আমার প্রিয় পোস্ট
- আমাদের রুখে দাঁড়াতেই হবে- - রাসেল ( ........)
- শিবনারায়ণ দাশ - বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার প্রথম নকশা-প্রণেতা - রাগিব
- শিশু শিক্ষা ২ - রাসেল ( ........)
- টেলিটক কেন ফুল সুইং এ নামতে পারছে না - দিনমজুর
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- চোরাবালি - মধ্যরাতের রাখাল
- একটি আধুনিক রূপকথা - হিমু
- :: সন্যাসে তোমাদের এতই ভয়, আতিপাতি করে বুকে আমার জন্য ভালবাসা :: - নজমুল আলবাব
- সময় এবং আমি..... (দ্্বিতীয় চেষ্টা) - বকলম
- ব্যক্তিগত রুপকথা:'তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে'(শেষ পর্ব) - চামেলী হাতে নিম্নমানের মানুষ
- আকাশলীনা - তেলাপোকা
- আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু- - কনফুসিয়াস
- অসম্ভব কল্পনারা রঙ মাখে, অন্ধ রাতে - তেলাপোকা
বুদবুদ চিনেনা?
০২ রা জুলাই, ২০০৬ ভোর ৪:০৬
সোভ্যতার যান্ত্রিক জোয়ারে তেলাপোকা যতই জড়াচ্ছে; ততই ভেতরটা তার তিক্ত হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সে খুব আশ্চার্য্য হয় এভেবে সময় কতটা বদলে যেতে পারে! তার সুখস্মৃতি বলতে ছোট্ট এক দুরন্ত বালকের দুষ্টামী ভরা শৈশবকে বুঝায়। রাখাল গরু নিয়ে বাড়ী ফিরছে, ছেলেটি গরুর লেজ বাঁকিয়ে দিয়েছে দৌড়...কিংবা সমবয়সী'র মাথা ফাটিয়ে ধানখেতে লুকিয়ে আছে... দলবেঁধে শিশির ভেজা ভোরে রস চুরি... স্কুল যাবার সময় বিভিন্ন গাছ থেকে চুরি করা পকেট ভর্তি ফলের দোকান! গরুর হাড্ডি দেখিয়ে হিন্দু ছেলে/মেয়েদের দৌড়ানি... পাহাড় থেকে পাহাড়ে লম্প-ঝম্প... অপূর্ব কায়দায় কুকুরের বাচ্চা চুরি করে মায়ের প্যাদানি... ইত্যাদি ইত্যাদি। যান্ত্রিক শহরে এসবই তার সুখস্মৃতি।
তেলাপোকার প্রতি সেমিষ্টারে দুয়েকজন সুভাকাঙ্খি স্যার জুটে যায়। তার বাঁধনহীন ও অতিরিক্ত স্বাধিন জীবনযাপনে কেউ কেউ খুব দুঃখিত হন। বেলাইনের মানুষ ! তোলাপোকাকে লাইনে আনার খুব চেষ্টা করেন। পারেন না। বুঝাতে এসে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। বলেন- তোমাকে বুঝতে হবে ডিসিপ্লিন কি? ডিসিপ্লিন ছাড়া কেউ কখনো সাইন করতে পারেনি। তেলাপোকা কিছু বলেনা, হাসি দিয়ে মাথা ঝাকায়। কেউ আবার খুব দরদ দেখান। বলেন- তোমার সব কিছু ঠিক আছে। কিন্তু তোমাকে একটু পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে হবে। পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে হলে পড়ালেখায় সময় দিতে হবে। সময় নষ্ট যে করে তার দ্বারা কখনোই ভালো কিছু আশা করা যাবে না। তারপরও তেলাপোকা কিছু বলে না। কেবল হাসে। কেউ আবার বলেন- দ্যাখো তেলাপোকা, তোমাকে বুঝতে হবে তোমার বাবা-মা কত কষ্ট করে তোমাকে পড়াচ্ছে। তোমাকে ঘিরে তাদের কত আশা। প্রত্যেক বাবা মা চান তার ছেলে যেন মানুষ হয়! তেলাপোকা আর চুপ থাকতে পারেনা।
বলে- স্যার আপনি কি কখনো মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছেন?
--- না, কেন বলেতো?
--- তাহলে স্যার আপনি বুঝবেন না।
--- তিনি চোখ কুঁচকে বলেন- বুঝবো, বুঝিয়ে বলো।
--- স্যার আমার মাঝে মাঝে মনে হয় এতসব কেন করছি? কিছুটা সময় টিকে থাকার জন্য? সময় বদল দেখার জন্য! স্যার, শৈশব থেকে যৌবনের এ পর্যন্ত কিছু সময় বদলে গেছে- বদল আমারও হয়েছে কিন্তু তাতে কি লাভ হয়েছে?
--- লাভ হয় নাই কে বলেছে? তুমি অবশ্যই অনেক কিছু জেনেছো। না জানলে আমার সাথে এভাবে কথা বলতে হয়তো পারতে না।
--- স্যার আমারও মনে হয় কিছুটা লাভ হয়েছে। তবে, এ লাভ এতসব কিছু না করেও অর্জন করা যায়।
--- কে বলেছে তোমায়? মনে রাখবে, একজন গ্র্যাজুয়েট মানুষ গ্রামে যেয়ে যদি কৃষি কাজও করে তাহলে সে উক্ত এলাকার হেড অব দি কৃষক হবে। কারন সে সাধারণ কৃষকের চেয়ে অনেক কিছু জানে। সে জানে কোন মাটিতে কি চাষ হবে, কোন কীট মারার জন্য কোন কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে; জমিতে কোন সার ব্যবহার করতে হবে...। তার কাছে সবাই সাজেশন নিতে আসবে, সে কারো কাছে ধরনা দিতে যাবে না।
--- স্যার আমি তা বলছি না। আমি বলতে চাচ্ছি এসব আমার ভাল্লাগে না। আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখনকার কথা আমার খুব মনে পড়ে। কৃষক জমিতে বীজতলা তৈরী করছে। গরুর পেছনে মই বেঁধে বীজতলা সমান করছে। পুরো জমি কাদায় মাখামাখি। আমার বাবা- ছোট বোন আর আমাকে তাতে বসিয়ে দিলেন। আমাদের শার্ট প্যান্ট কাদায় মেখে একাকার। তারপরও যে মজাটা সেদিন পেয়েছিলাম তা কখনো ভুলতে পারিনি... মেঠো গন্ধটা সেদিন থেকে যে ভেতরে ঢুকে গেলো... স্যার আজও তা বের হয়নি। সেদিনের সে ব্যাপারটা আর আজকের আমার এই অবস্থানের মাঝে বিরাট তফাৎ। তারপরও যদি বলেন- তুমি কি তোমার বর্তমান অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নও? আমি বলবো- হঁ্যা অবশ্যই সন্তুষ্ট, তবে তা কেবলমাত্র শৈশবের সে ঘটনার জন্য!
--- তোমার কথার মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝিনা। একটা কথা, তোমার বাবা অমনটা করলো কেনো?
--- স্যার আমি নিজেও অনেক চেষ্টা করেছি বুঝার। ঠাঁই পাইনি। তবে, ওটা মনে হয় তার একটা খেয়াল ছিল। বাবা সেদিন মইয়ে না বসালেও হয়তো একদিন ঠিকই বসতাম। ঘটনার পর থেকে অনেক চেপেছি সে মইয়ে।
--- কি মজা আছে তাতে? যত্তোসব...
--- স্যার আপনি কখনো বুদবুদ দেখেছেন?
--- না, কেন বলেতো?
--- তাহলে স্যার বুঝবেন না। আসি স্যার...।
--- দাঁড়াও আরও একটু বসো। কলেজ মিস দেবার কারনে তোমার ফাইন ধরা হয়েছে।
--- কত স্যার?
--- 300 টাকা।
--- অনেক কম স্যার। তেলাপোকা মুচকি হেসে বেরিয়ে আসে। পেছনে রেখে আসে হতবাক একজন যন্ত্রিক মানুষকে!
কতটা বদলে গেছে মানুষ! মেঠো গন্ধ চিনে না, বুদবুদ চিনে না? তেলাপোকা বাসে চাপে, বাড়ি ফিরে, আবার বের হয়; তারপরও শব্দটি মাথায় থেকে তার ডিলিট হয়না। কতটা বদলে গেছে মানুষ! মেঠো গন্ধ চিনে না, বুদবুদ চিনে না? সুমনের মত সব শালায় দেখি কেবল মুখস্ত বিদ্যা নিয়ে ঘুরাঘুরি করে। সবাই দিনদিন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে... যান্ত্রিক... মেঠো গন্ধ চিনে না, বুদবুদ চিনেনা!
প্রকাশ করা হয়েছে: আঁকা-বাঁকা, কৃষ্ণচূড়া বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
12তারিখের আগে অবশ্যই যাচ্ছি। ফকির উইন্ডোজ না পারিস কিনতে ফ্রিতে লিনাক্স চালায়া পিসিটা ঠিক কর। ত্রিভুজ! পোষ্ট করছো না কেন? সেই একটাইতো ঝুলায়ে রাখছো।
অতিথি বলেছেন:
আহ অতীত! আহ স্মৃতি!! we subconsciously try to surpress the painful ones...in vain though. they invariably come back...haunt us, torment us. but the sweet ones!! they too are painful, no matter how sweet they are. always come with a disticnt heart ache, a deep sigh, a comforting numbness and an incomprehensible empitness. খুব হাহাকার লাগে ... তাও ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সুদূর অতীতে। আর একবার... বারবার।
শুভ বলেছেন:
তেলাপোকা, আপনার লেখাটা পড়ে শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল- আমরা, যন্ত্রমানবেরদের জন্য
শৈশবে বারবার ফিরে যাওয়া বড়ো জরুরী!
শাওন বলেছেন:
জটিল ভালো লাগলো । জটিল . . . মানুষ কতটা বদলিয়ে যাচ্ছে খুবই নিপুন ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । দারূণ । কোডিং ভাষা : হিমু পরিবারের সেই ছেলেটি বড়ই লজ্জিত । যে ছেলেটি একজনকে ভুল বুঝেছিলো ।
অতিথি বলেছেন:
স্বপ্নময়, তেলাপোকার ব্লগে আমাকে প্রশ্ন ...! 3/4 দিন ঢাকার বাইরে ছিলাম... এখন যদিও ঢাকায় আছি তবুও এখানে কম থাকা হবে... অনেক কাজ।
তেলাপোকা লেখাটা সুন্দর হয়েছে। মানুষ দিন দিন নিজের তৈরি জালে জড়িয়ে যাচ্ছে... আজ আমাদের কাছে অনেক কিছুরই সংজ্ঞা পালটে গিয়েছে। সুখের সংজ্ঞা... শান্তির সংজ্ঞা... আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি... মাঝে মাঝে ভাবি এই জাল থেকে মুক্তির উপায় কি? উত্তর পাই না...
অতিথি বলেছেন:
ভুল দরজায় কড়া নাড়লে কখনোই তো প্রত্যাশিত কেউ বের হয়ে আসবেনা তেলাপোকা। মানুষ বদলেছে ঠিক, কিন্ত ধান গাছে তক্তা হয়, এই ধারার মানুষ আগে যেমন ছিল, এখনো আছে।গোধূলী'র মেঠো গন্ধ, গরুর পেছনে মইয়ে বসার আনন্দ, কাঁদামাটির ঘ্রাণ চিনে এমন কাউকে পেতে হলে শহুরে কোন কলেজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় নরম তক্তপোশে আসীন কাউকে জিজ্ঞেস না করে গ্রামের কোন স্কুলের বালক কে ধরুণ।
আর আপনার বর্তমান শহরেই অনেকে আছেন যারা মনের গহীণে এখনো সেই গন্ধ, সেই সময়, হলুদ শর্ষে ক্ষেতের মাঝ বরাবর দৌড়ে বেড়ানোর সুখ স্মৃতি, হেমন্তের পড়ন্ত বিকেলের হালকা আলোর মাঝে সদ্য কাটা ধানের ঘ্রাণ ধারণ করেণ। তাদের সংখ্যাটাও নেহায়েৎ কম না।
শাওন বলেছেন:
বৈদ্যুতিক কথোপকথন পিলিজ


















এত দিন পরে এসেছিস এই গল্প ফাদতে?
মাটির গন্ধ আবার কবে শুখতে যাবি? মিস করিস সময়টুকু কে, কিন্তু অতীতকে ধরে রাখতে চাইস না এভাবে।