সময়ের অভাবে লেখা হয়ে ওঠে না। তবে খোঁজ খবর রাখতেই হচ্ছে। যাতে মনে হচ্ছে আমাদের দেশে রাজনীতি নিয়ে যা চলছে তাকে বাঁদরামির অতিরিক্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। আর সে সব বাদরামির মোটামুটি একটি চালচিত্র দাড় করানোর জন্যই এই প্রয়াশ।

তৈলুর রহমান নামে কুখ্যাত জিল্লুর রহমান রাস্ট্রপতি হিসেবেও বিতর্কের জন্ম দেয়া শুরু করে দিয়েছেন। যদি ভেবে থাকেন যে, মিথ্যেবাদি খান্ডারনি হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা সাজেদা চৌধুরির ছেলেকে জামিন দিয়ে, জিল্লুর রহমান বিতর্কের সৃস্টি করেছেন, তার সাথে খানিকটা সহমত পোষন করলেও, তার পুরো দায় জিল্লুরের কাধে দেবার পক্ষপাতি আমি নই। কেননা বর্তমান শাসন কাঠামো অনুসারে বাংলাদেশের রাস্ট্রপতি মাত্রই প্রধানমন্ত্রির দম দেয়া পুতুল বৈত নয়।
জিল্লুরের কেরামতি অন্য যায়গায়। বাধর্ক্য আর জরার কারণে জুবুথুবু এই মানুষটি কোন ফাঁকে ভৈরবকে কিশোরগঞ্জ থেকে আলাদা করে জেলা ঘোষনার করে দিয়েছেন, তা কেউই টের পায়নি। টের তখন পাওয়া গেলো যখন দেখা গেলো এই একনায়কতান্ত্রিক রায়ের ফলে কিশোরগঞ্জের অন্যান্য এলাকার সাথে ভৈরবের মানুষদের সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেলো। পরিবহন অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও, হরতাল নৈরাজ্য। অন্যদিকে ভৈরবের সাথে যুক্ত করার প্রতিবাদে নিকলির মানুষেরা প্রাণ দিয়ে হলেও জিল্লুরের এই সিদ্ধান্ত প্রতিহত করার ঘোষনা করেছে। ( তথ্যসুত্র গত রাতের একুশে টিভি)
অর্থাৎ যে মানুষটি নিজেই লাঠির সাহায্য ছাড়া ভারসাম্যহীন, তিনি তার বাদরামি কুসিদ্ধান্তের মাধ্যমে শান্তিপুর্ণ পুরো একটা জেলাকে ভারসাম্যহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

আগামি মাসে শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগে ভুটান সফরকালে প্রতিবেশিদের কাছে বিদ্যুত রফতানির কথাটিও বিশেষভাবে বলেছেন। হাসিনার যে ইতিহাস ভুগোল সমন্ধে জ্ঞান অতি স্বল্প সেটা আবার প্রমান হলো। প্রথম কথা হলো, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি। আর ভুটানের সাথে আমাদের সীমান্তই নেই। তাছাড়া ভূটানের দুই প্রতিবেশি চীন এবং ভারতের তরফদার হবার মত সুযোগ হাসিনার নেই। তর্কের খাতিরেও যদি ধরে নেই যে তিনি বাংলাদেশের ব্যাপারেই বলেছেন, তাহলেও তো বলতে হয়, ভারতের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে কি করে তিনি এহেন অনুরোধ করলেন? নাকি তলে তলে তিনি ভারতকে এমন কিছু সুবিধা দেবার পরিকল্পনা করেছেন যে, সাময়িক লোক দেখানোর জন্য হলেও ভারত তার ভুমির উপর দিয়ে ভুটান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত পরিবহনের অনুমতি দেবে।
ভারত সফরের সময় যে সব চুক্তি সম্পাদনের কথা রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ সংক্লিষ্ট কোন গুরুত্বপুর্ণ ইস্যুর কথা জানা যাচ্ছে না। কেননা এই চুক্তির আওতায় ফারাক্কা, তিস্তা কিংবা টিপাইমুখ বাধের বিরুদ্ধে কিছু থাকছে না। থাকছে না বিশাল বানিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার কোন চেস্টা। থাকছে না সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশি হত্যার বিরুদ্ধে কিছু। যা জানা যাচ্ছে, সেটা হলো ভারতকে বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেবার জন্যই হাসিনার এই সফর। আর বিরোধি দল যাতে বেগরবাই না করে, সে জন্য হাল্কা ধমক দেবার জন্য ভারতের পররাস্ট্রমন্ত্রি নিরুপমা রাও, খালেদা জিয়ার সাথে "সৌজন্য" সাক্ষাতও করেছেন।
কিছুদিন আগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সমাপনি দিবসে হাসিনা বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে ফেলার কারণেই নাকি আমাদের দেশে কোন উন্নতি হচ্ছে না। তিনি স্বাধীনতার "প্রকৃত ইতিহাস" সবাইকে শিখিয়ে ছাড়বেন বলেও উক্তি করেছেন। অন্যদিকে ধানমন্ডি মাঠটাকে তার ছোটভাই জামালের নামে লিজ দিয়ে শরাবখানা বানানোর অনুমতি দিয়েছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সরিয়ে সেখানে স্বজনদের নাম বসিয়ে স্বাধীনতার পরাকাষ্ঠা দেখানো হাসিনা, বলতে চাচ্ছেন যে, স্বাধীনতার ইতিহাসে তার গুষ্টি ছাড়া আর কারো কোন অবদান থাকা চলবে না। অবশ্য এই কাজে তার অনুগত সারমেয়র দল বিভিন্ন ভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
আইন শৃংখলা, দ্রব্যমুল্য পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অংগনে বাংলাদেশের বন্ধুহীনতা, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসিদের ক্রমাগত প্রত্যাবর্তন, যুবলিগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে দিশেহারা জনপদ, আঃ লিগের পলাতক সন্ত্রাসিদের আবার নতুন করে পুনর্বাসন, আঃ লিগের দুর্নীতিবাজদের একের পর এক মামলা প্রত্যাহার, এই সব মামদোবাজির সাথে হাসিনার বাঁদরামি যোগ হয়ে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

মিস হেকেল জেকেল খ্যাত স্বরাস্ট্রমন্ত্রি সাহারা খাতুন এবার সন্ত্রাসি গডফাদার জয়নাল হাজারির পক্ষ্যে সাফাই গিয়েছেন। সেই স্বাধীনতার পর থেকেই কেস খাওয়া জয়নাল হাজারির ফেনীতে আবারো অধিষ্ঠানের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মিস হেকেল জেকেল বলেছেন যে, জিল্লুরের ( জিল্লুর রহমান) নামও নাকি সন্ত্রাসি খাতায় ছিল। অর্থাৎ হাজারি ধোয়া তুলসি পাতা। হেকেল জেকেলের মত স্বরাস্ট্রমন্ত্রির এই রকম বাদরামির কারণেই যে সন্ত্রাস দমনের কাজটি হচ্ছে না, সেটা বলাই বাহুল্য।
তাছাড়া উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মত প্রায় সব কেসেই বি এন পির আব্দুস সালাম পিন্টু থেকে শুরু করে বাবর সবাইকেই "রিমান্ডে" নিয়ে খাতির করা হচ্ছে। আর সেটা নিয়ে বাঁদরামির চুড়ান্ত করছে দুই বাঁদর ব্যাঃ শফিক আর তার আধা চান্দিছোলা ডেপুটি কামরুল ইসলাম।

শহিদ জায়া বেগম মুশতারি শফিকে ল্যাং মেরে ঘাদানিকের ক্ষমতা দখলকারি বিশিস্ট ভারত প্রেমিক, বোমা হাসান ইমাম আবারো রাজনীতির পর্দায়। অতি ধুর্ত প্রকৃতির হবার কারণে অনেকদিন গা বাঁচিয়ে চললেও, একবার ধরা খেয়ে প্যাদানি খেয়ে অনেকদিন পালিয়ে ছিল। চেতনাধারিরা ক্ষমতায় বসার পর, বাকি ক্রিমিনালদের সাথে সাথে সেও আবার বাংলাদেশে এসেছে। আর এসেই নবান্ন উৎসবের সাথে রবীন্দ্র টবিন্দ্র যোগ টোগ করে পুরানো পাপ মেটানোর জন্য চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বাদরটা আগে বলেছিল যে, আমাদের স্বাধীনতা নাকি রবীন্দ্রের স্বপ্ন। আঃ লিগ ক্ষমতায় থাকলেই ভারত প্রেমিক দালালগুলি বেশ জাকিয়েই বসে।
যাই হোক, এত সব বাদরামির বিরুদ্ধে আমরা মুখ বুজে সহ্য করবো, নাকি আমাদের চিরচারিত লাঠি ব্যাবহার করবো, সেটিই প্রশ্ন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


