ক্রিং ক্রিং টেলিফোন হ্যালো হ্যালো হ্যালো...
১২ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:৫৯
ক্রিং ক্রিং বেজে ওঠে সেলফোন। ডাক আসে বহুদূরের সেই ছেলেবেলা থেকে। বিস্মৃতির ওপার থেকে। অচেনা কন্ঠ জানতে চায়, সামরানের সাথে কথা বলছি কি? আমি আনোয়ার! আনোয়ার? আমি চিনতে পারি না। আরে, মনে নেই, আমরা একসাথে মাঠে খেলতাম! আমি সিলেটের আনোয়ার!
আমি একছুট্টে চলে যাই ছেলেবেলায়, খুঁজতে থাকি চেনা মুখগুলো। বিস্মরণের গলিগুলোতেও ঘুরে আসি একপাক। আতিপাতি করে খুঁজি সব ঘিঞ্জি গলি। কিন্তু কোথাও আমি খুঁজে পাই না আনোয়ারকে।
আমি সত্যিই চিনতে পারি না। তবে একটা আবছা অবয়ব ফুটে ওঠে আর মুখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে যায়, আনোয়ার! রোগা ঢ্যাঙ্গা আর কালো? ওপাশ থেকে জোরালো হাসির শব্দ আসে, হ্যাঁ হ্যাঁ! সেই রোগা ঢ্যাঙ্গা কালো আনোয়ার! এই তো মনে আছে! ব্যস, ঐটুকুই! আর কিছু মনে পড়ে না। আইএসডি ফোন কানে নিয়ে বেশি চিন্তাও করা যায় না। ওদিকে ফোন হাতবদল হয়েছে বুঝতে পারি। এবারে নারীকন্ঠ ভেসে আসে। আমি আনোয়ারের মিসেস। আপনি তো সামরান। ওর ছেলেবেলার বন্ধু! আপনার কথা আমার সাহেবের কাছে এতো শুনেছি এতো শুনেছি যে আপনাকে কোনদিনও না দেখেও আপনাকে ভীষণ চেনা মনে হয় আর খুব আপন মনে হয়। আপনি ভালো আছেন তো?
আমার অবাক হওয়ার পালা তো কেবল শুরু! কি বলব না বলব ঠিক যেন ভেবে না পেয়েই বলি, ভালো আছি, আপনাকে তো চিনি না, আপনার নামও জানি না কিন্তু আপনি আমার কথা শুনেছেন, আর আপন বলে ভেবেছেন। কি বলব বুঝতে পারছি না! শুনলাম আমার নাকি একটা ছবিও আছে আনোয়ারের কাছে। সাদায় কালোয় ফুলছাপ ফ্রক পরা এক ছোট্ট মেয়ের ছবি। ওপাশের নারীকন্ঠ আবার জানতে চায়, আপনি এখন কেমন হয়ছেন দেখতে?
কেমন? যেদিক দিয়ে হেঁটে যাই, লাইন দিয়ে সব লাশ পড়ে । দুজনের সম্মিলিত হাসির শব্দে বুঝতে পারি, ওরা ফোন লাউডস্পিকারে রেখেছে! আনোয়ারের স্ত্রী বলে, আপনি কী এখনো আগের মতই অহংকারি? অহংকার? আমার? জবাব আসে, আপনি নাকি খুব অহংকারি ছিলেন। কাউরে পাত্তাই দিতেন না! আমি হেসে ফেলি। আর্জি আসে, ঢাকায় গেলে যেন একবার অবশ্যই অবশ্যই দেখা দেই। অনেকক্ষণ ধরে যে প্রশ্নটা ঠোঁটের ভেতরে আটকে ছিল, বেরিয়ে আসে, আমার ফোন নম্বর কোথায় পেলেন? ফোন নম্বর? চাইলে পাওয়া যায় না এমন কিছু কি এই দুনিয়ায় আছে? তুমি মনে রাখো নাই, ভুইলা গেসো, সেটা অন্য কথা!
সত্যিই লজ্জ্বিত হই। এমন এক বন্ধু, যে সেই ছোটবেলার ছবি এখনো গুছিয়ে রেখেছে, আমাকে মনে রেখেছে, আর এত বছর পরে খুঁজেও বের করেছে তার কথা একটুও মনে না পড়ার জন্যে লজ্জ্বিত হই। ঢাকায় গেলে দেখা করব কথা দিই। ওরা ফোন ছাড়ে আন্তরিকতার উত্তাপ ছড়িয়ে। ভালো থাকার শুভাকাঙ্খা উড়ে আসে যেন সেই ছেলেবেলা থেকে। আমার চোখ ভিজে আসে অজান্তেই!
নাহ। আনোয়ারের শুধু নামটুকু আর একটা আবছা অবয়ব ছাড়া আমার আর কিছুই এখনো মনে পড়ে না। কাল রাত থেকে খুঁজেই চলেছি আনোয়ারকে...
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিস্মৃতি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি, আমার দিনকাল বিভাগে ।
সিঁদুরে মেঘ বলেছেন:
বাহ সুন্দর।৫
সাইফুর বলেছেন:
গ্রেট ফিলিংস.....আনোয়ারকে খুজে পান তাড়াতাড়ি
শ্যাজা বলেছেন:
ধন্যবাদ।
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন:
আনোয়ার নামটা দেখলেই গেয়ে উঠতে ইচ্ছে করে..সাঁকোটির কথা মনে পড়ে আনোয়ার?
সাঁকোটা দুলছে...
আমার বন্ধু দুনিয়াদারির রাজা
মিথ্যে কথায় জগত সভায় সেরা...
বিহংগ বলেছেন:
"সত্যিই লজ্জ্বিত হই। এমন এক বন্ধু, যে সেই ছোটবেলার ছবি এখনো গুছিয়ে রেখেছে, আমাকে মনে রেখেছে, আর এত বছর পরে খুঁজেও বের করেছে তার কথা একটুও মনে না পড়ার জন্যে লজ্জ্বিত হই। ঢাকায় গেলে দেখা করব কথা দিই। ওরা ফোন ছাড়ে আন্তরিকতার উত্তাপ ছড়িয়ে। ভালো থাকার শুভাকাঙ্খা উড়ে আসে যেন সেই ছেলেবেলা থেকে। আমার চোখ ভিজে আসে অজান্তেই!"দারুন ভালো লেগেছে।
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন:
গান শুনেছেন?
কালপুরুষ বলেছেন:
ভাল লিখেছো। বন্ধুর খাতিরে ঢাকা আবার আসবে নাকি? জানিও।
শ্যাজা বলেছেন:
কালপুরুষ,যাব তো বটেই তবে কবে যাব বলতে পারছি না।
সামনের বছরে সম্ভবত।
মৃন্ময়,
গান শুনেছি। বারবার শুনেছি। অনেক ধন্যবাদ।
মনের কথা,
ভাল আছি ,ধন্যবাদ। পুজোয় এখানেই থাকি, আছি।
যোগ করে নেব মেসেঞ্জারে। কোন এক সময় কথা হবে হয়তো।
আমি কে বলেছেন:
৫
শ্যাজা বলেছেন:
ধন্যবাদ আমি কে।আনন্দ,
আমি এই এলাকায় নতুন। কোথায় কী পাওয়া যায় কিসসু জানি না। নিজের অতি ছোটখাটো প্রয়োজনেও দৌড়ুই কলকাতায়, এই দুবছর এখানে থেকেও। বি গার্ডেনে বেড়াতে আসতাম কলকাতায় থাকাকালীন। এখানে আসা ইস্তক আর ওমুখো হওয়া হয়নি।
চিঠি পাঠাচ্ছি তোমায়।
নীল জোনাকি বলেছেন:
আমি বলবো না একটি কথাও!!!আমি আজ সারাদিন ধরে খুজবো...
আমার ঘাসফুল
লাটাই
মাছরাঙা
কাশফুল
রোকেয়া সুলতানা আশা
এলো চুলের ঘ্রান
স্কুলব্যাগ
আইসক্রীম
মা...মা..তোমার হাসি
মক্তব
শিউলি উঠোন
হেড়ে গলায় গান
নদী সঙ্গম
বৃষ্টি বিয়ে
প্রেমিকার আমলকি স্তন ...
আমি খুজবো...


















