ভারতীয় হাইকমিশনার, পিনাক চকোত্তির পিনাকিয় কথা বার্তার রেশ ধরে দেশে তো বটেই, ব্লগেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রি সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, এমনকি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞদের ব্যাপারে তার অকুটনৈতিক সুলভ মন্তব্যে স্বভাবতই স্বাধীনচেতারা ক্ষুব্ধ। শুধু পানি বিশেষজ্ঞদের কথাই বলি কেন? তিনি ফারাক্কার পানি নিয়ে যে ধরণের মন্তব্য করেছেন, তাতে গল্পের সেই পিনাকিয়ও লজ্জা পাবে। কেননা পিনাক বাবুর মতে ভারত দয়া করে ফারাক্কায় পানি দিচ্ছে বলে, বাংলাদেশের মানুষ জমি চাষ করে দুটো খেতে পারছে। অথচ ফারাক্কার কারণে যে বাংলাদেশ বছরে ৪ বিলিয়ান ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেবে কে?
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে, ভারত যেভাবে আমাদের সাহায্য করেছিল, তাতে দুই দেশের মধ্যে মৈত্রির সম্পর্ক গঠন ছিল সময়ের দাবি। আর একে যথাযথ লালন পালন করলে, দুই দেশই অনেক উপকৃত হতো। কিন্তু কোন যাদু মন্ত্রে জানি না, তবে স্বাধীনতার পর পরই, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের বৈরি আচরণ শুরু হয়। সে সময় বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় সৈনিকদের লুটপাট শুরু হলে, স্বভাবতই সাধারণ মানুষ সেটা ভালো চোখে দেখেনি। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর কাজ কর্মে অযাচিতভাবে উপদেশ প্রদান, মৈত্রি চুক্তির নামে দাসখত করা, চুক্তি অনুযায়ি ছিটমহলগুলো হস্তান্তর না করা, যুদ্ধ বিধবস্ত বাংলাদেশে প্রেরিত রিলিফের মাল চোরাচালানে রাস্ট্রিয় পৃষ্ঠপোষতা প্রদান, রিলিফবাহি জাহাজ ভেড়ানোরর কাজে মাত্র ৭ দিনের জন্য কোলকাতা বন্দর ব্যাবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করা, ইত্যাদি কারণে স্বাধীনতার কিছু দিনের মধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের মন বিষিয়ে উঠে।
স্বাধীনচেতা বঙ্গবন্ধু ভারতের এই সব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খুব খুশি ছিলেন বলে মনে হয় না। তাই, ইন্দিরার আপত্তি সত্ত্বেও লাহোরে ও আই সি সম্মেলনে গিয়েছিলেন। তাছাড়া স্বাধীনতার তিন মাসের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনী প্রত্যাহার করিয়েছিলেন। হয়তো এসব কারণেই হয়তো ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর ব্যাপক উপস্থিতির পরেও, তার বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের আগাম তথ্য বঙ্গবন্ধু পাননি।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের শত্রু সুলভ আচরনের মহাভারত বর্ণনা না করেও, অন্তত বাংলাদেশের প্রতি ভারতের বন্ধুসুলভ আচরনের একটা তালিকা করলেও স্পস্ট হইয়, তারা আমাদের কোন ধরণের মিত্র।
যে ঘটনাগুলি উল্লেখ করা হলো, সেসবই বাস্তবতা। আকারের বড় বলে, ভারত ইচ্ছা করলেই তার বিরুপ আচরণ বদলে, এই অঞ্চলে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে পেতে পারতো। সম্ভবত গরীব যবনের বন্ধু হবার চেয়ে প্রভু হবার উগ্র বাসনাই তাদেরকে মিত্রতার পথে ধাবিত করেনি।
পিনাক বাবু যা করছেন, যা বলছেন, সেসবই ভারতীয় সরকারের মনোভাবের প্রতিধবনি মাত্র। তিনি হুকুমের দাসমাত্র। কিন্তু আমাদের সরকার তো ভারতীয়দের হুকুমের দাস নয়। তারা কেন, নীরবতা অবলম্বন করে মৌন সম্মতি দিচ্ছেন? বিশেষ করে, ভারত বাংলাদেশ মৈত্রি সমিতির আয়োজন করা সম্মেলনে, পররাস্ট্র মন্ত্রি দিপু মণি, পিনাক বাবুর চটাং চটাং কথা শুনেও যেভাবে মুখে কুলুপ এটে বসেছিলেন, সেটা একটা স্বাধীন দেশের জন্য লজ্জাজনক। এর আগেও বাংলাদেশকে বাফার স্টেট বলে অপমান করেছিল, আনন্দবাজারের দুকড়ির সাংবাদিক। সেখানেও দিপুমণি প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেবার আঃ লিগ সাঃ সম্পাদক সৈঃ আশারাফের কল্যাণে বেচে গেলেও, এবার তাকে সমালোচনার হাত থেকে কে বাচাবে?
যেখানে বাংলাদেশের সাথে ভারতের মিত্রতাই নেই, সেখানে মৈত্রি সমিতির নামে, ভারতের দাসানুদাসদের মিলনমেলার অবাধ সুযোগও থাকা উচিত নয়। তাই ভারত বাংলাদেশ মৈত্রি সমিতির সব কর্মকান্ড ততদিন স্থগিত করে রাখা হোক, যতদিন ভারত মৈত্রির পরিক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


