ফাগুনের আগুনে পুড়ে ভালবাসা নাকি তরলায়িত হচ্ছে, কাল ১৪ই ফেব্রুয়ারী সেই তরলায়িত ভালবাসাবাসিতে (নাকি বেহায়পনায়) সয়লাব হবে রাস্তা ঘাট, পার্ক, ক্যাম্পাস ও আধো অন্দ্বকার বার, ঝুপড়ি - জঙ্গল।
আসলে ভালবাসা দিবস কাদের সংস্কৃতি, বছরের একটা দিনই কি ভালবাসব? কিছু বক ধার্মিক হয়তো কঁকিয়ে উঠে বলবে, এই ভালবাসা হতে পারে ভাই বোন, পিতা মাতা বা আত্বিয় স্বজনের সাথে, মানুষে মানুষে, মানুষে পশুতে ……… ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃত চিত্র আমাদের কি বলে, পারিবারিক ভালবাসার জন্যে এমন একটা দিবস পালনের আদৌ কোন প্রয়োজন আছে? বিশেষতঃ কোন মুসলিম সমাজে, যে সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ -অনুশাসন পারিবারিক বন্দ্বন অত্যন্ত সুদৃঢ়? আমাদের সমাজে কি ভাই বোন, পিতামাতা -সন্তান, আত্মিয় স্বজনে, বন্দ্বু-বান্দ্ববে ভালবাসার ঘাটতি পড়েছে যে ভিনদেশ থেকে একটা দিবস আমদানি করতে হবে ভালবাসার জন্য?
নাকি ভালবাসা দিবস তরুন তরুনিতে, যুবক যুবতিতে যৌন সুড়সুড়ি আর বেলেল্লাপনার অবাধ লাইসেন্স? রাস্তার মোড়ে পাড়াতো ভাইদের অশ্লিল টিজিং ফলে উত্তক্ত তরুনীর আত্মহনন কিংবা স্কুল কলেজগামী কোন ছাত্রীর শিক্ষাজীবন স্তব্দ বখাটেদের অত্যাচারে? ভালবাসার টানে পরকিয়ায় আসক্তি - স্বামী স্ত্রী তে দন্দ্ব ফলশ্রুতি সংসারে অশান্তি - পারিবারিক ভাঙন – খুন খারাবি, অথবা ভালবাসের টানে তরুন তরুনির গৃহত্যাগ - পরিবারের মুখে চুনকালি। ভালবাসার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য কি?
ভালবাসা দিবস কাদের সংস্কৃতি:
ভালবাসা দিবস তো সে সমাজের সংস্কৃতি যে সমাজে বছরের ৩৬৫ দিনেই ভালবাসা-মানবতা অনুপস্থিত, পরিবারের বয়োজৈষ্ঠ ব্যক্তির অনিবার্য্ স্থান বৃদ্বাশ্রম, বস্তুবাদী ভোগবাদি জীবনের যাতাকলে পারিবারিক বা সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত, প্রগতি আর স্বাধীনতার নামে ফ্রি মিক্সিং ফলশ্রুতি বেহায়পনা, কলহ, অবিশ্বাস, অশান্তি। অসংখ্য কুমারি মাতা ৬০% আনরিকগনাইজড় সন্তান, যে সমাজে ৯৮% লোক মদ্যপ, মাতাল হয়ে নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচার করে, ১৩% লোক স্বেচ্ছায় নিজ কন্যার সাথে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলে, প্রতিটি মানুষ অন্তত ৭ জন সঙ্গীর সাথে লিভ টুগেদার করে বিবাহিত জীবনে থিতু হবার আগে বা জন্যে। যে সমাজের অন্তত ৩০% লোক সমকামি।
এহেন কদর্য সমাজ থেকে আমরা কি পেতে পারি? কি আদর্শ দিতে পারে আামাদের কে এ সমাজ? বরং পৃথিবীতে মুসলমানরাই একমাত্র জাতী যারা নিজেদের ধর্ম, ধর্মীয় মূল্যবোধ, অনুশাসন, সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক বন্দ্বন … ইত্যাদি নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি। হ্যা, আমাদের মধ্যেও মদ্যপ আছে, ব্যভিচারি আছে, অপরাধি আছে – তবে তা সংখ্যায় অতি নগন্য, সমাজের চোখে অপরাধি - ঘৃনিত।
ইসলামের আলোকে ভ্রাতৃত্ববোধ:
১. মুসলমানরা একে অপরের ভাই
২. সে ব্যক্তি মুসলমান নয়, যার কাছ থেকে অন্য আরেক মুসলমান (কথা, কাজ, আচরন)নিরাপদ নয়।
৩. সে ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যে নিজে পেট পুরে খায়, কিন্তু তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে।
৪. যে ব্যিক্ত একজন মানুষ হত্যা করল সে যেন পুরা মানবজাতীকে হত্যা করল আর যে ব্যক্তি একজন মানুষকে রক্ষা করল সে যেন পুরা মানব জাতিকে রক্ষা করল।
৫. তোমরা যদি মা বাবা উভয় কে বা একজনকে বৃদ্বাবস্থায় পাও, তবে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার কর, তাদের প্রতি করুনার দ্বার প্রশস্ত করে দাও তাদের সামনে উফ্ শব্দটিও উচ্চারন করোনা আর বল হে আমার রব, তুমি তাদেরকে (পিতা মাতাকে) সেভাবে লালন পালন কর যেভাবে তারা আমাকে শিশুকালে অতি যত্নসহকারে প্রতিপালন করেছেন।
৬. সে ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় যে বড়দের সম্মান করেনা ছোটদের স্নেহ করেনা।
(উপরোক্ত কথা গুলো কোরআন ও হাদিস হতে উদ্বৃত, স্মৃতিনির্ভর লেখা তাই শব্দগত বা ভাষাগত ব্যত্যয় ঘটতে পারে বিধায় সরাসরি রেফার করছিনা)
ভালবাসা দিবস সম্পর্কে আরো পড়ুন:
Click This Link
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


