রূপ কথার গল্পটা (যদিও অতটা রুপবতী না) লেখা ২/৩/২০০৫ তারিখে, বর্তমান সময়ে গল্পটা সামান্য একটু কনভার্ট করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আসল কাহিনী একই থাকায় তা করা হই নি।(আসল কাহিনী হচ্ছে কুড়েমির কারণে)।
আমার বিশ্বাস- ছাগা ভাদা কিমবা আমার মতন হাম্বা যেই গল্পটা পড়ুক না কেন, মূল কাহিনী বুঝতে কোন সমস্যা হবে না।
২৫ শে মার্চ নাকি ১৫ই ডিসেম্বর ঠিক কোন দিনটা তা ঠিক জানি না, সারাদিন হাড় হাঙ্গা খাটুনির পর দুজনেই খুব ক্লান্ত। আজকের দিনে আরো কিছু কাজ করার দরকার ছিল। কিন্তু আগামী কালের কাজগুলো আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ, তাই আজকে একটু বিশ্রাম নিতেই হবে।
কাজেই যেটুকু না করলেই নয়, এমন সব কাজ করে ঠিক আটটার সময় যার যার বাড়ীতে ফিরে আসেন তাঁরা। টেবিলে খাবার রেডি করা হয়, কিন্তু দুজনের কেওই খেতে পারে না। আজকে সূর্য ডোবার পর থেকেই তাদের মনের মধ্যে কেমন কেমন যেন করতে থাকে। যাই হোক, বেশি দেরি করা যাবে না, বিছানায় শুতে যান দুজন, কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসে না। যতদূর সম্ভব রাত বারোটার দিকে তাঁদের একটু একটু ঝিমুনির ভাব আসে, কিন্তু প্রায় একই রকম একটা খারাপ স্বপ্ন দেখে দুজনেরই ঘুম ভেঙ্গে যায়। রাতে আর ঘুম আসে না। মসজিদ থেকে আযানের সুর ভেসে আসে। খামোখা আর ঘুমানোর চেষ্টা করে লাভ নেই, কাজেই অজু করে দুজনেই নামাজ পড়তে বসেন। এই সারা রাতের মধ্যে নামাজের মধ্যেই তাঁরা একটু শান্তি খুজে পান। এর আগে শেষবার হজ্বে গিয়ে যে নামাজ পড়েছিলেন, তার মধ্যেও এত শান্তি খুজে পান নি। যাই হোক, রাতের স্বপ্নটাই আবার তাঁদের মাথার মধ্যে লাটিমের মতই ঘুরতে থাকে। সেই একই জায়গায়, একই রকম, একঘুয়ে বো বো শব্দ করে। তাঁরা বুঝতে পারেন- আজকে কোন কাজই ভাল মতন করা সম্ভব নয়। কাজেই দুজনই আজকে জীবন থেকে পালাবার চেষ্টা করেন। তাঁদের মনের মধ্যে একটা চাপা দুঃখ সুনামির মতই সব কিছুকে লন্ড-ভন্ড করে দেয়। কেন ? তাঁরা আজকে একা একা বাস্তায় বের হতে পারে না। আজকে তাঁদের খুবই একা একা ঘুড়ে বেড়াতে ইচ্ছা করে, কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব-
চট করেই প্রথম জনের মাথায় একটা বুদ্ধি এসে যায়। বোরখা পরে বের হলেতো- কেও তাঁকে চিনতেও পারবে না, আর কোন সমস্যাও হবে না। কিন্তু বোরখা কোথায় পাওয়া যায়। হুকুম দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বোরখা এসে হাজির হবে। কিন্তু, কাওকেই জানাতে ইচ্ছা করে না। হঠাৎ, এই সমস্যারও একটা সমাধান এসে যায়। তাঁর একটা মহিলা সারভেন্ট বোরখা পরে। সেটা পরে বের হলেই সবচেয়ে ভাল হয়। কেও আর অন্য কিছু সন্দেহ করতে পারবে না। রাস্তায় সাধারণ মানুষেরা ডাইবেটিকস রোগীই মনে করবে। কাজেই বোরখাওয়ালীকে ম্যানেজ করতে পারলেই হয়। যাই হোক চাকরি ভয় না দেখিয়ে, বেশ কষ্ট করে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বোরখাটা ম্যানেজ করে, মেকাপ ছাড়াই ১ম জন বেরিয়ে পরেন রাস্তায়। আজ নিজেকে বেশ মুক্ত আর স্বাধীন বলেই মনে হয়। তা বটে, ঢাকা শহরে যানযট বলে যে জিনিসটা আছে, তা কখনই সামনা সামনি দেখতে হয় না তাঁকে। কিন্তু অন্য দিনের ফাঁকা ঢাকার চাইতে আজকে ঢাকা অনেক বেশি মুক্ত আর স্বাধীন বলেই মনে হয় তাঁর কাছে।
ভোর ছয়টা বাজে, হাটুর ব্যাধাকে উপেক্ষা করে আজকে তিঁনি বেশ খানিকটা হাটবেন বলে ঠিক করেন। ভাবেন, যত সময় লাগে লাগুক হেঁটে হেঁটে জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন, তারপর ওখানে কিছুক্ষন বসে আবার হাঁটা শুরু করে বঙ্গ বন্ধুর বাড়ীটা অন্তত সামনে থেকে একবার দেখবেন। জিয়াউর রহমানের মাজারে অবশ্য এভাবে না হলেও বেশ কয়েকবার তিনি এসেছেন, কিন্তু কি অবাক কান্ড, বঙ্গ-বন্ধুর বাড়ীটা একবারও দেখা হয়নি।
ডিভাইডারের উপরের ফুলের টব গুনে গুনে হাঁটতে হাঁটতে সংসদ ভবনের কাছে চলে আসেন তিঁনি, কিন্তু আর এগুতে পারেন না, কোন এক অদৃশ্য শক্তি তার পা দুটোকে আটকে ধরে। অনেক বছর পর, আজকে তিনি প্রথম ক্ষুধার জ্বালা অনুভব করেন। বাড়ী থেকে টাকা আনার কথা মনে নেই, বোরখার পকেটে হাত দিয়ে দেখেন, মাত্র পাঁচ টাকার একটা ছেঁড়া ধুলধুলে নোট পরে আছে। সামনেই একটা ছোট-খাট দোকানে গিয়ে খাবারের দাম জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু এই বাজারে তিনি কি কিনে খাবেন? যেখানে ঢাকা শহরে একটা সস্তা মার্কা মেসে এক মিলের খরচ পরে ১৪ টাকা, সেখানে এই পাঁচ টাকা দিয়ে তিনি কি কিনবেন? যাই হোক, ভেবে ভেবে তিন টাকার একটা পাউরুটি আর দুই টাকা দিয়ে একটা কলা কিনে খেয়ে নেন। পানিটা ফোঁটানো কিনা দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলে, দোকানদার কিছুক্ষন হা করে তাকিয়ে থেকে সত্যি কথাটায় বলে, পরবর্তিতে ফুটানো পানি রাখার অনুরোধ করে আপাতত এই পানিই পান করেন তিঁনি। খাওয়ার মজা যে ক্ষিদে তা অনেক অনেক দিন পর আজকে তিনি বুঝতে পারেন। যাই হোক আবারও জিয়াউর রহমানের মাজারের দিকে যেতে গিয়ে বাধা পান তিঁনি। এক জনের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন, রাষ্ট্রপতির পুষ্পস্তবক অর্পনের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পনের কথা, আর তার পরই সাধারণ মানুষদেরকে ভিতরে যেতে দেওয়া হবে, কিন্তু কি যেন একটা অজ্ঞাত কারনে প্রধানমন্ত্রী এখনও এসে পৌছাননি, তাই এখনও সাধারন মানুষদেরকে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। হাজার হাজার মানুষকে মাজারে ঢোকার জন্য অপেক্ষা করতে দেখে খুশিই হন তিঁনি, কিন্তু পরক্ষনেই কি যেন মনে হওয়াই আবার মন খারাপ হয়ে যায় তার। আর মাজারে যাওয়া হল না। এবার তিঁনি লেকের দিকে হাঁটা শুরু করেন।
এদিকে, ঐ যে, দ্বিতীয় আরেকচন ছিলেন না? তার কথা বলছি। তিনি একা একা বের হওয়ার বুদ্ধি ম্যানেজ করতে না পেরে এতক্ষন ছটফট করছিলেন। স্বজাতিদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থাকলেও তিঁনি আবার বেশ খানিকটা অসাম্প্রদায়িক মনের মানুষ। তাঁরও একটা মহিলা সারভেন্ট বোরখা পরে, কিন্তু এ কারনেই সে তার কাছে বেশ খানিকটা অপ্রিয় হওয়াই তার কথা এতক্ষন পরে মনে আসে। বাইরে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছে, তাদেরকে শরীর খারাপ বলে এতক্ষন বসিয়ে রেখেছেন। কাজেই, তাঁর জন্য বাইরে যাওয়া আরো বেশি কঠিন হবে। যাই হোক, বেশ কয়েক কেজি বুদ্ধি খরচ করে এবং বোরখাওয়ালী সারভেন্ট ও অনান্য অত্যন্ত বিশ্বস্ত লোকদের কোন মতে বুঝিয়ে তাদের সাহায্যে অন্য সবার চোখ এড়িয়ে একা একা বেড়িয়ে পরেন রাস্তায়। বোরখা পরে আজকে তিঁনি বেশ আরামই অনুভব করেন, সিদ্ধান্ত নেন এখন থেকে নিয়মিত বোরখা পরবেন। বিশ্রী রকম ফায়দা লোটার জন্য যারা ক্ষনে ক্ষনে পোষাক বদলায়, সত্যিই তিঁনি তাদেরকে ঘৃনা করেন, (তা সে ছেলে মানুষের নামাজ পড়া আর মেয়ে মানুষের চুল ঢাকা টুপিসহ যাই হোক না কেন!!)
বাড়ী থেকে বেড়িয়ে প্রথমেই ভাবেন, রিকশায় চড়ে ঢাকা শহরটা আজকে একটু ঘুড়ে দেখবেন। কিন্তু, গত তিন দিন একটানা হরতাল থাকায় আজকে রাস্তায় মানুষের ভীড় বেশি। কোন খালি রিকশাই তাঁর ভাগ্যে জোটে না। অগত্যা লেকের ধার ধরে হাঁটা শুরু করেন। খুব বেশি দুর যাবেন না বলেও ঠিক করেন, দেশের যা অবস্থা কখন কোথায় আবার গ্রেনেড হামলা হয় কে জানে-
এত ক্ষনে প্রথম জন বঙ্গবন্ধুর বাড়ী পার হয়ে আবার ঘুরে লেকে যাবেন বলে মনে করেন। কিন্তু এভাবে তাও আবার বোরখা পরে ঘোরা দেখলে কে কি সন্দেহ করে বলা যায় না। কাজেই, তিঁনি বেশ খানিকটা ঘুরে মসজিদের ঐ দিক থেকেই লেকের মধ্যে ঢোকেন।
প্রথম জন উত্তর আর দ্বিতীয় জন দক্ষিন দিক থেকে পরস্পরের দিকে হাঁটছেন। কিন্তু একি লেকে আজকের এই দিনেও সব জোড়াই জোড়াই বসে আছে। আর সেই সকাল বেলা মর্নিং ওয়াক করতে এসেও এখন পর্যন্ত যারা বসে বসে গল্প করছে, তারা সবাই দলবেধে। কেওই একা একা নেই। এত আনন্দের মধ্যেও তাঁদের ভাল লাগে না। এখন তাঁদের দুজনেরই মনে মনে নিজেকে অন্যরকম একা একা মনে হয়। তাঁদের ঠিক মাঝখানে একটা চটপটির দোকানে নচিকেতার “পাছে ভোট নষ্ট হয়” গানটা বাজছে। কেন জানি এই বয়সেও দুজনের কাছেই গানটা বেশ ভাল লেগে যায়। অল্প দূরেই একটা বেঞ্চি ফাকা পরে আছে। দুজনই ভাবেন বেঞ্চিটাতে গিয়ে একটু বসবেন। দুজনে এক সাথেই বেঞ্চিটাতে বসে পরেন, গান শেষ হয়ে যায়। তারপর “রাজশ্রী( যদি জানতে)”, ইনটেলেকচ্যুয়্যাল”, “একা একা পথ চলা” গানটাও শেষ হয়ে ফিতেটা শেষ হয়ে যায়। চটপটি ওয়ালা ক্যাসেটটা পাল্টে পৃতমের “চল পালাই” ফিতেটা ছাড়ে, “কেমন স্বাধীনতা” গানটা বাজতে থাকে। তবুও দুজনেই আনমনে বসে থাকে। তাঁদের খেয়াল ভাঙ্গে যখন বাদাম ওয়ালা বাদাম দেবে কিনা জানতে চাই। দ্বিতীয় জন ৮ টাকা দিয়ে ১০০ গ্রাম বাদাম কিনে বাদাময়ালাকে দুই জায়গায় ঝাল দিতে বলেন, এর পর তিঁনি প্রথম জনকে বাদাম খাওয়ার দাওয়াত দেন। প্রথম জন আনমনেই দ্বিতীয় জনের দাওয়াত কবুল করেন। বাদাম খেতে খেতে কিভাবে যেন তাঁদের মধ্যে গল্প শুরু হয়ে যায়।
প্রথম জনঃ আপা আপনার বাসা কোথায়?
(কানে কোন প্রকার সমস্যা অনুভব না করেই দ্বিতীয় জন কথাটা শুনতে পারেন)
দ্বিতীয় জনঃ ওই ত দক্ষিন দিকে।
প্রথম জনঃ আপনার বাড়ী থেকে কত দূর বা আপনি রেগে যাবেন নাকি খুশি হবেন জানি না। আপনাদের ঐ দিকেই একটা অবুঝ থাকে। আমি বুঝি না- তাঁর বাবা এত ভাল একজন মানুষ ছিলেন তার পরও সে ঐ রকম হয় কিভাবে?
দ্বিতীয় জনের কাছে শুনতে খারাপ লাগলেও, কথাটা কেমন যেন সত্যি বলেই মনে হয়। বলেন, ঠিকই বলেছেন, যারা আমাদের এই দেশটাকে ঠেলে উপরে তুলতে চেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যের সব চাইতে সামনের সারির দুই জনের উত্তরাধীকারিরাই দেশকে টেনে নিচে নামাতে ব্যাস্ত।
প্রথম জনঃ আসলে ঠিকই বলেছেন। তাঁদের উত্তরাধীকাররা যে মর্যাদা পায়, তা কিন্তু আমাদের ঐ দুই মহান নেতার জন্যই। কিন্তু, কি দুঃখ জনক ব্যাপার দেখেনত, এদের পরবর্তি প্রজন্মকে হয়তবা এই বর্তমান অবুঝদের জন্যই অপদস্ত হতে হবে।
দ্বিতীয় জনঃ সত্যিই দুঃখ জনক। আসলে আমাদের দুঃখটাই ঐ, আরো আগের কথা না হয় বাদই দিলাম- ৪৭, ৫২, ৬৯, ৭১, ৯০ ইত্যাদি সময়ে আমরা যে সকল বীরদের পেয়েছি প্রতি বছর সান্তনা পুরস্কারের মতন তাঁদের স্মৃতি চারন করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। সেই সমস্ত বীরদেরইতো বংশধর আমরা, তবুও কেন আমাদের মধ্য থেকে সে রকম মানুষ উঠে আসে না, আসে না কেন?
দুজনই কিছুক্ষন শোকের নিরবতা পালন করেন। শেষ পর্যন্ত প্রথম জন বলেন- কেন? সে রকম না হোক, এখনোত আমরা আরো অনেক অনেক সাহসী মানুষদের দেখতে পায়। এই তো কয় দিন আগে মতিঝিলে ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য দেশের জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করল। আবার তার আগে আমাদের বিডিআর জওয়ানরা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে শত্রুদের শয়তানির দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিল , এদের মধ্যে তিনজন তাদের জীবন পর্যন্ত আমাদেরকে দান করে গেল । তাঁরা কি সাহসী বীর না ? কি যেন নাম তাঁদের? ইস!
কেন যে মনে পড়ে না? আরে, বলেন না নাম গুলো?
দ্বিতীয় জনঃ সত্যি কি অবাক কান্ড! আমিও তাঁদের নাম ভুলে গেছি। কি আশ্চর্য, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করলে মানুষ নাকি মরে না, কিন্তু এই কয়েক মাস যেতে না যেতেই আমরা তাঁদেরকে আমাদের অন্তর থেকে মেরে ফেলেছি ? কি অবাক কান্ড-
প্রথম জনঃ আসলে, এভাবে যদি কেউ তাঁর ভাল কাজের স্বীকৃতি না পায়, তবে কিভাবে মানুষ ভাল কাজের উৎসাহ পাবে?
দ্বিতীয় জনঃ কি অবাক কান্ড, আমরাতো আসলে এভাবে ভুলে যায় না। আমরাতে ঈশা খাঁদের মনে রেখেছি, তীতুমীরদের, রফিকদের, মতিউরদের সবাইকে মনে রেখেছি, কিন্তু তাঁদের সাথে সাথে যদি আমরা আমাদের আজকের সত্যিকার মানুষদের কথা মনে না রাখি, তবে কিভাবে সাধারণ মানুষ সত্যিকার মানুষ হবার উৎসাহ পাবে?
প্রথম জনঃ কিন্তু আমাদেরত প্রধান মন্ত্রীর নাম ভুলে গেলেও, বর্তমান সময়ের সত্যিকার মানুষদের নাম মনে রাখা উচিৎ ! ইস!
দ্বিতীয় জনঃ আমাদের নেতা/নেত্রীরা এত কিছু নিয়ে লাফালাফি করে- ওখানে জুতা পরে গেলে না কেন? সেখানে ফুল দিলে না কেন? ইত্যাদির সাথে সাথে তাঁরা এসব নিয়ে কথা বলে না কেন? কেন বলে না?
এভাবে তাঁদের বড় বড় মানুষের মধ্যে আরো বড় বড় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অত কি আর আমি বুঝি? (আসলে বুঝি ঠিকই, কিন্তুক ............ হাম্বা) যাই হোক শেষ পর্যন্ত আমি একটা জিনিস বুঝলাম, শেষ-মেষ তাঁরা একমত হল যে, আমাদের বর্তমান নেতা-নেত্রীরা যে এত আজে-বাজে কাজ করে, এর পরেও কেন তাঁরা তা বোঝে না। তাঁরাতো সত্যিই দেশকে ভালবাসে, কিন্তু ক্ষমতার লোভ তাঁদেরকে এতো নিচে নামায় কিভাবে? আজো কেন তাঁরা একে অপরের জন্য নিশ্চিন্তে-নির্ভয়ে জনগনের কথা বলতে পারে না? আজো কেন তাঁরা সাধারণ মানুষের আবেগের অপব্যবহার করে ? আজো কেন তাঁরা ধর্ম আর ইতিহাসকে বিকৃত করে তা দিয়ে মানুষকে পাগল করে রাখে ? দেশের জন্য জীবন দেবার মধ্যে যে কি শান্তি, তার উদাহরণতো তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই দিয়ে গেছে। তবুও কেন সত্য-সোজা কথা বলতে তাঁরা ভয় পায়? কেন? কেন তাঁরা ক্ষমতা আর অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে।
এর ই মধ্যে তাঁদের একজনের গত রাতের স্বপ্নের কথা মনে পরে যায়, তখন তার সেই বুকের জমানো ব্যাথায় ঢেও ভাঙ্গে চোখের নদীতে অবস্থা। তবুও সে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলে, তবে দেশের এত সর্বনাশ করার পরও কি তাঁদের সত্যিকার দেশ প্রেমিক যে সকল আত্বীয়-স্বজন ছিল, তাঁরা কি স্বপ্নে একবারও গালাগালিও করে যায় না?
অপর জন আর কান্না চেপে রাখতে পারে না। কাঁদো কাঁদো কন্ঠেই সে বলে- আপা, বোরখা থেকে মুখটা একটু বের করবেন? আপনাকে আমার খুবই দেখতে ইচ্ছা করছে।
আগের জন কেঁদে কেঁদে বলে এ মুখ দেখিয়ে আর কি লাভ?
তাঁদের আর একে অপরের পরিচয় বুঝতে বাকি থাকে না। দু-জনই গলাগলি ধরে কাঁদতে থাকে।
(কি কতক্ষন কেঁদেছিল?
না ভাই- তা আর আমি জানি না।
কেননা, আমি এখন সুমনের গান শুনছি-
“আজকে যে, মুখে মারে বিশ্ব,
চুপচাপ হয়ে যাবে কাল সে”
“আজকে যে, প্রতিবাদি কন্ঠ,
সর্বংসহা হবে কাল সে”)
বিঃ দ্রঃ - কান্নায় লাভ নেই, কান্নায় হবে না, পদ্মা আগের মতন খরস্রোতা (ফারাক্কা না খুললে)।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১০ রাত ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


