ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে সর্বপ্রথম সন্ত্রাসিদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয় স্বৈরাচারি আয়ুব খান। তার নির্যাতন দমন পীড়নের বিরুদ্ধে ঢাবির ছাত্ররাই অগ্রনি ভুমিকা পালন করতো বলে তাদের ঠ্যাঙ্গাতে পাঁচ পাথর নামের পাঁচজন সন্ত্রাসি ছাত্রকে লেলিয়ে দেয়া হতো। তবে আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতিরোধের কারণে এদের একজন রমনা পার্কে খুন হয়। তার জেরে ভয়ে বাকি চারজন উধাও হয়ে যায়।
বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের মুখ্য ভুমিকা ছিল। এই ছাত্রদের মধ্যে আওয়ামী ছাত্র লিগ যেমন ছিল, তেমনি ছিল বামপন্থি ছাত্রদের বিশাল ভুমিকা।
স্বাধীনতার পর পাঁচ পাথরের স্থানে অধিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। বাকিদের ছাত্র রাজনীতিকে পায়ের তলায় গুড়িয়ে দেবার জন্য, শেখ কামালের নেতৃত্বে আঃ ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসের আশ্রয় নেয়। জন্ম নেয় আওরঙ্গ, লুকু, হান্নানদের মত ভয়ানক খুনি সন্ত্রাসিদের। তাদের ফ্যাসিস্ট মনবৃত্তির কারণে ক্যাম্পাসে ভিন্নমতালম্বি ছাত্র সংগঠনগুলি ছিল সব সময়েই কোনঠাসা। আর এই সন্ত্রাসে খোদ শেখ কামাল জড়িত থাকায়, ছাত্রলিগ হয়ে পড়ে বেপরোয়া। শুধু অন্য ছাত্র সংগঠনের ছাত্রদের পিটিয়ে সোজা করাই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানোও এদের কাজ হয়ে পড়ে। সম্ভবত ১৯৭৩ বা ১৯৭৪ এ ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনার থেকে প্রভাত ফেরি শেষে বাড়ি ফিরতে থাকা ১৭ জন ছাত্রিকে অপহরন করে নিয়ে যায় ছাত্রলিগ। ওদের লালসার শিকার হয়ে লোকলজ্জা এবং আরো ভয়াবহ নির্যাতনের আশংকায় তারা হয়ে যায় নিভৃতচারি। সংবাদপত্রগুলি ভাসা ভাসা এবং খুব অল্প গুরুত্ব দিয়ে খবরটি ছাপে। তবে যারা সে বছরগুলিতে ঢা বিতে পড়ুয়া, তাদের স্মৃতির মণিকোঠায় খবরটি ঠিকই রয়ে যায়। এর পর মহসিন হলের এক শিক্ষক প্রোভোস্টের স্ত্রীকেও ছাত্রলীগ তুলে নিয়ে সম্ভ্রমহানি করে। ঢা বির ইতিহাসে এধরণের উদাহারণ বোধ করি আর কোনদিন সৃস্টি হবে না। ব্যাপারটি এমন আলোড়ন তুলেছিল যে, খান আতা তার "আবার তোরা মানুষ হ" ছবিটিতে এই ঘটনাটি তুলে দিয়েছিলেন। তবে ঢা বির উদিয়মান আথলিট সুলতানা ছিলেন সত্যি ভাগ্যবতি। কেননা তাকে ঐ ১৭ জন নির্যাতিতা কিংবা শিক্ষকের স্ত্রীর পরিণতি বরণ করতে হয়নি। শুধু নিজ ও পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিনতাই হয়ে জোর করে শেখ কামালকে স্বামী হিসেবে বরণ করতে হয়েছে।
শেখ কামাল আর তার ছাত্রলীগ নামধারি সন্ত্রাসি বাহিনীর "সুকীর্তির" পরিধি ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে খেলাধুলার মাঠে পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রহমতগঞ্জের উদিয়মান স্ট্রাইকার কাজি সালাউদ্দিনকে অস্রের মুখে আবাহনীতে খেলতে বাধ্য করা হয়েছিল। আওয়ামী লিগের সন্ত্রাসের মুখে পড়তে পারেন এই আশংকায় সালাউদ্দিন নিজেও এব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনদিন মুখ খুলেননি। পাঠক আমি বর্তমান বা ফু ফে প্রেসিডেন্ট কাজি সালাউদ্দিনের কথাই বলছিলাম।
কয়েকদিন আগে দেখলাম, আগাগোড়া আওয়ামী কাদা মাখা একজন ব্লগার, নিরপেক্ষতার ভেক ধরে, আওয়ামী লিগের কুকীর্তিগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। শেখ কামাল আর আওয়ামী লিগ নাকি গঙ্গাজলে ধোয়া তুলসি পাতা, ওদের বিরুদ্ধে যারা লিখছে তারা জামাতি রাজাকার ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন কি হাসিনা ও শেখ সেলিমের বিয়াইদেরও রাজাকার অপবাদমুক্ত করার জন্য তিনি তত্ত্বের জাল বুনেছেন। যেভাবে একের পর এক আঃ লিগের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, তাতে বোধ করে আঃ লিগের থিংক ট্যাংকরা প্রমাদ গুনছেন। তাই একই ক্ষুরে মাথা কামানো ব্লগারদের দিয়ে সেগুলি ধামাচাপা দেবার এত ফন্দি ফিকির করা হচ্ছে।
৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর এই হিংস্র পশুদের দলের অনেকে ভারতে জামাই আদরে স্থান পায়। অনেকে পালিয়ে যায়। অনেকে ঠান্ডা মেরে যায়। কিন্তু হাসিনার শ্রদ্ধাধন্য এরশাদের ক্ষমতারোহনের পর নতুন উদ্যোগে আবারও ছাত্র লিগ নামের এই সন্ত্রাসি গোষ্ঠি পথচলা শুরু করে। ১৯৯৬ সালে আ" লিগ ক্ষমতায় আসার পর এরা রীতিমত বাধহারা হয়ে যায়। যার ছোট্ট একটা নজির হলো জা বির এক ছাত্রলিগ নেতার ধর্ষনের সেঞ্চুরি পালন। ( আরেক আওয়ামী ব্লগার এই ঘটনাটিকেও শ্রেফ গুজব এবং ঐ মেয়েরা স্বেচ্ছায় তাকে দেহদান করেছিল বলে পাপ কাটানোর লজ্জাজনক প্রয়াস পেয়েছিলেন)।

আর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আঃ লিগের বিজয়ে পৈশাচিক কর্মকান্ডে পুর্বসুরিদের যোগ্যতার প্রমান দিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলিগ। অন্য ছাত্র সংগঠনের কথা না হয় বাদই দিলাম। নেতৃত্ব এবং লুটপাটের বখরা নিয়েও নিজেদের ভেতরেই খুনোখুনি চলছে। যার ফলে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমন কি নিজ দলের নারী নেত্রিরাও এদের সন্ত্রাস থেকে নিরাপদ নন। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নারী ধর্ষন ইত্যাদি অপরাধে উন্মত্ত ছাত্র লিগের অপকর্মের দায় থেকে নিজেকে বাঁচাতে হাসিনা ছাত্র লিগের উপদেস্টার পদ থেকে সরে দাড়িয়েছিলেন। কান ও চোখের সেই বিখ্যাত নাটকের পর এটাই হাসিনার আরেকটি নাটক। কারণ তিনি চাইলে ছাত্র লিগ বাপ বাপ করে সিধে হয়ে যেত।
ছাত্রলিগ যেন পণ করেছে যে তারা ঢা বির কুকর্মের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে। আর সে লক্ষ্যে ঢা বি এলাকায় ছাত্রলিগের সমাবেশ থেকে জহুরুল হক হলের এক ছাত্রলিগ নেতা, ঢা বির অ-আওয়ামী লিগপন্থি শিক্ষকদের হত্যা করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছে। যা ঢা বির ইতিহাসে আরেকটি কলংকজনক অধ্যায়।
স্বাধীন বাংলাদেশে কোন ছাত্র সংগঠনই নিজেদের ধোয়া তুলসি পাতা বলতে পারবে না। বিশেষ করে ছাত্রদল আর শিবির তো নয়ই। কিন্ত ছাত্রলিগের সব সন্ত্রাস সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ছাত্রলিগ নামের এই সন্ত্রাসি ধর্ষক চাঁদাবাজ টেন্ডারবাজ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। নইলে এরা একদিন খোদ আওয়ামী লিগকেই গিলে খাবে। আর তা না হলে, ভুক্তভোগি ও অতিস্ট সাধারণ জনগণই এদেরকে চোর ডাকাত জ্ঞানে পিটিয়ে মারবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


