খুব গোলমেলে, নিজেও ভাল জানি না। তবে আছে,এই ঢের।

হেঁটে যাই চাঁদের সাথে...

১৫ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:০৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

স্মৃতির সরনি বেয়ে হেঁটে বেড়াই সারাদিনমান...
হাত ডোবাই পাঁকে, খোঁজ করি পদ্মের।
মেলে না... মেলে না...
কাঁদা ঘাটাই সার হয়। ক্লান্তি আসে, তবু থামি না।
ঘেঁটেই চলি ঘেঁটেই চলি...
একসময় গড়িয়ে পড়ি খড়ের গাদায়, আমার ছেলেবেলার খড়ের গাদায়...
কী হবে পদ্ম তুলে! বরং এইখানে শুয়ে থাকি খানিক চুপটি করে। কেউ দেখতে পাবে না আমায়...

একসময় আমি চাঁদের সাথে হেঁটে বেড়াতাম। সরু চাঁদ,মোটা চাঁদ, আধখানা চাঁদ। পূর্ণচন্দ্র। সন্ধেবেলায় আকাশে চাঁদ উঠলেই আমার পাগল পাগল লাগত। চাঁদ যেন আমায় ডাকছে। কতদিন আমি একা একা কাউকে কিছু না বলে বেড়িয়ে পড়েছি চাঁদের সাথে। আমিও হাঁটি চাঁদও হাঁটে। আমি থামলে চাঁদও থামে। একসময় বাড়ির কথা মনে পড়ত। পরদিনের স্কুলের পড়া। বাড়ি ফিরে মা'য়ের বকুনি কখনোবা মৃদু উত্তম মধ্যম। ফিরে আসতাম ঘরে। ওমা! চাঁদও ফিরছে! হ্যাঁ। চাঁদও ফিরত আমার সাথে। এসে জনালার কোণটিতে চুপটি করে দাড়িয়ে পড়ত। আমার ঘুম আসত আর চাঁদও কখন যেন চলে যেত আমার জানালা থেকে...

স্বধীনতার ষাট বছর। সিক্সটি ইয়ারস অফ বিইং ফ্রী।
আকাশে ঘুড়িদের মেলা। সাদা ঘুড়ি, লাল ঘুড়ি, সাদায় কালোয় ছোট ছোট দাগ কাটা ঘুড়ি, সবুজ কমলা আর সাদায় তেরঙা ঘুড়ি,রাণীরঙা ঘুড়িরা সব উড়ে বেড়াচ্ছে ছাদের মাথা থেকে, সামনের ছোট মাঠ থেকে, টালির চালের নিচের একচিলতে পা রাখার জায়গা থেকে। ঘুড়িদের রঙে ধূসর আকাশে রঙের মেলা। স্বাধীন বলেই গলা সমান উঁচু দেয়াল টপকে পাশের বাড়িতে ঢুকে পড়েন বাবাটি, উড়ে গিয়ে পড়ে যাওয়া ঘুড়িটি কুড়োতে। সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি হাফ প্যান্ট আর কিটোস পরা শিশুটি অপেক্ষা করে দেওয়ালে এধারে, ঘুড়িটির অপেক্ষায়।

পথশিশুটি সুতোর প্রান্তটি হাতে নিয়ে দৌড়য় ঘুড়ির পেছন পেছন। উড়ে আসা একটি ঘুড়ি কেটে দেয় তার ঘুড়িটিকে। ঘ্যাচাং। ঘুড়ি তবু উড়ে। বাতাসের ডানায় ভর করে ঘুড়ি উড়ে চলে। একসময় আর পারে না। পানাভর্তি ডোবায় এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ঘুড়ির পেছন পেছন দৌড়ুতে দৌড়ুতে পথশিশুটি এসে দাঁড়ায় ডোবার ধারে। মলিন মুখ। আরেকটি ঘুড়ি কেনার স্বাধীনতা তার যে নেই...

আমি এখনও চাঁদের সাথে হাঁটি। জানালা পেরিয়ে নেমে পড়ি পাশের বাড়ির ছাদে। সেখান থেকে এ'ছাদ ও'ছাদ পেরিয়ে সোজা উঠে পড়ি ফ্লাইওভারে। হেঁটে হেঁটে বিদ্যাসাগর সেতু। ওপারে আলো ঝলমল কলকাতা। চাঁদের আলো ম্লান হয়ে যায় সে আলোতে, প্রায় দেখাই যায় না। মরা, ফ্যাকাশে সাদা নিয়নের আলোয় ভেসে যায় বিদ্যাসাগর সেতুও। তবু আমি ঠিক দেখতে পাই চাঁদকে। ঐ তো! আমার সাথেই হাঁটছে সেও...

ভরা গঙ্গা উপচে উপচে পড়ে দুপাশে। ঘোলা জলও চিক চিক করে চাঁদের আলোতে। আমার বড় সাধ হয় আমি নৌকোয় করে খানিক বেড়িয়ে আসি গঙ্গায়। কিন্তু না, আজ থাক । আরেকদিন হবে। অন্য কোনদিন...

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কিছু না ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল  বিভাগে ।

 

  • ২১ টি মন্তব্য
  • ২৫৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:১৩
comment by: মনের কথা বলেছেন: আমি হাঁটিনা, বসে থাকি। ভাল লাগলো।
২. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:২৪
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: ভাল লিখেছোগো শাহজাদী।

তুমি হাঁটো চাঁদের সাথে,
আমি হাঁটি তোমার সাথে;
চাঁদের আলো ঠিকরে পরে
তোমায় ধরা আমার হাতে।

চাঁদ ছাড়াই আমি হাঁটি,
তুমি যখন থাকো দূরে;
তোমার কথা গান হয়ে,
আমার মনে বাজে সুরে।
৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৫
comment by: শ্যাজা বলেছেন: ধন্যবাদ মনের কথা।

ধন্যবাদ কালপুরুষকেও।
৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৫
comment by: ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: ছবিটা কি কলকাতার?
৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:০৩
comment by: শ্যাজা বলেছেন: ছবিটা ফ্লিকার থেকে থেকে পাওয়া, কলকাতার কি না জানি না তবে ফটোগ্রাফার ব্যাঙ্গালুরুতে থাকেন।
৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৫
comment by: সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন: ওমা!

খুব ভালো।
৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৭
comment by: যীশূ বলেছেন: চমৎকার অনুভুতি। অসাধারণ লেখা।
৮. ২২ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:২১
comment by: রশ্মি বলেছেন: হুম !! জম্পেস ।

আবার যদি ছোট হওয়া যেতো !! আহ্
৯. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৫
comment by: শ্যাজা বলেছেন: ধন্যবাদ যীশু।

তোমারেও ধন্যযোগ সাদিক।

তুই কবে বড় হলি রে রশ্মি যে আবার ছোট হওয়ার কথা বলছিস!
১০. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৫
comment by: আবু সালেহ বলেছেন: আমি হাঁটি চাঁদ হাঁটে.....আমি থামি চাঁদও থামে..................

অনুভুতির প্রকাশটা খুব ভালো হেয়েছে......অসম্ভবরকমের ভালো লেগেছে.......
@ শ্যাজা
৫/৫
১১. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৬
comment by: ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: শ্যাজা.....
আপনার সর্ম্পকে জানলাম আমাদের সহ ব্লগার মাশা ভাই এর কাছ থেকে। আপনি তো আমার অনেক সিনিয়র হবেন! তো আপনাকে কি বলে ডাকি বলেন তো?
আপনার ই-মেইল নাম্বারটা দিয়েন দয়া করে।
১২. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৭
comment by: শ্যাজা বলেছেন: ধন্যবাদ আবু সালেহ।

ভালো লাগলো আপনার ভালো লেগেছে জেনে।
১৩. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫২
comment by: ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: আমাকে দেখুন আপনার ই-মেইলে। তারপর আপনিই বলুন জেনে শুনে সিনিয়র কাউকে নাম দরে ডাকা যায় কি না?
১৪. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১১:০৭
comment by: মৈথুনানন্দ বলেছেন: ...shahzadi's moonwalking now!
১৫. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৩৭
comment by: তেলাপোকা বলেছেন: http://www.meghbalika.net/friends.html দিদি এই লিংকটা ধরে-- স্ক্রুল করে অনেক নিচে নেমে যেতে হবে।

:)
বহুদিন পর এলাম, আর একে একে পড়লাম সব ভালো লাগা লেখাগুলো। ভালো থাকবেন।
১৬. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৪১
comment by: শ্যাজা বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইটি..

লিংক খুললাম। দেখি কী খোলে..
১৭. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৪৩
comment by: শ্যাজা বলেছেন: আরে বাহ..

খুব খুব ভালো লাগলো দেখে...
১৮. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৪৪
comment by: তেলাপোকা বলেছেন: :)
১৯. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৪৭
comment by: শ্যাজা বলেছেন: পাতাটা সেভ করে রাখলাম, সময় করে পড়বো সব লেখা আড় লিংকগুলোও একটু ঘেঁটে দেখা যাবে।
২০. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫১
comment by: তেলাপোকা বলেছেন: ভুলেও না, ভুলেও না ;) ভুলে ভরা যতসব ছেলেমানুষী লেখা। লিংকটা হিডেন রেখেছি অনেকদিন। আপনাকে দিলাম, প্রথম (ইয়াক)। তামাম দুনিয়ায় ৫/৬ জন ব্যক্তিবিশেষ জানে এর খবর । অসংখ্য ধন্যবাদ ভিজিট করার জন্য। ভালো থাকবেন।
২১. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫৪
comment by: শ্যাজা বলেছেন: সন্মানিত বোধ করছি সেই ৫-৬ জন ব্যক্তি বিশেষের পরে লিংকটা আমি পেলাম বলে।

ধন্যবাদ।

 



 


আমি লিখি আবার লিখি না।
আমি শাহজাদী কিন্তু হাতি ঘোড়া নেই।
ঘুমোতে ভালবাসি, তবে জেগে জেগে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩১২৫৯