বর্তমান তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন ইস্যুতে অনেকগুলো কার্য্যকরি আন্দোলন হতে পারতো, কিন্তু স্বঘোষিত বুদ্বিজীবি নামক ভারতীয় উচ্ছিস্ট ভোগী পরগাছারা সুকৌশলে জাতীর দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে নিবদ্ব রাখতে বহু বিতর্কিত পুরনো একটি ইস্যুকে সামনে নিয়ে এগোচ্ছে।
বিগত রাজনৈতিক সরকারগুলো প্রবল জন আপত্তির মুখে যে সব বিষয়ে ভারতকে ছাড় দিতে পারেনি, ভারত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কে দিয়ে সে সব করিয়ে নিচ্ছে, আর এ জন্য জাতীকে বিভক্ত রাখতে বা জাতীর দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে সরিয়ে রাখতে সামনে নিয়ে এসেছে এক দঙ্গল মতলববাজকে .... যারা মূলত: ভারতের ক্রিড়নকের ভুমিকা পালন করছে।
বর্তমান সময়ে প্রধানতম যে সব বিষয়ে জাতীকে সচেতন ও প্রতিবাদি হওয়া দরকার বা এ নিয়ে একাধিক আন্দোলন হতে পারতো বলে আমি মনে করি, তা হলোঃ
আন্তর্জাতিকঃ
১. চাল নিয়ে ভারতের চালবাজি, ৩৪০ ডলারের চাল ৫০৫ ডলার নির্ধারন, অতপর: চুক্তি ভঙ্গ করে নানা ছল ছুতোয় ৬৫০ ডলারে উন্নিত করে চাল আমদানি ব্যহত করা, পিনাক চক্রের কুটুক্তি .. তারপর ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দেবার আবদার বোধ করি ভারতের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকে স্পস্ট করে দিয়েছে, তার বিরুদ্বে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।
২. গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা ভারতের অনিহা, অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বন্টন নিয়ে ভারতে টালবাহানার প্রতিবাদ ও জাতী সংঘে উথ্থাপন।
৩. ফারাক্কা বাঁধের বিরুপ প্রভাবের তিব্র প্রতিবাদ, আরো সমুহ ক্ষতি হতে দেশ রক্ষা কল্পে বিকল্প বাঁধ দেয়া ও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের।
৪. বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদিদের ভারতের আশ্রয় - প্রশ্রয় ও সহযোগিতা দানের প্রতিবাদ।
৫. পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের কে ভারত কর্তৃক পূনঃ সংগঠিত ও অস্ত্র সরবরাহ করার প্রতিবাদ।
৬. তিন ভিগা করিড়োরসহ বিভিন্ন সিট মহলের সমস্যা সমাধানের দাবী ও অমিমাংসিত সিমানা নির্ধারনের দাবী।
৭. ভারতের সিমান্ত সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রচারনা চালানো।
৮. ভারতীয় চোরা চালান, মাদক অস্ত্র চালানের প্রতিবাদ ।
৯. সিমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বা খাঁচা বানানোর প্রতিবাদ।
১০. ভারতকে তত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক আকাশ পথে ট্রানজিট প্রদান ও ভারতীয় শর্ত মেনে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দানের প্রতিবাদ।
১১. ভারতের সাথে বানিজ্যঘাটতি কমানোর দাবী।
১২. শুধুমাত্র ভারত মুখী না থেকে অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন, বিশেষতঃ মুসলিম দেশের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনের দাবী।
১১. ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দানের পাঁয়তারার প্রতিবাদ।
১২. মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রপ্তানীর সমস্যা সমাধানের দাবী।
আভ্যন্তরিন:
১. দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দৃর্বৃত্তদের শাস্তি প্রদান।
২. দ্রব্য মূল্যের উর্ধগাতি।
৩. সার সংকট
৪. নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত মূলক আচরন
৫. ভোটার পরিচয় পত্রে জনগনের ধর্মীয় পরিচয় না রাখা।
৬. তথাকথিত নারী নীতিমালা প্রনয়ন করে ধমীয় অনুভুতিতে আঘাত হানা, নারীকে পুরুষের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় নামানো।
৭. যথাশীঘ্র জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান।
৮. বন্দ্ব কল কারখানা চালু।
৯. বিদেশী দূতাবাস বা সাহায্য সংস্থর দেশের আভ্যন্তরিন বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ
১০. কয়লা নীতি প্রনয়ন, তেল গ্যাস অনুসন্দ্বানে স্বচ্চতা আনয়নের দাবী, এ ক্ষেত্রে দেশীয় সংস্থা কে অন্তর্ভুক্তি করনের দাবী .......... ইত্যাদিসহ হাজারো ইস্যুতে দেশবাসিকে সংগঠিত করা যেতো, তাতে দেশবাসীর লাভ হতো।
কিন্তু তথাকথিত বুদ্বিজীবি ও ভুঁইফোড় সেক্টর কমান্ড়ারস ফোরামের কথিত যুদ্বারাধীর বিচারের দাবীতে লম্ফ ঝম্ফ দেখে মনে হয় দেশে বুঝি আজ এই একটাই সমস্যা। আসলে এটা আসল সমস্যাগুলোকে আড়াল করার কুট কৌশন, দীর্ঘ্য মেয়াদে দেশকে পরনির্ভরশীল রাখার চক্রান্ত, জাতীকে বিভ্রান্ত বা অনৈক্য রেখে দেশ বিশেষকে অন্যায় সুবিধা দানের অপচেষ্টা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

