somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দি নেস্কট ইলেভেন-আসছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় যুগ

০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গোল্ডম্যান স্যাচ (বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ব্যাংকিং খাতে বিশেষ স্থান অধিকারী)এর একটি রিপোর্টে বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠেছে।তার সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট ( দি নেস্কট ইলেভেন)এ তিনি উল্লেখ করেছেন যে,আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সহ বিশ্বের এগারোটি দেশ(Click This Link)অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্ভাবনাময়।এবং তারা ২০৫০ সালরে মধ্যে বিশ্বের অর্থনীতিতে বিরাট ভুমিকা পালন করবে।গোল্ডম্যানের এই রিপোর্টকে কেউ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিতে পারছেন না তার কারন ২০০৩ সালে তিনি আরেকটি ভবিষৎদ্বানি করেছিলেন বিশ্বের চারটি দেশকে নিয়ে যার শিরোনাম ছিলো,BRIC (ব্রাজিল,রাশিয়া,ইনডিয়া,চায়না)আজ বিশ্ববাসী জানে ঐ চারটি দেশ কতটা অর্থনৈতিক সাফল্য লাভ করেছে।গোল্ডম্যানের এই রিপোর্ট অনেকের চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে।অনেকেই সাউট আফ্রিকার মত দেশেকে রেখে তালিকায় বাংলাদেশের নাম অর্ন্তভুক্তিতে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন।অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন,বাংলাদেশ যেখানে অর্থনৈতিকভাবে চরম দরিদ্র একটি দেশ,এর রয়েছে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ,এবং যে দেশের রাজনীতি এখনো স্থীর না সেই দেশের পক্ষে কিভাবে এতো অভুত উন্নতি সম্ভব এতো অল্প সময়ে?এর উত্তরে গোল্ডম্যান বলেছেন,বাংলাদেশের রয়েছে শিক্ষিত এবং উন্নত মেধার লোকবল।ওরা পরিশ্রমী এবং আমেরিকার মতো দেশে এরা মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে যা বিশ্ববাসীও জানে।এই শিক্ষিত মেধাবী শ্রেনীর মেধা আর শ্রম কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অগ্রগতির চরম শিখর পৌছতে পারে।
এছাড়া যারা বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছেন এমন পন্ডিত ব্যক্তিদের অনেকই এই রিপোর্টের সাথে একমত পোষন করে বলেছেন যে,যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা দুর করা যায় এবং একটা সুর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আগানো যায় তাহলে ২০৩০-৪০ সালরে মধ্যে বাংলাদেশের চেহারায় আর দারিদ্রর চিন্হ থাকবে না।


এই রিপোর্ট দেখে আমাদের উল্লাসের কোনো কারন নেই।আমরা তো শুধু বসে থাকলে এই রিপোর্টের ফল পাবো না।গোল্ডম্যান অদৃশ্যভাবে আমাদের যে দিকটি নিদেশ করেছেন তা হলো,আমাদের শিক্ষিত জনবল।যাদেরকে তিনি মেধাবী বলে উল্লেখ করেছেন।অনেকেই আমাদের অধিক জনসংখাকে দারিদ্রের মুল কারন বলে মনে করে থাকেন।জনসংখা যে আজকের পৃথীবিতে দারিদ্রতার কারন না সেটা আরেকবার প্রমান করেছে চীন।এবং গোল্ডম্যানের আগের রিপোর্টের(BRIC) মধ্য চীন অর্ন্তভুক্ত ছিলো।আজকের চীনের অর্থনীতির উর্ধগতির জন্য ক্ষমতাধর আমেরিকার রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয়।গোল্ডম্যানের রিপোর্টের সারর্মম বের করলে দাড়ায়,আমাদের এই শিক্ষিত জনসংখাকে জনশক্তিতে রুপান্তর করতে হবে।অর্থাৎ এদের সবাইকে যার যার যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।সবাইকে কাজে লাগাতে হবে।প্রশ্ন থাকতে পারে এতো বিপুল পরিমান লোকের কর্মসংস্থানের জন্যেতো আমাদের দেশের প্রতি ইন্চি মাটিতে শিল্প স্থাপন করতে হবে?উত্তর হলো,এখানে শুধু শিল্প কারখানায় কাজের চিন্তা করলেই হবে না বরং উপযুক্ত প্রশিক্ষন দিয়ে স্বউদ্যোগে অথবা ব্যক্তি উদ্যোগে ক্ষুদ্র প্রকল্পে প্রবেশ করাতে হবে।আর এই শিক্ষিত শ্রেনীর জন্য একমাত্র ক্ষুদ্র উদ্যেগ হতে পারে তথ্যপ্রযুক্তি।শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করেই আমাদের এই বিপুল বেকারদের কর্মসংস্থান করে আমরা সফলতার চরম শিখরে পৌছুতে পারি।গোল্ডম্যান আপাত দৃষ্টিতে আমাদের তাই বুঝিয়েছেন।কারন তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া আমাদের সামনে সম্ভাবনাময়ে আর কোনো সেকটর খোলা নেই যাকে ধারন করে আমরা ২০৫০ সালের মধ্যে ধনি দেশের তালিকায় নাম লিখাতে পারি।

তাহলে আমাদের এখন কি করতে হবে?আমাদের যা করতে হবে তা হলো,সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে প্রথমেই।শুধু রাষ্টের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না।আমাদের রাষ্ট্র এবং এর আমলা,কামলা,মন্ত্রী মিনিস্টার,রাজনীতিকগন কতো যে আমাদের দেশ এবং দেশের ভবিশৎ নিয়ে ভাবেন তা আমাদের একরকম সবারই জানা হয়ে গেছে।তবে সব সরকারই যে কিছু না কিছু ভালো কাজ করে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।এই সরকার এসে যেমন ওয়াই ম্যক্সের অনুমতি দিলো।এটা আমারে দৃষ্টিতে এই সরকারের সবচেয়ে ভালো কাজ।এর ফলে আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তি আরো অনেকটা এগিয়ে যাবে বলে মনে করি।তারপরেও সার্বিক দিক বিবেচনায় আমরা আমাদের পরবর্তী সরকারের কাছে কিছু জিনিষ চাইতেই পারি। যেমন,হাই স্পীড ইন্টারনেট কানেকশান,নিরবিচ্ছিন্ন ইলেকট্রিসিটি এবং সবার আগে রাজনৈতিক স্থিরতা।কারন রাজনৈতিক স্থিরতা ছাড়া আজকের যুগে কোন জাতীর পক্ষে উন্নতি করা সম্ভব না।রাজনৈতিক স্থিরতা ছাড়া বিদেশী বিনিয়োগও বাড়বে না।আজকের যে চীন এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়ন এর মুলে কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগ।তাই সবার আগে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।ভালো কাজের জন্য সরকারকে সহযোগীতা করার জন্য জনগন সবসময় পাশে থাকবে।

দেশে ওয়াই ম্যাক্স আসছে কিছুদিনের মধ্যই।এ উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে আমরা ব্যক্তিগত উদ্যুগে ছোট ছোট আইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ফেলতে পারি।ছোট ছোট গ্রুপ করে আমরা ভার্চুয়াল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও করতে পারি যা দ্বারা আমরা ফ্রীল্যান্সিং কাজ গুলো বাইরে থেকে এনে দেশে বসেই করতে পারি।ডাটা এন্ট্রি,পিএইচ পি কোডিং,সফটওয়ার প্রোগ্রামিং,ডিজাইনিং,ওয়েব ডিজাইনিংসহ কলসেন্টার,কনট্রাকট সেন্টার,এরকম বহু কাজ আছে যেগুলো আমরা ইন্টারনেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই করতে পারি।ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশই এই কাজ করে তাদের বেকার সমস্যা অনেকটা লাঘব করেছে।আর আমরা আজও পিছিয়ে আছি আমাদের গোবর ঘনেষ পেট মোটা আমলা,রাজনীতিবিদ সহ দেশের বাঘা বাঘা পলিসি মেকারদের হোদেল কুত কুত মার্কা পলিসির কারনে।ধিক তাদের যাদের কারনে আমাদের দেশ এবং দেশের জনগনের এমন চরম দুর্গতি।আজ আমাদের প্রতিটি শিশু জন্ম নেয়ে ত্রিশ হাজার টাকার ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে।কেনো?ঐ শিশুটির কি দোষ?জন্মের আগেই কেনো সে ঋনি হয়ে থাকবে?

রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করুক,আমলারা কামলা দেন,এ ওর মাথায় বাড়ি দিচ্ছে দিতে থাকুক।যার যা খুশি তাই করুক,শুধু আমাদের একটাই দাবি,আমাদের সবার জন্য ভালো কিছু পদক্ষেপ নিন।আমাদের কাজের সুযোগ করে দিন।বাচঁতে দিন এই জাতিকে।অযথা ব্যক্তিগত স্বর্থের জন্য একটি জাতিকে ধংসের দাড়গোড়ায় নিয়ে যাবেন না।

পুনশ্চ: ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:১৫
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×