জোঁক এনিলিডা প্রজাতির অমেরুদন্ডী প্রানি।এর শরীর ঠান্ডা ও তুলতুলে।
অবশ্যই জোঁক দেখলেই আমার গা শিরশির করে।সত্যি কথা কি জোঁককে আমি ভালো ভয় পাই।ব্লগার সৌম্য ভাইয়ের সাকা হাফ্লং অভিযানে পড়েছিলাম যে তারা কি পরিমান জোঁকের হামলায় পড়েছিলেন।
বাংলাদেশের পাহাড়ি জংলা জলভূমি হতে শুরু করে হাওড় বিল সব জায়গায় জোঁক দেখা যায়।চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের পিছনের ফটিকছড়ির পাহাড়ী এলাকায় বড় বড় পাইন্যা জোঁক দেখা যায়।এছাড়া রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলের জোঁক বিখ্যাত,এক একটি এক বিঘতের ও বেশি।আসামের কাজিরাঙ্গা ফরেস্টের জোঁক দেখলে যে কেউ আতকে উঠবে,এগুলো যেমন সাইজে ১০ইঞ্চির কাছাকাছি,তেমনি এগুলোর পিঠে গোটাগোটা কি যেনো থাকে।এগুলো যখন সেখানকার মানুষের পায়ে লাগে তারা স্রেফ কাঁচি দিয়ে এক পোঁচে দু টুকরো করে ফেলে।সেখানকার জোঁকগুলো বর্ষাকালে এত উতপাত করে যে তাদের জ্বালায় বাঘ,হাতি পর্যন্ত সমতলে নেমে আসে।উল্ল্যেখ্য যে এ দুই প্রানী জোঁককে মোটেও সহ্য করতে পারেনা।
বর্ষাকালে এসব জোঁক গরু,মহিষের নাকে মুখে ঢুকে তাদের অনেক বিড়ম্বনা ঘটায়।
তবে সবচেয়ে বৃহত্তম জোঁক দেখা যায় আমাজনের জঙ্গলে।কোন কোনটি সাইজে ১৭ইঞ্চি হয়।
জোঁকের আছে হাজার হাজার মাইক্রো দাঁত,এছাড়া তারা রক্ত খাওয়ার সময় এক জাতীয় সিরাম প্রানীদের রক্তে ঢেলে দেয় ফলে আক্রান্ত প্রানী কিছুই টের পায় না।তাই জোঁক কাঁমড় দিলে এর সবগুলো দাঁত কঠিনভাবে বসে যায়,ফলে কক্ষনো টানাটানি করা উচিত নয়।বরং লবন বা গরম পানি বা আগুনের ছ্যাকা দিলে জোঁক নিজ থেকে ছেড়ে দিবে।তবে লবন বেশী কার্যকরী।এছাড়া প্রাচীন কাল থেকে জোঁকের রক্ত চোষার এই গুনকে চিকিতসার কাজে ব্যবহার করা হতো।এখনো মানবদেহের কোন অংশে রক্ত জমাট বেধে দুষিত হয়ে গেলে ইনফেক্সান হলে জোঁক ব্যবহার করে তা দূর করা হয়।
মাঝে মাঝে জোঁকের কাঁমড় প্রানঘাতি হতে পারে,কারন আক্রান্ত স্থান দিয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়।এছাড়া জোঁক কোন কোন সময় পায়ু বা মুত্রলিংগ দিয়ে ঢুকে যেতে পারে,তখন ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়।একবার আমাদের এখানে বর্ষাকালে ফুটবল খেলার সময় এক ছেলের লিংগ দিয়ে জোঁক অর্ধেক ঢুকে যায়,সে টের পেয়ে চিতকার শুরু করলে ছেলেপেলেরা মজা পেয়ে হাসাহাসি শুরু করে,কে যেনো তার বাবাকে খবর দিলে তিনি এসে দেখেন সবাই হাসাহাসি করছে।প্রথমে তিনি লাকড়ি নিয়ে সবাইকে একটা দৌড়ানি দেন,অতঃপর তিনি চিমটা দিয়ে জোঁকটার প্রবেশ বন্ধ করে লবন ছিটিয়ে এটাকে বের করেন।তাই বর্ষাকালে নদীনালা,মাঠঘাটে খেলার সময় সতর্ক থাকা উচিত।
দেখেন জোঁক নিয়ে কত কথা বলে ফেললাম।পাঠক ভাল না লাগলে ক্ষমা করবেন।কিছু ছবি দিলামঃ
জোঁকের মুখ এরকম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



