সে যাই হোক। আমরা সবাই সজিব ওয়াজেদ জয়কে চিনি। চিনি মানে, জানি যে তিনি বঙ্গবন্ধুর নাতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার পুত্র। জয়ের ব্লগ থেকে আরো জানি যে, তিনি একজন আইটি প্রফেশনাল এবং ভারতের সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে পাশ করেছেন। পরে যুক্তরাস্ট্র থেকে কিছু একটা করেছেন/করছেন। তার জীবনী থেকে এটা স্পস্ট নয় যে তিনি জন্মের পর আদৌ বাংলাদেশে কোন দিন অবস্থান করেছিলেন কিনা। যারা জানেন, তারা বলেন, জয়ের শিশুকাল-শৈশব-কৈশোর কেটেছে ভারতে। এর পর যৌবন কেটেছে মার্কিন মুল্লুকে। এর পেছনে কেউ যদি ভারত প্রীতি বা বিদেশ প্রীতি আবিস্কার করতে চান, তো করুন। কেউ যদি ভ্রুকুটি করেন এই ভেবে যে, কিভাবে তার পড়ালেখার ব্যয় সংগৃহিত হয়েছে, সেটা করার অধিকারও তাদের আছে।
বহু "উচ্চশিক্ষায়" শিক্ষিত হলেও পারিবারিক পরিবেশ যে একজন মানুষকে বদলাতে পারে না, সেটি জয়ের একটি আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন গত বি এন পি সরকারে আমলে, আমাদের "যুবরাজ" তারেক যখন শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরুপ জয়ের কাছে ফুলের তোড়া পাঠিয়েছিলেন, সেটি জনাব ওয়াজেদ তনয় অপমান করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রবাসি যারা বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন, তাদের সাথেও জয়ের ব্যাবহার ঠিক মানসম্পন্ন ছিল না।
আচ্ছা, সেসবও না হয় মেনে নেয়া গেলো। প্রভাবশালির সন্তান, বড় লোকের মেয়ে জামাই, অহমিকা তো একটু থাকবেই। কিন্তু কথা নেই বার্তা নেই, আমাদের দেশে রাশিয়ান এম্বেসিতে ভবঘুরের মত ঘুরতে থাকা সাংবাদিক/লেখক/বুদ্ধিজীবিদের সুরে বাংলাদেশে মৌলবাদের অস্তিত্ব আবিস্কার করে একটি লেখা লিখলেন। তাও এমন একজন মার্কিনী লেখকের সাথে মিলে, যে কিনা মিথ্যাচারের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষকে হত্যা করার পরেও অনুশোচনায় ভোগেনি।
কপাল খারাপ, তাই জয়ে সেই "গবেষনাধর্মী" লেখাটি পড়ার দুর্ভাগ্য হয়েছিল। হায় ! হাভার্ডের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত স্বীকার করার সৎ সাহস দেখালো না, যে ১৯৭১ সালে যুক্তরাস্ট্র, স্বাধীন বাংলাদেশের বিপক্ষ্যে ছিল, এবং শেখ মুজিবকে চক্ষুশুল জ্ঞান করে, তাকে হঠাতে সব রকম সাহায্য সহযোগিতা করেছিল। সত্যকে ধামাচাপা দেবার মত সঙ্কীর্ণমনা যারা, তাদের কথায় আর বিশ্বাস করা যাবে?
কথা হলো, জয়ের এমন কুমতি কেন? দেশে ছিলেন না, দেশের মানুষের জন্য কিছু করেননি ( হায়, আমাদের দেশে কুমারিদেরও যোগ্য মনে করলেন না আপনার সহধর্মিনী বানাবার), তো কোন মতলবে দেশের জন্য মন একেবারে উৎলে উঠলো? উত্তর আমরা সবাই জানি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এধরণের অপপ্রচার অনেকবারই হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারিদের লাভ কিছু হয়নি।
যে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা আমাদের সার্বভৌমত্বের রুপকার, আজ তারই নাতি, দেশ ও দেশের মানুষের বিপক্ষ্যে অবস্থান নিয়েছে! ধিক এমন জ্ঞানের, ধিক এমন শিক্ষার। শেখ হাসিনাকে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, শিক্ষা দিয়েছো ঠিকই, মানুষ করোনি।
তথ্য সুত্রঃ http://www.harvardir.org/articles/1784/
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ রাফা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

