somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মাটি

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে কোন পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু নিজের স্বার্থেই দিচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ১৬ই ডিসেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ১৯৭১ সালে এ দিনটি এসেছিল বলেই আজকে আমরা একটি স্বাধীন দেশের মানুষ। এসেছিল বলেই হয়তো পূর্ববঙ্গের লোকেরা আজ একটি দেশের সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন নয়। ১৯৭১ দেখলে কেন যে ভেতরটায় ধাক্কা খায় বুঝলাম না আজও! যেমনটা খায় বাংলাদেশ-এর নাম কোথাও বলা হলে, বা আধা পরিচিত কি অপরিচিত শব্দের মাঝে বাংলা শুনলে! এ রহস্য আমি কোনদিনও ভেদ করতে পারবো না হয়তো, আবার এটাও আমার পক্ষে অস্বীকার করা সম্ভব নয় যে ধাক্কাটা ভালো লাগা অনুভুতি। ভীষন ভালো লাগা অনুভুতি!

আমার মনে হয় না আমি একজন উল্লেখযোগ্য দেশপ্রেমিক। কারন শুধুমাত্র ভালোলাগার অনুভুতি দিয়ে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হওয়া যায় কি না আমি জানিনা।
প্রাইড আর হিউম্যানিটি ব্যাপার দুটো এখনো স্পষ্ট করে বুঝতে পারি না। দেশ ব্যাপারটাও আমার কাছে খুব স্পষ্ট নয়। কিছু ক্ষমতাধর মানুষের ইচ্ছামতো মাটিতে দাগটানা, এ কথাটাই বার বার ঘুরে ফিরে মনে হয়। জোর যার মুল্লুক তার! নিজের ভিটে-মাটি ঘৃণা করে এমন মানুষ পৃথিবীতে বিড়ল। আমার পিতামহ মাতামহ ঢাকার মানুষ ছিলেন না। কিন্তু আমার ঢাকায় জন্ম। শুধু জন্ম নয়, আমি বড় হয়েছি ঢাকার বাতাসে। সেই বড় হওয়াতে আনন্দ, বেদনা, ঘৃণা সবই ছিল। এখন দেশের বাইরে আছি। কিন্তু যত যাই হোক না কেন, আমি জানি যে আমার যদি কখনো খুব কষ্ট হয়, তাহলে আমি আমার ঢাকার কাছে ফিরে যেতে পারব। তখন হয়তো তার নতুন রুপ থাকবে...কিন্তু আমি জানব যে এটা আমার শহর। সেই বিশ্বাসটুকু আমি রেখে দিয়েছি নিজের কাছে।
এ রকম সবারই নিজের শহর আছে। গ্রাম আছে। অনেক ভালোবাসার! আমি ভাবার চেষ্টা করেছি, কেউ যদি বলে যে আমাকে আর ঢাকায় যেতে দিবে না-- আমার কেমন লাগবে?! আমি ভাবতে পারিনি। প্রশ্নটা মাথায় আসার সাথে সাথেই হঠাৎ সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল চোখের সামনে। আমি আর ভাবতে পারলাম না।

কালকে রাতে এক পাঞ্জাবী মহিলার ঘটনা নিয়ে একটা সিনেমা দেখে কান্না আটকাতে পারিনি। সুনীলের পূর্ব-পশ্চিম পড়ে আমি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেছি। যতবার এক একটা নতুন দেশ গড়েছে, কতো মানুষের ভিত উপরে ফেলা হয়েছে?! কত মানুষকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে?! কত মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে?! তার হিসাব কি আছে কারো কাছে? সেই সব দেশগুলোর একটি আমাদের বাংলাদেশ। ৩৭ বছর হয়েছে তার জন্মের। তার অস্তিত্বের জন্য যারা নিজেদের জীবন দিয়েছেন যাতে আমরা একটি স্বাধীন দেশের মানুষ হিসেবে বেরে উঠতে পারি, তাদের সবার মর্যাদা কি আমরা দিতে পেরেছি? একটা অন্যায়হীন দেশ হয়তো কখনোই হবে না। খুনাখুনি, রাহাজানি, এ্যাসিড ছোড়া, ধর্ষন, ঘুষ, দুর্নীতি - এসব ছাড়া। কিন্তু তাই বলে কি যে যা খুশি করতে পারবে? অন্যায় করলে শাস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। ঠিক তেমনি ভালো কাজের জন্য পাবে পুরস্কার। কিন্তু তা আমাদের সোনার দেশে হয় না। জামাত জোটবদ্ধ হয়ে তাদের নিজেদের মাঝের জোর অটুট রেখে এগিয়ে যায়। আর যাদের পূর্বসুরিরা এই দেশকে বানানোর জন্য নিজেদের জীবনের মায়া করেননি, তারা সবার আগে নিজেদের কথা ভাবেন। একজন তখনই আমার পেটে খোলা বাজারে লাথি মেরে আমাকে বেআব্রু করে আবার আমার বাসায় দাওয়াত খেতে আসবে সেজেগুজে যখন আমি তার পায়ের তলায় চুমা খেয়ে দাওয়াত দিব! যে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ দিনে একবেলা খেলে আরেকবেলা খেতে পারে না, তাদের কাছ থেকেই বা কি আশা করবো?! এই ব্লগে যারা আসেন, তাদের মধ্য কেউ কি আদৌ আছেন, তথাকথিত ভিক্ষুকের সন্তান? কম বেশি সুযোগ সুবিধা আমরা সবাই পেয়েছি। তাও আমরা ঠিকমতো ভাবতে পারি না। এই আমিই যেমন! ভাবতে গেলে দেখি নিজেকে ঘৃণা করতে হয় বারবার তাই থেমে যাই!
শুধু মাত্র একটা বিষয় নিয়ে বলতে পারছি না আজকে। কথাগুলো সব প্যাঁচ লেগে যাচ্ছে। বক্তব্যগুলো গুছিয়ে লিখতে পারছি না। আজ বিজয় দিবস। গর্বের দিন। কিন্তু কি করে জানি মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাস যতটুকু জানি মনে পরে যাচ্ছে। আমি প্রত্যেকটা মানুষকে ভালো ভাবতে চাই কিন্তু তা সম্ভব নয়।
আসেন না আমরা সবাই একটু সহানুভুতিশীল হই। এটা সবসময় মেনে নেয়া সম্ভব না কিন্তু আসেন না আমরা সবাই মিলে সহানুভুতিশীল হই! আমি যদি কালকে ভুলে যাই তাহলে আপনারা আমাকে মনে করিয়ে দেবেন। পরশু অন্য কেউ ভুলে গেলে বাকিরা মনে করিয়ে দিবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জেনারশনের সবাই এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। যারা আছেন, আসেন আমরা তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু তাদের দেই! দেশের টুকরো টুকরো ভালো মন্দের দায়িত্ব নেই। বড় বড় কথা বলছি...আমি জানিনা কি করে কি হবে কিন্তু আমার বিশ্বাস আছে যে এসব সম্ভব। আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের চোখে আঙ্গুল তুলে দেখাই...তাহলে চক্ষুলজ্জ্বার জন্যেওতো সবাই আসবে!
আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। আমাকে এসে অপমান করুন সবটুকু নিজের কাছে রেখে দেয়ার জন্য। আমাকে ছোটলোক ডাকুন। আমাকে মনে করিয়ে দিন।

গুছিয়ে বলতে পারিনি হয়তো কিছুই। কিন্তু লেখাটা শুরু করতে পেরে খুব শান্তি লেগেছে। তবে এটা শুধু বলতে পারার শান্তি। এখনো কিছু করতে পারিনি।

লেখা শেষ করছি আরেকটা গল্পের লিংক দিয়ে। পড়লেই বুঝতে পারবেন!
সত্যের মত একটি গল্প.... - লিপিকার
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১১
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×