আমার প্রিয় পোস্ট

সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল

কি হতে যাচ্ছে ২০২১ সালে?

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৩৮

শেয়ারঃ
0 1 0

ভবিতব্য কি হতে পারে সেটা বোধ করি বিধাতা ছাড়া কেউ জানেন না। অবশ্য এর বিপক্ষ্যেও মতামত থাকতে পারে। যেমন, যারা বিধাতায় বিশ্বাসি নন, তাদের কাছে এই যুক্তি টিকবে না। কিন্তু যেভাবে ২০২১ সালের কথা বিভিন্নভাবে আমাদের সামনে আসছে, সেক্ষেত্রে এই বছরটির বিশেষত্ব নিয়ে কৌতুহল হতেই পারে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন নিয়ে সংসদের স্পিকারের উদ্যোগে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। সেখানেও শুনলাম ২০২১ সালের মধ্যে এই হবে সেই হবে। এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মুখেও ওই সালের ভেতর হেন করেগা তেন করেগা টাইপের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা আমরা শুনেছি।

আঃ লিগের নির্বাচনি ইস্তেহারকে আস্থায় নিলে বলতে হয়, "চাই তো অনেক কিছু, কিন্ত পাচ্ছি কই?"প্রতিশ্রুতি আর পাবার মধ্যে ফারাকটা দীর্ঘ হলে ক্ষমতাসীনরা সাধারণত পরের নির্বাচনে বিরোধি দলের আসনে উপবিস্ট হয়ে থাকেন। অন্তত ৯০ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে, অন্তত সে রকমই ধারণা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ২০১৩ সালের নির্বাচনি বৈতরনি পার হওয়াটা আঃ লিগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। এর পর বাকি থাকলো ২০১৮ সালের নির্বাচন। সেখানও কি হয় সেটাও ভবিতব্য।

হতে পারে, আঃ লিগের হাতে আলাউদ্দিনের চেরাগ আছে। যার ফলে তারা ভবিষ্যতের কথা এখন থেকেই বলে দিতে পারে। নইলে, ২০১৩ সালেই যাদের ক্ষমতায় যাবার নিশ্চয়তা নেই, তারা কি করে এত দৃঢ়তার সাথে ২০২১ সালে এই হয়ে যাবে সেই হয়ে যাবে বলে বক্তব্য রাখে।

অবশ্য জলিল সাহেবের ভাষ্য যদি সঠিক হয়, তাহলে ২০২১ সাল কেন এই শতাব্দির পুরোটাই আঃ লিগ রাজত্ব করবার ক্ষমতা রাখে। যেহেতু এখন পর্যন্ত জলিল সাহেবের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই , সুতরাং পাগলের প্রলাপ বলে তার দাবিকে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

ফিরে আসছি দারিদ্র বিমোচন কর্মসুচিতে। আওয়ামী লিগের স্পিকারের উদ্যোগটা ভালো, কিন্ত একজন ঠুটো জগন্নাথের কথায় তো আর রথের চাকা ঘুরে না। আমাদের দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে অবশ্য স্পিকার পদটি একজন দলীয় মুখপাত্রের বেশি কিছু নয়। সেক্ষেত্রে আব্দুল হামিদ সাহেবের খুব বেশি সমালোচনা করার সুযোগ নেই।

সেই সম্মেলনে বিরোধি দলীয় নেত্রি যাননি। কেন যাননি, সেটাও খুব স্পস্ট করে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জনগণকে জানিয়েছেন। এর পরেও আমাদের প্রধানমন্ত্রি, ঐ সম্মেলনে দুর্নীতির সাথে বিরোধি দলীয় নেত্রির সম্পৃত্ততার কথা তুলে ধরে, তার বিরুদ্ধে বিসোদগার করেছেন। প্রধানমন্ত্রি ভুলে গিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলি ছিল, তিনি ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সেগুলি প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছেন। এতে করে তিনি যে ধোয়া তুলসি পাতা হয়ে গিয়েছেন তেমন কিন্তু নয়। এখন পর্যন্ত তার অনেক কিছুর ব্যাপারেই মানুষের মধ্যে সন্ধে রয়ে গেছে।

আর যাদের সামনে দাড়িয়ে তিনি লেকচার ঝেড়েছেন, তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল, যে নিজে শেখ হাসিনার দুর্নীতির পক্ষ্যে সাক্ষি দিয়েছিল। এছাড়াও যে সব পুরানো পাপির উপস্থিতিতে তিনি কথা বলেছেন, তাদের চেনার আর কিছু বাকি নেই। আপনি আচারি ধর্ম পরেরে শিখাও নীতি বাক্যটি অনুসরন করলে বরং শেখ হাসিনার কিছুটা পাপ স্খলন হতো।

আরো ভয়ংকর কথা হলো, ওই একই সম্মেলনে, দেশের গণ্যমান্য পানি বিশেষজ্ঞকে বাদ দিয়ে কোথাকার কোন আবু সুফিয়ানকে দিয়ে টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষ্যে সাফাই গাওয়ানো হয়েছিল। টিপাইমুখ বাঁধ "পরিদর্শন" করে প্যান্ট নোংরা করা কিছু চিহ্নিত দালাল যে রিপোর্টটা দিয়েছিল, আবু সুফিয়ানের বক্তব্যে তার থেকে কিছু আলাদা ছিল না। নিজেদের দালালি ঢাকতে এ ভাবেই এক শেয়ালের পর বাকি শেয়ালগুলিও হুক্কা হুয়া রব জুড়ে দেয়। দুঃখের কথা হচ্ছে এই সব শেয়ালের পালের ভেতর, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব সবাই আছেন। এই রকম ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতি আর চোয়ালবাজির কারণে দারিদ্র বিমোচন হবে বটে !

দারিদ্র বিমোচন বা দুরিকরনের বিভিন্ন উপায় বাতলালেও, ওই যে, আঃ লিগ সেই ২০২১ সালের টার্গেটই বেঁধে রেখেছে। যদি তাই হয়, তবে আর মাথা কুটে মরা কেন? ঘাম ঝড়িয়ে আর কি প্রয়োজন? সবাই হাত পা গুটেয়ে বসে থাকুন। ২০২১ সাল আসলে, আর কোন চিন্তা নেই। কি বলেন?

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:০১
জুল ভার্ন বলেছেন: খুব সুন্দর এবং বাস্তব কথা লিখেছেন।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জুলভার্ন ভাই। কেমন আছেন? অনেকদিন পর আপনাকে দেখলাম। আমার এর আগের লেখাটা দয়া করে দেখবেন... স্বরবর্নে আচ্ছন্ন বাংলা সুর।

২. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:১৩
বান_দর বলেছেন: "আওয়ামী লিগ যা বলে তা করেনা, যা করে তা বলেনা"-এই সত্যের চাইতেও বড় সত্য-শেখ হাসিনা যা বলেন তা সব মিথ্যা বলেন। যা বলেন তা সবই সশ্লীল এবং কু-রুচীপুর্ণ। সংসদে এবং সংসদের বাইরেই হাসিনা যা বলেন তা বস্তির খিস্তি খেউর কেও হারমানায়। নিজের হাজারো দোষ থাকতেও অন্যের দোষ বুক ফুলিয়ে বলা-গোয়েবলীয় স্তাইল ছারা অন্য কিছু নয়। বি এন পি'র সাকা চৌ, আঃ লিগের সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, মতিয়া চৌ, সাজেদা চৌ'দের চাইতেই অশ্লীল কথায় শেখ হাসিনা কয়েক ডিগ্রী এগিয়ে। তবে পার্থক্য হলো-শেখ হাসিনা যা বলেন-তা হেসে হেসে বলেন। আর উল্যেখিত অন্য চার অশ্লীল মুখ ভ্যাংচিয়ে বলেন। তাদের সকলকে অভিষম্পাত!
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪০

লেখক বলেছেন: যথার্থ বলেছেন ভাই। এধরণের মহিলা অন্তত বাংলাদেশের কোন থানার দারোগা হতে পারে হয়তো। প্রধানমন্ত্রি তো কোন মতেই নয়।

অভিষম্পাত ওদের উপর। অনেক ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্যের জন্য।

৩. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:১৪
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: আবু সুফিয়ান টা কে? ওকে গালি দিতে ইচ্ছে করছে। আপনার কথায় "বাবু তোমার ষোল আনাই মিছে"
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪২

লেখক বলেছেন: সুফিয়ানটা নতুন চামচা। লেখা পড়া যাই করুক না কেন, দালালিতে মহারাজ নন্দকুমার। এদের চাবকে পিঠের চামড়া তুলে নেয়া দরকার। অনেক ধন্যবাদ রিয়াজুল ভাই।

৪. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:২০
আবু সালেহ বলেছেন:
ধীবর ভাই খুব সুন্দর বলেছেন এবং বাস্তবকথা বলেছেন...
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সালেহ ভাই। দুঃখ হয়, আমাদের বেশিভাগ লেখকই মিথ্যা আর দলের স্তুতিমুলক লেখা লিখে থাকেন।

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ স্পেলবাইন্ডার ভাই।

৬. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৩
জনৈক আরাফাত বলেছেন: চলতি মৌসুমের মূলা ২০২১ সালে ঘরে উঠবে! নবান্ন হবে তখন!
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: হাহাহা। দারুন বলেছেন আরাফাত ভাই। আমাদেরকে গাধা মনে করে, ওই ২০২১ এর মুলা ঝুলাচ্ছে আওয়ামী লিগ।

৭. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:০৮
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন: +। যৌক্তিকতো বটেই খুব সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার জন্য ধীবর ভাইকে ধন্যবাদ। আসলেই হাসিনা এখন দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। কোন মামলাই তো আর এখন থাকল না। আর আপনি যদি দেখেন যে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় ধর্ম শিক্ষা নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষকরণ চলছে তাতে আগাচৌ, কবীর চৌধুরী গংদের কথাকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ ভুল ছিল। আসলে ২০২১ স্বাধীন ডিজিটাল বাংলাদেশ নয় বরং সিকিমের মত হয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল ভারতের অংশ হওয়ার মহড়াই যেন চলছে।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০৪

লেখক বলেছেন: শুধু হাসিনা কেন? শেখের গুস্টির কেউই ধোয়া তুলসি পাতা না। মিডিয়ায় জাকিয়ে বসে, আওয়ামী চাপার জোরে, তেরখানা শশ্রু গজানো বালকদের কাছে সাময়িকভাবে শেখের গুস্টিকে অতি মহান বানানো যায়। কিন্তু ইতিহাসকে চাক্ষুস করা মানুষগুলিকে বোকা বানানো অসম্ভব।

সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯২৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সাংবাদিক কলামিস্ট
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই