছেন: আপনি কে, তাতো চিনলাম না ? ফেক নমে ব্লগিং করেন, সাহস থাকলে অন্তত গালিগালাজ করার সময় নামটা নিচে লিখে দিয়েন।
আপনার ব্লগে গিয়ে দেখলাম, কোন পোস্ট নেই। নামপরিচয় ছাড়া এভাবে গালিগালাজ করলে তাকে আমি ব্লক করি।
আপনাকেও করলাম।
মাঠশালা বলেছেন:
ছিদ্রান্বেষণের সুযোগ আপনাকে কে দেবে বলুন'
আপনার লেখার সতর্ক পাঠকে কি আপনি এভাবেই দেখবেন।
"আপনি লিখেছেন : তো টুকু লিটিল ম্যাগাজিন বলতে আপনি কি বোঝান আর এর সংখ্যাইবা কিভাবে গোনেন তা কিন্তু এই লেখায় জানাননি।
আপনি তো জানিয়ে দিতে পারতেন।"
প্রসঙ্গের অবতারণা যখন করেছেন তখন আপনার কাছ থেকে এটা আশা করেত পারি তাই না? আপনি "প্রতিষ্ঠিত লিটল ম্যাগ" এর কথা বলেছেন; তো কোনগুলো লিটিল ম্যাগ এবং একই সাথে প্রতিষ্ঠিত সে সম্পর্কে আপনি কিন্তু জানান নি। তবে পোষ্ট পরবর্তী মন্তব্যের ধারাবাহিকতায় কিছু পত্রিকার নাম অনেকের লেখায় উঠে এসেছে যে সেগুলোকে আপনি এবং মন্তব্যকারীরা লিটিল ম্যাগ বলে মনে করছেন। এগুলোতো অর্থনৈতিক কাঠামোতে অপ্রতিষ্ঠিত। এগুলোকে লিটিল ম্যাগ মনে করার কারণ কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে জানা যায় নি। তাহলে অন্তত আপনার আপনাদের লিটিল ম্যাগ সম্পর্কিত মতামত প্রত্যক্ষে না হলেও পরোক্ষে জানা যেত। তাছাড়া এগুলো প্রতিষ্ঠিত নয় তারপরও আলোচনায় উঠে এসেছে তাদের কপালে মন্তব্যের(বদ্ধস্রোত-মুজিব মেহেদী) ছাপ সহ।
এদের নাম নেয়া গেল কারণ সম্ভবত মুজিব দা এতে ঝুকি অনুভব করেন না। তাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আপনি তারিক টুকু "প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগে"র নাম এ পর্যন্ত বলেন নি। মুজিব দাও এবিষয়ে আপনাকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। নাম নিলে অন্তত অন্যরা আপনার পাশে দাড়িয়ে ঐ পত্রিকাগুলোর কাছে সম্মানীর জন্য দাবী তুলতে পারত। আপনি সেই সুযোগটাও রাখেন নি।
"বছরখানেক আগে এক পত্রিকার প্রকাশনা উৎসবেই শুনেছি ১.৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।"
এখানেও আপনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন, সেটা কোন পত্রিকা? ভালো ভাবে খবর নেয়া দরকার ছিল। এখানেও আপনার পলায়ন মনোবৃত্তি কাজ করেছে কিনা তা জানালে ভালো লাগবে। পত্রিকার নামই যদি না জানালেন তবে আপনার সহমর্মীরা ধরবেটা কাকে, সম্মানি তো দূরের কথা।
"লিটলম্যাগ কে নিয়ে আমরা যেভাবে ভাবতাম, যেভাবে স্বপ্ন দেখতাম--এখন আর সেই জায়গাগুলো নেই বোধহয়। ..... ..... ... এর মধ্য দিয়েই হয়তো লিটলম্যাগগুলোর বদলে যাওয়ার একটা চিত্র পাওয়া যায়।" এর পাশাপাশি মুজিব দা'র মন্তব্যের উত্তরে আপনি কি লিখেছেন পড়ুন- "আপনার এই কথার পর আমার মনে হয়েছে, যেহেতু আমার পারভার্শনের রেটটা আপনার চেয়ে বেশি, সেহেতু আমি আপনার সথে তর্ক করার যোগ্য নই।" আর আপনি কি বলতে চান এসব তথাকথিত কাগজের বদলে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা নেই। যদি থাকে তখনই লেখকের এথিক্সের প্রশ্ন আসে।
"একটু অস্বস্তি হয়তো লাগবে শুনতে, আমি দাম ভাড়াতে কোথাও যাইনি। দাম ভাড়াতে তারাই গেছিলেন, যারা নিজেদের কতৃর্ত্ব ধরে রাখতে নিজেদের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন কায়দায় লিটলম্যাগ করিয়েছেন। আবার যখন তারাই ধোয়ার সাথে উবে গেছেন, তখন তাদের তল্পিবাহক লিটলম্যাগগুলোও নাই হয়ে গেছে।"
আমার ধারণায় লিটিল ম্যাগের ধারণার সাথে লেখকের দাম ভাড়ানোর সম্পর্ক আছে আর তা হলো ধ্বংসাত্মক, লেখক তখন ব্যক্তিগত লোভের মোহে পড়ে লিটিল ম্যাগাজিনকে সাময়িক সংকটে ফেলে। আপনারও ভূমিকা তেমনই। এমনকি আপনার ব্লগে যারা এসে মন্তব্য করছেন যেমন -মোর্শেদ ভাই, মজনু দা আপনি সহ অধিকাংশই দৈনিক পত্রিকায় নিজেদের পাছা দিয়ে বেড়াচ্ছেন(চাকরি করা প্রসঙ্গে বলছি না)। আর এরই সচেতন প্রতিফলন হচ্ছে দৈনিক পত্রিকার অপরাধকে আড়াল করে সুকৌশলে লিটিল ম্যাগাজিন কন্সেপ্টকেই দূবর্ল করার চেষ্টায় নেমে সাহিত্য পত্রিকা-(সম্ভবত)-কে "প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন " বলে মাঠ গরম করে লিটিল ম্যাগাজিনেরই কুৎসা রটনায় নেমেছেন এতে আপনার প্রচার মোহ আর দৈনিকের প্রতি আপনার পরোক্ষ প্রভুভক্তিই প্রকাশ পাচ্ছে। আর এ কারণেই সম্ভবত ভড়কে গেছেন লেখকের এথিক্সের কথা শুনে। এই সহজ উপলব্ধির জন্যতো নিটশে পড়ার বাধ্যবাধকতা লাগে না।
"এখন প্রশ্ন হলো, তারা এভাবে উবে গেলেন কেন? আমি কি বলবো, নিজেদের দাম ভাড়াতে না পেরে তারা উবে গেছেন? এক্ষেত্রে আপনার একটা কথা খুব সত্যি: লেখকেরই চরিত্র ঠিক নাই সেখানে পত্রিকার চরিত্র কি করে ঠিক থাকে?"
ম্যাগ এবং লেখকের উবে যাওয়া বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন? কোনো দৈনিকে অথবা আপনার ভাষ্যমতে " প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন" তাদের লেখা অনুপস্থিত থাকা নাকি এসবের মাঝে থাকতে চাননি বলে উবে গেছে বলে আপনি মনে করছেন। নাহলে তাদের দাম ভাড়ানোর ব্যাপারে স্পস্ট করে বলার ক্ষেত্রে দ্বীধা কেন।"প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন" , দৈনিক পত্রিকা এবং অনেক কাগজ, তার সম্পাদক ও লেখক উবে যাওয়া সম্পর্কে আপনার এই অস্পষ্টতা কেন বজায় রাখছেন। নাকি জল ঘোলা করে ম্যাগাজিন ও অর্থ শিকারে নামছেন। অর্থ শিকার যে নয় তা অবশ্য আপনার ভাষ্যেই মালুম হয়। আর অবস্থাদৃশ্টে মনে হচ্ছে আমি আপনার দাম ভাড়ানোর কথা না বললে আপনিও উবে যাওয়া ম্যাগ ও লেখকদের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলতে চান না। এখানেও সত্য আড়ালের চেষ্টা আছে নাকি।
"পদস্খলন নিয়ে যা বলে গেলেন, তা সবচেয়ে হাস্যকর।এখনকার যুগে একজন লেখক এমন ভাবতে পারেন, এটা ভাবলেও শংকা জাগে। আধুনিক মানুষের কাছে এথিক্স কী জিনিস, সেটা বুঝলাম না। এথিক্স তো ধর্মে থাকে, সামাজিক শোষনের নানান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থাকে। লেখকের আবার এথিক্স কী রে ভাই। লেখক কার কাছে দায়বদ্ধ?"
আপনার পারভারশানটা তাহলে কোন প্রক্ষিতে স্বীকার করলেন?
"একটা পো্স্ট+ এতগুলো কমেন্ট পড়েও আপনি মুল কথাটাই উদ্ধার
করতে পারেন নি। "
আপনার মূল কথা বুঝতে পারব না কেনো? তার সাথে আপনার আসল রাজনীতিটাও স্পষ্ট হয়ে যায়। সেটা নিয়ে এত কথা বলা রে.....
সবশেষে মুজিব দাকে,
লিটিল ম্যাগ যদি সাধারণত অনিয়মিত হয় বলে মেনে নেই, তাহলে সুযোগ পেলেই আবার বদ্ধস্রোতা বলা খুব একটা বৈধতা পায় কি?
লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্ট আমার লেখার সতর্ক পাঠ ছিল না, আপনার যে ইনটেনশন ছিল সেটা ক্লাস টু-র একটা বাচ্চাও বুঝতে পারবে। বালখিল্য কথাবার্তা বলে নিজেকে এভাবে এক্সপোজ করতে হয় না।
শরৎচন্দ্রের বোধহয় একটা কথা ছিল এমন যে, যে একটা পুরো উপন্যাস পড়ে বুঝতে পারে না যে, উপন্যাসটার ভাববস্তু কী, তার জন্য কোন ধরনের মুখবন্ধ লেখা বৃথা। আমার ধারনা আপনার সে অবস্থা হয়েছে।
এই পোস্টে এখন পর্যন্ত ৬০ টি কমেন্ট আছে, যার মধ্যে যৌক্তিকভাবেই ৩০টা আমার উত্তর । এর সাথে যোগ করা যাক মূল পোস্টটাকে। মানে, ৩১ টা উত্তর থেকেও আপনি বোঝেন নি আমি কাকে প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগ বলছি, কাকে নয়। কিন্তু আপনি ছাড়া সকলে বুঝেছেন, রবিউল করিম বুঝলেন, মুজিব ভাই বুঝলেন , বুঝলেন না আপনি। একারণেই আপনাকে বলেছি ডিয়ার, আপনি নিজে কী মনে করেন, সেটা বলেন।
আমি কোনো প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগের নাম নিতে চাইনি, একথা সত্য, কিন্তু তার কারণ নিরাপদ থাকা নয়, নাম নিলে আরেকটা বিতর্কে পড়তে হতো। তখন লোকে বিতর্ক তুলতো, মূল বিষয়টাই তাতে পরিত্যক্ত হয়ে যেতো। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, আমাদের কবিতা(শেষ পর্ব) নামের যে লেখাটি আমি পোস্ট করেছি, সেখানেও আমি কোনো কবির নাম নেই নি (তাদের কবিতা উদ্ধৃত করেছি) কেননা, আমি চাইনি, কার নাম নাম নেয়া হল, কার নাম নেয়া হল না, সেটা নিয়ে তর্ক বাধুক। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রেও আমি তা চাই নি।
মুজিব দাকে আমি বলেছি আমার পারভার্শন রেট টা উনার চেয়ে বেশি , তাই আমি উনার সাথে কথা বলার যোগ্য না। মুজিব ভাই আমার বড় ভাই এর মতো, তিনি বুঝেছেন আমি কী বলেছি, তাই তা নিয়ে কথা বাড়ান নি। কিন্তু আপনি সেটাকেই এখন তুলো আনতে চাচ্ছেন। যেহেতু আপনি মাসুম, কিছুই বোঝেন না তাই এবার একটু ভেঙ্গে বলা যাক।
আমি আর মুজিব মেহদী একসাথে লোক পত্রিকায় একবার লেখি। লেখার কারণে নয়, হয়তো উনি শিরদাড়া আর আমি কোমলগান্ধার থেকে চলে আসার ফলে সেটা খুব বড় ঘটনা ছিল। তা মুজিব ভাই যখন লিখলেন, "কোমলগান্ধারের অবস্থান থেকে আপনার বদলটা শিরদাঁড়ার অবস্থান থেকে আমার বদলের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে।
" , তখন আমি বুঝে নিলাম, উনি শিরদাড়া থেকে যেহেতু লোকে লিখলেন এবং আমিও লিখলাম সেহেতু পারভার্সনের শিকার আমরা দুজনেই। কিন্তু যেহেতু উনি আর দৈনিকে লিখতে গেলেন না কিন্তু আমি গেলাম সেহেতু আমার পারভার্সনটা, উনি মনে করছেন, উনার থেকে বেশি ! এই ব্যাপারগুলো বোঝার ক্ষমতা আপনার নেই জুবেরী, তাই এটা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই।
আপনি লিখেছেন :"এমনকি আপনার ব্লগে যারা এসে মন্তব্য করছেন যেমন -মোর্শেদ ভাই, মজনু দা আপনি সহ অধিকাংশই দৈনিক পত্রিকায় নিজেদের পাছা দিয়ে বেড়াচ্ছেন(চাকরি করা প্রসঙ্গে বলছি না)। আর এরই সচেতন প্রতিফলন হচ্ছে দৈনিক পত্রিকার অপরাধকে আড়াল করে সুকৌশলে লিটিল ম্যাগাজিন কন্সেপ্টকেই দূবর্ল করার চেষ্টায় নেমে সাহিত্য পত্রিকা-(সম্ভবত)-কে "প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন " বলে মাঠ গরম করে লিটিল ম্যাগাজিনেরই কুৎসা রটনায় নেমেছেন এতে আপনার প্রচার মোহ আর দৈনিকের প্রতি আপনার পরোক্ষ প্রভুভক্তিই প্রকাশ পাচ্ছে।"
জুবেরী, মাহবুব ভাই বা মজনু ভাইয়ের কথা উনারা বলতে পারবেন কিন্তু আপনি আমার প্রসঙ্গে যে কথাটা বললেন, এটা খুব আপত্তিকর। আমি বাংলাদেশের দুই/তিনটি দৈনিকে লিখি, বছরে একটা বা দুইটা
লেখা। এ যদি হয় দৈনিকে নিজের পাছা দিয়ে বেড়ানো, তাহলে আমাকে বলতেই হবে যে,ঐখানে পাছা দিতে দিতে আপনার পাছাই নেই।
আপনার বোধগম্যতায় কিছু সমস্যা আছে জুবেরী, সাংঘাতিক সমস্যা। আমি বলবো না আপনি বিবেচনাহীন কিন্তু কীভাবে আপনি মনে কনে, লিটলম্যাগ থেকে শুরু করে একজন লেখক আর সেই লিটলম্যাগে না থাকলে তিনি পারভার্টেড হয়ে যান? এতো লিনিয়ার কেন আপনি?
আর শেষ কথা, আপনি বলেছেন, আমার কথা তো আপনি বুঝেছেন এবং আমার রাজনীতিও। সত্য কথা হলো, আমি প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগগুলোর বিরুদ্ধে বলেছি, লিটলম্যাগগুলোর বিরুদ্ধে বলিনি। আপনি মহাজ্ঞানী সেটা ধরতেই পারেন নি। আপনি তর্কের জন্য তর্ক ফাঁদতে এসেছেন। অবশ্য আপনি যদি ধরে নে, আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ লিটলম্যাগের মতো কনসেপ্টকে 'দূর্বল' করে দিতে পারে, তাহলে অবশ্য অন্য কথা। কিন্তু, সত্যিই এই মন্তব্য বালসুলভ। নিছকই বালসুলভ। জল যদি ঘোলা করতে চান তাহলে আপনি নিজেই ঘোলা করছেন। আপনাকে আমি চিনি জুবেরি, এর আগেও আমি 'আমাদের কবিতা' নামের লেখাটা লেখার সময়ে একটি পোস্ট দিয়ে আপনি জল ঘোলা করতে চেয়েছেন। আমি তখন আপনাকে কিছুই বলিনি। এবারও আপনি একই কাণ্ড করলেন। নিজেকে কট্টর, প্রতিষ্ঠানবিরোধি হিশেবে জাহির করতে চাইছেন, করেন, কিন্তু বালখিল্য কে আদর্শ বলে না, সেটা অন্তত আগে নিশ্চিত হন।
আপনার মঙ্গল হোক।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
এই পোস্টে আমার আর কথা না বাড়ানোই ভালো ভেবেছিলাম অনেকটা এ কারণে যে, আমি নাকি অন্যদের কথা ঠিকঠাক বুঝতেই পারছিলাম না। যে কারণে যোগাযোগটাই ঠিক জমে উঠছিল না। একপাক্ষিক কথাবার্তাকে তো আর যাই হোক যোগাযোগ বলা চলে না! আপনার আগের জবাবেও আমার দিকে কিছু ঠেসাঠেসি ছিল, কথা বলা যেত, বলি নি। এবার আপনি দায়ে ঠেকালেন নাম ধরে প্রশ্ন উঠিয়ে। কিন্তু আপনার সাথে যোগাযোগ স্থাপনেও একটা সমস্যা প্রকট হবার সম্ভাবনা দেখছি এখানে। আপনি যেরকম মারমুখী হয়ে এখানে আবির্ভূত, তাতে জবাব প্রাপ্তির উপযোগিতা আপনি শুরুতেই খানিকটা হারিয়ে ফেলেছেন। এটুকু লিখে আমাকে ঠিক ৩০ মিনিট বিরতি নিতে হলো এই চৈনিক প্রবাদটির প্রতি শ্রদ্ধাবশত যে, 'রাগান্বিত অবস্থায় কারো চিঠির জবাব দিতে নেই।'
সোজাসাপটা এবার আপনার প্রশ্নের জবাবে আসি। আমি লিটলম্যাগকে বদ্ধস্রোতের সাথে তুলনা করেছি এটি অনিয়মিত সে অর্থে মোটেই নয়, বরং এই অর্থে যে সমুদ্রের সাথে ওই ছোট্ট দিঘির জলের কোনো যোগ স্থাপিত হয় না। না পুকুর থেকে সমুদ্রে, না সমুদ্র থেকে পুকুরে। দৈবাৎ কোনো কারণে যোগ স্থাপনের উপক্রম হলে ওই জলের আর কোনো প্রায়শ্চিত্ত্য চলে না, দূষিত বলে চিরকাল নিন্দিত হতে হয়। অথচ প্রাতকর্ম সেরে পথিকজন নবসূর্যের আলোয় পঙ্কজলে শৌচকর্ম সারে নিতিদিন, তাতে জলের জাত যায় না।
আমার আলাপসালাপে তত্ত্বীয় কথাবার্তা একদমই ছিল না। মানুষটা আমি ব্যবহারিক, ব্যবহারিকভাবেই জগৎকে দেখি, দেখতে চাই। লিটলম্যাগের ভালোমন্দ কিছু চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য ওসব কথার ফাঁকফোকরে উঠে এসেছিল, যেগুলো ব্যবহারিকভাবেই অর্জিত, বই পড়ে নয়। তো ওর মধ্যে লিটলম্যাগের গৌরব বাড়ায় এমন কথাবার্তাগুলো নিয়ে আপনার অনাপত্তি আছে, একটি মাত্র অগৌরবজনক বিশেষণে এতটা আপত্তি কেন? আপনি কেন অমন করে ভাবতে চাবেন যে, লিটলম্যাগ সকল মানুষের দৃষ্টিতেই সমস্ত দোষগুণমুক্ত একটা আন্দোলন বলে পরিগণিত হবে, কারো কাছেই এর কোনো সমালোচনা থাকবে না?
মানুষ নিজেদের সন্তানকে অনেকানেক ভালোবাসে, যে ভালোবাসার তুলনা নেই ; আবার সেই মানুষই মাঝেমধ্যে প্রিয় সন্তানকে ধমক বা চড়-থাপ্পড়ও দেয়। তা বলে কি প্রমাণ হয় যে ওই পিতামাতা তাদের সন্তানকে ভালোই বাসে না? পক্ষপাতমুক্ত যুক্তিশীল মানুষ কী করে ভাবতে পারবে যে, তার সন্তান কোনো দোষই করে না, করতে পারে না এবং জগতের সব ছেলেপুলের চেয়ে তার সন্তানটি ভালো?
জগৎসাধনে শত্রুমিত্র চিনতে ভুল করলে তাতে নিজের অস্থিতিটা আরো খানিকটা বাড়ে জুবেরী, এবং মানসিক অনিরাপত্তা আরো জোরদার হয়।
মাঠশালা বলেছেন:
মুজিব দা,আপনি বললেন,
"আমি লিটলম্যাগকে বদ্ধস্রোতের সাথে তুলনা করেছি এটি অনিয়মিত সে অর্থে মোটেই নয়, বরং এই অর্থে যে সমুদ্রের সাথে ওই ছোট্ট দিঘির জলের কোনো যোগ স্থাপিত হয় না।"
এখন আমার জানার বিষয়, এই যে সমুদ্র ও তার সাথে সংযোগহীনতা এইটা আপনি কিসের সাপেক্ষে বললেন? সমুদ্র কি? লিটিল ম্যাগে যারা লেখেন তাদের লেখার সাহিত্য মানের কথা যদি ধরি তাহলেতো আপনার এই কথার কোন সত্য ভিত্তি আমি পাই না শুধু আপনার অভিসম্পাত ছাড়া। আর যদি আপনি প্রচার-প্রচারণা, লাইমলাইট, মেধাতালিকা ইত্যাদি দেনন্দিন হুলুস্থুলুকে সমমুদ্র বলে থাকেন তাহলে আপনার কথার সত্যতা আছে। আর আমার জ্ঞানে লিটিল ম্যাগের উদ্দেশ্যও ওখানে থাকে না। বিনিত ভাবে আপনার সমীপে আমি শুধু জানতে চাই।
"লিটলম্যাগের গৌরব বাড়ায় এমন কথাবার্তাগুলো নিয়ে আপনার অনাপত্তি আছে, একটি মাত্র অগৌরবজনক বিশেষণে এতটা আপত্তি কেন? আপনি কেন অমন করে ভাবতে চাবেন যে, লিটলম্যাগ সকল মানুষের দৃষ্টিতেই সমস্ত দোষগুণমুক্ত একটা আন্দোলন বলে পরিগণিত হবে, কারো কাছেই এর কোনো সমালোচনা থাকবে না?"
না আমি মোটেও একপাক্ষিক ভাবে ভাবতে চাই না। তবে লিটিল ম্যাগের প্রতি আমার বিশ্বাস এবং এর সাথে ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয়তার ফলে তার গৌরবজনক কোন কথা যতটা না আমাকে আপ্লুত করে তার চাই অগৌরবজনক কোন শব্দ বা কথা পেলে আমি সে ব্যাপারে অধিক সচেতন হয়ে তা নিজের সার্থেই ক্লিয়ার করতে চাই। নিছক আবেগের সাথে আমার বোঝাপড়া বরাবরই কম। যুক্তি তর্কেই আমি এখানে টিকে যেতে চাই।
আপনার সর্বাঙ্গিন সফলতা সর্বত্র বিরাজ করুক।
লাল সালাম।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
২৫ মে'র আলাপে জুবেরী সাড়া দিলেন ২৯ মে'তে, যখন প্রসঙ্গটার উত্তাপ প্রায় নিভে এসেছে। আমি এখন অন্য কিছু ব্যাপারে ভীষণ ব্যস্ত আছি বলে এ ব্যাপারে কথা বলছি না। তবে এবারে আপনার কথা বলার ঢং আমার ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।সময় পেলে ও ইচ্ছে হলে পরে কথা বলা যাবে।
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
এই জন্যই তো সাহিত্য জগত নিম্ন ধাবমান
মাঠশালা বলেছেন:
"কিন্তু লেখকদের টাকা দেওয়ার ব্যাপারে বেশিরভাগ বড় কাগজ এবং সব ছোট কাগজ হাত লুকিয়ে ফেলে।"(মাহবুব মোর্শেদ) মাহবুব ভাই যখন বড় কাগজ বলেন তখন সম্ভবত আপনি জাতীয় বনিক কাগজগুলোর/মুদ্রিত গনমাধ্যমের সাহিত্য সাময়িকীগুলো/সাহিত্য পত্রিকা বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু বড় কাগজ বললে তাদের বনিক বৃত্তিপনাটি আড়াল হয়ে যায়। বনিক কাগজগুলোর যেমন বেতনভোগীকর্মী আছে তেমনি লেখকদের জন্যও আছে নির্ধারিত মূল্য/সম্মানী। সেখানে বারবার লেখক মূল্য/সম্মানী থেকে প্রতারিত হয়েও যখন লিখে চলেন হয় অনিচ্ছা সত্বেও বা পাঠকের সাথে মিথিকাল যোগাযোগ ঘটাতে বা নিজেকে বাজারে দৃশ্যমান রাখতে, একই সাথে কোন বিকল্প প্রকাশ মাধ্যম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যখন আপনার মত লেখকরা নেন না আবার প্রতারিত হবার পর প্রতিরোধহীন হাহুতাশ চালায়ে যান,তখন তাকে আর কি বলা যাবে? আবার যখন বলেন বেশির ভাগ বড় কাগজ তখন অবস্থাটাতো ভয়াবহ নিশ্চয়।
তদুপরি আপনি বলেছেন "সব ছোটকাগজ"এরও একই অবস্থা। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করতে হয় আমরা সবাই জানি ছোট কাগজ কোন অবস্থাতেই বানিজ্যিক উদ্যোগ নয়। এখনে সম্পাদকও সাধারণত একজন লেখক। এখানে সম্পাদক অনেকাংশেই কেবল লেখা সংগ্রাহক, আর লেখার মূল্যায়নের দায় বহন করে সংশ্লিষ্ট লেখকগনও। এখানে বানিজ্যিক উদ্যোগের অনুপস্থিতির কারণে কেবল সম্পাদকই অর্থনৈতিক ব্যয়ভার বহন করেন না লেখকরাও এতে অংশ নেন। এক্ষেত্রে লেখকও লিখেই দায়িত্ব শেষ করেন না বরং সম্পাদনা ও অর্থৈতিক দায় বহন করেন। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ আসে, যেখানে পত্রিকাটির সম্পাদক, লেখক ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ক্ষতির পরিমান বা ঝুকি কমাবার লক্ষ্যেই বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চেষ্টা চলে। কিন্তু এই প্রচেষ্টাতেও আংশিক ভাবেও সফল এমন পত্রিকাও খুব কম। আর রাভ করার চেষ্টাতো অনেক দূরের ভাবনা। এতে অবশ্য কখনোই ছোটকাগজের কারোরই কোন ক্ষোভ থাকে না। কারন তারা জানেন ছোট কাগজ পন্য বাজারের প্রচল ও তাৎক্ষনিক চাহিদা মেটাতে বের হয় না তাই জনপ্রিয় পন্য উৎপাদনকারীর বিজ্ঞাপন পাওয়াও এখানে বিস্ময়, নতুবা পন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তুচ্ছ উদারতা। তো যিনি নিজের সংসারের খরচ বহন করার জন্য পত্রিকা বের করেন তার প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই বানিজ্য আর ২য় বা ৩য় বা ৪র্থ বা..... লক্ষ্য হতে পারে সাহিত্য। তখনতো সে সাহিত্য ব্যবসায়ী, তার পন্য লেখক ও লেখা। তার সাথে তখন বাজারের অন্য সব পন্য ব্যবসায়ীর তফাৎ থাকে না। সেইসব কাগজকে আর কিভাবে ছোট কাগজ বলি।
"বড় কাগজের" লেখক মূল্য বা সম্মানী না দেয়া এবং "ছোটকাগজের"
লেখক মূল্য বা সম্মানী না দেয়া মধ্যে পাথর্থক্য স্পস্ট। উভয়কে একই ভাবে একই মাত্রায় একই পাত্রে ভাবা যায় না। আর এই যখন আমাদের বর্তমান প্রেক্ষিত তখন "প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন" যে কি চিজ তা আর মালুম হয় না। আমাকেও মাসুম থেকে হয়। লিটিল ম্যগের প্রতিষ্ঠা বলতে তার সাহিত্য কর্মের প্রতিষ্ঠা বা স্বীকৃতি বোঝায় আথর্িক প্রতিষ্ঠাকে বোঝায় না। বানিজ্যক সাহিত্য কাগজের প্রতিষ্ঠা বলতে আমরা তাদের জনপ্রিয়তা ও আর্থিক সফলতাকে বুঝি। এক্ষেত্রে যেগুলো সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য না দিয়ে সংসারের খরচ নির্বাহে বানিজ্যক উদ্দেশ্যে বের হয় যদিও সেখানে লেখক প্রতারিত হয়ে চলেছে সংবাদ প্রচারিত হয়, সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন বলে শিরোনাম সাজালে তাদের পক্ষেই প্রকারান্তরে বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালনা হয়। আর যখন আপনারা এই শিরোনামের আড়ালে থাকা এত সব প্ররোচণা ও পার্থক্য ঘাপটি মেরে থাকা সত্বেও উপেক্ষা করে যখন লেখকের সম্মানির জন্য হাহাকার করে উঠেন তখন কষ্টই হয়।
"সব খানেই দেখি কাগজ কেনার জন্য সম্পাদকরা নগদ টাকা দেয়। কালি প্রেসের টাকা যথাসময়ে মেটায়। "
তো আরও একটা প্রশ্ন এখানে করা যায়, লেখার প্রতি, পত্রিকার প্রতি সম্পাদক আর লেককেরই বোধ করি স্যাক্রিফাইজ থাকে, কিন্তু এর এককনাও কি কাগজ ব্যবসায়ি, প্রেসমালিকের থাকে? তা হলে এর সাথে একটা অবানিজ্যিক উদ্যোগগুলিয়ে ফেলার চেষ্টা চোখে লাগে।
বেশির ভাগ বানিজ্যিক কাগজ লেখককে দিয়ে লাভ করিয়ে নেবে কিন্তু লেখক টাকা দেয় না, এই প্রতারণা অব্যাহত আছে এবং লেখকরাও লিখে চলেছেন, একে বোঝাতেই আমার ভাষা বেপরোয়া হয়ে পড়েছিলো, এর বেশি কিছু আমি বোঝাতে চাইনি, এর পেছনে আরও প্ররোচিত করেছে লেখকদের নিষ্ক্রিয়তা। এ আসলে তাদের আপোষ কামিতা। যা লেখকদের ক্ষেত্রে মেনে নেয়া কঠিন।
আপনারা দৈনিকে বা বানিজ্যিককাগজে লিখে চলেন বলেই আমার মনে হয় এই ধরণের শিরোনামের চোরফাঁদগুলোকে উপেক্ষা করতে পারেন। আপনাদের সম্পর্কিত আমার মন্তব্যর ভেতর দিয়ে এটাও বলতে চেয়েছিলাম।
"কথা হচ্ছে, চাররঙ্গা প্রচ্ছদ করতে, অফসেট কাগজে ছাপতে কিছু ছোটকাগজের বাধে না, লেখকরা টাকা চাইলেই মুখ কালো..."(মজনু শাহ)
আপনার একটা মন্তব্য ভালো, সেটা হলো, অফসেট কাগজে মুদ্রণ ব্যয় বহন করতে 'ছোট কাগজে'র বাধে না কিন্তু লেখকদের টাকা দিতে বাধে। এটা বানিজ্যিক উদ্যোগে বেরোনো কাগজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অবশ্য্ই কিন্তু ছোটকাগজ যেগুলো তাদের মুদ্রণ সংখ্যা সবোর্চ্চ কত হতে পারে তা মুজিবদার মন্তব্যে আছে । তখন নিউজ পেপারে ছাপলেও কাগজ ব্যয় আর কতটা কমে এবং কাগজের লেখক সংখ্যা দিয়ে সেই সংখ্যাটকে ভাগ করে নিলে আপনার কপালে সম্ভবত ৫০-৬০ টাকার বেশি জুটবে না। নাকি আপনাকে বেশি দেবে অন্য লেখকের তুলনায়, তাও যদি সব বিক্রি হয় এবং বাজার থেকে বিক্রির টাকা পরিপূর্ণভাবে তোলা যায়। বানিজ্যিক কাগজের কথা আলাদা। লেখকদের টাকা লাহগনা এটা কিন্তু বোঝাচ্ছি না। কিন্তু কাগজের পেছনে লেখককদের বিনিয়োগ ও সম্পাদকদের বিনিয়োগ যখন লোকসানের কোটায় থাকে তখন এই হিসাবে কিভাবে বোঝা নেবেন? তা ছাড়া দু একটা কাগজের যখন লাভজনক অবস্থা এর কাছে চাইতেই পারেন কিন্তু আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে আপনার এই দাবী আসলে লাভজনক কাগজগুলোতে লেখার গোপন আকাঙ্খা প্রকাশ হয় এবং একই সাথে তা মান সম্পন্ন কাগজকে প্রকাশে অনুৎসাহিত করাই হয়, লক্ষ্য করনেনি এর ভেতর দিয়ে এই সব তথাকথিত লাভজনক সাহিত্য পত্রিকার প্রচারে এবং প্রকাশের ভুমিকা যোগানোর সাথে সাথে তাদের কাগজকে প্রতিষ্ঠিতই করতে চাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তারা ব্যবসায়ি হওয়া সত্বেও লিটল ম্যাগ হওয়ার স্বিকৃতি আপনাদের কাছে পায়। আপনি হয়তো এমন বোঝাতে চান না কিন্তু দেশের ছোটকাগজগুলোর অবস্থা প্রেক্ষিতে এমন অর্থই বেরিয়ে আসে।
চার রঙা প্রচ্ছদ, এটাকে কাগজের অলংকরণ না ভেবে একজন শিল্পির সৃজন কর্ম ভাবলে আপনার মন্তব্য কিন্তু শিল্পির কাজের অবমূল্যায়ন করে।আপনি জাননে ছোটকাগজ যৌথতার ভেতর দিয়ে বের হয় সাধারণত। তো একজন আর্টিষ্ট যদি এমন একটি উদ্যোগের সাথে জড়িত থাকে আর সে যদি তার শিল্পকর্ম অবিকৃত অবস্থায় প্রকাশের দাবি রাখে তবে আপনার এই মন্তব্যের জবাবদিহিতার প্রশ্ন থাকে।
এ ছাড়া মাহবুব মোর্শেদ ভাইয়ের মন্ব্যর প্রেক্শিতে করা ব্যাখ্যাও আপনার ক্ষেত্রে অধিকাংশই প্রযোজ্য।
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
মন্তব্য করার জন্য এ পোস্ট টির বিষয়টি অনেক পুরোনো হয়ে গেলেও দেখছি এখনো এখানে আলোচনা চলছে।আসলে "প্রতিস্ঠিত" বা "লিটলম্যাগ" বা লিটলম্যাগের লেখকদের টাকা দেয়ার বিষয়টি এত পরস্পরবিরোধী যে এখানে আমি কি মন্তব্য করবো বুঝতে পারছিলাম না।এখন বিষয় হলো আমাদের এখানকার যেসব সংকলন বের হয় তা-কি আসলেই লিটলম্যাগ কি-না,তারপর আসছে প্রতিস্ঠার বিষয়।যতদূর জানি লিটম্যাগের সাথে "প্রতিস্ঠা" শব্দটি যায় না।কারণ লিটলম্যাগ দর্শন গত ভাবে "জাতীয়""গতানুগতিক""প্রতিস্ঠা" এসবকে অস্বীকার করে শিল্পী বা ব্যাক্তির ব্যাক্তি স্বাতন্ত্র-কে গুরু্ত্ব দিয়ে সমাজে প্রচলিত(সার্বিক!!) নন্দনতাত্বিক দৃস্টিভংগিকে ভেংগে ব্যাক্তির অনুশীলনে প্রলুব্ধ করে।এক্ষেত্রে যাকে লিটলম্যাগ বলা হচ্ছে তাদের সংগ্রামের জায়গাগুলো কি তা আসলেও গুরুত্ব ব হ ন করে।এসব ভাবতে ভাবতে আমি আগেও এ পোস্টে কমেন্ট করবো ভেবেও কোনো বক্তব্য খুঁজে পাইনি,এখনো পেলাম না।তবে আমার কাছে মনে হলো যে এ বিষয়টি আসলে যেনো লেখালেখি সম্পর্কে এবং পত্রিকা সংকলন সম্পর্কে অতি-ব্যাক্তিগত ধারণা।
আলোচনার বিষয় হিসেবে যা ছিলো এখন তার মোড় দেখছি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে।এখন মনে হচ্ছে বিষয় হিসেবে "দৈনিকের লেখকদের টাকা কি নিয়মিত দেয়া উচিত কি না" তা হলে ভালো হতো।দৈনিকের লেখকদের সাথে আমার কোনো বিরোধ নেই।আমাদের এখানে জাতীয়তা,এস্টাবলিশমেন্টের অবস্হা ভালোভাবেই বোঝা যায়:তা আসলে কতটা প্রিমিটিভ অবস্থায় আছে যখন শুনি দৈনিকের লেখকরাই ঠিকমতো সন্মানী পায় না।সেই অবস্থাদৃস্টে আসলেই দৈনিকগুলো তার লেখকদের বকেয়া টাকা দেবার ব্যাপারে একটা আলোচনা হওয়া দরকার ছিল।আমাদের এখানে একটি আনন্দবাজার সৃস্টি হয়নি,আমাদের এখানে একটি গ্রাফিত্তিও সৃস্টি হয়নি।আমাদের এখানকার কোনটাকে আমি প্রতিস্ঠিত কালচার বলবো?আর তার এন্টি কালচার?
তবে আমার মনে গণহারে সকল সংকলনকে লিটলম্যাগ বলার কোনো অর্থ নেই।লিটলম্যাগের ফাইটের জায়গাগুলো কি কিছুটাও মহিমা ব হ ন করে না?
এইসব অতিব্যাক্তিক মত সম্পুর্ণই আমার,
ধন্যবাদ টুকু,ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: "প্রতিস্ঠিত" বা "লিটলম্যাগ" শব্দদুটি পরস্পরবিরোধী, এটাও আমিও জানি মুয়ীয এবং একারণেই এর প্রয়োগ। এখান থেকেই আমি যে লিটলম্যাগের কথা বলছি, তাঁদের চরিত্রটা স্পষ্ট হয়ে যায়, এবং তারা লেখকসম্মানী দেন না কেন, সেই প্রশ্নটাও চলে আসে। এটা অনেকে বুঝতে পেরেছেন, অনেকে চাননি।
কালচার আর এন্টিকালচার নিয়ে আমি কোনো কথা বলিনি, এটা যারা বলেছেন তাঁদের কথায় আমি রেসপন্ডও করিনি।
গনহারে, কোনো অবস্থাতেই সবকটাকে লিটলম্যাগ বলা হয়নি। ফাইট জায়গাটাকে মহিমান্বিত করার ও কোনো অর্থ হয় না। যে যার কাজ করবে, দায়িত্ব সামলাবে। এর বাইরে তো আর কিছু নয়।
তাই না?
রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন:
আমার মনে হয়, লেখক সম্মানী দিলে একজন লেখক আরও দায়িত্বশীলভাবে নিজের কাজটুকু করতে পারেন। বা সম্পাদক সেটা করিয়ে নিতে পারেন। আবার, লেখকরাও কি সবার কাছ থেকে টাকা নেবেন নাকি? আমার মনে হয় কোনো লেখকই তা করতে যাবেন না। কিন্তু যারা লেখকের কাছ থেকে লেখা নিয়ে লাভ করেন, অথচ লেখকের প্রাপ্যটুকু দেন না, তাদের কছে টাকা চাওয়া যেতে পারে।______সম্মানী প্রদানের বিষয়টা সাহিত্য জগত থেকে উঠে যাচ্ছে ! এ বিষয়টা নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দেবার জন্য ধন্যবাদ তারিক টুকু। লেখকদের লেখায় লিটলম্যাগগুলো সমৃদ্ধ হচ্ছে... অথচ তাদের ন্যূনতম সম্মানী প্রদানের ব্যবস্থা নেই ! সম্পাদকদের ভাবটাও এরকম : লেখা ছেপেছি এই না যথেষ্ট !
এ মনোভাব দ্রুত পরিবর্তিত হোক। লেখা-লেখিও নেশা হলেও একটি পেশা...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র।
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
"বাংলাদেশে মোটামুটি সচল/অচল সব মিলিয়ে তিন-চারশ লিটলম্যাগ আছে বলে জানি। এর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের লিটলম্যাগ সহ অনক ধরনের লিটলম্যাগই দেখা যায়"-আপনার এবক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছি যে গণহারে সবকিছু লিটলম্যাগ হতে পারেনা-ভুল বুঝবেন না যেন।অবশ্য আপনার যা বলেছেন প্রতীকি ভাবেই বলেছেন,আপনি ব্যাখ্যা করেননাই।যেমন বিদেশী বিনিয়োগ,বিগ্গাপন,চাররংগা প্রচ্ছদ ইত্যাদি।আপনি লিটলম্যাগ বলতে যাদের ইংগিত করছেন তাদের বিষয়টি ব্যাবসা!তাদের দর্শন গত কোনো জায়গা আছে বলে আমি মনে করিনা,তাদের সাথে দৈনিকের সাথে যে ফারাক নেই সে-ও আপনি ইশারায় বলেছেন,স্পস্টভাবে নয়।তারা কি লিটলম্যাগ,নাকি সাহিত্য সংকলন,নাকি শুধুই সংকলন সে প্রকাশনা বলা উচিত তা দিয়ে আমি ফ্যালাসি সৃস্টি করতে চাই না।আর আজ এ নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছে করছেনা।পরে কথা হবে।ভালো থাকুন।
মজনু শাহ বলেছেন:
jubary,ei tahole apnar bekkha !
mone holo dudher shishuke bojhachsen !
apni je karongulor kotha bolsen, egulo eto valo jana ase je porte porte hashlam shudhu. pray 20 bosor hote chollo koto kahini-i to dekhlam. koto torkatorki, koto totto. notun pray kisui nai apnar boktobbe.
tukur lekhatar prekkhite amar kotha aro detail hoa uchit silo. somoyavabe parini. je karone mone hote pare ami bujhi lekhokder lekhar sommanir jonno 4 ronga cover ar offset kagoj theke taka bachiye sei taka lekhokder jonno dabi korsi shudhu.ota kothar kotha matro.
sotyo kotha bolte gele loke marte asbe jubary. little mag-er eto vetorer khobor jani, eto nichuta dekhe esesi,eto shundor moner manusho peyesi oi circle-er vetor--- valo mondo mesano sei kothagulo nischoi kono ek somoy likhbo.
apnara ekhon je torko korsen, seta khubi joruri. kotha bolte bolte sob clear hobe, etai poddhoti.
amar samanno kotha apnar kase ei je, sahitto chorcha korte esesen, minimum soujonnobodhtuku-o to dekhsi apnar toiri hoyni. ...doinik potrikay pasa mara diye berachsen... emon kuruchipurno montobbo.... jibone ei prothom apnar kase sunlam.ja ajibon mone thakbe.
je kono bisoy niyei amra kotha bolte pari, mot nai ba millo, kintu galagal korbe, eta kon ruchi ?
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
হায় হায়!!!এক কেঁচো খুঁড়তেই এতো সাপ....অনেক জানলাম।
টুকু, +
সবার জন্য শুভকামনা। দীর্ঘ সময় ধরে পড়তে পেরেছি, কবিরা কথাও ভালোই লিখেন.....
মঙ্গলার্থে.........
গোঁপা বলেছেন:
লিটল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত লেখক,সম্পাদক এবং শুভানুধ্যায়ি এরকম প্রায় ৩ ডজন ব্যাক্তিকে আমি চিনি আর আমি নিজেও লিটল ম্যাগাজিনের একজন অনিয়মিত লেখক। তবু আমার অভিজ্ঞতার ঝোলা থেকে যে বাক্যটি বের হবে সেটা বলা অশোভন হলেও আমাকে বলে ফেলতে হবে যে: ওটা হচ্ছে এক প্রকার লিটল মাগি চর্চ্চা কেন আমি লিটল মাগিচর্চ্চা বললাম?
কারণ প্রথমেই এই সমস্ত মানুষেরা বড় মাগিচর্চ্চা করার যোগ্যতা রাখেন না, ফলে তারা হাত দেন ছোট মাগির দিকে এবং কালক্রমে যখন তারা ছোট মাগিচর্চ্চা করে মোটামুটিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যান বা বড়মাগি দের দৃষ্টি আকর্যণ করতে পারেন দেন কাম খাল্লাস। জীবনের ব্রত প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার শ্লোগান ভুলে বিভিন্ন প্রকার গান মানে বন্দুক নিয়ে চলাফেরা করতে তারা পছন্দ করেন। আর খুব অনান্দনিকভাবের মাগিবাজির নমুনাও আমার কাছে আছে,,,,,,,
একটা প্রশ্ন করতে চাই লিটল মাগিচর্চ্চাকারীদের বা যারা আমার মন্তব্যের বিরোধীতা করবেন তাদের যে,এখনকার প্রতিটা দৈনিক প্রত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের অতীত ইতিহাস কি? তারা কি লিটলমাগিচর্চ্চাকারী ছিলেন না। আর এখন যারা লিটল মাগিচর্চ্চা করছেন তারা কি দৈনিক প্রত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকদের হস্তলেহন করতে তৎপর নন! তাহাদের সাক্ষাৎকার ছাপানোর জন্যে অনেক লিটলমাগিচর্চ্চাকরিকে যে কি পরিমান জঘণ্য হতে দেখেছি সেটা বলতে বা মনে করতে ঘেন্না পাচ্ছে,,
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















