মদনঠাকুরের সাথে দেখা হয়েছিল নেত্রকোনার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের সহিলপুর গ্রামে। কবিয়াল নাম শুনেছি কিন্তু সাক্ষাৎ দেখলাম তাঁকে। ৯০ বছরের এই বুড়োর দাত নেই তারপরও ছন্দ শুনে মাথা নষ্ট। পরে জানতে পেলাম কবিয়াল ঘারানার যত শিল্পী ছিলেন ইনিই তাদের মধ্যে শেষ ব্যাক্তি। মদনঠাকুর মরে গেলে দেশে আর কবিয়াল নেই।
হঠাৎ কইরা আইলো ধুণ
টাকার ভেতর কত গুন
নির্দোষী হয় কইরা খুন
টাকার ভিতর দিয়া
লোকে একটা কথা বলে
পুত্র শোকও টাকায় ভোলে
কতশত কর্ম চলে
টাকা হাতে নিয়া
টাকা জানি পরমার্থ
টাকাহীনের জনম ব্যার্থ
জনসমাজে অপদার্থ
স্বার্থ কি তার বেঁচে
ধারকর্য চাইলে দেয়না
খাইছি কিনা খবর নেয়না
গরিবের এ জাতনা
জীবন ভরই আছে
আবার ধনী লোকের স্ত্রীলোকে
খায় পরে মনের শুখে
দাম্পত্য সুখ শান্তি রাখে
কান্তি থাকে ভাল
গরিবের স্ত্রীর ফুর্তি নাই
অঙ্গের ভেতর অঙ্গার ছাই
কিবা খাইবাম কইবা যাই
এই নিয়া দিন গেল
টাকা হইলো জগতের ভর
আত্মীয় যাইগা হইয়া পর
টাকা যদি না পায় ঘর
ঠিক থাকে না কেহ
এই পর্যন্ত বলে যাই
অর্থ ছাড়া বর্ত নাই
যেভাবে হোক টাকাই চাই
কি দিব তার সীমা
টাকার আকার দেখতে গোল
কুলহীনের আনে কুল
না থাকলেও গোন্ডগোল
সর্বমুল্ই টাকা
বেচে থাকতে টাকার কাম
মরলেও যায়না উহার দাম
যত অতি কাজ কাম
নিয়া টাকার বল
টাকাই জানি বুদ্ধি আনে
দেশে দশে গোনে মানে
অচেনা লোক সেও চেনে
আবার দুব্বলে পায় বল
এই তো বললাম টাকার ফলাফল।
(কবিয়াল মদনঠাকুরের টাকা নিয়ে ছন্দ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

