এই দুজনকে একসাথে দেখেছেন?
মনে করতে পারবেন না জানি।কারন এদের দুজনকে একসাথে দেখতে পাওয়া আর পুর্নিমার চাদঁদেখা একই রকম বিরল ঘটনা।কিন্তু দিবালোকের মত এটা সত্য যে,এই দুজনের হাতেই বাংগালী জাতির ভাগ্য আবর্তিত হচ্ছে বিগত এক,দুইয়ের অধিক দশক ধরে।এদের দুই আন্গুলী নির্দেশে বাংগালী জাতির ভাগ্যে ঘটে যায় অনেককিছুই।তারা আমাদের ভাগ্যবিধাতা,ত্রাতা!মজার ব্যাপার হলো আমরা বিগত দুই বছর জলপাই অলাদের হাতে নাকানি চুবানি খেয়ে আবার এই দুজনের কারো হাতেই ক্ষমতা তুলে দিতে যাচ্ছি ।আসলে আমাদের তো আর কিছুই করার নাই।আমরা বাংগালীতো বাশ খাওয়া জাতী।আমাদের বাশ খাওয়া ছাড়া অন্যকোন উপায়ও নেই।হয় এদের দুইজনের কারো হাতে আর নাহয় জলপাই আলাদের কাছে,বাশ আমরা খাবোই।যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে তাহলে ধরে নেওয়া যায় এই দুই দেশনেত্রীর(দেশেনেত্রী বটে!একজনের পুরু পরিবার বিদেশে।আমেরিকায় ছেলে,কানাডায় মেয়ে আর লন্ডনে বোন।আহ!পুরা পৃথিবীই ওনার দেশ।ওনার দেশপ্রেমের নমুনাও চমৎকার!মেয়ের বাচ্চা হবে এই ওজুহাতে উনি যখন প্রধানমন্ত্রীছিলেন তখন পুরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একমাসের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন কানাডায়।পৃথিবীতে বিরল ঘটনা এটি।আর ২৬ দিন হরতাল দিয়ে পুরো দেশ অচল করে রেখে উনিতো পুরা ইতিহাস রচনা করেছিলেন।আরেকজনের প্রতখ্য কোন অকারেন্স না থাকলেও তার ছেলেতো পুরো দেশটাকেই লুটপাটের রাজ্য বানিয়েছিলো।আর পরোক্ষভাবে তিনি এসবকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন।তা না হলে একটি ভাংগা সুটকেস আর দানে পাওয়া একটি বাড়ি থকে উনি এবং ওনার ছেলেরা কিভাবে দেশে এবং দেশের বাইরে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়?যারা সদরঘাট গেছেন তারা জানেন হয়তো কোকো নামের যাত্রীবাহি লন্চের কথা?তাহাদের কুকর্মের হিসেব করলে এরকম আরো হাজার হাজার উদাহরন দেয়া যাবে)হাতেই আমরা আবার আমাদের ভাগ্যকে তুলে দিতে যাচ্ছি।বরাবরের মত আবারো অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমরা তাদের পানে তাকিয়ে।এই দুই নেত্রী চাইলে আমাদের অনেক কিছুই দিতে পারেন।এই মুহুর্তে তাদের দলগুলোর নিবাচনী ইশতেহার বা মুল এজেন্ডা কি হওয়া উচিত?এই দুটি বৃহৎ দল কি ম্যান্ডেট নিয়ে জনগনের সামনে যাবে?তাদের নির্বাচনী এইজিনিষগুলো কি অধিকগুরুত্বপাওয়া উচিৎ না?যেগুলো সাধারন জনগনের প্রানের দাবী যেমন-
-হরতাল চিরতরে বন্ধ।যেই দলই জিতুক বা হারুক বিরুধিতার জন্য হরতালকে অস্রহিসেবে বেছে না নেওয়া।একটি হরতালে দেশের শত শত কোটি টাকা নষ্ট হয়।
-ছাত্রসংগঠনগুলো বিলুপ্ত ঘোষনা।ছত্রদের হাতে কলম থাকবে অস্র নয় কলম থাকবে।বাবা মায়েরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাদের ছেলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠায়।লাশ হয়ে ঘরে ফিরার জন্য না।
-দুর্নিতি দমনে সর্বাত্বক চেস্টা করা।দুনিতি দেশের জন্য ক্ষতিকর।
-সন্ত্রাসী কর্মকান্ডও চিরতরে বন্ধকরা।সন্ত্রাস সমাজের জন্য ক্ষতিকর।শ্বংখলা নষ্ট করে।
-দারিদ্রদুরীকরনে বিপুল পরিমানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।দারিদ্রদুরিকরনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিন্হিত করে এর সমাধানে যেকোন উপায়ে চেষ্টাকরে যাওয়া।দারিদ্রতা অনেক অপরাধের জন্মদেয়।বিপুল পরিমান বিদেশী বিনিয়োগ দারিদ্রতা দুরিকরন তথা কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাব্য উপায় হতে পারে।
মোটামুটি এই কয়টি কাজ যদি ঠিকমত করা যায় তাহলে আমাদের ভাগ্য বদলানো কোন ব্যপারই না।আর এই কাজগুলো পুরোটাই হতে পারে দেশের সর্বোচ্চক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠ একজন ব্যক্তির একটু সদিচ্ছার মাধ্যমেই।কিন্তু এই সদিচ্ছাটুকু আমাদের দুই দেশনেত্রীর কারোই নেই।আর যাদের আছে (জানিনা তেমন ব্যক্তি আদৌ আছেন কিনা।কারন দেখলামতো যে যায় লংকায় সেই হয় রাবন।জলপাই অলারা আমাদের মনে একটু আশা জাগাইছিলো ।ভাবছিলাম লুটেরা,দুর্নিতিবাজ,অসৎ লোকদের শেষমেষ টুটিটি টেনে ধরা গেছে।কিন্তু শেষতক তা আর হলো না।তিনারা সব সুপার হিরো হয়ে দলে দলে বেড়িয়ে এলো)তারা দর্ভাগ্যবশত কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবো না।কারন আমরা ত্রিকোনায় আটকে আছি।হয় এ দল না হয় বি দল আর নাহয় জলপাই দল।
স্বাধীনতার পরথকেই এই চলছে.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

