কে বলে বাংলা দ্বীনহীন, গরীব একটি দেশ... এখানে রয়েছে, ফায়েজের সূর্য্য, অবারিত সুখ, শান্তি অনিমেষ।

শবে বরাত - ২
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:৫৮
এই রাতের ইবাদত-বন্দেগী সম্পর্কে
হাদীছ শরীফে আছে, "হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রি অর্থাৎ বরাতের রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, "কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।" কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করব।
" "কোন মুছীবতগ্রস্থ ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছীবত দূর করে দিব।" এভাবে ফযর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন। - ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ
অন্য এক হাদীছ শরীফে আছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যে অর্ধ শা’বানের রাতে ইবাদতে মশগুল থাকে।"
আরেক হাদীছ শরীফে হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "হে মু’মিনগণ! তোমরা শা’বান মাসের মধ্য রাতে জাগ্রত থাক। কেননা, এ রাত অতিশয় বরকতময়। এ রাতে স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন বলতে থাকেন, হে বান্দাগণ! তোমাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনাকারী কেউ আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কেউ রিযিক প্রার্থী আছে কি? তাকে রিযিক দান করবো। কেউ বিপদ মুক্তিকামী আছে কি? তার বিপদ দূর করে দিব।"
শবে বরাতের রাতে ইবাদত-বন্দেগী, দোয়া-মুনাজাতকারীর প্রতি সাত জন ফেরেশতার সাত প্রকার সুসংবাদের ঘোষণা সম্পর্কে উকনা নামক কিতাবে বর্ণিত আছে, হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম শবে বরাতে হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আজকের এই শবে বরাতের রাত্রিতে ইবাদতে নিমগ্ন থাকুন। কেননা এই রাত্রিতে যাবতীয় মাক্বছুদ পুরা করা হবে। অতঃপর সে মুতাবিক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ শবে বরাতের সারা রাত্রি ইবাদতে নিমগ্ন থাকলেন এবং হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম পুনরায় তথা দ্বিতীয়বার এসে বললেন, হে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার উম্মতদেরকে সুসংবাদ প্রদান করুন যে, যারা মহান আল্লাহ পাক-এর সাথে শিরক করে না এদের সকল নর-নারীকে মহান আল্লাহ পাক ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাথা মুবারক উত্তোলন করার সাথেই সাথেই দেখতে পেলেন জান্নাতের দরজাগুলো অথবা আকাশের দরজাগুলো উন্মুক্ত। প্রথম আকাশের দরজার উপরে একজন ফেরেশতা রয়েছেন। তিনি আওয়াজ দিয়ে বলছেন, ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যিনি এই অর্ধ শা’বানের রাত্রিতে তথা শবে বরাতের রাত্রিতে রুকু করেছেন। অতঃপর দ্বিতীয় আকাশের দরজায় অপর একজন ফেরেশতা রয়েছেন তিনিও উচ্চ স্বরে বলছেন, ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যিনি শবে বরাতের রাত্রিতে সিজদায় রত ছিলেন। এইরূপ তৃতীয় আকাশের দরজায় একজন ফেরেশতা রয়েছেন তিনিও উচ্চ আওয়াজে বলতে থাকেন, ঐ ব্যক্তির জন্য সূসংবাদ, যিনি শবে বরাতের রাত্রিতে মানুষের জন্যে দোয়া করে থাকেন। অনুরূপভাবে চতুর্থ আকাশের দরজায় একজন ফেরেশতা আওয়াজ দিয়ে বলতে থাকেন ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যিনি এই শবে বরাতের রাত্রিতে আল্লাহ পাক-এর ভয়ে কাঁদছেন। পঞ্চম আকাশের দরজায়ও একজন ফেরেশতা উচ্চ আওয়াজে বলতে থাকেন ঐ ব্যক্তির জন্যে সুসংবাদ, যিনি এ রাত্রিতে ভাল কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। অনুরূপভাবে ষষ্ঠ আকাশের দরজা একজন ফেরেশতা এ মর্মে আওয়াজ করে বলেন, এমন কোন ব্যক্তি আছেন, যিনি সত্যিকার ভিক্ষুক? তিনি যা কিছু কামনা করবেন তাই পাবেন। তদ্রুপ সপ্তম আকাশের দরজায় একজন ফেরেশতা এ বলে চিৎকার করে থাকেন যে, এমন কোন পাপী আছে কি? ক্ষমা প্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করে দিবেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালামকে জিজ্ঞাসা করলাম, এ সমস্ত দরজাগুলো কতক্ষণ পর্যন্ত খোলা থাকবে? তিনি উত্তরে বললেন, সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "এই শবে বরাতের রাত্রিতে মহান আল্লাহ পাক বনী কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে ক্ষমা করে থাকেন।"
সুতরাং আমাদের অবশ্যই উচিত এই রাতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী করা, আমাদের ভূল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাওয়া, নামায-কালাম পড়া, রোযা রাখা।
শবে বরাত সম্পর্কে একটা ঘটনা না বললেই নয়,
আখিরী নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন "একদা হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম একটি পাহাড়ের উঁচু চুড়ার উপর দিয়ে পথ চলতে ছিলেন। হঠাৎ করে ঐ পাহাড়ের উপরেই একটি সাদা পাথর দেখতে পেলেন। অতঃপর আল্লাহ পাক-এর নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ঐ পাথরের চারি পাশে ঘুরে আশ্চর্যান্বিত হলেন। অতঃপর তাঁর আশ্চর্যবোধ হওয়া দেখে মহান আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ওহী করে বললেন, হে আমার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম! আপনি সাদা পাথরখানা দেখেই আশ্চর্য হয়েছেন! এর চেয়ে আশ্চর্যজনক বস্তু আপনি কি দেখতে চান?
জবাবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, হ্যাঁ, বলতে না বলতেই পাথরটি ফেটে গেল। পাথরের মধ্যে সবুজ রং এর লাঠি হাতে একজন বুযূর্গ ব্যক্তি দাঁড়ানো আছেন এবং তার সামনে একটি আঙ্গুরের গাছ বিদ্যমান। অতঃপর সেই বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, এটা আমার প্রতি দিনের খাবার। অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ঐ বুযূর্গ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি কতকাল পর্যন্ত এই সাদা পাথরের ভিতরে মহান আল্লাহ পাক-এর ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত আছেন? হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর এই প্রশ্নের জবাবে বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, সুদীর্ঘ চারশত বছর ধরে এই পাথরের ভিতরে আমি ইবাদত বন্দেগী করছি। তখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম (আরো আশ্চর্য হয়ে) বললেন, ইয়া বারে ইলাহী! আমার ধারণা যে, হয়তো বা আপনি এই বুযূর্গ ব্যক্তির চেয়ে আর কোন উত্তম মাখলুক সৃষ্টি করেননি। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর এই আবেগপূর্ণ বাণী শুনে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, উম্মতে মুহম্মদীর কোন ব্যক্তি যদি অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে ২ রাকায়াত নামায আদায় করে তা ঐ বুযূর্গ ব্যক্তির চারশত বছরের ইবাদত হতেও উত্তম হবে।
অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম এ কথা শুনে বললেন, হায় আফসোস! যদি আমি আখিরী নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হতে পারতাম।
মহান আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর এই মুবারক ফরিয়াদখানা কবুল করেছেন।
অর্থাৎ এই শবে বরাত শুধমাত্র হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই উম্মতে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করা হয়েছে।
(সবগুলো হাদীসের দলীল এই মূহুর্তে দিতে পারছি না। পরে দিয়ে দিবো ইনশাল্লাহ্।)
লেখক বলেছেন: চলে যাচ্ছিলাম, আপনার কমেন্ট দেখে আবার লগ ইন করলাম।
আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ
অনেক ভালো থাকুন।
অবশ্যই স্মরন করবো, আপনিও আমাকে স্মরন করেন কিন্তু.....
বন্ধ্ু বলেছেন:
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানতে পারলাম।একটা প্রশ্ন:
অনেকে বলে শবে বরাত রাতে রাত জেগে ইবাদত করার কোন নিয়ম নাই, যেমন শবে কদর রাতে নামায পড়া নিয়ে আছে।
তাই আপনি যদি কিছু জানেন আমাদেরকে জানাবেন?
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আমি বিভিন্ন বই পড়ে যা জেনেছি, সেটা হলো,
কুরআন সুন্নাহ্য় নির্দিষ্ট করে কোনো নামাজ পড়তে বলা হয়নি।
তবে শবে বরাত উপলক্ষ্যে ৪, ৬, ৮, ১০, ১২ রাকাত নামাজ পড়া যায়।
আর সলাতুত্ তাসবীহ্-এর নামাজ পড়া যায়, যার দ্বারা গুনাহ্-খাতা ক্ষমা হয়।
তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া যায়, যার দ্বারা আল্লাহ্ পাকের নৈকট্য হাসিল হয়।
আবার কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা যায়, যার দ্বারা আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি হাসিল হয়। কেননা নফল ইবাদাত এর মধ্যে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত হচ্ছে সর্বোত্তম।
দুরুদ শরীফ পড়া যায়, যার মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক-এর রাসূলের সন্তুষ্টি হাসিল হয়।
এই তো এরকম অনেক কিছুই করা যায়।
উত্তর দিতে দেরী হয়ে গেলো কিছু মনে করেন না। আমি আসলে তাড়াতাড়ি লেখতে পারিনা।
আবারো ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।
জুবাইর রেযা বলেছেন:
ধন্যবাদ. স্মরন করবো ইনশাআল্লাহ আয্যাওয়াজাল।
লেখক বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ আপনাকে।
হেরিটেজ বলেছেন:
ধননবাদ
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।
গিফার বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ ভাই......খুবি দরকারি পোস্ট এসব পোস্ট দিতে থাকবেন......
অনেক ধন্যবাদ.......
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
আপনারা যদি পড়েন তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করবো এরকম আরো কিছু পোস্ট দিতে।
উৎসাহ দেয়ার জন্য আবারও ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।
সাগর সরকার বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ।খুবি দরকারি পোস্ট ।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রিয় পোস্টের লিস্টে এই পোস্টটা দেখে অনেক ভালো লাগলো।
আপনাকে অনেএএএক ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।


















আমাকে দোয়ায় স্নরন করবেন।