![]()
মনে হচ্ছে বর্তমান সরকারের হাতে এখন অঢেল সময়। রেকর্ড সময়ে (৮ মাসে) নির্বাচনি ইস্তেহারে দেয়া প্রতিটি শর্ত পুরণ করে, বাংলাদেশের সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলে বেশ সুখে শান্তিতেই আছে বর্তমান সরকার।
যেমন দেশের মানুষ আজ ১০ টাকা কেজির চাল খাচ্ছে, ৪টাকা কেজি মরিচ। প্রতিটি পরিবার থেকে একজন বেকার চাকরি করছে। যুদ্ধাপরাধীরা ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলে পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারিরাও ওই একই পথের পথিক হয়েছে। সারা দেশ বিদ্যুতের প্রাচুর্য্য এমন করে ভাসছে যে, সবার চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকায়, তা দিয়ে আচার/জেলি ইত্যাদি বানানো হচ্ছে। দুর্নীতি তো এমনভাবে নির্মুল হয়েছে যে, যদিও কালে ভদ্রে একটি দুটি দুর্নীতিবাজ দেখা গেলেও, এইডস রুগি জ্ঞান করে তাদেরকে কালাপানি পার করে বনবাসে দেয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসিরা সন্ত্রাস ছেড়ে এমন ভালো হয়ে গেছে, যে তারা প্রাতঃ স্মরনীয় হয়ে সবার নমস্য জ্ঞান হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে এমনই শান্তি যে, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দখলবাজি সব বন্ধ হয়ে গিয়ে, ছাত্ররা ছাত্রনং অধ্যায়ন তপঃ জ্ঞান করছে।
এক নিঃশ্বাসে অসাধ্য সাধন করে, সরকারের হাতে আর কোন কাজ কম্ম নেই। প্রবচন আছে, কাজ নেই তো খৈই ভাজো। যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। প্রথমে চট্টগ্রামের বীরশ্রেস্ট মুস্তফা কামালের নাম বদলে দিয়ে এমন একজনের নাম বসানো হলো, যিনি আঃ লিগের নেতা ছিলেন বটে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে তার কি অবদান, সেটা আমজনতা জানে না।

এর পর ভাসানি নভোথিয়েটারের নাম বদলে, বঙ্গবন্ধুর নাম বসানো হলো। অনেকের মতে, নির্মানের সময় এটার আদি নাম বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারই ছিল। বি এন পি ক্ষমতায় এসে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের জন্য ভাসানির নাম যুক্ত করেছে। মজলুম নেতা ভাসানি যে, বি এন পি করতেন, তথ্যটি জানা ছিল না।

গণচীনের অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রি সম্মেলন কেন্দ্রটির নামও বদলে করা হলো বঙ্গবন্ধুর নামে। ব্যাপারটি চীন সরকার যে ভালো চোখে দেখেনি, সেটা তারা গোপন করেনি। সমুদ্র সীমার ব্যাপারে মায়ানমারের সাথে ভবিষ্যতে কোন রকম সংঘাতের ব্যাপারে, চীনের সমর্থন যে আমরা পাবো না, সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে যার উপর ভরসা করে, আঃ লিগ নর্তন কুদন করছে, সেই ভারতের সাথে প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত স্বার্থের কারনে এক্ষেত্রে নির্বাক বন্ধুর ভুমিকায় অবতীর্ণ হবে। তাই একলা কি করে বাংলাদেশ, মায়ানমারকে সামলাবে, সেটা দেখার একটা বস্তু হবে। মায়ান্মার সমন্ধে কম জানার কারণে আমরা ওদের বিশেষ পাত্তা দিতে চাই না। চটজলদি বলে রাখা ভালো যেওদের শুধু ৪ লাখ শক্তিশালি সেনাবাহিনীর বিপরীতে আমাদের সব বাহিনী মিলিয়েও এত লোকবল নেই।

আগেই বলেছি, সরকারের হাতে অঢেল সময়। তাই খৈ ভাজার মত নাম বদল চলছে। এর নব্য শিকার হয়েছেন স্বয়ং জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম। তার সমাধি সৌধের নাম বদলে হচ্ছে, "জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম, শহীদ বুদ্ধিজীবি, ও শিল্পাচার্য সমাধি সৌধ।" মনে হচ্ছে একই কবরে সবাইকে একসাথে গোর দেবার প্রস্তুতির প্রাথমিক অংশ হিসেবে এই নাম বদল। এ ব্যাপারে স্বরবর্ণ আরেফিন কিংবা কন্যাকে শর্টকাটে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো কালা হারুণ সাহেবের কোন মন্তব্য নেই। কথায় আছে না, বোবার কোন শত্রু নেই!

আঃ লিগের নাম বদলের মুন্সিয়ানার সাথে সাথে, নাম গায়েব করার বিষয়েও বিশেষ পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। পিলখানা হত্যাকান্ডে ষড়যন্ত্র, উস্কানি এবং বিদ্রোহিদের নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা, আঃ লিগ নেতা তোরাব আলি এবং তার গুণধর পুত্র লেদার লিটনের নামটুকু আর শোনা যাচ্ছে না। পিলখানা বিদ্রোহের বিচার নিয়ে যে আয়োজন চলছে ( পড়ুন পাশ কাটানোর চেস্টা), সেখানে বি এন পির সন্ত্রাসি পিন্টুর নাম জোরে জোরে উচ্চারিত হলেও, তোরাব বা লিটনের নামটি কেউ ভুলেও মুখে আনছে না। অথচ সরকার পালিত তদন্ত কমিটির আনিস সাহেবের রিপোর্টে তোরাব-লিটনের কথা মৃদু স্বরে হলেও এসেছিল। অথচ মাত্র ক মাসের ব্যাবধানে সে দুটি নামের নামগন্ধও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
অবস্থাদৃস্টে মনে হয়ে, একান্তই যদি ওদের নাম গায়েব করা সম্ভব না হয়, তাহলে নাম বদল করে, শরাব আলি এবং ফেদার ফেল্টন নাম দিয়ে ওদের বাঁচানোর চেস্টা করা হবে। হাজার হোক, উপরের নির্দেশ ছাড়া তোরাব লিটনের মত চুনোপুটিরা এত্ত বড় কাজ কি করতে পারে? আর ওরা ধরা পড়া মানে থলের বেড়াল বের হয়ে আসা। এতটা কাঁচা কাজ করার মত কচি কাঁচা তো ক্রিমিনাল মনবৃত্তির আঃ লিগ নেতারা নন।
পুনশ্চঃ তোরাব আলি বা লেদার লিটনের কোন ছবি পাচ্ছি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



