ঈশ্বর নাকি গুলশানেই থাকেন। গরিবের গরিবখানায় মলত্যাগ করতেও তিনি আসেন না! এক চোখা স্বৈরাচার ঈশ্বরের জগতটাই আলাদা। সেখানে ঝিকিমিকি রঙের মেলা। চোখ বন্ধ করলেই লাল-নীল স্বপ্ন। এ জগতে টাকা নিয়ে কোনো তপস্যা নাই। মাসের শেষে বাড়ি ভাড়ার ঝামেলা নাই। রিক্সা চড়ার ঠেকা নাই। শরীর বিক্রির কসরত নাই। চাকরী খোঁজার বালাই নাই। বাসে উঠার যুদ্ধ নাই। ঈশ্বর...। ব্যাপারটাই আলাদা, অন্যরকম। টিউশন ফি জমে গেলে শোধ করার তার কোনো তাড়া নাই। ডেটিং সময় পেরিয়ে গেলে বান্ধবীর বকোনীর ভয় নাই। অনেক কিছু নাই। অনেক ঝামেলা নাই। অনেক টেনশন নাই।
অথচ, ছেঁড়া মানুষদের কতো অসুবিধে এই শহরে। সকাল থেকে কখন বিকেল গড়িয়ে যায়। বিকেল থেকে কখন রাত। টের পাওয়া যায় না। বাইরের আকাশটা কেবল ক্যাম্পাসের জানলায় ফ্রেমবন্দি, অফিসের জানলায় ভারি পর্দার আড়ালে কখন সে আকাশ বদলে যায় তা টের পাওয়া ভিষন দায়। রাত সাড়ে এগারোয় বাড়ি ফিরে শাওয়ারের নিচে নিজেকে ব্যবচ্ছেদ করি। কতোকাল চলবে এমন করে?
ইদানিং কথা দিয়ে কথা না রাখতে শুরু করেছি। মানুষ যে যা বলছে মনোযোগ দিয়ে শুনছি এবং ভুলে যাচ্ছি। এরি ফাঁকে দারুন চকচকে এক চাকু জোগাড় করেছি। এক টিপে লকলকে ধারালো ফলা বের হয়ে আসে। হাতের তালুতে ফলা ঠেকিয়ে এর শক্তি অনুভব করি। একেলা রাতের আঁধারে ভাবি, ইচ্ছে করলেইতো দারুন কামানো যায়। ইচ্ছে করলে যেমন ইচ্ছে তেমন হয়ে যেতে পারি। প্রচন্ড রকমের লোভ জাগে।
চাকুটা ভিষন জাদুকরি।
অনেক সমস্যায় ঝুলে আছি। আশা হারাইনা তবু। আশা নিয়েই বেঁচে আছি। সুদিন দুর্দিন বলে কিছু নেই এ জগতে। যতদূর বেঁচে আছি, যতদূর যেতে পারি, তার সবটুকুই বোনাস।
বেঁচে আছি।
বেঁচে কি আছি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


