কিছু দিন আগে বাউবির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি?!! তদন্ত কমিটি গঠন!!!! পোস্ট টি প্রকাশ করেছিলাম!! সেই পোস্ট থেকে ইতিমধ্যেই সকলে জেনে গিয়েছেন যে বাউবির পাঠ্যবই বাজেয়াপ্ত করা হয় ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে!! অভিযোগ করা হয় যে, মুজিবের স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি মিথ্যা!!
আজকে বহুল পঠিত একটি বই থেকে কিছু উদ্বৃতি দেয়ার আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস!! বইটির নাম মুলধারা '৭১। লিখেছেন মঈদুল হাসান!!
""""জানুয়ারী বা সম্ভবত তার আগে থেকে যে সমর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল তার অবশিষ্ট আয়োজন সম্পন্ন করার জন্য মার্চের মাঝামাঝি থেকে ইয়াহিয়া-মুজিব আলোচনার ধুম্রজাল বিস্তার করা হয়। এই আলোচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যুগপথ সন্দিহান ও আশাবাদী থাকায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষে আসন্ন সামরিক হামলার বিরুদ্ধে যথোপযোগী সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।সম্ভবত একই কারনে ২৫/২৬শে মার্চের মধ্যরাতে টিক্কার সমর অভিযান শুরুর হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাধীনতার স্বপক্ষে সুষ্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহন করে উঠতে পারেন নি। শেষ মুহুর্তে আওয়ামীলীগের নেতা ও কর্মী যারা তার সাথে দেখা করেছিলেন, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েও তাদের সকল অনুরোধ উপেক্ষা করে সম্পুর্ন নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব রয়ে যান নিজের নিজের বাসভবনে।সেখান থেকে গ্রেফতার হন হত্যাযগগের প্রথম প্রহরে।কিন্তু যেভাবেই হোক, ঢাকার বাইরে এই কথা রাষ্ট্র হয়ে পড়ে যে, বংগবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন এবং পাকিস্থানী হানাদারদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামের নেতৃত্ব দান করে চলেছেন। সম্ভবত: তিন সপ্তাহাধিক কালের অসহযোগ আন্দোলনের জোয়ারে বাংলাদেশের সাধারন মানুষের চেতনায় এমন এক মৌল রুপান্তর ঘটে যে পাকিস্থানীদের নৃশংস হত্যাকান্ড শুরু হওয়ার সাথে সাথে বাংলার স্বাধীনতাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে। পাকিস্থানীদের আক্রমনের সাথে সাথে অধিকাংশ মানুষের কাছে শেখ মুজিবের ৭ ই মার্চের ঘোষনা হয়ে ওঠে এক অভ্রান্ত পথ-নির্দেশ।""""
সুত্র: মঈদুল হাসান, মুলধারা '৭১, প্রথম অধ্যায়!!!
মঈদুল হাসান একজন আওয়ামী ঘরানার লেখক!! যিনি তাজউদ্দিন আহমেদের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন!! আরেকটি ব্যাপার বলে রাখা ভাল বইটির প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৫/৮৬ সালে!! দ্বিতীয় প্রকাশ ১৯৯২ সালের দিকে!!
যেই জিনিষটি খেয়াল করার মত তা হল মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষনার তথাকথিত টেলিগ্রামের কথা এখানে উল্লেখ করা হয় নি!! কারন, পরে দেখা যাবে যে, সেই সময়ে আম্বা নেতা হান্নানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর একটা প্রচেষ্টা ছিল!! আজকাল অবশ্য এই হান্নানের কথা আর খুব একটা বলা হয় না!! এই কারনে অবশ্য দেখা যায় ওই সময়টিতে ৭ ই মার্চের ভাষনকে উপজীব্য করে তোলার একটা প্রয়াস সেখানে ছিল!!
লেখকের বইয়ের এই অংশ থেকে এইটাই প্রতীয়মান হয় যে, মুজিবকে অনেক অনুরোধ করার পরেও তিনি স্বইচ্ছায় নিজের বাস ভবনে থেকে যান এবং গ্রেফতার হন!!স্বাধীনতা যুদ্ধের কোন ধরনের প্রস্তুতিই ছিল না মুজিবের ডায়রীতে!!
ইতিহাস বিকৃতির মিথ্যে অভিযোগ তুলে পাঠ্য বই বাজয়াপ্ত করা ও তথাকথিত তদন্ত কমিটি গঠনের নামে কিছু নিরাপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাই আসুন আজ প্রতিবাদ জানাই!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

