আকাশের কোণে কালো মেঘ জমেই আছে, যখন খুশি গোটা আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে আর ঝমঝম বৃষ্টি নামিয়ে দিচ্ছে গাছের পাতায়, পুকুরের জলে, বাড়ির ছাদে,জামডালে বসে থাকা কালো কোকিলের পরে। ভিজে কাক কোকিল মাঝে মাঝেই কুউ উ উ বলে ডাক ছাড়ছে তারপর আবার বসে ভিজছে... লালরঙা চোখ মেলে তাকিয়ে এদিক ওদিক পানে কি যেন খোঁজে আর ঝিমোয়...
ভিজে জামা কাপড় ডাই হয় ঘরের একোণে, ওকোণে। মাঝে মাঝে একটুশখানি রোদ ঝিকমিকিয়ে ওঠে, আমি ঝটপট জামা কাপড় শুকোতে দিই, জানালা দিয়ে আকাশ দেখি আর দিনদুপুরে গান শুনি, শাওন রাতে যদি...
এখন এই ভরসন্ধ্যেবেলা পশ্চিমের আকাশটা লালে লাল। দূরে দূরান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মেঘেরাও গায়ে মেখেছে সূর্যাস্তের এই লাল। কাছের মেঘেরা মুখ কালো করেই আছে আর কি জানি কি এক অজানা কারণে তারা কালো করে দিতে চাইছে দূরের ঐ লাল মেঘেদেরও! সোঁ সোঁ উতল হাওয়ায় যেন নেচে বেড়াচ্ছে কাছে-দূরের উঁচু নারকোল গাছেরা। মাঝে মাঝে জোর বাতাস এলে এমন নুয়ে পড়ছে যে দেখলে ভয় হয়, মনে হয়, এই বুঝি ভেঙে পড়ল বলে!
পানকৌড়িদের বেশ মজা এই বর্ষায়। তারা বেশ এপুকুর ওপুকুরে করে বেড়ায় উড়ে উড়ে। মাঝে মাঝেই ডুবসাঁতার দেয় দুটিতে, খানিক পর ভেসে ওঠে ইতিউতি তাকায় আর আবার ডুবকি। পাশের জমিতে কাজ করতে থাকা রাজমিস্ত্রিদের থোড়াই কেয়ার করে তারা!
পেছনের তিনখানা পুকুরই টইটুম্বুর হয়ে যায় খানিক বৃষ্টির জলে। আর টানা বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই, এই পুকুরের জল পাড় ডিঙিয়ে মিতালী পাতায় ঐ পুকুরের জলের সাথে। পাথর ফেলে করা ঐ ঘাট ডুবে যায়। জল থইথই পাশের এই খালি পড়ে থাকা এক চিলতে জমি।
বর্ষার চাঁদ কী ভীষণ উজ্জল। বৃষ্টি কমতেই সে দেখা দেয় মেঘের ফাঁক দিয়ে। একটু দূরেই জ্বলজ্বল করে সন্ধ্যেতারা, যেন সঙ্গ দেয় চাঁদকে। মেঘেরা ঘুরে বেড়ায় ইতিউতি। হয়তো এখুনি ঢেকে যাবে এই চাঁদ সন্ধ্যেতারাকে সঙ্গে নিয়ে তবু যতক্ষণ সে আছে, ঝকমকিয়ে আছে... ঝলমলিয়ে আছে...
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০০৭ রাত ৮:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



