রাজধানির মুখরোচক খবর এখন "আসন্ন" দুই নেত্রির মুখোমুখি আলোচনা। সাথে উৎকন্ঠাও আছে, কি জানি তারা আদৌ বসবেন কি না। বসলেও মুখ দেখাদেখি টুকুও হবে তো, সাথে সৌজন্য বিনিময়টুকু?
এর আগে অবশ্য খালেদা বেশ কয়বারই হাসিনার সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু হাসিনার আপত্তির কারণে সেটা হয়ে উঠেনি। আর আপত্তির কারণটিও মহা আপত্তির। কি? পিতৃঘাতকের স্ত্রির সাথে কোন আলাপ নয়। জিয়ার চেয়ে খালেদা বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক মঞ্চে আসীন। ১৯৯১ সাল থেকে দু দু বার প্রধানমন্ত্রি ছিলেন। আর স্বামীর "পাপের" দায় তার ঘাড়ে দেয়াটা কতখানি যুক্তিযুক্ত? দেশের প্রয়োজনেই হাসিনার উচিত ছিল, খালেদার সাথে বৈঠকে বসা। আর এই মেয়েলি আবেগের কারণে দেশের সর্বোপরি গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়েছে। আর দুজনকেই শ্রীঘরে কাটাতে হয়েছে।
আশা করবো এই বৈঠকটি হবে। কিন্তু শুধু দেখাদেখি হলেই চলবে না। যেমনটি আঃ লিঃ এর সাঃ সম্পাঃ আশরাফ বলেছিলেন, যে নির্দিস্ট এজেন্ডা নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত, এবং সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত। আমরা গোপন বৈঠকের কথা শুনে শুনে ক্লান্ত, এবং জনাব আশরাফের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই।
কিন্তু হাসিনা খালেদা কি পারবেন দৃঢ়ভাবে বলতে যে,
১। তারা যুদ্ধাপরাধীদের সাথে কোন রকম সমঝোতা করবেন না, কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাবসা করবেন না।
২। দুর্নীতির দায়ে সাজাভোগকারিদের আর দলে নেবেন না, তাদের প্রশ্রয় দেবেন না, এবং দল থেকে চিরতরে বহিস্কার করবেন।
৩। গডফাদার নামে কুখ্যাত নেতা-কর্মীদের শুধু দল থেকে বহিস্কারই নয়, বরং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় সহায়তা করবেন।
৪। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃস্টিকারি যে কোন ইস্যুতে ঐক্যমত পোষন করবেন।
৫। পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
৬। দলের ভেতরে একনায়কতান্ত্রিক ব্যাবস্থার অবসান ঘটাবেন, এবং দলীয় ফোরামে ভিন্নমতালম্বিদের মত প্রকাশ করার পুর্ণ সহযোগিতা দেবেন।
৭। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন। এবং শ্রেফ বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা থেকে বিরত থাকবেন।
৮। দাবি আদায়ের জন্য ধবংসাত্মক এবং নৈরাজ্যের পথ পরিহার করবেন।
৯। দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে ছাত্র-শ্রমিক-কর্মচারি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিকে মুক্ত রাখবেন।
জানি না, এ ধরণের সাহসি পদক্ষেপ রাখতে তারা সমর্থ হবেন কি না, কিন্তু আমাদের প্রিয় মাতৃভুমিকে বাচানোর জন্য এর বিকল্পও কিছু দেখছি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



