কোলাকাতায় আলাপচারিতায় স্থানীয় এক বাংগালি অনেক দুঃখ করেই বলেছিলেন, আমাদের এখানে তো বাংলার কোন আশা ভরসা নেই, যা করার আপনাদেরই করতে হবে। কথাটা খুব সত্যি। কেননা আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের অধিকারি।
বাংলা ভাষাকে বিকৃতি আর বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে আমাদের ভেতর নানা জনে নানা মত থাকতে পারে। আমার পরিচিত কিছু মানুষদের সে রকম কিছু মত তুলে ধরলাম।
১। যেহেতু গ্লামারের কারণে হিন্দি সিনেমা ও সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, সেহেতু এটা বন্ধ করা ঠিক হবে না। তাছাড়া এটা বন্ধ করলে প্রতিবেশিদের সাথে আমাদের একটা অনাকাঙ্খিত বিরোধের সৃস্টি হতে পারে। তাই, হিন্দি সিনেমা আর সিরিয়ালগুলি বাংলায় ডাবিং করে এর পর প্রচার করা হোক। সাপও মরবে লাঠিও ভাঙ্গবেনা।
২। আমাদের সাহিত্য, চলচিত্র এবং নাটকগুলিতে কোন অবস্থায় হিন্দি শব্দ বা বাক্যের প্রয়োগ করা চলবে না।
৩। বলিউডের মত না হোক, বর্তমানে আমাদের সিনেমার যা মান, তাকে আরো অনেক উন্নত করে শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং তরুণ সমাজের জন্য আরো আকর্ষনীয় করা হোক।
৪। পত্র পত্রিকায়, হিন্দি চ্যানেলে কখন কি দেখাবে সেটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হোক।
৫। বিশেষ বিনোদনের নামে ভারত থেকে নায়ক নায়িকা, গায়ক গায়িকা এনে স্টেজ শো আয়োজন বন্ধ করা হোক। (তবে বাংলায় অনুষ্ঠান হলে আনা যেতে পারে)।
৬। সংস্কৃতির কোন জাত পাত নেই বলে, হিন্দির তাবেদারি বন্ধ করা হোক।
৭। "তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ" এর মত অনুষ্ঠানগুলিকে সরকার থেকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া উচিত।
৮। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আরো আকর্ষনীয় করতে, বাংলা ব্যান্ড দলগুলিকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। অপসংস্কৃতি বলে, তাদেরকে দূরে রাখা উচিত হবে না।
৯। আমাদের সাংস্কৃতিক জগতকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বিশেষ ইজমপন্থি না হলে, তাদেরকে সেখানে অচ্ছুৎ করে রাখার যে অলিখিত বিধান রয়েছে, তার বিলুপ্তি ঘোষনা করা প্রয়োজন।
১০। আমাদের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গন্ডি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। তারা কোন শুধু বিশেষ গোষ্ঠির নয়, সারা বাংলাদেশের গর্ব। তাই রাজনৈতিক বিবৃতিবাজি থেকে মুক্ত হয়ে তাদেরকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা ও সংরক্ষনে এগিয়ে আসতে হবে।
আলোচনা এমন অনেক প্রসংগ আসতে পারে, যা আমাদের ভাষা ও সংস্কতি রক্ষা, সংরক্ষন ও উন্নয়নের পথে সাহায্য করতে পারে। এ ব্যাপারে আপনার মুল্যবান মতামতটি পেতে পারি কি?
কোন দেশ, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির প্রতি আক্রোশ বা বিশেষ বিরাগের বশঃবর্তি হয়ে এ লেখার অবতারণা নয়। বরং স্বদেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির সম্ভাব্য পতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার জন্যই এই সামান্য প্রচেস্টা। আসুন, আমরা ৫২ এর শহীদদের আত্মত্যাগেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য, নিজ ভাষা ও সংস্কৃতিকে যোগ্য মর্যাদায় আসিন করি।
বি দ্রঃ---- দাসি শব্দটির তুচ্ছার্থে ব্যাবহারে জন্য শিরোনামে বান্দি শব্দটি প্রয়োগ করা হয়নি। হিন্দি মিশ্রিত বাংলা ,কথাটা বোঝাতে, বাংলা + হিন্দি এই দুইয়ের যোগফলে বান্দি কথাটা শিরোনামে এসেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



