somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পথ
ধরা যাক রাত্রি:

আমি কি মীন বা কেতুকে পাহারা দিচ্ছি? তাহলে কি তোমাদের এই ভোজসভায় এসে বোঝা যাবে আমার অনুপুযুক্ততা। পাশে কোনো পশু এসে দাঁড়িয়েছে: পা থেকে রক্ত ঝরছে। নিজেই অবাক হয়ে নিজের চুইয়ে পড়া রক্তকে দেখছে। আমরা পথটির দিকে চেয়ে আছি।

কোথাও ঢুলি বাজছে।

ধরা যাক বিকেল:

বহু উল্লাসধ্বনি ফেলে এসেছি। কত উপকথা আর অশ্র“ ফেলে ঐ সূর্য গড়িয়ে নামছে। এখন গোধুলি, কোন কোন পাতার রং লাল। কিরকম ভার নিয়ে রেলগাড়ি যাচ্ছে। এমন অবিমৃষ্যকারিতায় বিহ্বল আমি কথার তোরঙ্গ খুলে বসেছি।


রাস্তায় উন্মাদের গানের মাঝে ছায়া আর চিরঅন্ধকার দোদুল্যমান।
রাস্তায় উন্মাদের গানের মাঝে ছায়া আর চিরঅন্ধকার দোদুল্যমান।

এর মাঝেই পাখি ডাকছে, ছাত্রেরা বাড়ি ফিরছে। একটি আপেলের মাঝখান থেকে গড়িয়ে নামতে থাকা আভা যেন আরো রক্তবর্ণ হয়ে উঠছে। এর নামই কি গান, আলোর সাথে সাথে নাচছে, নিভে যাচ্ছে! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28942013 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28942013 2009-04-24 13:45:03
এক তরুন কবির কবিতা: আল ইমরান সিদ্দিকী
১.
হালকা সন্ধ্যায় আমি তার ভারী চোখ দেখতে পেলাম

বললাম, 'তোমার মুখেও একদিন গোধুলি নামবে,
লাল টিপ ডুবে যাবে।
তারপর...
তারপর তাকিয়ে দেখি এক্যুরিয়ামের জলে ভেসে থাকা
সাদা বিকিনির তলে ঘোরাফেরা করছে রঙ্গীন মাছের দঙ্গল

সে বললো, 'জীবনে এমন সন্ধ্যা খুব একটা আসেনা, তাই না?'

২.
কালো পাগড়ী খুলে মাপছি তার দৈ্র্ঘ্য-প্রস্হ।কালো পাগড়ীর ভেতর প্লেগের জীবাণু, গোলকিপারের বিষন্নতা,ডান হাতে ধরা একটি পেয়ালাকে ঘিরে গ্রিকদের অহেতুক উল্লাসধ্বনি; এমনকি নষ্ট সিঁদুর সিঁথি,-নারীদের অবিরল পোট্রেট।কতকিছুর পরও সারাদিন উলেন সূ্র্য ছেটায় তার ওম কিংবা ওম্ধ্বনি।আজকের মতো সন্ধ্যা নামছে।অস্তপারে ঝুলে আছে বৃত্তাকারে এতিমখানার লাল দানবাক্স

৩.
যখনি আমি পাখিদের উড়োযাত্রা দেখি ,মনে পড়ে, একসময় পালকে লেখা হতো অজস্র গল্প-কবিতা এবং বুঝি লাল রক্তে গাঁথা পাখির প্রতিটি পালক কালো কালির কাছে আসেনা

৪.
নিস্তরঙ্গ ঘাসের বিছানায় শুয়ে থেকে মনে হল ডাবল বেডের মাঝখানেই গল্প ধরে সব থেকে বেশী।মাঝখানে থাকে সুনীল বাগান,পাহাড়কাটা গান।অপার বিবমিষা নিয়ে আমরা দু'জন যখন বিছানার দু'প্রান্তে ছুটে গিয়ে, দুটি ভিন্ন গ্লোবে ঢুকে পড়ি, তখন শূন্যতা তার প্রিয় উল্কিগুলো মাঝখানে আঁকে।-কখনোবা রুদ্রস্বরে যেন হেসে ওঠে যুগসন্ধির কবি।আহা বিপত্নীক!তুমি যেন ক্রুশবিদ্ধ যীশু!-মাঝখানে থাকো শুয়ে।আবার, 'পৃথিবী চক্রাকারে ঘোরে'-এই সত্যে ভোট দিয়ে ঘুমের মধ্যে বেড়ে ওঠে শিশু।

৫.
কতবার আমার নীল ডেনিম আর উলেন জার্সি রৌদ্রে শুকালো! সূর্য্য অদৃশ্য হলেও আমি হিমাংশুর আয়নায় কি মেঘের ফাঁকে দেখি সূর্যের শিরদাড়া।খোঁড়া লোকটি বাজায় দ্যাখো অশ্বমুখবেহালা।আমার ডমরুজীবন -আমি সাদা আর কলো,দু'পাশ থেকেই শব্দ তুলি।আর এ আঙুল থেকে ঝরে যে রক্ত, তাকে গোপন করে মোরগঝুটি। দিন-রাত্রির যে কোন সময় সেও এক ভোর,যখন কাব্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী আর আমি মুখোমখি বসি

মোরগটি ডেকে ওঠে সেই যুগল-সম্মেলনে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28898564 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28898564 2009-01-17 11:42:01
এক তরূনের কবিতা: রিয়াদ চৌধুরী
রিয়াদের কিছু কবিতা পাঠকের জন্য থাকলো; ভালো লাগা, মন্দলাগা, ভুলত্রুটি সবাই খোলামনে জানাবেন, আশাকরি।

গাছ

গর্ভ থেকে ঝরে

মানব শিশু যদি

এই উঠোনে তবে

এ উঠোনেই উঠে

মৃত্যু-গাছ এক

যার পাতার রঙ

ঐ শিশুর মত।


প্রতিধ্বনি

যখন প্রান্তর জুড়ে, বরফ শুধু বরফ গলে
নিয়তির আবর্তন কেন্দ্রহীন বৃত্তের মতন
সূর্য থেকে ছুটে এসে মেঘকে বানায়
পৃথিবীর স্থির কেন্দ্রবিন্দু;
বৃষ্টি হয়, বৃষ্টি পড়ে, যখনও বৃষ্টিই হয় শুধু
শৈশবের মতন অন্ধকার অবসন্ন রাত্রে
তখন শুধু প্রার্থনা, একটি প্রার্থনা
জীবন যেন কেবল অতীতের প্রতিধ্বনি হয়ে না গোঙায়।

ঘূর্ণী

আছে রক্ততরঙ্গের দাহ ঘোড়ার প্রচন্ড গতি
পুড়ে যাচ্ছে শবদেহ হ্রেষা কেড়ে নিচ্ছে সব শ্রুতি
নীল পাখি এসে বসে দিন শেষে তোমার আঙ্গুলে
তুমি সেই আঙ্গুলটি ভাঁজ করে মুঠোয় ঢুকালে
সব ঘোড়া তাই স্থির হল হঠাত দিক হারিয়ে
সব মৃতদেহ ছাই হয়ে বাতাস দিল উডিয়ে।

জীবনানন্দ


উঠোনের বহু নিচে এখনো তরঙ্গ;
এখনো ভীষণ স্রোত-শিকড় আশ্রমে
থই থই করে জল।সেইসব বুনো
শেয়ালেরা, হরিণেরা জ্যোত্স্নার রাতে
এখনো উঠোনে আসে,অন্ধকার দ্যাখে
সভ্য গবাদির চোখে-আর শব্দ শোনে-
গড়ানো জলের শব্দ-উঠোনের নিচে।

সৌন্দর্য

কিছুই ঠিক হয়নি এটা জানি।এভাবে শিমুল গাছের ডালে পাতা হয়ে জন্মানোর কথা ছিল না আমার। তবু একদিন,রোদ ওঠার পর,জন্মে,ঝরে পড়েছি উঠোনে। ঝাডুওয়ালীর ঝাড়ুর টানে গতি পেয়েছি জংগলে যাওয়ার। একটা নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়-ই শুধু পেয়েছিলাম,সেই সময়ে একটা বিড়ালের শাদা গায়ে ঢেউহীন একটা পুকুরের ছবি দেখতে পেয়ে সেখানেই নেমে পড়লাম স্নান করতে, নিঃশ্বাস নেওয়া হয়নি। তারপর পুকুরে ভেসে থাকা সাতদিন-মাছের ঠোকর,সাপের পিঠের স্পর্শ,ব্যাঙের উত্ফুল্ল ডাকের মধ্যে মনে হচ্ছিল হয়তো ঠিকই আছে জীবন, এইতো পুকুরের পানি,সূর্যের হলুদ ছটার মধ্যে ভেসে থাকা আদিম পৃথিবীর প্রথম কন্যাসন্তান,আমাকে ওম দিচ্ছে চমৎকার! তারপর,কৌতুহল। জমে থাকা কচুরিপানার মধ্যে,দুপুরের শেষ ভাগে শরীর এলিয়ে হালকা ঘুমুচ্ছিলাম। পানির আন্দোলনে ঘুম ভাঙল, পানির উল্লাসের কারন কি ভাবছি, দেখি, একটা শাদা পা,কচুরিপানা সরিয়ে আলতো ডুবেছে পানিতে। এরপর মনে হল,কিছুই ঠিক হয়নি-জন্ম,খসে পড়া,ভ্রমণ,দিনযাপন- কিছুই ঠিক হয়নি। আরেকটা ভুল করলাম,ইচ্ছে করেই,বয়স কম বলেই হয়তো, ওই পা বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম,অনেক উপরে। সৌন্দর্য বেয়ে,ভুল সৌন্দর্য বেয়ে, উঠতে লাগলাম,মেঘেরও উপরে।

সময়

স্নান হয়,গান হয় নদীর চাঞ্চল্যে
রাত্রির চূড়ার ধস শরীরী মার্বেলে

যে স্রোত উঠল বেয়ে চূড়ার মাথায়
তার খানিকটা দ্রাক্ষা বস্তু হয়ে যায়

আরো সন্তর্পণে ঢালো ওষ্ঠের গরল
হৃদপিণ্ড বস্তু হোক দেবতা তরল

যে স্নান,যে গান হয়,নদীতে সাগরে
যে শরীর পড়ে থাকে শ্মশানে কবরে-

পৌরণিক ক্লান্তি ছুঁয়ে স্রেফ বাষ্প হয়
নিবিড় ধ্যানেই জানি বাষ্পই সময়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28885410 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28885410 2008-12-20 21:41:44
দুটি কবিতা সে এখনও ফোন করে, ‘কেমন আছো ?’, এই প্রশ্নের সমীপে আমি দেখি এক হীনবল উন্মাদ মাটি আঁচড়াচ্ছে। পাশে গিয়ে যতই খেদাতে চাই তাকে, ঘন কোনও ইশারায় মাটি আঁচড়ানোর ভঙ্গি ততই জানান দেয়— নিজের স্মৃতির ভার লঘু করার জন্যে প্রয়োজন কিছু স্মৃতি মাটি চাপা দেয়া।

সে এখনও চিঠি লিখে, সে চিঠির ভাষা আর অদ্ভুত রসায়ন আমার কি কোনওদিন বোঝা হবে? আমি কি উত্তর দেবো ভেবে উন্মাদের সমীপে দাঁড়াই। দেখি, সমস্ত স্মৃতির তলে ধীরে ধীরে তার চাপা পড়া দেহখানি গর্ত খুঁড়ছে

২.
ততটা সময় থাকি, যতক্ষণ এ-প্রকারে শীত থেকে যায়। দূরে এক সান্ধ্যসংগীত বাতাসে ভাসমান, ঘোরগ্রস্ত বোগেনভেলিয়ায় গিয়ে শেষ হয়। বোগেনভেলিয়ায় গিয়ে শেষ হলো তাই আজ ছায়ার-প্রহার

নিরুদ্ধ শিখার সাথে বিনিময় হয় তাই ডালিম-দানার রক্তপ্রাণ। বিনিময় হয়- কালো গোলাপের দেশ। যে আকাশ উভকামী পাখি থেকে রচনা করেছে আজ ত্রস্ত তটরেখা। যা সুদূর, স্বপ্ন পরাভূত। যে তোমাদের মর্মসহ টেনে আনে জলে, প্রহসনে- এতোদিনও দুইটি সন্দিগ্ধ হাত যার যার মুদ্রায় বারবার বিভ্রান্ত হয়েছে

এখানে শীতেরা তাই চলতি সময়গ্রন্থি, সসম্মানে, উপেক্ষা করেছে


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28856818 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28856818 2008-10-19 13:33:52
পাকিদের যে জাহাজটা আজ সের দরে বেচে দিচ্ছেন, সেই জাহাজটা দেখেই কৈশোরে আমরা মুক্তিযুদ্ধকে চিনেছিলাম।
আজ শুনি জাহাজটাকে কেটে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। জানি না, এই সিদ্ধান্তের কারণ কী! ঐ নদী তো সংকীর্ণ ও হয়নি আগে থেকে। যা থাকার তাই আছে। তাহলে?

এটাকে চাঁদপুরের মানুষ থামাতে পারবে কী না জানি না। কিন্তু , আগামীবার লঞ্চঘাট থেকে বাসায় ফেরার সময় যখন ঐ রাস্তাটা পার হবো, যখন সন্ধ্যার সেই নিঃসঙ্গ, রহস্যময় জাহাজটার মাস্তুলটুকু আর দেখা যাবে না, তখন একটা দীর্ঘ শোচনায় মনটা ভরে উঠবে। এই জাহাজের সাথে আমাদের কতই না স্মৃতি, বিস্মৃতি; এসবকিছূ ফেলে জাহাজটি এবার সত্যিই আমাদের একা করে রেখে যাবে!

রিলেটেড পোস্ট: Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28854734 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28854734 2008-10-14 23:05:06
মিলান কুণ্ডেরা কবে নোবেল পাবেন? কুণ্ডেরা নোবেল পাক। কেননা, যারা যারা এখন নোবেল পাচ্ছেন, তাঁর কীর্তি তাদের অনেককেই ছাড়িয়ে- এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আনবিয়ারাব্যল লাইটনেস অফ বিয়িং, স্লোনেস, বুক অফ লাফটার এন্ড ফরগেটিং, ইগনোরেন্স,আর্ট অব নভেল, টেস্টামেন্ট বিট্রেয়েড... ... জানি না, এই মাপের কাজ বিশ্বসাহিত্যে তাঁর সমসাময়িক আর ক'জনেরই বা আছে। সত্যিই আমি নিশ্চিত নই। তাই প্রতিবারই যখন সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয়, আমি খুব আহত হই। জাস্টিস ডিলেয়েড, জাস্টিস ডিনাইড।

কে জানি বলেছিলেন, বিশ্বসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ন হতে হলে ঐ লেখকের দেশটিকে বিশ্বরাজনীতির গুরুত্বপূর্ন ফ্যাক্টর হতে হয়। কুণ্ডেরা চেক লেখক। এখন থাকেন ফ্রান্সে। এমন পরবাসি লেখককে কেই বা পাত্তা দিতে চাইবে!

অবশ্য পুরষ্কারে গোলমাল সব জায়গাতেই ঘটে। এ দেশেও ঘটে। এমন এমন লোকজনকে পুরষ্কার দেয়া হয়, যাদের পরে আর খুঁজেও পাওয়া যায় না। আবার পণ্ডিতদেরও পুরষ্কার দেয়া হয়। ঊপন্যাসের ক্যাটাগরিতে। কিন্তু উনাদের বই পড়া যায় না। এই আর কি।

শেষ পর্যন্ত আমাদের পাঠকদের এইসব পুরষ্কার নিয়ে একধরনের হতাশায়ই থাকতে হয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28853486 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28853486 2008-10-11 19:28:33
এই আস্তিকতা/নাস্তিকতা দিয়ে আমরা কী করবো!
আরেকটি ব্যাপার: আমার মনে হয় না, আস্তিকতা/নাস্তিকতা নিয়ে আমাদের কারো কিছু করার আছে। কেননা, আমরা নিজেদের বিশ্বাসে অন্যকে শিক্ষিত করতে নিশ্চয়ই তাকে যুক্তির কাছে ফিরতে বলতে পারি না। খুব কম সময়ই যুক্তিতে বিশ্বাস জন্মায়। তার উপরে এই যুগটা ইরেশ্যনালিটির, ফাজি লজিকের; যুক্তি এখন বহু পুরানো ব্যাপার। কোনো বিষয় যুক্তিযুক্ত, শুধু এই বিবেচনায় তাকে গ্রহনযোগ্য বলে ভাবার দিন শেষ। যাক একথা।

আস্তিক/ নাস্তিকদের বিভিন্ন সভা/সমিতি আছে। সাইটও আছে । একবার আমাকে এমন একটি সাইটের ঠিকানা দেয়া হলো। সেইসব কমিউনিটি ঘুরে দেখলাম , আমরা তেমন কিছু পাইনা । যেমন পাই না এই ব্লগের এই সম্পর্কিত বিতর্ক থেকে। কেননা, শেষ পযর্ন্ত এসব বিতর্ক ইগোতেই গড়ায়। তাহলে এর পেছনে সময় নষ্ট করার মানে কী?

কোনো মানে হয় না, কোনোই মানে হয় না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28852165 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28852165 2008-10-08 04:21:45
স্মৃতি ঘুম কি! জানি না, স্বপ্নই ডুবিয়ে মারে।
কেননা, আকাশ আজ ভারি হয়ে বুকের উপরে,
কালো-বরফের হিম, টের পাই, গায়ে এসে লাগে।

অথবা স্মৃতির মুখোমুখি,বিধ্বংসী টগর ডেকে চলে।
কোনো ভাবে, কোনো একভাবে হয়তো একেই
টলায়মানতা বলে।

স্বপ্ন কি! বুঝি নি, দিনানুদিনের আয়না থেকে কারা মুছে যায়।
তারাই কি নিরুদ্দিষ্ট স্মৃতি? লেবুবাগানের ঘ্রান? যেদিকে দৌড়ে
অজান্তেই একদিন নীল কোনো পাখি হয়ে যাব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28846578 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28846578 2008-09-22 19:13:45
ওস্তাদ রশীদ খানের একটি অসাধারন ট্র্যাক।
কোন্ রাগে গাওয়া সেটা জানি না।
শুনতে পারেন।


সুর: এ আর রাহমান ও ইসমাইল দরবার
কথা: জাভেদ আখতার।

লিংক এখানে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28840708 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28840708 2008-09-09 13:35:02
শাহী মির্জাকে ছেড়ে দিন, নিজেদের সংশোধন করুন।
কিন্তু এটা বোধহয় কোনো সমাধান নয়। আজ শাহী মির্জা যেটা করেছে, তা কাল বিদেশে বসেও যে কেউ করতে পারে। সেক্ষেত্রে, আসামী ধরা তো দুরের কথা, সাইট পুনরুদ্ধার করা যাবে কিনা সন্দেহ। তাই আমরা এদের নিয়ে অতটা মাথা না ঘামালেও পারি। সরকারের উচিৎ হবে, কী করে তাদের সাইটগুলো আরো সিকিওর করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবা।
তোর সাথে এই বাচ্চাছেলেগুলোকে ছেড়ে দিলে আমার মনে হয়, কারো ক্রেডিটের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। এরা সরকারকে কোনোভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে চেয়েছে- এমন কথা এখন পর্যন্ত কেউ বলেনি। এরা শুধু প্রমাণ করে দিতে চেয়েছে, আমাদের সরকারি সাইটগুলো কতটা অনিরাপদ। ওয়েব সাইট অনিরাপদ, এটা প্রমান করার জন্য সেই সাইট হ্যাক না করে আর কোনো উপায় থাকে বলে মনে হয় না। কিন্তু সেই অপরাধে কারো সাজা হলে, আগামীতে এদেশটার জন্য ভালোবেসে কেউ কিছু করতে আসার সময় অন্তত দশবার ভাববে।

তার চেয়ে সরকারের উচিৎ নিজেদের সংশোধন করা, সাইটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28840077 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28840077 2008-09-07 22:17:24
লাইটহাউজ

নীল ময়ূরটিই এখানকার লাইটহাউজ।
নৌপথে লক্ষ্য রাখা প্রস্তরিত শৈলচোখ-
যাকে এড়িয়ে দূর্গের দ্বারে এসে পৌছলাম।

দেখি তারও জ্বলজ্বলে চোখ, দমকা নিশ্বাস আছে।
আয়ু আছে। আয়ুর ভেতরে দপদপ করছে সূর্যমুখী ফুল।

কেননা প্রেমের চেয়ে প্রেমের গানেরা নাকি অধিক সুন্দর।
বাগান রঙ্গীন!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28835163 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28835163 2008-08-26 13:51:36
এলিয়টের তিন/চারটা লাইন আজ সারাদিন খুব মনে পড়ছে।
বিকেলে একবার শাহবাগ যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের ও হয়েছিলাম। এলিফ্যান্ট রোড পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসলাম। সারাদিন শুধু এলিয়টের তিনচারটা লাইন খুব বেশি মনে পড়ছে। লাইনগুলো এরকম:

Who walked between the violet and the violet
Who walked between
The various ranks of varied green...

যতবারই মনে পড়ছে, মনে হয়, একটা ছোট অথচ খুব গুরুত্বপূর্ণ জার্নি হয়ে গেল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28829119 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28829119 2008-08-09 18:50:22
পাঁচটি কবিতা ময়ূরের ছদ্মবেশে থাকে ঘুম, নেশা, পদ্মরাগমনি।
স্বপ্ন থেকে দূরে কোনো অপার্থিব সৌরটানে পৌছে দেখি
দুই পৃথিবীর মাঝে দাঁড়িয়েছে সপ্রাণ মেঘখণ্ড।

যারা নৈঃশব্দ বোঝেনি তারা তাকে আনমনে ডাকে।
ময়ূর চমকে ওঠে, যেনবা ঝুলন্ত সাপ অতর্কিতে
মুখ থেকে ঢালবে আগুন, গলে যাবে মেঘের প্রাচীর-
দেখা হবে মূকুেরর সাথে, নিজের হৃদয়ে শুয়ে থাকা
অতি-পরিচিত সেই সাপটির সাথে।

২.
উজ্জ্বল বাদামীপাত্র, তাতে মদ, শরীরবৃক্ষের রস
অলৌকিক বিহ্বলতায় মিশে আছে, এর নাম অস্তরাগ
এর গভীরতা তুমি বরফে ঢাকা হৃদয়খণ্ডকে দেখে
বুঝে নিতে পারো।

যেন, সমস্ত ধ্বংসের পর মূহ্যমান তাবুর ভেতরে কারা
একাই দপদপ করছে।

মূলত সে অসত্যভাষণ, এর রূপ,গন্ধ,সুরের দক্ষতা
একদিন বিচ্ছিন্ন ঘড়ির কাটায় ভর দিয়ে, হিমবাহ টপকে
শীতেই ফুরিয়ে যাবে।

৩.
গোধূলিতে মেঘরক্তে লক্ষ্য করি উল্লম্ফন, হাড়মজ্জা ঠাণ্ডা হয়ে আসে।
বৃক্ষকাণ্ডকে লেহন করে আলো- যেনবা অশ্বের রক্তজিহ্বা।
অসহজ বায়ু বয়,দূরের আকাশে সচকিত নক্ষত্রবুকের দপদপ শব্দে বুঝি,
দেয়াল টপকে এইমাত্র নামল আততায়ী, গুলি হল।
ঝুমঝুমি একা পড়ে থাকলো, উন্মাদ রাস্তায় নেমে তির্যক বৃষ্টিতে ভিজে
চলতি কোনও গান গাইল,দূরে হারমোনিকার সুরে ভেসে আসলো
আমার কৌশোর।

৪.
আজও স্বপ্নেরা সুরচালিত, মৃগয়ায় দেখা পাই তার।
প্রতিসরণের নিয়মে বনচ্ছায়া স্ফীত হয়ে ওঠে।
ঐ গাছ ঝুকে থাকে পরস্ত্রীর দিকে, ঝুকে থাকে ফলা।
শুনেছি শিকারবার্তা তার তলে অন্তশীল বয়।
সবচেয় উচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে নেউল চাঁদকে ফাদে ফেলবে
আর ভাবে ঐ কালো গুহার ভেতরে এক লাফে ঢুকে যাবে কীনা।
৫.
চারদিকে ঘুম নেমে আসে, দেহকাণ্ড সবুজাভ হয়।
আমি ক্ষুধার্ত সিংহের কেশরকে দমবন্ধ নক্ষত্রঝড় বলে ভুল করি।
গান ছেড় যারা উঠে গেছে, তাদের প্রত্যেকের ডানা খসে গেছে।
লাল সাইরেনে সড়কের পাশে দাড়ানো গাছগুলো রং বদলায়-
আমি রক্ত ভেবে ভয় পাই, এক অতিজীবিত দৃশ্যের ভয়ে
তাকে ফেলে দৌড়ে চলে আসি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28824735 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28824735 2008-07-27 20:17:49
পাঠ অভিজ্ঞতা : রাশেদুজ্জামানের কাব্যগ্রন্থ 'পাখি ও প্রিজম' যে কোনো ভালো কাব্যগ্রন্থেরই একটি জগৎ থাকে, থাকে কবির দৃষ্টিভঙ্গির বিশিষ্ট নমুনা। কবির স্বকীয়তা ও চারুদক্ষতা কবিকে যেমন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তুলতে সাহায্য করে , তেমনি স্বতশ্চলভাবেই গড়ে ওঠে তাঁর জগৎ। রাশেদুজ্জামানের এই গ্রন্থটিকে পাঠ করতে গিয়ে দ্বিতীয় কবিতাটিতেই লক্ষ্য করি ‘এইখানে/ ফুল নয়, ফুটে আছে ফুলের বিভ্রম’। মনে পড়ে, প্রথম কবিতাতেই পড়েছি ‘পাখি হয়ে ওড়ে ঝরাপাতা/ ঝরাপাতা হয়ে ওড়ে পাখিস্মৃতি’। বুঝতে কষ্ট হয়না, এই দুটি পংক্তিই এই কবির চারিত্র্যধর্মের আভাসদাতা। ফুল নয়, ফুটে আছে ফুলের বিভ্রম- অংশটুকু পড়ে কি আমরা বুঝে নেব, এই কবির যে টুকু অভিজ্ঞতা ও অনুধাবন, তা তার বিশেষ পর্যবেক্ষন-লব্ধ; কবিতা এখানে বাস্তব/অবাস্তব,যুক্তি/ যুক্তিহীনতা- কোনো কিছুরই পরোয়া করছে না, কবিতা শুধু কবির নিজস্ব জগৎ থেকে উৎসরিত হচ্ছে, পৌছে যাচ্ছে এমন এক উচ্চতায়,যেখানে এর নিরেট অর্থ-মূল্যের দিকে পাঠক তাকিয়ে থাকতে পারেন না। এখন প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, এই প্রগাঢ়তা খোদ কবিকে কতটা জারিত করেছে। ঐ সিরিজের পরবর্তী কবিতাতেই যখন কবি লিখছেন,‘আমার গল্পের মধ্য থেকে আমি ছড়িয়ে পড়ছি.../অন্য গল্পে, গল্পহীনতায়’ তখন রাশেদুজ্জামানের কবি-ব্যাক্তিত্বের মূখ্য দিকগুলোর একটা ইশারা আমরা পেয়ে যাই এবং পুরো গ্রন্থ পড়ে শেষ করলে দেখতে পাবো, এই ইশারা ক্রমশই গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছে।
এর মধ্য দিয়েই চলতে থাকে স্বাদ গ্রহনের পালা, বলা যেতে পারে, সেটা বেশ বিচিত্র ও বৈভবে সমৃদ্ধ। পড়তে পড়তে হাওয়া আর জল কবিতাটিতে, ‘তবু আজ জেনে নিতে চাই, কার মুখ/ কার মূর্তি জেগে আছে, জলের ভেতরে কার কণ্ঠস্বর?’এবং ঠিক তার পরের পংক্তি, ‘পড়ে আছি আমিÑ কোনো স্থাপত্যের ভুল,অসংলগ্ন বাহু!’ তখন বুঝি প্রচল নস্টালজিয়ার আঙ্গিনাকেও নিজ কবিকৃতীর বলেই কবি একটা নতুন রুপ দিতে পারেন, এক্ষেত্রে তা যে তার জন্য খুব আয়াস-সাধ্য , তাও নয়। মানে, একটা সহজাতভাবের ছোয়া আছে তার এই জাতীয় কবিতাগুলোর মধ্যে। আরেকটি কবিতার কথা (জলে ভাসিয়েছে ফুল) বিশেষভাবে বলা যায়, যেখানে পুষ্পস্রোত সুর হয়ে আসে,একটি লক্ষ্যচ্যুত মাছ কোঁচবিদ্ধ হয়ে উঠে আসে একটি কুসুম। এভাবেই সৌন্দর্যের, অযৌক্তিক কবিতাবিশ্বের একট গাঢ় পরম্পরায় আমরা রাশেদুজ্জামানের যাত্রা পথের সাক্ষী হয়ে উঠতে থাকি। কবিতার নানান বৈচিত্র্যে তিনি আমাদের প্রবেশ করান, কোথাও আমরা আনন্দ পাই, কোথাও পেয়ে উঠি না। বইটির মধ্যখানে এমন অনেক কবিতাই আছে, যেখানে ছন্দকে ব্যবহার করা অযৌক্তিক মনে হয়েছে। অযৌক্তিক কারণ, কবিতা ছন্দকে নিয়ন্ত্রন করবে, ছন্দ কবিতাকে নয়। ছন্দ কবিতাকে নিয়›ত্রন করার ফলে, ‘শিরোপা জয়ের স্মৃতি’ থেকে শুরু করে ‘বকুল বকুল’ পর্যন্ত কবিতাগুলো প্রগাঢ় কবিতার কোনো মূর্তি পায়নি বলেই মনে হয়(অথচ সেসবের অধিকাংশের আকাক্সক্ষা প্রগাঢ় কবিতার দিকেই)। এর কারণ বোধহয় এটা যে,কবিতাগুলোর যে ভাববস্তু, তাতে পয়ার বা অন্যান্য ছন্দতে তারা উদ্ভাসিত হয়ে উঠতে পারেনি, মূল কবিতাটার চাইতে ছন্দের শরীরটাই বেশি বোঝা গেছে এবং সন্দেহ নেই, ছন্দের সেই শরীর কবিতাগুলোকে কোনো না কোনোভাবে নিয়ন্ত্রন করেছে। এটি কবির জন্য তো বটেই, পাঠকের জন্যও বেশ হতাশার। অনেক উদ্ধৃতিযোগ্য পংক্তি আছে ঐ কবিতাগুলোর মধ্যে কিন্তু তার সাথে সাথে এও সত্য যে, কবির যে সাবলীলতার ইংগিত আমি একটু আগে করেছিলাম, তাও বেশ ক্ষুন্ন হয়েছে। ছন্দের সাথে কবিতার ভাববস্তুর সম্পূর্ণ ঐক্যতান না ঘটলে যে অভিজ্ঞতা হয় পাঠকের, এই কবিতাগুলোর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সেরকমেরই ।
বইয়ের শেষদিকে গদ্যকবিতাগুলোর দিকে তাকালে এই সত্য আরো প্রকট হয়ে ধরা দেয়। গদ্যকতিাগুলোতে আবার রাশেদুজ্জামানকে এতোটাই সাবলীলভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে দেখি, যেখানে অভিজ্ঞতা থেকে অনুধাবন, কল্পনা থেকে প্রজ্ঞায় পৌঁছাতে তাকে খুব বেশি কসরৎ করতে হয় না। বরং এই কবিতাগুলো যেন এই কবির নিয়তি, এর ভাষা আমাদের এরকমই বলে দেয়। ‘রূপসী হরিণরি ছদ্মবেশে মৃত্যু এসেছিলো’ কবিতায় তিনি যখন বলে ওঠেন, ‘চিরকাল শুন্যপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার নাম স্নান’ তখন তাঁর কবিতার যে জগতের মধ্যে আমরা বসবাস করছি, তা যেন আরো স্পষ্ট ভাবে আমাদের কাছে প্রতিভাত হতে শুরু করে। গদ্য কবিতাগুলোতে কবির এই যাত্রা এরা গাঢ়তর বোধের দিকে আমদের পৌছে দেয় যখন আমরা এর ভাষার দিকটাকে একটু বিশেষভাবে লক্ষ্য করি। দেখা যায়, কী এক আশ্চর্য যাদুবলে ভাষা তৈরী হচ্ছে, নিরবতা যেন তার রক্ষাকবচ। ‘আমার স্মৃতির ভেতর তোমার হিমডানা আমি টের পাই , মেঘ’(মেঘ)--মুহূর্তেই তৈরী হয় ভাষা, এক আশ্চর্য টানে পুরো কবিতাটাই আমাদের পড়িয়ে নেয় এবং পাঠ যখন শেষ হয়, ‘যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর এমন বৃষ্টি নেমেছিরো, মনে পড়ে’ এই পংক্তিটি দিয়ে, তখন, এই ‘মনে পড়ে’ শব্দদুটির কাছে এসে আমরা যেন আরো নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ি।এক আশ্চর্য মুহূর্ত তৈরী হয় তখন, সে মুহূর্তটি আমাদের অন্যতর স্নানে সিক্ত করে। খুব উল্লেখযোগ্য ঘোড়া কবিতাটি, যার সুর , চারুদক্ষতা মনে রাখার মতো।
রাশেদুজ্জামানের ক্ষমতার মূল দিক বোধের প্রগাঢ়ত্বে,বহুরৈখিকতায়, সুর সৃষ্টিতে এবং চারুদক্ষতায়। কবিতার সব আয়ুধই তিনি বহন করবেন, এ তার কষ্টকল্পনা। সেসব ছাড়াও যে একদম নতুনভাবে ভেবে নিয়ে কবিতা লেখা যায়, এবং তা যে গ্রহনযোগ্য ও হয়ে ওঠে-- এই গ্রন্থ সেটারই প্রমাণ। কবি হিশেবে এই সত্যটুকু মনে রাখা, বোধকরি,তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

পাখি ও প্রিজম।। রাশেদুজ্জামান।। প্রচ্ছদ: তৌহিন হাসান।।প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স।। মূল্য: ৮০ টাকা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28801741 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28801741 2008-05-23 13:28:55
প্রতিষ্ঠিত লিটলম্যাগগুলো লেখকসম্মানী দেয় না কেন?
এই লিটলম্যাগগুলোর মধ্যে পত্রিকা বিক্রি করে লাভ করে, এমন লিটলম্যাগ কম হলেও নগন্য নয়। আমরা সবাই তাদের চিনি। এখন প্রশ্ন হলো তাঁরা পত্রিকা করে 'খাবেন' কিন্তু লেখকদের সম্মানী দেবেন না, এটা কেমন কথা ?

আমার মনে হয়, লেখক সম্মানী দিলে একজন লেখক আরও দায়িত্বশীলভাবে নিজের কাজটুকু করতে পারেন। বা সম্পাদক সেটা করিয়ে নিতে পারেন। আবার, লেখকরাও কি সবার কাছ থেকে টাকা নেবেন নাকি? আমার মনে হয় কোনো লেখকই তা করতে যাবেন না। কিন্তু যারা লেখকের কাছ থেকে লেখা নিয়ে লাভ করেন, অথচ লেখকের প্রাপ্যটুকু দেন না, তাদের কছে টাকা চাওয়া যেতে পারে।

আমার জানামতে ব্লগে এখন তিন/চারজন লিটলম্যাগ সম্পাদক, লিটলম্যাগ এ লেখেন- এমন অসংখ্য লেখক আছেন। তাঁরা প্রাথমিকভাবে কী বলেন, এখন সেটাই দেখার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28800898 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28800898 2008-05-21 15:00:39
রাশেদুজ্জামান এর গ্রন্থ 'পাখি ও প্রিজম' থেকে কয়েকটি কবিতা




পথে পথে দিশে দিশে রাষ্ট্র হয়ে গেছে
আজ বৃষ্টি হবে, আজ সকলের অবসর।
আমিও বাতাসে চুলের আভাস আশা করে
জানালা খুলেছি কফির ধূসর ধোঁয়া থেকে ;
পাখি হয়ে ওড়ে ঝরাপাতা
ঝরাপাতা হয়ে ওড়ে পাখিস্মৃতি।

মনে পড়ে, পাখি, কবে ভেঙেছিলো ডানা ?

২.


এত শব্দ এত গান হাওয়ায় হাওয়ায়,
জানতে চেয়েছি শুধু, মনে রাখবে কি ?
হায়, ও তো বড় বিস্মৃতিপ্রবণ !
আর জল ! ...সব কিছু ছায়া ফ্যালে জলে ;

জল ধরে রাখে কার মুখ
বাতাসের ঢেউয়ের নিচে, খলবল তরঙ্গের নিচে
অকম্পিত, স্থির ?

শুকনো পাতার মতো আর্তি শুধু ঘুরে ঘুরে
ঝরে পড়ে আবহমান দিবস জুড়ে, চূর্ণ হয়,
বিচূর্ণিত এই অশ্র“পাত ভেবে নাও ফুল।

তবু আজ জেনে নিতে চাই, কার মুখ
কার মূর্তি জেগে আছে, জলের ভেতর কার কণ্ঠস্বর ?

পড়ে আছি আমি—কোনো স্থাপত্যের ভুল, অসংলগ্ন বাহু !

৩.



অনেক অনেক রাত্রি, এখন যে-কোনো শব্দ ভৌতিক।

চাঁদের নিচে জ্বলছে শাদা ধোঁয়া
আর রাস্তা জুড়ে বাতাসের পদচ্ছাপ।
এখন প্রাঙ্গণের নিঃসঙ্গ দেবদারু কী অবাস্তব, উদ্ভট !

তোমার গান হেঁটে গ্যালো নিজের সামনে দাঁড়ানো
মগ্ন, একাকী পথিকের মতো,
সুরের ভেতর মৃদু গল্পাভাস রেখে
সরে গেছে শব্দ, মাঝপথে, চুপচাপ।
অনেক গল্পের প্রতিশ্র“তি ছিলো একদিন
করতলের উষ্ণতায় পরিমাপ করেছিলাম ভাবীকাল।

যে রূপকথা চেয়েছিলাম তার ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী
উড়ে গেছে পৃথিবীর দাম্ভিক কার্নিশ থেকে,
আমাদের ছুঁড়ে দেওয়া বাদামগুলো
পড়ে আছে ইতস্তত, ভিজছে শিশিরে।

অনেক রাত্রি পৃথিবীতে। এখন যে-কোনো দৃশ্য ভৌতিক।

৪.


প্রচণ্ড কম্পনের বিহ্বল রাতেও শান্ত হয়ে শুনতে হয় মানুষের সফলতা—জীবনের হাস্যকর গল্প ডালপালা ছড়াতে থাকে ভেতরে ভেতরে। বাগানে নিরাবেগ বাতি সাপের হিস্হিস্ শব্দে ফুলের ফুটে ওঠাকে দ্যাখে। অথচ সবই একটা তুড়ির মতো : শব্দ কম্পন ঢেউ ; আবার মিলিয়ে যাওয়া। কোনো চিহ্নই নেই বাতাসের গায়ে। বাইরে মৃত্যুর প্রহরা।

অন্ধকারে একটা গাছও এখন আততায়ী। স্পর্শের ক্ষমতা আমরা হারিয়েছি। কেবল পা দ্রুত পালানোর জন্য। কে নেবে তোমাকে ? অরণ্যের কাছে গেলে, জেগে ওঠে কাঠ-চেরাইয়ের নিঃসীম ধ্বনি আমাদেরই মাথায়। সমুদ্র তাই পায়ের তলা থেকে বালুরাশি খশাতে থাকে।

আর্তনাদ কিংবা বিলাপের ভাঁজে ভাঁজেও আছে দম্ভের বিশ্রী সেলাই। দ্যাখো, সমস্ত গল্পেরই জাহাজডুবি ঘটেছে। তীরভূমি খুঁজতে পাঠানো পায়রার ডানার দাগও আকাশে নেই। তবু দীর্ঘ-মাস্তুল জাহাজ আর উদ্ভাসিত বন্দরের গল্পে মুখরিত অবসর। প্রসঙ্গ বদল করে মৃত্যুকে এই ভুলতে চাওয়া... যেন মৃত্যু মরুভূমির উন্মাদ জ্যোৎøায় মুখ-ঢাকা অশ্বারোহী, মিলিয়ে গেছে দ্রুত—দিগন্তে।

চল্কে-ওঠা মদের উচ্ছ্বাস একটু পরে হতাশায় করুণ হবে। তাই, এই রাত্রির প্রবঞ্চক মুঠি থেকে খশে যাবার আগে তোমাকে শান্ত হয়ে বলতে হবে সেই কথা, যা বলার সুযোগ একবারই পাবে !



তোমার কেশগন্ধের কাছে এসে বড় বিভ্রমে পড়ে গেছি। রুটির ওপরে মাখনের মতো গলতে থাকা এক রাত্রির কক্ষে আটকা-পড়া পতঙ্গ—গর্ভরহস্যের কথাই মনে হবে এই অন্ধকারে। আসলে কি তাই, যখন হাজারো দরোজা খুলে আছে ? কাকে বেছে নেবে হাজার পৃথিবীর... পরাক্রান্ত যোনির মতো যারা তোমায় উগরে দেবে, জন্ম দেবে ভাঁড় বিপ্লবী কিংবা ভ্যাম্পায়ারের পৃথিবীতে ?

...এই পৃথিবীই বয়ে নিয়ে যাবে তুমি মানুষের মুখোমুখি এক যাদুকর ! ...ভাবো। কত বিপ্লবীকেই তো দেখলাম, রূপান্তরিত হয়েছে পেটমোটা ভাঁড়ে। কত প্রেমিক পেলো কুকুরজন্ম মুহূর্তেই, কত সমকামী আঁধারপায়ী আরশোলা অবশেষে। বিপরীতও আছে বটে। খোজা ও বেশ্যার সঙ্গমেই জন্মাচ্ছে আজ মানুষের রূঢ় ব্যাকরণ ও বর্ণমালা ? ...মনে রেখো।

কেশগন্ধ থেকে কেশের মূলে পৌঁছুতে কত বাকি, কত বাকি পুরো তোমার মুখোমুখি হতে। তার আগে কত হাজার দরোজা পার হতে হবে। প্রতিটি শব্দই যাদুকরী। আমার কলম মৃত বাইজীর রেখে যাওয়া সেই ঘুঙুর আজও, যে বিশ্রাম নিচ্ছে এখনও, লালসা ও লাঞ্ছনার ইতিহাসের মধ্যরেখায়।

তোমার কেশের মৃদুগন্ধ নাকে এসে লাগছে। অনিবার্য উচ্চারণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি আজ। সব উচ্চারণের পাশেই ভয়াবহ খাদ। পতনের ভয় আছে। তেপান্তর ছুঁয়ে আসা গল্পকে বয়ে নেবার জন্য অন্তত এক জোনাকিজন্ম চেয়েছি। আছে প্রতিশ্র“তি ভুলে ঘুমিয়ে পড়ার ভয়। ভ্যাম্পায়ার ও ভাঁড়ের সাথে বাদানুবাদের আগেই ঘটে যেতে পারে চতুর মেটামরফোসিস।




আকাশের ঈগলডানার নিচে তোমরা পাঁচ দস্যু যখন অন্ধকার ঢেউয়ের পাটাতনে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছিলে, তার আর্তনাদ আমার জানালা ছুঁয়ে ফিরে গেছে। বাতাস-তাড়িত ডালের মতো কেঁপে কেঁপে শার্সির কাছে এসে এই ফিরে যাওয়া আমি তো দেখি নি। সকালে নিদ্রাভঙ্গে দেখেছি জানালার কাচে সূক্ষ্ম ফাটল আর ফোঁটা ফোঁটা বেগুনি শিশির।

নভেম্বরের এই আশ্চর্য শীতের ভেতর পৃথিবীর শেষ পর্ণমোচী অরণ্যে সে নিদ্রায় বৃত হয়ে আছে। ভাঙা প্রতিমার মতো স্বেদ-রক্ত-ক্ষত স্তনে লেগে আছে শিশিরের মতো জ্যোৎøা, সারা শরীর ঢেকে আছে ঝরাপাতার শুশ্রƒষায়।

আমি জানি দ্বিতীয় রাত্রিতে তোমরা আর তাকে পাবে না। এতদিন ধরে চন্দনকাঠের যে আশ্চর্য কফিন আমি বানিয়েছি সে তো আজ তার জন্যে... বোন...। আয়োজন ছিলো মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার জন্যই। আর এখন সমস্তই সেতু অতিক্রমণের ভয়াবহ গল্প—পার হওয়ার আগে যে সেতু আমাদেরকেই জোড়া-তালি দিতে হয়েছিলো, তারপর এই অপটু ভারসাম্যময় দুর্বহ অতিক্রমণ।

এদিকে যারা আওয়াজ তুলেছিলো তাদের সঙ্গে মিশে তোমাদের পাঁচটি মুখ পাঁচশো হয়ে গ্যালো। আর পরশু আদালতে আমার ভাইয়েরা যা বলবে অর্থাৎ দ্বিতীয়বার সেই ভয়ঙ্করতা। দ্যাখো, একই পাতকুয়ায় আচমন শেষে আমরা সবাই আহারে বসেছিলাম আর আহারতৃপ্ত ঢেকুরে একই খাবারের ঘ্রাণ !

কিন্তু অভিযোগনামায় আমার নাম তো নেই। জানি। তবু বড় করুণার মতো মনে হয়। কেননা তার আর্তনাদের ঢেউ আমার ঘুমের নৌকা ছুঁয়েছিলো, তারপর ফিরে গেছে বিপরীত টানে। কোন সে চোরা স্রোতের নিঃশ্বাসে ভিজেছে শয্যা !

সিক্ত বিছানায় বসে দেখি চন্দনকাঠের সে কফিন ভেসে যায় দূরে অতলান্তিকে...। তার পরিত্যক্ত রক্তাক্ত বস্ত্রের ভার মেঘে মেঘে আকাশের গায়ে। ভগ্ন-বৃদ্ধের মতো লাঠি ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছে রাত্রি। আমার মতো তার কীসের প্রতীক্ষা ?

৭.
বিশদ নির্দেশ-ভরা বসন্তের চিঠি আমিও পেয়েছি উল্কাবৃষ্টির রাতে। অথচ এমন রাত্রে শব-বাহকের গাড়ি এসে থামে পেছনের বিশাল মাঠে। সাথে আসে সাংবাদিক, খুনি ও ডাক্তার। একসাথে বসে মদ্যপান করে চলে যায় খুব ভোরে। সকালে কেবল বালকেরা দ্যাখে শ্যামা ও শকুন, কাক ও কাকাতুয়ার পাখনা-পালক একাকার হয়ে আছে মাঠে।

মহানিমগাছ শুদ্ধ করে রাত্রির বাতাস। অগণন জোনাকির মতো মৃত্যু আলো জ্বালে, নক্ষত্রের বিভাময়। পোড়ামাটির ভাঙা খিলান-গম্বুজের এক মৃতদের শহর জেগে ওঠে—পাওয়া যায় তবু রাজকুমারীর কড়ে আঙুলের নখ।

আড়-চোখে প্রান্তরের দিকে চেয়ে ত্রস্ত শৃঙ্গারের শেষে যারা ঘুমিয়েছে, তাদের নাসিকা-গর্জন ঢেউ তুলে ফের ডুবে যায়। সকলই আশ্চর্য সহজ। আমাকেও ডাকে ফেননিভ নারী, মেঘময় অনুচিত শয্যায়। মনে পড়ে, কারো হাত আর্ত চড়–ই... কিছু পরে ঘেমেছিলো ! সেই ঘাম ফিরে এলো কৃষ্ণাতিথির মৃত জ্যোৎøায় নধর পাতার পিঙ্গল ঘ্রাণে !

এই তো রাত্রি, উল্কাবৃষ্টির সৌর আতসবাজি ! বিশদ বসন্তের ষড়যন্ত্র ! এই তো সেই রাত্রি, স্বর্ণমুদ্রাভরা রহস্যের কলশেরা নেমে যাচ্ছে কালসর্পের প্রহরায় সমুদ্রের দিকে। লবণের ঘ্রাণ ডেকে আনে স্বভাবের বিচিত্র আয়োজন। বসন্ত, হে লবণবাহী হাওয়া, অবগাহনের সাধ জেগেছে আমারও !

আমি তো নামছি রাতভর, নক্ষত্রের বারান্দা থেকে পাতার পিঙ্গল দেহে শিশিরের মতো অবলীন হতে !

৮.

সমস্ত গুপ্ত চিঠিই ধরা পড়েছে। এখন অসংলগ্ন বাক্য আর ভুল বানানের জন্য লজ্জার কোনো মানে নেই। মৃতদেহবাহী শকট ছুটে যাচ্ছে সকল কুয়াশাতন্তু ছিঁড়ে। রাজপথ জুড়ে ফুটে থাকা রক্তজবা আর তাদের অভিনন্দন জানাতে আসা সবুজ রোদ্দুরের কথা পুরনো চুইংগামের মতো বিস্বাদ। প্রতিশ্র“ত আঙরাখা বানানোর আঙুলগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। ...এ সমস্তই বিষয়বস্তু। আমরাই এবার এসব নিয়ে মেতে উঠবো। টিকিট হারানো যাত্রীর অসম্মানের উদ্বেগ নিয়ে আত্মগোপন যেন। ধরা পড়ে গেলে নির্ভুল ঠাট্টার সূঁচ দু’চোখে গেঁথে ঘুমোতে যাবো শেয়াল-বেষ্টিত অরক্ষিত গোরস্তানে।

৯.
আমার স্মৃতির ভেতর তোমার হিমডানা আমি টের পাই, মেঘ। সেখানে গুল্মের অরণ্যে নিভে আসা সূর্যবেলায় এক ঋজু দেবদারু তোমার সাথে নিঃশব্দে কথা বলে। ছড়িয়ে দিতে থাকে ভেজা নিঃশ্বাস আর বিগত শতাব্দীগুলোর প্রাচীন গন্ধ। আমার সকল ব্যর্থতা সেখানে গাছ বেয়ে ওঠা পিঁপড়া ; সর্বদাই নতুন খাবারের সন্ধান করে। আমার তো ডানা নাই, ডানা ঝাপটানোর হাওয়া বুকে লাগে তবু। দেখি ডানায় ডানায় রোদশিশুদের লুকোচুরি খেলা, রোদকিশোরীর ব্রীড়ানত মুখ। মেঘ, তুমি ওড়ো। শুধু বৃষ্টি আমি চাই, কাজ শেষে ত্যক্ত কাগজের ভেসে যাওয়ার সময়।

যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর এমন বৃষ্টি নেমেছিলো, মনে পড়ে।

১০.

কল্পনায় যাদের হত্যা করেছি, পথে তাদের সাথে দেখা হলে কী রকম বিব্রত লাগে। অকস্মাৎ মৃত্যুরই মুখোমুখি হলাম আর কি ! অসহায় একাকিত্ব থেকে ভীতি আসে। তখন দু-একটা অস্বস্তিকর প্রশ্নোত্তর দেবার ভঙ্গি করে দাঁড়িয়ে থাকে একটা জড় প্রচ্ছদ। আমি দ্রুত পালাতে থাকি। পালাতে পালাতে আবার তাদের সাথেই দেখা হয়ে যায় যদি, এই ভেবে কুঁকড়ে আসে পায়ের ক্ষমতা। আর পেছন থেকে সারাক্ষণ কেউ নাম ধরে চিৎকার করছে।

কোনো এক জন্মে নির্জন উপত্যকার পথে কিংবা জনমানবহীন কোনো চরে একদিন তাদের আমি হত্যা করবো। রক্তের ফিন্কি-ধোয়া হাত-মুখ মুছে নিতে যাবো বোধি-অন্ধকারের কাছে। যাতে রক্তচিহ্নগুলো ম্লান হয়ে ফুটে থাকে, উগ্র না হয়। একটিবার বাঁচবার জন্য হত্যা ও মৃত্যুর কত প্রয়োজনীয় আয়োজন ছড়ানো আছে। আছে পালানোরও যথেষ্ট রীতি-কানুন।

কিন্তু সব শিখেও মৌলিক অপটুতা ধরা পড়ে প্রতি পলে, চিনিভ্রমে কর্পূর মুখে তুলবার মতো। শিশু ও বৃদ্ধের সাথেই কেবল বন্ধুত্ব হলো ! অপ্রকাশের ভার নিয়ে বোবা যে বিচ্ছিন্ন গাছ জানালার পাশে আমার ঘুম পাহারা দেয়, সে-ই দ্যাখে কত গূঢ় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলো স্বপ্নে, ফাঁকি না দিয়ে কতজনার সাথে মুখোমুখি তর্ক হলো !

১১.
হযরত খোয়াজ খিজির নামের কোনো বৃদ্ধকে চিনি না যিনি জলের অধিপতি। তবু দেখতে পাই সমুদ্রের নিচে তার ঘর। শুভ্র অস্থির ফেনার মতো তার দাড়ি আন্দোলিত। মেঘের মতো গুমগুম করে তার কণ্ঠস্বর, শান্ত। জল-অট্টালকের মুহূর্তের সিংহাসন থেকে তার নির্দেশ আসে, আর সুমাত্রা কি জাভা কি লংকার তট নেচে ওঠে, ধেয়ে আসে লক্ষ লক্ষ পাগলা হাতির দঙ্গল। ওপরে মেঘে ও কজ্জলে মাখামাখি আকাশ নির্মেঘ, স্তব্ধ ; নিচে কূলে ও অকূলে সকলের নির্বাণ !

সেই শৈশবেই জেনেছি এমন কেউ কেউ আছে যারা পান চিবুতে চিবুতে অনায়াসে চলে যায় তার কাছে। তারা মেহমান হয় জলের সাম্রাজ্যে। জলের গভীর হতে তাদের কাছে চলে আসে শাদা রঙের ঘোড়া সেই পূর্ণিমায়, যেদিন মানুষের মনও সেই ঘোড়ার ফুলে-ওঠা কেশরের মতো অস্থির হয়, কথা বলে ওঠে মরে-যাওয়া পাথরও !

আমি তো শৈশব থেকেই তাদের ঈর্ষা করি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আমার দীর্ঘশ্বাসের ভেতর জন্ম নেয় একটা কালো সমুদ্র। তার নোনা জলের শুভ্র উল্লাস আমাকে বার বার উগড়ে দেয় বেলাভূমিতে লাল কাঁকড়ার মতো যতবার ভেতরে ঢুকতে যাই। আমি তাই অশ্ব কি অশ্বতর, কোনো বাহন ছাড়াই নিজের ভেতরে প্রবেশ করি, সেই খোয়াজ খিজিরের সন্ধানে যার নির্দেশে সর্বস্বই ভেসে যায়, আর পরক্ষণেই যে হায় হায় করতে করতে সব কিছু জুড়তে বসে।

১২.
গাছের কোটরে ঘুমিয়েছিলো একটা সাপ। স্বপ্নে দেখলো সে রূপান্তরিত হচ্ছে একটা গাছে। দেখে প্রচণ্ড ভয়ে তার ঘুম ভেঙে গ্যালো, জেগে কোটর থেকে বেরিয়ে সামনে পেলো মন্দিরের পুরোহিতকে। বটগাছটা ছিলো একটা কালি মন্দিরের সামনেই।

কিছু বুঝে উঠবার আগেই পুরোহিতকে দংশন করলো সাপটি। হতভম্ব পুরোহিত সাপটিকে বললো, এই প্রতিদান দিলি ! কী করলি তুই !

সাপ বুঝতে পারলো কী করেছে সে ; বললো, আমার চারিদিকে ঘুমের দেয়াল। এই দেয়ালকে প্রতিদিন আমি লেহন করেছি। আমাকে এই দেয়াল পিষে ফেলতে চেয়েছে আজ।

‘বিশ্বাসঘাতক ! (...হায় ঈশ্বর আমি কি বিশ্বাস হারাচ্ছি ?) আমাকে কামড়ে দিলি তুই !’
‘দেয়ালটাকে আমি আজ ভাঙতে চেয়েছি। অসহায় দংশন ছাড়া তো কিছুই জানি না। ...ভুল করেছি আমি। ক্ষমা করো।’

পুরোহিত ভাবলো, দেবতা তো এ ভাষায় কথা বলেন না। সাগরের তলায় ছোট্ট যে নুড়ি, তার ভেতরেও গোপন চিঠির মতো লুকিয়ে থাকে লক্ষ বছরের ফিকে হয়ে আসা গল্প, তেমনি এই সরীসৃপের গায়ে যে চিত্রল নক্শা সেখানেও আছে হয়তো দেবতার প্রযতœ, সাশ্রয়ী ভালোবাসার ইতিহাস। পুরোহিত ওকে ক্ষমা করলো। বললো, তুই কোটরে ফিরে যা।

সাপটি ফিরে গিয়ে ঢুকতে চাইলো ঘুমের ভেতরে পুনরায়। কিন্তু সাপের স্বপ্ন ও আতঙ্ক জেনে ফেলেছে সেই বটগাছ। তাই, তখন তার শীর্ষ আন্দোলিত হল মৃদু। মরে-যাওয়া কয়েকটা পাতাও ঝরে পড়লো এলোমেলো।

বুঝতে পেরে চিরপুরাতন আশ্রয় ছেড়ে পুরনো এই প্রাণীটি বেরিয়ে পড়লো বাইরে। নিরাশ্রয়ের যন্ত্রণায় আশ্রয় কোনোদিন আন্দোলিত নয়। সাপ দেখলো পৃথিবী জুড়ে চলার পথে পথে ফুটে আছে শুধু বিষণœ কৌতুক।

১৩.
সন্ধ্যা শেষের গলিতে দাঁড়িয়ে পাটল রঙের ঘোড়া। পিঠে তার ডানা নাই। দূর অতীতের আরবি ঘোড়ার এদেশি সহোদর, খর্বকায়। বাঁকানো শরীরে চাবুক আর ভারবহনের ক্লেশকর দাগগুলো কেউ একদিন হয়তো ঠিকই দেখতে পাবে। হ্রেষা নাই, চুপচাপ। আমি চিনতে চেষ্টা করি : ঘোড়াই বটে।

শুনি মধ্যরাতে তার হ্রেষা অকস্মাৎ ! আমাদের সুপ্তিঘোর চিরে লক্ষ-কোটি ঘোড়ার হ্রেষা তার সাথে একযোগে ছুটে চলে, ছুটে চলে রঙিন কাগজে বাঁধাই-করা বইয়ের মতো নিয়তির নানা মাঠ-বাট পার হয়ে...। সমস্ত নিয়তির শেষে পৌঁছানো যায় এখানে, এই প্রান্তরে, ঘোরলাগা পূর্ণিমায়। পড়ে আছে অশ্বের শাদা হাড়গোর। আর সর্বশেষ মীমাংসার শেষে যেন, অভিজ্ঞ শকুনেরা পাহারায়। তাঁরা বলে : ‘ঘোড়ারা পয়দা করে কেবলই ঘোড়া’।

মাঠের ওপারে সেই আয়ুবৃক্ষ। তার নিচে বসে আছে প্রবীণ শকুন। পাতা ঝরানো আর নাম-ঘোষণা এখন তারই আয়ত্তে। ঘোড়দৌড় তার খুব প্রিয়। সে বলে : ‘ঘোড়া দৌড়ায় জোরে... খুব জোরে। ঘোড়ার দলেই থাকে গাধা ও খচ্চর ; তারা দৌড়ায় না, হাঁপায়। দেখে সুখ আসে।’ এ সময় আয়ুবৃক্ষ হতে একটি পাতা ঝরে পড়লে সে ব্যস্ত হয়।

আমাদের উড়িয়ে নিতে চায় ফের তুমুল হ্রেষারব। দেখি কোটি কোটি অশ্বের অভিযান টলায়মান চাঁদের নিচে। জগতের সমস্ত আস্তাবল ভেঙে, কবিতা সঙ্গীত বা পটচিত্র থেকে, ক্যালেন্ডারের পৃষ্ঠা থেকে, রাত্রির তালাবদ্ধ সব চিত্রশালা পিছে ফেলে, প্রাচীন গুহার প্রস্তরিত অন্ধকার থেকে, ক্যানভাসের সদ্য-সমাপ্ত ছবি থেকে, অশ্বাসীন বীরের ভাস্কর্য থেকে বীরকে ভূলুণ্ঠিত করে ছুটে এসেছে সব ঘোড়া অদম্য অদ্ভুত দুর্বিনীত উল্লাসে...। তারা ছুটছে নির্বাধ স্রোত। উত্তেজনাবশত আমি চড়ে বসতে যাই। দেখি নিচে কাতরাচ্ছে সঙ্গিনী, এক ভয়ার্ত মাদী-ঘোড়া... গলায় আটকে গেছে হ্রেষা !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28792931 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28792931 2008-04-30 18:48:47
বিজয় আহমেদের বই থেকে কয়েকটি কবিতা বিজয় আহমেদ কখনোই আমার বন্ধু নয় (কবিতে কবিতে বন্ধুত্ব অসম্ভব)। কারো কবিতা ভাল লাগতে হলে বন্ধু হবার দরকার পড়ে না। বিজয়ের প্রথম বই ‌`সার্কাস-তাঁবুর গান' প্রকাশিত হয়েছে গত বই মেলায়। সে বই থেকে আমার কিছু ভাল লাগা কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করা যায় বলে মনে হলো।



ভাষা

আর কতো যাদু যে দেখাবে, বলো?
আমি তো ঘাসফুল হয়ে আছি, এ নীলচে পৃথিবীতে!
আমার বুককে বানিয়েছি ধাঁধার শশ্মান, যেখানে
অজস্র ঘাসের হুল্লোড়;
আর যেসব ঘাসফুল দেখে, তুমি
বোকা পর্যটক হয়ে যাও,
তা আমার ইশারাহাসি,
তা আমার শৈশবের উদভ্রান্ত নীলিমা,

আর যে নদীটাকে দেখো তুমি,
সোনার খনির পাশ দিয়েই বয়ে গেছে, রোমহর্ষক জ্বরে ভুগে ভুগে
কোল্ডড্রিঙ্কস হাতে,
সে আমার স্বপ্ন, সন্তান, আর সম্ভাবনা!

আমি তাকে মুনিয়া পাখির মতো পুষেছি
তুমি কি বোঝো তার ভাষা, গুপ্ত-ইঙ্গিত, বলো?

ধান

পাখি তাড়াই বলে আমার বন্ধুটি গ্রামপুলিশ হয়ে যায়!
তখন সে হেসে উঠলে বলি, দোস্ত হাসিস না,
আমার বাবা ভয় পেয়ে যাবে!
কেননা এক ধানের দিনে, তোর মতই এক পুলিশ
তার চতুর ভাষায়, সোনালী বাঁশির ভূতগ্রস্ত সুরধ্বনির মায়ায়,
শুনিয়েছিল জিপসীদের গান

পাখি তাড়াই বলে, দোস্ত, তুই যতই
গ্রামপুলিশ হয়ে উঠছিস, ততই আমি ভুলে যাচ্ছি গান, আর ভুলে যাচ্ছি
আজ ইভনিং-এ সিনেমা দেখার কথা ছিলো?

পাখি তাড়ানো বন্ধু আমার, জানি না
তোর চোখের ভাষায়, ইঙ্গিতে, কেন এতো বিদেশ-বিদেশ?



ফড়িং ও আমি

আমি আসলে ফড়িং পছন্দ করি;
ছোট্টবেলায় অনেকগুলো দুপুর ও সূর্য কাটিয়েছি আমি
ফড়িংয়ের পিছু দৌড়ে

কিন্তু কেন যেন ওরা আমাকে একদম পছন্দ করতো না!
ওরা কথা বলতো ঝোঁপঝাড়ের সাথে,
ফলে আমি, ঈর্ষা করতাম ফড়িং ও তার বন্ধুদের!

আর ভাবতাম বড় হয়ে যখন আমি
লাল রঙের টাইমফেল রেলগাড়ি হবো
তখন ওদের পাত্তাই দেবো না!

আনন্দ

জবাফুলই নাকি আনন্দ!
এমনটাই বললো এক লাল-মোরগ; বলেই,
সে কী হাসাহাসি গো!
আর কী লুটোপুটি মার্বেল-ধুলোয়, ৬ ফুট ১ ইঞ্চি দাদাবাবুর ছায়ায়?
তাই দেখে মনে হলো
এক্ষুনি হই তবে জবাফুলের ছেলে?

আমার মা হবে আনন্দ তখন
আর আমি হবো সরলা হাসাহাসি গো!

হাসাহাসির গল্প

দাদা, আজ বড়ো বেশি হাসাহাসি হলো!
আমরা বললাম, প্রেম হবে। অথবা সমুদ্র-ভ্রমণে যাবো।
মেয়ে-হলের সামনে দাঁড়ানো আমার বন্ধুটি
একটা আর্টফিল্মে দেখা বনভোজনের গল্প শোনালো।
শুধুই শুনলাম আর ভাবলাম, আজো
বাইসাইকেল থিফ দেখা হলো না, অথচ বাবা ও ছেলের মধ্যে
যে বৃষ্টিময় গুহাগুলো চিরদিন লুকানো থাকে,
তাদের ইশারাহাসিও কি দেখেছি কোনোদিন?
ইশারাহাসি, অথবা এইসব অদ্ভুত রসায়নের কথাও নাই-বা বললাম;
বলি, বন্ধু নষ্ট হয়ে যাচ্ছি। হাসতে পারছি না
আগের মতো। বাসে উঠে নিরীহ মানুষজনকে
জোকসও শোনাতে পারছি না!
অথবা বলতে পারছি না,
আর কতদিন পরে,
বাঁকের ভিতর হারিয়ে যাওয়া নির্জন গ্রামে যাবো?
অথবা একটা পাখির নীলচে ডিমের ভিতর
উত্তুঙ্গ নৃত্যের ধাঁধায় পথ হারাবো?


সার্কাস-তাঁবুর গান

সার্কাসের অতিকায় তাঁবু দেখে আমার ভিতর
বিষাদ জেগে ওঠে;
মনে হয়, এই বুঝি অখণ্ড ভারতবর্ষ,
যেখানে একদল কাকতাড়–য়ার সাথে
একটা পা-খোঁড়া বাঘ ও বামনের সম্পর্ক;

যা খুবই রহস্যময়,
আর এই রহস্যের চূড়ায় ওঠার জন্যেই, কতগুলো মানুষ
বৃষ্টিময় টিকিট কাটছে।

আর এই সম্পর্কের যাদুর কারণেই,
কয়েকজন মানুষ আজ ব্ল্যাকার;

তারা টিকিট টিকিট বলে চিৎকার করে উঠছে
সিনেমার ভিলেনের মতো

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28790081 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28790081 2008-04-22 10:34:38
একটা ইসলামী ব্লগ হলে কেমন হয়?
ব্লগে আমরা প্রতিদিন একটি সুরা শিখতে আসি না, নামাজ ঠিক মতো পড়েছি কী না তা জানাতে আসি না। আসি কিছুটা রিক্রিয়েশন এর জন্য। ধর্মচিন্তার আলাদা ক্ষেত্র আছে, আমরা যারা সাধারন মানুষ, আমাদের বুদ্ধিবিবেক বলে, সব ঢোল এক জায়গায় বাজাতে হয় না। তারপর ও বাজে। আমরা যারা নিজেদের বন্ধুবান্ধবদের ও জিজ্ঞাসা করতে পারি না আজকে নামাজ/কোরআন পড়েছে কীনা, সেখানে কিছু অপরিচিত মানুষকে সবসময়ই জিজ্ঞাসা করতে ভালোবাসি। যাক, যার যা রূচি।

কিছুক্ষণ আগে দেখলাম, এক ব্লগার ব্লগের রেটিং সিস্টেমের বিরুদ্ধে লিখেছেন, মেয়েদের রেটিং অবশ্যই ছেলেদের রেটিং এর অর্ধেক হতে হবে। কারণ? ইসলাম বলেছে। তারও একটু আগে দেখলাম, ব্লগে যে ধর্মীয় পোস্ট আসা উচিত, সেটা একজন খুব যৌক্তিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এদের কারোর বিরুদ্ধে বা পক্ষে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু এদের সবার কাছে একটা আর্জি আছে: আপনারা দয়া করে একটা ইসলামী ব্লগ খুলে নেন। সেখানে যার যত কুলায়, তত বড় মুসলমান হতে পারবেন। আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তারা আপনাদের জ্ঞানগম্যি দেখতে ব্লগে আসি না, কেননা, ধর্ম চিন্তা ছাড়াও আরো দরকারি চিন্তা পৃথিবীতে আছে এবং পারি বা না পারি আমরা সেগুলোর অংশ হতে চাই। ইসলামি ব্লগ খুলে নিলে আপনাদের অবশ্য লাভ ও আছে অনেক, আপনাদের মতের বাইরে কেউ কথা বলতে আসবে না,কেউ আপনাদের বিরুদ্ধে বলতে যেয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে বলে ফেলবে না এভং সবচেয়ে বড় ব্যাপার, আপনারা নিজেদের ভূমিতে নিজেরা অপ্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠতে পারবেন।

তাহলে দেরী কেন, নিয়ে আসুন ইসলামি ব্লগ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28787281 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28787281 2008-04-13 01:45:12
অভিজিৎ দাসের বই থেকে আমার পছন্দের কয়েকটি কবিতা
মৃত্যুদিন

কয়েক জোড়া ধূম গতরাতে আমার ঠোঁটে এসে বসল এবং
পান করিয়ে নিল নিজেদের। আমি এ দৃশ্যের কোন যৌথ ছবি রাখি নি
অথবা রাখতে চাই নি। অথচ যখন এক ভগ্নস্বাস্থ্য চোর এসে
আমার দরজায় কড়া নেড়ে তার অভিপ্রায় জানাল, আমি একে একে
সিন্দুকের মধ্যে সাজিয়ে রাখা আমার পূর্বপুরুষের প্রেতগুলো
তার হাতে তুলে দিলাম। সে তৃপ্তির চোখে একদলা আলো
ছুঁড়ে দিয়ে পাতালের দিকে উড়ে গেল- যেখানে তার নিবাস।
আসলে সে ছিল এক ছদ্মবেশী পাখি, যে খড়কুটো চুরি করে
ঘর তৈরি করে, আর আমার পূর্বপুরুষের প্রেতগুলো সব
খড়কুটো ছিল- এ কথা জানলাম আমি আমারও মৃত্যুর পরে।

আজ আমার মৃত্যুদিন; সবার ঘরে একটি করে শ্মশান জ্বলুক!

দুর্ভাবনাময় কাব্য

এখন যে কাগজের পিঠে আমি কবিতা লিখব বলে মনস্থ করেছি
তারই অপর পৃষ্ঠায় গতকালও একটি কবিতা রচিত হয়েছে
এতে করে, এ লেখাটি সম্পন্ন হলে
দুইটি কবিতা পিঠাপিঠি পরস্পর পৃষ্ঠদেশে
ভর রেখে দাঁড়াতে পারবে

তারা কি নিজেদের অনুষঙ্গ, ছন্দ, প্রকরণ, চিত্রকল্প,
উপমা বিষয়ে কথা বলবে একে ও অপরে?
তা বলুক, কিন্তু যদি মুখোমুখি হতে চায় তারা
তবেই তো আমার প্রকাশিত কবিতার সকল বর্ণমালা
উল্টে গিয়ে যে দৃশ্য দাঁড়াবে তাকে পাঠ করতে হলে
প্রত্যেক পাঠকেরই একটি করে আয়নার প্রয়োজন হবে

কিন্তু প্রকাশিত কবিতার সাথে আয়না সরবরাহে
সকলে নারাজ, তাই এ সকল কাব্য নিয়ে দুর্ভাবনায়
কেটে যাচ্ছে দিন- কেটে আসছে রাত!


বাষ্পাকুল অনল বিভ্রম

মূর্ছা যেতে যেতে
ঘাড় ফিরে দেখা
কোন জবারক্ত বিকেলের
দ্যুতিবৃক্ষচ্ছায়ে
ঘুমিয়ে সে
হলুদ রেণুর ফুলে নীলের মর্মর!

পাখিরা ঠোঁটের রক্ত
মুছে নিতে জাগেনি কখনো
অপরাহ্নে দুই খণ্ড চেতনার সুপ্রধান
মেরু বলয়ের গান।

মস্ত এক রক্তপায়ী আপেলের
ফলজ মহিমা
আমাকে যুদ্ধ মহাযানে
তুলে দেখিও না
কতটা ইস্পাতে কতটুকু ধ্বংস
অস্থি মর্মে কে কতটা আততায়ী কার!
মুখাবয়বের ক্ষতগান
ওহ্! ক্রন্দন...
দৈব আরণ্যিক ভোরে জলপাইকুঞ্জে
এক ধূমে অভ্র এ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াত।

কর্কটের ডোবা সূর্য
জলমর্গে অন্ধকার পানরত;
ফের নিদ্রা- রাত্রিকাল
হে অনল,
শ্বাশ্বত অক্ষের টানে
কে কার আততায়ী
মূর্ছা যেতে গিয়ে
ফের ফিরে ঘাড়ে
বজ্রদ্যুতি মেখে গেল অন্ত্রে ও পাঁজরে!

মাতাল

হাত রাখো- পাখি
ডানার গোপনে রাখো হাত
না দিন না রাত

সূর্য ওঠাও-
পতাকার রশি টেনে যেভাবে উড়িয়ে দাও
আকাশে তোমার দেশ

ও কৃষ্ণ, হা কৃষ্ণ
বাছুর চাটছে দেখো
হলুদ পিঠের রাঙাকেশ!

নিঃসঙ্গতার রঙ

একটি গাছ এঁকে
তার ডালে দু’টি পাখি এনে বসিয়ে দিলেই
কি তারা ডেকে উঠবে কিচির মিচির...?

কেউ ঢিল না ছুঁড়লেও
একটি পাখি কিন্তু ঠিক উড়েই যাবে!
অপর পাখিটি বসে থাকবে ঠায়।

তার নিঃসঙ্গতাকে আঁকতে হলে কি রঙ ব্যবহৃত হবে?
নিঃসঙ্গতার কি আলাদা কোনো রঙ আছে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28786217 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28786217 2008-04-08 23:24:14
সূর্যাস্ত মন্দির চাপা পড়ে তারকার অরব জীবন।
পুনর্জায়মান তারা-
রাত্রির আকাশ বয় তার স্মৃতির স্পন্দন।

এখন সন্ধ্যাবেলায় নীরবে সন্ত্রস্ত ওই দেবদারু
গোপনে বন্ধুর সাথে কথোপকথনে রত...
অনেক অনেকটুকু ব্যথা তাই দুয়ারে প্রস্তুত।
দুয়ারে প্রস্তুত আছে জুড়িগাড়ি, তাতে চেপে
মহাজরায়ুর পানে যেসব কলের গান আনমনে গেছে,
সিন্ধুর বেদনা গেছে- তাদেরও ভুলেছি।
পেয়েছি মূর্খের দেশ, নারীর অনন্ত কলরোল
আর স্বপ্নে এসে থেমেছে দানব সেই-
যার ধ্যান সমুদ্র শুষেছে।

সেখানে অঘোর মুক্তা, আকাশের নক্ষত্রবাগান
অস্থির তাবুর দিকে পরীদের ফেলে যাওয়া গান
আমি দেখেছি বা শুনেছিও!
শুনেছি যে, এই শূন্য চরাচরে
উল্কার প্রেতেরা নাকি বসবাস করে-
নীরব প্রস্তর হয়ে তাদের দেহটি পড়ে আছে
প্রকৃতির কূটাভাসে। যামিনী লণ্ঠন নিয়ে
তাদের সামনে এসে কখন দাঁড়ায়, কখন সামান্য বসে
নক্ষত্রের আরেকটু ভবিষ্যৎ শুনে যায়- জানতে পারিনি।

এখন আমার কাছে এই রাত্রি কেবলই বনপোড়া
প্রাণীদের মাংসকাবাবের কটুগন্ধ বয়ে আনে...
বাদুড়প্রাণের আলোড়ন, পতঙ্গের নৈশগুঞ্জন
যত স্থির কানে আসে, ততটাই খুলে যায়
তারা স্বপ্নের আয়নায়, আফিমে আফিমে ওড়ে
নগরদ্বারের মুখে ব্রোঞ্জ ও মুক্তার পাখি।
মস্তিস্কে অঙ্গার রেখে, উড়ে উড়ে, নিজেরই সঙ্গীর সাথে
নিরক্ত চুম্বন সেরে আসে।

এভাবেই চুম্বনসূত্রের কাছে ভালোবাসা ধীরে ধীরে অপসৃয়মান।

নগরের দ্বারে, ভোরে, ফিরে আসে যতবার সেই দুই পাখি
দেখি, আধারে উড়েছে বলে তাদের গায়ের রং আরেকটু বদলেছে যেন!
অজান্তেই বদলায় তাদের শোচনাসুর তাতে
দূরগ্রামে নির্ঘুম সঙ্গীনির হৃদয়বাষ্প আজ তাই
মূর্তিপাখিদের উড্ডীনতা চাপা দিয়ে রাখে!

প্রতিটি শোচনাকথা এভাবেই দিন ও রাত্রির পারাপারে
বয়ে নেয় আমাদের আর করে তোলে হাস্যকর প্রতিটি সম্পর্ক,
বহু যতেœ গড়া মরূদ্যান।

সমস্ত কৃত্রিম ঘড়ি ছেড়ে কোনও বালিঘড়ির নিকটে
সামান্য সময় চেয়ে দেখেছি যে, সে মূলত সূর্যাস্তের গুনছে প্রহর ।
সূর্যাস্ত-মন্দির আর তটরেখা ঘিরে শামুকের প্রাণে
যতটা রচিত হলো নিরবতা,
বালি ও সময় মাঝে উদ্ভিন্ন সংকট কোণ
এসবই কি তার উপঢৌকন?

প্রতিটি শোচনাকথা এভাবে কি দ্বিখণ্ডিত করে যাবে আমাদের
গ্রহপ্রসারের পানে উন্মুখ তাকিয়ে রবে একভাগ
অন্যভাগ রয়ে যাবে পরাজিত শরীরপোশাকে
তা না হলে কে-ই বা ঘুরবে একা একা গোলাকার
স্পষ্ট হওয়া ব্যর্থতাকে ঘিরে!

মাটির ঘরের মত অভিমানী জীবন চেয়েছি
ভেবেছি, দূরবীনে দেখে নেব পতঙ্গের অহোরাত্রি,
বিষাদপ্রস্তর গ্রামে সর্ন্তপণে জ্বলে ওঠে কুঁপি,
কী-বা ভেবে বালকেরা সন্ধ্যাকালে আতাফল চুরিতে বেরয়।
হাওয়ার লাবণ্যমর্ম দমবন্ধ অভিসারে হৃদয়কথাকে আজ
আকাশে অস্পষ্ট কোনো চন্দ্রফসলের দিকে বয়ে নিয়ে যায় ...

সন্ধ্যার আকাশে যদি উড়ে আসে
ফুটফুটে তারার মতো জোনাকীর ঝাঁক-
বলো- নিকটের তারা, কোনদিকে যাবো আমি?
আমার বাহান্ন ডানা আজ কোন গুণ্ঠনে লুকাবো?
উজ্জ্বল পোশাক দিয়ে আমি কি সে পরিখা ভর্তি করে নেব!
নাকি সবকিছু ত্যাগের মুহূর্তে শুধু ঝোলায় উঠাব
অতিচেনা সেই বাস্তুসাপ?
আমি কি নিষেধ শুনবো, তরঙ্গের রাগ ?
শুনবো কি মাল্লারের কথা- ‘যেও না, যেও না।
কেননা সেসব দেশে মানুষেরা আপন হৃদয়-খন্ড হাতে নিয়ে হাঁটে’

প্রতিটি হৃদয়কথা গান্ধর্বের দেশে গিয়ে মুহ্যমান আজ।
প্রতিটি হৃদয়কথা শোচনাচুল্লীতে পৌঁছাতে চেয়ে
হয় যত নিমখুন, গড়ে যতো ভুলের প্রাসাদ
কাছ থেকে যাকে মিহিকাপড়ের মতো মনে হয়
তার ’পরে অলঙ্ঘ্য তন্দ্রায় আমি গড়িয়ে বুঝেছি,
বহু উঁচু থেকে যাকে অগ্নিপিণ্ড বলে মনে হয়, তা মূলত
পরিত্যক্ত হৃদপিণ্ড এক, নিজেরই বিক্ষিপ্তির ভার
জবার উদ্যানে তাকে আগুনের শিখা করে তোলে।

এভাবেই অপরিমেয় জবারক্তের কাছে হতভম্ব হতে হতে
আমার কেবল এক শীতভারাতুর সৈকতের কথা মনে পড়ে।
যেখানে একাই আমি নুড়ি পাথরের কাছে
ভিক্ষা করিÑ আমার ভেতরে যেন প্রবাল-সত্তা কিছু জাগরুক হয়
যাতে বিস্মৃতির অংশ হয়ে সমুদ্রে কিছুটা মেশে সবুজ সমুদ্র।

মহাশিকড়ের পানে ধমনীর কাজ শুধু তরঙ্গের রাশিমালা
সমুদ্রে মেশানোÑ যেখানে হৃদয় স্ফুট।
যেখানে প্রস্তুত চন্দ্রগিরির উপত্যকায়
যত কাফ্রি এসে তাবু ফেলে, আমার প্রার্থনা:
তাদের ঘোড়াটি যেন মেঘে মেঘে বিলুপ্ত তরঙ্গশিখর দেখে রাখে।
তাদের ঘোড়াটি যেন মুখ উঁচু করে আজ সারারাত
একটি হ্রেষাও না ছাড়ে; কেননা এ দৃশ্য শুধু নরকের।
সবুজ সমুদ্র আজ তাই এত উন্মাতাল।
শিকারের লোভে আজ যারা আবহাওয়া-বার্তা উপেক্ষা করেছে
তারাই তো গণিকার স্তব্ধ শিক্ষক।
কুঠি থেকে বের হয়ে পবিত্র øানের পরে তারাই তো
গণিকার স্বাস্থ্য নিয়ে সমুদ্রের সাথে কিছু করেছে আলাপ!
এইতো কারণ যাতে
গণিকার রক্তে সুপ্ত থাকে সমুদ্রের নাদ।

সেইবার মাতৃসম কোনো গনিকার রক্তের ভেতর
দেখা হয় খুঁজে ফেরা আবহমান পানপাত্রের সাথে,
গণিকাকে মৃত ভেবে সে নিশ্চিন্তে বলে-
যে কোন ভরাট পাত্র দুঃখ দেয় শেষকালে গিয়ে!
তার চেয়ে নাকি ভাল ঘুমন্ত পাথরখণ্ডে এতটুকু বসা-
খানিক নির্জন থাকা, অজান্তে গানের সুর ভজা
হঠাৎ ঝড়ের মাঝে পাথরখণ্ডকে ছুঁয়ে
আরেকটু নির্লিপ্তি শেখা।

কেননা, লালিমার দিকে যেতে যেতে সব পাখি
নিজ থেকে আগুনের ভাষা বুঝে ফেলে-
জ্যোছনায় উড়ন্ত যত খণ্ড খণ্ড পানপাত্র
রাত্রির আকাশে ক্রমে হয় দৃশ্যমান
আমাদের হৃদয়কথারা ততটাই ধীরে ধীরে, সেই পথে
চাঁদের পাহাড়ে গিয়ে গড়ে তোলে আরেকটু অদেখা ফাটল।

নক্ষত্রবাগান ক্রমে এভাবেই শোচনাকথায় ভরে ওঠে।
দূর থেকে অনন্ত বিষাদ নিয়ে তারাদের গ্রাম
প্রতিরাতে মোহশরীরের সাথে বলে কথা
যতভাবে অসফল আমরা নিজেরাই
গণিকার কম্পনগাথায় ভরে নিজেদের ডেকে তুলি
নিস্কৃতিপাহাড় থেকে,
হৃদয়কথারা যেন ততটাই নিজেদের ফাঁকি দিয়ে যায়।

কেবলই অন্ধের হামাগুড়ি
পাহাড়ে বনের মর্মে, তরঙ্গ-তাঁবুতে স্তব্ধ হতে হতে
অনেক অনেকটুকু ব্যথা আজ ভুলতে পেরেছে।
বিলয়ের চরাচরে উড়ে যেতে চাওয়া কোনো পাখি
তীব্র লাল আগুনের বল যার জন্যে অপেক্ষায় থাকে
তার পায়ে লেগে থাকা উত্তাল সমুদ্র-নাদ
রুপার করুণ কুচি, বিগতজন্মের ডায়েরি
বাস্তুসাপের প্রহরা, আগুনশিখার লোভে উড়ে আসা
পতঙ্গের ছাইরাশি,
প্রতিরাতে লেবুবাগানের তলে করুণার সহযোগে
আমাকেই চাপা দিয়ে রাখে।
ডোমের সঙ্গীতে সেইদিন বারবার কেঁপে ওঠে তারাদের গ্রাম।

সেই গানে, কোনো অন্তঃসত্ত্বা কুমারীর
সন্তর্পণ পদক্ষেপ হয়ে যদি ফিরে আসি,
সমুদ্র, তাহলে তুমি আমাকেও নিও!

দূরাকাশে তারার বিষাদ যত বহমান, তার চেয়ে
সমুদ্রগুল্মের দেহে লেগে থাকা আমার গন্ধক
কখনই ভারি নয়!

বিষাদগ্রামের মত সেই দেশে জ্বলবে না কুপি
কখনই জানাবো না, আমি জাগ্রত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28784695 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28784695 2008-04-02 13:40:12
ফাল্গুনী রায়
তাঁর লেখায়, তা কবিতা বা গদ্য যাই হোক না কেন, আমরা যেসব প্রবণতার সম্মুখীন হই তা থেকেও প্রধান হয়ে ওঠে তার যাপনের নানান দিক। এটা কি অন্যান্য কবিদের মতো তাঁর জন্যও ক্ষতিকর, নাকি বিশেষত তাঁর ক্ষেত্রে সার্ত্রের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আর্ট ইজ সাবজেকটিভ’ কথাটা খাটে, সে আমি এখনও বুঝিনি। এই কথাটা কি তাঁর আমাদের জন্য রচনাগুলোতে প্রবেশের এক বিশেষ দিকনির্দেশ চিহ্ন নয়? আমার কাছে মূলত তা-ই মনে হয়। যে জীবনটাকে তিনি দেখেছেন, যেখানে তিনি প্রেম, বিত্ত, ভালোবাসা, সম্মান পেতে ব্যর্থ তাকেই তিনি তুলে আনতে চেয়েছেন। বিভিন্ন মতবাদ/আন্দোলন দিয়ে একে নানান ভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, কোথাও কোথাও করা যেতে পারে মহিমান্বিতও, কিন্তু এও মনে রাখতে হবে, আমরা বিশ্বসাহিত্যে এমন অনেক উদাহরণ পাবো।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়াতে পারে, ফাল্গুনীর বিশেষত্বটা কোথায়? বোধ করি, এই প্রশ্নটার একটা উত্তর দাঁড়া করাবার সময়ও এসে গেছে।

১৯৭৩ এর ১৫ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছিলো নষ্ট আত্মার টেলিভিশন। প্রায় পয়ত্রিশ বছর আগে। এর মাঝে, কলকাতায়, যতদূর জানি বিভিন্ন সাহিত্যগোষ্ঠীর প্রয়োজনেই গ্রন্থটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে। অনেকে ফাল্গুনী রায়কে, জীবনানন্দ দাশের সাথে তুলনা করেছেন, কেউ কেউ আবার এসব বালখিল্যকে প্রশ্রয় না দিয়েও তাঁর গ্রন্থটিকে দিয়ে থাকেন বিশেষ সম্মান। নষ্ট আত্মার টেলিভিশন এই সমীহটুকু পাবার কতোটা যোগ্যতা রাখে, তার মাপনী- এখনকার কবিদের কাছে কবি হিশেবে ফাল্গুনী রায়ের গ্রহনযোগ্যতা। এখনকার কবিরা কি সেই কবিতাগুলোর মতো কবিতা রচনার অণুপ্রেরণা পান? স্পষ্ট বলে দেয়া যায়, খুব একটা পান না বা পেতে চান না।

তাহলে ফাল্গুনী রায়কেও কি একদিন আমরা ভুলে যাবো?

কেননা, আমরা এতোদিনে জেনেছি যে, যার গ্রহনযোগ্যতা নেই- তাকে কোনো না কোনোদিন আমরা ভুলে যেতে বাধ্য। প্রতিষ্ঠান কিছু পারুক বা না পারুক এই ম্যিথা কথাটা আমাদের রক্তে মিশিয়ে দিয়েছে। এই কথাটা আমরা যতবার সত্য বলে ভাবি, ততবারই নিজেদের সাথে একরকম প্রতারণা করি। মৃত্যুর পরেও কবি হিশেবে জীবনানন্দের পুনূরুত্থান আমরা ভুলে যাই, ভুলে যাই তেমন প্রতিটি শিল্পীর কথাই; এস্টাবলিশমেন্টকে যারা একদিন তোয়াক্কাই করেননি। ফাল্গুনী সে গোত্রেরই লোক। তাঁর প্রতিটি আচরণে, নেশায়, যাপনে এমনকী কবিতায় আমরা সেই চিরন্তন সত্যকে আবিষ্কার করি, যেখানে ব্যক্তি নিজের কাছ থেকে সরে গিয়ে লিখতে বসেন না, কোনো অভিজ্ঞতা স্রেফ ব্যক্তিগত বলেই তাকে লুকিয়ে ফেলা, পরোক্ষ ইংগিতে রচনায় প্রকাশ করেন না। ইনি আমাদের মাঝে থাকা সেই মানুষ যিনি তার রক্তমাংসসহ, প্রতিটি ব্যর্থতা ও পরাজয়, হীনমন্যতাসহ নিজ লেখা আমাদের সামনে অকপটে তুলে ধরতে জানেন।

আর নষ্ট আত্মার টেলিভিশন, আমার কাছে মনে হয়, এদেশের সাহিত্যে গত শতকের একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য রচনা। কেননা, আজ পয়ত্রিশ বছর পর এসে যখন এর কবিতাগুলো একটি একটি করে মনে করতে চেষ্টা করি, তখন কবিতাগুলো তার টোটালিটিসহ মনে আসে, বিশেষ কোনও পংক্তি, ভাবনা, রূপ দিয়ে একে বিশেষায়িত করা যায়না। এর ভাষা থেকে জীবনবোধকে, এর শৈলী থেকে আচরণকে, আঙ্গিক থেকে দর্শনকে, অ্যানার্কিকে আলাদা করে ভাবার ক্ষমতা বোধ করি কারোরই নেই। অনেক কাব্যগ্রন্থ অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে একারনে যে, তা থেকে তরুন কবিরা নানান প্রেরণা পেয়ে থাকেন। ফাল্গুনী রায়ের কাব্যগ্রন্থটি সেই জাতেরই, কিন্তু তা থেকে এখনকার অনেক লেখক/পাঠক সরাসরি প্রেরণা নাও পেতে পারেন। এর কারণ, তা থেকে লব্ধ প্রেরণা সরাসরি গ্রহন করতে হলে আমাদের মুখ, চিন্তা ও চেতনা থেকে অনেক মুখোশ টেনে ছিড়ে ফেলতে হবে। নিজেকে, অন্য কোনও কিছুর নয়, শুধু গভীরভাবে, নিজের মুখোমুখি করতে হবে।

ফাল্গুনী রায়ের সততা ও টোটালিটি, আমাদের মতো পাঠকদের সামনে ঐ চ্যালেঞ্জটিই ছুড়ে দেয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28783611 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28783611 2008-03-29 22:19:02
একটি কবিতার সাথে কিছুক্ষণ
যাক, শুন্য দশকে কিছু হয়না/হয়নি বলে যারা এখনও চিৎকার করছেন, তাঁদের সম্মানে মৃদুল মাহবুবের কবিতাটি এবার আমিই তুলে দিচ্ছি :

এই করুণার দিকে তাকাও বেলুন, তোমার ভেতর বেহিসবী নিরর্থ ফুঁ দিয়ে আমি দেখলাম নত্রক্ষ বদলে নিচ্ছে তার পথ, পরিক্রমা। এমন দৃশ্যের পর কেঁদে ফেলা যায়। শূন্যতা সেও কি আজ আর নেই! এই তবে ব্যথা? মহাপতঙ্গের নীল ডানা এই আকাশ আমার, তোমার ভেতর হতে রেডিও-ওয়েভ হয়ে আলোর গতিতে ফিরে এসে সুর হয়ে ভেঙে পড়ছি অদৃশ্যে পৃথিবীর ধূসর সন্ধ্যায় নিজের স্নায়ুর কানে; ঠিক আর দেখা হলো না নিখুতঁ পতনের ক্ষত, আমাদের হাওয়ায় ছড়ানো পিষ্ট খুলি এমনই করুণ, অচেনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28780847 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28780847 2008-03-20 14:34:13
বেয়াদবির সংস্কৃতি মুক্তিযুদ্ধ কিংবা শেখ মুজিব-- এর যে কোনো একটাকে তর্কে বা কুতর্কে আমরা এখনও বিতর্কিত করতে চাই। বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমান হাজির করি, নিজেদের কথাটা ফলাই তারপর প্রয়োজনবোধে নির্ঘাত সত্যটাকে মিথ্যা বলে ঘোষনা দিতেও আমাদের বাধে না।

মুক্তিযুদ্ধে কত লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলো এ সম্পর্কে ও আমরা বির্তক করি। জামাতীরা বলে তিনলাখ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হিশেবে ত্রিশলাখের বেশি।

আমরা একদমই চুপ করে থাকি যখন ১৫/২০ জন আর্মি অফিসার গিয়ে শেখ মুজিবকে মেরে ফেলে। শেখ মুজিব, যাকে নয় মাস অমানষিক নির্যাতন করেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ আটকানো যায়নি, সেই মানুষটির শেষ গোসলে একটি কাপড় কাঁচার সাবান ও জোগাড় করতে কষ্ট হয়ে পড়ে।

অসুস্থ মা'কে দেখতে আসার নাম করে জিয়াউর রহমান গোলাম আযমকে যখন দেশে ঢোকার অনুমতি দেন, তখন আমরা চুপ করে থাকি। এর কিছূ সময় পর তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের নাম করে জামাত'কে রাজনীতি করার সুযোগ দেন, তখনও আমাদের মুখে রা ফোটে না।

আই উইল মেক দ্য পলিটিক্র ডিফিক্যাল্ট ফর দ্য পলিটিশিয়ান-- সামান্য উর্দিপড়া এক শাসক হয়ে এই কথা বলে যখন তিনি গনতন্ত্রকে অপমান করেন, তখনও আমরা চুপ।

সর্বশেষে, এইতো সেদিন, আমাদের দুইনেত্রীকে যখন রাতের আধারে গ্রেফতার করা হয়, তখন আমরা একটি মানুষ ও প্রশ্ন তুলি না, এরা চোর বাটপার কীনা। নতুবা রাত তিনটা/চারটা থেকে এদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিলো কেন? এদের কে দিনের বেলা গ্রেফতার করা যেত না?

এগুলি আসলে আমাদের জাতীয় পর্যায়ে বেয়াদবির কিছু নমুনা। প্রত্যেকটা মানুষ, প্রত্যেকটা সমাজ তার রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে চেতনে বা অবচেতনে অসম্ভব প্রভাবিত হয়। আজ যে সমাজের চারদিকে এত বেয়াদব, এত স্বাধীনতার বিরোধি, জাতির জনকের কুৎসাকারি, এগুলি আসলে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জাতীয় বেয়াদবির একটা সামান্য ফলাফল।

এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে এতকিছূ করছে,রাজনৈতিক দলগুলোকে ভাঙ্গতে চেষ্টা করছে কিংবা অনধিকার চর্চা করছে--এগুলি ও এই বেয়াদবির ভিন্নমাত্রিক ফলাফল।

পার্থক্য শুধু মুখোশে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28780335 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28780335 2008-03-18 23:32:58
আমাদের কবিতা: শেষ পর্ব আমাদের কবিতা: প্রথম পর্ব এখানে

আমাদের কবিতা : দ্বিতীয় পর্ব এখানে

আমাদের কবিতা কী রকম, কেন এমন হলো এবং সেটার যৌক্তিকতা কত দূর গত দুই পর্বে সেটা আমি লিখেছি এবং পাঠক ও এর ফলে শুন্যদশকের প্রবণতা চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলে মনে হয়। এ পর্যায়ে এসে আমাদের কবিতার প্রবণতা চিহ্নিত করতে যেয়ে আমি প্রবণতা হিশেবে কিছু কবিতার সরাসরি উল্লেখ করতে চাই। এই উদ্ধৃতি শুধুমাত্র প্রবণতাগুলোকে স্পষ্ট করে দেখানোর জন্যে, উদ্ধৃতিগুলোর সাথে কবিদের নামও তুলে দেব কীনা, এ প্রশ্নে আমার কাছে মনে হয়েছে যেহেতু কবিতাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেহেতু কবিতাগুলো এখানে নামহীন হয়েই অবস্থান করুক। এতে নামের ঔজ্জ্বল্যের বদলে কবিতাগুলো নিজেই আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, পাঠকও একে আরো নিরপেক্ষভাবে পড়তে পারবেন।

আমাদের কবিতার প্রবণতা সম্পর্কে, আমার কাছে মনে হয়, নিচের উদ্ধৃতিগুলোর পর আমার আর কিছু লেখার থাকতে পারে না। পাঠকের কাছে যখন টেক্সট হাজির- তখন তাকে আর ‘বুঝিয়ে’ দেয়ার কোনও মানে হয় না। কেননা, পাঠক যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান। তিনি নিজেই বুঝে নেবেন, গ্রহন বা প্রত্যাখান করবেন। আর এভাবেই একেকজন পাঠকের ইন্টারপ্রেটেশনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে শুন্য দশকের কবিতা। প্রিয় পাঠক, এবার তাহলে উদ্ধতিগুলো পড়া যাক । আশা করবে কবিতাগুলো পড়ে মন্তব্য করতে ভুলে যাবেন না , কেননা, আপনাদের মন্তব্যের উপরই একরকম গড়ে উঠবে এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য, শুন্যদশকের কবিতার রূপ:


১.
মায়ের উদ্দেশে বাবা যে চুমুটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন বাতাসে শুনেছি, সেই হাওয়াই চুমুটা থেকেই জন্ম নিয়েছিলো পৃথিবীর প্রথম প্রজাপতি

মা, পৃথিবীর যে-কোনো নারী থেকে যাকে কখনোই আলাদা করা যায় না—তাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত-বিভ্রান্ত সেই প্রজাপতিটার ডানা থেকে যখন টুপটাপ ঝরে পড়ছিলো রঙের আকুতি—রঙের সেই অপচয় ঠেকাতেই সম্ভবত জন্ম হয়েছিলা পৃথিবীর আর সব প্রজাপতির

মাকে বাবা খুঁজে পেয়েছেন সেই কবে ! অথচ তার মুখের দিকে তাকিয়ে কখনোই মনে হয় নি—জীবনে একটাও প্রজাপতি তার খোঁপায় বসেছে।

২.
রাস্তায় কখনও কোথাও আমার নামটা দেখলে কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যাই। তখন রিক্সাচালককে বড় আত্মীয় মনে হয়। মনে হয় ওই বাড়ির সদস্য আমি। যার সামনে টিনের সাইনবোর্ডে লেখা : ইমরান ভিলা। তখন তিন পায়ের রিক্সাটাকে শরীর আর লেখাটাকে মনে হয় আমার মুখ।

আমার বাড়ির পাশে অসুস্থ একটি ছেলের নাম ইমরান। তার জন্য তুলেছি চাঁদা।

কোনো মেয়ের নাম যদি ইমরান হতো তাকে মনে হয় আমি বাসতাম সবচেয়ে ভালো বেশি।

আমার নামে আরও অনেক বাঙালিদের নাম আছে। এই থেকে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীতে নামের চেয়ে মানুষ বেশি।

আমার পিতা অনেক গাছ লাগিয়েছে বাড়ি। একটা বৃক্ষের নাম রেখেছি ইমরান। এখন ভাবছি শালিক পাখি যেমন কথা বলে ; সে যদি একদিন বলে ওঠে ‘ও পথিক, জানো ! আমার নাম ইমরান মাঝি’।

আমার নামের অক্ষরগুলো দিয়ে এলোমেলো আরো কয়েকটা মানুষের নাম আছে। সেই ব্যক্তিসমূহকেও আমার আপন মনে হয়।

৩.
গোপন বাক্সের দিকে চেয়ে গিনিপিগ ওর লক্ষণীয় বনভূমি নেই।
গুনটানা মানুষের মতো ভেতরে গুঞ্জরন শুধু ! নিজস্ব সুর টুনটুনির
দূষণে খোয়া গেছে। হয়তো বাতাসও সে পথে সমর্পণ হতে গেছে।
পাশের সিট থেকে ভ্রাম্যমাণ কেউ-বা ‘জলে তর্জনী ডুবিয়ে
সহ্য করে মাছের ঠোকর’ নেহাত-ই কেউ যন্ত্রণায় পোড়ে !
বুঝি, মানুষ ঐ অতসীর খেলা শিখতে শিখতেই কতকাল নষ্ট করে
বাক্যবাগীশের চুলে টান ধরে শ্যামলারঙের মতো, তুমি দেখো—
এক ভ্রান্ত কবির অস্থি-মজ্জা, খানাপিনা, পাড়ভাঙা
মূলত, ভূগোল তৈরিতে যা লাগে- আমি বুঝি, ভেতরে ভেতরে পা ঠুকছে সে সব।

৪.

জোছনায় হেলান দিয়ে লাস্যময়ী রাত্রির কাছে কেমন করেই যেন মানিয়ে যাচ্ছে খলিফা হারুন-অর-রশিদ। এইরকম নেশাতুর রাতে গাছেদের ঘোরলাগা সেই অভূতপূর্ব উচ্চতাকে পেছন ফেলে, দুর্দান্ত লন্ঠন হাঁকিয়ে বহুদিন ছুটে গেছে বাড়ির পাশের বয়ে যাওয়া রাস্তা। পায়ের ওপর ভর করে পথের সংকলিত রচনা আর পথিমধ্যে বাদামি বাষ্প ওঠা ব্যথিত টি-স্টলের আগুন যারা রাত্রিকালে রিভিশান দেয়, সেখানে আমিও পেয়ে যেতে পারি দারিদ্র্য বিরচিত ঝরাপাতা, বহমান বিষাদ আর অকৃতকার্য ছাত্রের অশ্র“-পরিচিতি। যেমন তুমুল শাদা খাতায় উবু হয়ে জিরিয়ে নেয় নির্জনতার সা¤প্রতিকতম বঞ্চনা ; বিষণœ আলোর টিমটিম হাতছানি, মৃদুমন্দ শুকতারার চন্দ্রাহত ঘুমপাড়ানি ঘ্রাণ, ঘুমকাতুরে নিবিড় বৃক্ষরাজি, পানশালা—বাংলা মদ পেরিয়ে মাতাল রাস্তার ঢলে পড়া... তবু কী সকল অভাবের জোছনা ক্রোড়ে জড়িয়ে রাখতে পারে দূর অতিথিসম্পর্কের রাত ?

‘তুঁহু মম মন্দাক্রান্তা, নেশামন্ত বিভাসনিশুতি’-কেমন করেই যেন মানিয়ে যাচ্ছে খলিফা হারুন-অর-রশিদ... খলিফা অঝোর ঝরাপাতা। থরথর রাত্রি বিরচিত—বাড়ির পাশেও গাছেদের ঘোরলাগা...

৫.
এখনো কিছু দৌর্বল্য দূরবর্তী পাহাড়ের সবুজ গাছে, ঝিকিমিকি রোদে
হাজার যুগ যুগ মুহূর্তভাণ্ড বুক-সমুদ্দুরে, খেয়া হয়ে আছি
টানগণিতের সূত্রে ভাবনাসড়কে বিকারহীন দর্শন উঠে এলে
চোখের সম্মুখে দেখি গহীন পরিখা থেকে উঠে আসছে
লাল লাল আগুনের চোখ, প্রভাতসংগীত...
৬.
গগনে ঘুমন্ত মাঝি
তার নৌকা চন্দ্রগিরি পাড়ে লেগে আছে।

৭.
যে দরজায় নক করলো সে হচ্ছে আমি
যে দরজা খুললো সেও হচ্ছে আমি
যিনি কিছুই করলেন না তিনি হচ্ছেন
আমাদের লাশ
কবরে নেমে চকলেটের গন্ধ ছড়ান।

৮.
হে রেডিও, আমার প্রাণরে ভেতর হতে তাড়িয়ে এনেছো এই জেব্রা জবাই, আহত দৃশ্য- ভাঙা তোমার করুণ স্বও তাই। আর মধ্যরাতের অধৈর্য্য বাতাস বেয়ে সময়ের দিকে উঠে যাচ্ছে অস্থির শামুক; খোলসের গুরুভার, জীবনের ওজন, মাধুর্য্য, হাভাব, বেপথ এই রাতেই কী পার হয়ে যাবে আকাশের অদ্বিতীয় নক্ষত্ররচিত জ্বলজ্বলে স্তর, প্রজ্ঞাবৃক্ষ। যে আমি দাঁড়িয়ে আছি পাথর-পাত্রের ভেতর তা আজ ভরে গেছে রক্তে, অক্ষত শরীর থেকে কিভাবে যে এতো রক্ত বেরিয়ে আসছে- একাই উতরে গেলো ত্বকের প্রেক্ষাগৃহের দরজা, গাঢ রঙ, আড্ডা, মাতালের শিস, হাসি, বিষন্ন নিরিহ সুর, কামনা, সংলাপ।

প্রশান্ত নদীর পাশে শুয়ে আছি। জল আজ ধীরে ধীরে আলোসুতোর মায়াবী পথ ধরে ঐ পাহাড়ের দিকে চোখের আড়ালে তার শীতল তন্তুও পোষাক ছেড়ে আমাকেও ডাক দিচ্ছে বৃষ্টি শাবলের মত পৃখিবীর দিকে ছুটে যেতে।

শিশু শামুক, আজানা ঐ কীটরাজ্যে বরং তোমার সাথেই যাওয়া ভালো । লাখো জেব্রার পিঠের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে নিজের প্রথম নাম ভুলে যেতে যেতে রক্ত-গন্ধ ছড়ানো আমার দেহ তুলে দেব ক্ষুদার্থ সোনালী ঈগলের ঘরে।

৯.

আমি আর বাসের কাচের জানলায় আমার মুখ
পরস্পর কথা বলি, মাথা রাখি চুলে
সে বলে কীসের ভুলে তোমার গালটা এমন গরম ?

আমি বলি কই-তোমারটা তো ঠাণ্ডা
কীভাবে এ যাত্রীহীন সন্ধ্যায় আমার সাথে লুকোচুরি করো ?

আমার গলাটা গরম, কিন্তু তোমার আওতায় পৃথিবীর যাবতীয় রঙ্গমেলা

দুজনার আরও পরে আরও অনেক যন্ত্রণা শেষে দেখা হবার কথা ছিলো

দোষী হয়তো আমরা দুজনেই

১০.
সন্ধ্যা শেষের গলিতে দাঁড়িয়ে পাটল রঙের ঘোড়া। পিঠে তার ডানা নাই। দূর অতীতের আরবি ঘোড়ার এদেশি সহোদর, খর্বকায়। বাঁকানো শরীরে চাবুক আর ভারবহনের ক্লেশকর দাগগুলো কেউ একদিন হয়তো ঠিকই দেখতে পাবে। হ্রেষা নাই, চুপচাপ। আমি চিনতে চেষ্টা করি : ঘোড়াই বটে।

শুনি মধ্যরাতে তার হ্রেষা অকস্মাৎ ! আমাদের সুপ্তিঘোর চিরে লক্ষ-কোটি ঘোড়ার হ্রেষা তার সাথে একযোগে ছুটে চলে, ছুটে চলে রঙিন কাগজে বাঁধাই-করা বইয়ের মতো নিয়তির নানা মাঠ-বাট পার হয়ে...। সমস্ত নিয়তির শেষে পৌঁছানো যায় এখানে, এই প্রান্তরে, ঘোরলাগা পূর্ণিমায়। পড়ে আছে অশ্বের শাদা হাড়গোর। আর সর্বশেষ মীমাংসার শেষে যেন, অভিজ্ঞ শকুনেরা পাহারায়। তাঁরা বলে : ‘ঘোড়ারা পয়দা করে কেবলই ঘোড়া’।

মাঠের ওপারে সেই আয়ুবৃক্ষ। তার নিচে বসে আছে প্রবীণ শকুন। পাতা ঝরানো আর নাম-ঘোষণা এখন তারই আয়ত্তে। ঘোড়দৌড় তার খুব প্রিয়। সে বলে : ‘ঘোড়া দৌড়ায় জোরে...খুব জোরে। ঘোড়ার দলেই থাকে গাধা ও খচ্চর ; তারা দৌড়ায় না, হাঁপায়। দেখে সুখ আসে।’ এ সময় আয়ুবৃক্ষ হতে একটি পাতা ঝরে পড়লে সে ব্যস্ত হয়।

আমাদের উড়িয়ে নিতে চায় ফের তুমুল হ্রেষারব। দেখি কোটি কোটি অশ্বের অভিযান টলায়মান চাঁদের নিচে। জগতের সমস্ত আস্তাবল ভেঙে, কবিতা সঙ্গীত বা পটচিত্র থেকে, ক্যালেন্ডারের পৃষ্ঠা থেকে, রাত্রির তালাবদ্ধ সব চিত্রশালা পিছে ফেলে, প্রাচীন গুহার প্রস্তরিত অন্ধকার থেকে, ক্যানভাসের সদ্য-সমাপ্ত ছবি থেকে, অশ্বাসীন বীরের ভাস্কর্য থেকে বীরকে ভূলুণ্ঠিত করে ছুটে এসেছে সব ঘোড়া অদম্য অদ্ভুত দুর্বিনীত উল্লাসে...। তারা ছুটছে নির্বাধ স্রোত। উত্তেজনাবশত আমি চড়ে বসতে যাই। দেখি নিচে কাতরাচ্ছে সঙ্গিনী, এক ভয়ার্ত মাদী-ঘোড়া...গলায় আটকে গেছে হ্রেষা !

১১.

আজ রাতে আমি কোনো বান্ধবীর মোবাইলে হানা দেবো না, অপরিচিত হয়ে। আজ রাতে দূরের কোনো হরিণকে করবো না হ্যালো..., খাঁচাবন্দি করার লোভে। আজ সারারাত প্রার্থনা করবো প্রেতাত্মা ও লোডশেডিংয়ের। প্রার্থনা করবো সমুদ্রখেকো ঝিনুকের। পুজো করবো ডাইনির মোহনীয় আত্মার। আজ রাতে আমার সমস্ত শরীরের, আমার শরীরের সমস্ত পৃথিবীর এবং পৃথিবী-ঊর্ধ্ব জগতের ভেতর সবকিছু মিইয়ে যাবে। আমার নাভি থেকে বেরিয়ে একটা শিকড় গেঁথে যাবে মাটিতে। আমি হয়ে উঠবো পৃথিবীর প্রাচীনতম শিশ্নগাছ
তুই কী হবি, বলতো, আমার রোদ্দুর ?

১২.

পিঠে বৃষ্টি ঠেকিয়ে শীত আমাকে থ্রেট দিচ্ছে
-যাব যাব বলেছিলাম, যাইনি এখনো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28777553 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28777553 2008-03-08 22:56:13
আমাদের কবিতা: দ্বিতীয় পর্ব। আমাদের কবিতা: প্রথম পর্ব এখানে

প্রবণতা ও প্রবণতা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি:

যে কোনও কালের কবিতাই , যদি আলাদাভাবে চিহ্নিত হয়, তবে সেটা তার প্রবণতার জন্যই। ক্লাসিসিস্ট থেকে রোমান্টিক, রোমান্টিক থেকে মডার্নিস্টিক বা পোস্টমডার্নিস্টিক বা পোস্টল্যাঙ্গুয়াল বা যত প্রকারের চিন্তাভূমি আমরা দেখবো এদের মূলকথা প্রবণতাকে ঘিরেই। আবার প্রতিটি কালের প্রবণতাই যে খুব নির্দিষ্ট- তাও নয়, তার অনেকগুলো দিকচিহ্ন থাকতে পারে কিন্তু মূলগতভাবে তারা খুব কাছাকাছি। একারণে একজন বিনয় মজুমদার যেমন আধুনিক কবি, ঈভ বনফোয়া ও তেমনি আধুনিক কবি।

কিন্তু এই দেশে, অনেক কিছুর মতোই, কবিতার প্রবণতা চিহ্নিত করণে বিস্তর ঊনতা রয়ে গেছে বলে মনে হয়। এমনকী রয়েছে ভূলপাঠও। তেমনি একটি ভূলপাঠের উদাহরন দেয়া যেতে পারে সমকালীন বাংলা কবিতা নামক একটি সেমিনারে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের উপস্থাপিত প্রবন্ধটিতে। ঐ প্রবন্ধটিতে আমাদের কবিতার প্রবণতা চিহ্নিতকরণের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলা কবিতার প্রবণতা চিহ্নিত করতে গিয়ে যখন কবিতা চিহ্নিতকরণের নামে আলতাফ হোসেন, মোস্তফা আনোয়ার, মাসুদ খান, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ,রিফাত চৌধুরী,জুয়েল মাজহার, মজনু শাহ এবং চঞ্চল আশরাফের মতো কবিরা খড়ের গাদায় সূচের মতো হারিয়ে যান, তখন খুব আশ্চর্য লাগে। আশ্চর্য লাগে, শূন্য দশকের কবিতার প্রবনতাকে চিহ্নিত করতে গিয়ে উনি যখন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পডুয়া ছাত্র ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পান না। নব্বই দশকের উল্লেখযোগ্য কবি তার কাছে মনে হয় দুই সাহিত্য সম্পাদককে। এটা একধরনের অসততা
কী না, সে প্রশ্নে আমরা যেতে চাই না। যদিও আমরা জানি, কবিজীবনে দু একটি উজ্জ্বল পংক্তি মানে বিশেষ কোনো প্রবণতা নয়। অথচ সৈয়দ মনজুরের আলোচনায় উঠে আসতে দেখি তেমন কবিদেরই।

তাহলে এখন প্রশ্ন জাগে কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রবণতাকে দেখলে একজন প্রকৃত কবি পাঠকের চোখে ধরা পড়তে বাধ্য। এক্ষেত্রে আমার মনে হয়, একটা জিনিসই আমাদের করণীয় আছে: কবিকে টোট্যালিটি থেকে দেখা। এই টোট্যালিটি তাহলে কী এবং তার রূপ কী, সে মীমাংসায় আসতে হয়।
এককথায় এই টোট্যালিটি মানে কবির ’সম্পূর্ণ কবিত্ব’। কবিত্ব বলতে এখানে আমরা যেন এর ক্লিশে অর্থ কে না ধরি। কবিত্ব বলতে একজন কবি তার পাঠককে কোথায় নিয়ে যেতে চান এবং এই জার্নিটার ভেতর দিয়ে তিনি কী কী করলেন এবং করলেন না- সেটা দেখা দরকার। সবচেয়ে বেশি বোধহয় দেখা দরকার, একজন কবি কী কী লিখলেন না। (সন্দীপণ চট্টোপাধ্যায় এর একটি কথা আছে: একজন লেখক কী কী লিখলেন না, সেটাই তার আর্কেটাইপ গড়ে দেয়।)। আর যেটাকে বলছি টেট্যালিটির রূপ সেটা বোধহয় জলের বহমান ধারার মতোই। কেননা, প্রতিটি কবিই দিনানুদিন নিজের স্থান থেকে সরে যেতে থাকেন। না সরে গেলে নিজের জায়গাতে থেকেই নিজে বদলে যান। আবার এ দুটি কোনো কবির ক্ষেত্রে একসাথেও ঘটতে পারে । যেমন: রণজিৎ দাশ। তাঁর অপরাপর গ্রন্থগুলোর সাথে তার নতুন গ্রন্থটা(সমুদ্র সংলাপ, গত বছর প্রকাশিত) এবং তার প্রবন্ধের বইটা পড়া গেলে এই সরে যাওয়াটা স্পষ্ট টের পাওয়া যায়।

সাজ্জাদ শরিফ প্রায়ই একটি কথা বলেন: 'কবিতাকে গ্রহন করিয়ে নিতে হয়”।' পাঠকের কাছে । কবি এটা যতটা করেন তার কবিতা দিয়ে তার চেয়ে বেশি বোধহয় করে থাকেন তার যাত্রাপথ দিয়ে। একারণেই বোধহয় কাফকার গল্প উপন্যাসের চেয়ে তাঁর ডায়েরি এবং কথোপকথন কিংবা প্রুস্তের উপন্যাসের চেয়ে তার জার্নাল আমাদের কাছে বেশি প্রিয় হয়ে ওঠে। জীবনানন্দ দাশের বোধহয় এমন একটি কথা আছে যে, বুদ্ধি করে বা ফন্দি এটে কবিরা কবিতা লিখতে আসেন না। একটু দুর্বিনীত হলেও এই কথাটা আমার কাছে একটু আপেক্ষিকই মনে হয়। কেননা, জীবনানন্দ পরবর্তী কবিতার যে নতুন যুগটা শুরু হয়েছিলো কিংবা বাংলাদেশে আশির দশকের থেকে যে নতুন যাত্রার দিকে বাংলা কবিতা গেল, সেটা বোধহয় এই আপেক্ষিকতার পক্ষেই কথা বলে। নির্দিষ্ট সময়ের কবিদের নির্দিষ্ট প্রস্তুতি থাকতেই হয়। এক্ষেত্রে বিনয়-উৎপল এবং শক্তির কথা কিংবা গত নব্বইয়ে ছন্দ নিয়ে, পোস্টমডার্নিজম বা নানান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একদল কবিকে নানান প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে চাওয়ার কথা উল্লেখ করা যায়। এদের লেখার মূল্য কতটা, এই প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন অবান্তর কেননা, মূল বিষয় হলো প্রত্যেক কালের কবিরাই নিজস্ব বিবেচনা মতো কবিতায় কিছু বিষয় বাদ দিয়ে কিছু বিষয় নিয়ে আসতে চাইছিলেন। মানে তারা ‘কী লিখবো,কী লিখবো না’ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রথমত চেষ্টা করেছিলেন। যাকে বলছি প্রবণতা, তা এই সিলেকশন, ডি-সিলেকশন এর মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে।

মিথ, আশি বা নব্বই এর কবিতায় খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কবিতায় মিথ কে এনে নানা রকমের কাজ করার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু আমার মনে হয়, মিথ, ষাট এর পরে বিশ্ব কবিতায় এবং গত দুই দশকের কবিতায় তেমন কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি এবং কবিরাও এই মিথকে দিয়ে আমাদেরকে নতুন কোনো পথে চালিত করতে পারেনি। এটা অবশ্য এলিয়টের ট্র্যাডিশন এ্যাণ্ড ইনডিভিজুয়্যাল ট্যালেন্ট- প্রবন্ধের ও উত্তর উপনিবশবাদের একটা ক্লিশে ফলাফল ও হতে পারে। সবচেয়ে বড় কারণ বোধহয় এই যে, কবিরা মনে করেছিলেন, মিথকে কবিতায় নিয়ে আসাটা তাদের দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে, যেমন দায়িত্বের পর্যায়ের পড়ে কবিতায় ছন্দ রাখা। কিন্তু অনেক কথার মাঝে কবিকে কখনওই একথা ভুলে গেলে চলে না যে, কোনো কিছুই তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কোনো বক্তব্য ও নেই তার। কেননা, তিনি একজন ইন্টারপ্রেটার। বস্তু ও অবস্তু জগতের বহু কোড এসে তার মাঝ দিয়ে শুধু আরেক ধরনের কোড হয়ে বের হয়ে যায়; প্রবেশের করে কাব্যভাষার সিস্টেমের মধ্যে, যা অভিঘাতী হলে স্বতশ্চলভাবে জড়ো হয় কবিতার ইউনিফায়েড স্ট্রাকচারে।

মজার ব্যাপার হলো যাকে আমরা বলি আবহমান বাংলা কবিতা, তা কিন্তু মূলে এ ইউনিফায়েড স্ট্র্যাকচারই, যাকে আবার প্রতিটি মুহূর্তে নতুন কবিতার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে তার পুরানো আদল ধরে টিকে থাকতে হয় বা নিজেকেই বদলে নিতে হয়। ভাষার যে আবহমান গঠন তার মাঝে দাড়িয়েই নতুন কবিকে কবিতা লিখতে হয়। এখন প্রশ্ন হলো আমাদের সময়ের কবিতা এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবেলা করছে বা করতে পারছে না।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28776440 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28776440 2008-03-04 22:54:29
আয়াজ আনছারীর তিনটি কবিতা একসময় আয়াজই আমাকে কবিতা লিখতে প্ররোচিত করেছিলো। তার এই লেখাগুলো ২০০১ সালের আগে লেখা এবং সেসময়ের পর থেকে এই কবি তার পরবর্তী লেখাগুলো যেমন প্রকাশ করেন নি তেমনি অত্যন্ত নিরাসক্তভাবে ও গোপনে কবিতা লিখে যাচ্ছেন। আমিই কোন রকম অনুমতি ছাড়া তার কবিতাগুলো সোহেল হাসান গালিব সম্পাদিত শুন্য দশক কবিতা সংকলনে ছাপানোর জন্য দেই। সেই কবিতাগুলোই এবার ব্লগের পাঠকের সাথে শেয়ার করার জন্য এখানে দেওয়া। আশাকরি আপনাদেরও কবিতাগুলো ভালো লাগবে -তারিক টুকু

আয়াজ আনছারী


ভবঘুরের সর্বশেষ যাত্রার প্রাক্কালে

দোচালা ঘর মুরগী খড় জানাই আড়ি
কার মন্ত্রবশে কবে কে ফিরেছে বাড়ি?
নিরুদ্দেশ থেকে পৌত্র আদলে ডাকে সবুজ কবি...


ঘড়িহানার সাঁকোটায় শেষ নাড়ীর দৌরাত্ম্যে তারপর যদি নরক, তাও সই,
স্নান সারবো বিস্মৃতির জলে...। ডাংগুলি-বন্ধু তুই ক্রিকেট খেল,
আমি ঝিঁ ঝিঁর ছেলে, দেখি আপন মেঠোপথ অবজ্ঞায় শুকায়।
নিম্মমান কেরানীর থাক ঝরাপাতার মনোবল আর অবশিষ্ট
লাল মাফলার, বিপ্রতীপে চলুক নীল হৈ-চৈ আখ্যান।
চুল সমান আয়ু কোন্ জন্মে!


নেই এমন কোনও স্তুতি যে ঠেকায় অন্যস্বরের এ নিকেষ

লুপ্ত শ্লোকের অন্তর্বাসে আমার গহনতর প্রবেশ।
নিরুদ্দেশ থেকে পৌত্র আদলে ডাকে সবুজ কবি...

বহুভূজ আলাপ

চড়ুই জংশনে হাসি আর স্থপতির অভিযোগ মুখোমুখি
অসম্ভব প্রস্থান; নিরাপত্তক পাথরে দুটি পাখনা দাও
আমরা ভাড়া খাটি। আর জানিনা সাকুল্যে কতখানি
অহিংসা ব্যয়ে ভোর হয়।
অধিবিদ্যার পাঠশালায় চকের অভাব-
বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখে।

নদীরপাশাপাশিঘুম যদি চরিত্রে থাকে কিছু
ঘুমেবহুতলদিন

সুস্বাস্থ্য আলোর ভাঙতি দোকানে দোকানে
অহরহ বাজে না-
শোকসভা বিরচিত বড়শিতে উঠে আসে তর্কফড়িং
না চল্লিশ চোর?

আঙ্গুল থেকে নামাও দৌড়

নামো শূন্যে



উল্লেখহীন ঘর, সভ্য মহিষ

তোমার চুল ছোটো করে ছাঁটা, এমন দরজা
আমি ঘাসগ্রামে পোকাদের মতো; জলের সাহস
গুছিয়ে তৈরী একেকটি কৌতুক। প্রশস্ত পাখা
আমরা ভর্তি হই চলো হ্যা বিদ্যালয়ে।
আমাদের জন্য বৃষ্টির হাড় গুনতে সড়ক ভর্তি মুঠো
খুলতে সরলরেখায় এপাশে ওপাশে অনেকেই
বসে আছেন। আরো সহজ করে রাখি, আগুন
চুরির ষড়যন্ত্রে আমার আর ব্যবহার কৌশলে
তোমার গরীব ও মেধাবী পূর্বপুরুষেরা ছিলেন।

সুলভ চীবরে শৃংখলা, অতটা গণিত নয়
যতটা সমতলের সঞ্চয়
দাহ্য জীবিকার শ্রমিক ছায়া ভেঙ্গে ছায়া
ক্রমশ

বলুক কে সৌখিন ডাকঘর
গর্ত-ছাতি মহোদয়,
কতটুকু বাতাস নিয়ে সে আঞ্চলিক?
মৃতের রাগ অচিহ্নিত ধাতুর মতো,প্রকাশ্যে
এদিকে মশারী শোক, কোথাও ঠাণ্ডা
গড়াচ্ছে গড়াচ্ছে গড়াচ্ছে

০২
যতদূর চোখে আসে বৃষ্টিও অনুগামী- কালিদাস
অস্থির!
জুতোও অনিচ্ছুক বেড়াতে; রয়ে সয়ে ভালোমানুষ
কদম যৌতুকে অন্তত একটা বিয়ে হোক
শজারুরা ব্যস্ত রয় হেচকি সংকলনে
বল্লম- পায়ে ধরি মনোযোগী হও

বন্ধু, মার্বেল বেশ প্রাকৃতিক ভঙ্গী
ওয়েটিং রুমের ঘড়িতে পচন ধরে:
ভরসা... সকল ছিদ্রে বৃষ্টির প্রবেশ ক্ষমতা
বশীকরণঘাট...মগ্ন সিড়িতে তাঁবু খাটায়
নির্বাচিত মায়েরা

এখন ছায়াসংযত যদিও ধারাবাহিকতার অভাব

এই বর্ষা প্রবঞ্চক!
শুধরে দিতে চায় কিশোর ধারাপাত, মেরূদণ্ড?
জনশূন্য সুন্দরীর বৈমানিক স্বামী
চোখ কান খোলা রাখুন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28773665 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28773665 2008-02-24 17:08:16
আমাদের কবিতা (প্রথম পর্ব)
আমাদের ইতিহাস-চেতনা নিয়ে অনেককে প্রশ্ন করতে দেখা যায়। এ বিষয়টির আগে একটা উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা দরকার বলে আমি মনে করি। লক্ষ্য করেছি, ইতিহাসচেতনা নিয়ে যারা কথা বলেন, তারা হরহামেশাই লেখাপত্রে বিভিন্ন ঘটনার/প্রতীকের উদ্ধৃতি দেয়াকে ইতিহাসচেতনা বলে দাবি করতে চান, তারা দুটি কথা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যান। প্রথমত: ইতিহাস ক্ষমতার ছত্রছায়ায় নির্মিত হয় এবং দ্বিতীয়ত: কোনো কবিকে তিনি কেন ইতিহাস-চেতনা নিয়ে কাজ করেন না এটা জিজ্ঞাসা করা এক ধরনের মূর্খতার পর্যায়ে পড়ে। এমন মূর্খতাই হয়, যখন কোনও কালকে জিজ্ঞাসা করা হয় সেই সময়ের কবিতায় ইতিহাসচেতনা কোথায়! কেননা, কবিতায় কবি কী লিখবেন না লিখবেন তা একান্ত তার ব্যাক্তিগত বিষয় এবং এক্ষেত্রে তার মাঝে কী কী নেই তা কোনো প্রশ্ন হতে পারে না। শূণ্য দশকেরই কিছু কবি আছেন, যারা ইতিহাস নিয়ে কাজ করতে চান এবং তাদের এই চাওয়াটাকে আমাদের সবারই উচিৎ প্রকাশ্যে হলেও সম্মান করা। আর অধিকাংশ কবির কথাই যদি ধরি, তাদের মাঝে ইতিহাসচেতনা খুজতে গেলে আমরা তা পাবো প্রবলভাবে, কেননা, আমরা জানি ইতিহাসচেতনার সবচেয়ে বড় কথা হলো মানুষ তার নিজের কাছেই পরাজিত। এই পরাজিত মানুষের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন চূর্ণের মধ্যে দিয়ে জড়ো হচ্ছে আমাদের কবিতায়,যার ইংগিত আমি এই গদ্যের প্রথম লাইনেই দিয়েছি।

কোনো ধরনের যুক্তি উৎপাদন করবে না কবিতা এবং প্রশ্রয় দেবেনা এমন কোনো যুক্তিকে যা পাঠককে যুক্তির সেই প্রচলিত গণ্ডিতেই আটকে রাখে। এর ভাষিক অসঙ্গতি, বয়ন আমাদের এমন এক বোধগম্যতার দিকে নিয়ে যাবে, যাতে আমরা আবিষ্কার করতে পারি এক নতুন ভাষাজগতের; আর কবির ভাষাজগৎ বদলে যাওয়ার মানেই তিনি যে তার কবিতায় নতুন কোনো আলোড়নের সন্ধান করছেন, সন্ধান করছেন নতুন কোনো সম্ভাবনার। এক্ষেত্রে, প্রশ্ন আসতে পারে যে অসঙ্গতির কথা আমরা বলছি বা বলছি পংক্তির আপাত অসংলগ্নতার কথা- তার পরিসীমা কতটুকু,বা এই অসংলগ্নতার কথা বলে আমরা কবিদেরকে আরো দূর্বল কবিতা লেখার সুযোগ করে দিচ্ছি কীনা। একটু আগেই লিখেছিলাম যে, কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্রীয় থিম ধরে কবিতা নির্মাণ আমাদের কাছে ক্লিশে লাগছে। এই যে কবিতায় কেন্দ্রীয় থিমের শাসন,একে কেন্দ্র করেই পুরো কবিতার আকৃতি দাঁড়ানো, আমরা আমাদের যুক্তিবিশ্বের সাথে এধরনের কবিতার কোনও সামঞ্জস্য পাচ্ছি না। কেননা, নিজ অভিজ্ঞতায় আমরা দেখছি- যেভাবে কেন্দ্রীয় থিম গোটা একটি কবিতাকে নিয়ন্ত্রন করছে সেভাবে কেন্দ্রীয় কোনো যুক্তি আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণে একেবারেই অক্ষম। নিজ প্রয়োজনেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আমরা ভিন্ন ভিন্ন যুক্তির শরণাপন্ন হচ্ছি। কোনো সমস্যার এখন আর একরৈখিক কোনো সমাধান আমাদের হাতে নেই। আমরা যারা এতটুকু, খুব সামান্য হলেও অনুধাবন করতে পারছি- তাদের পক্ষে কী করে কেন্দ্রীয় কোনো থিমকে সামনে রেখে কবিতা লেখা সম্ভব- তা আমার বোধগম্য নয়।

এতটুকু লেখার পর আমি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবেই আশা করবো,কেন আপাত অসঙ্গতির কথা বলা হচ্ছে এবং তার পরিসীমা কতদূর তা আমাদের অনুধাবনে কষ্ট হবে না। কিন্তু এর সাথে এই প্রশ্নও থেকে যায় যে, এই পথে সঙ্গতিহীন পংক্তি রচনা আমাদের কতটুকু সহায়তা করবে বা আমাদের পংক্তিগুলোর মাঝে অন্তর্গত দূরত্ব কতটুকু হবে । আমার মনে হয়, এটাই এখনকার কবিদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা যাকে আমরা অসঙ্গতি বলছি, তা মূলত পরিচিত যুক্তিবিশ্বের বাইরে নতুন এক যুক্তিবিশ্ব তৈরী করার প্রভাস্বর। পার্থক্য হলো একে বুঝতে অভিজ্ঞতা ও কল্পনা, স্বপ্ন ও বিস্মৃতির সহায়তা লাগে। এদের রচনা করাও বেশ আয়াসসাধ্য। কেননা, যে শৃংখল স্বপ্ন ও আকাঙ্খাপূরণের, তাকে একদম নতুনভাবে, প্রায় প্রতিটি কবিতায় তৈরী করে নিতে হয়। এখানে কোনো ক্লিশে বস্তু পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার সুযোগ কবির কাছে নেই বললেই চলে। আর তাই, স্বার্থক কবিতায় অসঙ্গতিপূর্ণ পংক্তি রচনা, সঙ্গতিপূর্ণ পংক্তি রচনার চেয়ে বেশি কষ্টকর ও শক্তিমত্তার পরিচায়ক। এই অসঙ্গতির আরেক পিঠকে বলা যায় বহুরৈখিকতা। বহুরৈখিকতাকে নতুন করে ব্যাখ্যা করবার কিছুই নেই । কিন্তু বহুরৈখিকতা যেমন একই পাঠবস্তুতে নানাধরনের জগতের দিকে নির্দেশ করে তেমনি অসঙ্গতি সেই জগতের শরীর থেকে খুলে নেয় যুক্তির শেকল।

স্বার্থক যে কোনো শিল্পই মূলে ও মর্মে হবে অন্তর্ঘাতী- এই কথাটা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। কোনো কিছুকে শিকার করবে না সে, এবং তার প্রতিটি শব্দই তার কাছে হয়ে উঠবে আয়ুধ। এই অন্তর্ঘাত, তার জ্বলোচ্ছ্বাসসহ আমাদের উপলদ্ধির দেয়ালে আছড়ে পড়ে। এর ফলেই আমরা নতুন কিছু অনুধাবন করতে শিখি। এখানে একটি কথা লেখা আবশ্যক যে, নতুন কবিতা মানে নতুনদের লেখা কবিতা নয় বরং নতুন/পুরাতন যে কারও লেখা হোক না কেন, সেটি পাঠকের অভ্যাস ও রূচিকে এক সূক্ষ্ম অর্ন্তঘাতের মুখোমুখি করাবে। কিন্তু যখন তা লেখা হতে থাকবে, কবি মানসে এই অর্ন্তঘাত প্রবণতা বইবে অন্তশীলভাবে এবং কবিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তার কবিতাটি লেখার দিকে। পরে, কবিতাই কবির বাকি কাজটুকু করে দেবে।

কবিতাকে আমরা কি তার পুরো অবয়ব থেকেই দেখবো নাকি দেখবো পংক্তি থেকে পংক্তি বিচ্ছিন্ন করে। মানে, কবিতায় আমরা এখন আর কোনোধরনের টোট্যালটিকে খুজে বেড়াব কীনা। এক্ষেত্রে প্রথম বিষয় হলো, টোট্যালিটিকে তখনই খুজব যখন পুরো কবিতাটা একটা একরৈখিক ধ্যানধারনা বহন করে যাবে। বহুরৈখিকতার কাছে টোটালিটি অবশ্যই নগন্য হতে পারে না বরং বহুরৈখিক কবিতার টোট্যালিটি কবিকে একসাথে কয়েকটি জগৎ নির্মান করতে সাহায্য করে থাকে। তাই বহুরৈখিক কবিতায় পংক্তিগলোকে এমনকি কখনও কখনও কখনও শব্দগুলোও আরেক ধরনের টোটালিটি বহন করতে পারে, বহন করতে পারে তার আশপাশের শব্দগুলোর জন্য আরেকধরনের বিপর্যাস।

ছন্দ ও কবিতার অন্যান্য অনুষঙ্গ নিয়ে কিছুই বিশেষভাবে লেখার কোনো প্রয়োজন নেই । আমারা জানি, কবির জীবনযাপনের ভেতর থেকে গড়ে ওঠে যে ছন্দ, তাকে কবিতায় রূপ দিতে গেলে ছন্দ কোনো শৃংখল হয়ে ওঠেনা এবং কবিতার ধ্বনিশৃংখলা থেকে তাকে আলাদাও করা যায় না। আর যে নতুন কবিতার দিকে আমরা যেতে চাইছি, তাতে যে কোনো অনুষঙ্গই নতুন হয়ে উঠে আসতে বাধ্য, নতুবা নতুন কবিতা বলে তা গৃহিত হয়ে না ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। যেমন: নতুন কবিতা বলে আমরা গ্রহণ করিনি ব্রাত্য রাইসু সহ অনেকের কবিতাকে কেননা, আমরা জানি এগুলো ঈশ্বরগুপ্ত বা বাংলা কবিতার নাবালক সময়ে রচিত কবিতাগুলো থেকে তাদের কবিতাগুলো খুব বেশি একটা দূরে নয়। আর বাংলা কবিতা আজ এমন এক স্থানাংকে দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে একে ‘বাচাবার’ চেষ্টা করা বাতুলতামাত্র ও হাস্যকর। বাংলা কবিতা এখন শুধু সেই অগ্রসরমানতার দিকে যেতে চায়, যেখান থেকে সে সরাসরি তার ঘাড় ঘুরিয়ে বিশ্বকবিতায় বহমান অপরাপর স্রোতের সাথে নিজে লীন হতে পারে। এই সময়, পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনাকে খোঁজা মানে এক ধরনের মিডিওক্রিসি, নিজেদের সম্ভাবনা, নিজেদের দূর্বল শক্তিমত্তাকে আনমনে স্বীকার করে যাওয়া।

শূন্যদশক এসব প্রবণতা-উৎপাদন থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত এবং এই সময়ের কবিদের মধ্যে খুব কম কবিই এধরনের ফাদে পড়েছেন বলে আমার ধারনা।



(প্রথম পর্ব সমাপ্ত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28771833 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28771833 2008-02-19 01:00:47
পিয়াস মজিদের কবিতা পিয়াস মজিদ আমাদের সময়ের কবি। তার অর্ন্তমুখী স্বভাব শৈশব থেকে এই পর্যন্ত তাকে ভয়ংকর একাকীত্বের মুখোমুখি করিয়েছে । বোধহয়, এই নৈঃসঙ্গ্যই তাকে দিয়ে রচনা করিয়ে নিয়েছিল এমন কিছু কবিতা যা একজন পাঠক হিশেবে আমাকে প্রচণ্ড বিস্মিত করেছে। সে কারণেই তার কবিতাগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাওয়া। আশা করবো কবিতাগুলো আপনাদেরও বিস্মিত করবে।- তারিক টুকু


মার্বেল ফলের মৌসুম

পিয়াস মজিদ

১.

ছোট নদী পাহাড় বাগিচা রক্তের নির্ঝর। পাতা ও পাপড়ির অলিন্দ। সন্ধ্যার ঝিলিমিলি তারপর সমুদ্রকুহক; জলের বিষণœ রেখা। শ্যাওলার সবুজ গন্ডোলা। চাঁদচূর্ণ ছিটকে ছিটকে ভৌতিক আভা, নক্ষত্রক্ষত, মেঘমালার গোপন অসুখ। মৃত্যু ও সুন্দরের যুগলবন্দি। লেট দেয়ার বি লাইট, লেট দেয়ার বি ডার্ক। জীবনের জটিল সারগাম। ধাতব ফুলের তোড়ায় তোমাকে অভিবাদন। বেঁচে থাকার এই রিক্যুয়াম, সোনাটায়।

২.

পরিরা পিরিচে ঢেলে দিচ্ছে হিংস্র আলোর দ্যুতি। দৈত্যের ওপর লালগোলাপের ভার। যাদুদগ্ধ রাতের পোড়া ডানাকুলে ঋষিসমুদ্রের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে; নিখিলে নিখিলে কামজোয়ারের শ্যামজল। মারবেল ফলের মৌসুম শেষে শুষ্ক বাগিচা ঘুরে কুড়িয়েছি সান্ধ্যকুয়াশা, মৃত্যুসংকেত, ব্যাথার নিলাভ ঘূর্ণি। আড়ালে থেকে এই ধ্বংসদৃশ্য সায় দিয়ে গেছে সুবর্ণসিংহ এবং হিরাহরিণের দল। কাকলিসমেত উড়ে গেল পাখি; তার পালকের খাপে পোরা রক্তঝোরা। আর সবুজ লণ্ঠনে দেখা যায় আজকের এই খুন, আয়রনি সব রূপহারা রাজহাঁসের নিরুপম কবর।

৩.

চন্দ্রমন্থণের রাত আবার। খয়েরি খেলায় নীল নিমজ্জন শুধু। বুদ্ধগয়ার পথে হিংসাসূর্যের বিভা। নরকের ফুল আছে গাছে। রক্তাভ উষার এলোচুল চুঁইয়ে তিক্ত সুরভি ঝরে । ডানে ত্রসরেণু, বায়ে পাপের ত্রিভুজ। সেদিকেই মৃত্যুময়ূর পেখম খুলে দেখায় খাঁজকাটা পরমের গুপ্তজ্ঞান। আমরা মূর্খদের রাজাপ্রজা পিশাচস্রোত ঠেলে উদ্ধার করি বিক্ষত সমুদ্রকণ্ঠা।


৪.

শ্রীময় বসুধার উপর গ্রহণলাগা তপনের ভার। তারা আছে ঝিলমিল। তপন ও তারার সংঘাতে জ্বলছি । পাহাড় ভেঙ্গে টিলাপাখি ছুটেছে । কোথায় সে তিক্ত গোলাপের ঝাড়, পালকছেঁড়া নীল রাজহাঁস? হিমকুঠারের কোমল ঘায়ে যুগল গলছে করোটি ও কণ্ঠা। সকালশেষে সহস্র সন্ধ্যা পায়ে পায়ে ঢুকেছে গান্ধর্ব ঝড়ে। মৃত্যু তোমার অমল রাগে আবার অজস্র তারা ও তপন। জ্বলে নিভে, ছড়ায় রক্তশোভা।




৫.
এ নিশিপাওয়া প্রভাত। শূন্যে শুরু, শূন্যেই শেষ খাতার যত জটিল অঙ্ক। পথে পথে স্বর্ণবেশ্যা ছিটিয়ে রেখেছে শুভতার জাল। লণ্ঠন জ্বেলে দেখা হবে জ্যান্ত-মরা বিকেল সকল। ঝিনুকচেরা লাবণি সহযোগে নৈশভোজ আজ। সমুদ্র কুপিয়ে পাই প্রকৃত জলতনু। হাতে পায়ে সীল, তিমি, হাঙ্গর প্রহার। হিমশুশ্র“ষায় সে তখনো নিশি। প্রভাতে নতজানু সামান্য নিশি।

৬.
তারাব্যাধ পেতেছে ফাঁদ। অনন্ত রাতের গাঢ়-তমস ফাঁদ। খুনবীথির বিজন বনে খরজলের ঝিল। ঝিল জুড়ে মৃত্যুমুখর অজস্র শৈবাল। পুষ্পপ্রহারে হিমের পোশাক খসে গেছে। চারদিকে উঁচুনিচু রক্তরেণুর পাহাড়। এতসব হাওয়া; কোমল ঋষভ! উড়ে-পুড়ে ছাই হয়ে যেতে হবে আজ। বীণা ভেঙে তুমি যদি ব্যাথার দুয়েকটা মঞ্জুল বাজনা...

৭.
জলআঁধারে আলো নেমে গেল রাজহংস রূপে । মুক্তাপ¬াবনে ভেসে যাবে মধ্যরজনী গান। পিছে রেখে পারুলবন ফুটেছে থোকা থোকা রোদনের ফুল। হাওয়াও আজ হন্তারক। নিরঞ্জন নদীতে ধ্র“পদ, খেয়াল আর যত মিথুন। সুরের শত্র“ যে মেয়ে তারও হাতে বেলোয়ারি চুড়ি। ক্ষণপ্রভা তারার নীলিমা দেখে নিদ্রা ভুলে এক অসুখী যুবা নির্বিকার গড়ে যাচ্ছে তাসের পাহাড়। কি সব অলংকারে রাতের গলায় অমিতাভ মৃত্যুর হার।
৮.

এ সকাল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় । শৈবাল ঝড়ে চুরমার রূপালি হরিৎ কাচের পাখির গান। নগ্নদিগন্ত বাজায় সূর্যবেহালা। লতাপাতার দেয়ালি জ্বেলে দাঁড়িয়েছ দেবদারু। সোনার কানন পুড়ে যায় তাতে। রজতের ছাই হয়ে ময়ূরীর নাচ অশেষ। খুলবে এবার সংবর্ত ব্যাথার পালক। অরণ্যসমুদ্র সবাই শুনবে নিশিথ প্রহার শেষে কি সুরে কাঁদে কূলহারা চাঁদ।

৯.
‘চাই আরোগ্য’ বলে মৃত্যুসদনে ভিড় করেছে সবাই-পরিযায়ী পাখি, মুকুটখসা রানী কিংবা নামহারা পতঙ্গ কোন। শেষ শ্রাবণের জলগুলো শীতের ভেলায় । দূরের লুণ্ঠনধারায় মাধবীর হৃত যত শ্বাস। তাকে ঘিরে গান হয়, ভোরে মেশে রজনী। অমাশেষে শুরু আরো এক হিরণ্যদুপুর। কঠিন শিলায় গোলাপ তোমার কোমল গুপ্তঘাত। ঝিলিমিলি খোলা নিঝুম সন্ধ্যা; আগে পিছে কিছু কামুক সিদ্ধার্থ। আরোগ্য পড়ে থাকে । সূর্যাস্ত দেখার ছলে শশী ছুটে যায় মৃত্যুকুসুমটিলায়।

১০.
সোনার পাহাড় থেকে দেখা যায় জটাময় চাঁদ। বজ্রবৃক্ষের গলায় যখন নৃমুণ্ডের মালা। রক্তভাসানে সাত ভুবনের লতাপাতা, সমুদ্রচুল আর রূপালি যত রূপকের ভার। টিকলিপড়া মেয়ে উর্মিজন্ম পেয়ে ছুটে যায় মায়ামোহনায়। তার নাচের করাতে গলে গুপ্তপারদ। রাত্রিপ্রহারে বেঁকে যাওয়া ভোরের কণ্ঠে মরচে পড়া জ্যোৎস্নার ইতিকথা যত। আর এমন হেমন্ত, বিকেলের এত মন্দাক্রান্তা ঢেউ তবু দেখো মীরা, অগ্নিরতেœ পুড়ছে কেমন তোমার ভজন।

১১.

স্থিরস্রোতা সমুদ্রে ডুবেছ রাগবন্দেশ তুমি। আছি তোমার শুরু ও শেষের ঝনৎকারে। জনম থেকে জনমের মৃত্যুকলে¬াল। হরণের হাওয়া হয়ে ডুবেছি চাঁদ, সূর্য থাকে দর্শক। কিংবা কোথাও লুকিয়ে খুলে দেয় শৈলবাসের দ্বার। তারপর তরুশীর্ষে জাগে নাটমন্দির এক। বিপুল নাদে শুষে ফেলে সে ধীর যত সমুদ্রঢেউ। তবু আহত গানের ব্যাথায় তুমি আর জোড়া লাগো না, পথপ্রান্তে পড়ে আছ ছিন্নভিন্ন সুর।
১২.
কালো তীব্র তরণীতে শ্যামঝিল চলেছে। সামনে হিমঘুঙুরের গোপন প্রদেশ। দিগন্ত ঝেঁপে নামে কাবেরিঝড়। ভোরের ঘন্টা ভেঙ্গে পাহাড়ে পড়েছে। পাহাড় আজ সুর। মেঘমেঘালিতে সুরের আজ লোপ। বত্রিশ বাগিচা ঘুরে হাতে হাতে কেয়া আর চাঁদের পাতা। শেফালির সাথে ঝরেছে সূর্য। তারপর সোনালি তরল, রূপারঙ চুল। অনামিকায় পড়েছি নীলাভ তিমির তোমার।
১৩.
ফেটেছে বরফ টিলা। এবার শেষøান নটরাজ। চন্দ্রপ্রপাতে ভেসে যাওয়া কফিন ওফেলিয়ার। স্থিরবিজুরি আকাশে; সামনে সমুদ্রবিষ, মৃত্যুসৈকত, ড্রাগনের ঢেউ। বিচূর্ণ সব রাতের পাষাণ। হৃদফোয়ারার জলে তোমার ত্রিবেণী রূপের জনম। ডুমুর পাতার পোষাক খুলে এই যে আদি নাচ। নীলিমাভুক মুদ্রার ভোর।

১৪.
তারার ছুরি। নীলিমাকঙ্কাল। আত্মার অন্ধকার থেকে দীপজ্ঞান আসে। তাকে তুলে নিয়ে গয়না নাও আজ প্রজ্ঞাপরম। খরজল কেটে কুটে সোনারু, রূপারু। সন্ধ্যাফুলের কনকআভায় শতধারা নাচ। রক্ততরঙ্গে আছি- নিরশ্র“ লোবান, সজল ধূপ। প্রহর সমাগত-খুনের শ্রী, সুরভির মর্গ, নীলিমাখনক। ভূমিতে ঝড়; সমুদ্রতারার।

১৫.
রক্ততিমি গিলে খায় সমুদ্র। হাতে পায়ে লাল নীল আর্ত জল। হিমচাঁপাস্রোতে ছিল নিঃস্ব নভেম্বর,পুলকখণ্ড আর মৃত্যুসহস্র। এই প্রথম রুদ্ধদামিনী মেলে দিল ডানা যখন শেষ শরতের সব পাষাণ পুষ্প কোমলে -ঋষভে ভাঙছে পোড়া পান্নার দগ্ধতনু। পাতালপরিখার অসুখ ছুঁয়ে চলেছি শীর্ষসুখে। সন্ধ্যা হে, পূরবী গেঁথে গেঁথে এবার তমসতনু নিশীথের গান।

১৬.
আজও তার গুপ্তপথে রক্তের অমোচন দাগ। না চাইলেও সেদিকে গেছে জোড়া জোড়া শিকারী চোখ। কিন্তু লালসা চূর্ণ করে গোলাপের বিকিরণ শুধু। আর স্বচ্ছ দেখা যায় ভোরের ভেতর সহস্র ধ্বংস, রাতের গভীরে কিছু বহুগামী তারা। এই মেয়ের তমস্রোতেই তপোবন, প্রমোদকানন। তুষারের তীব্র সাদা বেণী বেঁধে রিক্তহাত বসে আছি। পা থেকে ঝরেছে নাচ। মেয়ে, একটু জায়গা করে দাও। সমস্ত সুবাস খুইয়ে নিঃস্ব দাঁড়িয়েছি তোমার গুপ্তপথে।

১৭.
মৃত্যুমেখলা নদী-বুদ্ধপ্রণাম ভেসে চলে হিংসাজলে। ঐ তো চূড়া, দেবীর পাহাড়। সকাল ও সন্ধ্যার শুদ্ধ অমল শে¬াক। নম্রধীরে পুড়ে যাও প্রিয় রাগিনী সব। এখন এতশত হাসি কান্নার ছাই। রাজেশ্বরীর পথে ঘাটে আমাদের ভাগ হয়ে যাওয়া হর্ষহল¬াবিষাদ। একা এক খঞ্জনার আর্তিতে ফোটে সবুজ পাতার বাহার। তারপর লক্ষ গণ্ডারের নিযুতস্রোত খুবলে খাবলে খায় দেবীর পাহাড়। নাশযজ্ঞ ফুরোলে নদীতে থাকে পাহাড়পোড়া আলো।
১৮.
সমুদ্র শুয়ে আছে, আমার হাতে তার তরঙ্গের ধার। মুখের ভেতর চিত্রল সব উদ্ভিদের বাগান। হিমানির গুহা অনেক দূর। তার শীতল গায়ে এই শীতরাতেও জ্বলে ওঠে লালনীলসোনালি অজস্র আগুন। দশদিক থেকে প্রতœচোরেরা জড়ো হয় তাদের গুঢ় অভিসন্ধিসহ। ওদিকে আবার শুরু ব¬্যাকহোলের সেই মরণনাচ। আর আমরা ছুটতে থাকি প্যারানয়েড মেয়ের পিছে এবং বিকেল পাঁচটার হাওয়াও এসে সায় দেয় আমাদের । তারপর কবরখানার মৃতরা, পানশালার মাতালেরা মিলেঝিলে রাতারাতি এক উৎকল্পনার মাঠ। সমুদ্রের শয়নভঙ্গি কুয়াশায় পুড়ে যায়।

১৯.

ওই রহস্যটিলার ধারে তারার আশ্রম। দিগন্তপতনের রাত; হাতে হাতে মধুর কৃপাণ। পাখির ডানাস্রোতে রাক্ষসেরও রক্ত ছিল। দক্ষিণের দিকে ক্রুশের ঝড়। পরির সজল হাড় গুহাগর্ভে; রজতরশ্মি হয়ে সে আজ দশরকম ফুলে লীন। মৃত সুবাসের কণিকায় তুমি তবে বিষকুম্ভ। নুড়ির নৃত্যে ফোটে চাঁদপনা সূর্য। দিগন্তপতন শেষ; ফিরে ফিরে ফুলের বাহার আর নাচের সুবাস।

২০.
ঘুরে ঘুরে আবার রক্তকেলির মৌসুম। জহরত স্রোতে ভেসে এসেছে আফ্রোদিতির কঙ্কাল, লিথির হাড়। পেছনে কতশত কনফেশনের কাল, জবাকুসুমের জঙ্গল, চিত্রলেখা ভোর। আরোগ্যের অধিক মৃত্যুনিকেতন। দশতলা টাওয়ারে ছাতিমবন পেরিয়ে এসেছে সুবর্ণসিংহ। ঘাসপাতার সবুজ সিম্ফনি মধুবাজার ভেঙেচুরে ঢুকে গেছে সন্ধ্যার দেরাজে, কার্ণিশে। নরকের ক্বাসিদা গাইতে গাইতে সাজিয়ে ফেলছি আমার কফিন। দূরে দু’ফালি করে কাটা সমুদ্র; তোমার জন্যে বিভক্ত জলভাষা।


২১.

সেরেনাদ রোদের । বজ্রের ডাইরি জুড়ে মেঘের গর্জন। কাছে কোথাও সমুদ্র ছিঁড়েখুড়ে মধ্যভোরের হাওয়া। খয়েরি পাতার স্তুপে পরীর গোলাপি পদচ্ছাপ। লক্ষ বছরের ঠাণ্ডা কফিন ফুঁড়ে বেরিয়ে পড়েছ তুমি রূপসী খুনি। দ্বিধার মুদ্রা গেছে খসে, অন্ধকারের পরোয়ানা দু’হাতে। এমন তোমার প্রবেশ; সবুজ বনভূমে যেন কিছু গোপন কুঠার। তারপর বুনো চাঁপার চিতা, সুগন্ধি ছাই আর উড়ন্ত মাধুরী কণা। রোদ না মেঘÑ কে পাঠক এই রক্তভাষার?

২২.

চাঁদমারি, মেঘদল, স্বর্ণধূলো বায়ে রেখে ছুটছিলাম পশ্চিমে; বালি জমে জমে যেখানে রতেœর কারুময় পাহাড়। লাল নীল মারবেলের স্তুপের পরেই পুষ্পলুণ্ঠকের দুর্গম গুহা। ক্ষণগন্ধা বকুল, গোলাপের রক্তিম চুলি¬ আর চামেলিস্রোতে ডুবতে ডুবতে একটা ডুমুরের ডাল আঁকড়ে বেঁচে থাকলাম কয়েক অধিবর্ষ; সঙ্গে আমার সবুজ হলুদ ঘাতক যত। হু হু শোঁ শোঁ শব্দস্রোত চারদিকে। গর্জন করছে কে-বনঝাউ না সমুদ্র?

২৩.
ছুরিবৃক্ষের ছায়ায় বেড়ে উঠি- ধারালো আপেলে দাঁত বসিয়ে মৃত্যুকে খাই। সংশয়ের স্রোতে ভেসে ভেসে পৌঁছে যাওয়া সেই দ্বীপে যেখানে নিরক্ত প্রেম আর রক্তাক্ত পাথরের স্তুপ। মেঘমল¬ার রাগে রাজকুমারীর গোপন প্রত্যঙ্গ শুকিয়ে আসে। সন্ধ্যার শ্বাসমূলে-লাইটহাউসে, জলের গভিরে- মাছের মহলে ঘুমিয়ে পড় তোমরা- লেডি ল্যাজারাস, হিংস্র ড্রাগন, মাতা মরিয়ম কিংবা স্মৃতিবকুল। তারপর আয়না-আত্মঘাতি চেহারা। দূরে বিষমাখা টিলা। কাঁটার মুকুট তো মাথায় আর ঐ যে আমার রাঙা চিতা।

২৪.

রক্তাভ সমুদ্র। ঝিনুক কুড়োতে গিয়ে সৈকতে খুঁজে পেলাম শত শত লিবিডো কঙ্কাল। কাছে কোন বনে, রহস্যসবুজে লেপ্টে গেছে নিষ্ঠুর এপ্রিল, গত জনমের গ¬ানিগাঁথা এবং তারাবিদ্ধ রাত। তীব্রগন্ধা কুরচি ফুল হাতে পাহাড় ডিঙিয়ে যাচ্ছিল কয়েকজন। যাদের আয়ু আটকে আছে চামেলির শুকনো পাপড়িতে। হাজারদুয়ারি মহল ছেড়ে চন্দ্রগ্রস্থ নর্তকীর দল ঢুকে পড়ল সাপের সভায়। আর এরকম ধ্বংসরেখার সামনে বিষণœ শিল্পী; বাটিতে একফোঁটা রঙও নেই।


২৫.
ফুটেছ এইমত তমসাকুসুম। আর সেই ডাকিনী খুলে দিয়েছে বিষের নির্ঝর। বাড়ি ফিরছি, কলসভরা সুধাজল । সাত সমুদ্র কোমল কাঁধে বয়ে নেবে শঙ্খধূলো, বালির ভাসান। জটখোলা চৌষট্টি কলার পরিমাপে বাজাও তোমার গুপ্তসরোদ। তার পা বেয়ে গলায় উঠুক রক্তগুল্ম। লতাপাতা, চক্রে বাঁধো ওকে। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখব; দাও আমাকে হিংস্র দিগন্তজন্ম।
২৬.
জ্যোৎøাধোয়া পেভমেন্টে রাক্ষুসীর পায়চারি; বাগিচায় ফুটেছে ফুল রক্তচাঁপা। ঘুমের গভীরে শতজল ঝর্ণাধ্বনি আর লক্ষ গিগা অন্ধকার। নীল লেগুন থেকে মৃত্যুসুরভি বাতাসের সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেছে মেঘের মহলে। উত্তরে যেওনা- জুলাইয়ের চব্বিশ, কাঁদছে ওফেলিয়া। দক্ষিণে যেওনা- সমুদ্রে শুয়ে আছে ক্ষতিকর ক্ষার। পশ্চিমে সত্যপোড়া ছাই- গগনে মিথ্যাময়ী শিখা। পুবে ভূমণ্ডল ছেঁড়াখোড়া- এইমাত্র কবরে নামল পাতাবাহারের লাশ। দূরে বুনো অর্কিড; কণ্ঠে সং অফ সলোমন।
২৭.
ঈগল বাজাচ্ছে পিয়ানো। আমার দিকে ধেয়ে আসছে ক্রুদ্ধ কিছু গোলাপ। নাচের শিক্ষিকা শীতনিদ্রায়; রাতটা তার ঘুমন্ত মুদ্রার পাহারাদার। অনেক দূরে রেশম ও বালিময় অধিত্যকায় হস্তমৈথুন, সফল সঙ্গম কিংবা জাতকের গল্পরা অপেক্ষা করছে- কবে আসবে প্রার্থিত পাঠক? বর্ণগন্ধ নেই এমন সব ঝরা বকুলে মাঠের পর মাঠ ডুবে থই থই। হিংস্র এক পরি রক্তকাঁটার ঝোপ থেকে স্বর্ণছুরি নিয়ে ছুটছে কোথায়? নিহত নদীটা মিলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রস্রোতে।

২৮.
ঐ ঘরে যাদুভষ্ম। ছাইয়ে অঙ্গারে স্বর্গ স্ট্রিট, নরক লেন। দরজাটা খুলে কে ঢুকল? পাপ ও পূণ্যের সওদাগর। আজ রাতেই বসবে তোমাদের লাভালাভের মুশায়েরা। বাইরে কামিনী আর নিশীথ-হাওয়ার ঝাড়। গন্ধের লোভে জীবনানন্দের ট্রাঙ্ক ভেঙে বেরিয়ে পড়েছে উৎপলা, মাল্যবান।

২৯.
যেদিকে কসাইখানা সেদিকেই ফুলের দোকান। রক্ত আর পাপড়ির পাহাড়। প্রতিদিন ওদিকে যাই। ব্যাগ ভরে কিনে আনি মাংস ও গোলাপ। খবরের কাগজে একদিন নন্দীগ্রাম, একদিন কুইন্সপার্ক। কিন্তু আমি রোজ মাংস খাচ্ছি, গোলাপের গন্ধ শুঁকছি। গোলাপে মাংসে সফল হচ্ছে মানবজীবন।
৩০.
এই বর্ষার অপরিণামী হাওয়া; ঝুম ঝুম জলের ঘুঙুর। আধডোবা সবুজের আড়ালে একরাশ ধূসর সাম্পান। এত এত অপমৃত্যুর খসড়া জমেছেÑকায়রোর সরাইখানাও সে শোকে নীল হয়ে আছে। দেবীর রূপের আগুনে ডাইনির রতির পালক। আমার বুক চিরে খঞ্জর। খঞ্জরের গা বেয়ে রক্ত। রক্তের লালে তুমি ও তোমার কোমলগান্ধার।
৩১.
দুঃখের ভারে ধ্বসে পড়ছে পাহাড় আর আমি হোটেলকক্ষে বসে শুনি অন্ধকার সমুদ্রগর্জন। চোখ বলে যা ছিল তা খুলে টুলে রেখে আসছি জলের প্রান্তে। সিÑবীচে বসেছ মেয়ে তুমি আর পড়ে যাচ্ছ নরকের দিনলিপি। কিন্তু তোমার রোদচশমায় বিন্দু বিন্দু হীরকতুষার। এসবই নেপথ্যে রেখে পাহাড়চূড়া, সমুদ্রতট ছিন্ন করে একে একে বেরুতে লাগল সা রে গা মা পা ধা নি সা, চমনবাহার আর বুনো যত ফুল। সন্ধ্যার শ্বাসমূলও নড়েচড়ে ওঠে একটু, ঝড়ের চিরকূট হাতে পৃথিবীতে ধেয়ে আসে আরও একটি রাত।
৩২.
পাথরের পেয়ালায় গণিতশ্রেষ্ঠার রক্ত পুরে ভাবছিলাম সূর্যক্ষতের কথা। মালির অজান্তে কত নষ্ট গোলাপে ভরে ওঠো বাগান। তার কাঁটা ও সুরভির রেখা ধরে জন্ম নেয় আমার ঝুলন্ত চিতা। রোদের অনেক ছায়াবাজি খেলা শেষে আকাশ কিছুটা একা হলে মিনার্ভা তোমার প্যাঁচার উড়াল। চাঁদের চোরাবালিতে পা ডুবিয়ে ভুলে যেতে থাকব কোন এক সূর্যের গল্প। গণিতশ্রেষ্ঠা মিলিয়ে যাবে গানের øিগ্ধ ছায়ায়।
৩৩.
ভোর হতে না হতে একে একে জড়ো হল প্যান্ডোরার বাক্স, রুগ্ন ভেড়ার পাল, মৃত ঘাসফুল। পৃথিবীর ্এইরকম ধাতব আবহাওয়া; দুপুর না গড়াতেই সিন্দুকে গুপ্ত প্রেমিকের লিপ্সা। ছায়াবীথি পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলে রক্ততরূর বনে আগুন দাউ দাউ। লাল ছাইয়ে ছেয়েছে নীলবর্ণ আকাশ।রাত হয়ে আসল,জলসাও শেষ। হাত পা বিঁধে আছে কোমল কিছু সুরের কণায়। তোমার গানে গানে জেগেছিল মলিন রঙিন এতসব দৃশ্য। এখন আবার সেই রিক্তশ্বাস। দৃশ্যহীন জলসা ঘরে রাতের পর রাত।

৩৪.
তোমার গোপন কুঠার ভেদ করে চলে গেছে গোলাপের হৃৎপিণ্ড। যখন রূপের ক্ষুধা নিয়ে গাছে ঘুমুচ্ছে কাঠবেড়ালি। গেল রাতে সেই ডাকিনী মায়ার খেলায় এক হাড়িতে চড়িয়েছে সাপের ডিম, কচ্ছপের মুণ্ডু, গণ্ডারের চামড়া। রান্নার ভুতুড়ে গন্ধ স্বপ্নেও হানা দিল। যুদ্ধ শিবির, আব্রাহাম, বিপাশা, দেবযানি, কচে ভরে উঠেছে ব্যক্তিগত ড্রয়িং খাতা। কুয়াশার কারণে হয়নি একখন্ড মেঘের নির্মাণ।
৩৫.
আমাদের জন্যে ছিল দশায় পাওয়া কিংবা মখমলশয্যা। এর কোনটা না নিয়ে লাল আপেলের বন পেরিয়ে ক্রমশ ঢুকে পড়েছি খয়েরি ফিরোজা ফুলেদের সভায়। পেলব অন্ধকারের বুক চিরে যেখানে জ্বলছিল কিছু নিষ্ঠুর মোমবাতি। বাতাসের শিরায় শিরায় মুদ্রিত দেখলাম নীলকুঠারের গল্প। অল্প দূরে অপূর্ণা হৃদ আর সেটা ছিল সিডার বৃক্ষ পতনের রাত। নূরজাহান, তোমার সুরের বাগিচা ডানে রেখে সামনে যেতেই জড়িয়ে গেলাম সেই প্রেতিনীর চুলের জটে; তার চোখের কাঠামো থেকে পায়ের পাতায়। মলিন তারাভর্তি অনেক সিন্দুক নিয়ে সে যাত্রা বাড়ি ফিরলাম।
৩৬.
টিলায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখবেনা শশী। কুসুম গায়ে মাখবে না ফাল্গুনের বৃষ্টি। সাপেরা ছুটছে অরণ্যের সেই অংশে, ফুল যেদিকে ফণা বাড়িয়ে আছে। দক্ষিণের খুনি হাওয়া হল¬া করতে করতে ধাওয়া করল যাকে পায়ের ছাপে সে রেখে গেছে মানুষ ও জন্তুর ব্যবহৃত বিবর্ণ জীবনের ধুলো। রেখা আর রঙের কাটাকুটিতে তাকে আহত হরিণ নাম দিয়ে গেল ফ্রিদা কাহলো বলে এক পাগলি মেয়ে।
৩৭.
তরী ও তীরে কালো কবুতরের ঝাঁক, মৃত মধ্যমার হাড়। ও লোমশ তারা, তোমার হিংস্র বিভায় অনুগত ভৃত্যের মত করে যাচ্ছি মৃত্যু ও মেঘের কারুকাজ। আমাকে সায় দিয়েছে বহুগামী দেব, সমকামী পরি। আর কে একজন কুয়াশার মুন্ডু হাতে ফেরি করে বেড়াচ্ছে ছিন্নভিন্ন বসন্তের বার্তা। দূরে ক্যাথিড্রালের ঘন্টাধ্বনি; আরো আড়ালে রূপালি দানবের কান্না।

৩৮.
শ্যামাপাখি ডাকছে প্রেতঝরনার দিকে। খরতর ঢেউ নিয়ে বসে আছ শান্ত সাগর। তোমার তলদেশে মৃত্যুমৃণাল, সেবাদাসির সাজঘর আর অনেক অনেক সবুজ পাথর। কারো ঘুমের কাছে আমার জাগরণবেলা, বোবা-বধির ফাল্গুনহাওয়া। ফণিমনসার ঝোপে মাতাল জিরাফের সিমেট্রি ঘিরে বেজেছিল যে রক্তবীণা তার দু'ফোঁটা একফোঁটায় ডুবে যাচ্ছে আজ সমস্ত স্বর্গসরণী, নরকপ্রান্তর। ভোরের খাতা নিয়ে বসে আছি; পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় দিপালি ও অমারাতের অজস্র লীলাভাষ্য।
৩৯.
গোলাপের লাল অন্ধকার থেকে তুমি কতদূর মৃত্যুর শিখর? লক্ষ লক্ষ বিপন্ন নক্ষত্রের জানা আছে পিরানহা, প্রেমিকা ও মাতা মেরির ঠিকানা। যখন জন্মান্ধ যুবরাজকে ঘিরে নৃত্যপর ধানফুল, মধুমাছি, রূপালি রাক্ষস। মেয়েদের পায়ে পায়ে সোনা হীরার শৃঙ্খল। সুকৃষ্ণ রাত খুলে ফেলেছে তার পোশাকআশাক। কয়েকটা ন্যাড়া শিমুলগাছ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে দূর মাঠে মৃত হিমের সৎকার।
৪০.
গন্ধবণিকের মহল্ল¬া ছেড়ে তুমি বারবার ঢুকে পড়ছ বাদাম বাগানে। খুলবে যেন রহস্যের রেশমি সব গিঁট। আর অতিকায় দেব এক সুরের পাহাড়টা মাথায় করে এনে রাখল নক্ষত্ররঙ পরির পায়ে। পুড়ছে বনকুসুম, বইছে হিমহাওয়া। খোলা থাকছে চব্বিশ ঘন্টা আপেল এবং মৃত্যুবিতান। শিলাস্তর থেকে মেঘের মিনারে কারা বসিয়েছে এত এত খুলি ও হাড়ের পূজা! কাছে অন্ধকার নদী, দূরের পেভমেন্টে স্বর্ণটিপ পড়া প্রেতিনীর দল। চিত্রল ছুরি হাতে তারা সব চলেছে কোথায়? আমারও যে চাই রক্তিম সুরভির ভাগ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28771233 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28771233 2008-02-16 21:23:11
সাক্ষাৎকার:উমবার্তো একো

যদিও আপনার সবচেয়ে বড় পরিচিতি “দ্য নেম অফ দ্য রোজ” উপন্যাসের জন্য তারপরও আমরা জানি, আপনার করা রাজনীতি বিষয়ক মন্তব্যগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। রাজনীতি বিষয়ক লেখাগুলো নিয়ে আপনার বই “টার্নিং ব্যাক দ্য ক্লক” এ আপনি পাঠকদের ‘মিডিয়া পপুলিজম’ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। আপনি আমাদের বলবেন, এই ‘মিডিয়া পপুলিজম’ জিনিসটা কী?

মিডিয়া পপুলিজম হলো শুধু মিডিয়ার কল্যানে কোন একজন মানুষের অস্বাভাবিক দ্রুততায় জনমানুষের কাছে পৌছে যাওয়া। একজন রাজনীতিবিদ, যিনি মিডিয়াকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন তিনি অতি সহজেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে যেতে পারেন। এমনকি, তিনি পার্লামেন্টকে এড়িয়ে গিয়ে বা অগ্রাহ্য করে অর্থাৎ মানুষের জন্য কোন কাজ না করে ও সরাসরি জনমানুষের কাছে পৌছে যেতে পারেন।

আপনি ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির প্রচণ্ড সমালোচনা করে থাকেন, যিনি মিডিয়াকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে ব্যবহার করতেন।

১৯৯৪ থেকে ৯৫ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বারলুসকোনি ছিলেন ইতালির সবচেয়ে বড় ধনী। সেসময় তার হাতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তিনটি টিভি চ্যানেল থাকার পরও তার নিজের মালিকানায় ছিল আরো তিনটি টিভি চ্যানেল। এক্ষেত্রে তিনি মূলত একজন উদাহরন-যোগ্য ব্যক্তি এবং এই জাতের মানুষ পুথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা অসম্ভব নয়। কিন্তু দেখা যায় এরা মিডিয়াকে কুক্ষিগত করতে প্রায় একই ধরনের কৌশল নিয়ে থাকে।

কিন্তু এফ.সি.সি-র মতো প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন ফেডারেল প্রতিষ্ঠান আছে মিডিয়ায় মনোপলি আটকানোর জন্য, এরা কী করছে।

এরা করছে, কিন্তু এখানে মিডিয়া ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটা বিশাল ভারসাম্যহীনতা আছে, অন্তত নীতিগত বিষয়ে।

তাহলে ইতালির পাশাপাশি অন্যান্য কোনো দেশের কপালেও কি “মিডিয়া-টেকওভারের” ভয় আছে?

ইতালিকে বলতে পারেন পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনার একটি ল্যাবরেটরি। ফিউচারিস্ট আন্দোলন এখান থেকে শুরু হয়। ১৯০৯ সালে আমরা ফিউচারিস্টদের ম্যানিফেস্টো হাতে পাই। নাৎসিবাদ শুরু হয় ইতালি থেকেই, তারপর তা ছড়িয়ে যায় স্পেন, বলকান এবং জার্মানিতে।

মানে আপনি বলছেন যে, জার্মানরা নাৎসিবাদের ধারনা ইতালি থেকে পেয়েছিল?

অবশ্যই, ইতিহাস তো আমাদের সেটাই বলে, তাই না?

সম্ভবত, এটা শুধু ইতালিয়ান ঐতিহাসিকেরাই বলেন।

আপনি চাইলে এটাকে না ও মানতে পারেন। কিন্তু আমার এতে কিছুুই যায় আসে না।

আপনি প্রায়ই বলে থাকেন যে, ইতালি শিল্প, ফ্যাশন এবং নাৎসীবাদের পথপ্রদর্শক !

অবশ্যই, আমি যা বলি তা ভেবেচিন্তেই বলি।

বারলুসকোনি যাকে আপনি খুব সমালোচনা করতেন, তার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিশেবে রোমানো প্রোদি-কে কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন?

প্রোদি আমার বন্ধু, তার জন্য আমার শুভকামনা। কিন্তু আমার মনে হয়, তার সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখতেই তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বারলুসকোনির ব্যক্তিত্বে একটা নায়কোচিত ব্যাপারস্যাপার ছিল। প্রোদির মধ্যে তা নেই, কিন্তু সেটা তার দোষ হতে পারে না। তবে সেটা তার দূর্বলতা।

বারলুসকোনির মতো প্রোদি তো ব্যবসায়ী ও নন, তিনি একজন বুদ্ধিজীবি।

হ্যা, তিনি অর্থনীতির অধ্যাপক। ১৯৯০ সালের দিকে প্রোদি আমার অধীনে কিছুদিন শিক্ষকতাও করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি রাজনীতিতে যোগ দিলেন।

আপনি কি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলছেন, যেখানে এখন আপনি শিক্ষকতা করেন?

হ্যা। অবশ্য আমি এই মাসে অবসরে যাবো। আমার বয়স এখন ৭৫।

আপনি কি কখনো রাজনীতিতে যোগ দেবার কথা ভেবেছেন?

না, কখোনোই ভাবিনি। আমার বিশ্বাস, যার যেটা কাজ, সেটাই তার করা উচিত।

আপনি তো অনেক দিকেই নিজের কর্মপরিধির বিস্তার ঘটিয়েছেন, নিজেকে কি আপনি প্রধানত ঔপন্যাসিকই মনে করেন?

না, আমি মনে করি আমি একজন পণ্ডিত এবং উপন্যাস লেখার কাজটা আমি আর দশটা কাজের মতোই করে থাকি।

আপনি কি ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’ উপন্যাসটি পড়েছেন? সমালোচকরা বলেন, এটা আপনার উপন্যাস ‘দ্য নেম অব দ্য রোজ’ এর বাজারি সংস্করণ?

আসলে বন্ধুদের কথার মুখে আমি এটা পড়তে বাধ্য হয়েছি, আপনি যেটা বললেন সেটা সবাই বলছিলো। এ বিষয়ে আমার উত্তর হলো যে, ডন ব্রাউন আমার উপন্যাস “ফুকো-স পেন্ডুলাম” -এ তৈরী একটা চরিত্র, যে আধিভৌতিক বিষয়ে বিশ্বাস করে।

কিন্তু আপনি ও তো মনে হয় এসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন, যা আপনার উপন্যাসে পাওয়া যায়?
না, না। ‘ফুকো-স পেন্ডুলাম’-এ আমি এ জাতীয় মানুষ নিয়ে কৌতুক করেছিলাম। এ কারণেই তো বললাম, ডন ব্রাউন আমারই তৈরী একটা চরিত্র।

শেষ প্রশ্ন, কী মনে হয় আপনার, একশ বছর পরে আপনার লেখা কেউ পড়বে? এ নিয়ে কি আপনি আদৌ ভেবেছেন?

যে লেখক লিখে যান, অথচ ভাবেন না যে, একশ বছর পর তার লেখাগুলোর ভাগ্যে কী ঘটবে, তিনি কোন লেখক হতে পারেন না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28769798 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28769798 2008-02-13 00:15:34
তিনটি কবিতা ডায়েরি থেকে

গান, তরু, ছত্রাকে অসুস্থ পাতা, আকস্মিক ভূমিধ্বস
আমি লিখি আর লোকে বলে- 'বাস্তব ঘটনা থেকে নেয়া'।
উত্তরে কেবল অগ্নিহীন সাদা জবাটির কথা মনে পড়ে।

আমি জানি, সেই জবার কণ্ঠায় উবু হয়ে সূর্য অস্ত যায়।
চাঁদ ঘুরে রাত্রিশেষে, ঝর্ণার পাথরে বসা
নগ্ন, ছেড়া, হতাশ্বাস কিশোরীকে দেখে জলে গলে যায়।


পরিত্রান

অনন্ত ঝর্ণার দিকে আপাতত চলে যেতে চাই আমি। স্নান নয়, আমার ভেতরে যত কীট আজ সানন্দে বেড়ায়-- তাদের সামান্য কথা শুনে নেয়া যেতে পারে আজ। তারা কি খোঁজের জন্য এখানে এসেছে, কী রকম আছি আমি, আমার ভেতরে আর থেকে গেল কতটা প্রবাল...

ঝর্ণার গোপন দেহে এই কথা তোলে না বিক্ষেপ। জলের উপরে যদি না-পাওয়া উত্তরেরা ভেসে ওঠে আজ-- সে আশায় পাথরে নিশ্চুপ আমি বসে থাকি। পাশে, দুটি পাখির আলাপে যদি আমার ভেতরে আজ একটি পাথরও নড়ে ওঠে, অনুধাবন থেকে দূরে অন্ধকূপে তাকে ছুড়ে দিও--তুমি বলেছিলে।

চিহ্ন

নামে উচ্চণ্ড শীত,
কাঁচের মাপনী থেকে দুধ নিজ স্ফুটনাংক ভুলে
সহাস্যই ছলকে পড়ে মাতৃবাগিচায়।
নামে ভাম, লৌহনিনাদ, ওড়ে লাল মরীচিকা,
আরোগ্যসদন থেকে ৩০০ শিশুর মরদেহ।
চৈত্রের উড়ন্ত সম্পর্কে দূর বজ্রহাড় ঝলকায় ।
তরঙ্গপৃষ্ঠার ঢাল বেয়ে জ্বলে ওঠে দ্বিধান্বিত চাঁদ।
নামে নিদ্রা, কুণ্ডয়ণ, মেঘসদৃশ বেণী,
দুই কুল গেঁথে দাঁড়-শলাকার রক্ত-জিহ্বা জেগে ওঠে,
মেয়েটির সমস্ত শরীরে বিষদাঁত, অনিশ্চিত শরচিহ্ন-
তোমার বিষাদ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28768325 http://www.somewhereinblog.net/blog/tariquetukublog/28768325 2008-02-08 19:10:20