কে বলে বাংলা দ্বীনহীন, গরীব একটি দেশ... এখানে রয়েছে, ফায়েজের সূর্য্য, অবারিত সুখ, শান্তি অনিমেষ।

শবে বরাত - ১
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:২১
১.
শব ফার্সী শব্দ যার অর্থ রাত।
আর বরাত আরবী শব্দ (তবে উর্দূ, ফার্সী ভাষায় ব্যবহার হয়) যার অর্থ ভাগ্য, মুক্তি ইত্যাদি।
এক কথায় শবে বরাত-এর অর্থ হচ্ছে ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত।
কুরআন শরীফে বর্ণিত সলাত, সওম যেমন আমাদের দেশে নামায, রোযা হিসেবে পরিচিত ঠিক তেমনি কুরআন শরীফে বর্ণিত 'লাইলাতুম মুবারাকা' (বরকতময় রজনী) এবং হাদীস শরীফে বর্ণিত 'লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান' (অর্ধ শাবানের রাত্রি) আমাদের দেশে 'শবে বরাত' হিসেবে পরিচিত।
২.
মহান আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে বলেন,
"নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে (শবে বরাতে) কুরআন শরীফ নাযিল করেছি (অর্থাৎ নাযিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি)। নিশ্চয়ই আমিই ভয় প্রদর্শনকারী। উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজগুলো ফায়সালা করা হয়। নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।" সূরা দুখান/৩-৫
সর্বজনমান্য বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীরগুলোতে উল্লেখ আছে, এখানে 'বরকতময় রজনী' দ্বারা হাদীস শরীফে বর্ণিত 'অর্ধ শাবানের রাত' অর্থাৎ'শবে বরাত' কে বুঝানো হয়েছে। যেমন
রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর স্বীয় তাফসীরে উল্লেখ করেন,
"মহান আল্লাহ পাক 'লাইলাতম মুবারাকা' (বরকতময় রজনী) বলতে 'লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান' বা (শাবান মাসের মধ্য রাত)কে বুঝিয়েছেন। আল্লাহ পাক এ রাতে সকল প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিষয়ের ফায়সালা করে থাকেন।"
৩.
হাদীছ শরীফে আছে, হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, পাঁচটি এমন রাত্র রয়েছে যেগুলোতে দোয়া করলে তা বিফলে যায় না। ১.পহেলা রজবের রাত, ২.শা’বান মাসের মধ্যরাত অর্থাৎ শবে বরাত ৩.জুমুয়ার রাত ৪.পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত ৫.পবিত্র ঈদুল আযহার রাত। - দায়লামী শরীফ
অর্থাৎ আল্লাহ পাক বছরের যে সব রাতে বিশেষভাবে বান্দার দোয়া, আরজু কবুল ও পূরণ করে থাকেন তার মধ্যে শবে বরাত অন্যতম।
শবে বরাতে আল্লাহ পাক অসংখ্য উম্মতে মুহম্মদীকে ক্ষমা করে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, "আমি আল্লাহ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসারীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে কোন এক রাত্রিতে রাত্রিযাপন করছিলাম। এক সময় তাঁকে বিছানায় না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়ত অন্য কোন হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে তাঁকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিনি উম্মতের জন্য আল্লাহ পাক-এর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফে ফিরে আসলে তিনিও ফিরে এসে আমাকে বললেন, আপনি কি মনে করেছেন, আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিলাফ করেছেন! আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারনা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো অপর কোন উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাস নাযিল করেন, অতঃপর তিনি বণী ক্বালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে অধিক সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন।" - তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, রযীন, মিশকাত শরীফ
হাদীছ শরীফে আরো আছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক শা’বানের মধ্য রাতে (শবে বরাতে) বণী কালব্, বণী মুদ্বার, বণী রবী এই তিন গোত্রের মেষের পশমের সমসংখ্যক আমার গুণাহগার উম্মতকে ক্ষমা করে দিবেন।
বর্ণিত রয়েছে, উক্ত প্রত্যেক গোত্রে বিশ হাজারেরও অধিক মেষ ছিল।
অন্য হাদীছ শরীফে আছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক শা’বানের পনের তারিখ রাতে (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) ঘোষণা করেন যে, তিনি তাঁর সমস্ত মাখলুকাতকে (জিন-ইনসান) ক্ষমা করে দিবেন।" - ইবনে মাজাহ্, আহমদ, মিশকাত শরীফ
অর্থাৎ এই রাতে খালিসভাবে তওবা-ইস্তিগফারকারী সকল উম্মতে মুহম্মদীকেই আল্লাহ পাক ক্ষমা করে দিবেন ।
(আর একটু বাকি আছে ওটা কালকে দিবো)
লেখক বলেছেন: ১."আমি যতোদূর জানি কোরআন নাজিল হয়েছে শবে কদরে , শবে বরাতে নয় ।"
হ্যা,কুরআন শরীফ শবে কদরে নাজিল হয়েছে ।
সফওয়াতুত তাফাসীর, তাফসীরে খাযীন, তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে কবীর, বাগবী, কুরতুবী, রুহুল বয়ান, রুহুল মায়ানী, আবী সউদ, বাইযাবী, দূররে মানসূর, জালালাইন, কামালাইন, তাবারী, লুবাব, নাযমুদ দুরার, গরায়িক, মাদারিক ইত্যাদি বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীরগুলোর মুফাসসিরগণ বলেছেন "নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি" এর ব্যাখ্যা হল "নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি।"
কারণ এর পরের আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ পাক বলেন "উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজগুলো ফায়সালা করা হয়।"
আর হাদীস শরীফ দ্বারাও জানা যায়, এই রাতে হায়াত, মউত, রিযিক, আমল ইত্যাদি বিষয়ের ফায়সালা করা হয়।
যেমন হাদীস শরীফে আছে, "শাবানের মধ্য রাত্রিতে ফায়সালা করা হয় কত জন সন্তান এ বৎসর জন্ম গ্রহণ এবং কত জন মৃত্যু বরণ করবে। এ রাত্রিতে বান্দাদের আমলগুলো উপরে উঠানো হয় এবং এ রাত্রিতে বান্দাদের রিযিকের ফায়সালা করা হয়।"-বায়হাকী, মিশকাত।
সে হিসাবেই মুফাসসিরগণ বলেছেন এই আয়াত শরীফ দ্বারা শবে বরাতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালার কথা বুঝানো হয়েছে।
আর সূরা কদর-এর "আমি কদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি" এ আয়াত শরীফ সম্পর্কে মুফাসসিরগণ বলেছেন, এর ব্যাখ্যা হলো "আমি কদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল করা শুরু করেছি।"
২.হ্যা,দায়লামী শরীফ হাদিস গ্রন্থের নাম। এটা সিহাহ সিত্তা না। তবে এটা গ্রহনযোগ্য। কারণ হানাফী মাযহাবে আমলের জন্য জয়ীফ হাদীসও গ্রহনযোগ্য। সুতরাং এটা তো গ্রহনযোগ্য হবেই।
৩.না এই বরকতময় রাতের কথা অন্যদেরকেও বলেছেন। যেমন হাদীছ শরীফে আছে, "হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রি অর্থাৎ বরাতের রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, "কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।" কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করব।" "কোন মুছীবতগ্রস্থ ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছীবত দূর করে দিব।" এভাবে ফযর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন। - ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ।
ধন্যবাদ আপনাকে
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: মেইল আইডি? আমার আসলে ই-মেইল ইউজ করা হয় না। শুধুমাত্র সামহোয়্যারে রেজিস্ট্রেশন করার কারণে একটা ই-মেইল আইডি আছে, নাহলে তাও থাকতো না।
আমাকে কিছু বলতে চাইলে, এখানে বললেই হবে।


















আপনি বলেছেন :
"কুরআন শরীফে বর্ণিত সলাত, সওম যেমন আমাদের দেশে নামায, রোযা হিসেবে পরিচিত ঠিক তেমনি কুরআন শরীফে বর্ণিত 'লাইলাতুম মুবারাকা' (বরকতময় রজনী) এবং হাদীস শরীফে বর্ণিত 'লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান' (অর্ধ শাবানের রাত্রি) আমাদের দেশে 'শবে বরাত' হিসেবে পরিচিত।"
আমি যতোদূর জানি কোরআন নাজিল হয়েছে শবে কদরে , শবে বরাতে নয় ।
২. দায়লামী শরীফ কি হাদিস গ্রন্থের নাম ? এটি কি সহীহ সিত্তা বা
বিশ্বস্থ ৬টি হাদীস গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত ?
৩. তিরমিজি শরীফের হাদিসটি প্রামান্য । কিন্তু দেখা যাচ্ছে হযরত ( সা : ) এই বরকতময় রাতের কথা কাউকে বলেন নাই । বিবি আয়েশা ( রা.) উনাকে রাত্রে বিছানায় না পেয়ে প্রশ্ন করলে শুধু বিবি আয়েশা ( রা. ) কে বলেছিলেন ।
সেক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী ? হযরত ( সা . ) কাউকে না বলার পেছনে মহিমা কী ? বিবি আয়েশা ( রা. ) যদি সেই রাতে ঘুম থেকে জেগে না উঠতেন তাহলে এই রাতের কথা তো জানা হতো না ।