ভবিতব্য কি হতে পারে সেটা বোধ করি বিধাতা ছাড়া কেউ জানেন না। অবশ্য এর বিপক্ষ্যেও মতামত থাকতে পারে। যেমন, যারা বিধাতায় বিশ্বাসি নন, তাদের কাছে এই যুক্তি টিকবে না। কিন্তু যেভাবে ২০২১ সালের কথা বিভিন্নভাবে আমাদের সামনে আসছে, সেক্ষেত্রে এই বছরটির বিশেষত্ব নিয়ে কৌতুহল হতেই পারে।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন নিয়ে সংসদের স্পিকারের উদ্যোগে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। সেখানেও শুনলাম ২০২১ সালের মধ্যে এই হবে সেই হবে। এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মুখেও ওই সালের ভেতর হেন করেগা তেন করেগা টাইপের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা আমরা শুনেছি।
আঃ লিগের নির্বাচনি ইস্তেহারকে আস্থায় নিলে বলতে হয়, "চাই তো অনেক কিছু, কিন্ত পাচ্ছি কই?"প্রতিশ্রুতি আর পাবার মধ্যে ফারাকটা দীর্ঘ হলে ক্ষমতাসীনরা সাধারণত পরের নির্বাচনে বিরোধি দলের আসনে উপবিস্ট হয়ে থাকেন। অন্তত ৯০ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে, অন্তত সে রকমই ধারণা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ২০১৩ সালের নির্বাচনি বৈতরনি পার হওয়াটা আঃ লিগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। এর পর বাকি থাকলো ২০১৮ সালের নির্বাচন। সেখানও কি হয় সেটাও ভবিতব্য।
হতে পারে, আঃ লিগের হাতে আলাউদ্দিনের চেরাগ আছে। যার ফলে তারা ভবিষ্যতের কথা এখন থেকেই বলে দিতে পারে। নইলে, ২০১৩ সালেই যাদের ক্ষমতায় যাবার নিশ্চয়তা নেই, তারা কি করে এত দৃঢ়তার সাথে ২০২১ সালে এই হয়ে যাবে সেই হয়ে যাবে বলে বক্তব্য রাখে।
অবশ্য জলিল সাহেবের ভাষ্য যদি সঠিক হয়, তাহলে ২০২১ সাল কেন এই শতাব্দির পুরোটাই আঃ লিগ রাজত্ব করবার ক্ষমতা রাখে। যেহেতু এখন পর্যন্ত জলিল সাহেবের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই , সুতরাং পাগলের প্রলাপ বলে তার দাবিকে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
ফিরে আসছি দারিদ্র বিমোচন কর্মসুচিতে। আওয়ামী লিগের স্পিকারের উদ্যোগটা ভালো, কিন্ত একজন ঠুটো জগন্নাথের কথায় তো আর রথের চাকা ঘুরে না। আমাদের দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে অবশ্য স্পিকার পদটি একজন দলীয় মুখপাত্রের বেশি কিছু নয়। সেক্ষেত্রে আব্দুল হামিদ সাহেবের খুব বেশি সমালোচনা করার সুযোগ নেই।
সেই সম্মেলনে বিরোধি দলীয় নেত্রি যাননি। কেন যাননি, সেটাও খুব স্পস্ট করে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জনগণকে জানিয়েছেন। এর পরেও আমাদের প্রধানমন্ত্রি, ঐ সম্মেলনে দুর্নীতির সাথে বিরোধি দলীয় নেত্রির সম্পৃত্ততার কথা তুলে ধরে, তার বিরুদ্ধে বিসোদগার করেছেন। প্রধানমন্ত্রি ভুলে গিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলি ছিল, তিনি ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সেগুলি প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছেন। এতে করে তিনি যে ধোয়া তুলসি পাতা হয়ে গিয়েছেন তেমন কিন্তু নয়। এখন পর্যন্ত তার অনেক কিছুর ব্যাপারেই মানুষের মধ্যে সন্ধে রয়ে গেছে।
আর যাদের সামনে দাড়িয়ে তিনি লেকচার ঝেড়েছেন, তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল, যে নিজে শেখ হাসিনার দুর্নীতির পক্ষ্যে সাক্ষি দিয়েছিল। এছাড়াও যে সব পুরানো পাপির উপস্থিতিতে তিনি কথা বলেছেন, তাদের চেনার আর কিছু বাকি নেই। আপনি আচারি ধর্ম পরেরে শিখাও নীতি বাক্যটি অনুসরন করলে বরং শেখ হাসিনার কিছুটা পাপ স্খলন হতো।
আরো ভয়ংকর কথা হলো, ওই একই সম্মেলনে, দেশের গণ্যমান্য পানি বিশেষজ্ঞকে বাদ দিয়ে কোথাকার কোন আবু সুফিয়ানকে দিয়ে টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষ্যে সাফাই গাওয়ানো হয়েছিল। টিপাইমুখ বাঁধ "পরিদর্শন" করে প্যান্ট নোংরা করা কিছু চিহ্নিত দালাল যে রিপোর্টটা দিয়েছিল, আবু সুফিয়ানের বক্তব্যে তার থেকে কিছু আলাদা ছিল না। নিজেদের দালালি ঢাকতে এ ভাবেই এক শেয়ালের পর বাকি শেয়ালগুলিও হুক্কা হুয়া রব জুড়ে দেয়। দুঃখের কথা হচ্ছে এই সব শেয়ালের পালের ভেতর, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব সবাই আছেন। এই রকম ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতি আর চোয়ালবাজির কারণে দারিদ্র বিমোচন হবে বটে !
দারিদ্র বিমোচন বা দুরিকরনের বিভিন্ন উপায় বাতলালেও, ওই যে, আঃ লিগ সেই ২০২১ সালের টার্গেটই বেঁধে রেখেছে। যদি তাই হয়, তবে আর মাথা কুটে মরা কেন? ঘাম ঝড়িয়ে আর কি প্রয়োজন? সবাই হাত পা গুটেয়ে বসে থাকুন। ২০২১ সাল আসলে, আর কোন চিন্তা নেই। কি বলেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


