somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... একজন মায়ের অনুরোধে লিখছি প্রিয় ব্লগারবৃন্দ, এই লেখাটি আমি বারবার রিপোস্ট করতে থাকব। তাতে যদি আমার আইডি টি ব্যান করে দেয়া হয়, তাতেও আমার কোন আপত্তি নেই। তবু আমি চাই, এই লেখাটি যতজন মানুষ সম্ভব, পড়ুক। আমি এইখানে, এই লেখাটির স্বত্ত্ব ত্যাগ করছি। যার ইচ্ছা মনে করলে এই লেখাটি কপি করে যেকোন জায়গায় দিতে পারেন, সূত্র বা লেখকের নাম উল্লেখের কোন প্রয়োজন বা দায়বদ্ধতা নেই। আমি নিশ্চিত জানি, এ পোস্ট এবং লেখার প্রাপ্তিযোগ বা ফলাফল শূন্য। তবু, একজন মা এবং তাঁর আবেগতাড়িত অনুরোধে মানুষ হিসেবে যে ন্যূনতম দায়িত্ববোধ এই অপবিত্র জীবনে এখনও অবশিষ্ট আছে বলে বোধ হয়, তার হিসাব ঘোচাতে এই ব্লগ, এই পোস্ট, এই লেখা।

প্রিয় পাঠক, শুরুতেই করজোড়ে আমি আপনাদের উপর একটি দায়িত্বের দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছি -- সেটি হচ্ছে লেখাটি থেকে কোন উপসংহারে পৌঁছবার দায়িত্ব আপনার -- আমি এখানে একজন বর্ণনাকারী মাত্র। এথেকেই বিবেকবান পাঠক তাঁর যেটি বোঝার, বুঝে নেবেন।

শায়লা ও অলক। দু'জনেই আমার বন্ধুপ্রতীম ও সুহৃদ। তরুণ দম্পতি। এবং নতুন বাবা, নতুন মা। তবে, তারা তাদের এই নতুন পরিচয়টি ভুলতে চায়, ভুলে থাকতে চায়। কারণ, তাদের ভালবাসার অতি আকাঙ্ক্ষিত দুই যমজ দেবশিশুর কেউই এখন বেঁচে নেই; একটু ভুল হলো বোধহয়, ওরা বেঁচে আছে শায়লা আর অলকের স্মৃতিতে। যদিও ওদের এই পৃথিবীর আলো-হাওয়াতেই বেঁচে থাকবার, ছুটোছুটি করবার, বেড়ে ওঠবার কথা ছিল, অধিকারও ছিল। তবে কারও সুনির্দিষ্ট অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার জন্যই শিশু দু'টির বেঁচে থাকা হলো না। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এটি, আমার বিবেচনায়, একটি হত্যাকান্ড। হয়ত বা, ইচ্ছাকৃত নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাজনিত। তবে সেটি কার, শায়লা ও অলকের, নাকি তাদের উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের, পোস্টটি পড়বার পর তা নির্ধারণের দায়িত্ব পাঠকের।

বাস্তবে ঘটা এই গল্পের মূল চরিত্র তিনটি -- দুর্ভাগা মা : শায়লা, ব্যক্তিজীবনে উচ্চশিক্ষিত তরুণী ও ব্যাংকার, হতভাগ্য বাবা : অলক, মেধাবী ও দারুণ হিউমারাস, পেশায় সে-ও ব্যাংকার ও তাদের উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক : ডা. বিলকিস মাহমুদা, প্রসূতি ও স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ, বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারী মিটফোর্ড হাসপাতাল ও ধানমন্ডী কেয়ার হসপিটালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

শায়লা প্রায় ছয়মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার গর্ভে দু'টি যমজ সন্তান। আসছে অক্টোবরে মা হচ্ছে সে, ডাক্তার হিসেব করে তা-ই বলেছেন। অন্যান্য পরীক্ষা-টরীক্ষা করে আরও বলেছেন যে, বাচ্চারা খুব ভালো আছে, সবকিছুই স্বাভাবিক। আহ্‌, কি আনন্দ, কি আনন্দ ! অলকের চোখে-মুখেও আনন্দ আর ধরে না।

কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অন্যরকম। খাপছাড়া। অস্বাভাবিক।

২৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার
সকাল ১১:০০ টা

শায়লা অফিসে। ভীষণ খারাপ লাগছে তার। পেটটা শক্ত হয়ে যাচ্ছে কেন ?
কোন সমস্যা হলো নাকি ? পেটের বাবু দু'টার কোন কষ্ট হচ্ছে না তো ! মায়ের মন আশংকায় কেঁপে ওঠে। শায়লা অফিস থেকেই ফোন করে তার তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক ডা. বিলকিস মাহমুদাকে।

'আপা, আমার খুব খারাপ লাগছে। পেটটা শক্ত হয়ে আছে। আমি অফিসে আছি, একবার কি আসব আপনার কাছে ? একটু চেক করে দেখবেন ?'
শায়লা জিজ্ঞেস করে ডাক্তারকে।

'বাসায় যেয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকুন। আসবার প্রয়োজন নেই। visceralgine
ওষুধটা তিনবার করে তিন দিন খাবেন।' -- ডা. বিলকিস উত্তর দেন।

শায়লা বাসায় চলে আসে। ডাক্তারের কথামত লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে। ওয়াশ রুমে যায়। তার অনভিজ্ঞ চোখেই কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পরে। শায়লা আবার ফোন করে ডা. বিলকিসকে জানায়। এবারও তিনি রোগিণীকে সরাসরি দেখার পরিবর্তে আগের আরও একটা ওষুধ ভেসেটানল খাওয়া শুরু করতে বলেন। কোন ধরনের মুভমেন্ট একদম নিষেধ করে দেন।

তীব্র ব্যথা নিয়ে শায়লার দিন শেষ হয়।

৩০ জুলাই, শুক্রবার
দুপুর ০১:০০ টা

শায়লার ভয়ানক কষ্ট হচ্ছে। কোমর ও তলপেটে অসহ্য ব্যথা, ভারী হয়ে গেছে ও নাভির গোড়া শক্ত হয়ে আছে। নাহ্‌, আর সহ্য হচ্ছে না যে ! মা হওয়া এত কষ্টের ! না পেরে শায়লা আবারও ফোন দেয় ডাক্তারকে। প্রচন্ড ব্যথার কথা বলে, সমস্যা জানায়, প্রতিকার চায়। কিন্তু শুক্রবারে যে ডা. বিলকিস চেম্বারে বসেন না !!! তিনি ব্যথা সহ্য করবার উপদেশ দিয়ে বলেন, 'শনিবার তো আসতেই পারবেন।'

৩১ জুলাই, শনিবার
ভোর ০৫:০০ টা

রাতটা যে কিভাবে কেটেছে শায়লা আর অলকের, তা তারা নিজেরাও বলতে পারবে না। এত ভয়াবহ আর দীর্ঘ রাত। কি কষ্ট, কি কষ্ট !! ওদের দু'জনের শোবার ঘরের দরোজায় অলক একটা পোস্টার সেঁটে দিয়েছে। দু'টি মিষ্টি শিশু -- যমজ, দুষ্টু দুষ্টু হাসছে। মন খারাপ হলেই শায়লা এই ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকত। এই ভয়ানক রাতের শেষেও এই ছবির দিকে তাকিয়ে ওর চোখ থেকে দু' ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, সেটি কি অনাগত সন্তানের জন্য ভালবাসার, নাকি প্রচন্ড শারীরিক কষ্টের কারণে, ঠিক বোঝা গেল না। সারা রাত জেগে ভোরের দিকে ক্লান্ত হয়ে অলকের চোখ একটুখানি বুঁজে এসেছিল। শায়লা তখন আর তাকে ডাকতে চায়নি। প্রতদিন ভোরের আগের সময়টাতে সে প্রাত্যহিক প্রার্থনা সেরে নেয় -- পরম করুণাময়ের কাছে মঙ্গল কামনা করে, তার নিজের, অনাগত সন্তানের।

সেদিন, আরও কিছুক্ষণ পরে বাধ্য হয়ে শায়লা দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে ডাক্তারকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠায় (এসএমএস)। নিজের সমস্যার কারণে বারবার,
তা-ও আবার এত সকালে ডাক্তারকে বিরক্ত করতে তার লজ্জা হয়, ডাক্তার রেগে যান যদি ! হয়ত এমন ভীষণ যন্ত্রণাটাই স্বাভাবিক, প্রথম মা-বাবা হতে যেয়ে সে এবং অলক তা জানে না। তাছাড়া ডাক্তার তো বারবার বলছেনই যে, সব কিছু ঠিক আছে, কোন জটিলতা নেই। তাই, তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দেশনাই শেষ সময় পর্যন্ত আদর্শ রোগীর মতো মেনে গেছে শায়লা-অলক দম্পতি। মুঠোফোনের বার্তায়ই শায়লা ডাক্তারকে অনুরোধ করে সম্ভব হলে যোগাযোগ করতে। আরও জানায়, অত্যন্ত তীব্র ব্যথা সে আর সহ্য করতে পারছে না। ডাক্তার যোগাযোগ করে আশ্চর্যজনকভাবে তখনও দেখা করতে নিষেধ করে ব্যথা খুব বেশী হলে সাপোজিটর নিতে বলেন। কোন ক্লিনিক বা হসপিটালে যাবে কি না -- শায়লার এই মরিয়া প্রশ্নের জবাবে তিনি নিষেধ করে তাঁর নিজস্ব কেয়ার হসপিটালে বেলা দেড়টায় আসতে বলেন, কেননা সে সময়টাতে তিনি ঐ প্রাইভেট হসপিটালটিতে থাকবেন। এদিকে তখনও অত সকালে ফার্মেসী খোলেনি। সেদিনটাতেই সকালবেলা তুমুল বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়া।

এরপরের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে অতি দ্রুত, পরিস্থিতির অবনতি হয় তারও দ্রুততায়।

শায়লার অসহ্য চিৎকারে তাকে গৃহপরিচারিকার কাছে রেখে অলক উদভ্রান্তের মতো ছুটে বেরিয়ে যায়। পাড়ার লোকেদের সাহায্যে একটি দোকান খুলে সাপোজিটর কিনে অলক ফিরে আসে শায়লার কাছে। শায়লার ভয়ানক যন্ত্রণায় প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থা। অলক দিশেহারা হয়ে সবচেয়ে কাছের মিরপুর জেনারেল হাসপাতালে সাপোজিটর দেয়ার জন্য শায়লাকে নিয়ে যায়। সে সময়টায় হাসপাতালে কোন ডাক্তার ছিলেন না। আর না পেরে শায়লা মেঝেতেই শুয়ে পড়ে। হায় ! সেবাকেন্দ্রের সেবিকারা কোন দুর্ঘটনার দায়িত্বের আশংকায় তাকে স্পর্শ পর্যন্ত করে না। রোগিণীকে ভর্তি করতেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে একজন অ্যাটেন্ডেন্ট এগিয়ে এসে সাপোজিটর নিতে সহায়তা করে। মিরপুর জেনারেল হাসপাতালের পরামর্শ মত অলক শায়লাকে মিরপুর ২-এর বিএভিএস মেটারনিটিতে নিয়ে যায়।

এরপর ওখানকার আয়া এবং নার্সরা মিলে প্রথম বাচ্চাটিকে বের করে। তারপর ডা. মারিয়ম এসে প্রায় পঁচিশ মিনিট পর ছোট বাচ্চাকে বের করেন। বিএভিএস মেটারনিটি থেকেই বলে যে, বাচ্চারা সাত মাসের ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো স্বাভাবিক, তবে ইনকিউবেটরে রাখতে হবে। তখন পুনরায়, ডা. বিলকিসকে ফোন করলে তিনি অপেক্ষা করতে বলেন। কেয়ার হসপিটালে জানিয়ে কেয়ারের অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখানেই যেতে বলেন। যদিও শায়লা ও অলক অধিকতর সুবিধাসম্পন্ন স্কয়ার, এ্যাপোলো বা ইউনাইটেডের মতোই কোন হসপিটালে নিতে আগ্রহী ছিল, কিন্তু বাচ্চা দু'টোর এ অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসকের পরামর্শের বাইরে যেয়ে কোন ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে চটাতে চায়নি। বাচ্চা দু'জনকে কেয়ার হসপিটালেই ভর্তি করা হয়, তবে কেয়ারের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দেরী না করে মিরপুরের হার্ট ফাউন্ডেশনের অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুতই ওদের স্থানান্তর করে ওরা।

এখানে দু'টি তথ্য উল্লেখযোগ্য।

১. বড় বাচ্চটির জন্মের সময় ওজন ছিল ৯৩০ গ্রাম, আর ছোটটির ৯১০ গ্রাম, অর্থাৎ প্রত্যেকেই প্রায় ১ কেজি ওজনের, যেটা বাচ্চা দু'জনের বার্থ সার্টিফিকেটে উল্লেখ আছে।

২. এরকম প্রি-ম্যাচিউরড্‌ বেবীদের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্যই ইনকিউবেটরের সাহায্য নেয়া হয়, যেখানে তাদের অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখবার কথা।

বড় শিশুটির মৃত্যু হয় ৩ আগস্ট, ২০১০।
(কত সহজ আর অবলীলায়ই না আমি কথাটি লিখলাম ! )

বড়টির সৎকার কর্ম শেষ হতে না হতেই গভীর রাতে অলককে জানান হয়, রক্ত লাগবে, ছোটটির জন্য। অলক নিজ উদ্যোগেই আত্মীয় রক্তদাতা তৈরী করে রেখেছিলেন, রক্ত আগেও প্রয়োজন পড়েছে। এ+ রক্ত দেবার পরে, তখন হসপিটাল থেকে বলা হয় যে, রক্তের শুধুমাত্র হোয়াইট ব্লাড সেলই শিশুটিকে দিতে হবে। রেডিলি এ্যাভেইলেবল হোয়াইট ব্লাড সেল হসপিটালটিতে মজুদ নেই। হয় তা এই মুহূর্তেই জোগাড় করতে হবে, অথবা এই রক্ত থেকে হোয়াইট ব্লাড সেল আলাদা করতে বার ঘন্টা সময় লাগবে। আশ্চর্যের বিষয়, এমন একটি মুমূর্ষু নবজাত শিশু তাঁদের অধীনে গত প্রায় চারদিন যাবৎ নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছে, যার জন্য আগেও রক্ত নেয়া হয়েছে, রক্তদাতাও তৈরী ছিলেন, কিন্তু তাঁরা এমনটি আগে থেকে ব্যবস্থা করেননি, এমনকি শিশুটির অভিভাবকদেরও জানাননি !!

রক্তের অভাব নিয়ে আরো বার ঘন্টা সময় শিশুটি যুদ্ধ করতে পারেনি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখান হয় ফুসফুসে রক্তক্ষরণ।

ছোট শিশুটির মৃত্যু হয় ৪ আগস্ট, ২০১০।

শ্রদ্ধেয় পাঠক,

এমন মর্মস্পর্শী একটি ঘটনার পরে ডা. বিলকিস মাহমুদা শায়লাকে বলেন, 'এটি একটি দুর্ঘটনা। ছয় মাস পর আবার কনসিভ করবেন।' দায়িত্বে অবহেলার প্রসঙ্গ উড়িযে দিয়ে তিনি বলেন, 'এটি একটা প্রি-ম্যাচিউরড্‌ ডেলিভারী ছিল না। প্লেন অ্যাবরশন কেস। এখানে দায়িত্বে অবহেলার কোন কারণ ঘটেনি। তাছাড়া রোগীর ইউটেরাসেও কিছু জটিলতা ছিল। মেয়েটির লেবার পেইন উঠেছে সেটি সে আমাকে স্পষ্ট বলতে পারেনি। তাছাড়া আমি তাকে নিয়মিত টাচে রেখেছি। একটি দুর্ঘটনা ঘটার কারণে চিকিৎসককে দায়ী করাটা অনেকটা কালচার হয়ে গেছে। আমি কখনই তাকে বিভ্রান্তিকর কিছু বলিনি। এটাও সঠিক নয় যে আমি টেলিফোনে চিকিৎসা দিয়ে এসেছি। আমি ওকে শিশু, বারডেম বা কেয়ারে আসতে বলেছি। এখানে কেয়ার বা আমার দায়িত্বহীনতার কোন সুযোগ নেই। বাচ্চা দু'টির অবস্থাও সংকটাপন্ন ছিল। যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে। ওসময়ে যে সাজেশন দিয়েছি তা অন্য যে কোনও ফিজিশিয়ানই দিতেন। আর মেয়েটির সংকটাপন্ন অবস্থায় টেলিফোনে যতটা সম্ভব সহায়তা করেছি। একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর আমি মনোবল ঠিক করতে রোগীকে যদি বলে থাকি আপনার শরীরে কোন সমস্যা নেই আবার কনসিভ করতে পারবেন, সেটা কি অপরাধ ? ইউটেরাসে সমস্যা ছিল এটা আগে অ্যাবরশন হিস্ট্রি থাকলে বলতে পারতাম।'

তবে একই প্রেক্ষাপটে আরেকজন প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাজনীন বেগম জানান, 'টুইন বেবী সেনসিটিভ কেস হিসেবে বিবেচনা করতে হয়। ছয় মাসে ডেলিভারী মানে প্রি-ম্যাচিউরড্‌ কেস। তবে বেবীরা প্রত্যেকে ১ কেজি ওজনের ছিল, মানে ওরা সুস্থ ও স্বাভাবিক গঠনেই ছিল। ৬০০ পাউন্ড হলেই আমরা আশা করি বাচ্চার সারভাইভ করার সম্ভাবনা ৯৯ ভাগ। নরমালি এসময় সাপোজিটর দেয়া বেবীর জন্য রিস্ক হতে পারে বলে আমি মনে করি। তবে মার ইউটেরাস যদি যমজ বাচ্চা ধারণের জন্য পর্যাপ্ত স্থানের না হয়, তাহলে আগে থেকেই মায়ের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ার কথা ও তার তত্ত্বাবধায়কের তা আইডেন্টিফাই করার কথা। রিমোট এলাকায় যাতায়াত সমস্যা হলে হয়তো যুক্তি ছিল কিন্তু ঢাকা শহরে থেকে পেইনের সিম্পটম শুনে ট্রিটমেন্ট দেয়াটা কতটা জরুরী ছিল আমার কাছে তাও স্পষ্ট নয়।'

সেক্ষেত্র কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন অতি স্বাভাবিক।

ক. বারংবার রোগিণী অসহনীয় ব্যথার অভিযোগ করে সাক্ষাৎকার চাওয়ার পরও তাকে সরাসরি না দেখে ফোনে চিকিৎসা দেয়াটা কি পেশাদারী দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে ?

খ. এরূপ অবস্থার কোন অন্তঃসত্ত্বা মা-কে ব্যথা উপশমের জন্য সাপোজিটর নিতে বলাটা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কতখানি নিরাপদ ছিল ? (ডা. নাজনীন বেগমের মন্তব্য দ্রষ্টব্য, এছাড়া সম্মানিত ব্লগারবৃন্দের মধ্যে যাঁরা চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত আছেন, তাঁরা মূল্যবান মতামত দিতে পারবেন বলে আশা করি)

গ. শায়লা প্রথমবারের মত মা হতে যাচ্ছে। তার পক্ষে কিভাবে শনাক্ত করা সম্ভব কোন পেইনটা লেবার পেইন বা প্রসবকালীন ব্যথা ? নাকি একজন বিশেষজ্ঞ ও শায়লার তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক হিসেবে ডা. বিলকিসেরই তা অনুধাবন করা উচিৎ ছিল ? 'শায়লা তাঁকে বলেনি যে তার লেবার পেইন হচ্ছে' -- এটি বলে কি তিনি উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে চাচ্ছেন ?

ঘ. ঘটনাটি এরকম রূপ নেবার পর ডা. বিলকিস দাবী করছেন ইউটেরাসে সমস্যা ছিল, মায়ের ইউটেরাস বাচ্চা ধারণের থেকে ছোট। অথচ দীর্ঘ ছয়টি মাস শায়লা তাঁর নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকবার সময় তিনি একটি বারও একথাটি কখনও বলেননি। নরমাল ডেলিভারী হবার পর বাচ্চা দু'জন মারা গেলে তিনি বুঝতে পারলেন শায়লার সমস্যা ছিল। কেন ?

ঙ. ডা. বিলকিস বলছেন, 'ইউটেরাসে সমস্যা ছিল এটা আগে অ্যাবরশন হিস্ট্রি থাকলে বলতে পারতাম।' -- অর্থাৎ কারও ইউটেরাসে কোন সমস্যা আছে কি না তা বোঝার জন্য আগে তাকে একটি অ্যাবরশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে ?

চ. ঘটনাটিকে ডা. বিলকিস বর্ণনা করেছেন 'প্লেন অ্যাবরশন' হিসেবে। দু'জন জলজ্যান্ত প্রত্যেকে ১ কেজি ওজনের যমজ শিশুর বার্থ সার্টিফিকেট বর্তমান থাকবার পরও কীভাবে একজন চিকিৎসক একে অ্যাবরশন বলতে পারেন ?

ছ. বাচ্চাকে প্রয়োজনীয় সব রকমেরই চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকলে মৃত্যুর জন্য যথাসময়ে রক্ত সরবরাহে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা দায়ী কি না ? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রি-ম্যাচিউরড্‌ বেবীর ফুসফুসে রক্তক্ষরণ অতি জটিল সমস্যা কি এবং এটি বন্ধ করবার কোন উপায় আছে কি না ?

এ প্রসঙ্গে আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন যে, কর্তব্যে অবহেলা হয়ে থাকলে ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে অবশ্যই তা ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে আইনের শরণাপন্ন হওয়া যায়। অভিনেতা মৃত্যুর পর একই অভিযোগে ছয় চিকিৎসকের নামে সিএমএম কোর্টে মামলা চলছে। তাছাড়া মেডিকেল ল' অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট করে এসব অভিযোগের উল্লেখ ও প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান আছে। তবে এটা বলার থাকে না, এই মায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। একটি মা তার দুই সন্তানকে হারানোর পর চিকিৎসক বলতে পারেন না -- 'এটা স্রেফ দুর্ঘটনা। ছয় মাস পর আবার কনসিভ করবেন।' এটা স্রেফ অমানবিক আচরণই নয়, একই সঙ্গে দায়িত্বহীন শব্দচয়নও বটে।

প্রিয় পাঠক, যদি কষ্ট করে এ লেখাটি পড়ে থাকেন, তবে এর উপসংহার টানার দায়ভার লেখার শুরুতেই আপনাকে দিয়েছি। এ ঘটনাটির কিছুদিন আগেই ধানমন্ডীর মেডিনোভাতে একজন সন্তান-সম্ভাবা নারী রহস্যজনকভাবে একটি ইনজেকশন পুশ করবার পরপরই মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটে আদ-দ্বীন হসপিটালে। সেই সময়, আমি নিজেকে ওই ঘটনাপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন ভেবেছিলাম। ভাবিনি এরকম কিছু কোনদিন আমাকেও স্পর্শ করতে পারে। তারপর, এর হিমশীতল অভিশাপ আমার, আমার অতি নিকটজনদের ছুঁয়ে যায়। অলক বা শায়লার চাওয়া, ডা. বিলকিস ও কেয়ার কর্তৃপক্ষ যেন তাঁদের ভুলটা স্বীকার করে নিজ নিজ দায়িত্বে আরেকটু সচেতন হয়, ভবিষ্যতে আর কাউকে যেন এমন খাম-খেয়ালীর শিকার হতে না হয়।

শ্রদ্ধেয় পাঠক, আপনার বিবেচনা বোধে এই ঘটনার জন্য আপনি কাউকে কি দায়ী মনে করেন ? যদি তা-ই হয়, তবে আপনার সহযোগিতার হাতটি বাড়িয়ে দিন ... আইনের কাঠগড়ায় না হোক, আসুন তাঁদেরকে বাধ্য করি বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে।

দৈনিক যুগান্তরে ১০ আগস্ট ২০১০-এ প্রকাশিত কাওসারা সোহেলী-র প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে

নিছক দুর্ঘটনামাত্র !

[প্রিয় পাঠক, আমি হুমায়ূন আহমেদ নই, স্বপ্নের যাদুকর সুনীল গাঙ্গুলীও না, আমার ক্ষুদ্রতাকে অতি সামান্য বল্‌লেও বেশী বলা হয়ে যাবে, আমি জানি। এই ফোরামের পাঠক-প্রিয় একজন ব্লগার, যাঁর একটি পোস্টের পাঠক সংখ্যা ছিল পনের হাজারের বেশী এবং পোস্টটি সপ্তাহাধিককাল স্টিকি হয়েছিল, তাঁর দ্বারস্থ হয়েছিলাম। তিনি ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় সময় করে লেখাটি লিখে উঠতে পারেননি। তবু আমি তাঁর কাছে সবিশেষ কৃতজ্ঞ,কেননা তাৎক্ষণিকভাবেই তিনি তাঁর বেশ ক'জন সাংবাদিক বন্ধুকে ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছেন, সংবাদটি প্রকাশের এবং যার ফলেই একটি শীর্ষ স্থানীয় দৈনিকে খবরটি এসেছে। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি 'যুগান্তর'-এর কাওসারা সোহেলীকে প্রতিবেদনটি প্রকাশের ঋণস্বরূপ।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/29227131 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/29227131 2010-08-21 19:13:55
একজন স্বপ্নভুক বিশুদ্ধ কবিতার পাঠক বরাবরই সীমিত। দীর্ঘ বিরতির পর কবিতার সত্ত্বাকে অস্বীকারে ব্যর্থ হলাম -- কবিতার কাছে এ আমার মধুর পরাজয়। বিশুদ্ধ কবিতার প্রাপ্তমনস্ক শ্রদ্ধেয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত।]

নিস্তব্ধ সংগীত --
সম্পূর্ণ শূন্যতায় শব্দহীন কোলাহলে। কথা কয়;
কয় কথা জীবনের বিস্রস্ত সংলাপ। বিমুগ্ধ নগরে
বেঁচে থেকে সময়ের এইসব বোধ বিপন্ন বিষাদ ; ক্ষয়ে যায়।

বোহেমিয়ান ক্ষুধার্ত ডানায় আকাশের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-বেধ, --
সময়ের দীর্ঘনিঃশ্বাস দীর্ঘশ্বাসে মেপে, রাত হয়
এই অবসরে। জীবনের সকল উৎসব পন্ড হয়,-- সব ব্যাকুলতা;
মৃত জলজের নিবিড় ঘ্রাণ বুকে নিয়ে
ধূসর নদী মায়াবী আকাঙ্ক্ষায় বলে যায় বারেবারে,
এইখানে সব ছিল,
দুপুরের রোদে নির্ভার স্নানের ঋণ,
গূঢ় রসে পুরুষ্ঠ ফসলের দেহ
নারীর যোনীর মত উর্বরা আদিম আবাদ -- ঘরে মাঠে কৃষাণের
বিশ্রম্ভ-নির্যাস।

মাছরাঙা-ডাহুকের অবিরল সন্ত্রাসে নির্ঝর জলের শোক,
শুক্লা দ্বাদশীর ব্যস্ত পূর্ণিমায় যুবাদের অদম্য উল্লাস।
কুমারীর অকারণ অভিমান জানা নাই কারো !
বেদনায় কেঁপে কেঁপে যায় রাত, গোপন ষোড়শী শরীর।

হাতে রাখে হাত বর্ণিল হতাশা তার, প্রাচীন গন্ধময়
প্রেতিনীর মত। গিলে খায় সুবর্ণ সাধ,
রাত্রির উঠোনের সব আয়োজন। তবু --
লেখা হয় প্যাপিরাসে
ভীষণ হীরন্ময় কিছু পঙক্তিমালা
আজন্ম স্বপ্নভুক
কাঞ্চনজঙ্ঘা ছুঁয়ে !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/29129740 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/29129740 2010-04-06 01:49:23
বাঙালির আত্মপ্রতিকৃতি : কীর্তিহীন এক জাতিসত্ত্বা (খন্ড-১) হে মুগ্ধ জননী
রেখেছ বাঙলি করে, মানুষ করনি।

এক.

বাঙালি এবং বাংলাদেশী পরিচয় দিতে কি আপনি গর্ব বোধ করেন ? আমি করি না। আমি বাঙালি এবং বাংলাদেশী পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করি। আমার বিকাশমান সত্ত্বায় বাঙালি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, মানসিক উন্মেষ ও চিন্তাধারায় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দেখা দেয়, দ্বিধান্বিত করে; আরও ভয়াবহ যে, এই প্রক্রিয়াকে ক্ষেত্রবিশেষে সংকুচিতও করে।

দুই.

আমার আত্মস্বীকৃত এই বিবৃতি আপনাকে দারুণভাবে ক্ষুব্ধ করছে, ব্যথিত ও হতাশ করছে -- আমি জানি। প্রচন্ড ঘৃণায় আপনি এই অক্ষরগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন -- আমি উপলব্ধি করতে পারি। আপনার এবং আপনাদের এই সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সহজেই অনুমেয় -- কারণ, আপনি বাঙালি, এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমিও। ঋণাত্মক আবেগের আতিশয্য বাঙালির প্রবল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আর তাই আপনি সংক্ষুব্ধ হবেন, যৌক্তিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

তিন.

আপনার ক্ষুব্ধতা কিছুটা লাঘবের চেষ্টা করি। নিচের নাতিদীর্ঘ তালিকাটির দিকে তাকালে বেদনার কিছুটা প্রশমন হতে পারে। একান্ত নিজস্ব বিচারে আমি এই তালিকার ক্রম নির্ধারণ করেছি। বর্তমান বিশ্ব সভ্যতায় কোন জাতি/জাতিগোষ্ঠীর সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি মোটা দাগের ক্রমবিন্যাস এই তালিকা।

০১. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া
০২. পূর্ব ইউরোপ
০৩. দক্ষিণ আমেরিকা (এবং রাশিয়া)
০৪. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দূরপ্রাচ্য
০৫. দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশ (পাকিস্তান ব্যতীত)
০৬. মধ্যপ্রাচ্য (ইসরাইল ব্যতীত) এবং পাকিস্তান
০৭. আফ্রিকা (দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যতীত) এবং বিশেষত পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা

চার.

এই নাতিদীর্ঘ তালিকায় আপনার জন্য আত্মপ্রসাদ হচ্ছে -- বাঙালি জাতি হিসেবে প্রায় সমগ্র আফ্রিকার জাতিগোষ্ঠী থেকে উন্নততর (সামগ্রিক বিবেচনায়) এবং মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় সুনির্দিষ্টভাবে উন্নত চিন্তাশীল এবং দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের তুলনায় মননে এবং মানসিকতায় প্রগতিশীল। পাকিস্তানের জাতিগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের জাতিসমূহের তুলনায় কিয়দংশে যৌক্তিক ভাবধারাসম্পন্ন।

পাঁচ.

অনুরূপভাবে, বাঙালি জাতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, পূর্ব ইউরোপ, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপের জাতিসমূহের তুলনায় প্রগতিশীলতায় দীন। বিশেষত পশ্চিমের জাতিগোষ্ঠীর কীর্তি, অবদান, প্রায়োগিক যুক্তিবোধ এবং মানসিকতার বিপরীতে বেদনাদায়কভাবে নিকৃষ্টতর।

ছয়.

এই ক্ষুদ্রতার ক্ষেত্র এতটাই সুবিশাল যে তা নির্দেশ করে প্রায় সর্বব্যাপী হীনতা। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিসরের প্রতিটি শাখায় এবং প্রশাখায়, এমনকি এর প্রতিটি গলি ঘুঁপচিতে দীনতার জাজ্বল্যমান উপস্থিতি। বাণিজ্য-অর্থনীতি-বিজ্ঞান-দর্শন-সংস্কৃতি-সাহিত্য-ক্রীড়া-রাজনীতি-মূল্যবোধ, সভ্য জীবের যাপিত জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের মর্মন্তুদ ব্যর্থতা।

সাত.

সহজাত প্রশ্নের উদ্রেক যৌক্তিকভাবেই সম্ভাব্য -- বর্ণিত বিশ্লেষণ বিচার্যের ভিত্তি কি ? উপাত্ত ও তথ্যের উৎস কি ? দৈন্যতা পরিমাপের মাপকাঠির স্বরূপ কি প্রকারের ? জাতীয় বৈশিষ্ট্য কি অর্থনৈতিক সাফল্যে পরিগণিত, না-কি জ্ঞান-বিজ্ঞান পরিচর্যার ক্ষেত্রসমূহের আলোকপাতে বিশ্লেষিত ? অথবা, দর্শন-সাহিত্য-ক্রীড়া এর বিষয়বস্তু ? মূল্যবোধ এবং রাজনীতি কি এর পরিমাপক উপাদান ? আত্মবিশ্লেষণে নির্মোহভাবে বর্ণিত ক্ষেত্রে স্বজাতির মূল্যায়নই আমার সিদ্ধান্তে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

আট.

এক কোটি বিশ লক্ষ বছর আগের অস্ট্রালোপিথেকাস, বিশ লক্ষ বছর আগের হোমো বর্গের মানুষ, তার অগ্রসরমান অংশ হোমো ইরেক্টাস, প্রাগ্রসর প্রজাতি হোমো স্যাপিয়েনস্‌, যারা দুই লক্ষ বছরের প্রাচীন, পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বের নিয়ান্ডারথাল কিংবা পশু শিকারী আদি মানব ক্রো-ম্যানিয়ঁ, নতুবা ধর্ম মতে আদি মানব আদম বা অ্যাডাম, যা-ই হোক, আমাদের মনুষ্য প্রজাতির একটি সাধারণ সূচনা রেখা ছিল। তৎপরবর্তী বিস্তৃত অতীত নিশ্চয়ই বিস্মৃত নয়। মনুষ্য প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীব্যাপী। খ্রীস্টপূর্ব ২৮০০০ সালেই বেরিং প্রণালী পার হয়ে মানুষ গেল আমেরিকায়। খ্রীস্টপূর্ব ১০০০০ সালেই মানুষ পৌঁছে যায় দক্ষিণ আমেরিকার প্রান্তে। যা-ই হোক, এই গ্রহের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মানুষ টিকে থাকার দুর্বার তাগিদেই প্রকৃতির সঙ্গে শুরু করে যুদ্ধ এবং যুগপৎভাবে বাড়তে থাকে তার অভিযোজ্যতা। এই নিরন্তর সংগ্রামে ব্যাপৃত মানুষ পার করেছে সুবিশাল সময়। সভ্যতা এগিয়েছে মানুষের জীবনের সাথে তাল রেখে, প্রায়শঃই একই মাত্রায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রকৃতির আশীর্বাদ পাওয়া সম্প্রদায় অগ্রগামী হবে, সেটাই তো প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু, তা-ই হয়েছে কি ? যে সম্প্রদায় প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় নিয়োজিত ছিল, কিভাবে তারাই আজ প্রাগ্রসরমান জাতি হিসেবে আবির্ভূত ? আমাদের এই নাতিশীতোষ্ঞ রোদ্রময় উর্বর আবাসভূমির অধিবাসীদের তুলনায় তীব্র শীতপ্রধান বৈরী জলবায়ুর অধিবাসীদের সাফল্যের উৎস কি ? তারা কি এই ক্ষেত্রে অধিকতর যোগ্যতার প্রমাণ দেয়নি ?

নয়.

শুধুমাত্র আশ্চর্যজনকভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নয়, তাদের সাফল্যগাঁথা বিস্তৃত প্রাচীন বিশ্ব, মধ্যযুগ, নৃপতিদের শাসনকাল ও তার পূর্ববর্তী রেনেসাঁ এবং পরবর্তী শিল্প ও রাজনৈতিক বিপ্লবের প্রাক ও উত্তরসময়ে, ইউরোপীয় উপনিবেশকাল, অতঃপর আধুনিক বিশ্বে। খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ সালে বৃটেনের পাহাড়ে তৈরী হয় উইন্ডমিল, খ্রীস্টপূর্ব ৭৭৬ সালে গ্রীসে বসে প্রথম অলিম্পিক ক্রীড়ার আসর। ইতিহাসের সেইক্ষণে আমার জাতিসত্ত্বার হতাশ অনুপস্থিতি আমাকে সক্ষমতার বিচারে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমি নির্মোহভাবে উত্তর খুঁজি, আমাদের ব্যর্থতার কলঙ্ক-চিহ্ন আবিষ্কার করি।

দশ.

ভারতে সর্বথম বৃহৎ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রীস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে। দক্ষিণ বিহারের সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাধ্যক্ষ চন্দ্রগুপ্ত নন্দ বংশের বশ্যতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ব্যর্থ হন এবং আলেকজান্ডারের আশ্রয়লাভে চলে যান উত্তর-পশ্চিম ভারতে। পরবর্তীতে, অনেকের বিশ্বাস গ্রীক সমর্থনেই তিনি নন্দ রাজাকে পরাজিত ও নিহত করেন। দক্ষিণ বিহার বা মগধের সিংহসন লাভের পর চন্দ্রগুপ্ত উত্তর ভারতকে তাঁর শাসনাধীনে নিয়ে আসেন। তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তৃতি লাভ করে বাংলা থেকে আফগানিস্তানের সীমান্ত হিন্দুকুশ পর্যন্ত। খ্রীস্টপূর্ব ৩০৫ অব্দে তিনি আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্যের পূর্ব অংশের শাসক সেলুকাস নাইকেটরের আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন। মৌর্য সম্রাটদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন চন্দ্রগুপ্তের পৌত্র অশোক। তিনি খ্রীস্টপূর্ব ২৪৭ অব্দ থেকে ২৩৬ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তা প্রচারের জন্য ধর্ম প্রচারকদের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়েছিলেন। এই স্থানীয় পরিমন্ডলেও কোথায় আমি এবং আমরা ?

এগার.

তবে আমি সুদূর অতীতকে আমার বিচার্যের পরিমাপক বলে দাবী করছি না। বিশ্ব ইতিহাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের অবদান, আরও খোলাখুলিভাবে বললে উপস্থিতি নগণ্য, প্রায় অস্তিত্বহীন। ছাপাখানার উদ্ভব আমরা করিনি, আমরা আবিষ্কার করিনি বিদ্যুৎ, বিজলী বাতি, বাষ্পীয় ইন্ঞ্জিন, মাধ্যাকর্ষণ সূত্র, জ্যামিতি, লগারিদম, ব্যারোমিটার, টেলিগ্রাম কিংবা টেলিফোন। বঙ্গভূমি বন্ধ্যা ছিল জন্ম দিতে কোন পীথাগোরাস, আর্কিমিডিস, কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন, দেকার্তে, এডিসন বা গ্রাহাম বেলের। নতুন ভূ-খন্ড আবিষ্কার, ভিন্ন মহাদেশ শাসন বা দুঃসাহসিক অভিযানের যোগ্যতর জাতির মর্যাদা ঐতিহাসিক প্রামাণ্যতায় কাদের অনুকূলে ? অজানাকে জানার, অদেখাকে দেখার, অজেয়কে জয় করবার ইস্পাত-কঠিন দৃঢ়তা কেন শুধু পশ্চিমের অধিবাসীরাই প্রদর্শন করতে পারল ? মহাসমুদ্রের বিশালতা আর বিপদ তাদেরকে সন্ত্রস্ত করেনি, করেছে রোমাঞ্চিত ! দিগ্বিজয়ের দুর্দমনীয় নেশা আমাদের মাতাল করতে পারেনি, সাগর-বধূর দুর্নিবার আকর্ষণ আর জ্ঞানের পিপাসা আমাদের তৃষ্ঞার্ত করেনি এতটুকু ! কোন কলম্বাস, ভাস্কো-ডা-গামা বা জেমস কুকের জন্ম হয়নি এদেশে, কারণ তার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি কেউ, তাই ছিল না কোন পৃষ্ঠপোষকতা, সেই সাথে মেধার জগতেও ছিল দারুণ ক্ষরা। বিপদসংকুল অরণ্য, ঊষর মরুভূমি বা তুষারাবৃত প্রান্তর -- আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এমনকি অ্যান্টার্কটিকা -- এই গ্রহের আনাচে-কানাচে সর্বত্র চষে বেড়িয়েছে স্প্যানিশ, ওলন্দাজ, পুর্তগীজ, ইংরেজ কিংবা ফরাসীদের জাতি, নিশ্চিয়ই ঐ পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, ছিল কষ্টসাধ্য এবং বন্ধুর। তারা সম্পূর্ণ অপরিচিত এবং যুগপৎভাবে প্রতিকূল ভিন্নভাষী ভূ-খন্ড অধিকার এবং শাসন করেছে। শক্তিমত্তার সে-ই সময়ে সুনিশ্চিতভাবেই তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। পক্ষান্তরে, উপনিবেশ ও অভিযান তো সুদূরের স্বপ্ন, আমরা নিজেদের স্বাধীনতাকেই সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ হয়েছি। যদিও দাবী করি, ১৭৫৭ সালে আমদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তগামী হয়েছে, প্রকৃত প্রস্তাবে এতদ্‌অঞ্চলের অধিবাসীগণ স্ব-শাসনের অধিকার হারায় ১২০৩ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসেই, যখন ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী নামক এক ভিনদেশী মাত্র গুটিকয় সৈন্য নিয়ে এ অঞ্চল দখল করেন।

বার.

দর্শন, শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষেত্রটি আরও করুণ। গত দু'শো বছরে বাঙলির ও বাঙলা সাহিত্যের কোন মৌলিক সৃষ্টি নেই। পদাবলী ও মঙ্গলকাব্য উত্তরকালের মহাকাব্য, রোম্যান্টিসিজম্‌ এবং আধুনিকতা সবই পশ্চিমের অনুরণণ মাত্র। উপন্যাসের ধারণা বাঙালি পেয়েছে পশ্চিম থেকে, একই সত্য প্রযোজ্য নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধের ক্ষেত্রেও। বঙ্কিমের প্রথম উপন্যাস স্কটের অনুকরণ, বাঙলায় মহকাব্য, সনেট, ট্র্যাজেডী, প্রহসন মধুসূদনের সৃষ্টি, যার মূল বীজ ও ধারণা তিনি পেয়েছেন ইউরোপে। বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম প্রতিভা রবীন্দ্রনাথের রোম্যান্টিসিজম্‌ জন্ম নিয়েছে যখন, ইউরোপে তখন সে-ই ধারণা একশ' বছরের পুরান, তারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে নতুন সাহিত্যান্দোলনের। রবীন্দ্রনাথের পর শ্রেষ্ঠ বহুমুখী প্রতিভা বুদ্ধদেব বসু আধুনিক বাংলা কবিতার 'প্রধান পুরোহিত' হতে পেরেছিলেন কারণ তিনি এবং সমসাময়িক প্রায় সকল আধুনিক কবিই ছিলেন ইংরেজী সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র, তাঁদের প্রতিভা ছিল ইউরোপীয় সাহিত্যকে আত্মস্থ করার এবং এর বাংলা অবয়ব রূপায়ণের, কিন্তু আধুনিকতাবাদের ধারণা তাঁরা এনেছেন পশ্চিম থেকে ঋণ করে।

তের.

এই গাঙ্গেয় অববাহিকার উর্বর সমতলে অর্থনীতিতে আমাদের অবস্থান মর্মান্তিক এবং কষ্টকর। এর বিশদব্যাখ্যা অপ্রয়োজনীয়। ১৯১৪ - ১৯১৮ এবং ১৯৩৯ - ১৯৪৫ এ দুই দুইটি মহাযুদ্ধের ক্ষতি আত্মস্থ করে জার্মানীর পুনরায় অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে সময় লেগেছে কতদিন ? ১৯৪৫ এর আণবিক আঘাত সহ্য করে জাপান ঘুরে দাঁড়াতে কত বছর সময় নিয়েছে ? যদি আনুষ্ঠানিক উদ্ভবের সময় থেকেও হিসাব করি, সার্ক পার করেছে প্রায় সিকি শতাব্দী, সেই তুলনায় অর্জন প্রায় শূন্যের কোঠায়। অপর পক্ষে ১৯৬৭ তে জন্ম নেয়া আসিয়ানের দেশসমূহ প্রথম দশকের পর মধ্য আশির দশকেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিগত দুই দশকে তারা অভাবনীয় সাফল্যে চমকে দেয় গোটা বিশ্বকেই। তারা ভিন গ্রহের কেউ নয় -- আমাদেরই নিকট প্রতিবেশী। ১৯৪৭ এর আগস্টে উপমহাদেশ দ্বি-খন্ডিত হবার পর আমরা পার করেছি প্রায় ৬১ বছর, এবং এককভাবে ১৯৭১ এ স্বাধীনতার পরবর্তীতে প্রায় ৩৭ বছর। আমাদের অর্থনৈতিক অর্জন কি ? ব্যর্থতার দায়ভার আমরা কার ঘাড়ে চাপাব, নিজেদের ছাড়া ! আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর পরাক্রমশালী সোভিয়েট রাশিয়া বিশ্ব পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে এর অর্ধেক সময়কালেই। আমরা স্বাধীনতার পর ৩৭ বছর ইতোমধ্যেই পার করেছি, জাতিগত তুলনায় পরবর্তী অংশ বর্ণণা নিস্প্রয়োজন বোধ করছি।

চৌদ্দ.

হাজার বছরের ইতিহাসে আমার কাছে বাঙালির একমাত্র অর্জন ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা (১৯৫২ সালে রাষ্ট্র-ব্যবস্থায় ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের চরম পরিণতি ১৯৭১ এর পবিত্র মুক্তিযুদ্ধ -- এই বিশ্লেষণে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনকে পৃথক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করলাম না)। এই একটি ঘটনায়, মহত্ত্বে বাঙালি তার সকল অতীতকে ছাপিয়ে উর্ধ্বে উঠে গেছে, এইখানে আমর দৃষ্টি শ্রদ্ধায় অবনত হয়, আমি বাঙালিকে অভিবাদন জানাই, আমাকে অভিবাদন জানাই।

পনের.

মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক অবক্ষয়ে আমরা এখনও আফ্রিকা মহাদেশের গুটিকয় দেশের তুলনায় স্বস্তিদায়ক অবস্থানে আছি। আত্মপ্রসাদের কি অপূর্ব পরিতৃপ্তি ! কয়েক দশক পর হয়ত আমাদের নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মনুষ্য জাতি ব্যতিরেকে শক্তিমান কোন পশুর সঙ্গে আমাদের তুলনা খুঁজব, আর নয়ত কোন ভিন গ্রহের প্রজাতির সন্ধান করতে হবে। একসময় আমরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে অস্ত্র ধরেছি, তারপর পাকিস্তানীদের পরাজিত করেছি, তখন নিজেদের তুলনা করতাম মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এইসকল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের পরিমাপে। আজ উন্নয়ন সূচকে কোথায় তাদের অবস্থান, আর কোথায় আমরা ! সময়ের আবর্তে ' ....... হত্যার পরিণাম, বাংলা হবে ভিয়েতনাম' স্লোগানটি হাস্যকর হয়ে পড়েছে, কারণ যেকোন পরিণামেই বাঙলা এখন ভিয়েতনাম হলে আমরা সবাই আনন্দিতই হব, কারণ সেই রক্তাক্ত ভিয়েতনাম এখন অগ্রবর্তী অর্থনীতির শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরী করছে।

[ ..... ... দয়া করে রাগান্বিত হবেন না, আমি নিজেও জন্মসূত্রে একজন বাঙালি। আত্মবিশ্লেষণ ছাড়া আত্মউন্নয়ন অসম্ভব। আত্মসমালোচনা আর আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে আসতে পারে আত্মউপলব্ধি, আত্মউপলব্ধির পথ ধরে আমরা শুধরে নেব আমাদের ভুল এবং সীমাবদ্ধতা। আমরা যদি না-ও পারি আমাদের উত্তর প্রজন্ম, পুত্র-কন্যারা কলঙ্কের কালিমা মুছে ললাটে এঁকে দেবে সাফল্যের কীর্তির রাজটীকা। আমরাও দাঁড়াব গর্বিত ও মর্যাদাসম্পন্ন জাতির সারিতে। আসুন, সেই সোনালী দিনের প্রত্যাশায় আমরা বুক বাঁধি।]

(ক্রমশ)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28964230 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28964230 2009-06-13 23:20:46
বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিজয়ে আমি কেন খুশি হতে পারি না ..
যেমন, আজকে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই সেল ফোনের নেটে বাংলাদেশের খেলার ফিক্সচারটা চেক করে নিলাম। প্রাতঃকালীন ক্রিয়াদি অর্ধসমাপ্ত রেখে টিভি দেখতে বসলাম। দাঁত না মেজেই দেখতে দেখতে নাস্তা। ঝিম মেরে বসে দেখছি। টিভিতে বিটিভি প্রায় দেখাই যায় না, ছবি সাদা-কালো দেখা যাচ্ছে, ঝাপসা আসছে, অবোধ্য কোন কারণে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে ছবি, ওপরের দিকে মাথা কাটা যাচ্ছে, সেই মাথার অংশটা আবার নিচে দেখা যাচ্ছে। তা-ই সই। গ্যাঁট হয়ে বসে থাকলাম। দেখবই। এর উপর আমার নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাকে দেখতেই হবে।

এত কষ্ট করে যখন খেলাটা দেখি, তখন সে দল জিতে গেলে আমার তো আনন্দিত হবারই কথা। স্বাভাবিক ! কিন্তু কেন যেন আমি একই সাথে বিষণ্ণ হয়ে পড়ি। সবকিছু তাল-গোল পাকিয়ে ফেলি। কোথাও আমার কোন সমস্যা হয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার বিজয়ের সাথে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের বিজয়কে গুলিয়ে ফেলি। আমার মনে হতে থাকে ভাষা আন্দোলনেও তো আমরা বিজয় পেয়েছিলাম, একাত্তুরে মুক্তিযুদ্ধেও, নব্বই এর গণ-অভ্যুথ্থানে, গেল বছর জানুয়ারীতে .. সব বিজয়ই তো বিকৃত হয়ে গেল, কিছুই ধরে রাখতে পারলাম না !! বিজিতই আজ বিজয়ীর পোশাকে সর্বত্রই অভ্যর্থনা পায়, রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায়, রাজনৈতিক পানশালায়, বুদ্ধিজীবী পাঠশালায়।

ধুর্‌, আমি খেলার ভেতর রাজনীতি টেনে আনছি, উৎসবের দিনে অর্বাচীন প্যাঁচাল পারছি। আমি আসলে মানসিকভাবে অসুস্থ ! না হলে কোথায় আমি আজকের দিনে রাজাকারের হাতে পতাকা দেখে খুশি হব, তা না, ছাপান্ন-সাঁইত্রিশ-সতের বছরের পুরান কাসুন্দি ঘাটছি। আজকের এই দিনে আমার উচিৎ এইসব ভুলে যাওয়া .. মন খুলে আনন্দ করা .. ঢাকার রাস্তার নতুন চটক বি এম ডব্লিও, লেক্সাসের মত উড়ে চলা, কিন্তু বিকারগ্রস্থের মত আমার চোখ আটকে যায় দোয়েল চত্বরের ফুটপাথে .. নগ্ন বিষণ্ণ শুয়ে থাকা শিশুর ক্ষুধার্ত মুখে -- সাঁইত্রিশ বছরের বাংলাদেশের বিজয়ের অর্জনের দিকে।

[আমার এই পোস্টটির কারণে আমি সকল সম্মানিত ব্লগারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। সবাইকে বিজয়ের অভিনন্দন।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28852779 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28852779 2008-10-09 20:39:56
চার-রঙা শুভেচ্ছার আতংক
আমিও পেতাম না, কিন্তু ইদানীং অন্য ধরনের একটা অনুভূতি হচ্ছে। শুভেচ্ছা, চার-রঙা শুভেচ্ছা পেয়ে ভয় পাচ্ছি, চিন্তায় পড়ে যাচ্ছি ... নিজের জন্য উদ্বিগ্ন হচ্ছি, আশ-পাশের মানুষের জন্য, অনাগত সময়ের জন্যও।

আবার সেই মুখগুলো, অতি চেনা, অতি পরিচিত, অতি ভয়ঙ্কর।

গেল ঈদে কিন্তু তাঁরা আমাদের শুভেচ্ছা জানাননি, বলা ভাল জানাবার অবকাশ পাননি। কথায় বলে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম ... গত ঈদে নিজের মালকোঁচা সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন তাঁরা, তাই তাঁদের প্রাণাধিক প্রিয় এলাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছার দাঁতাল হাসি উপহার দিতে পারেননি। তবে এবার ঘটনা ভিন্ন, পথে বেরোলেই এমন শুভেচ্ছা বাণী নিশ্চয়ই আপনারও চোখে পড়ছে -- চার-রঙা পোস্টার, আকর্ণ বিস্তৃত হাসি দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ছবির ব্যক্তিটি - স্থানীয় বিশিষ্ট নেতা-পাতি নেতা এঁরা, অনেকেই কমিশনার, মাননীয় জনপ্রতিনিধি। যাঁদের নিরলস এবং ঐকান্তিক সেবায় দু' বছর আগে অবধি আপনার-আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত ছিল। কত না সেবা করেছেন তাঁরা আমাদের ! আমার আপনার সুবিধার জন্য সরকারী রাস্তার উপর বাজার তৈরী করে দিয়েছেন, যাতে অফিস-ফেরতা মানুষের কষ্ট করে বাজারে যেতে না হয়, আবার অন্যদিকে যাতে দরিদ্র সবজিওয়ালা-মাছওয়ালা-মুদি দোকানীরা নির্বিঘ্নে সেখানে ব্যবসা করতে পারে তার জন্য দৈনিক নজ্‌রানার বিনিময়ে ব্যক্তিগত পেটুয়া বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা দিয়েছেন। কত না জনদরদী নেতা তাঁরা ! কোন জায়গা-জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকলেই তা দখল করে নিজের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছেন, তা না হলে নাদান জনগণ নিজেদের ভেতর লাঠালাঠি, মামলা-মোকদ্দমা করে ফ্যাসাদ-হাঙ্গামা করত ! তারচে' জনগণের সম্পত্তি জনপ্রতিনিধির হাতে থাকাই ভাল। কোন ঝুট-ঝামেলা নেই, শুধু কোন অর্বাচীন কিছু বলতে গেলে একটু ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দিতে হবে। তাঁদের জনসেবার ফিরিস্তি দিতে গেলে আরব্য রজনীর হাজার রাত পার হয়ে যাবে, তবু তা বলে শেষ করা যাবে না; সুন্দর বনের সব গাছ কেটে কলম তৈরী করে, আর বঙ্গোপসাগরের সব পানিকে কালি বানিয়েও তাঁদের কীর্তি লিখে শেষ করা যাবে না। এমনই কীর্তিমান মহামানব তাঁরা ! ভেবে দেখুন, আবাসন সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁরা কত কিছু করেছেন - সরকারী জায়গা দখল করে বস্তি বানিয়ে সামান্য ভাড়ার বিনিময়ে গরীব মানুষগুলোকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আহারে ! ব্যাংকে পড়ে থাকা অলস টাকাগুলো নিয়ে ব্যক্তিগত উন্নয়নের কাজে লাগিয়েছেন। আরে, ব্যক্তির উন্নতি মানেই তো দেশের উন্নতি, আর সরকারী ব্যাংকের টাকা মানেই তো জনগণের টাকা, নিজের টাকা, সেটা আবার ফেরত দিতে হয় নাকি ! আবার ধরেন কোন ছেলেমানুষ সন্ত্রাসী না বুঝে এক-আধটা খুন করে ফেলেছে, নয়ত ধর্ষণ। এলাকার এই কৃতি সন্তানকে রক্ষা করা তো তাঁরই কর্তব্য, তাই না ? তিনি তো সবার নেতা, সবার ভাল-মন্দ, বিপদ-আপদ তো তাঁকেই দেখতে হবে। আর এই উঠতি বয়সের সৈনিকদের একটু-আধটু হাতখরচের দরকার পড়ে না ? এলাকার সবাই মিলে ভাগ-যোগ করে দিয়ে দিলেই তো হয়ে যায়, তাহলেই আর ওদের চাঁদাবাজি করতে হয় না ! তাছাড়া প্রতিরাতেই ওরা যেয়ে তাঁর কাছে হিসাব দিয়ে আসে। বেশীটা অবশ্য তিনিই রেখে দেন, ছেলে-পেলে মানুষ, ওদের হাতে বেশী টাকা-পয়সা দেয়া ঠিক না, অভিভাবক হিসেবে এটা দেখাও তো তাঁর কর্তব্য।

যাই হোক, এই দু' বছর তাঁরা আমাদের সেবা না করতে পেরে অনেক কষ্টে ছিলেন, বিদেশ-বিভুঁইয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, কেউ বা আবার কারাবিশ্র্রামে ছিলেন লাল ঘরে। তবে মূহুর্তের জন্যও তাঁরা আমাদের কথা বিস্মৃত হন নাই, কবে ফিরে আসবেন, কবে আবার নতুন করে আমাদের সেবা করা শুরু করবেন, সেই চিন্তাতেই অস্থির হয়ে ছিলেন সর্বক্ষণ। অনেক দিন তাঁদের সেবা না পেয়ে সেবা পেতে অনভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, তাই এই নির্বাচনের মৌসুমে নতুন করে তাঁদের 'এসে গেছি মামুজান' মার্কা দাঁতাল হাসি আর ঈদ শুভেচ্ছা পেয়ে ভয় পাচ্ছি। দু' বছরের না-করা সেবা দিয়ে এবার হয়তো তাঁরা পুষিয়ে দিবেন, চার-রঙা পোস্টারের বিনিয়োগ সেই ইশারাই দিচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28851643 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28851643 2008-10-06 21:04:37
জবানবন্দী (আজ আমি একটা খুন করব) আজ আমি একটা খুন করব।
আপনার বিচারালয়ের সমস্ত মহান আইন
দিয়ে আমার বিচার করুন।
আমাকে ৩০ লক্ষ বার
ফাঁসির যূপকাষ্ঠে মৃত্যুদন্ড দিন।
তবুও,
মাননীয় ধর্মাবতার,
আজ আমি একটা খুন করব।

মাননীয় ধর্মাবতার,
আমার জন্মদাতা পিতা
আপনার আদালতের একজন আইনজ্ঞ ছিলেন।
সুতরাং, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা
আমার মজ্জাগত।
তবুও,
মাননীয় ধর্মাবতার,
আজ আমি একটা খুন করব।

কেননা,

মার্চের ২৫ টি সূর্যোদয়, ২৫ টি সূর্যাস্ত, ২৫ টি চন্দ্রালোকিত রাত
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
সেই অভিশপ্ত রাতে নিহত পবিত্র আত্মারা
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
আমার স্নেহময়ী জন্মদাত্রী
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
মসজিদে মসজিদে মিনারের প্রশান্তি
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
পাদ্রীর শুভ্র হাসি
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
বুদ্ধের প্রগাঢ়তম মৌনতা
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
ইতিহাসের দুর্লঙ্ঘ্য পাপ
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ....
আমার উথ্থিত শিশ্ন
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...
আমার সংগমরত স্ত্রী
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ....
আমার সন্তানের নিষ্পাপ হাসি
আজ আমাকে খুনী হতে বলে ...

কেননা,

মাননীয় ধর্মাবতার,
আপনার নপুংসক আইন সেদিন
সেইসব জলপাই রংয়ের হায়েনাদের
পথ রোধ করে দাঁড়ায়নি।
আপনার নপুংসক আইন সেদিন
যন্ত্রদানবের ছুঁড়ে দেয়া গোলার
সামনে আশ্চর্য্য নির্লিপ্ত ছিল।
আপনার নপুংসক আইন সেদিন
বেয়নেটের সুতীক্ষ্নতার সামনে
অন্ধ হয়ে ছিল।

মাননীয় ধর্মাবতার,
মাননীয় ধর্মাবতার,
মাননীয় ধর্মাবতার,

গত সাঁইত্রিশ বছর ...

আমি নিদ্রাহীন কাটিয়েছি।
ত্রিশ লক্ষ বীরের আত্মারা
প্রতিনিয়ত চিৎকারে
আমাকে প্রতিশোধ নিতে বলেছে।

আমি দৃষ্টিহীন হয়ে ছিলাম।
আমার ধর্ষিতা বোনের আর্তনাদ
ইথারে ইথারে প্রতিধ্বনিত হয়ে
আমাকে প্রতিশোধ নিতে বলেছে।

আমি অভুক্ত থেকেছি।
অভিমানী পঙ্গু মুক্তিসেনা
নিভৃত গোপন অস্ফুট স্বরে
আমাকে প্রতিশোধ নিতে বলেছে।


(ঈশ্বর সহায় হউন)
হ্যাঁ, আজ আমি একটা খুন করব।

খুন করব
খুন করব
খুন করব
-- একটা নরাধম স্বদেশী ঘাতক।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28782775 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28782775 2008-03-26 20:54:16
কবিতা-সংগম উদলা চাঁদের দস্যু আলোয় নগ্ন রাতে
হাত রেখে তোর দুই পাহাড়ের গিরিখাদে
ছেনে দেখি স্বপ্নছোঁয়া কোমলতার নরমটুকু
বৃন্ত ছেঁড়া পদ্ম ফুলে কাল নাগিনীর মরণ ছোবল।

আয় দেখি তোর ঢালু উঠোন,
হড়কে যাওয়া শরীর-কাঁপন
নাভিমূলের বাতুলতা পরশ পাথর।
ওইখানে ওই সোনার ত্রিভুজ ফাঁদ পেতে রয়
পোতাশ্রয়ের গুপ্তধনে। ক্রিট নগরীর দুর্গ দুয়ার
তার আড়ালেই কন্যা তোমার উথাল-পাথাল স্বপ্ন-কেলী।

সাতমণী ঢেউ আছড়ে পড়ে তুফান সাগর,
আমার সারেং সন্তরণে পরিশ্রমী মাঝ দরিয়ায়,
পাগলা ঘোড়া পাগলা সুরা সপ্তপদীর প্রলয় নাচন
রাতের পালায়। আদিম চাষের লাঙল টানি চতুর্দিকে
ভেঙে-চুরে উঁচু-নিচু জমির আদল। সুখ-পাহাড়ের শীর্ষ-চূড়ায়
নিষ্ঠুরতার কাব্যগাঁথা। পুন্ড্র জয়ে সুখ-বিলাসী রাগমোচনের মাতাল
হাওয়া। ঝড়ের পরে শান্ত বাতাস ক্লান্ত নদীর একূল-ওকূল গভীরতা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28777864 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28777864 2008-03-10 00:25:30
অনুভূতিগুচ্ছ (প্রথম পর্ব)
সময়ের সম্ভোগ শরীরের
প্রাণের ভিতর ...
প্রাণের ভিতর এক সাধ পুকুর-জল
স্তনে নেই সহবাসের দাগ।
গীতান্জ্ঞলি ছন্দের পয়ার এক ধুন্ধুমার দুপুর,
সময়ের সম্ভোগ এই আত্মার শরীরে আজ

অনুভূতিগুচ্ছ-২

বিহ্বলতা কাটে নাই কোন,
কাটে না কোনখানে,
এখানে ওখানে, সময়ের উদরে,
উচ্ছিষ্ট হয়ে রয় বহমান শোক
জীবনের আনাচে-কানাচে ...
পথের ধুলোয়,
ধোঁয়ায় ...
কিন্নর কামে,
বিহ্বলতা কাটে না
উচ্ছন্ন চেতনায়।

অনুভূতিগুচ্ছ-৩

আকাশে ছড়ানো অন্ধকারে
বৃক্ষের মায়া,
হাতের চেটোর ঘাম
লেগে আছে তাতে,
অধ্যবসায়ী ল্যাম্প পোস্টের
আলো ঝরে
দু' জনার গায়ে ... আমাদের ... রাজপথে আকাশের নীচে ...
প্রতীক্ষার অনুক্ষণ কামে।

অনুভূতিগুচ্ছ-৪

আমি বেঁচে থাকি বলেই,
বাঁচে উন্মত্ততা,
উদ্দাম বেঁচে থাকে অস্থিরতায় ... শিশিরের উপর,
মাড়িয়ে যাওয়া ঘাসের ডগায় ... গ্রেনেডের প্রকোষ্ঠে ...
চোখের তারায় হঠাৎ ঝলসে ওঠা আগুনের স্ফুলিঙ্গে ... আমি বেঁচে থাকি ...
তোমার অরণ্যে।

অনুভূতিগুচ্ছ-৫

উদাসীন ক্ষরা,
দ্রোহ,
দেহ ভঙ্গিমার মদির সুরা ছুঁড়ে ফেলে নর্দমায়,
প্রকৃতির জরা-যৌবন প্রকৃতিরে জড়ায়,
বর্ষার শেষ ফুল ফুটে যাবে ঝরে
বসন্তের মলিন পাতার মতন
অভিলাষ নিয়ে,
আমি ধরে থাকি
পাল-মাস্তুল-রাবণ জাহাজ ঝঞ্ঝায় মাতাল জলে --
উদাসীন দ্রোহে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28775201 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28775201 2008-02-29 21:12:01
ভ্রাতৃব্য

এই রাতে। অবসন্নতার বুদ্বুদে, শহরের ক্লান্ত আলোগুলো
জেগে আছে। অন্ধকার খোলস ছেড়ে জায়গা করে নিচ্ছে বাতির
নিচে, এখানে সেখানে -- যেখানে সম্ভব। নিঃসীম কালচে
আকাশে পুরনো নক্ষত্রগুলো নিয়নের মতো। অধরার
প্রত্যক্ষের প্রাচীনতায়, জীবনের পৌনঃপুনিক আয়োজন।
রাতের বালিশে ঢলে পড়া প্রাত্যহিক মৃত্যু, অনিমেষ
সাধনা, নর-নারীর সংগম, ঈশ্বরের প্রার্থনা, নরকের
দামে কেনা অশুদ্ধ জীবন। বেড়ালের পায়ের মতো নিঃশব্দে
হু হু হাহাকার তাদের পাঁজরে ঢুকে পড়ে, গুটিসুঁটি মেরে।
তারা, তাঁহাদের অন্তর্গত, একাংশ, ভ্রাতৃব্য। যখন, আদিতে,
তাহারা সকলেই ছিল ঈশ্বরের সাধ, সাধের ক্রীড়নক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28774084 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28774084 2008-02-25 23:43:40
যখন প্রত্যাবর্তন আহত রোদের উপস্থিতি পারে না ঠেকাতে,
অলুক্ষুণে শকুনের ডানায় ঢাকা পড়ে
বিস্তীর্ণ জলরাশির প্রসারিত বাহুর
উদার আকাশ। মধ্যরাতের গণহত্যার
প্রত্যক্ষদর্শী ছিলো যে আরশোলা,
মর্মন্তুদ সেই আর্তনাদ মেনে নেয়া
ছাড়া তার করার থাকে না
কিছুই। রোমকূপের গলি-ঘুঁপচির
ক্লেদ তুলে নিচ্ছে যখন অস্থিতিশীল
জিহ্বার প্রকট আগ্রাসন, বকুল গাছের স্বপ্নে বিভোর
তুমি, সেভাবেই জেনে যাও উনিশ শ' পঁয়তাল্লিশে
হারিকিরির ব্যর্থ আস্বাদ। আমার শরীরেও আছে
সূর্য্যের আগুন, আণবিক বিস্ফোরণে
মৃত্যুন্জ্ঞয়ী কৌশল। তবুও অবধারিত --
শকুনের ঢেকে দেয়া
আকাশ, হত্যাযজ্ঞের নির্মোহ সাক্ষ্য।

কখনই হব না আমি ভাগ্যবান জুয়াড়ী তাসের
খেলায়। অঙ্গদে খোদিত গন্তব্যে
পৌঁছে দেব তোমাকে, গভীর বুননের
উষ্ঞ কাঁথার অন্তহীন প্রোথিত বিশ্বাসে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28773130 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28773130 2008-02-22 22:28:32
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারাতে পারে না নষ্ট সময়ে
''Dear General Jamshed,
My wife Khaleda is under your custody. If you do not treat her with respect, I would kill you some day.
Major Zia''

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বেগম জিয়া পাকিস্তানীদের হাতে অন্তরীণ থাকাবস্থায় তৎকালীন পাকিস্থানী সেনাপতি মেজর জেনারেল জামশেদকে চিঠিটি লিখেছিলেন মেজর (পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল) জিয়া। 'জেড' ফোর্সের কমান্ডার এই সেনানায়ক ছিলেন একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দেখেছি তাঁর হাতেই ছিন্ন-ভিন্ন হয়েছে আমাদের মৌলিক সংবিধান, তিনিই রাজাকারদের পুনর্বাসিত করেছেন, রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন।

দুই.

ষোলই ডিসেম্বর সকালে ঢাকায় পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের হেড কোয়ার্টারে ভারতীয় মেজর জেনারেল নাগরা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজীর সঙ্গে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর পরিচয় করিয়ে দেবার সময় নিয়াজী করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী এই বলে প্রত্যাখান করেন যে, ''নারী এবং শিশু হত্যাকারীদের সঙ্গে আমি করমর্দন করি না''।

মুক্তিযুদ্ধের ছত্রিশ বছর পরে যখন টেলিভিশনে তাঁকে দেখি সরকারী খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে বাগান বাড়ি বানাতে, পত্রিকার পাতায় দেখি অর্ধ সমাপ্ত সেতুর দুর্নীতির চিত্র, তখন মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানীর জন্য আমাদের গভীর দুঃখ বোধ হয়।

তিন.

''সৈন্যরা তোমরা আমার ভাই। তোমরা ব্যারাকে থাকো, তোমাদের কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু আর তোমরা গুলি করার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। রক্ত যখন দিতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। ... ... এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।'' --- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

যে ক্ষণজন্মা পুরুষ এই বাঙালি জাতিকে দেখিয়েছিলেন মুক্তির স্বপ্ন, শুনিয়েছিলেন গণতন্ত্রের বাণী, সেই তিনিই হত্যা করলেন গণতন্ত্রকে, এগিয়ে চললেন একনায়কতন্ত্রের পথে ! মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারী 'নিঃসঙ্গ সারথী' তাজউদ্দীনকে বরখাস্ত করলেন।

চার.

যাঁরা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক-মহানায়ক-স্থপতি, তাঁরাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লাল-সবুজ ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন -- ক্ষমতালিপ্সায়, অসততায়, ভ্রান্তিতে। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা -- কোথায় আজ সেইসব সোনালী অর্জন ? সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের দোসর হয় একাত্তুরের বিশ্বাসঘাতক পরাজিত অপশক্তি, অপরপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতার কাঁধে সওয়ার বিশ্ব বেহায়া, চুক্তিনামায় লাইসেন্স দেয়া হয় ফ্রী স্টাইল ফতোয়াবাজির। যুদ্ধাপরাধীর গাড়ীতে শোভা পায় জাতির আব্রু -- আমার পতাকা।

পাঁচ.

আজ এই জনপদের প্রতিটা প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে পান্ডু রোগ পীত বর্ণে। প্রতিটা সূর্যাস্তে আমার ভেতর থেকে বের হয়ে আসে চেপে রাখা হতাশার দীর্ঘশ্বাস ... ত্রিশ লক্ষ শহীদের এনে দেয়া একটি অমূল্য দিন চলে গেল, যায়, গেছে। ছত্রিশ বছর কাটল, স্বপ্নটাকে ছুঁতে পারলাম না আমি, আমরা। বিভ্রম হয় -- আদৌ কি কোন স্বপ্ন ছিল আমাদের, কখনও ? থেমে যাব বলেই কি আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম ?

ছয়.

'৭১-র পর '৯০, ঊনিশ বছরের ব্যবধানে আমাদের অর্জন গণতন্ত্র, একটি প্রজন্মের প্রতীক্ষা, আবার '৯০ থেকে '০৭, সুদীর্ঘ যন্ত্রণার দেড় যুগ, একটি বৈষম্যহীন সময়ের স্বপ্নে উত্তরণ, চলে যাচ্ছে এই প্রজন্মের মাহেন্দ্রক্ষণ ... না, হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখিনি, আমরা আর বেঁচে থাকব না নষ্ট সময়ে। প্রতারিত হতে চাই না আর নীতিহীনতায়। মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারের চেতনা আমাদের ধমনীতে। আসুন, ঘুরে দাঁড়াই -- এবারের ব্যর্থতা আবার আমাদের ছুঁড়ে ফেলবে স্বপ্ন থেকে আরেক প্রজন্ম দূরে। আমরা আবার হারিয়ে যেতে চাই না কালের অতল গহ্বরে।

[বঙ্গবন্ধু নামের মহান মানুষটির দেশপ্রেম এবং সদিচ্ছা নিয়ে আমার কোন দ্বিধা নেই, রাজনৈতিক কর্মপদ্ধতির ব্যাপারে হয়ত মতদ্বৈধতা থাকতে পারে -- দয়া করে এই প্রসঙ্গে কেউ আমাকে ভুল বুঝবেন না।]

সূত্র :

*রক্তে ভেজা একাত্তুর -- মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম
*বাংলাদেশের তারিখ -- জাস্টিস মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
*জোছনা ও জননীর গল্প -- হুমায়ূন আহমেদ
*দৈনিক প্রথম আলো
*প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'তাজউদ্দীন আহমদ : নিঃসঙ্গ সারথী'
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28773094 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28773094 2008-02-22 19:25:34
আঁধারে আলোকিত পাপ আমি বসে আছি ঘষা জ্যোৎস্নায়।

চুঁইয়ে পড়া রোদ্রের ক্যানভাসে
কিংবা নদীর নীলাভ জ্যোৎস্নায়
শুকোয় না সে ক্ষত,
যদি না সর্বনাশী
তোমার আগ্রাসী ঠোঁটে
দাও আবেগের চুমো।

আকাশের নীচে মর্ত্যের মানুষের প্রতারণা
তোমার অবিশ্বাসে পুড়ছে কবির চুরুট।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28769768 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28769768 2008-02-12 22:59:39
নির্লজ্জ সংশপ্তক প্রাকৃতিক শ্লেষ। ওষ্ঠ আর অধর
অবিশ্বাসী হয় বিশ্বাসের পারস্পরিক
প্রতিক্রিয়ায়। শরীরের রসায়ন খুলে
যায় নিষিদ্ধ আন্দোলনে, অন্তর্নিহিতে।

সুবাসিত নিকোটিন তামাকে আগুনে পোড়ে,
পোড়ায় তোমাকে। নীরব ঘাতক নির্নিমেষ
চেয়ে দ্যাখে, ঘাতকিনী কেড়ে নেয়
তার শিকার, মুখর জিঘাংসায়।

সূর্যের উষ্ঞ আলিঙ্গন
ভোলে ঘর্মাক্ত শরীর
নিরোর বাঁশি বেজে যায়, মেঘলা
দুপুরে -- কুহকিনীর মায়ায়
নৌ-বিহারে -- এক নির্লজ্জ সংশপ্তক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28768347 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28768347 2008-02-08 20:07:50
কবি ব্লাউস বডিস ... ...
আমার কলম দুরন্ত অস্থির ... ...
অস্থির তোমাকে ছুঁয়ে, তোমাকে খুলে ...
থড় থড় চুমু।। কালবোশেখী ভেঙে চুরে।

পার কি থামাতে আমার আমাকে ??
হিসেবী নারী ?

ফসকা গেঁড়ো ... শায়ার ফিতে ...
আমার কাগজ আবেগে চৌচির ... ...
তোমাকে লুটে ...।। উথাল নদী।

জান কি ফেরাতে আমাকে তুমি ??
অহংকারী ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767780 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767780 2008-02-07 00:18:42
ব্যাধি তার চোখের তারা স্বচ্ছ বাতাসে। সৌম্য
জলাভূমির তরুণ প্রাক-মধ্যাহ্ন, সবুজ
রুক্ষ বাদাড়, প্রতিফলিত আলোর
নিকানো ঘোরে, দুর্বৃত্ত
হয়ে, সমুদ্র হয়ে, জল আর পাখি হয়ে
বাড়ুক নিষিদ্ধ ব্যাধি, ধমনীর উত্তরাধিকারে।
গাঢ় মৃত্তিকায়। স্তিমিত নদে
সুঘ্রাণ লেগে আছে গর্জনের, তীরবর্তী ভীড়ে।
গৃহস্থের সুনিশ্চিত ফসলের আবাদ নয়,
তবুও, চিত্রা নদী বিধৌত
শরীর আজ পাললিত হয়-
বিক্ষুদ্ধ নদে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767762 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767762 2008-02-06 23:42:45
পিতার স্নেহময় মাতৃভূমি এই রাহুগ্রস্থ সময়ের ধূসরতা, প্রাণের বাঁশরী
তোমার কল্যাণময়ী অনন্ত হাত, হাতের আঙুল,
মাদক তরলে। ক্ষয়িষ্ঞু শরীরে বিপ্লবের
প্রকট গন্ধ। আমার লোহু সিক্ত ভূমির মাটি
পিতার বীর্যের উত্তরাধিকারে সিঞ্চিত মাতার জরায়ুতে
উষ্ঞ প্রণতি। সর্বগ্রাসী ব্যাধি আমার ভিতর -- সংক্রামিত
সঞ্চালিত এই জনপদে রন্ধ্রে রন্ধ্রে পান্ডু রোগে।

এই সবুজ দেশ, আমার প্রণয়ীর ছিনাল
উঠোন, পিতার স্নেহময় মাতৃভূমি। গাছের
পাতায় সব আগুনের ফুল, ঠুলি পরা চোখে দেখি
বিষণ্ণ সকাল। রৌদ্রময় দেশের কামাতুর প্রতীক্ষার
বাসনায় দহিত রাতে তীব্রতম লালসায় আমি অপ্রস্তুত
মেনে নিতে অপেক্ষার কোন প্রহর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767406 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767406 2008-02-06 00:48:27
অবিরাম সুকান্ত বেঁচে থাকা পদব্রজের মধ্যাহ্ন ঘাম

এই অপরিমেয় বেঁচে থাকা
কংকালে জমা পানশালার কোলাহল

এই দুর্বিনীত বেঁচে থাকা
আঙুল কেটে লিখেছিলাম বিপ্লবের গান

এই অবাধ্য বেঁচে থাকা
অনাহারী জঠরে ভুলি নাই কাম
(যোনিতে ধাবিত যৌনাঙ্গের ক্রূরতা)

এই উজ্জ্বল বেঁচে থাকা
চোখের তারায় অশীতিপর বৃদ্ধের জ্ঞান

এই অপরাজেয় বেঁচে থাকা
ফুসফুসে ভরা মাদকের ঘ্রাণ

ক্লান্তিতে-উদ্দামে-প্রতিজ্ঞায়
মমতায়-প্রজ্ঞায়-অস্থিরতায়
এই সুকান্ত বেঁচে থাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767385 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767385 2008-02-05 23:27:39
অনড় অপরাহ্নে অক্ষমতা ঈষৎ নুয়ে যাওয়া ক্লান্ত
দুপুরের উদ্যানে।

একাকীত্ব বড় বেশী সঙ্গ দেয় নিঃসঙ্গতাকে অবিরাম
এবং সঙ্গী হয় শরীর এবং আমার অপুষ্ট আত্মার।
পরিব্রাজক হাওয়াদের বয়ে আনা বিষাদের কটু গন্ধ নাকে বাজে-
আকাশগুলি আবছা আকাশী।

ভাবনারা মস্তিষ্কের খাঁজ এবং ঢালগুলি বেয়ে এসে
করোটিতে লাথি মেরে
ফিরে ফিরে যায়।
মুক্তি, রূপ এবং অবয়ব চায়।

অনড় দুপুর এবং আমার অক্ষমতা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767290 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28767290 2008-02-05 16:33:32
অতুল যৌবন অপরাহ্ন অঝোর ধারা। শ্রাবণ কিংবা আষাঢ়ের,
অথবা গ্রীষ্মের প্রখরতায় চৌচির খরায়
তুমি বিস্মৃত হয়ো না প্রিয়তমা, উদাস
শরৎ বা মলিন শীতে, নতুন বসন্তের বেদনায়
তুমি বিস্মৃত হয়ো না প্রিয়তমা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার
অলস ভাবনায়, না দেখায় কাতর তুমি--
তুমি বিস্মৃত হয়ো না প্রিয়তমা, অতুল
চাউনি ভুলে তোমার গোছান পৃথিবীতে
অবহেলায়, কাটিয়ে সাঁঝের নিকষ আঁধার
তুমি বিস্মৃত হয়ো না প্রিয়তমা, অতুল
যৌবন অপরাহ্ন অপলক শীতল চোখের।
তুমি বিস্মৃত হয়ো না প্রিয়তমা----আমার আদি,
অন্ত,
গন্তব্য,
পৃথিবী তুমি প্রিয়তমা আমার,
বিস্মৃত হয়ো না
রাগে,
ঝড়ে,
শোকে,
কখনও অকারণ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28766744 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28766744 2008-02-03 23:58:27
পরকীয়া কথা দিচ্ছি দ্রোপদীর বেদনা তোমাকে ছোঁবে না।
যদি তুমি সীতা হও আমি হব লংকাপতি রাবণ
হৃৎপিন্ড স্পর্শ করে বলছি--ভবিতব্যে তোমার সীতার কষ্ট লেখবে না কেউ।
অ্যাফ্রোদিতের বরে পাওয়া অপরূপা হেলেন তুমি হলে
আমি অবশ্যই লম্পট প্যারিস,
ঈননকে ভুলে যাব একদম--ট্রয়ের শপথ।

প্রিয়দর্শিনী, প্রিয়তমা, পরকীয়া।
"আমি তোমার চোখে দেখেছি আমার সর্বনাশ।"

এই বুকের ভেতর কত রুদ্র শহীদুল্লাহ্‌ জন্মে আর মরে
তুমি দেখতে পেতে যদি
তারচে' বরং তুমি
হৃৎপিন্ডটাই নাও, উল্টে দেখ
কতটা ভালবাসা তাতে ধরে
কতটা আকাশ-নদী-জল-পৃথিবী
তৃষিত ধীবরের মতো
অনন্ত প্রতীক্ষায় তোমার;
হৃৎপিন্ডের মায়োকার্ডিয়ামে কত-শত গুল্ম-বল্মীক আপ্রাণ
সংগ্রামে বেঁচে থাকে তোমার
ভালবাসা পেতে।

প্রিয়দর্শিনী, প্রিয়তমা, পরকীয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28766492 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28766492 2008-02-03 00:19:40
প্রেয়সীর কাছে নাই। দিগন্ত দূরত্বে টিয়া রঙ
পাখির ডানায় ক্ষীণমান সোনা রোদ
খেলা করে ... । যাহা তুমি শুনিয়াছ, যাহা
তুমি শোন নাই। হারানো পথেই
তুমি হারিয়েছ পা। যে পথে যীশু যান
নাই। ঈশ্বরও না। --ঘর্মাক্ত সূর্য্যের
ছায়ায় জলহীন বালিভূমি। মৃত্যু
অনিবার্য, আদিম -- সংগমের মত
বিলক্ষণ, জীবনের মত তার স্বাদ।

মৃত্যু, সংগম, জীবন ... কে অনুজতম ?

আকন্ঠ দেহ ভরি পান করি পিয়াসী
পথিক কি চিনিতেছ পথ ? প্রতিদানে,
আঁজলা ভরে দাও সুমিষ্ট গরল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28765272 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28765272 2008-01-29 14:58:54
সন্ত্রস্ত সায়াহ্ন সংলাপ হাতের আঙুলে কড়া পড়েছে।
অর্ধসমাপ্ত ক্যানভাসে বিমূর্ত শিল্প
দুর্বোধ্য, দুর্দান্ত,
এখন আর ছবি আঁকতে পারি না।

নিপুণ শিল্পীর মত সব্যসাচী
প্রকৃতি একে একে পেরেক ঠুকে
বন্ধ করেছে অনুভূতির
দরোজা-জানালা।

দৃষ্টি তার পঙ্গুত্ব পেয়েছে গ্লুকোমায়।
ডাক্তার দেখিয়েছিলাম, বলেছে,
অন্ধত্বই এর শেষ পরিণতি।

বুকের ভেতর কোথাও বেজে চলা
যৌবনের ঢাকটা শুনতে পাই না আজ আর।
বোধ হয় বধিরই হয়ে গেছি।

দৈনন্দিন কর্মসূচী সংক্ষিপ্ত হতে হতে
শূন্যের কোঠায়।
প্রিয় বসনার কম্পমান স্তন থেকে
ইতস্ততঃ হাতে ব্রেসিয়ারের ফাঁস উন্মোচন
নারী আর প্রকৃতির যৌগিক সংশ্লেষণ
পুরাঘটিত অতীত আজ।
ক্রিস্টাল স্বপ্নগুলো বড় বেশী মোহময় এবং দুর্মূল্য
মনে হয়।

সমসাময়িক বার্ধক্য আর জাড্যতার
কী ভীষণ প্রতাপ বহুল ব্যবহৃত এই শরীরে।

মরচে পড়া কবাটের মতো আস্বাদহীন ঠেকে
রূপ-রস-গন্ধ, ফুলের পরাগ
কিংবা নারীর যৌবন।

পান্ডুলিপি হাতে নিয়ে
আপন সন্তানের আদি পিতৃত্বে
গহীন ভেতরে শংকিত সন্দিগ্ধ হয়ে পড়ি।
তাই আজকাল,
আর কবিতা লিখতে পারি না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28765262 http://www.somewhereinblog.net/blog/thegamblerblog/28765262 2008-01-29 14:50:19