বেকার জীবন পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী জীবন। সুতরাং জীবনকে সুখময় করতে হলে আমাদের ভালো কোনো চাকরি খুঁজে বের করতেই হবে। কিন্তু বর্তমান যুগে ভালো কোনো চাকরি খুঁজে পাওয়া বড়ই দুষ্কর। কারণ এখনকার চাকরির বাজারে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। এখানে টিকে থাকতে হলে নিজেকে যোগ্য করার পাশাপাশি ওই চাকরি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। চাকরি খোঁজার সেরা ১০টি পদ্ধতি বেকারদের জন্য সহায়ক হতে পারে।
১. পছন্দের চাকরিঃ প্রত্যেক মানুষ সব ধরনের চাকরি সম্পর্কে আগ্রহী থাকে না। অনেকেই নির্দিষ্ট কিছু চাকরি সম্পর্কেই কেবল আগ্রহী। তাদের পক্ষে অপছন্দনীয় চাকরিগুলোতে যোগদান করা ঠিক নয়। কারণ তাদের পক্ষে অপছন্দনীয় চাকরিটিতে মনোযোগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের চাকরি সাক্ষাৎকারেও তারা কখনো ভালো করতে পারে না। মনোযোগহীনতার কারণে চাকরি জীবনে তেমন কোনো উন্নতি করতে পারে না। ফলে তারা পিছিয়ে থাকে। সুতরাং কোনো চাকরি নেয়ার আগে অবশ্যই বুঝে নিতে হবে তার পক্ষে সেটি পছন্দের হবে কি না।
২. যোগাযোগ রক্ষা করাঃ পছন্দের চাকরির ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল চাকরিপ্রার্থীকে ওই চাকরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তাদের কাছে চাকরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সব আলোচনা শেষে ওই চাকরিতে নিজেকে যদি যোগ্য মনে হয় তাহলে ওই চাকরিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যেতে পারে। চাকরিদাতারা অনেক সময় বিশেষ কোনো ব্যক্তির রেফারেন্স চায়। ওই চাকরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যদি ভালো সম্পর্ক থাকে তাহলে তাদের রেফারেন্সের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া সহজ হয়।
৩. চাকরি সম্পর্কে ভালো জ্ঞানঃ কোনো চাকরিদাতাই এমন একজন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ দেবেন না, যিনি ওই চাকরি সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না। আসলে ভালো কোনো চাকরি পেতে হলে ওই চাকরি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। এর জন্য ওই চাকরিসম্পর্কিত কোনো বই কিংবা তথ্যের প্রতি চাকরিপ্রার্থীকে আগ্রহী থাকতে হবে।
৪. নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করাঃ ঘরে এসে ডেকে ডেকে কোনো কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানই চাকরি দিয়ে যাবে না। তাই পছন্দের চাকরি পেতে হলে ওই চাকরিগুলোর প্রতি প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিতে হবে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা নিয়মিত পড়তে হবে। ইন্টারনেটের সহায়তা নিতে হবে। এছাড়া বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।
৫. পরামর্শ মেনে চলাঃ পছন্দের চাকরি পেতে হলে ওই চাকরিসম্পর্কিত অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির পরামর্শ নিতে হবে এবং সে অনুসারে অগ্রসর হতে হবে। তাহলে দ্রুত অগ্রসর হওয়া সম্ভব। তাছাড়া কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিলে ওই চাকরি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা জন্মে। যা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৬. সাক্ষাৎকারে সঠিক উত্তর দেয়াঃ বেশির ভাগ জবের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সাক্ষাৎকারে চাকরিপ্রার্থীকে ওই চাকরিসম্পর্কিত নানা প্রশ্ন করা হবে। তাই ওই চাকরি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নিয়ে সাক্ষাৎকার কক্ষে প্রবেশ করা উচিত। চাকরিদাতাদের প্রশ্নে হতাশ না হয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। যদি উত্তর না জানা থাকে তাহলে পারি না বা জানি না বলাই শ্রেয়। কারণ চাকরিদাতারা যে প্রশ্নগুলো করবেন, তার উত্তর তাদের পূর্ণাঙ্গভাবে জানা থাকে। ভুল উত্তর দিয়ে প্রশ্নটা কাটিয়ে উঠতে গেলেই বিপদ। তাহলে চাকরিদাতারা তার ওপর অখুশি হবে এবং চাকরির অযোগ্য বলে মনে করবে।
৭. সাক্ষাৎকারে আকর্ষণীয় উপস্থিতিঃ প্রত্যেক কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানই একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে চেষ্টা করে। তাই কোনো চাকরিপ্রার্থীকে চাকরিদাতাদের সামনে কখনোই উগ্র মেজাজি হওয়া উচিত নয়। এ জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে আচার-আচরণ, চলাফেরা এমনকি কথাবার্তার মাধ্যমেও সর্বদা শালীন ভাব প্রকাশ করতে হবে। যাতে চাকরিপ্রার্থীর ওপর চাকরিদাতাদের একটা আত্মবিশ্বাস ও ভালো ধারণা জন্মে।
৮. অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাঃ সাক্ষাৎকারের পর হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। ভালো সাক্ষাৎকার দিলে যে কোনো সময় চাকরির জন্য ডাক আসতে পারে। এ জন্য চাকরিপ্রার্থীকে ওই অফিসের সঙ্গে ালো যোগাযোগ রাখতে হবে। সাক্ষাৎকারের ফলাফল কখন পাওয়া যাবে, সাক্ষাৎকার কেমন হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আবার কখন সাক্ষাৎকার নেবে ইত্যাদি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে। অনেক বেকার যুবক-যুবতীর ওপর জরিপ নিয়ে দেখা গেছে, তারা প্রায়ই চাকরি সম্পর্কে উদাসীন থাকে। কোনো চাকরির খোঁজখবর নেয়াটাকে তারা বড় দায় মনে করে। অথবা ওই অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটা একটা কঠিন ও ভয়ের কাজ মনে করে। যার ফলে তারা চাকরি থেকে পিছিয়ে থাকে।
৯. নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করাঃ কোনো চাকরি লাভের প্রথম শর্ত হচ্ছে ওই চাকরিতে নিজেকে যোগ্য করে তোলা। ওই চাকরি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারিক জ্ঞান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রায়ই চার-পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চায়। আর অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পক্ষে চাকরি সাক্ষাৎকারে টিকে থাকা কিংবা চাকরিতে যোগদান সহজ হয়।
১০. খণ্ডকালীন চাকরি গ্রহণঃ কথায় বলে জীবনে সুযোগ আসে একবার। তাই কোনো পছন্দের চাকরির ক্ষেত্রে খণ্ডকালীন চাকরিও অনেক কিছু। চাকরিপ্রার্থী তার কাজ ও চরিত্র দ্বারা যদি কর্তৃপক্ষের মন একবার জয় করতে পারে তাহলে কর্তৃপক্ষ এক সময় তাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়। তার ওপর কর্তৃপক্ষের ভালো আস্থা জন্মালে পরবর্তী সময়ে তাকে ধীরে ধীরে পদোন্নতি করে ভালো অবস্থানে নিয়োগ দিতে পারে। অথবা খণ্ডকালীন চাকরি গ্রহণ করলে ওই চাকরি সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা বাড়ে। ফলে ওই একই ক্যাটাগরির কোনো চাকরি সাক্ষাৎকারে তাদের টিকে থাকাটা সহজ হয়। অনেকে আছেন যারা খণ্ডকালীন চাকরি গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক। তাদের ধারণা, এ ধরনের চাকরিতে কোনো লাভ নেই। কারণ যে কোনো সময়ই তাদের চাকরিটি চলে যেতে পারে। অর্থাৎ তাদের নিজেদের কাজের ওপরই নিজেদের বিশ্বাস নেই। এ ধরনের ব্যক্তিরা শুরুতেই বড় পদের চাকরি চায়। এর ফলে তাদের চিরদিনই বেকার জীবন কাটাতে হয়।
শামীম
দ্যা বিডি নিউজ ডট কম
আমার গ্রুপ ভালবাসা জয়েন করলে খুশি হব
http://www.somewhereinblog.net/group/love

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

