বৃটেনে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাত্রের মাথায় হাত পড়েছে। তারা পরিবর্তিত ইমিগ্রেশন আইনের ফলে কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। বেশ কিছু কলেজ ইতোমধ্যে আর সীট খালি নেই বলে প্রচুর ছাত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কলেজে ভর্তি না হলে হোম অফিসও কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঙ্কার দিয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক বংলাদেশী ছাত্র কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে উদ্বেগগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। বৃটেনে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অবস্থান করতে হলে একজন ছাত্রকে বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে আশি ভাগ উপস্থিতি দেখাতে হয়। হলিডে ছাড়া কেউ বিনা কারণে কলেজে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না। প্রগ্রেস রিপোর্ট ভালো না হলে এবং উপস্থিতির হার আশি ভাগের কম হলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। এ সব নিয়ম মেনে না চললে ইমিগ্রেশন বিভাগের লোকজন ধরে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এবার সেপ্টেম্বর শীতকালীন সেমিস্টারে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র বৃটেনের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পাবে না।
লন্ডনের স্কুল কলেজগুলোয় আকষ্মিকভাবে দেখা দিয়েছে এই সীট শূন্যতা। ছাত্ররা ভর্তির সুযোগ পাচেছ না। পরিবর্তিত ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় বিগত পাঁচ মাসে বৃটেনে বহু সংখ্যক নতুন ছাত্রের আগমন ঘটেছে। এখন ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনে স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার নাকি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। প্রায় প্রতিদিনই বৃটেনে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর ছাত্র আসছে। ইউকে বর্ডার এজেন্সির নানামুখী তৎপরতার কারণে ধারণা করা হয়েছিল বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বৃটেনে পড়তে আসার স্বপ্ন ভন্ডুল হয়ে যাবে। সেটি হয়নি। বরং স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম কানুন শিথিল করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
পয়েন্ট ভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা চালুর পর বংলাদেশ থেকে আসতে আর ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করার জন্য বৃটিশ কউন্সিলে আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে হচ্ছে না। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে সুখের সংবাদ। কোন রকমে বৃটেনের একটি স্পন্সর লাইসেন্স প্রাপ্ত কলেজে ভর্তির এনরোলমেন্ট লেটার জোগাড় করতে পারলেই হলো। আর এই সুযোগে বৃটেনে ছাত্র আসার হার বিগত মাসগুলোয় হুহু করে বেড়ে গেছে। পরিবর্তিত অবস্থার সুযোগ নিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকাসহ নন-ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র ইতোমধ্যে বৃটেনে চলে এসেছে।
যে হারে ছাত্র এসেছে। সে হারে কলেজগুলোয় সীট নেই। কঠোর নিয়ম নীতি জারির ফলে তথাকথিত ভিসা কলেজগুলো এখন নিভু নিভু প্রদীপের মতো জ্বলছে। ঘষামাজা করে একটি লাইসেন্স জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রায় দেড় সহস্রাধিক কলেজ। ইতোমধ্যে কিছু কলেজের লাইসেন্সের আবেদন ইউকে বর্ডার এজেন্সি নাকোচ করে দিয়েছে। এ সব কলেজ এখন আর বিদেশী ছাত্র ভর্তি করতে পারছে না। ফলে যারা লাইসেন্স পেয়ে গেছে এদের পোয়াবারো। কারণ একমাত্র লাইসেন্সধারী কলেজগুলোই বিদেশী ছাত্র ভর্তি করতে পারছে। এদের কেউ কেউ এখন আর সীট নেই বলে ছাত্রদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শীতকালীন নতুন সেমিস্টার। হোম অফিসের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রদের নতুন করে এনরোলমেন্ট করতে হচ্ছে। ফলে কলেজগুলোয় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে নতুন ছাত্রদের ইনডাকশন এবং রেজিস্ট্রেশন নিয়ে। কিছু কলেজ লাইসেন্স প্রাপ্তি থেকে ছিটকে পড়ায় লাইসেন্সধারী কলেজগুলো রাতারাতি টিউশন ফি বাড়িয়ে দিয়েছে। বছরের শুরুতে বিদেশ থেকে আগত একটি ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য যে কলেজ এক বছরে এক হাজার পাউন্ড টিউশন ফি নিয়েছে তারা লাইসেন্স পাওয়ার পর পরই একই কোর্সের টিউশন ফি বাড়িয়ে কমপক্ষে আড়াই হাজার পাউন্ড করেছে। ফলে নতুন ছাত্রদের ভর্তি করার ব্যাপারেই এখন তাদের যত আগ্রহ। ফলে বৃটেনে অবস্থানকারী পুরনো ছাত্ররা বিপাকে পড়েছে। এখন তারা ভর্তি হতে গেলে বলা হচ্ছে সীট আর খালি নেই। কলেজগুলোয় আগে কিস্তিতে টিউশন ফি দেওয়া যেতো। যাতে ছাত্ররা কাজ করে টাকা জমিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে। কারণ বৃটেনে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। সেপ্টেম্বর সেমিস্টার থেকে কোন কোন কলেজ কিস্তিতে টিউশন ফি নেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। কেউ কেউ পুরনো এনরোলমেন্ট বাতিল করে একই কোর্সের জন্য দ্বিতীয়বার রেজিস্টেশন করার জন্য চাপ দিচ্ছে। আর এই সময় অতিরিক্ত টিউশন ফি চাওয়া হচ্ছে বলে অনেক বাংলাদেশী ছাত্রের কাছ থেকে তথ্য মিলেছে।
click
http://www.notundesh.com

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

