
ছাত্র লীগের অভিবাবকত্ব থেকে লোক দেখানো অভিমানে সরে দাড়ালেও, হাসিনার আশির্বাদেই যে সারাদেশ ব্যাপি ছাত্র লীগ উন্মত্ত সারমেয়ের মত আচরণ করে বেড়াচ্ছে, সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। নইলে, সরকার আর প্রশাসনের সমর্থনবিহীন কোন সংগঠন, দিনের পর দিন অপরাধ চালিয়ে যেতে পারে? তাছাড়া রাবিতে একজন ছাত্র লিগ কর্মি নিহত হবার পর পরেই যেভাবে বেহায়া চোয়ালের স্বরাস্ট্রমন্ত্রি আর তার ডেপুটি মিলে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার নামে যে অশ্বমেধযযযের আয়োজন করলেন, তাতে বোঝা কস্টকর নয় যে, ছাত্রলিগের সন্ত্রাসের সমর্থনে কাদের হাত রয়েছে।
নইলে ক্ষমতায় বসার পর পরই, স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগ নামের আজন্ম সন্ত্রাসি সংগঠনটি একের পর এক অপরাধ সংঘটন করেও কি করে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে?
লাচ্ছা সেমাইয়ের মত বিচার বিভাগকে আস্টে পিস্টে লেপ্টে, আঃ লিগের ইচ্ছা অনুযায়ি দেশ চলছে ৪র্থ সংশোধনির মাধ্যমে। শুধু জনরোষের ভয়ে, সংবিধান থেকে আল্লার প্রতি বিশ্বাস আর বিসমিল্লাহ তুলে দিতে পারছে না তারা। বাকি সবই যে বাকশালের কায়দায় চলবে, সেটা নিশ্চিত করতেই এত আয়োজন।
মিডিয়াতে স্বীয় স্তাবকদের অবস্থান খুবই মজবুত। একমাত্র আমার দেশ পত্রিকাকে বাগে আনতে না পেরে, ১১ জন নিরপরাধ লোককে পুড়িয়ে মারার প্রধান আসামি, সন্ত্রাসি নানককে দিয়ে হুমকি দেয়ানো হলো। ওই পত্রিকার সাংবাদিকের উপর প্রাণঘাতি হামলা হলো। ওই পত্রিকার সম্পাদকের নামে দুই কড়ির গ্রাম্য মোড়ল গোছের ভাড়াটে লোকদের দিয়ে প্রথমে মানহানির মামলা, এর পর সন্ত্রাসি কায়দায় আক্রমনও করা হলো।
বাকশালের সময়, আইনি কায়দায় ৪টি পত্রিকা রেখে বাকিগুলি নিষিদ্ধ করার মত ভদ্রতা দেখালেও, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে চর দখলের কায়দায় বিরোধি কন্ঠ স্তব্ধ করে দেবার চেস্টা চলছে। অন্যদিকে আওয়ামী ক্ষুরে মাথা কামানো তথাকথিত সুশিল নামের কুবুদ্ধিজীবিরা তাদের কায়দায় আঃ লিগের নামে খুতবা পাঠ শুরু করে দিয়েছে।
হিজবুত তাহিরিকে নিষিদ্ধ করা হলো যে কারণে, তার চেয়ে শতগুণ বেশি দোষে খোদ আওয়ামী লিগ আর ছাত্র লিগ দোষি। হিজবুত যদি ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, তাহলে আঃ লিগ চায় বাংলাদেশকে ভারতের একটা প্রদেশে পরিণত করতে। উদাহারণ চান? সম্প্রতি হাসিনার ভারত সফর, এবং ভারতের মর্জিমাফিক চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারগুলি মুক্তমন নিয়ে পর্যালোচনা করলেই চলবে। তাছাড়া এক তীরে বিডি আর আর সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার মোক্ষম ষড়যন্ত্রটি যে সীমান্তের ওপার থেকে রচিত, এবং আঃ লিগ পরিচালিত, সেটাও এখন আর আড়ালে নেই।
নতুন করে দাবি উঠেছে, জামাত শিবির নিষিদ্ধ করতে হবে। কেন? তারা যুদ্ধাপরাধি। ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। স্বাধীনতার পর পর সেটা করা হয়নি কেন? কেন দলের পর দিন জামাত শিবিরকে বাড়তে দেয়া হয়েছিল? কেন বিরোধি দলে থাকলেও, এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়নি আঃ লিগ। ৯৬ এর নির্বাচনের আগে, আঃ লিগ জামাতের সাথে এক মঞ্চে বসে বি এনপির বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন করেছিল, তখন কি নিজামি আর তার দল যুদ্ধাপরাধি ছিল না? হাসিনার মেয়ের সাথে সাথে বৈবাহিক সুত্রে হাসিনার বেয়াই মোশাররফ মিয়া কি ধোয়া তুলসি পাতা হয়ে গিয়েছে। হাসিনার সব কুকর্মের ডান হাত ক্রিমিনাল শেখ সেলিম যখন রাজাকার মুসা বিন শমসেরের সাথে বেয়াই পাতাই, তখন কি চেতনাধারিদের চৈতন্য লোপ পেয়েছিল?
আসলে আঃ লিগের উদ্দেশ্য জামাতকে টেস্ট কেস হিসেবে ব্যাবহার করা। আসল টার্গেট বি এন পি। সাধারণ মানুষের আবেগকে ব্যাবহার করে যুদ্ধাপরাধী ধোয়া তুলে প্রথমে জামাত শিবিরকে নির্মুল করা হবে। এর পর মুজিব হত্যায় সংক্লিস্টতা আবিস্কার করে, জিয়াকে হত্যাকারি বলে, জিয়ার পরিবারকে নির্মুল করা হবে। তখন আর মুখে বাকশাল ঘোষনা না দিয়েও, একচ্ছত্র একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আর কোন বাধা থাকবে না। আর তখন হাসিনার লেন্দুপ দর্জির ভুমিকায় সফল হওয়া কে ঠেকায়?
চালের বাজারে আক্রা, আইন শৃঙ্খলার মা বাপ নেই, আঃ লিগ আর তার অংগসংগঠনগুলি একে একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দিচ্ছে, বিদ্যুত সংকট মোকাবেলায় ঘড়ির কাটা বাড়ানো কমানো নিয়ে ফাজলামি চলছে, নামকরণের দৌরাত্বে বীরশ্রেষ্ঠদের নাম বাদ যাচ্ছে, বি এন পিকে সংসদের বাইরে রাখতে বেজন্মা সেলিমরা জিয়ার লাশ নিয়ে কটুক্তি করছে, বিরোধীদলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, হামলা, মামলা হচ্ছে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির নামে আমাদের স্থল আকাশ আর জল ইজারা দেয়া হচ্ছে ভারতের কাছে, সীমান্ত রক্ষি এবং সার্বভৌমত্বের প্রহরি সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে, ইত্যাদি এত অপকর্ম ঢাকা দিতে, আঃ লিগ ফ্যাসিস্ট কায়দায় ত্রিমুখি ( সংগঠন, বিচার বিভাগ আর মিডিয়া) আক্রমন পরিচালনা করছে। যার ফলফল তাদের নিশ্চিহ্নতাই শুধু নিশ্চিত করতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


