পারভেজ রানা
মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম আবাসন। সবার জীবনে সাধ থাকে একটি বাসা অথবা একটি বাড়ি। একটি ফাট বা একটি বাড়ি চাওয়া থাকলেও অনেকের পইে সম্ভব হয় না ঠিক মত যাচাই বাছাই করে কেনা। অনেকেই প্রতারিত হন বিভিন্ন ভাবে। সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি জমি বা একটি ফাট কেনেন। তারপর দেখা যায় জমি হয়ত বুঝে পাচ্ছেন না। বা এপার্টমেন্ট হস্তান্তর হতে অনেক দেরী হচ্ছে। যারা বাড়ি বা এপার্টমেন্ট কিনবেন তাদের জন্য কিছু পরামর্শ।
১. জমি কেনার েেত্র বর্তমান মালিক সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে হবে অবশ্যই। জমি মালিকের দখলে আছে কিনা। জমির মালিকের বৈধ কাগজ-পত্র থাকার পাশাপাশি তার দখলে থাকাটাও জরুরি। আপনি এ ব্যাপারে আপনার আইনজীবির সহায়তা নিতে পারেন।
২. বিক্রেতা আপনার কাছে মূল্যের কিছু অংশ নগদ চাইতে পারে আর কিছু চেকের মাধ্যমে চাইতে পারে। এসব েেত্র আপনি এই সম্পত্তি কেনার জন্য ব্যাংকের কাছ থেকে পুরো টাকা লোন পাবেন না। সেেেত্র কি আপনি কেনার সামর্থ্য রাখেন?
৩. যে ডেভলপার কোম্পানির কাছ থেকে এপার্টমেন্ট কিনবেন, দেখে নিন পাওয়ার অব এটর্নি (আম-মোক্তার-নামা) রেজিস্ট্রি করা আছে কী না।
৪. বাড়ি/ফাটটি কতদিন আগে তৈরি হয়েছে কাগজ-পত্র, হস্তান্তরের তারিখ দেখুন। ১০ বছরের অধিক পুরোনো হলে সার্বিকভাবে সবকিছু দেখে-বুঝে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পুরোনো বাড়ির রণাবেণ খরচ সামলানো অনেক সময় বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
৫. বাড়ি/ফাটটি কি ব্যাংকের কাছে বন্ধক আছে? পানির বিল, গ্যাসের বিল অথবা বিদ্যুৎ বিল কী পরিশোধিত?
৬. সম্পত্তিটা মামলা-মোকদ্দমা মুক্ত হতে হবে। বিশেষ করে জমি ক্রয়ের েেত্র অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত অনেক পরিবারের নিজেদের মধ্যে অথবা প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রায়শ জমি নিয়ে দ্বন্দ থাকে।
৭. ফাট কেনার েেত্র ল্য রাখুন হস্তান্তরের তারিখ। হস্তান্তরে যতই দেরী হবে, আপনি ততই ঠকবেন। ডেভলপার খুঁজে নিন তেমন দেখে যারা ঠিক সময় মত আপনার বাসা আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন।
৮. যদি হস্তান্তরে খুব বেশী দেরি হয়ে যেতে থাকে, আপনি ডেভলপার কোম্পানির সাথে আপনার যে চুক্তি হয়েছিল সেটি আর একবার ভালো করে পড়ে নিন। প্রয়োজনে উকিল নোটিশ দিন। সবচেয়ে ভালো হয় ফাট কেনার সময়ে ডেভলপার কোম্পানির সাথে চুক্তিটি করার সময় একজন ল-ইয়ারের পরামর্শ নেওয়া।
৯. ফাটের মাপ কম থাকতে পারে। অনেক ডেভলপার মূল ত্রেফলের সাথে আরও কিছু কমন এরিয়া যোগ করে দেন। রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী কিছু কমন এরিয়া থাকবে। সেটা ১০ থেকে ১৫ পার্সেন্ট হতে পারে। আপনাকে ফাটের মাপ ঠিকমত বুঝে নিতে হবে। অথবা বাসার প্রকৃত কার্পেট এরিয়া কত সেটা মেপে সেটা দিয়েই ভাগ করে ফেললেন পুরো দাম। আপনি পেয়ে যাবেন আপনার কার্পেট এরিয়ার জন্য প্রতি বর্গফুটের দাম। এভাবে তুলনা করতে পারে কয়েকটি কোম্পানির কার্পেট এরিয়া অনুসারে কত টাকা প্রতি বর্গফুটের দাম পড়ে। তারপর নিয়ে নিন আপনার সিদ্ধান্ত।
১০. ফাট কেনার সময় অতিরিক্ত খরচ-খরচা সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে নিন। বিজ্ঞাপনে প্রতি বর্গফুটের দাম যা বলা হয় তা অনেক সময়ই ঠিক থাকে না। সময়ে সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়লে যোগ হয়ে যায় অতিরিক্ত দাম। ফাট কেনার সময়ে যে চুক্তিটি হয় ওখানেই লেখা থাকতে পারে এই শর্ত। সাধারণত কার পার্কিং, বিল্ডিং কমিটি চাঁদা, মেরামত খরচ, জেনারেটর বিল, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সংযোগ এবং এপার্টমেন্ট রেজিস্ট্রেশনের খরচ ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত থাকে।
১১. ঢাকাতে রাজউকবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, খুলনা, রাজশাহী বা চট্টগ্রামে যথাক্রমে কেডিএ, আরডিএ বা সিডিএ এবং অন্যান্য পৌরসভাতে প্ররসভা কর্তৃপ এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য উপজেলা কর্তৃপ কাড়ি তৈরির অনুমতি দেয়। বিল্ডিং তৈরির পূর্বে ডেভলপার কোম্পানির উচিত অনুমতি নেওয়া। যথাযথ কর্তৃপরে অনুমতি নেওয়া হয়েছে কীনা দেখে নিন। যথাযথ কর্তৃপরে কাছ থেকে অনুমতি না নেওয়া হলে সেই প্রকল্পের থেকে এপার্টমেন্ট কেনা থেকে বিরত থাকুন।
১২. আপনার ডেভলপারের সুনাম আছে কী। ডেভলপারের সুনাম আপনার এপার্টমেন্ট কেনার েেত্র সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করবে। পরিচিত জন যারা ইতিপূর্বে ফাট কিনেছেন কোন কোম্পানির কাছ থেকে, তাদের কাছ থেকে জেনে নিন আপনার সম্ভাব্য ডেভলপার ও তাদের প্রজেক্ট সম্পর্কে। ১০% থেকে ১৫% খরচ বেশী পড়লেও একটি খ্যাতিমান কোম্পানি থেকে এপার্টমেন্ট কিনলে ভবিষ্যতে সেটাই আপনার অনেক স্বস্তির কারণ হবে।
পারভেজ রানা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


