আজকে কোন পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু নিজের স্বার্থেই দিচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ১৬ই ডিসেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ১৯৭১ সালে এ দিনটি এসেছিল বলেই আজকে আমরা একটি স্বাধীন দেশের মানুষ। এসেছিল বলেই হয়তো পূর্ববঙ্গের লোকেরা আজ একটি দেশের সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন নয়। ১৯৭১ দেখলে কেন যে ভেতরটায় ধাক্কা খায় বুঝলাম না আজও! যেমনটা খায় বাংলাদেশ-এর নাম কোথাও বলা হলে, বা আধা পরিচিত কি অপরিচিত শব্দের মাঝে বাংলা শুনলে! এ রহস্য আমি কোনদিনও ভেদ করতে পারবো না হয়তো, আবার এটাও আমার পক্ষে অস্বীকার করা সম্ভব নয় যে ধাক্কাটা ভালো লাগা অনুভুতি। ভীষন ভালো লাগা অনুভুতি!
আমার মনে হয় না আমি একজন উল্লেখযোগ্য দেশপ্রেমিক। কারন শুধুমাত্র ভালোলাগার অনুভুতি দিয়ে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হওয়া যায় কি না আমি জানিনা।
প্রাইড আর হিউম্যানিটি ব্যাপার দুটো এখনো স্পষ্ট করে বুঝতে পারি না। দেশ ব্যাপারটাও আমার কাছে খুব স্পষ্ট নয়। কিছু ক্ষমতাধর মানুষের ইচ্ছামতো মাটিতে দাগটানা, এ কথাটাই বার বার ঘুরে ফিরে মনে হয়। জোর যার মুল্লুক তার! নিজের ভিটে-মাটি ঘৃণা করে এমন মানুষ পৃথিবীতে বিড়ল। আমার পিতামহ মাতামহ ঢাকার মানুষ ছিলেন না। কিন্তু আমার ঢাকায় জন্ম। শুধু জন্ম নয়, আমি বড় হয়েছি ঢাকার বাতাসে। সেই বড় হওয়াতে আনন্দ, বেদনা, ঘৃণা সবই ছিল। এখন দেশের বাইরে আছি। কিন্তু যত যাই হোক না কেন, আমি জানি যে আমার যদি কখনো খুব কষ্ট হয়, তাহলে আমি আমার ঢাকার কাছে ফিরে যেতে পারব। তখন হয়তো তার নতুন রুপ থাকবে...কিন্তু আমি জানব যে এটা আমার শহর। সেই বিশ্বাসটুকু আমি রেখে দিয়েছি নিজের কাছে।
এ রকম সবারই নিজের শহর আছে। গ্রাম আছে। অনেক ভালোবাসার! আমি ভাবার চেষ্টা করেছি, কেউ যদি বলে যে আমাকে আর ঢাকায় যেতে দিবে না-- আমার কেমন লাগবে?! আমি ভাবতে পারিনি। প্রশ্নটা মাথায় আসার সাথে সাথেই হঠাৎ সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল চোখের সামনে। আমি আর ভাবতে পারলাম না।
কালকে রাতে এক পাঞ্জাবী মহিলার ঘটনা নিয়ে একটা সিনেমা দেখে কান্না আটকাতে পারিনি। সুনীলের পূর্ব-পশ্চিম পড়ে আমি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেছি। যতবার এক একটা নতুন দেশ গড়েছে, কতো মানুষের ভিত উপরে ফেলা হয়েছে?! কত মানুষকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে?! কত মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে?! তার হিসাব কি আছে কারো কাছে? সেই সব দেশগুলোর একটি আমাদের বাংলাদেশ। ৩৭ বছর হয়েছে তার জন্মের। তার অস্তিত্বের জন্য যারা নিজেদের জীবন দিয়েছেন যাতে আমরা একটি স্বাধীন দেশের মানুষ হিসেবে বেরে উঠতে পারি, তাদের সবার মর্যাদা কি আমরা দিতে পেরেছি? একটা অন্যায়হীন দেশ হয়তো কখনোই হবে না। খুনাখুনি, রাহাজানি, এ্যাসিড ছোড়া, ধর্ষন, ঘুষ, দুর্নীতি - এসব ছাড়া। কিন্তু তাই বলে কি যে যা খুশি করতে পারবে? অন্যায় করলে শাস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। ঠিক তেমনি ভালো কাজের জন্য পাবে পুরস্কার। কিন্তু তা আমাদের সোনার দেশে হয় না। জামাত জোটবদ্ধ হয়ে তাদের নিজেদের মাঝের জোর অটুট রেখে এগিয়ে যায়। আর যাদের পূর্বসুরিরা এই দেশকে বানানোর জন্য নিজেদের জীবনের মায়া করেননি, তারা সবার আগে নিজেদের কথা ভাবেন। একজন তখনই আমার পেটে খোলা বাজারে লাথি মেরে আমাকে বেআব্রু করে আবার আমার বাসায় দাওয়াত খেতে আসবে সেজেগুজে যখন আমি তার পায়ের তলায় চুমা খেয়ে দাওয়াত দিব! যে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ দিনে একবেলা খেলে আরেকবেলা খেতে পারে না, তাদের কাছ থেকেই বা কি আশা করবো?! এই ব্লগে যারা আসেন, তাদের মধ্য কেউ কি আদৌ আছেন, তথাকথিত ভিক্ষুকের সন্তান? কম বেশি সুযোগ সুবিধা আমরা সবাই পেয়েছি। তাও আমরা ঠিকমতো ভাবতে পারি না। এই আমিই যেমন! ভাবতে গেলে দেখি নিজেকে ঘৃণা করতে হয় বারবার তাই থেমে যাই!
শুধু মাত্র একটা বিষয় নিয়ে বলতে পারছি না আজকে। কথাগুলো সব প্যাঁচ লেগে যাচ্ছে। বক্তব্যগুলো গুছিয়ে লিখতে পারছি না। আজ বিজয় দিবস। গর্বের দিন। কিন্তু কি করে জানি মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাস যতটুকু জানি মনে পরে যাচ্ছে। আমি প্রত্যেকটা মানুষকে ভালো ভাবতে চাই কিন্তু তা সম্ভব নয়।
আসেন না আমরা সবাই একটু সহানুভুতিশীল হই। এটা সবসময় মেনে নেয়া সম্ভব না কিন্তু আসেন না আমরা সবাই মিলে সহানুভুতিশীল হই! আমি যদি কালকে ভুলে যাই তাহলে আপনারা আমাকে মনে করিয়ে দেবেন। পরশু অন্য কেউ ভুলে গেলে বাকিরা মনে করিয়ে দিবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের জেনারশনের সবাই এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। যারা আছেন, আসেন আমরা তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু তাদের দেই! দেশের টুকরো টুকরো ভালো মন্দের দায়িত্ব নেই। বড় বড় কথা বলছি...আমি জানিনা কি করে কি হবে কিন্তু আমার বিশ্বাস আছে যে এসব সম্ভব। আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের চোখে আঙ্গুল তুলে দেখাই...তাহলে চক্ষুলজ্জ্বার জন্যেওতো সবাই আসবে!
আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। আমাকে এসে অপমান করুন সবটুকু নিজের কাছে রেখে দেয়ার জন্য। আমাকে ছোটলোক ডাকুন। আমাকে মনে করিয়ে দিন।
গুছিয়ে বলতে পারিনি হয়তো কিছুই। কিন্তু লেখাটা শুরু করতে পেরে খুব শান্তি লেগেছে। তবে এটা শুধু বলতে পারার শান্তি। এখনো কিছু করতে পারিনি।
লেখা শেষ করছি আরেকটা গল্পের লিংক দিয়ে। পড়লেই বুঝতে পারবেন!
সত্যের মত একটি গল্প.... - লিপিকার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

