somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হামি যোখন বাংলা কথা বোলে, লোকে ভাবে হামার বাড়ি বাংলা মুল্লুকে আছে...

১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভারতের রেলে ভ্রমনের সময় অনেক ভাষাভাষির সাথে মত বিনিময়ের অভিজ্ঞতা আমার আছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বাংলাদেশিদের প্রতি তাদের একটা বাৎসল্য দেখে। এজন্যই সাধারণ ভারতীয়দের সাথে বেশ স্বাচ্ছন্দেই মেলামেশা করা যায়। (হায়, এধরণের মানসিকতার মানুষরা যদি ওদের পররাস্ট্র নীতি নির্ধারক হতো)।

এমনই এক ভ্রমনের সময়, কথা কথায় এক মাড়োয়ারি ভদ্রলোক আড্ডার ফাঁকে বল্লেন, লিবারেশনের আগে তিনি একবার বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাছাড়া অনেক বছর কলকাতায় ছিলেন বলে বাংলা ভাষা বোঝেন এবং স্বাচ্ছন্দে বলতেও পারেন। আমার মত নির্বিরোধি শ্রোতা পেয়ে এক সময় বেশ উৎসাহের সাথেই বলে ফেল্লেন, "হামি যোখন বাংলা কথা বোলে, লোকে ভাবে হামার বাড়ি বাংলা মুল্লুকে আছে... "

ভদ্রলোকের কথা শুনে কি উত্তর দেবো ভেবে খানিকটা হচকচিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ওদের দেশে বিদেশি অতিথি, আর এই ভদ্রলোকও বেশ অমায়িক এবং বন্ধবাৎসল। বাংলা নিয়ে তার এই উচ্ছাসটিও নির্লোভ এবং অকৃত্রিম। কোন বিবেকে আমি তার এই উচ্ছাসে পানি ঢেলে দেই? তাই মিথ্যা করেই সেদিন বলেছিলাম, জ্বি, আপনি এমনভাবে বাংলা বলেন, বোঝা মুশকিল আপনি যে বাঙ্গালি নন।

বেশ অনেক বছরের পর আরেকবার ধাক্কা খেলাম একুশে টিভি এবং এ টি এন বাংলার খবর দেখে। শ্রশ্রুমন্ডিত, মাথায় টুপি এবং জোব্বা পরিহিত কয়েকজন কথিত ভারতীয় জঙ্গির হাসিমাখা মুখে স্বীকারোক্তি দেখে মনে হলো, কোথাও কোন গন্ডগোল আছে। নইলে ওরা ভারতীয় বাঙ্গালি অথচ ওদের ভাষাটির সাথে বাংলাদেশিদের হুবুহু মিল কি করে সম্ভব?

অনেকে বলবেন ভারতের বাঙ্গালিদের সাথে আমাদের পার্থক্যটা কোথায়?

আমরা বিদেশি ভাষা যত ভালো করেই বলি না কেন, আদি ভাষাভাষিরা ঠিকই বুঝতে পারেন, আমরা আদি নই। একইভাবে বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের বাংলা উচ্চারণের যে সুস্পস্ট পার্থক্য সেটা না বোঝার মত কিছু নেই। এমন কি বাংলাদেশের প্রমিত বাংলার সাথেও পঃ বঙ্গের প্রমিত বাংলার পার্থক্য খুবই স্পস্ট।

সে হিসেবেই বুঝতে কস্ট হয়নি যে, ভারতীয় জঙ্গি দাবি করা লোকগুলি আসলে বাংলাদেশিই। আর যেভাবে তারা নির্দ্বিধায় নিঃসংকোচে বক্তব্য দিচ্ছিল, তাতে বুঝতে কস্ট হয়নি যে, এসবই মেধাহীন ছাত্রের মুখে মুখস্থ বানী বৈত নয়।

কিন্ত কেন এমন করানো হচ্ছে?

উওর মিললো কিছু ঘটনা প্রবাহের দিকে নজর দেবার পর। উগ্র ব্রাক্ষ্মনবাদি সাম্প্রদায়িক আগ্রাসি নীতির কারণে যে বৈষম্য আর অত্যাচার অনাচার অবিচার চলছে, তার প্রতিবাদেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে মুখর। এই প্রতিবাদ এতই তীব্রতার আকার ধারণ করেছে যে, সময়ে সময়ে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদিরাও সশস্র আন্দোলনে লিপ্ত হয়েছে। (পাঞ্জাব, উঃ পুর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলি। কাশ্মিরের কথা আসছে না, কারণ কাশ্মিরের জনগণের রায় দেবার অধিকার বরাবরই অস্বীকার করে। সেখানে সামরিক কায়দায় দখলদারিত্ব কায়েম করেছ সাম্প্রসারণবাদি ভারতীয় শাসকগোষ্ঠী)। আর বিদ্রোহিদের একটা বিরাট অংশই মুসলমান।

এমন কি ধর্মনীরপেক্ষতা এবং প্রগতির ধব্জাধারি কমিউনিস্টদের শাসনামলেও পঃ বঙ্গে মুসলমানদের উপর ব্যাপক বৈষম্য করা হয়েছে। ফলে তাদের দীর্ঘ তিরিশ বছরে শাসনকালের অন্ত হতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পাছে ধর্মনীরপেক্ষতার ধব্জাধরা ভারতের কুৎসিত চেহারা উন্মোচিত হয়ে যায় এই ভয়ে এই বিদ্রোহকে কালে কালে প্রতিবেশিদের বা মার্কিনিদের ষড়যন্ত্র বলে এতদিন চালাতে চাইছিল ভারতের শাসকগোষ্ঠি। কট্টর উগ্রবাদি নব্য রক্ষনশীল এবং জিয়নবাদিদের যৌথ ষড়যন্ত্রের ফসল ৯/১১ সংগঠনের পর ব্রাক্ষ্মনবাদি ভারত সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলমানদের উপর সন্ত্রাস দমনের অজুহাত লাভ করে। ( একইভাবে সুযোগ গ্রহন করে রাশিয়া এবং চীন যথাক্রমে চেচনিয়া এবং উইঘরে। এই সুবর্ন সুযোগ আজো নিজেদের স্বার্থের অনুকুলে কাজে লাগাচ্ছে, আরেক প্রগতির ধব্জাধারি ইউরোপীয়ান দেশগুলি)।

পাকিস্থান এবং ভারত দুই দেশই মার্কিনিদের তাবেদারি গ্রহন করার ফলে, আগের মত ভারত আর পাকিস্থানের প্রতি অভিযোগ আনে না। ওই দিকে নিজেদের কুৎসিত চেহারাটা ঢেকে রাখার জন্যই এই তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাসবাদের জুজুকে বাচিয়ে রাখার দরকার।

তো এই বলির পাঁঠা কে হবে?

স্বতন্ত্র অবস্থান গ্রহন করায় বাংলাদেশ তাদের পররাস্ট্রনীতিতে ভারতকে অনুসরণ করেনি। তাছাড়া তাদের অনেক অন্যায় আব্দারও তেমন পাত্তা পায়নি। এ কারণেই ভারতীয় শাসক মহলের নেক নজর বঞ্চিত ছিল বাংলাদেশ। একারণেই বাংলাদেশকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে ভারত। আর সরকারে ভারতের তাবেদার আঃ লিগ থাকায় সোনায় সোহাগা। আগে তো ভারতীয় গোয়েন্দাসুত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলি এক তরফাভাবে বাংলাদেশের দিকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে বাংলাদেশকে ছোট করতো।

তথ্যসুত্রঃ Click This Link

আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার পর সে কাজটি আওয়ামী পন্থি লেখক বুদ্ধিজীবি এবং মিডিয়া করছে।

ছেলের হাতে মোয়ার মত টপটপ করে হাতে পড়ার মত ভারতের পলাতক "দুর্ধষ এবং মোস্ট ওয়ান্টেড" জঙ্গিরা যেভাবে একের পর এক বাংলাদেশে ধরা পড়ছে, তাতে কোথাও একটা কিন্ত তো অবশ্যই আছে। নইলে নিজের দেশের টপ টেররদের পাত্তাই যেখানে আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দারা পায় না, সেখানে কি করে ভারতের শক্তিশালি গোয়েন্দা সংস্থার চোখে ধুলা দেয়ারা, অবলীলায় বাংলাদেশের পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে?

তাছাড়া এই মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিরা কি করে, ভারতের শক্তিশালি গোয়েন্দাদের দৃস্টি এড়িয়ে , সীমান্তের পাগলা কুকুর বি এস এফের দৃস্টিকে ফাকি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলো, সে প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। এবং আশ্চর্যজনকভাবে এই প্রশ্নটাই জঙ্গি নিয়ে অতি উৎসাহি মিডিয়া বা পুলিশ প্রশাসন এড়িয়ে যাচ্ছে।



মিডিয়ায় প্রায়ই দেখি, এই সব তথাকথিত জঙ্গিদের সাথে আবার ২১শে আগস্ট, উদিচির উপর বোমা হামলা ইত্যাদির সাথে সংক্লিষ্টতার কথাটিও জুড়ে দেয়া হচ্ছে। ঘর পোড়ার মধ্যে আবার আলু পোড়া!

যে কথাটি বার বার প্রমানিত হচ্ছে, সেটা হচ্ছে ভারতের স্বার্থরক্ষা করার জন্য ধুম্রজাল সৃস্টির জন্য আঃ লিগের তুনে যে সব তীর রয়েছে, তথাকথিত ভারতীয় জঙ্গিদের বাংলাদেশে আবিস্কার তার মধ্যে একটি। যেহেতু টিপাইমুখ বাঁধ, চট্টগ্রাম বন্দর, স্থল বন্দর, এশিয়ান হাইওয়ের নামে করিডোর প্রদান, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা, ভারতের সাথে অতীতের সব অমিমাংসিত বিষয়গুলিকে মাটি চাপা দেয়া, ইত্যাদি আওয়ামী কুকীর্তি ঢাকার জন্য, আঃ লিগের সাথে যোগ দিয়েছে এক শ্রেণির মিডিয়া।

ভারতের স্বার্থ সংরক্ষনের কারণে স্বাধীনতা পরবর্তি আঃ লিগ সরকারকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল। একই অপরাধে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরেও ছিল তারা। এর পরেও তাদের দাসবৃত্তিক স্বভাবের কোনই পরিবর্তন হয়নি।।

শিরোনামের সেই মাড়োয়ারি ভদ্রলোককে, ভদ্রতার খাতিরেই বলতে পারিনি যে, জনাব আপনার বাংলাটি যথেস্ট ক্রটিপুর্ন। কিন্ত মিডিয়ায় চেহারা দেখানো, ধরা পরা তথাকথিত সেই ভারতীয় জঙ্গিদের খুব শক্ত করেই বলতে পারি, আগে বল... কত ট্যাকা খাইয়া কার হুকুমে তোরা এই সব বয়ান দিতাছোস !

১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×