somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রীমতি গোয়েবলেস, হিরোকে বেশি হিরো বানাতে যাবেন না... হিতে বিপরীত হতে পারে

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাজি জার্মানির প্রচার মন্ত্রি হিসেবে এখনও জোসেফ গোয়েবলেস কুখ্যাত হয়ে আছে। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বিশ্বকে নিজ নিজ অক্ষে আনতে, অন্য আরো পদ্ধতির পাশাপাশি, দুই পরাশক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারযুদ্ধে জড়িত ছিল। মজার ব্যাপার হলো বিপরীত এই দুই পক্ষই গোয়েব্লেসিয় প্রচারের কট্টর সমালোচক হলেও, স্নায়ু যুদ্ধের পর ওই একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল।

রামায়নের প্রধান একটি চরিত্রের নাম হলো রাবন। মহাদুস্ট হিসেবে রাবনকে চিহ্নিত করা হয়। রামায়নের বর্ণনা অনুসারে রাবনের ছিল একাধিক মাথা, যা একটি কাটা পড়লে সেখান থেকে নতুন মাথা গজাতো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে গোয়েবলেস ইতিহাসের পাতায় ঠাই নিলেও, তার মিথ্যা প্রচারের পদ্ধতি বেশ চালু আছে। রাবনের মাথা কাটার মতই, একজন মিথ্যা প্রচারকারি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেও, কোথাও না কোথাও একই পদ্ধতিতে মিথ্যাচার চলছে। অবাক করার মত বিষয় হলো, সেগুলি বিশ্বজনগণের অনেকেই খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসও করছেন। আর এই মিথ্যচারের উপর ভিত্তি করে স্বাধীন দেশকে পরাধীন বানানোর উদাহারণও রয়েছে।

গোয়েবলেসের কন্ঠ অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশেও অবস্থান করছে। তবে ১৯৯৬ সাল থেকে এই কন্ঠটি ধারন করেছেন একজন অতি গুরুত্বপুর্ণ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব। ১৯৯৬ সালে তিনি দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে নিয়োজিতদের মাধ্যমে মিথ্যাচার করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে, সেই চক্ষুলজ্জাটি আর রাখেননি।

গতকাল তিনি যখন বইমেলার উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, তখন সর্বসম্মুখেই তিনি বলেছেন যে, ১৯৫২ সালের ২১শে ফ্রেব্রুয়ারির দিন বঙ্গবন্ধুই নাকি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে বলেছিলে। ( তাও "অসুস্থ" অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে।)

** ১৯৯৬ সালে ঐ একই কথা (মিথ্যা) বলা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে যা ছিল মেডিকেলের বাথরুমের জানালা দিয়ে চিরকুট ফেলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের আহবান, ২০১০ সালে সেই কাহিনি বদলে হয়েছে বিছানায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আহবান।**

ঠিকই ধরেছেন। যার কথা বলছি, তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রি এবং আঃ লিগ প্রধান শেখ হাসিনা। মুখরা হিসেবে তো তিনি কুখ্যাত ছিলেনই, প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বেশ কয়েকটি উদাহারণ তিনি সৃস্টি করে রেখেছেন ( ৫৭ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহন, বিরোধী দলে গেলে হরতাল করবো না, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক মেনে নেবো, ইত্যাদি) । আগে মিথ্যাচার করার সময় স্থান কাল পাত্র দেখে নিতেন, এখন সে লজ্জাটুকু নেই।

আব্দুল গাফফার চৌধুরির মত চরম অন্ধ এবং উগ্র আওয়ামী লিগ সমর্থকও বোধ করি এই মিথ্যা উক্তিতে বিশাল একটা ধাক্কা খাবেন। উনারাও মিথ্যচার করেন, কিন্ত তাই বলে এত বিশাল পরিব্যাপ্তির মিথ্যাচার?

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, এটা শুধুমাত্র স্বাধীনতা বিরোধীরা ছাড়া বাকি সবাই এক বাক্য স্বীকার করবে। বঙ্গবন্ধু যে রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই জীবনের অনেক মুল্যবান সময়, জেলখানায় কাটিয়েছেন, এটাও চরম সত্য। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রত্যক্ষ না করলেও, সামনে থেকে নেতৃত্ব না দিলেও, তারই নামে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে প্রস্তত ছিল। তাকে একমাত্র নেতা স্বীকার করেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। এসেছে অনেক আরাধ্য আর কাংখিত স্বাধীনতা। তিনি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এক অনন্য নায়ক।

কিন্তু তাকে আরো বেশি নায়ক বানাতে মিথ্যাচার করলে, বা জোর করে তাকে শ্রদ্ধা করাতে চাইলে হিতে বিপরীত হবেই। কারণ সাধারণ মানুষকে বোকাপাঠা জ্ঞান করে, বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মিথ্যাচার করলে প্রশ্ন উঠবে, তাহলে অলি আহাদ আর শামসুল হক, এরা কারা? শেষে কেচো খুড়তে সাপ বের হলে, তাতে হাসিনা কিংবা বঙ্গবন্ধু কারোরই সম্মান বাড়বে না।

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরদিনের জন্য স্থায়ি হয়ে গিয়েছে। গোয়েব্লেসিয় কায়দায় তার সাথে আরো নায়কত্ব না চাপিয়ে, বরং তাকে তার স্থানেই সম্মানের সাথে থাকতে দিন।
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×