somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পোষ্ট সরিয়ে ফেললে সত্য বদলে যায় না।ব্লগ কি শ্রদ্ধা ধরে রাখতে পারবে??? আমি পুলিশের মুখের কথানুসারে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম।
সেটা অবশ্য এখন অনেকগুলো প্রতিকাই ছেপে ফেলেছে।
রুনী অপরাধ করেছে।
এটাই সত্য।
পোষ্ট সরিয়ে ফেললে সত্য বদলে যায় না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29540725 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29540725 2012-02-13 23:37:03
শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ভরে যাবে দেশ! আমরা কাপূরুষ না। রাস্তায় যখন অদক্ষ ড্রাইভারের চাপায় মারা যাব। আমরা নিয়তিকে বিশ্বাস করি। স্রষ্টার মাল(মানুষ কি মাল???) স্রষ্টা নিয়ে গেছে।

সন্ত্রাসীর গুলিতে আমার লাশ পড়বে মহল্লায়। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আইনশৃঙ্ক্ষলা আগের থেকে ভাল। সবই বিরোধী দলের কাজ।

শেয়ার মার্কেটে ধস। আমরা দরজা আটকে ফাশি দিব। জীভ বের করে ভেংচি কাটব সরকার বাহাদুরকে। ৭১ ছিলাম আমরা মুক্তিযোদ্ধা। হোক না আজ আমি কাপূরুষ। ভেংচিতো কাটতে পারছি।

রাতের আধারে আমার লাশ বিক্ষত। আমি সৌভাগ্যবান। আমার লাশের ছবি ছড়িয়ে যাবে মিডিয়ার পাতা জুড়ে। পত্রিকার পাতায়। আমি কাপুষ না। আমি হিরো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29539140 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29539140 2012-02-11 19:19:55
সানু তোমার ইটালী প্রবাসী স্বামীকে নিয়ে সুখে থাক। তোমাকে নিয়ে লেখা সেই সত্য ঘটনাটি। জানিনা তোমার চোখে পড়বে কিন। তবে... Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29537812 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29537812 2012-02-09 14:42:47 এই মাত্রপড়লাম হকিং বাবুর, ‘দ্য গ্রান্ড ডিজাইন’ আর দেখলাম বাংলা ভিশনে ইংরেজী নববর্ষ উপলক্ষে সরোয়ার ফারুকির লাইভ অনুষ্ঠানে পুনঃপ্রচার। মানুষের মস্তিষ্ক শূণ্য হয়ে গেলে অর্থহীন ব্যরব্যর করে।
এমই একটি অর্থহীন বই ‘দ্য গ্রান্ড ডিজাইন।’
হকিং সাহেব যে পুরা আউলাইছেন তার প্রমাণ এই বইটিতে পাওয়া যায়।
যেই তত্ত্বটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে বছরের পর বছর।
গবেষণা করতে হবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
কারণ আমাদের জ্ঞানবিজ্ঞান একক থিউরির প্রদানের মত সক্ষম গণিত তৈরি করতে পারে নাই। তবে আমরা আশা বাদি।
কারণ জ্ঞানবিজ্ঞান বির্বতনের ফল।
হকিং একটু করে যাবে। তারপর আরেকজন আসবে। তখনই মিলবে মহান থউরি। হকিং হঠাৎ মরিয়া হয়ে গেলেন সেই তত্ত্বের জন্য।
যেটা এখনো আসে নাই মহান বুনিয়াত।
হঠাৎ করে আসেও।
আর আইনস্টাই চেষ্টা করে গিয়েও সফল হয়নি।
কারণ হকিং বলেছিল তখন বিজ্ঞান ততটা উন্নত ছিল না।
তার থেকেও বড় কথা আইস্টাই পরিবর্তি সফল কোন থউরি আমরা পাইনি।
ঐ কোয়ান্টাম তত্ত্ব আর আপেক্ষিক তত্ত্বেই আমরা থেমে আছি।
তবে গায়ের জোড়ে পাহাড় ঠেলার মত হকিং পাহারের গায়ে পিঠ দিয়ে হাপি যাচ্ছে। তার হাপানির বহিঃপ্রকাশ দ্য গ্রান্ড ডিজাইন।


বাংলা ভিষনে আমার ছোট ভাইকে দেখলাম সরোয়ার ফারুখী, তিশা, মোশারফ করিমের একটি অনুষ্ঠান দেখছে। যেটা ইংরেজী নববর্ষ ২০১২ উপলক্ষে করা। অনেক তরুণের আইকন এই সরোয়ার ফারুখী। অথচ যে ঝিমুচ্ছে। চোখ মেলে তাকাতে পারছেন না। যারা গাজাখোড়দের সামনের থেকে দেখেছেন তারা এই ঝিমুনিটি চিনতে ভুল করেন নাই। সে গাজা খান, আমি মনে করে ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু একটি অনুষ্ঠানে আসার আগে একদিন গাজা না খেয়ে এলে হয় না। কারণ এদেরকে যে আমাদের নতুন প্রজন্ম অনুকরণ করেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29517604 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29517604 2012-01-06 22:42:00
বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করতে গেলেই দূর্ঘটানা, নাকি ষড়যন্ত্র!!! তারা এই টাইপ নিউজ দেখতে অভ্যস্থ-টুঙ্গিাপাড়া যাওয়ার পথে দূর্ঘটানা।
জাতির পিতার মাজারে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা চাই।
নয়ত অনেকেই ভয়ে সেখানে যেতে চাইবে না।
এর পেছনে নিশ্চই কোন যড়যন্ত্র আছে।
ষড়যন্ত্র ছাড়া এই দেশে গাছের পাতাও নড়ে না।

বঙ্গন্ধুকন্যার কাছে আমার ব্যপক নিবেদন।
এর কঠিন তদন্ত করুন।
তারপর উপযুক্ত বিচার করুন।
গাড়ির চালকদের দৃষ্টান্তমুখল শাস্তি দাবি করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29515697 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29515697 2012-01-03 22:47:21
আমার বন্ধু রাশেদ।গত বছর টিআইবির রিপোর্টে পুলিশ সেরা দূর্নীতিবাজ হয়। তাই স্মরণ করে লিখেছিরাম। এই বছর তারা তাদের সিংহাসন অক্ষত... http://rommofun.com/1395/]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29515072 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29515072 2012-01-02 22:41:16 ট্রয়ের কাঠের ঘোড়া=ইরানের ড্রোন। ইরানীদের উল্লাস! ২০১১ বড় বোকা। Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29514407 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29514407 2012-01-01 22:30:33 ট্রয়ের কাঠের ঘোড়া=ইরানের ড্রোন। ইরানীদের উল্লাস! ২০১১ বড় বোকা। ইরান না আমেরিকা।
আমেরিকার একটি ড্রোন গিয়ে ইরানের মাটিতে অক্ষত অবতারণ করে।
মিডিয়া এমন ভাবে হৈচৈ শুরু করল যেন আমেরিকা একটা বোকারাষ্ট্র।
যে রাষ্ট তার বুদ্ধি আর শক্তিতে শ্রেষ্ঠ সে কেন বোকামী করবে।
দূরবোধ্য ইরানকে কেন সে একটি ড্রোন দিবে?

১১৮৪ খ্রিষ্টপূর্ব। ১০ বছর চেষ্টা করে ট্রয় নগরী দখল করতে পারছে না রাজা আগামেমন। তখন তারা বানালের একটি বড় কাঠের ঘোড়া। আর সেটার মধ্যে লুকিয়ে রেইল তার সেনারা। রাতের আধারে ট্রয়বাসী সেই কাঠের ঘোড়া টেনে নিলেন শহরে। আধারে সেনারা ট্রয় নগরী জ্বালিয়ে দিলেন।

এখন আমেরিকা ড্রোনটিকে অক্ষত নিয়ে গেছেন তার ল্যাবে। আর রহস্যময় ইরানী ল্যাবের সব তথ্য যদি আমেরিকার হাতে চলে যায়। যারা হলউডের মুভি দেখেন। তারা আমার সাথে একমত হবেন। ঐ ড্রোনটি নিশ্চই গুপ্তচর রোবট।
আমি সত্যি বলছি কি না?
উত্তর পাবেন ২০১২তে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29513764 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29513764 2012-01-01 00:05:34
মানুষ কেন এত প্রতিক্রিয়াশীল হয়। তাও রুমান বৈশাখীর মত একজন লেখিকা!
আমি জবাবে লিখলাম-স্টার ওয়ার সিনেমায় এক নবজাতকে তার বাবা তারা ভরা আকাশের দিকে তুলে ধরে বলেছিল-this is ur playgroun.
আমাদের এক ব্যবসায়ি 71 আগে পাকিস্তান গিয়ে একটা কারখানা দেখেছিল। যেখানে 10000 লোক কাজ করছে। সেই লোকের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশে একটা এমন শিল্পকারখানা গড়ে তুলবে। এখন তার কারখানায় 40000 শ্রমিক কাজ করে। তিনি একজন বাংলাদেশের নামকরা ব্যবসায়ি। তার চেয়ে বড় কথা সে... 40000 হাজার শ্রমিক পরিবারের ত্রাণকর্তা।
আমি যখন ইপিজেড যাই। দেখি ভারত, পাকিস্তান বাংলাদেশ আর শ্রীলংকান শ্রমিকরা দলবেধে কাজ করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য!

আমরা চাই মানুষ ছড়িয়ে পড়বে মহাকাশের বুকে। অথচ ফেইজবুক আর ব্লগ খুললে দেখে কষ্ট হয়। আমরা শুধু বিভক্তিতে ব্যস্ত। এমনকি বন্ধুত্ত্ব করতে গিয়েও ক্ষমা নেই সেই দেয়াল তোলার।

আর রুমানা আপনি একজন জনপ্রিয় লেখিকা। যতটা না জনপ্রিয় তার থেকে বড়মাপের লেখিকা আপনি। আশা করি সব বড় লেখকের মত আপনি সেটা ভুলে যাবেন না।

সাথে সাথে তিনি আমাকে আনফ্রেন্ড করেদিলেন। কি হাস্যকর ছোটমন নিয়ে এরা নিজেদের সাহিত্যিক মনে করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29512410 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29512410 2011-12-29 21:43:06
প্রাণ গোপাল দত্ত: একজন অদ্ভুত ভালো মানুষ।
এক বন্ধুর কাছে শুনলাম, অবৈধ ভাবে দখল করা অনেক স্থাপনা। যার থেকে বখরা নিত সরকার দলিয় লোকেরা। এইসব মার্কেট তিনি একক প্রচেষ্টায় তুলে দিয়েছেন।
সরকারের অনেক লোক প্রধান মন্ত্রীর কাছে পর্যন্ত গিয়েছেন তাকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি অনড়। যতদিন থাকবেন শুধু দেশের মানুষের জন্য করে যাবেন।

স্যালুট প্রাণ গোপাল স্যার।
আপনারা না থাকলে যে আমাদের স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29501467 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29501467 2011-12-12 18:40:07
ঈশ্বর আমি প্রভারে স্বপ্নে দেখছি। হরতালের দিন কি হইব বলতে পারেন? দেখি সে চিরাচরিত পেষ্টকালারের শাড়ি গায়ে। শাড়ীর নিচে ব্লাউজ। তার নিচে কালো ব...।
আমার কোন দোষ নাই।
আইজ কি কপালে আছে।

কোন জ্যোতিষি ব্লগার থাকলে আমায় হেল্প করেন.................।




(আমি যদি মিথ্যা বলি তাহলে কেয়মাতের দিন ঠেকা থাকব।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29495917 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29495917 2011-12-04 09:02:23
পিচাশ কাহিনী: প্রত্যাবর্তন হঠাৎ একলোক হাজির। মোটাসোটা দীর্ঘদেহী। মোটা গোঁফ দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না লোকটা ট্রাক ড্রাইবার। এখন মোটা গোঁফ সাধারণত এখনো ট্রাক ড্রাইভারাই রাখে। আকাশের বুক চিড়ে বিদ্যুত চমকাচ্ছে। লোকটা বাহিরে তাকিয়ে বলল, ‘সেদিন ছিল এমন রাত!’
গ্রামের মানুষেরা সাধারনত গল্পবাজ হয়। প্রয়োজন ছাড়া বেশি কথা বলে। এদের প্রশ্রয় দেওয়া বিপদজনক। প্রশ্রয় পেলে কানের পোকা বের করে ফেলে। রাতে একা ভালো লাগছিলোনা। তাই তার কথায় সায় দিয়ে বললাম,
‘কোন দিনের কথা বলছেন?’
‘গত বছর ঘটনা। একদিন সকালে এই চায়ের দোকানে। দেখি একটা ছেলে মাথা নীচু করে বসে আছে। চায়ের দোকনদার চাচা বলল, ছেলেটা চরের তোনে আইছে। অর একটা কাজের দরকার।’
দেখে মনে হল অবস্থাপন্ন ঘরের সন্তান। হয়ত বাড়ি থেকে রাগ করে এসেছে। আমার মায়া লাগল। কারণ একদিন আমিও মেট্রিক ফেল করে লজ্জায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ছিলাম। পরে জানলাম ছেলেটা নাম আসাদ। মুখ গোল। গায়ের রং র্ফসা। হাটা চলা মাইয়্যালোকের মত। যাই হোক ছেলেটাকে আমার ট্রাকে রেখে দিলাম। হেলপার করব। আমি কাঁচামাল নিয়ে শহরে যাই। ও আমার সাথে শহরে যায়। আবার সকালে শহর থেকে গ্রামে চলে আসি।
একদিন দুপুরের ঘটনা। প্রচন্ড রোদ। আমরা এই স্টেশনেই একটা হোটেলে ভাত খেয়ে বিশ্রামে আছি। বিশ্রাম শেষে হোটেল থেকে ট্রাকে গিয়ে উঠলাম। ভাবলাম ট্রাকটা পেছনের গ্যারেজে রেখে আসি। ট্রাকে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট করলাম। একটু ব্যাকে গিয়ে রাস্তায় উঠব। হঠাৎ একটা আর্তচিৎকার। আমার হাত স্টিয়ারিং থেকে নেমে গেল। লোকজনের হায় হায় রব শুনে ট্রাক থেকে নিচে নেমে আসি। একটা থেতনানো মানুষের শরির পড়ে আছে ট্রাকের চাকার নিচে। শরীর আর চেনা যায় না। দেখে মনে হয় এক দলা মাংশের পিন্ড। রক্ত আর মাংশ একাকার হয়ে আছে। হলুদ মস্তকটা ছিটকে পড়ে কাঁপছে। ঘটনা হইল কঠিন গরম। ছায়া নাই কোথাও। দুপুরের খাওয়ার শেষে আসাদ ছায়ায় বিশ্রম নিতে গাড়ির নিচে শুয়ে ছিল। একটা পেপার বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সেই ঘুমই ছিল জীবনের শেষ ঘুম। হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোন অবস্থা ছিল না।
লাশ পোষ্টমার্টম শেষে হাতে নিতে নিতে রাত হয়ে গেল। একটা কাঠের কফিন বানিয়ে কাফন পরিয়ে লাশ নিয়ে রোয়ানা দিলাম। গন্তব্য আসাদের গ্রামের বাড়ি। জানাজা না পড়িয়ে লাশ নিয়ে রোয়ানা দিতে অনেকেই নিষেধ করেছে। জানাজা পড়াতে হলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ট্রাকের সিটের পেছনে কফিনটা বসিয়ে রাখলাম।
সন্ধ্যার পর থেকে আকাশটা ধীরে ধীরে মেঘলা হতে শুরু করে। হঠাৎ আকাশের বুক চিড়ে শুরু হলো বিদ্যুৎ চমকানো। আমি আমার সাথে একজন সাহসী কামলা দুলালকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। নিকষ কালো রাত। হেডলাইটের আলো অন্ধকারের বুক চিড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রা¯তার পাশের কিছুই চোখে পড়ছে না। দূর গ্রামেরর কোন পিটপিটে আলোও চোখে পড়ে না। চিরপরিচিত রাস্তাকে মনে হলো অচিনপথ। দূরে একটা সাদা বিন্দু চোখে পড়ল। বিন্দুটা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। একসময় মনে হল একজন মানুষ হেটে যাচ্ছে। গাড়ির সামনে হেটে যাচ্ছে। তবে হাটার ভঙ্গিটা আমার কাছে পরিচিত। আমি হর্ন বাজালাম। না সে পথ ছেড়ে দিবে না। আমি দুলালের দিকে তাকালাম। ও মনে হয় কিছু একটা বুঝতে পেরেছে। ও পেছনের গিয়ে কফিনের ঢাকনা খুলে দেখে। আমি ওর দিকে তাকালে বলে, কফিন খালি। আমি বললাম, শক্ত হয়ে বসে থাক। এর পর গাড়ির গতি বাড়িয়েই দিলাম একশোতে একশো। সাথে পাগলের মতো হর্ন টিপছি। কিন্তু সামনের ওটা মধ্যে সাইড দেওয়ার কোন লক্ষণ দেখলাম না। ধীরে ধীরে আকৃতিটা বড় হতে থাকল। একসময় মনে হল গাড়ির কাচের সাথে লেপ্টে গেছে। কাফনের কাপড় মেয়েদের শাড়ির মতো জরিয়ে পরা। তারপর ওটা ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকালো। মুখ বলতে কিছু নেই। ওখানে একদলা জমাট রক্ত। সেই রক্তের মাঝে দুটি গর্ত। যেই গর্তের শুরু আছে শেষ নেই। আমি গাড়ি থামিয়ে দিলাম। গাড়ির হেডলাইটও নিভিয়ে দিলাম। সব অন্ধকার। জানালার ফাক দিয়ে তাকিয়ে দেখি একটা বাজারের মধ্যে চলে এসেছি। আমি গাড়ির দরজা খুলে ডাক দিলাম। একজন পাহাড়াদারকে ডেকে বলালাম আমরা রাতে আপনাদের সাথে থাকেত চাই। তারা থাকার ব্যাবস্থা করে দিলেন। দুলাল আমি গাড়ি থেকে নেমে একটা দোকানে গেলাম রাত কাটানোর জন্য। তাদেরকে বললাম না আমাদের সাথে কফিন আছে।’
আমি তাকে বললাম, ‘গাড়ি থেকে নামার আগে কফিন খুলে দেখেন নাই।’
‘দেখেছি।’
‘লাশ ছিল।’
‘না। কোন লাশ নেই। লাশ গায়েব। তবে অনেকেই ঐ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কাফন পরা একজনকে গাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটতে দেখে।’

আমার গাড়ি চলে এসেছে। আমি চায়ের বিল দিয়ে উঠলাম। লোকটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেও উঠে যাচ্ছে।
সে বলল, ‘স্যার আমার কথা বিশ্বাস করেন নায়।’
আমি তাকে খুশি করার জন্য বলালম, ‘আপনি যেহেতু দেখেছেন। অবিশ্বাস করি কি করে!’
গ্রামের মানুষ এম্নিতেই বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে। এসব গল্প বিশ্বাস করার কোন কারণ দেখছি না। কাউন্টারের সামনে এসে দেখি গাড়ি দাড়িয়ে আছে। কোন সিট খালি নেই। ড্রাইভারের পাশে একটা অস্থায়ী সিটে দিয়ে আমাকে বসার ব্যাবস্থা করা হল। আমাদের গাড়িও ঢাকার উদ্দেশ্যে রোয়ানা দিয়েছে।

পরিশিষ্টি
গাড়ি এগিয়ে চলছে। নীকষ কালো অন্ধকার রাত। কোথাও কোন আলোর চিহ্ন নেই। থেমে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সাথে মেঘের কানফাটা আর্তনাত। আমি ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছছেন। একটু পরেই্ পাগলের মতো হর্ণ টিপা শুরু করেন। দূরে তাকিয়ে দেখি একটা সাদা বিন্দু। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ব্রীজের রেলিং ভেঙে গাড়ি নদীতে পড়ার আগে আমিও সেই জমাট বাধা রক্তাক্ত মুখ দেখিছি। আর সীমাহীন লালচে গতের্র অতলে আমরা বাসসমেত হারিয়ে গেলাম চিরতরে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29472269 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29472269 2011-10-25 15:38:41
বাচ্চা দুটি আমাদের কি শেখায়? Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29470794 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29470794 2011-10-22 21:37:31 প্রেম কাহানী হ্যা মুশকিল। মমতাজ বিয়ে করেছেন আরেকটি। প্রেমের বিয়ে তার তিননাম্বার আর বরের ২নাম্বার বিয়ে। ওদিকে কলকাতা প্রতিনিধি জানান, পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের আদালতে মমতাজের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের মামলা চলছে। ভারতে গান গাওয়ার জন্য তিনি জনৈক শক্তিশঙ্কর বাগচীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ২ লাখ রুপিও নিয়েছিলেন। কিন' শর্ত অনুযায়ী তিনি কোন অনুষ্ঠানে অংশ না নেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন শক্তিশঙ্কর বাগচী। তবে নিম্ন আদালত থেকেই ২০১০ সালে মমতাজ জামিনের আবেদন করেন। এই সময় তার সঙ্গে বহরমপুর গিয়েছিলেন ডা. মঈন। তিনিই মমতাজের হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করেছিলেন এবং সমস্ত বিষয়টি তদারক করেছিলেন। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট তার জামিন খারিজ করে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়। সমপ্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এক নির্দেশে মমতাজের নামে ভারতে আসার মালটিপল ভিসা ইস্যু করা হলে তা বাতিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে। একমাত্র মামলায় হাজিরা দেয়ার শর্তেই তার নতুন করে ভিসা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


সূত্র-মানবজামিন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29450000 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29450000 2011-09-17 21:27:58
অরুন চৌধুরীর নাটক গুলো এখন যাচ্ছে চয়োনিকা চৌধুরীর নামে টিভিতে যাচ্ছে। মানসম্মান খুইয়ে মুখ দেখানোই দায় হয়ে গেছে লম্পটটার।
এই অরুণ চৌধুরী একসময় সাংবাদিকতা করত।
হুমায়ূন স্যার আর বিপাসাকে নিয়ে তিনি একবার একটা লেখা লেখে
স্যারের ইউনিট থেকে বহিস্কৃত হয়ে ছিলেন। আড্ডার ছলে দু'বছর আগেও বিষয়টা তুলে রশিয়ে রশিয়ে গল্প করতেন ও। আর আজ দুশ্চরিত্র লম্পটের কুকর্ম বিশ্ববাসী দেখে ফেলেছে। তার সমমনা এক প্রগতিশীল পরিচালক দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় লিখেছেন। অরুন চৌধুরীর দোষ নাই।সে মেয়েটের বুকে মুখ ঢুবিয়েছেন দু'জনের ইচ্ছায়। সব দোষ শালা ভিডিও কর্তার। কাতিমাসে কুকুর বাশেঁর ঢলা খায় কেন? সেটা তারা ভুলে গেছে। মিডিয়ায় ব্যাক্তি হলেই তাদের অবাধ যৌন স্বাধীনার লাইসেন্স কে দিয়ে দিয়েছে?
নেটে ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় অরুণকে মিডিয়ার আপন জনরাও এড়িয়ে চলছে। টিভি চ্যানেলগুলো তার পরিচালিত নাটকের ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। ঠিক তখন বউ চয়নিকা চৌদুরী বেচারী স্বামীর পাশে দাড়িয়েছেন বেশ শক্ত হয়ে।
অরুণ চৌধুরী পরিচালিত নাটকগুলো চয়নিকা চৌধুরীর নামে টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে।

অপরাধরি অপরাধ প্রকাশিত হলে তারা শাস্তি পাবেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29446842 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29446842 2011-09-12 16:58:17
আমার পরিচালক হওয়া: পর্ব-১(১৮+)
লোকেশন দেখা
আমরা আড্ডা দিচ্ছি। হাতে কোন কাজ নাই। পরিচালকের হাতে কাজ নাই। কোন নায়িকাও পাচ্ছে না। তরুণ পরিচালক। বউ নাই। আমি তার সহকারি। একদম নবীন। কিছু বুঝি না। শুধু হা করে পরিচালকের কান্ডকারখান দেখি। তিনি একজন অভিনেত্রী ফোন দিলেন।
-হ্যালো সো ভাল আছো?
-ও মকু ভাই। আপনি আমাকে ভুলে গেছেন। আমাকে বুঝি মনে পড়ে না।
-সাত তারিখে তোমার কাজ আছে?
-আছে মতি ভাইয়ে শুটিং। ধারাবাহিক নাটক।
-ও, তাহলে তোমাকে বলে লাভ নাই।
-আরে মতি বড় পরিচালক হতে পারে। তোমার শুটিং থাকলে বল। ওরটা ক্যান্সেল।
-কেন ক্যান্সেল।
-আর বুড়া। ভাল লাগে না।
-আমি শুনলাম তুমি নাকি মইত্যারে মধু কিনে দিছ। শরির গরম করার জন্য।
-আমি না, বিলকিস দিছে। ওই মাগিরে ছাড়া কোন নায়িকা কি সে নিছে। তোমার চিন্তা নাই। মকু ভাই তোমার শুটিং থাকলে সব বাদ।
-কেন সোনা। আমার মধ্যে কি আছে।
-খাইলে, তোমরা পোলাপাইনে খাইবা। যখন দিতে হইব তোমাগোরে দিমু। ঐ বুড়াডিরে না।
-আমার শুটিং নাই। লুকেসন দেখতে চট্রগ্রাম যাব। পাহারের গল্প।
-তুমি নাটকের লুকেশন দেখতে যাই না আমার লুকেশন দেখবা।
-খোদার কসম নাটক বানামু।
-তোমরা পরিচালকরা আমাগোরে চিনাইছ। একবার একজন সিঙাপুর নিয়া কিসের নাটক। আমি আর সে দুজন ইনঢোর শুটিং।
-তাহলে লুকেশন দেখতে যাইবা না।
-না, শুটিং থকলে বল। আমার হাতে টাকা নাই। মাকে যদি বলি লুকেশন দেখতে যাব। সে দিতে চাবে না।
-বলবা শুটিং-এ যাচ্ছি।
-ফিরে এলে যখন বলবে শুটিং করছ, টাকা কোথায়?
-আচ্ছা আমি টাকা ম্যানেজ করলে যাইবা।
-শুধু তুমি বলছ দেখে। আমি তোমাকে শুধু পরিচালক না। আমি তোমাকে অনেক আপন ভাবি।
-তাহলে আমি টিকেট কাটি।
-আমাকে এডভান্স করবা একদিনেরটা। তারপর টিকেট কাটবা কেমন ডারলিং।
-ওকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29446489 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29446489 2011-09-11 23:56:10
ভয়ংকর খবর: বোতলজাত মাঠা ঘন করার জন্য টয়লেট পেপার দেওয়া হয়। -কেন?
-আমি মাঠার কারখানায় চাকি করেছি। জুসের মতও এর মধ্যে মাঠার নাম মাত্র কিচ্ছু নাই। আর এটা ঘন করতে টয়লেট পেপার দেওয়া হয়। টয়লেট পেপার ভিজলে নরম হয়। দাতের নিচে পড়লে মনে হবে দুধের সর।
আমি তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম।
মাঠা আমার মার খুব প্রিয়। তার জন্য ফ্রিজে মাঠা এন রাখি। তাছাড়া আমার প্রিয় লেখক উন্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীবও মাঠা পছন্দ করেন। আমারও প্রিয়। আমার অফিসে লোক এলে আমি কোল্ডডিংস এর বদলে মাঠা দিয়ে আপ্যায়ন করি। ভাবি দেশি পন্য। এরমাঝে খুজে পাই দেশপ্রেম। অথচ তারা কি মানুষ?

আমি বি,এস,টি,আই, ভ্রাম্যমাণ আদলত ও সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ বিষয়টা সিরিয়াসলি নিবেন। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29442124 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29442124 2011-09-02 17:07:43
একটি অমিমাংসিত রহস্য(১৮+) এখন না বাচ্চারা বড় হলে পড়বে।
সব ছোটদের মত আমি সিনেমা পাগল ছিলাম। নিন্ম মধ্যবৃত্ত পরিবারের ছেলে আমি। তাই বিটিভিই ছিল একমত্র সম্বল। সেখানে দেখতাম সাবানা, ববিতা, কবরী, অঞ্জু, চম্প, হালের ময়ূরী ঝুমকা, পলি, শাবনুর এবং মৌসুদের সিনেমা। আমার কাছে রহস্যময় লাগত নায়িকাদের বুকের আকৃতি। পরিবেশের সাথে গল্পের সাথে বদলে যায় বুকের আকৃতি। নায়কের সমনে গেলে ফুলে গোল হয়ে থাকে। বাবার সামনে গেলে ছোট একটু লম্বাটে। আবার কিশোরী চরিত্রে অভিনয় করলে বুক চেপে যায়। আর্ট ফিল্মে একরকম আকৃতি বানিজ্যি ফিল্মে অন্যরকম।

আমি যতদূর জানি একটা সিনেমায় অভিনয় করতে সময় লাগে। এক থেকে তিন মাস। বর্তমানে সেটা ১৫ দিনে নেমে এসেছে। প্রতিটা সিনেমার জন্য আলাদাভাবে ব্যয়াম করে বুকের আকৃতি এততাড়াতাড়ি বদলে দেওয়া যায় না। এর মাঝে বুকের আয়তন এত বদলায় কি ভাবে?
এই রহস্য নিয়ে বন্ধুদের প্রশ্ন করি। কেউ নির্ভরযোগ্য উত্তর দিতে পারে না। বিষয়টা এখনকার ছবির মধ্যেও দেখি। পরিস্থিতি অনুসারে নায়িকার বুকের আয়ত শর্টের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে।
এই রহস্য সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত নিলাম পরিচালক হব। ঢাকা ফিল্ম ইনিস্টউট থেকে 22তম ব্যাচ সফল ভাবে শেষ করলাম। পথে ঘাটে ঘুড়ি আড্ডা দেই। শুটিং দেখার সুযোগ নাই। আজিজ মার্কেটে যাই। সাহস হয় না কোন নায়িকাকে আমার মনের প্রশ্নের কথা জিজ্ঞাসা করি।
অনেক দেনদরবার করে একজন পরিচালকের সাথে সহকারি হয়ে কাজ করার সুযোগ হয়। তারও ওটা ছিল প্রথম নাটক। তিনি শুটিং করবেন কক্সবাজারে। পুর ইউনিট চলে যাবে কক্সবাজারে।
আমার কাজ হল নায়িকাদের এসিবাসে উঠিয়ে দেওয়া। নায়িকাদের গাড়িতে উঠিয়ে দিতে গিয়ে মনটা ভাল হয়ে গেল। দু'জনই জনপ্রিয় এবং বুকের সাউজও দৃষ্টিনন্দন। আমরা যাব ইউনিটের বাসে দলবেধে প্রডাকশন বয়দের সাথে। সকালে আমরা কক্সবাজার পৌছলাম। নাস্তা খেয়ে পরিচালক বলল, যাও নায়িকাদের বল ফ্রেস হতে।
আমি গিয়ে দরজা নক করলাম।
দরজা খুলে দিল একজন নায়িকা, হায় তার সেই বৃত্তাকার বুক কোথায়। এই দেখি বুক ঝুলে আছে রাস্তার মেয়েদের মত। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
বলা চলে চরম হতাশ হলাম। এই দেখি সেই ক্যামেরার সমনের রহস্য বাস্তবতায়।
প্রথম দৃশ্যে নায়িকা শাড়ি পরে আসে। গোলপিী শাড়ি। গোলাপী ব্লাউজ। আর নতুন মাপের গোলাকার বুক। সমূদ্রের বাতাসে দৃষ্টা হয়ে ওঠে চরম গরম।
রাতে কিছু দৃশ্য শুট হবে হোটেলে। ইনডোর। নায়িকা ফতুয়া পরে এসেছে। ফতুয়ার সাথে মানান সই। বেশ ছোট বুক। পরিচালক তাকে ডেকে নিয়ে কানে কানে কি জানে বললেন। সে ম্যাকাপ শব্দ উচ্চারন করে চলে গেল। দশ মিনিট পরে চলে এলেন নতুন সাইজ নিয়ে। পরিচালকের দিকে তাকিয়ে বলল, টিভির সেনসর খুব কাড়া(২০০৮ সালের ঘটনা) কেটে দেলে তোমার দোষ। তবে আমি আবার মুগ্ধ হলাম সেই পুরনো গোলার বুক দেখে।

আমি রাতে ক্যামেরা ম্যানের সাথে শুয়ে শুয়ে গল্প করছি। তাকে বললাম বিষয়টা তো আমার কাছে কঠিন রহস্য মনে হচ্ছে।
সে হাসি দিয়ে একটা গল্প বলল, ধর তোমার একটা সাইকেল আছে। সেটাকে তুমি চালাইবে। কত দিন চালাইতে পারবে?
দশ বছর।
আর যদি সেটা ভাড়া দাও। কত দিন চালাইতে পারবে।
তিন বছরের মধ্যে সব কিছু একাকার করে ফেলবে।
নায়িকাদের বিষয় হল এমন। শুটিং চলে দেশে বিদেশে দিনে রাতে। শতশত পরিচালক শতশত প্রডিউসার। সে তো একজন। কি থাকবে আর ভেতরে বল।
-তহলে কি তারা কাহিনীর সাথে মিল রেখে কাপড় পেচিয়ে ব্লাউজের মধ্যে ভরে?
-পরিচালক হও। তখন সব বুঝব।
আসলে আমি তিনটা নাটকে সহকারি পরিচালক ছিলাম। পরিচালক হওয়ার আগেই টিভি মিডিয়াকে গুডবাই জানিয়ে দিয়েছি। তাই এই রহস্য আমার কাছে আজও রহস্য হয়ে রয়ে গেছে। যার মিমাংশা আমি করতে পারিনি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29441456 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29441456 2011-08-31 16:58:26
একজন পরিচালক এবং তার অগণিত মিথ্যাচার!! Click This Link
আজ পরিচালক হিমু আকরামের একটি সাক্ষাতকার ছাপা হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাকে।
১.তিনি বলেছেন তার নাটক গুলো হল-
‘ডিরেক্টর’, ‘আলাল দুলাল নেপালে’, ‘কাবাব মে হাড্ডি’, ‘টাইপিস্ট’
বাস্তবতা হল এই চারটি নাটকের একটিও কোন টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়নি। আর হবেও না। তিনি একদল আর্টিস্ট নিয়ে নেপাল গেছেন আনন্দ করতে। সেই সময় যা মাথায় এসেছে তাই নাটক বানিয়ে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। যেগুলোর একটিতেও সাউন্ড নাই।

২.তিনি ছিলেন ফেরদৌস হাসানের সহকারী পরিচালক। আসলে তিনি সহকারি পরিচালক ছিলেন না। তিনি ছিলেন পরিচালকের সহকারি। একজন পরিচালের বোতল খাতা টানার জন্য গ্রাম থেকে লোক এনে রাখা হয়। এদেরকে বলে পরিচালকের সহকারি। তারা নাটকের কিছু না। তাকে কখনোই সহকারি পরিচালক বানোনো হয়নি।

৩. আবার তিনি বলেচেন তার নাটক সমূহ, ‘উপকূল এক্সপ্রেস’, ‘মরচেপড়া শিকল’, ‘সাগর ডাকিছে তারে’, ‘সিনিয়র আর্টিস্ট’, ‘ম্যানেজিং ডিরেক্টর’, ‘তেলাপোকা’, ‘মাটির কাঁঠাল’, ‘জলছাপ’, ‘চান্দু ভাই ডাইরেক্টর’, ‘কঙ্কাবতীর চিঠি’ এবং বিটিভিতে প্রচারিত ২৬ পর্বের ধারাবাহিক ‘গোলমাল’। উপকূল এক্রপ্রেস তৈরি করেছেন বেলাল আহমেদ। জলছাপ ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর দু'টি একুশে টিভি গ্রহণ করেছেন।এরমধ্যে মরচেপড়া শিকল গল্প নকলের দায়ে কোন টিভি চ্যানেল গ্রহণ করেনি। গোলমাল নাটক ১৩ পর্ব চালানোর পরে বিটিভি বন্ধ করে দেয়।

৪. ‘ইমোশনাল আব্দুল মতিন’ এই নাটকের গল্পটা আমি উন্মাদ ঈদ সংখ্যায় লিখেছি। তিনি সেই গল্প দিয়ে নাটক বানাচ্ছেন। আমি তাকে বারবার অনুরোধ করেও আমি তাকে থামাতে পারিনি।
তার মত একজন লেখক নামের কলঙ্ক যে অন্যের গল্প চুরি করে নাটক বানায়। সে কিভাবে ইত্তেফাকে মোচওয়ালা ছবি সহ সাক্ষাতকার দেয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29425485 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29425485 2011-08-04 17:10:49
অরুণ চৌধুরীর ঘটনার জন্য তার সহকারি পরিচালক দায়ি! আমি দু'বছর হিমু আকরামের সহকারি পরিচাল ছিলাম। দুটি একঘন্টা নাটক। এবং একটি ধারাবাহিক নাটক। যেটা বিটিভির জন্য বানিয়েছি। নাম গোলমাল। হিমু আকরামের সাথে কাজ করেছি।
পরিচালক যখন নায়িকার সাথে মউজ করার সময় ড্রেসিং রুমে ঢুকতেন আমি দাড়িয়ে থাকতাম দরজা আগলে। (বের হলে নায়িকাকে আবার মেকাপ করতাম। মেকাপ কোথায় চলে যেত )তখন ভিডিও তো দূরের কথা। কেউ দরজার কাছে আসতে সাহস পেত না। সেদিন যদি তার সহকারি পরিচালক একটু এলার্ট থাকত তাহলে এমন ঘটনা ঘটতে পারত না।


পরিচালক ভাইয়েরা আপনারা ভাল একটা সহকারি পরিচালক রাখুন। নয়ত আপনাদের সবার লুচ্চামি সমান্তরাল ভাবে প্রকাশ পাবে। তখন সবার টিভি চলে যাবে ডাস্টবিনে। আপনাদের সন্তানরা সমব মানষিক রুগি হয়ে পড়বে।
প্রভা-চৈতী-নির্ঝরের পর এবার অরুণ চৌধুরীর বিকৃত ছবি!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29415338 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29415338 2011-07-18 15:51:07
আমার লেখা প্রিয় গল্পটি যখন একজন নাটক বানিয়ে নিজের গল্প দাবি করে ফেলে তখন কি আমার কিছু করার নাই। পরিচালক হিমু আকরামে গল্পচুরি। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29411298 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29411298 2011-07-11 22:48:24 আমার গল্পচোরা নাট্যকার হিমু আকরাম। তাকে কি ভাবে থামাব? Click This Link

আমি উন্মাদ(২৫৮) ঈদ সংখ্যা২০১০ জন্য একটা নাটক লখিছেলিমা। নাটকরে নাম গৃহবন্দ। গল্পটা এমন, নায়ক ছ্যাকা খয়েে সদ্ধিান্ত নয়ে সে আত্মহত্যা করব।সে ভীতুমানুষ। সাহস হয়না আত্মহত্যা করার তাই বন্ধুদরে পারার্মশে বভিন্নি উপায়ে আত্মহত্যার চষ্টো কর। কন্তু র্ব্যাথ হয়। শেষে এক বন্ধুর পরার্মশে যায় ভাড়াটে খুনরি কাছ। খুনকি তাকে খুন করতে টাকা দয়ে নায়ক। এরিমাঝে তার জীবনে নতুন প্রেম আসে। সে আত্মহত্যার সিদ্ধন্ত বাদ দিয়ে পালিয়ে বেড়ায় নিজের ভাড়া করা খুনরি হাত থকে। এভাবে চলে নাটকরে গল্প।
আজ বাংলাদশে প্রতদিনি পাতায় হিমু আকরামরে নতুন নাটক ইমোশোনাল আবদুল মতিনের প্রোম দখেলাম। গল্প ঠিক আমারটা। হিমু আকরামের নাটক
হিমু আকরাম সর্ম্পকে বলে নেই। এই লোক একসময় দৈনিক ইনকিলাবের পাঠক পাতায় হুমায়ূন আহমেদ স্টাইলে ছোটখাট লেখা লিখত। তারপার ফেরদৌস হাসানের সহকারি হয়ে কাজ করেছে কিছুদিন। আমি মিডিয়ার প্রতি একসময় পাগল ছিলাম। তার সহকারি হয় দু’তিনট নাটকে কাজও করেছি। চুড়ান্ত রমক ছোটলোকির কারণে আমি শুধু তাকে না ভিজুয়্যাল মিডিয়াকে গুডবাই জানাই। সাথে আরেক সহকারী পরিচালক আদনান ফরহাদও হিমু আকরামকে ছেড়ে চলে যায়।
আদনান ফরহাদ
এর কছিদিন পর তার প্পেমিকাও তাকে ছেড় চালে যান।

সে আমার কাছে এসে বলে তোমার নাটকের গল্পটা সুন্দর। আমি এটা একুশে টিভির জন্য বানাতে চাই। ওরা সবসময় নতুন মাত্রার গল্প চায়।
আমি বললাম, নাটকে নাম বদলাতে পারবেন না। রচনায় এবং চিত্রনাট্যে আমার নাম থাকবে। এই শর্তমানলে আপনাকে দিব। শুধু মাত্র রচনায় আহমেদ মামুন এক কোনায় আরকাহিনি সংলাপ এবং চিত্রনাট্যে হিমু আকরাম এমন হলেচলবে না।

গত চার দিন আগে ফেইজবুকে দেখলাম সে আমাকে ব্লক করে দিয়েছেন। আমার মাথা ব্যাথা নাই। তার মত ছোটলোকের বন্ধু হওয়া আমার জন্য গুরুত্ত্বপূর্ন কিছু না। আজ পত্রিকায় খবরটা দেখে আমি তাকে ফোন করলাম।(০১৭১২০০৮৮৬৫)বলে আমি মিটিং-এ বিজি আছি। আধঘন্টা পরে সে আমাকে ফোন দিল। আমি তাকে আমার আশংকার কথা খুলে বললাম। সে কথাটা উড়িয়ে দিয়ে বলল, এই গল্প আমি ২০০২ সালে দৈনিক ইনকিলাবে লিখেছি।
-তাহলে আমাকে ই-মেইল করে দিন। দেখি।
-আমি তোমার মত একটা দু’টা লিখি না। আমি কি লেখা নিয়ে ঘুরব?
এরপর সে তার ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটা রেখে দিল।
আমি উন্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীবকে ফোন দিলাম। সে বলল, আগে মামলা করার দরকার নেই। ফোনে বিষয়টা মিমাংশা করে ফেল। এটাই ভাল।
কিন্তু সে যেসব কথা বলছে শুনে আমার ঘৃনা ধরে যায়। মিডিয়ার মানুষ এত নোংরা কেন। তারা এত মিথ্যা সাজিয়ে বলে কি ভাবে। আর আমরা যারা কষ্ট করে একটা লিখা লেখি। তার কি ক্যামেরা আর অভিনেতা আভিনেত্রী ভাড়া করাদের কাছে জিম্মি থাকব?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29410801 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29410801 2011-07-11 00:29:02
ইহা আমি কি দেখিলাম! আজ নতুন একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম... বাংলাদেশের প্রয়াত ক্রিকেটার মাঞ্জারুল ইসলাম রানা কে Cricinfo Cricketers Profile এ জীবিত দেখানো হয়েছে... শুধু তাই নয়, তাকে দেখানো হয়েছে ICL খেলে বহিষ্কৃত ক্রিকেটার হিসাবে! অথচ মাঞ্জারুল মারা যান ২০০৭ সালে... আর ICL শুরু হয় ২০০৮ সালে!!
এইভাবেই তারা আমাদের ক্রিকেটারদের ছোট করছে!!

সূত্রঃView this link


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29403305 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29403305 2011-06-27 15:21:10
সিনেমাপড়ার জোকস(অবশ্যই ১৮+) এক নায়িকার সাক্ষাৎকার নিতে আসলেন সাংবাদিক।
যথারিতি প্রশ্ন, দীর্ঘদিন মিডিয়ার রানী ছিলেন। গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে এই বছর বিয়ের পিড়েতে বসবেন। বিয়ে নিয়ে আপনার ভাবনা?
-আমি আমার মায়ের পথ অনুসরন করব।
-আপনার মা কি বেশি বয়সে বিয়ে করেছেন।
-না, তিনি বিয়ে করেন নি। সারাজীবন অবিবাহিত ছিলেন।

দুই.
একটা গরম ছবি বানানো হবে। বৃষ্টি ভেজা নায়িকা। তাকে একদল গুন্ডা তাড়া করবে।নায়িকা প্রানপণ দৌড়া দিবে। একসময় সে শাড়ি খুলে রেখে দিয়ে পালাবে। জান বাচানো ফরজ অবস্থা!
নতুন নায়িকাদের ইন্টারভিউ চলছে। তিনজন বোর্ডে বসে আছেন। একজন পরিচালক, একজন প্রযোজক, একজন মহিলা অভিনেত্রী।
প্রথম এক মেয়ে এল। হেভি ফিগার।
পরিচালক-কাপড় খুলে দাড়ান।
নায়িকা-লাইটটা নিভিয়ে দিন। আমি লাইট জ্বেলে কাপড় খুলতে পারব না।
-বাতিল। নায়িকা হলে এর থেকে বেশি লাইটের মধ্যে কাপড় খুলতে হবে। যাও।
তারপর একজন হাসতে হাসতে কাপড় খুলল। এবং সেই নায়িকা হতে পারল।


(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29402636 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29402636 2011-06-26 10:08:47
ছাত্ররাজনীতি নিয়ে নাটক লেখা কি অন্যায়?? টিভি চ্যানেলগুল রাজনীতি নিয়ে টকশো করতে পারে। নাটক বানাতে ভয় কিসের? একজন সহসী পরিচালকের... অরাজনৈতিক রম্যনাটক
উল্লাস



(মানিক, জাহের সাথে রুমমেট দু’ছাত্র খাটে বসে তাস খেলছে। আলতাফ রুমে প্রবেশ করে। আলতাফ ছাত্রনেতা। জাহের মানিক তার ডান-বাম হাত। জাহের স্টেটকাট কথা বলার মানুষ। তার পকেটে অস্ত্র থাকে সবমময়। মানিক তেল মারা ছাড়া কথা বলতে পারে না। আলতাফরা একটু ঝামেলা মধ্যে আছে। কারণ তাদের নেতা সেল্টারদাতা জুলমত এখন জেলে। যাকে আলতাফ বড়গলায় বড় ভাই ডাকে। তবে আশার কথা জুলমত ভাইয়ের জামিন হয়েছে। আলতাফ জুতা খুলেছে।)
আলতাফঃ উকিলের পিছে দৌড়াইতে দৌড়াইতে আমার জান শ্যাষ। সাথে জুতার তলাও এক ইঞ্চি শ্যাষ।
জাহেরঃ বস, জুলমত ভাইয়ে কোন খবর আছে?
আলতাফঃ ভাল খবর আছে! জুলমত ভাইর জামিন হইছে।
জাহেরঃ সত্যি! আমরা কখন ফুলের ফুলের মালা নিয়ে যাুিছ।
আলতাফঃ এখানে সমস্যাটা বলতে পারিস আবার আমাদের ভাগ্যের দোষ। জুলমত ভাইয়ের জামিন হইল। জর্জ বেলে সই করবেন। তখন হঠাৎ জর্জঅসুস্থ হয়ে পড়লেন। হার্ড এ্যাটাক তো আর খবর দিয়ে আসে না। পরে তিনি এক সপ্তাহরে ছুটি নিয়েছেন। আগামী রবি বার ইনশাল্লাহ্ জুলমত ভাইকে আমরা জেলগেট থেকে নিয়ে আসতে পারবো।
জাহেরঃ কত তারিখ?
আলতাফঃ ১৫ তারিখ। সকাল দশটায় সবাই ফুলের মালা নিয়ে আমরা জেলগেট থেকে তাকে নিয়ে আসতে পারব। সবাই আনন্দ মিছিল করতে করতে চলে আসব ক্যাম্পাসে।
মানিকঃ কত তারিখ?
আলতাফঃ ১৫ তারিখ, ক্যান কি হইছে?
জাহেরঃ ১৫ তারিখে আমাদের পরীক্ষার ডেট পড়ছে।
আলতাফঃ ডেট পড়ছে। ডেট পাল্টাইবো।
মানিকঃ নতুন চেয়াম্যান খুব কড়া। মাদ্রাজ থেকে পি, এইচ, ডি করা। তামিল তামিল ভাব। ছাত্রছাত্রীর কথা পত্তা দেন না। খুব রাগি।
আলাতফ ঃ ডেট না পাল্টায়া যাইবো কই। আমার ক্যাম্পাসে আমার কথার উপর কোন কথা নাই। আমার কথাই হইল সিদ্ধান্ত।
জাহেরঃ দেখেন পরীক্ষার ডেট বদলাতে পারেন কিনা।
আলতাফ তার হাত ঝাঁকিয়ে বলে।
আলতাফঃ ঐ ব্যাট বলদের মতো কথা কবি না। এই আমি আলতাফ যদি পরীক্ষার ডেট পাল্টাইতে না পারি তাহলে হাতে চুড়ি দিয়া ক্যাম্পাসে ঘুরবো। বলে রাখলাম।


দৃশ্যান্তর
(স্যার তার রুমে বসে টেলিফোনে কথা বলছেন। আলতাফ এসে ঢুকবে।)
আলতাফঃ স্যার, আসলামুআলাইকুম।
স্যারঃ ওয়ালাইকুম।
জাহেরঃ স্যার আমাদের আলতাফ ভাই। আমাদের ডিপার্টমেন্টে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
স্যারঃ ও। আমি তৃতীয় বর্ষের এনালাইটিক্যাল ক্যামেষ্টি পড়াই। তোমাকে কোন দিন ক্লাশে দেখি নাই।
আলতাফঃ স্যার আমি কিছুদিন সংঘঠনের কাজে বিজি ছিলাম। এই কয়দিন ক্লাশে আসতে পারি নাই।
স্যারঃ ও, এখন বিজি শেষ হয়েছে। জানো পরীক্ষার ডেট পড়েছে।
আলতাফঃ স্যার আমাদের দলের জনপ্রিয় নেতা জুলমত ভাই গ্রেফতার হইছেন নিশ্চই শুনেছেন?
স্যারঃ পত্রিকায় তার ছবি দেখেছি।
আলতাফঃ স্যার জুলমত ভাই আমাকে অত্যান্ত øেহ করেন। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তার চরিত্র হরণের জন্য বিরোধীদলের লোকেরা ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে দিয়েছে।
স্যারঃ আমি কি করতে পারি?
আলতাফঃ স্যার আপনাকে কিছু করতে হবে না। জুলমত ভাইয়ের জামিন হয়েছে।
স্যারঃ ভালো। গ্রেফতার যখন হয়েছেন। জামিন তো হবেই।
আলতাফঃ এখন আমরা যারা তার পেছনে রাজনীতি করি। সে কারগার থেকে বের হলো। দেখল আমরা কেউ জেল গেটে নেই। তাহলে তার মনে কষ্ট হবে না।
স্যারঃ হবে। হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আলতাফঃএখন আমারা যারা এই লাইনে রাতদিন শ্রম দেই তাদের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।
স্যারঃ তাতো কিছুটা হবেই।
আলতাফঃ স্যার তাইলে বুঝতে পারছেন। এখন আমাদের উচিত না জুলমত ভাইকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া।
স্যারঃ উচিত।
আলতাফঃ এখন স্যার সমস্যা হলো আমাদের ১৫তারিখে কোয়ান্টাম রসায়ন পরীক্ষা। এখন পরীক্ষাটা ডেট চেঞ্জ করা উচিত না।
স্যারঃ কোন যুক্তিতে?
আলতাফঃ আমাদের নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার যুক্তিতে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দাবি কি অযৌক্তিক?
স্যারঃ আমি যদি বলি তোমার নেতাকে একদিন পিছিয়ে জেল থেকে বের হতে? তোমাদের পরীক্ষার জন্য দেশপ্রেমিক নেতা একদিন জেলে না হয় থাকলই। পরের দিন বের হলো তোমরা তাকে ফুলের মালা পরিয়ে একটা শো-ডাউন করলা।
আলতাফঃ এইডা স্যার আপনি বুঝে বলছেন, না নাবুঝে বলছেন আমি বুঝতে পারছি না।
স্যারঃ আমি ঠান্ডা মাথায় বলেছি। পরীক্ষা পেছানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আলতাফঃ একটু বিবেচন করে দেখুন।
স্যারঃ আমি আবার বলছি পরীক্ষা পেছানো সম্ভব না। এখন যাও গিয়ে পড়তে বসো। পড়ার জন্য এখানে ভর্তি হয়েছো। কোন নেতার গলায় ফুলের মালা পরানোর জন্য নয়।
আলতাফঃ স্যার আমাদের পরীক্ষায় এটেন্ট করা সম্ভব না।
স্যারঃ যাও ভালো ভাবে পড়াশুনা করো। সুন্দর ক্যারিয়ার গড়। এই দলবাজি বাদ দাও!
আলতাফঃ স্যার, এখন কি পরীক্ষা পেছানো হুেছ না।
স্যারঃ না।
আলতাফঃ এর পরিণাম কিন্তু ভালো হবে না।
স্যারঃ তুমি ভুলে যেও না আমিও একদিন তোমার মত ছাত্র ছিলাম। আমি তোমার স্টেজ পার হয়ে এখানে এসেছি এবং এই চেয়ারে বসেছি। এখন তুমি আসো।
আলতাফ রাগে ফুলতে ফুলতে বেরিয়ে যায়।
(আলতাফ মানিক জাহেরকে নিয়ে বেরিয়ে আসে। দেয়ালে নোটিশ বোর্ড টানানো। নোটিশ বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থেকে বোর্ডটা ছুড়ে ফেলে দেয়।)


দৃশ্যান্তর
যুথি রাস্তা দিয়ে হেটে যায়। আলতাফ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। যুথি চলে যাওয়ার পর মোবাইল বের করে মানিককে ফোন দেয়।
আলতাফঃ তোরা কোথায়?
মানিকঃ ভাই, বকুল তলায় আছি। আসা লাগবো?
আলতাফঃ তোগো কাজ না থাকলে একটু আয়।
মানিকঃ কাজ থাকলেই কি। আপনি ডাকছেন এইটাই আমাগো এখন বড় কাজ। আসছি।
(আলতাফ মোবাইল পকেটে রেখে পায়চারি করে।)


দৃশ্যান্তর
(আলতাফ মানিক ও জাহেরকে ধরে একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে যাবে।)
আলতাফঃ আুছা তোরা আমার বন্ধু না?
জাহেরঃ অবশ্যই।
আলতাফঃ তবে আমি কিন্তু তোদের আমার বন্ধু মনে করিনা। আমি মনে করি ভাই। নিজের মায়ের পেটের ভাই।
জাহেরঃ সেইটা আলতাফ ভাই আপনার মুখে বলতে হইবো না। আপনি না থকলে আমরা দুইজন এই ক্যাম্পাসে বুকের ছাতি ফুলাইয়া হাটতে পারতাম? পারতাম না।
মানিকঃ প্রতিপক্ষরা আমাগো বুকের ছাতি ভাইঙ্গা হলা বাইর কইরা ফালাইতো।
আলতাফ ঃ এখন আমার একটা উপকার করতে হইবো।
মানিকঃ বলেন, আপনার জন্য শইলের সব রক্ত দিয়া ফালামু। এইডা আমার ওয়াদা।
আলতাফঃ রক্ত দিতে হইব না। আমি বেচে থাকতে তোদের গা থেকে একফোটা রক্ত মাটিতে পড়তে দিব না।
মানিকঃ আলতাফ ভাই এখন কি করতে হইবো শুধু অর্ডার দেন।
আলতাফঃ আমার একটা মেয়েকে ভালোলাগে।
জাহেরঃ কি বললেন?
আলতাফঃ একটা মেয়েকে দেখে মনের মধ্যে কেমন জানি লাগল, আমি তোদের বুঝাতে পারবো না।
মানিকঃ বুঝানের দরকার নাই। বুঝতে পারছি।
জাহেরঃ কোন সাবজেক্টে পড়ে?
আলতাফঃ মনে হয় নতুন ভর্তি হইছে। আগে কোনদিন ক্যাম্পাসে দেখি নাই।
মানিকঃ এখন একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করেন?
আলতাফঃ কি জন্য?
মানিকঃ ঐ মেয়েকে তুলে নিতে হবে না।
আলতাফঃ আগে এসব চিন্তা বাদ দে।
মানিকঃ কি করতে হবে শুধু বলেন?
আলতাফঃ মাথা গরম করিস না।
মানিকঃ আপনার মাথা ঘুইড়া গেছে শুনার পর আমার মাথা ঠিক নাই। আমার মাথাও ঘুরতাছে।
আলতাফঃ শোন নারীর ব্যাপারে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। আমাদের সংঘঠনেক একটা মেয়ে আছেনা। ঐ তোরা মাঝে মাঝে মিছিলে আসে।
মানিকঃ পাপিয়া।
আলতাফঃ পাপিয়া একটু বলে দেখ। ও মেয়ে মানুষ। মেয়ে মানুষে মেয়ে মানুষের সাথে সহজে মিশতে পারে। ওকে বল আমার জন্য এই কাজটা করে দিতে।
মানিকঃ আপনে কোন চিন্তা করবেন না। এখন সব চিন্তা আমাদের। আমরা পাপিয়ার কাছে যাুিছ।


দৃশ্যান্তর
(জাহের মানিক বসে আছে। পাপিয়া এসে দাড়ায়।)
পাপিয়াঃ কি রে হঠাৎ স্মরণ! মিছিলে মেয়ে লাগবে?
জাহেরঃ আগে বস।
(পাপিয়া বসে।)
জাহেরঃ তোকে একটা কাজ করে দিতে হবে।
পাপিয়াঃ আমার কাছে তো তোদের একই কাজ। মিছিল হবে সামনে পাচঁজন মেয়ে লাগবে। মেয়েরা মিছিলের সামনে থাকলে ক্যামেরায় মিছিল সুন্দর লাগে।
মানিকঃ তুই না মাঝে মাঝে দিলে চোট দিয়ে কথা বলিস। দিলে কষ্ট পাই।
পাপিয়াঃ হইছে!
মানিকঃ আমরা আজ অন্য কাজে এসেছি। আলতাফ ভাইয়ের উপকার করতে হবে।
পাপিয়াঃ আলতাফ তো সবার উপকার করে বেড়ায়। আমি আবার ওর কি উপকার করব।
মানিকঃ আলতাফ না আলতাফ ভাই বল।
পাপিয়াঃ আমি কি এখন মঞ্চে আছি যে আলতাফ ভাইইইই বলে পাম দিতে হবে।
মানিকঃ তবে আলতাফ ভাইয়ের এখন একটা সম্মানি লোক এটা তোকে স্বীকার করতেই হবে।
পাপিয়াঃ তুই কি চামচামি ছাড়া কথা বলতে পারিস না।
জাহেরঃ আলতাফ ভাইয়ের একটা মেয়েকে পছন্দ হয়েছে।
পাপিয়াঃ আমাকে কি করতে হবে?
মানিকঃ মেয়েটিকে চুলে ধরে আলতাফ ভাইয়ের সাথে প্রেম করতে রাজী করতে হবে।
পাপিয়াঃ আমি কি অন্যনেত্রীদের মত চুলাচুলি করি?
জাহেরঃ না, তোকে ঐ মেয়েটির সাথে আলতাফ ভাইকে সরাসরি মানে মুখমুখি এডজাস্ট করে দিতে হবে।
পাপিয়াঃ সে মেয়েটিকে বিয়ে করবে এই তো?
জাহের ঃ ঠিক ধরেছিস। সে মেয়েটিকে বিবাহ করবে।
পাপিয়াঃ তাহলে তোরা মেয়ের বাবাÑমার কাছে আলতাফের বাবা মাকে যেতে বল।
জাহেরঃ তুই এতো কথা প্যাচাস ক্যান? তুই মেয়ের সাথে আলতাফ ভাইয়ের সাথে একটা ব্যাবস্থা করবি। কি ভাবে করছ তোর ব্যাপার।
পাপিয়াঃ আমি জেনেশুনে একটা মেয়েকে আলতাফের মত একটা একটা ছেলের সাথে কেন পরিচয় করে দিবো?
জাহেরঃ কারণ আমরা তোকে বলেছি। আমরা তোর সহযোদ্ধা? একই সংগঠন করি?
পাপিয়াঃ আুছা যা জানাবো।


দৃশ্যান্তর
(যুথি দাড়িয়ে আসাদের সাথে গল্প করছে। পাপিয়া তাকে ডেকে একটু দূরে নিয়ে যাবে।)
পাপিয়াঃ তুমি অনেক সুন্দরী মেয়ে, তোমার নাম কি?
যুথিঃ যুথি।
পাপিয়াঃ তুমি কোন বিষয়ে পড়ো?
যুথিঃ ফিজিক্সে।
পাপিয়াঃ আমি কেমিস্টিতে পড়ি। ফিজিক্সে আমার অনেক ফ্রেন্ড আছে। তোমার যদি কোন নোটের দরকার হয় বলবা। আমি সংগ্রহ করে দিব।
যুথিঃ আুছা আপু বলবো।
পাপিয়াঃ তোমার গ্রামের বাড়ি কোথায়?
যুথিঃ বরিশাল।
পাপিয়াঃ বরিশালের একটি ছেলে আছে। আলতাফ, তুমি চেন?
যুথিঃ কোন আলতাফ?
পাপিয়াঃ আমাদের ক্যাম্পাসের ছাত্রনেতা।
যুথিঃ আপু আমি নতুন। এখনো অনেককে চিনি না।
পাপিয়াঃ আুছা রাজনীতিবিদ ছেলেদের তোমার কেমন লাগে?
যুথিঃ একদম ফালতু মনে হয়। ওদের আমি দু'চোখে সহ্য করতে পারি না।
পাপিয়াঃ আসলে তুমি পাত্তি নেতাদের দেখেছো। বড় নেতাদের অনেক ক্ষমতা। টাকা ক্ষমতার সম্মান মিলে রাজনীতিবিদ। তুমি বিশ্বাস করবে না আলতাফ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অবস্থায় ঢাকা শহরে একটা ফ্ল্যাট কিনে ফেলেছে।
যুথিঃ তবুও আপু আমি রাজনীতি করে এমন ছেলেদের একদম সহ্য করতে পারি না।
পাপিয়া ঃ তুমি ভেবে দেখ। এখন কিছু বলার দরকার নেই।
যুথিঃ আপু আমাদের ক্লাশের সময় হয়েছে। আমি আজ ক্লাশে যাই।
পাপিয়াঃ আুছা যাও।
(যুথি কিছু দূর গিয়ে আবার ফিরে এসে পেছন থেকে পাপিয়াকে ডাকবে।)
যুথিঃ আপু!
পাপিয়াঃ কিছু বলবে?
যুথিঃ আপু আপনি কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম।
পাপিয়াঃ বল, আমি মনে কিছু করব না।
যুথিঃ আপু, আমি একটা ছেলেকে পছন্দ করি।
পাপিয়াঃ ও, ছেলেটি কি এখানে পড়ে?
যুথিঃ জ্বি, আমাদের ডিপার্টমেন্টেই পড়ে।
পাপিয়াঃ ঐ ছেলেটা, ঐ যে লম্বা। যার সাথে দাড়িয়ে কথা বলছিলে।
যুথিঃ জ্বি, আপু।
পাপিয়াঃ ও।
যুথিঃ তাহলে আমি আসি আপু।
পাপিয়াঃ আুছা যাও।
(যুথি চলে যাবে। পাপিয়াও ফিরে আসবে।)


দৃশ্যান্তর
(পাপিয়া হেটে আসে। মানিক জাহের ওর অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে। )
জাহেরঃ খবর কি?
যুথিঃ হবে না।
জাহেরঃ হবে না মানে?
যুথিঃ সে একজনকে ভালোবাসে।
মানিকঃ সুন্দলী মেয়েদের নিয়ে এই এক সমস্যা। সবাই হুক লাগানো থাকে।
জাহেরঃ হুক লাগানো দেখে কি হইছে? আগে কলেজে পড়ছে কলেজে একটা প্রেম করছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে এখনে নতুন প্রেম করবো।
পাপিয়াঃ এখন তোদের কথায় ঐ মেয়েকে আলতাফের সাথে প্রেম করতে হবে?
মানিকঃ আবশ্যই। আমাদের কথায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ করতে হলে আলতাফ ভাইয়ের সাথে প্রেম করতে হবে।
পাপিয়াঃ শোন, মেয়েদের মন ক্যাম্পাস না। অস্ত্র নিয়ে হাঁক ডাক দিয়ে ক্যাম্পাস দখল করা যায় কিন্তু মেয়েদের মন পাওয়া যায় না।
মানিকঃ বিখ্যাত মনীষী আলবার্ট আরবার্ট মিসকক বলেছেনÑযেই জন ক্যাম্পাস দখল করতে জানে সেইজন নরীর মামুলী মনও দখল করতে জানে।
পাপিয়াঃ তোর তৈরি করা মনীষী এই কথা বলে নাই যারা বর্তমানে ক্যাম্পাস দখল করে রেখেছে ভবিষ্যতে তারা প্যাদানী খেয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিতারিত হবে।
মানিকঃ তুই যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হলে তাইলে রে মামা তুই দিনে দুই বেলা আমাদের হাতে ডলা খাতি। আমাদের সংগঠন করলেও বাচতি না।
পাপিয়াঃ তোদের ভাগ্য ভালো আমি ছেলে হই নাই। আমি ছেলে হইলে তোগো গ্রুপের সবগুলারে ধরে ধরে তুলোধুনো করতাম।
(জাহের থমথমে গলায় বলে।)
জাহেরঃ এখন যা।
পাপিয়া চলে যাবে।

দৃশ্যান্তর
(মানিক জাহের রুমে বসে আছে। আলতাফ আসবে।)
আলতাফঃ কিরে পাপিয়া কি বলল?
মানিকঃ বস, এইটা মেয়েদের কাজ না।
আলতাফঃ তাহলে ও কিছু করে নাই।
জাহেরঃ পাপিয়া ঐ মেয়ের সাথে কথা বলেছে। এখানে একটু সমস্যা হয়েছে।
আলতাফঃ কি সমস্যা?
জাহেরঃ যুথি এক ছেলেকে ভালোবাসে।
আলতাফঃ কোন ছেলে?
জাহেরঃ ওর সাথে একই সাবজেক্টে পড়ে।
আলতাফঃ এই কথা আমাকে শুনতে হলে তোরা আছিস কেন?
জাহেরঃ আজ ঐ পোলারে ক্যাম্পাসে খুঁজেছি। পাই নাই।
মানিকঃ ওরে মেরে তক্তা বানিয়ে সেই তক্তা দিয়া বেঞ্চি বানাব। আপনি আর যুথি সেই বেঞ্চিতে বসে বাদাম খাইবেন।
আলতাফঃ বেশি কিছু করার দরকার নাই। জানছ তো জুলমত ভাই জেলে। প্রথমে হাফডোজ দিবি তারপর কাজ না হলে ফুল ডোজ।
মানিকঃ এই বিষয় নিয়া চিন্তা করলে আমরা আছি কি জন্য।
আলতাফঃ আুছা আমি আমার রুমে যাই।
(আলতাফ চলে যাবে। জাহের মানিক মন খারাপ করে বসে থাকবে।)


দৃশ্যান্তর
(আসাদ হাটবে। মানিক জাহের সাথে দু’জন ছেলে সহ পেছন থেকে ডাকবে।)
জাহেরঃ তোমার নাম কি?
আসাদ ঃ আসাদ।
জাহেরঃ তোর নামে তো অনেক অভিযোগ আসছে।
আসাদঃ কেন কি হইছে?
জাহেরঃ তুই মেয়েদের মোবাইলে ডিষ্টাব করছ কেন?
আসাদঃ কে বলছে?
জাহেরঃ আবার কয় কে বলছে। তোর ফোন দেহি।
(আসাদের হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়। ফোন বুক চেক করে।)
জাহেরঃ যুথি কে?
আসাদঃ আমার গার্ল ফ্রেন্ড!
মানিকঃ যুথি তোর নামে বিচার দিছি।
আসাদঃ কি বলেন ভাই।
(ওর ঘার ধরে নিচু করে পিঠের উপর কয়টা ঘুষি মারে।)
মানিকঃ দুইদিন ধইর‌্যা ক্যাম্পাসে আইছে। আবার বড় ভাইদের মুখে মুখে তর্ক করে। আবার কয় কি বলেন ভাই।
(আসাদকে হালকা পাতলা ধোলাই দিবে।)
জাহেরঃ শোন তোরে যদি আর যুথির সাথে দেখি, মামা তোর আমরা কোড়ানি দিয়া নারিকেল কি ভাবে কোড়ায় দেখছস?
মানিকঃ একদম কোড়ায়া ফালাইম।
আসাদঃ মনে রাখবেন আমি সিদ্দিক ভাইয়ের ছোট ভাই।
জাহেরঃ ঐ ব্যাটা সিদ্দিক কে। ঐ এই ক্যাম্পাসে সিদ্দিক কে?
(সিদ্দিকে নাম বলায় আরেক দফা মার খাবে। মেরে ফেলে চলে যাবে।)
জাহেরঃ শালায় আবার সিদ্দিকের কথা কয়।
মানিকঃ সিদ্দিকের এই ক্যাম্পাসে খাওয়া আছে?
জাহেরঃ রাস্তার পাশে রাখলে কুত্তায় জিগায় না হের পরিচয় দেয়।
মানিকঃ দিছি ভালো করছে। আমাদের সেক্রেটারির পরিচয় দিয়ে দ্বিতীয় দফায় মাইরটা খাইল। আইজ ওর কপালে দুই দফা মাইর ছিল।


দৃশ্যান্তর
(যুথি একা দাড়িয়ে বার বার ফোনে চেষ্টা করবে। ওপাশ থেকে মোবাইল বন্ধ থাকবে। পাপিয়া যুথিকে ডাকবে।)
পাপিয়াঃ যুথি, একা? তোমার বয় ফ্রেন্ড কোথায়?
যুথিঃ জানিনা আপু। ওর মোবাইল বন্ধ। কোন খোঁজ নেই।
পাপিয়াঃ ছেলেরা এমনই হয়। দেখ কোন মেয়ের সাথে বসে গল্প করছে।
যুথিঃ ওতো কখনো এমন করে না।
পাপিয়াঃ তোমার বয়স কম। ছেলেদের চিনতে পার নাই। ঐ জাতির প্রতি আমার কোন বিশ্বাস নাই।
যুথিঃ হতে পারে।
পাপিয়াঃ চল তোমাকে আলতাফ ভাইয়ের সাথে পরিচয় করে দেই।
যুথিঃ না, আপু আজ ভালো লাগছে না।
পাপিয়াঃ আরে চলো। নেতার সাথে পরিচয় থাকলে অনেক সুবিধা। হলে সিট থেকে শুরু করে কত যে বেনিফিটেট হবে তুমি চিন্তাই করতে পারবে না।
যুথিঃ আরেক দিন যাব।
পাপিয়াঃ আরে চলো তো। এভাবে একা দাড়িয়ে থাকলে মন আরো খারাপ লাগবে।
(পাপিয়া যুথিকে ধরে নিয়ে যাবে।)


দৃশ্যান্তর
(আলতাফ জাহের মানিকের সাথে দাড়িয়ে কথা বলছে। দূর থেকে দেখবে পাপিয়া যুথি এই দিকেই আসছে। মানিক জাহেরকে নিয়ে সরে যাবে।)
পাপিয়াঃ আলতাফ ভাই কেমন আছেন?
আলতাফঃ ভালো তুমি ভালো।
পাপিয়াঃ জ্বি, ভালো। আমার ছোট বোনকে নিয়ে আসলাম আপনার সাথে পরিচয় করে দিতে।
যুথিঃ স্লামুআলাইকুম।
আলতাফঃ ওয়ালাইম আস্সলাম।
আলতাফঃ তোমার নাম কি?
যুথিঃ যুথি।
আলতাফঃ শোন যুথি ঢাকা শহরের যেখানে তোমার কোন সমস্যা হবে আমাকে ফোন দিবা। আমি সাথে সাথে হাজির হবো।
পাপিয়াঃ আুছা তোরা কথা বল। আমি একটু নিউমার্কেটে যাবো।
পাপিয়া বিদায় নিবে।
যুথিঃ আপনার গ্রামে বাড়ি কি বরিশাল?
আলতাফঃ বরিশাল, কে বলেছে?
যুথিঃ পাপিয়া আপু বলল।
আলতাফঃ বরিশালেই।
যুথিঃ আপনার বাড়ি বরিশালে আমার বাড়িও বরিশালে।
আলতাফঃ তুমি আমার দেশের মেয়ে। তোমার পাশে থাকা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
(জাহের এসে সালাম দিয়ে চলে যাবে।)
জাহেরঃ আসলামুআলাইকুম। আলতাফ ভাই ভালো আছেন?
আলতাফঃ জ্বি, ভালো।
জাহেরঃ ভাই আমাদের দিকে একটু নজর দিয়েন।
আলতাফঃ তোমার কোন সমস্যা থাকলে বিকালে আমার সাথে দেখা করবা।
জাহেরঃআুছা যাই।
(জাহের চলে যাবে।)
যুথিঃ আপনার কতো সম্মান। সবাই এসে সালাম দিয়ে যায়।
আলতাফঃ তুমি যদি আমার সাথে থাকো দেখবে তোমাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সালাম দিবে। তুমি যদি চাও তুমিও সালাম পাইবা।
যুথিঃ সত্যি!
আলতাফঃ অবশ্যই। আমার সাথে থাকলে আমার সাথে চললে তুমি আমার সম হইবা ? তুমি বুঝনা...
(মানিক আসবে।)
মানিকঃ আসলামু আলাইকুম আলতাফ ভাই।
আলতাফঃ ওয়ালাইকুম।
মানিকঃ ভাই ভালো আছেন?
আলতাফঃ ভালো।
(যুথির দিকে তাকিয়ে।)
মানিকঃ ভাবী ভালো আছেন।
আলতাফঃ ভাবী না, আমার চোট বোন ফাস্ট ইয়ারে পড়ে।
মানিকঃ আমি ভাবছিলাম ভাবী। আপনাদের দু’জনকে যে কত মানাইছে। বিশ্বাস করেন যে কেউ দেখলে বলবো...
আলতাফঃ আুছা তোমার কোন কথা থাকে তাহলে বিকালে দেখা করো।
মানিকঃ আুছা ভাই যাই।
(মানিক চলে যাবে।)
যুথিঃ আপনার পাশে থাকা তো দেখছি রীতিমত বিপদজনক।
আলতাফঃ আমি পাঁচ বছর ধরে ক্যাম্পাসে আছি। কোন মেয়ের সাথে কথা বলি নাই। আজ প্রথম কোন মেয়ের সাথে ওরা আমাকে দেখেছে তাই হয়তো ভাবছে..। তুমি মাইন্ড করছো?
যুথিঃ না, একটু করেছি।
আলতাফঃ তুমি বললে ঐ ছেলেকে ধরে এনে কান ধরে ওঠবস করাবো।
যুথিঃ থাক, থাক, তা করতে হবে না।
আলতাফঃ তুমি না বললে না। তোমার কথার উপর কথা নাই।
যুথিঃ আজ তাহলে আসি।
আলতাফঃ ওকে।
(যুথি চলে যাবে। পেছন থেকে মানিক জাহের আসবে।)
মানিকঃ বস মিষ্টি কখন খাওয়াইবেন।
আলতাফঃ আগে প্রেমটা হোক। তারপর খাওয়াব।
মানিকঃ হোক কিসের হয়া গেছে।
আলতাফঃ আুছা চল মিষ্টি খাওয়াব।
মানিকঃ পাপিয়াকে একটা ফোন দেই।
আলতাফঃ দে।
(মানিক পাপিয়াকে ফোন করে।)


দৃশ্যান্তর
(সিদ্দিক মধ্যবয়স্ক ছাত্র নেতা। তার দু’সন্তান আছে। বড় সন্তান ক্লাশ নাইনে পড়ে। আসাদ তার ছোট ভাইয়ের মত। তার মনে ইুছা আসাদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আধিপত্ত্ব বিস্তার করা। তার পরিচয় দেওয়ার পরেও আলতাফের লোকেরা আসাদকে মেরেছে এটা তিনি সহজ ভাবে নিুেছন না। আলতাফকে তার বাড়িতে ডেকে এনেছেন। সিদ্দিকের পাশে আসাদ বসেছে। আলতাফ প্রবেশ করে।)
আলতাফঃ সিদ্দিক ভাই আমাকে স্মরণ করছেন?
সিদ্দিকঃ তোমরা এখন আর বড় ভাইয়ের কাছে আসো? আমারাও তো পলিটিক্স করি। এখনও উপরের নেতাদের কাছে গিয়ে পড়ে থাকি। আর তোমরা আমাদের দেখেও না দেখার মতো চলে যাও।
আলতাফঃ সিদ্দিক ভাই আপনি এই অপবাদটা আমাকে দিতে পারেন না।
সিদ্দিকঃ সেদিন আমি তোমাদের ক্যাম্পাসে গেলাম। তোমার খোঁজ নাই। সবাই বলে তুমি ক্যান্টিনে। আমি তোমাকে ফোন করলাম। তুমি বল তুমি বাহিরে আছ।
আলতাফঃ জানেন তো সভাপতি এখন জেলে। আমি দৌড়ের উপর থাকি।
সিদ্দিকঃ সভাপতি জেলে তাই বলে সংগঠনে কাজ থেমে থাকবো? সভাপতি গ্রেফতার। আমি সাধারণ সম্পাদক। আমি কি সংগঠনের জন্য যোগ্য না।
আলতাফঃ সিদ্দিক ভাই আপনি জেলে থাকলে আমি তদবির করতাম না? বলেন করতাম না?
সিদ্দিকঃ হয়তো করতা। তবে সভাপতির জন্য যেমন জান-পরাণ দিয়া খাটো আমার বেলায় মনে হয় এতোটা করতা না।
আলতাফঃ সভাপতি হইল আমাদের দেশের লোক। তার হাত ধরে আমি রাজনীতিতে আসছি। তার জন্য আমার একটু অতিরিক্ত ভালোবাস থাকাটা কি অন্যায়?
সিদ্দিকঃ এইতো তুমি কথার লাইনে কথা বলছো। সভাপতি তার দেশি ছেলেকে হাত ধরে রাজনীতিতে এনেছেন। এখন আমার ইুছা করে না আমার দেশি একটা ছেলে রাজনীতিতে আসুক।
আলতাফঃ অবশ্যই চাইতে পারেন।
সিদ্দিকঃ সেটা তুমি দিয়েছো?
আলতাফঃ আমি?
সিদ্দিকঃ আমার ছোট ভাই ক্যাম্পাসে আমার পরিচয় দেওয়ার পরে অপদস্থ হয় কি ভাবে?
আলতাফঃ আপনার কোন ছোট ভাইকে মেরেছে?
সিদ্দিকঃ আসাদ।
আলতাফঃ আসাদ আপনার ছোট ভাই সেটা সে না বললে আমরা চিনবো কি ভাবে। সভাপতির কারণে নবীন বরণ আটকে আছে। নবীণ বরণ হলে সবাই ওকে চিনত।
সিদ্দিকঃ সভাপতি জেলে এই কথা তোমাদের মাথায় থাকে! মাথায় থাকলে আমার পরিচয় দেওয়া পরেও ওর গায়ে হাত তুলতে না।
আলতাফঃ ভাই আমি একটু দৌড়ের উপর। এখন যদি এমন দু’একটা বিুিছন্ন ঘটনার জন্য আমাকে এসে জবাবদিহি করতে হয় সেটা আমার জন্য সত্যি দুঃখজনক।
সিদ্দিকঃ দেখ তোমার সাথে যেই দু’টি ছেলে সব সময় থাকে ওরা তো ওকে মেরেছে। তাই তোমাকে ডাকলাম।
আলতাফঃ আমি যতদূর শুনেছি এই ছেলে একটা মেয়েকে ফোনে বিরক্ত করে। মেয়ে এসে বিচার দিয়েছে। তাই ওকে সাবধান করা হল। এখানে ভর্তি হয়েছে পড়াশুনা করবে। কি দরকার মেয়েদের বিরক্ত করার।
সিদ্দিকঃ এটা তুমি ভালো বলেছো। ও যদি কোন মেয়েকে বিরক্ত করে সেটার জন্য অবশ্যই উপযুক্ত বিচার করতে হবে। এমন কি তুমিও কোন মেয়েকে বিরক্ত করলে সাংগঠনিক ভাবে তোমার বিরুদ্ধ ব্যাবস্থা নেওয়া যাবে।
আলতাফঃ আমি এতোদিন ধরে এই ক্যাম্পাসে। আমার বিরুদ্ধে মেয়েলি কোন অভিযোগ আছে?
সিদ্দিকঃ ছিল না, চাইও না আসুক। তোমাদের সভাপতি জেলে। মনে রাখবে এখন তুমি তদবির করো। তুমি জেলে গেলে কে তদবির করবে? তখন আবার আমাকেই করতে হবে।
আলতাফঃ সেটা আপনার মনের ব্যাপার।
সিদ্দিকঃ সংগঠনে মন বলে কিছু নেই। এখানে কাজ চলে কিছু রুলস অনুসারে। এখন তোমাকে আসাদের সাথে পরিচয় করে দিলাম। ও কোন ভুল করলে আমার কাছে সোজা বিচার দিবা। আমি তোমাদের ডেকে তোমাদের সামনে বিচার করবো।
আলতাফঃ আপনার ছোট ভাই। আমারও ছোট ভাই। এখন ওর সকল দায়িত্ব আমার।
সিদ্দিকঃ আুছা তোমরা দু’জন আমার সামনে হ্যান্ডশ্যাক করো। দেখি মিলমহব্বত দেখলেও সওয়াব আছে।
(আলতাফ আসাদের কাঁধে হাত রেখে বলবে।)
আলতাফঃ শোন তোমার কোন সমস্যা হলে ক্যাম্পাসে আমার নাম বলবা। সোজা বুক ফুলিয়ে বলবা আমি আলতাফ ভাইয়ের ছোট ভাই। তারপর কেউ কিছু বললে আমি তোমার সামনে বিচার করব।
আসাদঃ ঠিক আছে ভাইয়া।
আলতাফঃ সিদ্দিক ভাই। আজ তাহলে আসি।
সিদ্দিকঃ চা খেয়ে যাও। এই এখানে চা দে।
আলতাফঃ থাক আরেক দিন আসব। আর ভাবীকে আমার সালাম জানাইবেন।
(আলতাফ বেরিয়ে যায়।)

দৃশ্যান্তর
(জাহের নোটিশ বোর্ডের দিকে তাকাবে। দেখবে সেই পুরাতন নোটিশ নতুন করে লাগানো। পরীক্ষার তারিখ ১৫ তারিখেই হুেছ।)
জাহেরঃ ভাই, দেখছেন কত সাহস। আবার একই নোটিশ টানাইছে।
আলতাফঃ আমাকে স্যার চিনতে পারে নাই। তারে চিনানো ব্যাবস্থা করতে হবে।
জাহেরঃ কি করবেন?
আলতাফঃ চল কথা বলে দেখি কি করা যায়।
জাহেরঃ আমি নোটিশ ছিড়ে ফেলব?
আলতাফঃ এখন থাক। কথা বলে আসি। আমরা ছিড়বো কেন স্যারই ছেড়ার ব্যাবস্থা করবেন।
(আলতাফ জাহেরকে নিয়ে স্যারের রুমে যাবে।)


দৃশ্যান্তর
(স্যার তার টেবিলে। পত্রিকা পড়ছেন। আলতাফ গিয়ে পাশে বসবে।)
আলতাফঃ স্যার ওখানে আবার নোটিশ লাগিয়েছে কে?
স্যারঃ আমি লাগিয়েছি।
আলতাফঃ স্যার আপনাকে বলেছি ১৫তারিখে আমাদের প্রিয় নেতা জুলমত ভাই মুক্তি পাুেছ তাকে আমরা জেল গেট থেকে শুভেুছা জানাতে যাব।
স্যারঃ আমি তোমাকে যেতে নিষেধ করেছি। তুমি যাও। একজনের জন্য তো সবার পরীক্ষা পেছানো সম্ভব না।
আলতাফঃ স্যার আপনি কি কথাগুলো বুঝে বলছেন?
স্যারঃ এই দেশের অনেক ছাত্রনেতা আছেন তাদের সন্তানেরা স্কুল কলেজের ছাত্র। তুমি দুই এক ইয়ার ড্রপড দিলে মহাভারত অসুদ্ধ হয়ে যাবে না। আর তোমরা যারা ছাত্ররাজনীতি করো তাদের পাঁচ ছয় ইয়ার ড্রপ দেওয়া ঐতিয্য হয়ে দাড়িছে।
জাহেরঃ স্যার শুধু আলতাফ ভাই কেন। আমরা সবাই যাব।
স্যারঃ সবাই বলতে তোমরা দু’জনকে বুঝাুছ?
জাহেরঃ সবাই বলতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই।
স্যারঃ দেখ বাবারা তোমরা গোল্লা যাবার যাও। পুরো জাতিকে গোল্লা নিবা না?
আলতাফঃ স্যার আপনি অবুঝের মত কথা বলবেন না।
স্যারঃ যদি একজন ছাত্রও পরীক্ষা দেয় তাহলে আমি পরীক্ষা নিব।
আলতাফঃ আমি না চাইলে একটা ছাত্রও পরীক্ষা দিতে পারবে না। আপনিও পরীক্ষা নিতে পারেন না।
স্যারঃ দেখা যাক। আমি পরীক্ষা নিতে পারি কিনা।
আলতাফঃ দেখা যাবে।
(আলতাফ বেরিয়ে যেতে উদ্যত হবে। স্যার আবার পেছন থেবে ডাকবেন।)
স্যারঃ শোন।
আলতাফঃ বলেন।
স্যারঃ তোমরা নেতারা হলে হাতে গুনা কয়েক জন। বিশ্ববিদ্যালরের মোট ছাত্রের তুলনায় তোমাদের সংখ্যা নগন্য।
আলতাফঃ তবে স্যার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পরিচালনার দায়িত্ব আমার। আমি যেদিকে নিব তারা সেই দিকেই যাবে।
স্যারঃ তুমি নিজেই গোল্লায় গেছো। তুমি তাদের আর কোথায় নিবে।
আলতাফঃ গোল্লায়।
(আলতাফ বেরিয়ে যায়।)

দৃশ্যান্তর
(আলতাফ বের হয়ে নোটিশ বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থেকে বলবে।)
আলতাফঃ ছিড়ে ফেল!
জাহের গিয়ে নোটিশ ছিড়ে ফেলবে।


দৃশ্যান্তর
(আলতাফ রাগে ফুলতে ফুলতে এসে বারান্ধায় দাড়াবে। পাশ দিয়ে আসাদ যুথিকে নিয়ে যাবে। ওরা আলতাফকে দেখে এগিয়ে আসবে। জাহের চামে কেটে পড়বে।)
আসাদঃ আলতাফ ভাই ভালো আছেন?
আলতাফঃ ভালো।
আসাদঃ ভাই আমার ক্লাসমেট যুথি।
যুথিঃ তোমাকে পরিচয় করে দিতে হবে না। আমি আগেই তার সাথে পরিচয় হয়েছে।
আসাদঃ আলতাফ ভাইয়ে সাথে তোমার পরিচয় হলো কখন?
যুথিঃ আলতাফ ভাই আমার ক্যাম্পাসের দরদী ছাত্রনেতা, তার সাথে পরিচিত হব না এতটা বোকা তুমি আমাকে ভাবলে কি ভাবে।
আলতাফঃ আুছা তোমরা ক্লাশে যাও। এখানে এসেছো পড়াশুনা করতে। আগে পড়াশুনাকে অবশ্যই গুরুত্ত্ব দিবা কেন?
যুথিঃ জ্বি, ভাইয়া!
আলতাফঃ আুছা তোমরা ক্লাশে যাও। আমার একটু জরুরি কাজ আছে।
(আলতাফ চলে যাবে। যুথি ওর দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকা করে হাসবে।)


দৃশ্যান্তর
(আলতাফ চলে আসে। জাহের মানিক ওর জন্য অপেক্ষা ছিল।)
জাহেরঃ বস কি কইল।
আলতাফঃ কি আর কইব।
মানিকঃ আমনেরে একটু পাট লয়া দেখাইল।
আলতাফঃ বাজে কথা বলবি না।
মানিকঃ বস, আমনে দাড়ান। আরেকটা ডলা দিয়া আসি। ওরে ডলায় টানে।
আলতাফঃ থাক এখন ডলাডলি করা ঠিক হবে না। বড়ভাই জেলে। সিদ্দিক শালায় আবার আমাকে সেদিন বাসায় নিয়া ফাপড় দিছে।
জাহেরঃ সিদ্দিক ক্যাম্পাসের কে?
আলতাফঃ এই ছেলে তার দেশি ভাই। তাকে আমার হাতে তুলে দিছে।
জাহেরঃ তাই বলে আপনার মনের মানুষেরে নিয়া আপনার সামনে দিয়া ঘুরবো।
মানিকঃ ভাইয়ের রক্ত শীতল হয়া গেছে।
জাহেরঃ রক্ত শীতল হইলেই গর্তে গিয়া শীতনিদ্রা যাইতে হইবো?
আলতাফঃ শোন, আমি আছি কত টেনশনের মধ্যে। এখন নতুন পেইন নেওয়ার সময় না। মাথা ঠান্ডা রাখ। রাতে মিটিং আছে।
(আলতাফ চলে যাবে।)
মানিকঃ বসে গেছে ড্যাম হয়া। আমি হইলে খোদার কসম ওরে বাঁশডলা দিতাম।


দৃশ্যান্তর
(রুদ্ধদ্বার বৈঠক। সবাই কাছাকাছি বসা।)
আলতাফঃ শোন, আমরা একটা বড় সমস্যার মধ্যে আছি। তোমরা হয়ত বিষয়টা কতটা গভীরে ভেবেছ জানি না। এখন আমরা অস্থিতের সংকটে আছি। আমাদের নেতা জেলে। তিনি জেলে থাকলে স্বভাবতই আমরা একটু দূর্বল থাকব। সুখবর হলো তার জামিন হয়েছে। এখন আমরা জেল গেট থেকে তাকে ছাত্ররা গিয়ে মালা পরিয়ে নিয়ে আসব। এখন তিনি জেল থেকে বের হয়ে দেখলেন আমরা কেউ নাই। তাহলে তিনি মনে ক্ষুন্ন হবেন। তার মতো একজন নেতাকে মনক্ষন্ন করে আমরা রাজনীতির ফিল্ডে টিকতে পারবো না।
এক ছাত্রঃ বড় ভাই বুঝবে না আমাদের পরীক্ষা।
আলতাফঃ তারা অনুপস্থিতিতে যদি আমরা সমান্য পরীক্ষাটা পিছাতে না পারি তাহলে আমাদের প্রতি তার আ¯া’ থাকবে, বল থাকবে?
এক ছাত্রঃ সেটা ঠিক বলেছেন।
আলতাফঃ এখন আমাদরে স্যারকে একটা শিক্ষা দিতে হবে।
মানিকঃ রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মতো তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেই।
আলতাফঃ তারে যদি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেই তাহলে তাকে শিক্ষা দেওয়া হবে না। আমাদের বিকল্প ভাবতে হবে।
এক ছাত্রঃ আমরা তো বুঝতে পারছিনা কি করতে হবে।
আলতাফঃ দিনের আলোতে ক্যাম্পাসে একটা লাশ ফেলতে হবে। একটা লাশ ফেলা মানে বিশ্ববিদ্যালয় অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ।
জাহেরঃ লাশ ফেলতে হলে আমার মাথায় একটা আইডিয়া আসছে।
আলতাফঃ বল।
জাহেরঃ আমরা আসদেরে লাশ ফালামু। এক ঢিলে দুই পাখি। ক্যাম্পাস বন্ধ। আর আপনার পথের কাঁটা সরে গেল।
আলতাফঃ চমৎকার আইডিয়া। আসাদ মরলে তোদের জন্যও ভালো। ও সিদ্দিকের দেশি, সিদ্দিক ওকে নেতা বানাইতে চায়। আসাদ নেতা হলে তোদের কি হবে।
জাহেরঃ আলতাফ ভাই, আর সুযোগ দেওয়া যায় না।
আলতাফঃ তাহলে কাল সকালে ক্যান্টিনে গিয়ে কাজটা সেরে চলে আসবি।
এক ছাত্রঃ ওকে বস।
আলতাফঃ রাতের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে ফেল।
মানিকঃ আপনি গিয়ে ঠান্ডা মাথায় ঘুম দেন।


দৃশ্যান্তর
(আসাদ নাস্তা খাবে। মেহেদি মানিক ওদের দু’জন সহকারি ছাত্র নিয়ে সামনে দাড়াবে।)
জাহেরঃ পানি খা।
আসাদঃ আপনারা?
জাহেরঃ পানি খা।
সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
জাহেরঃ ঐ পানি খা।
(জাহের হিংস্র চোখের দিকে তাকিয়ে আসাদ পানি খাবে। ও কোমড় থেকে পিস্তল বের করে গুলি করবে। গুলির শব্দ হবে। পানির গ্লাশ পড়ে যাবে। গুলির শব্দে ছোটছুটি শুরু হবে। জাহের মানিক গুলি করতে করতে বেরিয়ে যাবে।)

দৃশ্যান্তর
(আলতাফ পায়চারি করে। বার বার মোবাইলের দিকে তাকায়। হঠাৎ ফোন বাজে।)
আলতাফঃ কি খবর কি?
জাহেরঃ একটু সমস্যা হইছে।
আলতাফঃ অপারেশন সাকসেসফুল।
জাহেরঃ হ, আসাদকে কাছ থেকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেছি।
আলতাফঃ মরবে তো?
জাহেরঃ অবশ্যই। পাঁচটা গুলি করেছি।
আলতাফঃ গুড। সমস্যা কি?
জাহেরঃ বের হওয়ার সময় ক্যান্টিনের মধ্যে হই-হল্লা শুরু হলো। তখন এলোপাথালি গুলি চালাইছি।
আলতাফঃ আমাদের কারো গায়ে গুলি লাগে নায় তো?
জাহেরঃ না।
আলতাফঃ তাহলে কোন সমস্যা নাই। আমি জুলমত ভাইয়ের বাসায়, তোরা চলে আয়।
(আলতাফ ফোন রেখে দেয়।)


দৃশ্যান্তর
(আলতাফ বসে টিভি দেখছে। মানিক জাহের ঘরে ঢুকে।)
জাহেরঃ ভাই খবরে কিছু বলেছে?
আলতাফঃ এখনো টিভিতে কিছু প্রচার হয়নি। দু’ঘন্টা হয়ে গেল একনো কিছু জানালো না।
মানিকঃ ভাই সাংবাদিকরা এখন পুরা দৌড়ের উপর আছে। ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা মেডিকেল।
টিভিতে খবর শুরু হবে।

খবর ঃ
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবাদমান দুইগ্রুপ ছাত্রের মধ্যে সংঘর্ষে জের ধরে তিন ছাত্র নিহত। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আর ছাত্রছাত্রীদের আজ রাত আটটার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্বনিধারিত সকল পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যায় খোলার পরে পরীক্ষার ডেট জানানো হবে।
আলতাফ রিমোট দিয়ে টিভি বন্ধ করবে। সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ে।
আলতাফঃ সোহেল! সোহেল!!
(একটা ছেলে আসবে।)
আলতাফঃ যা মিষ্টি নিয়ে আয়।

দৃশ্যান্তর
জেল গেটে ওরা সবাই অপেক্ষা করছে। হাতে ফুলের মালা। মিষ্টির প্যাকেট কারো হাতে। ঘড়ী দেখে। একটু পরে গেট দিয়ে মাথা বের করে জুলমত। তাকে দেখে এগিয়ে যায়। ফুলের মালা গলায় দেয়। আন্দন্দ উল্লাস করতে করতে তারা এগিয়ে চলে।








]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29396770 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29396770 2011-06-14 22:21:08
আমার বাজেট পেশ এবং বাজেট ঘাটতি অনেক দেনদরবার করে সিদ্ধান্ত নিলাম নাটক একটা বানিয়ে দেখাব। আমাদের মধ্যে ফরহাদ ভাই টাকা-পয়সাওয়ালা মানুষ। শেয়ার মার্কেটে ভালো ইনভেস্ট আছে। তাছাড়া নাটক-সিনেমার প্রতি তার আলাদা দুর্বলতা আছে। ঘরভর্তি বাংলা ছবির সিডি। তাকে অনেক বোঝালাম। এক শর্তে রাজি হলেন তিনি। তাকে নায়ক বানাতে হবে। ফরহাদ ভাই চিকন মানুষ। তাছাড়া চেহারার মাঝে বলদ বলদ ভাব আছে। বলদ টাইপের স্বামী মেয়েদের নাকি পছন্দ! তাহলে তিনি হিট নায়ক হতে সমস্যা কি। কথা বলেন হেলেদুলে। আমরা রাজি হলাম। কারণ হিমেশ রেশমাইয়্যা নিজেই একজন সাইলেন্স প্রডিউসার। তাছাড়া ফরহাদ ভাই আমাদের পাড়ার হামিদাকে ভালোবাসে। তার রবিউল বডির কারণে হামিদা তাকে পাত্তা দিচ্ছে না। আমরা হামিদাকে অনেক বুঝিয়েছি। কাজ হয় না। এবার তিনি হামিদাকে দেখিয়ে দেবেন। আমাকে বললেন বাজেট তৈরি করে দিতে। সারারাত খেটে বাজেট তৈরি করলাম। দু’দিন অনেক কাটাকাটির পর বাজেট এক লাখ বিশ হাজার টাকায় এসে ঠেকল। আর এক্সট্রা খরচ সঙ্গে পাঁচ হাজার। ফরহাদ ভাই শেয়ার বেচে টাকা ম্যানেজ করে ফেললেন।
নাটকের শুটিং হবে। কীভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। একজন খল অভিনেতাকে ধরলাম। তার নামটি বললে সবাই চিনে ফেলবেন। ধরুন তার নাম বশির খান। বশির ভাই নিজ কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিলেন সব ব্যবস্থার। শুটিং কক্সবাজারে হবে। প্রথম তাকে নিয়ে টিকিট কাটতে গেলাম। বশির ভাই বললেন, আর্টিস্টের জন্য এসি বাসের টিকিট কাট। আর স্টাফরা আসবে নন এসি বাসে।
—সবাই এক সঙ্গে যাই।
সবাই এসি বাসে গেলে ভিআইপির মর্যাদা থাকবে? আমরা আর্টিস্টরা হলাম ভিআইপি। আমাদের এসি বাসের ব্যবস্থা কর। নয়তো দেখবে নায়িকা যেতে চাইবে না। বশির ভাই, নায়িকা ও তার দুই বান্ধবীসহ এসি বাসে চড়ে চলে গেলেন। আমরা টাকা বাঁচিয়ে কম টাকার টিকিটের গাড়িতে উঠলাম।
হোটেলেও ভিআইপিদের জন্য এসি রুম। আর আমরা নন এসি। ফরহাদ ভাইকে চাইলাম ভিআইপির মর্যাদা দিতে। তিনি খরচে কোটেশন দেখে ভয়ে অস্থির। তিনি পারলে হোটেলের বারান্দায় থাকেন।
বশির ভাই আমাকে ডেকে বললেন, কক্সবাজার এসেছি কি নোনা পানি খাইতে?
—আমি মিনারেল ওয়াটারের ব্যবস্থা করছি।
—তুই পানি আনতে তিন হাজার টাকা দে।
—এখানে মিনারেল ওয়াটারের এত দাম!
—এই লাইনে আসছ জান না। পাগলা পানি ছাড়া এই লাইন অচল।
বশির ভাই দু’বোতল পাগলা পানি নিয়ে নায়িকার রুমে ঢুকলেন। আর বের হচ্ছেন না। তাকে রিকয়েস্ট করেও লাভ হলো না।
আমি হলাম বই পড়া ডিরেক্টর। কোথাও পাইনি। পাগলা পানি খেয়ে শুটিং করতে হবে। নায়িকার এক বান্ধবী আমাকে একটু পরপর বলে চলেন সাগর থেকে গোসল করে আসি। আপনি পেরেশানির মধ্যে আছেন। মাথা ঠাণ্ডা করেন। আমার পেরেশানি ধরতে পারল মেকআপম্যান আব্বাস ভাই। তিনি বললেন, যান মাথা ঠাণ্ডা করে আসেন। আমি ডিরেকশন দিই। আমি একটা রিকশা নিয়ে একজন নায়িকাসহ চলে গেলাম সাগরের দিকে।
মেকআপম্যান আব্বাস ভাইয়ের ডিরেকশনে শুটিং চলছে। তিনি গুণী মানুষ, চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরহাদ ভাই অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছে।
মাঝরাতে নতুন নাটক শুরু হলো। প্রোডাকশন বয় আর সহকারী ক্যামেরাম্যান পাশাপাশি রুমে শুয়েছে। তাদের টয়লেট একটা। এই টয়লেট নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হলো মারামারি। মারামারি করে হোটেলের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে নির্বিচারে। আতঙ্কিত লোকজন হোটেল ছেড়ে পালাল। পুলিশ এলো। রুম তল্লাশি। শেষে ৬ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল থানায়। শুটিং বন্ধ। আমরা থানায় গিয়ে হাতে-পায়ে ধরে ক্ষতিপূরণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনলাম। যেখানে এক্সট্রা খরচ ধরেছিলাম ৫ হাজার টাকা, শুটিং শেষে দেখি ৭৫ হাজার টাকায় ঠেকেছে।
ঢাকা শেয়ারবাজার শুয়ে পড়েছে। ফরহাদ ভাই অলরেডি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। টাকার অভাবে এডিটিং করাতে পারছি না। ফরহাদ ভাই থামবার পাত্র না। তিনি চাচার বাসায় থাকেন। চাচার কাছ থেকে আরও ৩৫ হাজার টাকা ধার নিলেন। চাচাকে কথা দিলেন, নাটক অনএয়ার হলেই তার টাকা ফেরত দেবেন। এখন নাটক নিয়ে আমরা সমানে বিভিন্ন চ্যানেলে দৌড়াচ্ছি। চ্যানেলগুলো আমাদের যা টাকা দিতে যাচ্ছে তা দিয়ে নাটক বানানো তো দূরের কথা, পাগলা পানির দামও উঠবে না।


কৃতজ্ঞতায়ঃ আমার দেশ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29393813 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29393813 2011-06-09 11:19:34
আওয়ামী দরবেশ!!! Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29390413 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29390413 2011-06-02 21:36:21 আমার গান লেখার প্রচেষ্টা-২ অবহেলা ভরা দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকাও
সেটাও আমার ভাল লাহগ।
এ আমার কেমন রোগ হল বল?
হে বিধাতা তুমি তো সব রোগ ভাল করতে পার,
আমার এই রোগটি তুমি ভাল করিও না
এই একটি রোগেই যেন আমার মরন হয়।

(হুমায়ূন আহমেদর কবিতার থেকে সংশোধিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29388742 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29388742 2011-05-30 23:41:40
sms দিয়ে অথবা সীম কিনে জিতে নিন, নামে প্রতারণা! গ্রাহকরা সাবধান। অথবা সীম কিনে হিতে নিন মাল্টিমিডিয়া মোবাইল।
অথবা বিদেশ ভ্রমণ।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এটা নিয়ে গবেষণা করে দেখেছি। এবং আমার সাথে সাহায্য করেছে প্ল্যান বাংলাদেশ এনজিওর একদল নিবেদিত প্রাণ বন্ধু। তারা নিশ্চিত হয়েছে। এটা একটা মিথ্যাচার।
এর সাথে জরিত বাংলাদেশের সবগুলো প্রাইভেট মোবাইল কোম্পানিগুলো।

তারা কখনোই কারো হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেয় না।
কেউ পেয়েছে এমন নজির নেই। তাই সাবধান। লোভ করে লোখসান দিয়েন না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29387737 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29387737 2011-05-29 00:37:58
কে হতে চায় কোটিপতি:ভেতর এবং বাহির ।


এক
কৌন বনেগা কৌরপতি প্রচার হওয়ার আগের কথা। অমিতাভ বচ্চনের তখন বয়স হয়ে গেছে। নায়িকার সাথে বৃষ্টির মাঝে লাফালাফি দর্শক গ্রহণ করছে না। তার ছবি একের পর এক ফ্লপ! সে অন্য ব্যাবসা শুরু করল। সেই ব্যাবসায়ও ফ্লপ। দেউলিয়া হতে বেশি সময় লাগল না। মান সম্মান যায় যায় অবস্থা। এই সময় শুরু হল ভারতী টিভি চ্যানেলে কৌন বনেগা কৌরপতি। অমিতাভ বচ্চন উপস্থাপক। এই অনুষ্ঠানে যারা অংশ গ্রহন করেছেন তার সত্যিকারে কেউ কোটিপতি হয়েছেন এমন নজির নেই। কারণ টাকা পেলে তার বড় একটা অংশ চেরিটিতে দিতে হবে বলে চুক্তি করতে হয়। তবে কেউ কোটিপতি হোক আর নাই হোক অমিতাভ বচ্চন কিন্তু ঘুরে দাড়িয়েছেন। তার সাবলিল উপস্থাপনা মাধ্যমে দর্শকপ্রিয়তা পায় অনুষ্ঠানটি। সেই যাত্রায় এই অনুষ্ঠানটির কারণে মানসম্মান বেচে যায় অমিতাভ বচ্চন।

দুই
আমাদের দেশে শুরু হয়েছে কে হতে চায় কোটিপতি। আমাদের টিভি চ্যানেলগুল এক ঘন্টার অনুষ্ঠানের জন্য ৭০হাজার টাকা বাজেট থাকে। সেই টাকাও দিতে টিভি চ্যানেলগুলো গড়িমসি করে। প্রযোজকদের রাজপথে নামার নজির এই দেশে আছে। টিভি চ্যানেল থেকে টাকা তুলতে ঘাম বেরিয়ে যায় প্রযোজকদের। আমার অনেক বন্ধু আগ্রহ নিয়ে সুন্দর সুন্দর অনুষ্ঠান বানিয়েছে। তারা এখন পুজি হারিয় অন্য পেশায় কনভার্ট হয়ে গেছে। কে হতে চায় কোটিপতি অনুষ্ঠানটি এশটি প্রাইভেট চ্যানেল প্রচার করবে। তারা এর আগে ছবিয়াল সন্ধ্যা নামে একটি অনুষ্ঠান শুরু করে ছিল। লোখসান হওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়। যারা টাকার অভাবে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় তারা কি ভাবে কোটি টাকা দিবে আমার বোধগম্য না।

তিন
কোটিপতি নিয়ে প্রচলিত জোকস শুনুন-রাস্তার পাশে এক ফকির দশটাকার বিনিময়ে তাবিজ বিক্রি করেছে। কোটিপতি হওয়ার তাবিজ। একলোক সহজে কোটিপতি হওয়ার জন্য তাবিজ কিনল। তাবিজ কেনার সাথে সাথে কাজ হতে শুরু করে। সবাই তাকে ধারের টাকা ফেরৎ দিতে শুরু করল। বাড়ি ফিরতে ফিরতে বেচারা প্রায় লাখপতি হয়ে গেল। সব টাকা নিয়ে যখন বাড়ি ফিরছেন। বাড়ির গলির সামনে অন্ধকার। সেখানে ওৎ পেতে থাকা ছিনতাই কারীরা সব নিয়ে গেল। এবং সামন্য হালকাপতলা মারও দিয়ে দিল। খালিহাতে সব খুইয়ে ঘরে ফিরলেন বেচারা। সকালে দেখেন সেই তাবিজ বিক্রেতা ফকির সেখানেই বসে তাবিজ বিক্রি করছেন। তাকে দেখে সে নিজেই শিক্ষা নিল এই ফকির যদি তাবিজ দিয়ে কোটিপতি হতে পারত তবে আগে সে নিজেই তাবিজ গলায় দিয়ে কোটিপতি হত। ঈশপ যুগ হলে গল্পটা এখানেই শেষ হত। কিন্তু বর্তমান হল মেগাসিরিয়ালের যুগ এই গল্প এখানে শেষ হবে না। অনেক ঘাতপ্রতি ঘাতের মাধ্যমে পুলিশকে চাদা দিয়ে ঐ জায়গা স্থায়ী একটা আসন গেড়ে বসেন ফকির। তার কাছ থেকে তদবির নিতে লোক আসে দলবেধে। সবাই কোটিপতি হতে চায়। ভীড় বাড়তে থাকে। এক সময় সেই ফকির কোটিপতি হয়ে যায়।

চার.
আমার হাত দেখে অনেকেই বলে কোটিপতি হব। কিন্তু এমন কোন সম্ভাবনা দেখছি না। তবে এর পেছেনে কারণটা আমি খুজে পেয়েছি। আমার হাত ভর্তি রেখা। এত বেশি রেখা যেকোন জ্যাতিষির মাথা ঘুড়ে যায়। তবে আমি বাংলাদেশে কে হবে কোটিপতি অনুষ্ঠান বিজ্ঞাপন দেখে একরকম হঠাৎ আশাবাদি হয়ে গেলাম। প্রতিদিন টিভির পর্দায় চোখ রাখি। আশায় বুকবাধি। হঠাৎ দেখলাম পত্রিকায় বিজ্ঞাপন অংশগ্রহণের জন্য এসএমএস করুন। এসএমএস করে দেখি মোবাইলে পাঁচ টাকা নাই। পরে দেখলাম তারা প্রতিটি এসএমএস এর জন্য চার্জ নিচ্ছেন চার টাকা। প্রথমেই ধরা খেলাম। এমন ধরা আমি আরেকবার খেয়েছিলাম। সেটা বলে নেই। সেই ধরা দিয়েছিল এক বৃটিশ বাঙালি।
নাফে মোহাম্মদ এনাম নামে এক জুনিয়ার লেখক আছে। ব্রিটেনে থাকেন। সে সিদ্ধান্ত নিল ব্রিটেনে বসে মাসিক পত্রিকা বের করবেন। রহস্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন তার হরর পত্রিকার। হরর পত্রিকার লেখদের তিনি এত পরিমাণ সম্মানী দিবেন যেন আর সারাজীবন সম্মানী না পেলেও চলবে। বিজ্ঞাপনটি নিয়মিত রহস্য পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। হাবীব ভাই বলল, মামুন লেখা দাও। ছেলের টাকা পয়সা আছে। যদি একশ পাউন্ড পাঠিয়ে দেয় তাহলে তোমার জন্য অনেক। যাই হোক নতুন উদ্দাম নিয়ে রম্য রচনা ছেড়ে ভূতের গল্প লেখতে নেমে গেলাম। আমি এমন ভয়ের গল্প লিখলাম যে রাতে ভয়ে নিজেই রিভিশন দিতে পারিনি। ভয়ে সারা রাত লাইট জ্বেলে ঘুমিয়েছি।
পাঠিয়ে দিলাম মেইল করে। জবাবে একটা মেইল পেলাম-
আপনার লেখা ছাপা হয়েছে। নিউমার্কেটের পত্রিকাটি পাবেন।
পত্রিকা দেখে মন ভাল হয়ে গেল। হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, আহসান হাবীবের সাথে আমার লেখাও। সব চেয়ে বড় গল্পটি আমার। নতুন উদ্যমে আবার একটা ভূতের গল্প লিখে পাঠিয়ে দিলাম। জবাব এল আপনার গল্প সিলেক্ট হয়েছে। দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায় আর কোন জবাব নেই। নাফে এনামের মোবাইলে ব্রিটেনে ফোন করি। নাম্বার ধরে ভূংভাং ইংরেজী বলে। তারপর তাকে খুজে পেলাম ব্লগে। এনবার শক্ত করে ধরলাম আমার পাউন্ড কই?
সে জবাব দিল অনিবার্জ কারণ বসত হরর পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আমাদের দেশে কে হবে কোটিপতি অনুষ্ঠান দিয়ে যদি প্রযোজকের লাভ না হলে কি হবে?
তারা লোটা কম্বল নিয়ে ভাগবে। বৃটেনে চলে যাবে।
আর যারা টিভির পর্দায় টাকা পেয়ে যাবে হয়ত ক্যামেরার আড়ালে তারা হয়ত হায় হায় করবে।
শেষে একটা ছোট ঘটনা বলি, আমাদেও স্কুল মাঠে ওয়াজ হচ্ছে। ওয়াজ করতে এসেছে আমাদের এলাকারই এক কৃতি সন্তান। সে এসে বলল, কে জান্নাতে যেতে চান হাত তুলুন।
আমারা সবাই হাত তুললাম। পাশে দেখি আমাদেও স্যার। সে হাত তুলল না। স্যারকে আমি ফিসফিস করে বললাম, স্যার আপনি জান্নাতে যেতে চান না?
-চাই, তবে যে ওয়াজ করতে এসেছে সে আমার ছাত্র। ওর কথায় কিভাবে হাত তুলি!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29387153 http://www.somewhereinblog.net/blog/theahmedmamun/29387153 2011-05-27 22:53:37