ইয়েস মি: জেনারেল, উই আন্ডারস্টেন্ড, হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট? বিগত ৩৬ বছরে এদেশের কোন অর্জন নেই! তাহলে আমরা কি করে একজন জেনারেল পেলাম? আমরা তো থাকতাম পূর্ব পাকিস্তান বা সিকিম হয়ে। আমি আপনার কথার সাথে একমত হতে পারলামনা।
বিগত বছরগুলোতে জাতি ও দেশ হিসাবে আমাদের অনেক ব্যর্থতা থাকতে পারে, কিন্তু অর্জনও অনেক। আমরা সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল দেশ ছিলাম, যাদের বাজেট তিন-চতুর্থাংশ নির্ভর করত বিদেশী সাহায্যের উপর। আর এখন আমরা বিদেশী সাহায্য ছাড়াও চলতে পারি। দেশে ছিলনা কোন ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা, এখন অন্তত: সড়ক যোগাযোগে অনেক উন্নত হয়েছে। দেশে শিল্প কারখানা ছিল হাতেগোনা, এখন বেসরকারীখাতের উন্নয়নের ফলে অনেক শিল্পায়ন হয়েছে। আগে বেসরকারী খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল খুব সীমিত, আর এখন বেসরকারী খাতেই কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল কয়েকটি, এখন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ই অর্ধশতের উপরে, বেসরকারীসহ শত ছাড়িয়ে যাবে। আইটি ও টেলিকমিউনিকশনে বিগত গনতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। এখন দূরগ্রামেও সবুজ শ্যামল মাঠে কর্মরত কোন কৃষকের কানে বেজে উঠে মোবাইলের রিং টোন। আর এসব উন্নয়ন হয়েছে গনতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে তাদের কিছু জনস্বার্থে গৃহীত পলিসির কারণে। তারা নিজেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ তেমন সৃষ্টি করতে না পারলেও কর-অবকাশ, নতুন নতুন ইপিজেড করে প্লট বরাদ্দসহ আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বেসরকারী খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে। এটা তাদের করতে হয়েছে এ কারণে যে, ভোটের জন্য হলেও তাদেরকে জন গণের কাছে যেতে হবে। তাই জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে যদি বন্দুকের নল জায়গা দখল করে, তাহলে আমাদের ফিরে যেতে ৮০ র দশকের মত স্বৈরশাষনের অন্ধকার যুগে। অনেকে বলেন, এরশাদ আমল অনেক ভালো ছিল! এটা জানিনা তারা বুঝে বলেন কিনা জানিনা। সে সময় দেশে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকলে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিলো খুবই কম। দেশে বিনিয়োগ, ব্যাংক-বীমা, কর্পোরেট হাউজসহ সর্বোপরি বেসরকারী খাতের অবস্থা ছিলো শোচনীয়। জিডিপির অবস্থান ছিলো প্রায় শুন্যের কাছাকাছি।
অপরদিকে, বিগত ১৫ বছরের গনতান্ত্রিক সরকারের আমলে বেসরকারী খাত বিশেত: কর্পোরেট হাউজ, গ্রুপ অব্ ইন্ডাস্ট্রিজ, সেবা খাত, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি নানা সেক্টরে শত রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে- একথা যে কোন দূর্জনও স্বীকার করবেন। একারণে এখনকার ইয়াং জেনারেশানের বড় অংশ বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যেমন: ব্যাংক, বীমা, মোবাইল কো:, বসুন্ধরার মত কোম্পানীতে ভালো বেতনে চাকরী পাচ্ছে। সাবেক লে,জে, এর আমলে এসব কিছুই হয়নি যিনি আমাদের গর্বিত সেনাপ্রধান থেকে বন্দুকের নলে রাষ্ট্র খলনায়ক হয়েছিলেন। বিশ্বপ্রেমিক এরশাদ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামিদ-অভির মত সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছিলেন ছাত্রসংগঠন গুলোর বিরুদ্ধে, সাথে উছ্কে দিয়েছিলেন আভ্যন্তরীন কোন্দল যাতে তারা নিজেরা মারামারিতে ব্যস্ত থাকে, তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কোন সংগঠিত প্রতিবাদ না হয়। গনতান্ত্রিক আমলে অন্তত: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি না গেলেও, অস্রসহ গেরিলাযু্দ্ধ করতে কাউকে দেখা যায়নি, শিক্ষার পরিবেশ স্বৈরশাসন আমলের চেয়ে অনেক ভালো। এরশাদ এবং তার প্রথমা স্ত্রী টিভিতে তখন অনেক সুন্দর সুন্দর মন ভুলানো বক্তৃতা দিতেন। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি, পল্লীবন্ধু থেকে জনতার শত্রু হয়ে আশ্রয় হয়েছিলো নাজিম উদ্দিন রোডের লাল দালানে।
আমারা কি আবার সেই অন্ধকার যুগে ফিরে যাচ্ছি? আপনার কথা থেকে সেই আভাসই পাচ্ছি। ইতিহাসের শিক্ষা এইযে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না। স্যার, আমরা হতে চাইনা আরেকটি পাকিস্তান, হতে চাইনা আরেকটি মায়ানমার। এখন, আমি ভয় পাই সত্য বলতে, ভয় পাই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, ভয় পাই সরকারের ভুল কাজের সমালোচনা করে কিছু লিখতে, ভয় পাই জরুরী অবস্থাকে, যেমন ভয় পাচ্ছি এ লেখাটি লিখতে। বিগত ১৫ বছরে তো আমি কখনও মত প্রকাশে এমন ভয় পাইনি। তাহলে বলুন স্যার, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা কি করে ভয়হীন ভাবে আস্থার সহিত বিনিয়োগ করবে, ব্যবসা করবে? আর বিনিয়োগ ও ব্যবসা যদি না হয়, তাহলে মানুষ চাকরী হারাবে, নতুন করে কোন কর্মসংস্থান হবেনা। বিতর্কিত হবে আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনী।
১-১১ তে আপনারা জাতিকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশের শাসনভার গ্রহন না করে জরুরী অবস্থার জারীর মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করেছিলেন- এজন্য দেশের মানুষ কৃতজ্ঞ। রাজনীতিবিদরা দেশকে যেমন নিজেদের জমিদারী ভেবেছিলেন, সেজন্য তাদেরও একটা শিক্ষা হওয়া জরুরী ছিলো, যা তারা ইতিমধ্যে অনেকে পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি সরকারে অনেকগুলো ভুল সিন্ধান্তের কারণে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, সেই সাথে সরকারে জনপ্রিয়তার পারদও এখন একেবারে নিচের দিকে। তাই জনপ্রতিনিধিত্বের বিকল্প কিছু চিন্তা না করে সরকারকে রোড ম্যাপ অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব নির্ভুল ভোটার তালিকা করে যথাসময়ে নির্বাচন দিয়ে সম্মানজনক প্রস্থানই জনগণের কাম্য। তা না হলে দেশ ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী আরো গভীর সংকটে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না। আর, এর দায়ভার সরকারে চেয়েও সেনাবাহিনীর ঘাড়েই পড়বে বেশী। তখন এখনকার নায়করা খলনায়কে পরিনত হবেন- একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



