উৎসঃ উপরোক্ত বাক্যটি টিভি চ্যানেলগুলোতে বহুল প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপন থেকে শুনে আমাদের মহামতি হাসিনা নকল (উদ্বৃত) করেছেন, গতকাল চ্যানেল ওয়ানের সংবাদে বলা হয়, মহারত্ন হাসিনা তার অধ্যায়নকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (ঢাবি) শিক্ষকদের সাথে আলাপ কালে একথা বলেন।
(যদিও আমরা জানি দেশিকোত্তম (!?) হাসিনা ইডেন কলেজে পড়েছেন, এরপর বিদেশে, অবশ্য না পড়েও তিনি ডজনখানেক ডিগ্রী খরিদ / দখল করেছেন, আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে হয়তো ডিগ্রীর সেঞ্চুরী করে গ্রীনিচ বুকে রেকর্ড করে নিতেন এবং জাতীর মুখ উজ্জ্বল করতেন)।
উদ্দেশ্যঃ প্রকৃত চাঁদাবাজদের সাথে তাকেও (দূর্নীতি চাঁদাবাজি না করা সত্বেও ?) গ্রেফতার করে সবাইকে এই দেশরত্নের (!) সমান্তরালে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁর সাথে সাথে প্রকৃত অপরাধিদের ছেড়ে দিয়ে ঢালাওভাবে সবাইকে নির্দোষ সাব্যস্ত করার প্রয়াস পেয়েছে সরকার। রূপকার্থে তিনি নিজেকে ৫ টাকার মিনি সার্ফএক্সেলের সাথে তুলনা করে, তাকে দিয়ে অন্যদের ঘসা মাজা করে সাফ করার কথা বলেছেন, যা তার জন্য মানহানীকর।
ব্যাখ্যাঃ
১/১১ এর পর পরিচালিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে এই মহামতি কে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করে চৌদ্দ শিকায় ঢুকিয়ে লাল ডেগের ভাত খাওয়ানো হয়। অথচ তার বিরুদ্বে মাত্র ১০/১৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজি আর হাজার দেড়েক কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক দূর্নীতির অভিযোগ ছাড়া মারাত্মক কোন অভিযোগ ছিলনা। বাদির অভিযোগ ও চেকের কপি আর রিমান্ড়ে গিয়ে নানক, আজম, ট্রাম্পকার্ড জলিল, শেখ সেলিম আর ওবায়দুল কাদেরদের বড় বড় করে বলে দেয়া স্বিকারোক্তি আর সর্বশেষ পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট ব্যতিত আর কোন উপযুক্ত দলিল প্রমানাদিও ছিলনা। তদুপরি বর্তমান সরকার এই মহামতিকে গ্রেফতার করে শুধু অন্যায়ই করেনি, সমগ্র জাতীর কপালে কলঙ্কের তিলক লেপটে দিয়েছে। কারণ তিনি দেশের একমাত্র / কেবলমাত্র / শুধুমাত্র মহামতি, দেশরত্ন, দেশীকোত্তম, অদ্বিতীয়া, অতুলনীয়া নেত্রী (!?), ষড়যন্ত্রের মানস কন্যা - তার উপরে কেউ নাই, ।
অতপরঃ তাঁকে বিশেষ কারাগার আর বিশেষ আদালতে আনয়নের টানা হেঁচড়ায় তিনি প্রতিনিয়ত্ই মুর্ছা যেতেন। বিদেশ থেকে লয়ার ভাড়া এনেও সরকারের অসহযোগীতা আর কোর্টের অর্বাচিনতায় জামিন পাননি এই মহামতি। অথচ মহামতির বিরল প্রকৃতির কান ও চোখের যথাযথ চিকৎসার উপযুক্ত ডাক্তার কবিরাজ বা হাসপাতাল না থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানো অতিব জরুরী ছিল। অগত্যা তিনি সরকারের কাছে গোপন চুক্তিতে দাসখত, নাকখত আর সর্বাঙ্গুলের টিপ দিয়ে বিদেশ গমন করেন। নচেৎ তাঁর অকাল কালা বধির হয়ে জাতীর অপূরনীয় ক্ষতি হবার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। আল্লাহর মহিমা জনগনের দোয়ায় হাওয়াবদল হওয়া মাত্রই তিনি তরতাজা ঝরঝরা হয়ে উঠেন, দৈনিক মুর্ছা যাবার বদলে তিনি দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়ালেন - কোন ক্লান্তি অবসাদ তাঁকে স্পর্শও করতে পারলোনা। ইত্যাবসরে দেশের অপর নেত্রী স্বল্প শিক্ষা, স্বল্পজ্ঞান ও নিবুদ্বিতার দরুন দীর্ঘ্য দু'বছর জেলের ঘানি টেনে জামিনে মুক্তি পেয়ে দেশেই থেকে যায়। মহামতি কালবিলম্ব না করে দেশে এসে তার হৃত গৌরব / সিংহাসন পূনঃউদ্বারের সিদ্বান্ত নিয়ে তার জামিন না পাওয়া মামলা থাকা সত্বেও চিকন মেধা ও বুদ্বিমত্তা দিয়ে কৌশলে সরকারে সাথে সমঝোতা করেন, হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টে জামিন অযোগ্য মামলাটি থানার দারোগা কে দিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন।
মূলত উপরোক্ত মন্তব্যের মাধ্যমে মহামতির একাধারে দুঃখ, হতাশা ও আক্ষেপের প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদের পাপ মোচন করতে তার মত হস্তিসম ব্যক্তিত্ব কে পাঁচ টাকার সার্ফ এক্সেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে শুধূ তার নয় সার্ফ এক্সেল এরও বানিজ্যিক মান কমেছে বলে তাঁর ও তাঁর সুধিজনদের ধারনা।
(মহামতি হাসিনার গুন মান ও শান বর্ণনা করার মত উপযুক্ত শব্দ বাংলা অভিধানে অপ্রতুল। যে সকল বিশেষন / শব্দ অন্য নেতা নেত্রীদের বেলায় ব্যবহৃত হয়, তা তার সম্মানে ব্যবহার করা যথার্থ নয়।)
পাদটিকাঃ এই লেখা পড়ে কেউ আহত / নিহত হলে তার দায় সা.ই ব্লগ কর্তৃপক্ষের (নয়)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

