[গুজব ছড়ানোর মত বিলাসিতা আমার নেই। যা লক্ষ্য করছি, আমার ক্ষুদ্র বিবেচনায় বিশ্লেষন করার পরই এই লেখাটির অবতারণা করতে হলো। আমার বিশ্লেষন ভুল প্রমানিত হোক, এটাই কামনা।]
প্রথম পর্বের লিংক
Click This Link
টিভি চ্যানেল্গুলির মধ্যে সাইখ সিরাজ আর ফরিদুর রেজা সাগরের চ্যানেল আই অমিত সম্ভাবনা নিয়ে শুরু করলেও, তাদের মুখোশ খুলে যেতে দেরি হয়নি।

তাই খুব হতাশ হয়েই লিখতে হয়েছিল নীচের লেখাটি।
Click This Link
তথাকথিত ডঃ মাহফুজুর রহমানের নিম্নমান ও রুচিহীন অনুষ্ঠানমালার এ টি এন বাংলা তার আওয়ামী প্রীতি কোনদিনই গোপন করেননি। বরং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই যেভাবে মুজিব বন্দনায় নেমেছিল, সেটা ভন্ড মোল্লা মেজবাহর সাথেই তুলনীয়।
এন টি ভি ফালুর মালিকানাধীন হলেও, অশিক্ষিত মালিক হলে যা হয়। শিক্ষিত মিডিয়া কর্মীদের কথার উপর কথা বলার যোগ্যতা তার ছিল না। ফলে মুনাফার কথা ভেবেই বি এন পি বিরোধী মনভাবাপন্ন মিডিয়া কর্মী দিয়েই সে চ্যানেল চালিয়ে আসছিল। আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার পর সেই কর্মীরা সরাসরি লিগ ঘেষা হয়ে গেলেও, মামলার খাড়া ঘাড়ের কাছে ঝুলতে থাকা ফালুর আর কিছুই করা নেই। এর বিপরীতে "বীরত্ব" দেখাতে গিয়ে বৈশাখি আর আরটিভির কি হাল হয়েছে সেটা বিশ্লেষনের প্রয়োজন দেখছি না।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় বলে যেভাবে হাসিনা সরকার দৈনিক বাংলা ট্রাস্ট গিলে ফেলেছিল, সেটা দেখেও শিক্ষা নেবার প্রয়োজন ছিল। রেহানার মালিকানায় আর তার বান্ধবি হাসনা মওদুদের নেতৃত্বে এককালের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রা হয়ে গেছে আওয়ামী প্রপাগান্ডার একটা সস্তা প্লাটফর্ম।
ওই ৯৬ সালেই বৃটিশ নাগরিক সাইমন ড্রিং এবং এক ভারতীয় শিখের মালিকানায় চালু করা হয় একুশে টিভি। কথিত আছে শেখ রেহানাকে ম্যানেজ করে এই চ্যানেলটিকে সমস্ত আইন কানুনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে টেরস্টিয়াল সুবিধা দান করা হয়। যা রাস্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য সুখবর ছিল না। এই চ্যানেলটি তার উন্নত অনুষ্ঠানমালা প্রচারের জন্য প্রচন্ড জনপ্রিয় হলেও, এজেন্ডা ছিল আওয়ামী লিগের দলীয় প্রচারনা চালানো। যেহেতু শিখ মালিক, তাই ভারতের কুকর্মের খবরগুলিও চেপে যাওয়া হতো এই চ্যানেলটিতে। পরবর্তিতে এই দলীয় মুখপাত্র চ্যানেলটিকে বি এন পির সময় অনিয়মের কারনে আদালতের আদেশে বন্ধ করে দেয়া হয়।
২০০৬ সালের ১লা ডিসেম্বর আবারো একুশে টিভি চালু হয়। মালিকানা বদল হয়েছে কিনা জানি না। তবে এর প্রতিদান ভালো মতোই দিচ্ছে তারা। এই সেদিনও রাজাকার পরিবারের সদস্য আইন প্রতিমন্ত্রিকে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বলে অভিহিত করেছে এই চ্যানেলটি। আর আওয়ামী বন্দনা তো রয়েছেই। ওদিকে তাদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম যে বোম্বে এয়ারপোর্টে পিস্তল সহ ধরা পড়েছিলো, সে খবরটি এড়িয়ে এরা চমৎকার নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
গোড়া বাম থেকে একনিস্ট পুঁজিবাদিতে পরিণত হয়ে, খাটি আওয়ামী লিগার বনে যাওয়া আসাদুজ্জামান নুর এই সরকারের আমলে চালু করেছেন দেশ টিভি। একুশে টিভির সাথে তার কোন পার্থক্য নেই।
ওই একই পথ ধরে নাকি আরো কয়েকটি আওয়ামীপন্থি চ্যানেল শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
পত্রিকাগুলির অবস্থাও ওই একই রকম। পুরানো কমরেড কামরুলকে ম্যানেজ করে দিগন্ত মিডিয়ার রাজাকার মীর কাশেম আলি এখন আওয়ামী বিরোধীতা থেকে সরে এসেছে। তবে চক্ষুলজ্জার খাতিরে যতটুকু বলতে হয় ততটুকু বলে আর কি !
রাজাকার মওলানা মান্নানের সুপুত্র বাহাউদ্দিন সেই যে হাসিনার হাতে দীক্ষিত হয়েছিল, এর পর থেকে দৈনিক ইনকিলাবে আঃ লিগের প্রশংসা আর প্রশংসা। সম্ভবত তারা জনকণ্ঠকে টেক্কা দেবার মিশনে নেমেছে। আর চেতনাধারিরা ভুলেও মওলানা মান্নানের নাম নেয় না।
এই তো গেলো মিডিয়ার কথা। এখন অন্তর্জালের কথা শুনুন। সেখানেও আওয়ামী শকুনগুলি বসে নেই। রেহানার "ঘনিস্ট" বলে পরিচিত জনৈক সুশান্ত একটি ব্লগ চালায়। সামু থেকে বারংবার নিয়মভঙ্গের কারনে বহিস্কৃতরা এখন সেখানেই আড্ডা জমায়। সেখানেই তাদের গালিবাজি আর গলাবাজি দুইই চলে। আওয়ামী তত্ত্বে সাধারণ ব্লগারদের মগজ ধোলাইয়ে বিফল জনৈক ডাক্তার নাকি এদের মধ্যমণি। এই সরকার আসার পর নাকি সে স্বাচিপের কে একজন। হাসি পায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মও হয়েছিল কি না তার নাই ঠিক। কিন্ত সে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের একজন। ভন্ডামির একটা সীমা থাকা দরকার।
অনেকের অনেক রকম অভিযোগের পরেও সামওয়্যার ইন দা ব্লগ এখনও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই ব্লগটি চরম জনপ্রিয় সবার জন্য উপযুক্ত একটি প্লাটফর্ম। কিন্ত চাঁদের কলংকের মতই মাঝে মাঝে হাতে গোনা দুই একজন মডারেটর যে পক্ষপাতমুলক আচরণ করেন না, তা কিন্ত নয়। তবে আরো উর্ধতন কর্তৃপক্ষ্যের দৃস্টি আকর্ষন করলে, কাজ হয় বলেই আমি বিশ্বাস করি। (আমার বেলায় হয়েছে।)
আগেই বলেছি যে, যাদের অন্তরাত্মায় ফ্যাসিমজম বাসা বেধেছে, তাদের পক্ষ্যে নিরংঙ্কুশ মিডিয়ার সমর্থন থাকলেও তারা তৃপ্ত নয়। তারা চায় কোন অবস্থাতেই যত সত্য বা যুক্তিযুক্ত হলেও যেন তাদের বিরোধী কোন কন্ঠ প্রকাশিত না হয়। আর এ কারণেই তথ্য নিয়ন্ত্রন আইন প্রতিষ্ঠার ছলাকলা চলছে।
যেহেতু অন্তর্জালে সামুকেই দেখেছি সরকার বিরোধী লেখাগুলিকে যায়গা দিতে, তাই কন্ঠরোধের প্রথম টার্গেট সামুই হতে পারে। আর গোড়া আঃ লিগ সমর্থক পালের গোদাগুলি যেহেতু সামু বিরোধী আরেক ব্লগে বসে আছে, সুতরাং সরকারের বদনজর সামুর উপর পড়লে, এরা যে সমর্থন দেবেই সেটা নিশ্চিত।
তারা সে পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। যেমন ধরুণ ভারতীয়দের কৃপনতা (বাংলাদেশের প্রতি) নিয়ে একটি নির্দোষ লেখায় তাদের প্ররোচনায় এক ভারতীয় নাগরিক যথেচ্ছা গালাগাল করেছিল খোদ বাংলাদেশকে। সবাই তো আর তাদের মত ভারতের কাছে মাথা বেচে দেয়নি। আর তাই দেশপ্রেমিক অনেক লেখক এর তীব্র প্রতিবাদ করেছিল। তবে সবার প্রতিবাদের ভাষা সমান ছিল না। আর এই প্রতিমন্তব্যের জের ধরে এই কুচক্রি গোষ্ঠি তাদের নিক ফ্যাক্টরি খুলে স্বয়ং ওই পোস্টের বিরুদ্ধেই রিপোর্ট করেছিল। ফলে ওই পোস্টটি ড্রাফট করে আমাকে জেনারেল করে দেয়া হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে এই মন্তব্য প্রতিমন্তব্যের ব্যাপারে আমার অজ্ঞানতার কারণ বিশ্লেষন করে চিঠি দেবার পর আমার স্ট্যাটাস ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল।
ওই একই ফর্মুলা তারা সামুর বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করবে বলে আশংকা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামের নামে তাদের পক্ষ্যের লোকজনকে দিয়ে চরম আক্রমনাত্মক লেখা ও মন্তব্য প্রকাশ করাচ্ছে। ( খবর পেয়েছি মুক্তমনা সাইটের কর্ণধার অভিজিৎ রায়, রুদ্র মোহাম্মাদ নিকে লিখতে গিয়ে ধরা পড়ে, এখন সামুতে মেজভাবি নিক নিয়ে একই কুকর্মে লিপ্ত আছে।) আর ইসলামের নামে আজে বাজে কথা ছড়ানোর "অপরাধে" সরকারের পক্ষ্যে সামুকে বন্ধ করে দেবার চরম একটা অজুহাত সৃস্টি হবে। আর এভাবেই আঃ লিগের কুকর্মের কথা প্রকাশের মুক্তমঞ্চ সামুর কন্ঠরোধ করা হবে।
একই রকম চক্রান্তের জালে খোদ বাংলাদেশকেও জড়ানোর চেস্টা চলছে। এর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বর্তমান আওয়ামী সরকার। জনৈক দেব নারায়ন মহেশ্বর ইসলাম ধর্মে একটি প্রতিষ্ঠিত আচারের উৎস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন। তিনি হিন্দু ধর্মানুলম্বি হয়ে কেন এ ব্যাপারে মাথা ঘামাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন না করে বরং তথাকথিত নাগরিক অধিকারের নামে তার সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়া এই কর্মটি করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে একইভাবে যদি কোন মুসলমান নাগরিক মনু সংহিতাতে গোমাংস ভক্ষন দোষনীয় না হলেও, কেন হিন্দুদের গোমাংস খেতে বাধা দেয়া হচ্ছে, এরকম রিট করতেন, তাহলে তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীলদের লম্ফ ঝম্ফ হতো দেখার মতো। (যেমন ব্লগে উগ্র সাম্প্রদায়িক বংকিমের মত ইসলামকে এছলাম কিংবা মুসলমানদের মুচলমান লিখলে কিছু লোক হাততালি দেয়, অথচ কেউকে হিন্দু বললে উনারাই আবার তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন।)
অবিভক্ত ভারতের পুর্ব বঙ্গই হোক কিংবা অধুনা বাংলাদেশ, এর অধিবাসিরা কোনদিনই অন্তত সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। আর বাংলাদেশের এই গুণটি থাকলে, পাশের ঘরের সাম্প্রদায়িক অসম্প্রতিটি যে বিশ্বময় আরো বেশি চোখে পড়ে। তাই ভারতীয়দের পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ, হিউমান রাইটস কংগ্রেস ফর মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ ইত্যাদি সাম্প্রদায়িক সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। যাদের একমাত্র কাজ হলো সারা বিশ্বময় বাংলাদেশে যে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত নিস্পেসিত, উপেক্ষিত, এখবরটি প্রচার করা। যাতে অন্তত ভারতের কুৎসিত চেহারাটা ততটা চোখে না পড়ে। তবে আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় থাকলে এরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। হাজার হোক একই বৃন্তের দুটি ফুল তো !
আরেক উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির ( আমি বলি পৃথিবিতে এরাই সবচেয়ে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি) সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের সীমা পরিসীমা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এদের অধিপত্যবাদের লেলিহান শিখায় দুটি স্বাধীন দেশের লাখ লাখ নিরপররাধ মানুষ জ্বলে পুড়ে মরেছে।
ক্ষমতার লোভে এদের কাছ থেকেই দাসখত লিখে দিয়ে হাসিনা ক্ষমতা লাভ করেছে। তো যাদের দয়ায় এতকিছু, প্রতিদানে কিছু না দিলে কি চলে? তাই বাংলাদেশকেও জঙ্গি সন্ত্রাসি প্রমানে কিছুদিন পর পর জঙ্গি আবিস্কৃত হচ্ছে। যত কুকর্মই করুক না কেন, এই জুজু দেখিয়ে সেই অশুভ শক্তির সমর্থন লাভের জন্য দেশের ইমেজকে ধবংস করতে এরা পিছ পা হবে না।
এখন এই দেবনারায়ণ বাবুর অযথা কর্মে ক্রোধান্বিত হয়ে কেউ অঘটন ঘটিয়ে ফেললে, পর্দার অন্তরালে লুকিয়ে থাকাদের আসল খেলা শুরু হয়ে যাবে। নীল হেলমেটের আড়ালে গেরুয়া বাহিনী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করবে। ওরাই হবে আমাদের ভাগ্য বিধাতা। আর মালিকি কিংবা কারজাই এর পদটি আনন্দচিত্তেই হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা উপভোগ করবেন। আর তাদের বিরোধীতাকারিদের অনায়াসেই জঙ্গি সন্ত্রাসি বলে দমন করা হবে। এক ঢিলে দুই পাখি শিকার হবে।
এতক্ষন যা বললাম, সেটা আমার অনুমান এবং ধারণা মাত্র। এর ছিটেফোটাও যদি হয়, সেটা হবে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে উপর চরম আঘাত, এবং আমাদের ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের সাথে সরাসরি বেঈমানি।
এর সমাধান একটাই। বিষবৃক্ষকে বাড়তে না দেয়া। হুজুররা কি বলবেন সেদিকে না তাকিয়ে, সাধারণ মানুষ কি চায় সেদিকটিই প্রধান্য দেয়া উচিত। কারণ সাধারণ মানুষের সমর্থন না থাকলেও, ওই হুজুররাই লাথি দিয়ে ক্ষমতা থেকে ফেলে দেবে।
একই কথা সামুর বেলায়ও। আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে ঘৃণাবাদিদের রাশ টেনে ধরূন। চিহ্নিত ঘৃণাবাদিরা নিজের মত প্রকাশ করতে নয়, বরং সামুকে ধবংস করবার হীন মানসেই ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে। আপনারা সতর্ক না হলে, অনেকের প্রিয় এই সামু ষড়যন্ত্রকারিদের শিকার হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

