আসলেও প্রেম ধর্ম বর্ণ স্থান কাল পাত্র কিছুই মানে না। তাই অনেক অস্বাভাবিক দৃশ্যও দেখতে হয়। মানব মানবির প্রেমের উপাখ্যান যেমন পুরানো তেমনি চমকপ্রদ। সে সব জানলে, অনেক কঠিন হৃদয়ের মানুষও নরম হয়ে যায়।
আবার এমন অনেক প্রেম আছে, যে সব দেখলে শান্ত শিস্ট গোবেচারাদেরও পিত্তি জ্বলে যায়। চিরচারিত প্রেমের উপাখ্যান নয়, চলুন গোলামিতে আচ্ছন্ন কিছু মানুষের প্রেম পীরিতির কিছু কথা শুনি।

২০০১ সাল। বি এন পির ক্ষমতায় আসার পর উগ্রচন্ডি সমর্থকদের প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে বেশ কয়েকজন আঃ লিগ নেতা কর্মী। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসে বাংলাদেশকে জ্বালিয়ে হাড়মাস কালো করে ফেলার কারনে সাধারণ মানুষও ছিল ওদের প্রতি ছিল চরম বিক্ষুব্ধ। ফলে সাধারণ মানুষ এ নিয়ে উচ্চ বাচ্য করেনি। যদিও এ ধরণের ফ্যাসিবাদি আচরণ সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থি।
অথচ তিলকে তাল বানানোর জন্য ভারত প্রেমে অন্ধ ম্যাট্রিক পাস সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, দাদা বাবুদের ঘরে বসে, তাদেরই ভাড়াটে লোকজনকে দিয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভিডিও তৈরি করলেন। উদ্দেশ্য বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ধর্মীয় উগ্র একটি রাস্ট্র হিসেবে কুখ্যাত করা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে উচ্চকন্ঠ "ঘাতক দালাল নির্মুল" কমিটির কেউকেটা হিসেবে শাঃ কবির পরিচয় দিলেও, তার বহু পরিচয় আছে। ভারত বাংলাদেশ মৈত্রি সমিতির প্রধান ডঃ অজয় রায় (যিনি মুক্তমনা নামের ইসলামোফোবিক সাইটির পরোক্ষ মদদদাতা এবং সামু থেকে খেদানো আওয়ামী গালিবাজদের বর্তমান ঠিকানা, একটি ব্লগেরও পৃষ্ঠপোষক), শাহরিয়ার কবিরকে মুক্তিযোদ্ধা, বিশিস্ট মানবাধিকার কর্মি ইত্যাদি বিশেষনে অভিহিত করেছেন।
শাঃ কবির ঠিক কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, সেটা অবশ্য অজয় রায় উল্লেখ করেননি। এত্ত এত্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরে যদি এখন কেউ কবিরের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করে? স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে তিনি যেসব অশ্লিল কথাবার্তা বলেছেন, তাতে তাকে আসল মুক্তিযোদ্ধাদের কাতারে ফেলা খুবই মুশকিল। অথচ একই দোষে দুস্ট মতিয়া চৌধুরি বেশ উত্তম মধ্যম খেয়ে নাকে খত দিয়ে আঃ লিগে যোগ দিয়ে বেচে গেলেও, শাঃ কবির সে রকম কিছু না করেই বেশ কিন্তু আছেন। এর পেছনে শক্ত খুটি না থাকলে, আঃ লিগ নামের চরম উগ্রপন্থিদের কোপানল থেকে বেঁচে যাওয়া খুব সহজ নয়।
তবে আওয়ামী লিগ ক্ষমতার বাইরে থাকলেই যুদ্ধাপরাধ নিয়ে শাঃ কবিরের লম্ফ ঝম্প হয় দেখার মত। আঃ লিগের বি টিম হিসেবে শাহরিয়ার কবির ঘাদানিককে ব্যাবহার করে ভারতের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য , শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফিকেও লাথি মারতে ছাড়েননি। ৯৬ এর আগে কত্ত হাক ডাক হুংকার। যেই আঃ লিগ ক্ষমতায়, ব্যাস ! সব ফুট্টুস।
মুখোশ খুলে যাবার পর এবার আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার পর শাঃ কবির এখন ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পড়ে মাঠে নেমেছেন। ৪৭ এ পঃ বঙ্গের উগ্রবাদি হিন্দুদের প্যাদানি খেয়ে রিফিউজি হিসেবে এদেশে আশ্রয় পাওয়া "সৈয়দ" বংশীয় লোকজনদের নিয়ে কিছুদিন আগে একটি সভা করেছিলেন কবির মিয়া। সেখানে তিনি ধর্মনীরপেক্ষতার পরাকাষ্ঠা দেখাতে অস্টম সংশোধনীর বিরুদ্ধে রিট করার হুমকি দিয়েছেন।
ধর্মনিরপেক্ষতা দেখাতে পশ্চিম দিকে আছাড় খেলেও যারা প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য উঠে পড়ে লাগে, তারাই যখন ঘটা করে ঘট পুজা করে আর দুর্গাপুজার সময় সারাদিন মন্ডপে পড়ে থাকে, তারা কি আসলেও ধর্মনিরপেক্ষ?
তাহলে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মের বিরুদ্ধে তার এ ধরনের হুমকি ধমকির অর্থ কি? অর্থটা খুবই সরল। প্রেমের আড়ালে ভারতের গোলামির শৃংখলে আবদ্ধ শাঃ কবির গং চায়, ব্রাক্ষ্মনবাদিদের অখন্ড ভারতের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। যাতে স্বাধীন বাংলাদেশ ভারতের সাথে একিভুত হতে পারে। যারা ভারতের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রটার সমন্ধে অবগত, তারা বিলক্ষন জানেন, এর আড়ালে কি জঘন্য বর্নবাদি শাসন চলে সেখানে। এর পরেও যারা ভারতকে মডেল বানিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে ধর্ম নিরপেক্ষতার সবক দেয়, ইসলামকে পশ্চাদপদ মধ্যযুগিয় বর্বর বলে প্রচার চালায়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশিদের অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দেয়, তারা কাদের পোষা কুকুর, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ধবংসের জন্য প্রথমেই বিজাতিয় হিন্দি সংস্কৃতিকে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও এ জন্য দায়ি বি এন পি। অথচ বি এন পির প্রতিটা কথায় বিরোধীতা করা, জ্বালাও পোড়াও করা আঃ লিগ এ ব্যাপারে প্রতিবাদ তো অনেক দুরের কথা সামান্য কাশিও দেয়নি। আর বাংলা বাংলা করে চেতনার কথা গর্জে গর্জে গলায় রক্ত তুলে ফেললেও, শাঃ কবির গং দের কোন রা নেই।
হাসিনা আর আঃ লিগের ভারত প্রেমের উপখ্যান লাইলি মজনু, শিরি ফরহাদ, রোমিও জুলিয়েট দেবদাস পার্বতিকেও ছাড়িয়ে যাবার মত। তবে গোলামি করার এই প্রেমরোগ বেশ ছোয়াচেই দেখছি। হাসিনার উপদেস্টা মসিয়ুর রহমানকেও আক্রান্ত করেছে। তাই সে আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হলেও ভারতকে বাংলাদেশ সীমান্তের ৫০ গজের মধ্যেই কাটাতার নির্মানের অনুমতি দিয়েছে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ওয়ালিউর রহমান (যে কিনা বলেছিল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনিতে সব মাদ্রাসার ছাত্ররা ভর্তি হচ্ছে, তাই সেনাবাহিনীতে ইসলামি জঙ্গি আছে) টিপাইয়ের পক্ষ্যে ওকালতি করেছে। আর সীমান্তে বি এস এফ বার বার নিরীহ বাংলাদেশিদের হত্যা করলেও স্বরাস্ট্র আর পররাস্ট্রমন্ত্রিরা মুখে কলা ঠুসে বসে আছে।
এ রকম ভারত প্রেমের আড়ালে গোলামির ভুড়ি ভুড়ি উদাহারণ আছে।
অথচ এরা একটা কথা ভুলে গেছে। লর্ড ক্লাইভের হাতে প্রথম লাথিটি কিন্ত মির জাফরই খেয়েছিল সবচেয়ে আগে। সাদ্দাম নির্বংশ হয়েছে তাদের হাতে, যারা এক সময় তার প্রভু ছিল। মালিকি কারজাই ইতিমধ্যে বিদায়ের টিকেট দেয়া হয়ে গিয়েছে। আর যে লেন্দুপ দর্জি, ভারতপ্রেমে গোলাম সেজে স্বাধীন একটি দেশকে (সিকিম) ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল, তার অস্তিত্বই আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে যারা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্থানের পক্ষ্যে হত্যা গুম ধর্ষন চালিয়েছিল, তারা ক্ষমার অযোগ্য। ওদের সমুচিত শিক্ষা দেবার জন্য এত্ত তুতু পুতু করার বিপক্ষ্যে আমি। ৪০ বছর খুব বেশি সময় তো নয়। চেনা বামুনের পৈতার দরকার হয় না বলে, এই সব জারজদের চেনা খুব কঠিন কিছু না। আমাদের আগের প্রজন্ম বিচার না করতে পারুক, আমরা পারবো না কেন? এদেরকে সরাসরি জনতার আদালতে চিরদিনের মত নির্মুল করার পক্ষ্যে আমি। তাই যখন ভারতের দালালরা পাকিস্থানের দালালদের বিচার করবে বলে রাজনীতি করে আর ধোয়াশার সৃস্টি করে তখন মেনে নিতে কস্ট হয়। কারণ এক দালাল আরেক দালালের কি বিচার করবে।
তাই যারা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অখন্ডতায় বিশ্বাসি, যারা ৩০ লাখ শহিদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তারা এগিয়ে আসুন। পাকিস্থানি দালাল নির্মুলের পাশাপাশি, ভারতের দালালদেরও নির্মুল করে এ দেশ আর মাটি থেকে জারজদের চিরতরে বিদায় জানাই। তাতেই এ দেশের পবিত্র মাটিতে আমাদের জন্ম দেয়া সার্থক হবে।

ছবির কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ ফ্লিকার এবং গুগল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



