somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... যাহা বলিবো, সত্য বলিব ৪ হাসিনার সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

২০০৩ সালে যুক্তরাস্ট্রের একটি ঘটনা পুরো পশ্চিমা বিশ্বকে তোলপাড় করে দেয়। আমেরিকা তো বটেই বিশ্বে এমন একটি ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। সে বছরের ১৪ই জুলাই তৎকালিন স্বরাস্ট্রমন্ত্রি রিচার্ড আর্মিটেজের উদ্বৃতি দিয়ে প্রভাবশালি দৈনিক ওয়াশিংটন পোষ্টের বাঘা সাংবাদিক রবার্ট নোভাক, ভ্যালেরি পাম নামের একজন সি আই এর এজেন্ট এর পরিচয় ফাঁস করে দেন।

নিজ দেশের গোয়েন্দাদের নাম ফাঁস করে দেবার ফলে সারা যুক্তরাস্ট্রে হই চৈ পড়ে যায়। রাস্ট্রিয় গোপণীয়তা ফাঁসের অভিযোগে নোভাককে আদালত পর্যন্ত টেনে নেওয়া হয়। যেহেতু যুক্তরাস্ট্রের সংবিধানে প্রকাশিত সংবাদের উৎস না দেবার ব্যাপারে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা দেয়া আছে, তাই সে যাতার‍্য নোভাক পার পেয়ে গেলেও, স্বরাস্ট্রমন্ত্রি আর্মিটিজের প্রতি সমালোচনার ঝড় উঠে। সেই সুত্র অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, ইরাকে পারমানবিক অস্র আছে, বুশ চেনির সেই মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রমান হিসাবে, ভ্যালেরি পামের স্বামীকে নাইজারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মিসেস পামের স্বামি বুশ চেনির ফরমায়েসি কোন ধরণের মিথ্যা প্রমান যোগাড় করতে অসম্মত বা অসমর্থ হবার কারণে, ভ্যালিরি পামের ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়া হয়। যা ঘটেছিল তৎকালিন ভাইস প্রেসিডেন্ট চেনির প্রত্যক্ষ সম্মতিতে।

বিস্তারিত জানতে নীচের লিংক দেখুনঃ

http://en.wikipedia.org/wiki/Valerie_Plame

অর্থাৎ কর্তার ইচ্ছায় কর্ম সাধন না হলে, অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে।

কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে হাসিনার বিরুদ্ধে সেনা বিদ্রোহের কথা আই এস পি আরের তথ্য বিবরণি থেকে দেশবাসি জেনেছিলেন। অবশ্য এর আগেই দৈনিক আমার দেশ এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ছাপিয়েছিল। তারও আগে কিন্তু যারা নিয়মত বগ্লস্ফিয়ারের বাসিন্দা, তারা একটি ইমেইলের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত অনেক তথ্যই জেনে গিয়েছিলেন।

তথাকথিত এই সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনাটি যখন আমাদের স্মৃতিশক্তি থেকে প্রায় মুছে যাবার উপক্রম, ঠিক সেই সময়ে গত ২৮শে জানুয়ারি ভারতের ইন্ডীয়া টুডে নামের একটি পত্রিকা এই মর্মে রিপোর্ট করে যে, হাসিনা এবং আওয়ামি লিগের গুরুত্বপুর্ণ সদস্যদের রক্ষা করে ভারতে নিয়ে যাবার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার প্রস্তুত ছিল।



রিপোর্টের বিস্তারিত দেখুন এখানে

Click This Link

গত সংবাদ নির্বাচনে "জেতার" পর পর হাসিনা যেভাবে উচ্ছসিত হয়ে ওপারের দাদাবাবুকে ফোন করে "সুখবর"টা দিয়েছিলেন, ভারতের আচার আচরণে বিতশৃদ্ধ জনগণ সেটা সহজভাবে মেনে নেয়নি। তারা এ কর্মটি একজন একান্ত বংশতবদ ভৃত্যের আচরণ বলেই গণ্য করেছিল। কারণ একটী স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রি তার দেশের মান সম্মানকে ধুলায় লুটিয়ে আত্মসম্মানবোধহীনের মত আচরণ করতে পারেন না। বাংলাদেশের সংবিধান বা জনমত তাকে সেই অধিকার দেয়নি।

দেশ চালানো তো দূরে থাক, আওয়ামি লিগের মত বড় একটি রাজনৈতিক দল চালানোও যার মেধা ও প্রজ্ঞার বাইরে, সেই শেখ হাসিনা, তা থেকে মোটেও শিক্ষা নেননি। উলটো করদ রাজ্যের নাম সর্বস্ব রাণির মত একের পর এক এমন সব পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে রীতিমত সাংঘর্ষিক, কিন্তু ভারতের পক্ষ্যে চরম অনুকুল।

প্রধানমন্ত্রি হিসাবে শেখ হাসিনা, ভারত সফরের প্রথম যাত্রায় এমন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করলেন, যা সংসদে আলোচনা করে পাশ করাতেও তিনি সাহস করেননি। অথচ এ ধরণের চুক্তি হবার আগে প্রস্তাবগুলি সংসদে আলোচনা পরিক্ষা নীরিক্ষার বিধান আছে খোদ সংবিধানে।

সংসদের ২/৩ংশ আসনে আসীন খোদ আওয়ামি লিগের এম পিদের সাথে তার কেন এই লুকোচুরি? তবে কি তিনি এমন চুক্তি করেছেন, যার বিরোধীতা আসতে পারে তার নিজের দলের এম পিদের কাছ থেকেই?



যদিও গণতন্ত্রে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতার বিধান রয়েছে, এর পরেও সেই জবাদিহিতা এড়াতে তিনি প্রথমেই ৫ম সংশোধনি বাতিল করে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলেন। অথচ তার পিতার আমলে পাশ করা ৪র্থ সংশোধনিটি ওভাবেই রেখে দিলেন। ৭২ এর সংবিধানটি কিন্তু বঙ্গবন্ধু ৪র্থ সংশোধনি দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। তাই ৪র্থ সংশোধনি বাতিল না করে ৭২ এর সংবিধান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

হিসাব পরিস্কার করে দেই। হাসিনার গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে এখন বাকশাল কায়েম করেছেন। (যেহেতু ৪র্থ সংশোধনি বাতিল হয়নি, তাই বাকশালতন্ত্র আবার কায়েম হয়েছে।)

আর সেই বাকশালকে নতুন করে গিলাবার জন্য তথ্য আইন, সাইবার আইন ইত্যাদি আইন করে হাসিনা বা তার দলের কুকীর্তি ঢাকার জন্য এবং বিরোধী মতকে দমন করার জন্য আইনের অপপ্রয়োগ ঘটানো হচ্ছে।

প্রথমেই চরম নিন্দিত সাঃ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে দিয়ে ব্লগিংকে পর্ণগ্রাফি বলে আখ্যায়িত করার অপচেস্টা করা হয়েছে। এর পর মেজর জিয়াউলের বিবৃতি প্রকাশের অজুহাত তুলে ব্লগে গোয়েন্দা নজরদারি করা হয়েছে। আর অন্তর্জালে প্রতিবাদ প্রকাশের ধারাটিকে অংকুরেই বিনাশ করার জন্য ফেস বুকে একটি উক্তির জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত একজন শিক্ষকের নামে মামলাও ঠুকে দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন ব্লগের মালিকদের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এজন্যই সামুতে দেখছি লেখা বা সংক্লিস্ট ছবি বা অন্য কিছুর দায়িত্ব থেকে নিজেদের অব্যাহতি দেবার ঘোষনা দিয়েছেন।এবং সব দায় লেখকের উপর দিয়েছেন।

বিরোধি মত দলন ও রোধে আইনকে পাশে পাবার লক্ষ্যে খোদ বিচার বিভাগকেই দলীয়করণ করা হয়েছে। যারা ভিন্নমত পোষন করেন, তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে চাই সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারটি। এই দুইজনের একজন ছিলেন খুনের মামলার আসামি ( নিয়োগ দেবার আগের দিন যার মামলাটি আইন প্রতিমন্ত্রির অদ্ভুত তৎপরতায় অবিশ্বাস্য গতিতে তুলে নেয়া হয়েছিল মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে) আরেকজন ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাংচুরের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।



এহেন দলীয় লোক দিয়ে বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে চলবে, একথা চরম আশাবাদি মানুষও আশা করে না। তাই আইন প্রয়োগের ব্যাপারে দলীয় হাইকমান্ডের ইচ্ছায় কর্ম সাধন করা হচ্ছে। তাতে আইন শৃংখলতা পরিস্থিতির কি হাল হয়েছে, সেটা অন্ধ না হলে সবারই দেখার কথা।

এতদিন শুনতাম বি এন পির লোকেরা সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমুল্যের দাম বাড়িয়েছে। বি এন পি আমলে রোজার সময় একবার কাচা মরিচের দাম ৮০ টাকা কেজি হওয়াতে আওয়ামি লিগ আর তার পোষ্যমিডিয়ার কি লম্ফ ঝম্ফ ! বি এন পির লজ্জা শরম ছিল। তৎকালিন বানিজ্যমন্ত্রি আমির খস্রু মাহমুদ চৌধুরি পদত্যাগ করেছিলেন।

এর বিপরীতে আওয়ামি বাণিজ্যমন্ত্রি ফারুক খান পদত্যাগ তো দুরের কথা, বরং ভারতের নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রির উপদেস্টা গওহর রিজভির পরিবারের সাহে মিলে দু হাতে আয় করছেন। (সামিট গ্রুপটি খান-রিজভির যৌথ প্রযোজনায়)

তাছাড়া ফারুক খানের মুখে বিধাতা কি মধু দিয়েছিলেন জানি না। তিনি মুখ খুললেই দেখা যেতো পরদিনই জিনিস পত্রের দাম বেড়ে গিয়েছে।

আইন শৃংখলার চরম অবনতি, ভিনমত রোধ ও দলনে বাকশালি পন্থা অবলম্বন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনমতকে তোয়াক্কা না করা, শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস কবলিত করা, এবং প্রকাশ্যে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরপীতে নির্লজ্জভাবে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা (হাসিনা ও তার একান্ত বাধ্যগত গওহর, ইমাম, আশরাফ, মুহিত এব্যাপারে চুরি এবং সিনাজুরির ভুমিকায় অবতীর্ণ) এসব কারণে এখন সাধারণ মানুষের চক্ষুশুল।

আগামি নির্বাচনে আওয়ামি লিগের জন্য চরম বিপর্যয় অপেক্ষা করছে, তার সব লক্ষণ সুস্পস্ট। যদিও দাদারা মাঝে মধ্যে হুমকি দিচ্ছেন, হাসিনার জন্য এই করবো সেই করবো ইত্যাদি।

কিন্তু সেগুলি সব কথার কথা।

আগ্রাসি শক্তি বিশেষ করে চানক্যের নীতি নিয়ে চলা ভারত চেয়েছিল, চুপিচুপি নিজের স্বার্থ হাসিল করে ফেলতে। কিন্তু হাসিনা আর তার দলের লোকদের চোয়ালবাজি এবং দাসত্ব প্রকাশে কৌশলি হতে ব্যার্থ হবার কারণে, ভারত হাসিনার উপর আস্থা হারিয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দুই চোখের বিষ হয়ে আখের নস্ট করার মত অবিবেচক ভারত নয়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে যদি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, তবে সুদুর ভবিষ্যতে সেটা ভারতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।

আরেকটা উপায় হচ্ছে হাসিনাকে আজীবন ক্ষমতায় রাখার জন্য বাকশালের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। যা বর্তমান যুগে অসম্ভব। কেননা আমেরিকা বা ইউরোপ এধরণের সরকারকে নৈতিকভাবেই সমর্থন জানাতে পারবে না। তাছাড়া ডঃ ইউনুসের প্রতি উন্মত্ত আচরনের কারণে আমেরিকা এবং ইউরোপ হাসিনার উপর বেশ নাখোশ রয়েছে।

ভারত এখন চাইছে, হাসিনার মত আপদ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদায় নিক। কিন্তু চরম ফন্দিবাজ ভারত নিজে থেকে কিছু তো করবে না। ( নেপালের রাজ পরিবারকে নির্বংশ ভারতই করেছিল, তাতে সাপও মরেছে, লাঠিও ভাঙ্গেনি।)

এতদিন আওয়ামি লিগ আর ভারত বিরোধী পত্রিকা বা কলাম লেখকদের মাধ্যমে হাসিনার ভারতপ্রেমের কথা শুনে, যাই হোক কিছুটা হলেও সংশয়ের ধোয়া তুলা সম্ভব ছিল। এখন খোদ ভারতের পত্রিকায়ই যখন হাসিনার ইন্ডিয়াপ্রীতির নমুনা তুলে ধরা হলো, তখন সেই সংশয়বাদিদের সংশয়ের অবকাশ আর থাকলো না। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষ্যে, হাসিনা ও আওয়ামি লিগের উপর আরো ক্ষেপে যাবার সুযোগ তৈরি হলো।

যার প্রতিক্রিয়ায় একটি অভ্যুত্থান কিংবা গণ অভ্যুত্থানের ঝুকিতে ফেলে হাসিনাকে বিদায় দেবার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত।

ইতিমধ্যে যা যা দরকার ছিল, প্রায় সবই নেয়া হয়ে গিয়েছে। এখন চোখের বালিকে ধুয়ে ফেলার নিমিত্তেই ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চরম গোপণীয় খবরটি পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়া হয়েছে।

যাতে হাসিনা ও আওয়ামি লিগের উপর ইতিমধ্যেই অগ্নিশর্মা হয়ে উঠা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলে।

ডিক চেনি আর দাদাদের আচরনের মধ্যে অপ্রত্যক্ষ কিছু মিল খুজে পাচ্ছেন তো?

ইতিহাসের পাতায় দেশদ্রোহিরা থাকে আস্তাকুরে নিক্ষিপ্ত। বোধ করি ইতিহাসের আস্তাকুরে ইতিমধ্যেই নিক্ষিপ্ত কিছু মানুষের তালিকায় নতুন কিছু নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29538368 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29538368 2012-02-10 13:08:39
আসুন, ভাষার মাসে দেখে নেই কে কতটা বাংলা জানেন। নতুন কিছু শব্দ যুক্ত হলো

স্কুলে থাকতে বাংলা ব্যাকারণ ক্লাসটি তিতা করোল্লা জ্ঞানে গলঃধরণ করেনি এমন ছাত্র ছাত্রির সংখ্যা বোধ করি বিরল। তবে ক্লাসের ভালো ছাত্র ছাত্রিরা দেখতাম সেই তিতা করল্লোই মনযোগ দিয়ে গিলছে। এখন মনে হচ্ছে "বাংলা তো মাতৃভাষা- এর আবার এত কিছু পড়ার কি দরকার" মনে করে যদি অমনযোগি না হতাম, তাহলে হয়তো ভালো লিখতে পারতাম। এখন আর আক্ষেপ করে কি লাভ?

সময়ের বিবর্তনে যেমন মানুষ, সমাজ অর্থনীতি সব বদলাচ্ছে, তেমনি বাংলা ভাষার শব্দগুলিও বদলে যাচ্ছে। এই বদলের সাথে সাথে অনেক শব্দ আবার প্রায় বিলুপ্ত।

৬০ বা ৭০ দশকের বাংলা কবিতা গল্প উপন্যাস যদি বর্তমান প্রজন্মের কারো হাতে পড়ে, তবে নিঃসন্দেহে অনেক শব্দ তাদের কাছে অচেনা ঠেকবে।

যাই হোক, প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কিছু শব্দ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। দেখুন তো । অর্থ বের করতে পারেন কিনা?


দিবাকর

বিটপি

হিল্লোল

পল্লব

হরিৎ

অঞ্জন

মৃগ

কদলি

কপোল

বারি

ঐরাবত

শাখামৃগ

পুচ্ছ

কেদারা

ইদারা

আশি

কানন

নিশি

অনল

গরল

পাণি
-----------------------------------------------

কি ভাই? কয়টা কমন পড়লো?



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29537668 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29537668 2012-02-09 10:27:49
ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। (ছবি পোস্ট)
জিন্নাহর সেই কুখ্যাত ঘোষণা "উর্দু একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্থানের রাস্ট্রভাষা।


বাংলাকে রাস্ট্রভাষার মর্যাদা দেবার দাবিতে পাকিস্থানি পার্লামেন্টে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এম পির প্রস্তাব উত্থাপন।

বাংলাকে রাস্ট্রভাষার মর্যাদা দেবার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ১১ই মার্চ ১৯৪৮ সাল।

বাহান্নর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবপুর রোডে মিছিল।



এই সেই ঐতিহাসিক আমতলা যেখান থেকে ভাষা আন্দোলনের সুত্রপাত। শুধু ভাষা আন্দোলন নয়, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষি এই আমতলা ।



ঐতিহাসিক সেই আমতলায় ছাত্রদের মিটিং, ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল ।


১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত, ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল।

ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল ।

২২শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদদের স্মরণে ঢাকায় গায়েবানা জানাজা।

শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন শহিদ আবুল বরকতের পরিবারের সদস্যরা।


প্রথম শহিদ মিনার। যা স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে গুড়িয়ে দেয় পাকিস্থানি বাহিনী।


শহিদ বরকতের কবরে ফুল দিতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন তার মা বাবা। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ সাল।

[অনেক চেস্টা করেও পুলিশের গুলি করা বা শহিদদের ছবি যোগাড় করতে পারিনি। কেউ কি লিংক দিতে পারেন?]

দেশের জন্য ভাষার জন্য আত্মদান করাটা খুব খুবই কঠিন কাজ। সেই কাজটি যারা দেশকে ভালোবেসে করে গিয়েছেন, তাদের উত্তরসুরি হয়ে আমাদের এ কি আচরণ?

যুগের দোহাই পেড়ে খোদ মাতৃভাষাকে অবমাননা করা, বিজাতিয় ভাষা আর সংস্কৃতিকে মাথায় তুলে একদিকে নৃত্য করা, অন্যদিকে ২১শে ফেব্রুয়ারি আসলেই পাকা ভাষাপ্রেমিক হয়ে যাওয়া, এই দ্বিমুখিতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।

ভাষা কি কেবল ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রিক? বাংলা একাডেমি নামের একখানা শ্বেত হস্তিকায় আতেলের কারখানা আছে বটে। সেখানকার তিনারা এক মাস বই বেচার মেলা নিয়ে যেমনটি ব্যস্ত, তাতে বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণায় তার সময় কোথায়?

এ রকম চললে, এমন দিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন সিং সাহেবরা দিল্লি থেকে উড়ে এসে বলবেন, হিন্দি একমাত্র হিন্দিই হবে রাস্ট্রভাষা। আমাদের ঘরে ঘরে যেভাবে হিন্দি বাসা বেধেছে, যেখানে শিশু থেকে বুড়ো পর্যন্ত হিন্দি প্রেমে পাগল, সেখানে কোন একজন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এম পির সেই দেশপ্রেমিক সাহসি প্রতিবাদি কন্ঠ পার্লামেন্টে শোনা যাবে না। কোন ভাষাপ্রেমিকদের আমতলায় মিছিল মিটিং করতে দেখা যাবে না। ১৪৪ ধহারা ভঙ্গ করার মত সৎ সাহসে কোন ছাত্র ছাত্রি বিক্ষোভে উত্তাল হবে না।

যে কাজ পাকিস্থানিরা লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালিকে হত্যা করেও করতে পারেনি, বিনা রক্ত ক্ষয়ে বিনা একটি বুলেট খরচ ব্যাতিরেকেই ইন্ডিয়ানরা সেই কাজ করে ফেলছে।

আপন ইচ্ছায় পরাধীনতার শৃংখলে বন্দি হলে, শিকারির কি দোষ?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29535968 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29535968 2012-02-06 12:54:25
একজন সহব্লগারের আত্মপোলব্ধির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। প্রতি ব্লগার আইলা

জাতি হিসাবে আমাদের অনেক ভালো গুণের পাশাপাশি খুব দৃস্টিকটুভাবে যে নেতিবাচক গুণটি চোখে পড়ে তার নাম আত্মরম্ভিতা। যার কারণে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া, কিংবা ভুল স্বীকার না করা, বরং ইগোস্টিক হয়ে ঘাড় তেড়া করে বসে থাকা, আমাদের মজ্যাগত বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে ব্যাতিক্রম দেখলে ভালো লাগে।

এমনই ব্যাতিক্রম ঘটিয়েছেন সহব্লগার আইলা। যিনি অনেকদিন ধরেই সামুতে আছেন। অকপটে যিনি ভুল স্বীকার করলেন, এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এটি একটি উজ্জ্বল দৃস্টান্ত হয়ে থাকলো। তিনি শ্রদ্ধার আসনে আসীন হলেন। ধন্যবাদ দিয়ে তার এই অনুকরণিয় দৃস্টান্তের পরিমাপ করাটা ঠিক হবে না।

ক্ষমা চাইছি শ্রদ্ধেয় ব্লগার.......

উনি আমার যে পোস্টের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটিও পাঠকদের সামনে দেয়া হল।

দেশের বিশিস্ট নাগরিকবৃন্দ, না হয় আমি সেই বালকই হলাম।

এই পোস্টের অজুহাতের কারণে আমাকে কমেন্ট ব্যান করা হয়েছে। যার কারণে আমি আমার পোস্টে মন্তব্যকারিদের পোস্টে মন্তব্য করতে পারি না। আর একই কারণে আইলা ভাইয়ের ওই পোস্টে গিয়েও ধন্যবাদটুকুও জ্ঞাপন করতে পারিনি। তাই সংক্ষেপে নতুন করে পোস্ট দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করছি।

আইলা ভাইয়ের ওই পোস্টে সবাই যখন তার আত্মপোলব্ধির জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছে, তখন ব্লগের একজন চিহ্নিত লোক সেখানেও শ্লেষাত্মক মন্তব্য দিয়েছে। একজন শিক্ষকের সন্তানের এহেন আচরন "প্রদীপের নীচে অন্ধকার" প্রবাদটির কথা মনে করিয়ে দেয়।

অবশ্য শিক্ষিত এবং সুযোগ্য হলে, কেউ ভারতীয় নায়িকাদের অর্ধনগ্ন ছবি দিয়ে দৃস্টি আকর্ষনকারি নিউজ পোর্টালে চাকরি করতো না।

এই ব্লগে ভিলেজ পলিটিক্স করা যে কয়টা বাকশালি ভারতপ্রেমিক রয়েছে, ঐ ব্যাক্তি সেই গ্রুপেরই একজন। এখন সিদ্ধান্ত সাধারণ পাঠকদের। তাকে প্রশ্রয় দেবেন? নাকি অবজ্ঞা?




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29535870 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29535870 2012-02-06 10:12:11
যাহা বলিবো সত্য বলিব -৩ বিদেশি শকুনের ডানায় চড়া দেশি দাড়কাকের শকুন শ্যোন্য দৃস্টি।

বিপথে চলে বিপদগ্রস্থ বোনটিকে ভাইয়ের সামান্য শাসনঃ

একবার দুবার নয়, অসংখ্যবার সতর্কবাণী দেয়া সত্ত্বেও সামুর প্রধান বোনটি কারো কথায় কর্ণপাত করেননি। মেধাহীন চোয়ালসর্বস্ব কিছু আতেল ভাবধরাদের কথার ফুলঝুড়িতে বিভ্রান্ত হয়ে এখন নব্য বাকশালিদের রক্তচক্ষুর সম্মুখিন হয়েছেন।

তথাকথিত স্বাধীনতার চেতনাধারি দেশের দুটি দৈনিক পত্রিকার ভুল তথ্যকে অজুহাত সৃস্টি করে এখন বর্তমান বাকশালি সরকার সামুকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে। এমনকি শীর্ষস্থানিয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সামু কর্তৃপক্ষকে শাসানোও অসম্ভব কিছু নয়।

এজন্য কি সামুর বোন বা বোন জামাই নিজেদের ভুল অস্বীকার করতে পারবেন? দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষেছেন, আর ছোবল খাবেন না, সেটা কি করে হতে পারে?

এই তো সেদিনও দেখলাম, বোনটি ওই রকম কয়েকটাকে নিয়ে কোন মিটিং এ গিয়েছেন। এদেরকে বগলে নিয়ে ঘুরলে নিজেদের মান সম্মান তো কমবেই, উলটো কস্টার্জিত মানসম্মানটিও খোয়াতে হবে।

যারা সামুর প্রকৃত অর্থেই শুভাকাংখি, তাদের ক্রমাগত নিরুসাহিত করে কোণঠাসা করার ভিলেজ পলিটিক্সের ফাদে আটকা পড়লে, একদিন ওরাই আপনাদের সরিয়ে নিজেরাই সামুর নিয়ন্ত্রন নেবে। যারা পিঠে ছুরি মারার আদর্শিক চেতনা বহন করে, নৈতিকতার কোন ধার ধারে না, তাদের যতই আদর সোহাগ দিন, আপন স্বার্থে তারা আপনাদেরও বলির পাঠা বানাবে।

(একটি খবর না জানিয়ে পারছি না। কলিকাতার এক দাদার পরিচালনায় যে ব্লগটি অনেকদিন ধরেই সামুকে ধবংস করার চক্রান্তে লিপ্ত, তার সাথে আপনার আশে পাশের ঘনিস্ট কিছুজনের গোপণে ভালোই প্রণয় রয়েছে।)

কর্তৃপক্ষ্যের বিশেষ আর্শিবাদধন্য হয়ে যারা সামুকে এই পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে, তারা আর সেই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হতে পারেন কিনা, সেটা নতূন করে ভেবে দেখার এখনই সময়। বেড়াই যদি ক্ষেত খাওয়া শুরু করে তাহলে......। ভা

অবশ্য আত্মগরিমায় সব ভুলে গিয়ে পথ না বদলালে, তার দায় অন্তত এরা যে নেবে না এটা পরিস্কার। বেশ কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহে নিশ্চই সেটা প্রমানিত হয়েছে।

-----------------------------------------------------------


রাশটেনে ধরতে উদ্যোত এরা কে বা কারা?

স্বাধীন বাংলাদেশের চিহ্নিত শত্রু ভারতের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে ব্লগিস্ফিয়ারে যে আন্দোলন দানা বেধেছে, তার রাশ টেনে ধরার একটা চেস্টা এখন সুস্পস্ট। যে মুহুর্তে বিশাল সংখ্যক ব্লগার ভারতীয় আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দেবার বিভিন্ন পন্থা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, সেই মুহুর্তে সুশিল বেশে কিছু ব্লগার পালটা পোট দিয়ে সেটা নিরুৎসাহিত করার চেস্টা করছে। ভাবখানা হল, ধর্ষন যেখানে অনিবার্য সেখানে সেটা উপভোগ করাই শ্রেয়।

আবার কেউ কেউ ভারতীয় দুতাবাসের সামনে নগ্ন হয়ে হাস্যকর এবং মুর্খতাপুর্ণ প্রতিবাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। অবশ্য যারা জন্মলগ্ন থেকেই নগ্নতাকে স্বাভাবিক জ্ঞান করে আসছেন, তাদের মাথা থেকে এর চেয়ে উত্তম পন্থা আর বের হতে পারে?

এরা কারা? হয় এরা সুশিলের তকমায় মোড়ানো ভারতীয় দালাল। নইলে ভারতীয় পণ্য ব্যাবসায়ি। নইলে নপুংশক।

এদের কথায় পাত্তা দেবার কিছু নেই। যার যা অবস্থান থেকে ভারতীয় পণ্য বর্জন এগিয়ে নিয়ে যেতেই হবে। ভারতীয়রা যদি বছরে ১ টাকা থেকেও যদি বঞ্চিত হয়, তবে সেটাও সাফল্যই বটে।
একবারে সব কিছু হবে না। তবে এই ধারণাটা চারিদিকে অব্যাহতভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।

আর যারা ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক সম্বিলিত পোস্ট সমুহের বিপরীতে, হাওয়া ঘুরানোর হীন উদ্দেশ্যে অন্য বিষয় নিয়ে চর্বিত চর্বন করছেন, তাদের জন্য সাবধানবানী। দেশের বৃত্ততম স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভারতের দালালি বন্ধ করেন। নতুবা রীতিমত নিক ধরে ধরে ধরে আলাদা পোস্ট দিয়ে আপনাদের এই ঘৃণ্য চেহারা সাধারণ মানুষদের কাছে উন্মোচন করে দেয়া হবে।

---------------------------------------------------------------


জন্মদাতা পিতার খোজে উদ্ভ্রান্ত, লাওয়ারিশ এক কাওরানবাজারি

কাওয়ানবাজারের চাকুরিরত জনৈক লাওয়ারিশকে প্রায়ই দেখা যায় ভালোমানুষের ভাব ধরে ব্লগে ভারত বিরোধি বলে পরিচিত নিকদের নিয়ে লিস্টি করে একাধিক পোস্ট দিতে।

জন্মপরিচয় নিয়ে সন্দিহান হলে, সেটা জন্মদাত্রিকে ভালো করে জিজ্ঞেস করলেই তো হয়। তা না করে ব্লগে বাপের খোজ করাটা কি তার জন্মদাত্রির জন্য খুব সম্মানজনক? তাছাড়া সেই লাওয়ারিশের ভারতপ্রীতি যে স্তরের তাতে ভারত বিরোধী নয়, বরঞ্চ ভারত বান্ধব নিকগুলির লিস্টি করলে, সেখানেই বরং তার বাপকে খুজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

--------------------------------------------------------------


বিদেশি শকুনের ডানায় চড়া দেশি দাড়কাকের শকুন দৃস্টি।

ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন গিজ গিজ করতো। (লিবারেশন এন্ড বিয়ন্ড - জে এন দীক্ষিত।)

বাকশালের পতনের পর জাতিয়বাদি শক্তির উত্থানের কারণে তাদের সেই সংখ্যা শুধু বিশেষ কিছু মহলেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। যেমন আওয়ামি লীগ, কিছু চিহ্নিত বুদ্ধিজীবি, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মি ইত্যাদি।

১৯৯৬ সালে বাঘা তেতুল বিরোধি দলে থাকার কারণে আওয়ামি আমলেও "র" তেমন সুবিধা করতে পারেনি। তবে মার্কিন ও ভারতের সমর্থনপুস্ট ফকরু মইন সরকারের সময় থেকে আবারও তারা বাংলাদেশে জাকিয়ে বসা শুরু করে। তাদের সফল গ্রাউন্ড ওয়ার্কের কারণেই পরাশক্তির ছক কাটা সিলেকশনকেই , ইলেকশন প্রমান করে আওয়ামি লীগ নিরুংকুশ ক্ষমতায় আসীন হয়েছে।

ফলাফল হচ্ছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা কুখ্যাত র এর সাফল্যে আরেকটি পালক গাথা। আর ভারত নিজেদের ১৬ আনা আদায় করে নেয়া। তাও আবার বিনা কোন মুল্য দেয়া ব্যাতিরেকে ! অবশ্য যে বিশাল জনসম্পদ এবং অর্থ তারা আওয়ামি লিগকে ক্ষমতায় আনতে ব্যয় করছে, সেটাকে অবশ্য এক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। আর তার সফলতার চিহ্ন হচ্ছে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রি , তার উপদেস্টা এবং মন্ত্রিদের প্রকাশ্যে এবং নির্লজ্জভাবে ভারত তোষণ। যা খোদ ভারতেরই কোন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রি করবে না।

সংবিধানের ৬৬ ধারাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রভাবশালি মন্ত্রি বনে যাওয়া একজনেরর মুখে যখন ব্লগকে পর্ণ কুটির বলে ভ্রুকুটি করা হয়েছিল, তখন মনে কুডাক দিয়েছিল। বাকশালি পিতার সন্তান বাকশালি না হলে, পিতার মান রক্ষা যে হয় না !

তারই ধারাবাহিকতায় আজ শুনি ব্লগে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। যাতে "দেশের বিরুদ্ধে" বা "ধর্মের বিরুদ্ধে" কোন ষড়যন্ত্র না হতে পারে। বিশেষ করে যারা আওয়ামি লিগের ব্যার্থতা বা ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী আচার আচরণ নিয়ে কথাবার্তা বলছে, তাদের ঠিকুজির তথ্য জানার জন্য এবং কন্ঠ স্তব্ধ করার জন্য রীতিমত আইন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর প্রধান সুত্রপাত একটি ইমেইল। সেনাবাহিনীর একজন অফিসারের ইমেইলটিতে ভয়ংকর কিছু তথ্য ছিল। যা মিডিয়া পর্যন্ত জানতো না। জানলেও প্রতিহিংসার শিকার হবার ভয়ে প্রকাশ করেনি।

ইমেইল থেকে একটা জিনিসই সুস্পস্ট। ভারতীয়রা শুধু আওয়ামি লিগকে ক্ষমতায় বসিয়েই কিংবা আমাদের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলেই বসে নেই। বরং তা যেন ঠিকঠাক মত পালন করা হয়, তার জন্য খোদ গোয়েন্দাদেরও প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা বিভাগের মত গুরুত্বপুর্ণ যায়গায় বসিয়ে রেখেছে।

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নসাৎ করার কাজে আমাদের সেনাবাহিনিই সবচেয়ে আগে এগিয়ে এসেছে। এদের দেশপ্রেম ও শক্তিকেই আগ্রাসি ভারতীয়দের ভয়। এ কারণেই রহস্যজনক ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামি লিগের এ টার্মেই পিলখানা "বিদ্রোহের" ছদ্মাবরণে ৫৭ জন অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করানো হয়েছে। পিলখানা বিদ্রোহে সমসাময়িককালে পিলখানার বাইরে থাকা কিছু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছেন। পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চায় সেনাবাহিনীর সম্ভবত লেঃ জেঃ পদে একজনের হেলিকপ্টার "দুর্ঘটনায়" মৃত্যুকে। সাথে খোদ ঢাকা শহরে নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় মেজর বা ক্যাপ্টেন পদে আরেকজনকে। তাছাড়া বিদ্রোহের অজুহাতে বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে অনেক বি ডি আর সদস্যকে। এবং বিডি আরের নাম আর পোষাক বদলে, বিজিবি নামের এক নপুংশক নামসর্বস্ব সীমান্ত রক্ষাকারি বাহিনী তৈরি করা হয়েছে।

এসব ঘটনা বিশ্লেষন করলে অনেক সত্যই বেড়িয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যা প্রকাশ পাওয়া মাত্রেই ভারতের বংশদবত বর্তমান সরকারের জন্য কাল হয়ে দাড়াতে পারে। আর সেই প্রতিবাদ সর্বপ্রথমেই আসবে সেনাবাহিনির কাছ থেকে।

লাঠি না ভেঙ্গে সাপ মারার খেলায় পারদর্শি ভারতের চাণক্যদের ইশারায় তাই অধুনা অভ্যুত্থান নামের নাটক তখনই শুধু হয়েছে, যখন গোপণে গোপণে সেনাবাহিনীতে বেছে বেছে দেশপ্রেমিক ভারত/আওয়ামি বিরোধী সেনা কর্মকর্তাদের গুম করে দেয়ার খবর প্রচার হয়ে গিয়েছে।

ট্রুপস মুভমেন্ট ছাড়া কি করে কোথায় এই অভ্যত্থান সংগঠিত হয়েছে, সেটা কিন্ত বলা হচ্ছে না। সুতরাং এই ঘটনা যে একটি বিশেষ নাটক সেটা নিয়ে বোধবুদ্ধিসম্পন্ন কারোই আর সন্দেহ নেই।

যেহেতু ঘরের খবর জনগণ পর্যন্ত পৌছানোটা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব। তাই সেখানেও বাকশালি থাবা পৌছানোর জন্য আইন করা হয়েছে। এবং গোয়েন্দাদের সেখানে নজর রাখার জন্য বসানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দোষ কোথায়? তারা চাকুরিজীবি। সরকারের যেই থাকবে, তার আদেশই অক্ষরে অক্ষরে পালন করার শপথ নিয়েই তারা চাকুরি শুরু করেন। সেটা সমস্যা না।

কিন্তু আশংকার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালি গোয়েন্দা সংস্থায় ভারতীয় র এর শক্ত অবস্থান। দেশীয় গোয়েন্দাদের অজুহাত তুলে তারাই অন্তর্জালে এই নজরদারিতে লিপ্ত। কারণ বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন যোগ্য লোকের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনে তো বটেই ! তাই সেই ছুতো ধরে ভারত বান্ধব সরকার এই কাজে ভারতীয়দেরই নিয়োগ দেবে এতে সন্দেহ কি?

আর কিংবদন্তিতুল্য দেশপ্রেমের অধিকারি ভারতীয়রা যে অন্তর্জালে বেছে বেছে ভারতের স্বার্থের জন্য হানিকর লেখক অথবা প্রদায়কদেরই টার্গেট করবে, এটা জানা কথা। আর সরকার তো ভারতপ্রেমে অন্ধ। তারা যে লিস্টিই দেবে, বেদবাক্যে জ্ঞানে সে লিস্টির অন্তর্ভুক্তদের বিরুদ্ধেই গুমহত্যা, মামলা, নির্যাতন এসব চালাবে।

কোন দেশের মানুষ যখন জেগে উঠে তখন কোনকিছু দিয়েই তা প্রতিরোধ করা যায় না। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে এমন কিছু ঘটেছে বলেই বাঙ্গালিরা আজ ইতিহাস গড়তে সক্ষম হয়েছে।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেই না। ক্লাইভ পরিত্যাগ করেছিল মীর জাফরকে। মালিকি কারজাইদেরও তার প্রভুরা পরিত্যাগের পথে। হাসিনাকেও যে চিরদিন ভারত ক্ষমতায় রাখতে সাহায্য করবে, সেটা বিশ্বাস করা মুর্খতা।

তাই ক্ষমতার চিন্তা বাদ দিয়ে আওয়ামি লিগের উচিত হবে নিঃস্বার্থভাবে এখন বাংলাদেশের দালালি করা। সেটা করতে গেলে প্রথমেই আত্মমর্যাদা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলির গোয়েন্দাদের ফেরৎ পাঠান। আশেপাশে অবস্থান করা বাম রাজনীতির আদর্শে লালিত পালিত এবং টুপাইস কামানোর ধান্ধায় আওয়ামি লিগার সাজা চাটুকারদের দূর করে দিন।

সবচেয়ে জরুরি, বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষ্যে ভারতীয় স্বার্থ রক্ষাকারির ভুমিকা থেকে সোজা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাড়ান। সাথে চিন্তা চেতনা থেকে বাকশালের মত দেশ ও জাতির স্থপতি ধংবসি পচাগলা আদর্শ থেকে বেড়িয়ে আসুন।

তখন যদি কুচক্রিদের হাতে মৃত্যুও হয়, তাহলেও একজন দেশপ্রেমিকের মর্যাদায় সারা জীবন মানুষ সশ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। নইলে ইতিহাসে ঠাই হবে ঘসেটি কিংবা মীর জাফরের অবস্থানে।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29531820 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29531820 2012-01-30 04:40:16
ইন্ডিয়ান নেড়ি কুকুর আর ওদের দেশীয় দাসদের ভয়ে আমরা ভীত নই।

সীমান্তে পর পর কয়দিন ইন্ডিয়ান কুকুরদের হিংস্র নখরে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই ব্লগে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যাতিক্রম শুধু তারাই যারা ইন্ডিয়ান কুকুরদের এদেশিয় দালাল। আর ব্লগের নারদ মুনিরাও রীতিমত লাপাত্তা। সে বিষয়ে পরে আসছি।

১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বৃটেনে বসবাস করা ব্রিটিশ নাগরিক সৈয়দ আশরাফ সংবিধান ধারা ৬৬কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে শুধু আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক পদটাই বাগাননি। উলটো এমপি হয়ে সবচেয়ে প্রভাবশালি মন্ত্রালয়ের অধিকর্তাও হয়েছেন। একে তো চুরি তার আবার সীনাজুরি। একবার নয়, বহুবারই ভারতের দাসস্ত্বমুলক কথা বলে প্রমান দিয়েছেন যে, বৃটিশ দৈনিক ডেইলি ইকনমিস্ট যে প্রতিবেদন ছেপেছিল, তার পুরোটাই সত্যি। (ভারতের অর্থ ও প্রভাবের কারণে সিলেকশনের নির্বাচনে আঃ লীগ জয়ি হয়েছে)

ওইদিকে আবার প্রাক্তন সাঃ সম্পাদক জলিল সাহেবের মন্তব্য অনুসারে, আশরাফ মিয়া নাকি ভারত বান্ধব ডি জে এফ আইয়ের প্রত্যক্ষ মদদে সংবিধানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েও দিব্যি তরতাজাই আছেন।

নইলে কোন দেশপ্রেমিক কি বলতে পারে যে বি এস এফ আগেও বাংলাদেশি হত্যা করেছিল, এখনও করছে, ভবিষ্যতেও করবে। ওইদিকে নজর দেবার সময় নেই তাদের। মনে হচ্ছে দুই দেশপ্রেমিকের ঘরে দুই দেশদ্রোহি জারজের জন্ম হয়েছে। একজন দেশপ্রেমিকের নাম বঙ্গবন্ধু আরেকজনের নাম সৈয়দ নজরুল ইসলাম।



অবশ্য পেছন থেকে পেটমোটা ইন্ডিয়ান কুকুরটার হম্বি তম্বি উনাদের যথেষ্ঠ প্রেরণা দিচ্ছে। ঠ্যালা খেলে তিনারাই তো ভরসা।

বাংলাদেশে সাথে যতই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করুক, তাদের এদেশি পালা কুকুরদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেবার প্রতিশ্রুতি তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকে।

১৯৭৫ সাল, এর পর ২১শে আগস্টে সেটা খুব ভালো করে দেখা হয়েছে। ২০১০ সালে পিলখানা হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যখন হাসিনার সাপের ছুচো গেলার মত দশা, তখন এই পেটমোটাটাই সবচেয়ে আগে ঘেউ ঘেউ করে জানিয়ে দিয়েছিল যে, হাসিনার কিছু হলে ভারতীয় বাহিনী এগিয়ে আসবে। ইদানিং যে ক্যু এর নাটক দেখি, সেখানেও একই হাল।

আবার সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকিও নাকি দিয়েছে এই ক্যালকেশিয়ান নেড়ি কুকুরটা। এই আস্পর্ধাই বিরুদ্ধে ওর মুখে কি জুতা নিক্ষেপ করা উচিত নয়?

অথচ সিডরের সময় চাল নিয়ে এই কুকুরটাই সবচেয়ে বেশি জালিয়াতি করেছিল। অন্যান্যগুলির কথা না হয় বাদই দিয়ে রাখলাম।

স্বাধীন বাংলাদেশে রাজাকারদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক পাকিস্থান বা সৌদি আরবকেও এই রকম প্রকাশ্যে এবং নগ্নভাবে গোলাম আযম নিজামিদের সমর্থন করতে দেখিনি। আপনারা কেউ দেখে থাকলে জানাবেন। পোস্টে যোগ করে দিয়ে রাজাকারদের আরো ন্যাংটা করে দেবার সুযোগ পাওয়া যাবে।



এখন আপনারা বিচার করে দেখুন, আওয়ামি লীগ/হাসিনা কোন যুক্তিতে দেশপ্রেমিক বা স্বাধীনতার স্বপক্ষ্যের শক্তি হিসাবে নিজেদের দাবি করতে পারে?

আমাদের দেশে নারী অধিকার, মানবাধিকার ইত্যাদি ব্যানারে বিদেশি সাহায্যপুস্ট বেশ কিছু সংগঠন আছে। যদিও রাজনৈতিক আদর্শে এরা ঘোর বাম। তবে টু পাইস কামানোর ক্ষেত্রে তারা সেই সব আদর্শের ধার ধারেন না।

ইনু-মেনন- এরা কোন পেশায় জড়িত না হলেও, চলেন রাজার হালে। আর একসময় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মোজা বাবু এমন কোন আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়েছেন যে একেবারে টিভি চ্যানেলের মালিক বনে গেলেন?

আসাদুজ্জাম নুর সারাজীবন বাম রাজনীতি করে শেষ মেষ আঃ লীগে যোগ দিয়ে এমনই আশির্বাদপ্রাপ্ত যে, জমিদারের পোলা না হয়েও এখন টিভি চ্যানেলের মালিক।

আর নব্য রাজাকারদের মধ্যে অন্যতম মইত্যা রাজাকার ২ তো ধনকুবের লতিফুরের কোলে চড়ে কবজি রীতিমত ঘি এ ডুবিয়ে রেখেছে। সে আর তার কুসন্তানের চক্রান্তে নিঃস্ব হয়ে এখন মৃত্যু পথযাত্রি মোশারফ হোসেন। যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রের রুপকার।


আইন ও সালিস কেন্দ্রের পালের গোদা ওই মহিলাটা তো আরেক কাঠি সরেস। ৮-১০টা খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কেউ র‍্যাবের হাতে অক্কা পেলেই ব্যাস ! মানবাধিকার গেলো বলে চিৎকার করে ফিট হয়ে পড়ে যায় ! আর উপজাতি সন্ত্রাসিদের বিচ্ছিন্নতাবাদে আরো উৎসাহ আর আদিবাসি বানানোর জন্য ঢাকা চট্টগ্রাম করতে করতে মাথার বিশাল টিপটাও ক্ষয় করে ফেলে।

অথচ সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ব্যাপারে কোন রা নেই। রীতিমত ভালো মানুষ সেজে চুপচাপ গর্তে গিয়ে সেধিয়েছে।

এর মানে দুইটা। এক সীমান্তের মানুষদের মানবাধীকার নেই, অথবা ইন্ডিয়ান কুত্তাদের হাতে মৃত্যুকে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করেন না।

এরাই নাকি আবার প্রগতিশীল, অসম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র সোল এজেন্ট।

এর মধ্যে অবশ্য আরেকটা শুয়োর আছে। শা; কবির নামের ম্যাট্রিকপাশ সাংবাদিক ঐ সব চেতনার মা বাপ বলে দিনমান ঘেউ ঘেউ করছে বটে ! কিন্ত যখনই দেখা যায় তার ভারতমাতার কুকর্মের কারনে দেশের মানুষ গরম, অমনি দৃশ্যপট থেকে হাওয়া। একেবারে স্পিক টি নট। েই ব্যাটাও কিন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নবাদের একনিস্ট সমর্থক। আর ইন্ডিয়ান হিন্দু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির টাকায় লালিত পালিত হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিসদও একে পালন করে থাকে।

বোধ করি তারই প্রমোদশিষ্যরা এখন ব্লগেও সক্রিয়। সেই সব চেতনার সোল এজেন্ট নারদ মুনিদের কত হম্বি তম্বি। বিরিয়ানি বোরহানি কাবাব কোরবানি সব কিছুতে তাদের মত অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের অভাব নেই।

কিন্তু যেই ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ব্লগে সাধারণ দেশপ্রেমিক ব্লগারদের একের পর এক প্রতিবাদ শুরু করেছে, অমনি তারা সব ভোজবাজির মত অদৃশ্য হয়ে যায়। ব্লগে তিন বছর থেকেই দেখছি। নতুন কিছু না।

পেমেন্ট হালাল করতে অবশ্য ওই দলের একটা নেড়ি , প্রতিবাদি পোস্টের বিপরীতে একের পর এক ভারতের পক্ষ্যে সাফাই গেয়ে পালটা পোস্ট দিয়েই যাচ্ছে। এখন দেখি চরম আওয়ামি লীগ বিরোধী কর্নেল তাহেরের মৃত্যু নিয়ে ছিচকাদুনি গাইছে।

আরেকটা কুকুর মিউ মিউ সুরে চিরতার পানি গেলার মত করে বলছে, প্রতিবাদ করেন, কিন্তু উগ্র জাতিয়বাদি কিংবা সাম্প্রদায়িক দৃস্টিভঙ্গিতে কিছু করবেন না, ইত্যাদি ইত্যাদি।

আরে ব্যাটা। তুই নিজে কি রে? ইন্ডিয়ান বিজেপির টাকায় চলা অভিজিতের ঘেটুপোলা। কথায় কথায় মুক্তমনা আর ধর্মকারির রেফারেন্স টেনে ইসলাম-আল্লা-নবীজিকে নিয়ে অকথ্য অশ্রাব্য পোস্ট দেয়া কি অসাম্প্রদায়িকতা? নিজের টাকায় ভাত খাওয়ার মুরোদ নাই। তাই কেউ ভদকার উচ্ছিস্ট দিলেই উচ্ছাসের চোটে খালি মদের বোতল হাতে ধরে ছবি তোলাটাই কি প্রগতিশীলতা? তোর ওই অসাম্প্রদায়িকতা আর প্রগতিশীলতার উপরে বাংলাদেশের মানুষ পেশাবও করবে না।

ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অনেক পথ বের করেছেন সাধারণ ব্লগাররা। তাদের দেশপ্রেমের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম। বিশেষ করে এয়ারটেল বয়কট, হিন্দি চ্যানেল বন্ধ, ভারতীয় পণ্যে বর্জন কিংবা ভারতীয় দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করাকেই আপাতত সবচেয়ে শক্তিশালি বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।

সরকার তো ইন্ডিয়ান পোষা কুকুর। বিরোধী দল প্রতিবেশিকে চটিয়ে ক্ষমতায় যাবার পথে কাটা বিছানোর ঝুকি নিতে চায় না। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষকেই তো এগিয়ে আসতে হবে।

সাধারণ দেশপ্রেমিক ব্লগারদের এই উপলব্ধিকে বাস্তবে পরিণত করতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে যেমন সুবিধা পাবেন, সেই মতে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখুন। গোল্ডফিস মেমরি হলে চলবে না। এই চাপ ব্লগ ও বাস্তবে সমানভাবে অব্যাহত রাখার মধ্যেই ইন্ডিয়ার অন্যায় আচরনের অবসান নিহিত আছে।

এখানে অবশ্য গ্রাম্য রাজনীতির নোংরামি অভ্যস্থ কিছু মানুষ আছে। যারা আপনাদের রাশ টেনে ধরার চেস্টা করবে। তাদের ব্যাপারে খুব সাবধান থাকবেন। কারণ তাদের মিস্টি কথার পেছনে আছে ভয়ংকর কুট কৌশল। যা আপনাদের প্রতিবাদের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29527680 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29527680 2012-01-23 12:32:33
আর নয় গুন গুন গুঞ্জন প্রেমের। শুরুটা সামুকে দিয়েই শুরু হোক।
লেখা কমিয়ে দিলেও, পর পর দুদিন আবার কলম হাতে তুলে নিতে হল। ফেলানিকে খুন করার ১ বছর পার হল এই সেদিন। আর আজকে কি দেখলাম? বাংলাদেশি এক নাগরিককে নগ্ন করে পেটাচ্ছে নপুংশক ভারতীয় জারজ বাহিনী বি এস এফ।

এই খবর ইতিমধ্যে অনেক ব্লগারের সৌজন্যে আপনারা জেনে গিয়েছেন। বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম যার ভেতর আছে, তাকেই দেখছি প্রতিবাদ করতে। অনেকের প্রতিবাদের ভাষা অশ্রাব্য হলেও, ভারতীয়দের ক্রমাগত নির্যাতন আর আওয়ামি লীগ তথা হাসিনার নির্লজ্জ দালালি থেকে সেটা বহুগুনে ভালো।

অনেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিভিন্ন পথ ও পন্থার কথা নিজ নিজ পোষ্টে জানাচ্ছেন। তবে যেহেতু সামুই আমাদের বিচরণভুমি, তাহলে সামু থেকেই শুরু হোক প্রতিবাদের পথটুকু।

ঘর থেকে ইন্ডীয়ান টিভি বের করে দেয়া অনেকটাই অসম্ভব। কন্যা-জায়া-জননি-ভগ্নিকুলের মতের বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব? তাও একদিনেই? এর পরিবর্তে সামুতে যখনই কেউ ইন্ডিয়ান সিনেমার বিজ্ঞাপন দিবে(হিন্দি-বাংলা-তামিল) সেই পোষ্টে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করুন। ঘৃণা জানিয়ে দিন সরাসরি। সামুকে জানিয়ে দিন বাংলাদেশিদের একান্ত নিজস্ব এই সাইটে ইন্ডিয়ান ছবির বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না।

এখানে অনেক তথাকথিত সেলেব্রেটি ব্লগারদের কথা শুনে থাকবেন। যাদের কাজই হল ইন্ডিয়ান বিরোধী ব্লগারদের ছাগু ট্যাগিং করা আর লিস্টি বানানো। অথচ ইন্ডিয়ান আগ্রাসন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো দুরের কথা, এ ধরনের কোন খবর ব্লগে প্রকাশিত হলেই দলবল নিয়ে একেবারে হাওয়া। তখন তাদের টিকিটিও দেখা যায় না। এর পর আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে আসলে আবার উদয় হয়। ভেবে দেখুন, যারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক তারা ই এই রকম দ্বিমুখি আচরণ করবে? এধরণের তথাকথিতরা যখন দেশপ্রেম আর চেতনা আওড়াবে, চোখে আংগুল দিয়ে তাদের আসল রুপ সর্বসম্মুখে উন্মুক্ত করে দিন।

ভারতীয় পোস্ট আসতে পারে। তবে পোস্টদাতাকে ঘোষনা করতে হবে তিনি ভারতের নাগরিক। বাংলাদেশি নাগরিক ইন্ডিয়ানপ্রেমি পোস্ট দিবে, সেটা সামুতে চলতে দিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পক্ষ্যে অজুহাত দেয়াটা রাজাকারি বলেই সামুকে গণ্য করতে হবে। নীতিমালায় সুস্পটভাবে এই ধারা সংযোজন করতে হবে।

ভারত বিরোধীতাকারিদের সাথে সামু বিমাতাসুলভ আচরণ করে থাকে। এটা প্রমানিত হয়েছে বহুবার। সর্বশেষ প্রমান হচ্ছে সামু কর্তৃক বর্ষসেরা ব্লগার মাহমুদুল হাসান কায়রো ভাইয়ের একটি পোস্ট স্টিকি না করা। কারণ একটাই। কারণ সেই পোস্টটিতে ভারত বিরোধী বক্তব্য ছিল। শুধু তাই না। যত ভালো লেখাই হোক না কেন, যত যৌক্তিক লেখাই হোক না কেন, অথবা পাঠকরা যতই অনুরোধ করুক না কেন, সেখানে ভারতের বিরুদ্ধে কিছু লেখা থাকলে, সেই পোষ্ট স্টিকি তো দুরের কথা, পারলে পোষ্টদাতাকে অচ্ছুৎ বানিয়ে রাখে।

সামু যেন ভুলে না যায় যে, এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ব্লগ। ভারতের না। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যা আচরণ, সেখানে "করেছো কলসি কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না" টাইপের সুশিলতা শোভা পায় না। এ ধরণের আচরণ সামু অব্যাহত রাখলে, একদিন বিক্ষুব্ধ জনতা সামুর অফিসের কঠোর প্রতিবাদ সমাবেশ করতে বাধ্য হতে পারে।

ভারতের মুখে লাথি মারার সবচেয়ে উত্তম উপায় তাকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা। যদি টিভি দিয়ে না পারেন, তাহলে মস্লা পাতি বা অ ন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনায় ভারতকে বয়কট করুন। তবে সেটা শুরু করতে হবে ঘর থেকেই। আর সামুও যেমন আমাদের দ্বিতীয় ঘর, তাই সামু থেকে আগেই ভাবী (ভারতীয় বীর্য)দের উত্থান বা বেড়ে উঠাকে শক্ত হাতে রুখে দিতে হবে। তাহলে এতটুকু সান্তনা থাকবে যে, বাস্তবে না পারলেও অপরবাস্তবের একটি শক্তিশালি প্লাটফর্মকে আমরা শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29525051 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29525051 2012-01-19 13:19:43
রঙ্গিলা আলোর পেছনের অন্ধকার। কুত্তার বাচ্চা ভালো হইয়া যা। যাহা বলিব সত্য বলিব ২
ব্লগের কল্যাণে ইতিমধ্যেই পাঠকরা জেনে গিয়েছেন যে কাকে কুত্তার বাচ্চা বলা হয়েছিল। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি আলাদা পোস্টও এসেছে দেখছি। এই পোস্ট দেবার উদ্দেশ্য অবশ্য তারই চর্বিত চর্বন করা নয়।

জাতি হিসাবে আমাদের মধ্যে যে চরম অনুকরণ প্রিয়তা (বিশেষ করে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে) তাতে ডারউইনের বিবর্তনবাদ নিয়ে সংশয় অনেকটাই কেটে যেতে পারে।

কলিকাতার দিদিরা ফ্যাশন হিসাবে নাভির নীচে শাড়ি আর বগল কাটা ব্লাউজ পড়ে। ব্যাস। স্বাধীনতার পর পরই কিছু অতি আধুনিক বঙ্গললনাও তার পিছনে দৌড়ালেন। পশ্চিমের পপ গান হিট। শুরু হয়ে গেল বেলবটম লম্বা চুল আর জুল্পির চলন।

রক্ষিবাহিনীর কঠিন কিছু পদক্ষেপের কারণে সেই আগুন বেশিদুর বাড়তে পারেনি।

এর পর অনেকদিন পরিস্থিতি ছিল শান্ত। ফ্যাশন ডিজাইনরা চেস্টা করেছেন দেশেরই সংস্কৃতিকে ভিত্তি করে কিছুটা আধুনিক করতে। তারা সফল হয়েছিলেন।

কিন্ত অভাগার ভাগ্য সুখ বেশিদিন সইলো না। অত্যাধুনিকতা আর অতি মুক্তমনের পরিচয় দিতে গিয়ে বি এন পি সরকার, আকাশ সংস্কৃতির নামে খাল কেটে কুমির নিয়ে আসলো।

এর পর থেকে আর থামাথামি নেই। পশ্চিমের উনাদের সাথে কয়েক বছর ধরে সদ্য "জাতে" উঠা ফকিরনি ইন্ডিয়ার ভাষা, সংস্কৃতি ,ফ্যাশন সবই এখন আমাদের সহ্য হয়ে গিয়েছে।

মডেলিং এর নামে তারকা জগতের মিছে মোহে কত জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছে, এবং যাচ্ছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান কি আসলেও কেউ জানে?

বেশ কিছুদিন আগের কথা। তখন ফ্যাশন মডেলিং এর শুরু। অনিন্দ সুন্দরি তিন্নি তখন সুপারস্টার। তথাকথিত তারকাদের ব্যাক্তিগত জীবন কতটা যন্ত্রণাদায়ক এবং অপমানকর, খুন হয়ে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম কর্তৃক বেওয়ারিশ লাশ হয়ে দাফন হতে হতে বেচে যাওয়াতে সেই অজানা কাহিনী প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু না। দেখে শেখাটা আমাদের ধাতে নেই। এর পর যেন পঙ্গপালের মত সেই তারকা হতে যাবার উদগ্র বাসনা আরো তীব্রভাবে গ্রাস করলো আমাদের। এত তো বেশিদিন আগের কথা না। আদৃতা নামের আরেক মডেলকে তারই কর্মক্ষেত্রে খুন করে ফেলে রাখা হলো। আবার অনেক কাহিনীর সর্বসম্মুখে এলো।

পশ্চিম কিংবা ভারতের যারা তারকা, তাদের আসল জীবন সমন্ধে কারো ধারণা আছে? ওই পর্যায়ে আসতে তারা শুধু সম্ভ্রম নয়, আত্মমর্যাদাটুকুও বিসর্জন দিয়ে বসে আছেন। এর পর খ্যাতি আর বিত্ত পাবার পর যখন তারা বুঝতে পারেন, আসলেও জীবনে তারা যা পেয়েছেন, হারিয়েছেন তার লক্ষ গুণ। তখনই তাদের জীবনে নেমে আসে হতাশা। আর সেই হতাশা কাটাতে তারা সাময়িক শান্তির আশ্রয় খুজে বেড়ান সঙ্গি বদলানোতে। মরণঘাতি নেশায় বুদ হয়ে বাস্তবতা থেকে দূরে সরে থাকতে থাকতে একদিন ছুটির ঘন্টা বেজে যায় তাদের। এর পর হারিয়ে যান বিস্মৃতির আড়ালে।

প্রতিদিন নাকি হাজার হাজার মেয়ে তারকা হতে হাজির হন হলিউডে। ভাগ্যে শিকে জোটে হাতে গোণা কয়জনের। বাকিরা হয় যৌনতা নির্ভর বি-সি গ্রেডের ছবিতে সুযোগ পান। অন্যদের আশ্রয় হয় পর্ণ ইন্ড্রাস্ট্রিতে। এর পর? শরীর স্বাস্থ্য সম্মান সবকিছু হারিয়ে তারা সমাজ থেকে কিংবা পৃথিবী থেকেই বিদায় নেন। তাও অকালে।

ফ্যাশন জগতেও একই অবস্থা। পুর্ব ইউরোপের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক মেয়েকেই আমেরিকা বা ইউ কে ফ্রান্স ইত্যাদি দেশে প্রলোভন দেখিয়ে আনা হয়েছিল। তাদের ভাগ্যেও জুটেছিল শ্রেফ পণ্য হয়ে ধুকে ধুকে বেচে থাকা।

এসব অন্ধকারের খবর মিডিয়া জানলেও প্রচার করে না। কারণটা ব্যাবসায়িক। বরং নিত্য নতুন নারী দেহের নগ্নচিত্রকে পুজি করে চুটিয়ে ব্যাবসা করে যাচ্ছে।

একই অবস্থা ভারতেও।

এটা সত্যি যে ঢালিউডে এখন পর্যন্ত সেই মহামারি গ্রাস করেনি। কিন্ত ফ্যাশন আর টিভির জগতের রঙ্গিন জগতের হাতছানি শিক্ষিত একটি গোষ্ঠিকে টার্গেট করে ফেলে ইতিমধ্যে সফল হয়েছে বলা যায়।

নীচের লিংকে দেখুন নাটক বা সিনেমায় যারা সৎ/সতি নিস্কলুষ চরিত্রে যাদের দেখতে পাই, তাদের আসল চেহারা। পোষাক আসাকের কথা তো বাদই দিলাম। ভাষার কি ছিড়ি ! এরাই আমাদের সেলেব্রেটি।

Click This Link

এদের রকম সকম ঠাক ঠমক দেখলে আদ্যিকালে বাঈজিদের কথা মনে পড়ে যায়।

আর ব্যাক্তিগত জীবন এতটাই কলুষিত এবং পঙ্কিলময় যে অন্তত আত্মসম্মান নিয়ে চলা কোন মানুষের পক্ষ্যে সেই পথে নিজে পা বাড়ানো বা পরিবারের কোন সদস্যদের সেই পথে চালিত করতে রুচি হবে না কারো।

আমাদের মন মানসিকতা ঘোর পুজিবাদ জানে। আর জানে বলেই প্রথমেই শিক্ষিত কিন্ত দুর্বৃত্ত মানসিকতার কিছু লোককে বিভিন্ন প্রলোভনে কাছে টেনে নেয়। তাদের দিয়েই প্রচার করায় কত মহান, কত আধুনিক কত প্রগতিশীল এই মত আর এই পথ। আসল কথা টাকা কামানো।

বাবার মুখে শুনেছিলাম, এক মাড়োয়ারির সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশে ব্যাবসা শুরু করেছিলেন এক ভদ্রলোক। আশানুরুপ ব্যাবসা না হওয়াতে মাড়য়ারির কাছে বুদ্ধি নিতে গিয়েছিলেন সেই ভদ্রলোক। সব শুনে মাউড়া জিজ্ঞেস করে, বিজ্ঞাপনে কয়টা মেয়ে নেচেছিল? ভদ্রলোক উত্তর দিলেন একটা। মাউড়া জবাব দিলো আরে এই জন্যই তো এই হাল। একটার যায়গায় ৩টা মেয়ে নাচাও। দেখবে টাকাই টাকা। সেই বুদ্ধি সফল হয়েছিল।

এই যে তারকা জগত, সেটা ব্যাবসায়িক স্বার্থের সাথে সম্পুর্ণভাবে জড়িত। সেটা পশ্চিমে হোক, ভারতে হোক কিংবা বাংলাদেশ। অথবা পৃথিবির যে কোন যায়গায়। নারী দেহকে প্রদর্শন করে উৎপাদিত পণ্যের রমরমা বেচাকেনা। আর এই পথকে মিডিয়া দিয়ে এমনই আলোকিত করা হয়েছে, যাতে তার পেছনের অন্ধকারটা কেউ চোখে না দেখে।

উদাহারণ দেব? তারকা বানানোর মেশিন বলে কুখ্যাত আনন্দধারার সম্পাদক অরুণ চৌধুরি কর্তৃক, স্টার হতে চাওয়া জনৈক যুবতির বক্ষ সুধা পান করার দৃশ্য প্রকাশিত হলেও, সেই অরুণ চৌধুরিকেই আবার আরো নারী ভোগের সুবিধা করে দিতে সুন্দরি প্রতিযোগিতার বিচারক পদে নিয়োগ করেছে চ্যানেল আই নামের সুশিল গোষ্টির মিডিয়া পার্টনার।

এই যে সুন্দরি প্রতিযোগিতা তার মুল উদ্দেশ্য কিন্তু পণ্য বিপননের জন্য নিত্য নতুন মুখ খুজে বেড়ানো। এজন্যই এই ধরণের প্রতিযোগিতার জন্য ব্যাবসায়িরাই এগিয়ে আসেন। আর যে সব মেয়েরা রীতিমত স্টার হবার বাসনায় যোগ দেন, তারা লেন দেনের পথটুকু খুব ভালো মত চিনেই আসেন। শুধু শুষতে দেন না, শুষেও নেন। এই গিভ আর টেক করতে গিয়েই এক এক জন পাকা বারবণিতায় পরিণত হন। কিন্তু বাইরে সতি সেজে থাকেন।

অবশ্য মাঝে মাঝেই তাদের আসল রুপ বাইরে বেড়িয়ে আসে। যেমন প্রভা চৈতি । এরকম আরো অনেক আছে বলেই বিশ্বাস করি।

পশ্চিমের উনারা আগে থেকেই এই সুন্দরি প্রতিযোগিতার নামে মাংসের বিকিকিনিতে অভ্যস্থ। সেখানেও কিন্ত একই নিয়ম। আর বিজয়ি যিনি হলেন, তার মুখে গৎবাধা বুলি তৈরিই থাকে। ন্যাকা ন্যাকা গলায় ছোট শিশুদের জন্য কাজ করবো, দরিদ্র মানুষের পাশে দাড়াবো ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে সুন্দরি খেতাবটা পাওয়াটা তাদের রেট বাড়ানোর একটা বাহানা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই পশ্চিমে তারকা খ্যাতি পাওয়া এমন কোন তারকা পাওয়া যাবে না, যার নগ্ন ছবি অন্তর্জালে সহজলভ্য নয়।

আমাদের যারা সুন্দরি প্রতিযোগিতার বিজয়িনি তাদের জ্ঞান গম্মি মনে হয় ক্লাস ফাইভ পাশ কোন ছাত্র ছাত্রিদের চেয়েও কম। ্কিন্তু অর্থ উপার্যনের ছলাকলায় তারা পতিতালয়ের ডাকসাইটে পতিতাদেরও হার মানাতে পারেন।

আগেই বলেছি, পুজিবাদ নীতি বোঝে না। বোঝে শুধু অর্থ সমাগম। তা সে সুপথ কুপথ যে পথেই হোক। আর তাই সে বিনিয়োগ করে সুশিল আর সুশিল বান্ধব মিডিয়াদের। তারাই এই কুৎসিত ব্যাপারটাকে ধোয়া তুলসি পাতা হিসাবে এমনভাবে প্রচার চালায় যে, সাধারণ মানুষ বুদ্ধিভ্রস্ট হয়, আর লোভিরা সেপথে পা বাড়িয়ে দেয়।

নারী অধিকার নিয়ে যারা সংগ্রামরত তাদের কাছেও কেন সুন্দরি প্রতিযোগিতা কিংবা ফ্যাশনের নামে নারী দেহের বিকিকিনি নারী অধিকারের পরিপন্থি বলে বিবেচিত নয়, সেটি মাথায় আসছে না।

এই সুশিলরাই আবার এসবকে নারী মুক্তি, প্রগতিশীলতা আধুনিকতার উজ্জ্বল নিদর্শন বলে, ডাক দিতে থাকে। এর বিরুদ্ধচারণকারিদের উপর অপপ্রচারের স্টিমরোলার চালায়। আর এতে বিরোধীরা দমে যায়। প্রতিবাদের মঞ্চ খুজে পায় না। আর লোভি তঞ্চকরা তাদের কথায় সায় দেয়। প্রচার করে। সমাজে উদারতার নামে উদ্ভ্রান্ততার সৃস্টি করে।

আজ আমাদের সমাজ এতটাই উদার যে সামাজিক অনাচারও গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। নইলে স্বামী কুকর্ম করে ধরা খেলেও কি করে চয়নিকা কর্মকার, অরুণ চৌধুরিকে সমর্থন দিতে পারে? অভিনেত্রি প্রভার কাম কলা প্রদর্শিত হলেও, সে কি করে মিডিয়ার কাছে মুখ দেখায়? রাস্তা ঘাটে পার্কে রেস্টুরেন্টে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়েরাও চুটিয়ে প্রেম করে বেড়াচ্ছে। তবে প্রেম আর প্রেম নেই। সেটা যৌবনজ্বালা মেটানোর একটা মাধ্যমমাত্র। একজনে মন ভরে না। তাই ঘন ঘন প্রেমিক প্রেমিকা বদলানো। সেখানেও ব্যাবসা। নিজেকে দেবার আগে পাওনা কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিতে শিখে যাচ্ছে ছোট ছোট মেয়েরাও। তাই পরে বিয়ে হলেও, স্বামীর কাছে প্রত্যাশা অনুযায়ি না পেলে, বা অন্য কারো কাছ থেকে তার চেয়ে বেশি পেলে, নিজেকে বিক্রি করতে মোটেও বাধছে না এদের। ফলাফল। সামাজিক অস্থিরতা। যা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনবেই। কারণ ভালো বাবা মা না হলে ভালো সন্তানের জন্ম হতে পারে না।

পশ্চিমের দেখে দেখি আমাদের ভেতর ডিজে আরজের মত অসুস্থ সংস্কৃতি চালু হয়ে গিয়েছে। এধরণে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমাদের দেশে আগে বড়লোকদের ভেতরেও ছিল। এখন মধ্যবিত্তরাও জড়ানোটা দেশের জন্য অশনি সংকেত। শিসা, অবাধ মেলামেশা। এর পরেও যে এইডস বা অন্যান্য যৌনরোগ মহামারির মত গ্রাস করে ফেলেনি, সেটা বোধ হয় নিতান্তই বিধাতার কৃপা।

ওদের মত কানে দুল পড়া, পাছার নীচে প্যান্ট পড়ে স্মার্ট সাজা বঙ্গ সন্তানরা কি জানে, যে আমেরিকার রাস্তার পোলারা ওই পোশাকে চলে। যাদের ব্যাক্তিজীবনে প্রাপ্তি শুধু সরকারি টাকায় হাইস্কুল পাশ করা পর্যন্তই। এই ধরণের ছেলেদের ভালো কোন যায়গায় চাকরি হয় না। হলেও খুবই অল্প বেতনের ছোট কোন কোম্পানিতে। পেটেভাতে দিন চলে এদের।

আমরা কি এতটাই অন্ধ, এতটাই শিক্ষাবঞ্চিত, এতটাই নির্বোধ যে জেনে শুনে এধরণের বাজে উদাহারণকে অনুসরণ করবো?

আর জে নিরবকে কুত্তার বাচ্চা গালি দিলে অন্যায় হবে। হ্যা অন্যায় হবে। কেননা নিরব একটা অসুস্থ সিস্টেমের বাইপ্রোডাক্ট মাত্র। যদি গালি দিতেই হয় তবে গালি দিন সেই সব নাটের গুরুদের যারা এই অসুস্থ অন্ধ অনুকরণ করবার জন্য দিনমান প্রচার করে যাচ্ছে।

রক্ষিবাহিনী আমার পছন্দের কোন বাহিনী নয়। তবে অন্তত দেশকে এই অসুস্থতা থেকে বাচাতে, রক্ষিবাহিনীর চেয়ে ভালো কোন ডাক্তার এই মুহুর্তে চোখে পড়ছে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29524380 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29524380 2012-01-18 12:51:51
কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানি। শিলার যৌবন আর মুন্নির বদনাম। (ফেলানি হত্যার বর্ষপুর্তিতে রিপোস্ট)

একটা গল্প দিয়ে লেখা শুরু করছি। ন্যায় বিচারের জন্য খ্যাতিমান কাজির দরবারে দুই আসামি উপস্থিত। একজন ধনি আরেকজন দরিদ্র। কাজি সাহেব রায় দিলেন, ধনি আসামিকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা দরিদ্রের কপালে জুটলো বড় অংকের জরিমানা। এই রায় দেখে এক জন প্রশ্ন করলো, কাজি সাহেব। আপনার ন্যায় বিচারের কথা কিংবন্ততিতুল্য। কিন্ত আপনার এই রায়ে তেমনটি প্রতিফলিত হলো কি? কাজি সাহেব উত্তর দিলেন, কেন নয়? যার যেখানে পীড়া দেয়, তাকে সেখানে শাস্তিপ্রদানই উপযুক্ত। ধনিকে অর্থদন্ড দিলে সে অনায়াসে সে দিতে পারতো। আর দরিদ্রকে জুতাপেটা করলে, তার সম্মানের ক্ষতি বৃদ্ধি হতো না।



স্টিকি পোস্টসহ টক অফ দা ব্লগ হলো, সম্প্রতি বি এস এফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি শিশু ফেলানিকে নির্মমভাবে হত্যা। এই সংক্রান্ত পোস্টে সাধারণ মানুষের ক্ষোভই ফুটে উঠেছে। যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
অনেকে বি এস এফকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবার দাবি করেছেন। অনেকে প্রধানমন্ত্রিসহ সরকারের ভারত তোষনকে দায়ি করেছেন। অনেকে বুলেটের বদলে বুলেটে জবাব দেবার কথা বলেছেন। অনেকে ব্যাঙ্গ করেই বি এস এফকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেবার কথা বলেছেন।



বি এস এফ ভারতের কেন্দ্রিয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রনাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। বি এস এফ ক্ষমা চাওয়া মানে হলো, ভারতের সরকারের ক্ষমা চাওয়া। সেটা কি বাস্তবতা হতে পারে? বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর পর ভারত তো কম শত্রুতা করলো না। একটিবারও কি তারা ক্ষমা নিদেনপক্ষ্যে আন্তরিক অর্থেই দুঃখপ্রকাশ করেছে? করেনি। বলাই বাহুল্য যে, ফেলানির ব্যাপারেও তারা কিছুই বলবে না।



পদুয়ায় কুকুরের মত মার খেয়ে পালানোর পর, বি এস এফ এর সব রাগ গিয়ে পড়েছে, সীমান্তের নিরস্র লোকজনের উপর। সেই ঘটনার পর এমন একটা সপ্তাহ যায় না, যেখানে কোন বাংলাদেশি নাগরিক বি এস এফ এর গুলির শিকারে পরিণত হয় না। এর বিপরীতে আমাদের দৌড় হলো, পত্রিকায় খবর প্রকাশ। বিডি আরের প্রতিবাদ। লাশ ফেরৎ। আর মানবাধীকার সংগঠন অধিকারের রিপোর্ট প্রকাশ ইত্যাদি।

শহরে বসে আমাদের মনোজগতে বাংলাদেশের যত সুন্দর চিত্রই আঁকি না কেন, আমাদের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলির অবস্থা কিন্ত ভিন্ন। দারিদ্রতার কষাঘাতে সেখানে জীবন বিপন্ন। ঠিক এই সুযোগটি গ্রহন করেই কিন্ত সীমান্তের দুই পারের কিছু ব্যাবসায়ি অবৈধ পণ্য চোরাচালানের জন্য এই মানুষগুলিকে ব্যাবহার করে। সেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও দুটি পয়সা উপার্জনের আশায় জীবনের ঝুকি নিয়েই অবৈধপথে সীমান্ত পারাপার করে থাকে।



শুধু তাই না। বিদেশে নেবার কথা বলে, হাজার হাজার নারীকে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে আড়কাঠিরা এই সীমান্ত দিয়েই নারী পাচারে লিপ্ত। হতভাগ্যা এই নারীদের স্থান হয়, কলকাতা, মুম্বাই, করাচি কিংবা লাহোরের পতিতালয়গুলিতে।

উভয় দেশের সীমান্তরক্ষিবাহিনীও ব্যাপারটা জানে। উপরি উপার্জনের আশায় তারা দেখেও সেটা না দেখার ভান করে। তবে দেনা পাওনা নিয়ে সামান্য ভজঘট হলেই তবে তাদের দ্বায়িত্ববোধ চাগাড় দিতে উঠে। তখনই অবৈধ পারাপারকারিদের উপর গুলি ছোড়ার ঘটনাটি ঘটে থাকে। তবে এই গুলি ছোড়ার ব্যাপারটি বিডি আরদেরও অভ্যাস বলে আমার জানা নেই। বস্তুত বি এস এফ এর চাদমারি করার অভ্যাসটির ৯০ ভাগই, বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষপ্রসুত।

যেখানে যুদ্ধকালিন সময়েও বেসামরিক লোকজনের উপর হামলা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে, সেখানে কি করে শ্রেফ অবৈধপথে সীমান্ত পারাপার করার অপরাধে হত্যা করে বি এস এফ পার পেয়ে যাচ্ছে?



আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপারটা তোলা যায়। কিন্ত আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে শক্ত মেরুদন্ডপুর্ণ দেশপ্রেমিক মানুষদের অভাব আছে বলেই ব্যাপারটা হয় না। ফারাক্কার ব্যাপারটি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে তোলার কারণে, তৎকালিন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রি জিয়াউর রহমানের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে দিয়েছিলেন। জিয়ার ভাগ্য ভালো। সেটা বাস্তবায়িত হবার আগেই ইন্দিরার পতন ঘটে। নতুন প্রধানমন্ত্রি মোরাজি দেশাই সেই পরোয়ানা নাকচ করে দেন। (লিবারেশন এন্ড বিয়ন্ডঃ জ়ে এন দীক্ষিত)





আর আজকের ভারত তো আরো শক্তিশালি। সামরিক দিক দিয়ে বটেই, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকা ইসরাইল লবির সাথে রোমিও জুলিয়েটের মধ্য গভীর প্রেম বিদ্যমান বলে, ভারত ধরাকে সরা জ্ঞান করে আসছে। বাংলাদেশ তো নস্যি। পারলে সে সুদুর অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সীমান্ত পর্যন্ত সে তার প্রভাব বিস্তার করে রাখে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেও, আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর জাতিসংঘের রোষের শিকার হবে। সেক্ষেত্রে ভারত নিজেকে গঙ্গাজলে ধোয়া তুলসিপাতা সার্বস্থ করবে। আর বাংলাদেশ হয়ে যাবে সর্বদোষে দোষি। তাই সেই পন্থা বাদ দেয়া যায়।



বিচ্ছিন্নভাবে যদি বিডি আর সীমান্তে পালটা গুলিও ছোড়ে, তাহলে বিডি আরের প্রধানের বিচার হবে। প্রধানমন্ত্রি (সে হাসিনা বা খালেদা যেই হোক) ক্ষমা চাইতে চাইতে জিহবা ক্ষয় হয়ে যাবে। এর পরেও যদি ভারত ক্ষমা না করে তাহলে ক্ষমতায় থাকাই আর হবে না। তাই বিডি আরের পক্ষ্যেও তেমন শক্ত অবস্থানে যাওয়া সম্ভব না।

ভাবছেন ঢাকায় বিক্ষোভ করবেন? সেটাও হবে না। বর্তমান সরকার নিজেদের স্বার্থেই সেটা হতে দেবে না। দেশে যতই ভারত বিরোধী মনোভাব কাজ করুক না কেন, সেটা বহিঃপ্রকাশ করতে দিলে ভারতের দৃস্টিতে সরকারে অবস্থান নীচে নেমে যাবে।

তাহলে করবোটা কি? কিছুই কি করার নেই? এই করনীয় নির্ধারনের জন্যই পোস্টের শুরুতে সেই গল্পের অবতারনা করেছিলাম।

দেখতে হবে, বাংলাদেশে ভারতের কি কি স্বার্থ রয়েছে। আঘাতটা সেখানেই করতে হবে।



প্রথমেই করনীয় যেটা সেটা হলো, আমাদের মিডিয়া থেকে হিন্দিকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে হিন্দির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে থেকে হিন্দি চ্যানেলের আসক্তি কাটানোর জন্য ব্যাতিক্রম খুজে বের করতে হবে। আর লেখালেখি বলুন কিংবা নাটক সিনেমায় হিন্দির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। এভাবে আমাদের মধ্যে থেকেই যদি হিন্দি চ্যানেলের আসক্তি কমে যায়, তাহলে সাধ্য কি কেবল অপারেটরদের যে, দিনরাত হিন্দি চ্যানেল সম্প্রচার করে? আর এ খাত থেকে কোটি কোটি টাকা আয় থেকে ভারত বঞ্চিত হবে।



আমরা ভোগ্যপণ্যের জন্য ভারতের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকি। চাল ডাল পিয়াজ গরু ইত্যাদি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চোরাচালানিরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে এইসব পণ্য অবৈধপথে নিয়ে আসে। আমাদের ধন ধান্যে পুস্পে ভরা এই বাংলাদেশের গর্ভ কি এতোই শুন্য যে এই সবের চাহিদা পুরণ করতে পারছে না? আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে যদি চাল উৎপাদনে আমরা সক্ষম হয়ে থাকি, তবে একই পদ্ধতিতে আমরা ডাল পিয়াজ বা গরু উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যাবহার করতে পারবো না কেন? আর সেই পন্থায় আমরা যদি খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করতে পারি, তাহলে ভারত আরো একটা বিশাল ধাক্কা খাবে।

তবে অফ টপিকে জানাচ্ছি যে, আমাদের মধ্যে অসাধু অনেক ব্যাবসায়ি আছেন, যারা রাজনীতিবিদদের সাথে যোগসাজসে কৃত্রিম সংকট সৃস্টি করে আমদানির সুযোগ তৈরি করে। এবং গাছেরটাও খান, তলারটাও কুড়ান। আর তাদের লোভের বলিকাষ্ঠ গলাকাঁটা পড়ে আমার আপনার মত সাধারণ মানুষদের।



বাংলাদেশের জনগোষ্ঠির এক বিশাল অংশ ফেন্সিডিল নামের মরণফাদের প্রতি আসক্ত। বাংলাদেশে এর চাহিদা এতই ব্যাপক যে, ভারত তার বাংলাদেশ সীমান্তাঞ্চলে ফেন্সিডিলের শিল্পাঞ্চল তৈরি করে ফেলেছে। যেহেতু যারা নেশাগ্রস্থ, তাদের আসক্তি কমানোর মত সাধ্য আমাদের নেই, তাই দেশেই ফেন্সিডিল কারগানা গড়ে তুলে, যার মরবার ইচ্ছা, তাকে মরবার সুযোগ দেয়া হোক। সেখানেও আরেকটা থাপড় খাবে ভারত।



বর্তমান সরকার আসার পর, ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। যার মধ্যে আকাশ নৌ এবং সড়ক পথে করিডোর প্রাপ্তি এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যাবহারের সুযোগ। এই সুবিধাগুলি রুখতে প্রচন্ড পরিশ্রম করতে হবে। এজন্য সাধারনের মধ্যে ব্যাপক প্রচারনা চালাতে হবে, যেন সাধারণ মানুষই স্বতপ্রনদিত হয়েই প্রতিবাদ করে। এইসব সুবিধা রুখতে
না পারলে, বাংলাদেশের স্বাধীন সত্ত্বা আশংকার মধ্যে পড়বে। যা পুনরুদ্ধারে কয়েক কোটি মানুষের রক্ত ঝাড়াতে হবে। আর কতদিন লাগবে সেটাও অনিশ্চিত। আর সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কারণে অন্তত সরকার মুখে বলতে পারবে যে, চুক্তি তো ভাই করেছিলাম, দেশের মানুষ না মানলে আমরা কি করবো? তাছাড়া যে কোন আইনজীবি হাইকোর্টে গিয়ে এই চুক্তির বিরুদ্ধে স্থগতিদেশ আনতে পারে। যার কারনে এই চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব / কালক্ষেপন করা যেতে পারে। যেমনটি গত ৪০ বছরেও পার্লামেন্টে পাশ হয়নি বা হাইকোর্টের স্থগতিদেশ রয়েছে বলে ভারত, মুজিব ইন্দিরা চুক্তির অনেকগুলিই পুর্ণ করেনি।



ভারতীয় সরকারের বৈষম্যমুলক দমন আর নিপীড়নের কারণে অনেক অঞ্চলেই বিদ্রোহের সৃস্টি হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে অনেকেই পালিয়ে বাংলাদেশ এসেছিলেন। মানবিক কারণেই বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তা বিধান প্রয়োজন। তাদেরকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে উপস্থিত করার সুযোগ দিয়ে বিশ্ববাসিকে জানানো হোক, বলিউডের ঝলমল তারার আলোর পেছনে কত গভীর অন্ধকার রয়েছে।

আমাদের দেশে একদল মানুষ রয়েছেন। যারা বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গন আলোকিত করে রয়েছেন। অজ্ঞাত কারনে এদের অনেকের মধ্যে দেশপ্রেমের চাইতে ভারতপ্রেম প্রবল। হতে পারে, তাদের পুর্বপুরুষেরা ৪৭ এর আগে ভারতবাসি ছিলেন। এদের মধ্যে ভারত বিরোধীতা দেখলেই সেটা জুজু বলে উড়িয়ে দেবার একধরণের মানসিকতা কাজ করে। রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই হোক, কিংবা সাংস্কৃতিক জগতেই হোক, এদের সংস্পর্শে এসে অনেক ঢাকা শহরভিত্তিক অনেক শিক্ষিতদের মধ্যেও ব্যাপারটি সংক্রমিত হয়েছে।

যুক্তি প্রমান উপস্থাপন করে দেখাতে হবে, যে ভারত বিরোধীতা কোন জুজু নয়, বাস্তব সত্যি। তারা অজ্ঞাত কারনে অন্ধ হয়ে বরং দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছেন। সবাই যে যুক্তি প্রমান মানবেন, এমন না। দেশের স্বার্থেই তাদেরকে অন্যপথে বোঝানোর ব্যাবস্থা করতে হবে।

ভাবছেন, এতো বিশাল দক্ষ যজ্ঞের ব্যাপার। তা, যে দেশের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করার কথা উঠেছে, সেদেশটি আয়তন আর ক্ষমতায়ও বিশাল। সেখানে ক্ষুদ্র পরিসরে সফলভাবে কিছু করা কি সম্ভব?

কয়েকটা শর্টকাট আছে। যেমন রাজপথে নামুন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনি অনুষ্ঠান যেন বলিউড কেন্দ্রিক না হয়ে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক হয়, তা সুনিশ্চিত করতে যা যা করার দরকার তাই করুন। পুলিশ কিংবা ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতন সহ্য করার সাহস যোগাড় করুন। রিমান্ডে অত্যাচারিত হবার ঝুকিও নিতে পারেন। কিংবা খেলার সময় উপস্থিত হয়ে ব্যানারের মাধ্যমে মিডিয়ায় আপনার প্রতিবাদ জানিয়ে দিতে পারেন।





আর যদি কিছুই না করার ক্ষমতা থাকে, তাহলে পর্দায় শিলার যৌবন উপভোগ করুন, নইলে মুন্নির বদনামে নিজেকেও সম্পৃত্ত করার আনন্দে বুদ হয়েও থাকতে পারেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29517917 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29517917 2012-01-07 12:29:50
যাহা বলিবো সত্য বলিবো ... কিছু অসুশীলিয় উক্তি।

হুজুর কবে মরবেন?

"..................... হাসিনা মরে না কেন?" ফেসবুকে এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জাবির একজন প্রবাসি শিক্ষকের জান কালা হয়ে গিয়েছে। প্রথমে আদালত অবমাননার জন্য অনুপস্থিতিতে জেল। দেশ ফিরলে আদালত পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না। তার আগেই গুম হয়ে যেতে হবে। জনৈক বিচারপতি সতঃপ্রণদিত হয়ে নিজেই রুল দিয়েছেন। নিজেই বিচার করেছেন। বলিহারি। এর সমালোচনা করলে আবার আদালত অবমাননা। একবার কি বিবেচনা করে দেখা যেতো না কেন মানুষ আরেকটি মানুষের মৃত্যুকামনা করে? যদি আইনের ঝক্কি বা গুম খুন বা হামলা মামলার ভয় থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষকে ভোট দেবার অধিকার দেয়া হতো, তাহলে গুটিকয় সুবিধাভোগি আর পাড় অন্ধ লীগার ছাড়া সবাই ওই একই স্ট্যাটাস দিতো। যেহেতু সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীন, তাই মনে মনে শিরোনামের আশাই পোষন করছেন তারা।

ছাত্রলীগের হ্যাট্রিকঃ

আমাদের ফুটবলে তো ব্যাড়াছ্যড়া দশা। ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি টিটো মিয়াও যখন জাতিয় দলের কোচ হতে পারে, তাহলে তো ফুটবলের এই দশা হবেই। গোল বাচানোর তাগিদে খেলা জাতিয় ফুটবল দলের পক্ষ্যে হ্যাট্রিক সম্ভব না হলেও ছাত্রলীগের দামাল সোনার ছেলেরা সেটা করে দেখিয়েছে। নতুন বছরের প্রথম তিন দিনেই তাদের কীর্তি, দেশ ও জাতির মুখোজ্জল করেছে।

হাসিনা গং আর মিডিয়ার প্রচারের জোরে স্বাধীনতার সময় ছাত্রলীগের মহান ভুমিকা ইত্যাদি ইত্যাদি শুনে যারা ৭১ এর কারণে ছাত্রলিগের কুকর্মকে হজম করতে চান, তাদের বলি। সে সব মিথ্যা কথা। রাজপথে শুধু নর্তন কুদনই ছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে ২৫ শের আগেই সবগুলি দল বেধে পালিয়েছিল। সবচেয়ে আগে পালিয়েছিল ধেড়েগুলি। যারা সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ৯৯ ভাগই ছিলেন সশস্রবাহিনীর পক্ষত্যাগি বাঙালি সৈনিক। সাথে ছিলেন কৃষক শ্রমিক সাধারন মানুষ এবং ছাত্ররা।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে এই ধাড়িগুলিই কোলকাতায় শুয়ে উঠে বসে মৌজ ফুর্তি করে দিন কাটিয়েছে।

দেশ স্বাধীন হবার প্রক্কালে এরাই ইন্দিরার পোষা কুকুর হয়ে মুজিব বাহিনী তৈরি করে সাধারণ মানুষের রক্ত ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার কৃতিত্ব হাইজ্যাক করে। এদের কারণেই সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা আজও উপেক্ষিত।

এরাই বঙ্গবন্ধুর সেই চাটার দল। ৭৫ এর পর এদের প্রধান দুই ধাড়ি ক্রিমিনাল অক্কা পেলেও পাতিগুলি আজ বড় হয়ে একই রাস্তায় পথ চলা শুরু করেছে। তাই ছাত্রলিগের কর্মকান্ড দেখে অবাক হয়ে লাভ নেই। এরা সব সময় একই রকম ছিল, আছে এবং থাকবে। এই হিংস্র কুকুরদের রাশ টেনে না ধরলে, এরা শুধু হ্যাট্রিক নয়, সেঞ্চুরি এবং ডবল সেঞ্চুরিও করে ফেলতে পারবে।

কামাল ভাইয়ের চরিত্র ফুলে মত "ফবিত্র"ঃ

মিরপুরের কামাল ভাইয়ের চরিত্র তো বহু আগে থেকে জানা।এর পরেও শ্রেফ মার্কার জোরে তাদের এম পি নির্বাচিত করে যে পাপ করেছেন, এখন তার ঠ্যালা সামলান। স্বাধীনতার স্বপক্ষ্যের শক্তি এক জিনিস, আর আওয়ামি লিগ অন্য জিনিস। ৭২ থেকে ৭৫ এবং ৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামি সুশাসনের তেতো স্বাদ আমরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলাম কি করে? আর টিভির মহিলা সাংবাদিকের হাত থেকে বুম মাটিতে ফেলে স্টুপিড বলে আবার দুঃখপ্রকাশ করাটা গরু মেরে জুতা দান করার বহু পুরানো আওয়ামি কৌশল। হাসিনা সব সময় করেছে। কামাল ভাইও করেছে। এর পরেও কিছু আন্ধা মিডিয়া তাদের আওয়ামি প্রীতি কমাবে না।

ভালো হয়েছে। খুশি হয়েছি।আর কিছু না করতেই আরটিভির দুই পুরুষ সাংবাদিকের মাটিতে পড়ে যাওয়া দেখে মনে হচ্ছে টাউটারিতে তারা কম যান না। দুই ধাপ্পাবাজের মুখোমুখি ক্যাচাল দেখে ব্যাপক বিনোদিত হয়েছি।

কামাল ভাই যদি হাতের চেয়ে মগজ বেশি চালাতেন, তাহলে মণিপুর স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যে যতই কামাতেন, কোন ক্যাচাল হতো না। উনার উচিত মেনন ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা। দেখেন না। ভিকারুন্নেসা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও, এমনকি পরিমল ইস্যুটিও কি সুন্দর ম্যানেজ করেছেন মেনন ভাই। এমন বুদ্ধি থাকলে কামাল ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত ফবিত্র বলে অনেকেই ধবনি দিতো। আফসোস সে বুদ্ধির অনুপস্থিতিতে আম ছালা দুই গেছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গিয়েছে, হারাম টাকা হালাল করতে সংবাদ সম্মেলনে কামাল ভাই, হাসিনা এবং নাহিদদের দোহাই পেরেছেন। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত ফি এর বিষয়ে হাসিনা ও নাহিদ দুইজনের সম্মতি ছিল। (সুত্র এ টি এন বাংলা পরশুর রাত দশটার সংবাদ।) অর্থ তিনি একা খেতে চাননি। দুইজন ভাগিদারও আছেন। আর কিছু বলার আছে?

আবারো ব্লগে অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম

হাতুড়ে কবিরাজ অভিজিতের প্রগতিশীলতার বটিকা সেবনে নেশাগ্রস্ত কতিপয় কাগুজে ব্লগার আবারও ব্লগ গরম করার চেস্টায় রত। এতদিন যেহেতু টিপাই-করিডোর-তিতাস ইস্যুতে ব্লগ গরম ছিল, এবং সেই গরমে তাদের গায়ে ফোস্কা পড়ার দশা হয়েছিল, তাই ওই কয়দিন তারা গা বাচিয়ে চলেছিলেন। আমাদের আবেগের মাত্রাটি কম হতেই আবার তাদের হম্বিতম্বি শুরু হয়ে গিয়েছে। উপলক্ষ্য ওই একটাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কমানো উপলক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রিদের আন্দোলনে নিজেদের কৃতিত্ব ফলানো আর কি ! এখন দয়া করে যদি পুলিশের নেকনজরে পড়ে কিছুদিন শ্রীঘরে থাকা যায়, কিংবা ছাত্রলিগের চড় থাপড় খাওয়া যায়, তাহলে বেশ হয়। ভিনদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পথে আরো একধাপ এগুনো যায়।

এ প্রসংগে নজিবুল হক মাইজভান্ডারির উদাহারণ মনে পড়ছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে তিনিও ছাগলের তিন নম্বার বাচ্চার মত লাফাচ্ছিলেন।ওদিকে এইসব মশা মেরে হাত গন্ধে পুলিশের নারাজি ছিলো। এ সময় টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা আসতে দেখে, নজিবুল হক সাহেব পারেন না পুলিশের হাতে পায়ে ধরেন। যদি তারা দয়া করে এক আধটূকু লাঠিপেটা নিদেনপক্ষ্যে কয়েকটা চড় থাপড় মারেন। কিন্তু পুলিশ নয় ভুলিবার। অতঃপর ক্যামেরার সামনে পড়তেই নজিবুল সাহেব বিনা পিটুনিতেই রাস্তায় মা গো বাবা গো মেরে ফেললো গো বলে মাতম শুরু করে দিলেন।

তোফায়েলের ইতিহাস কথন

শুরুটা করেছিল হাসিনা। তার দেখাদেখি সাজেদা, মতিয়া। এখন তোফায়েলও পিছিয়ে থাকবে কেন? তিনি দেখেছেন, গলাবাজি করে সেদিনের ছোকড়া ওবায়দুল কাদেরও মন্ত্রি। আবারও হাসিনা বিরোধী বলে ছাত্রলিগের হাতে মার খাওয়া সুরঞ্জিতও মন্ত্রিত্বে পৌছে গিয়েছে। তবে তোফায়েল বেশ খলিফা লোক। একটু ঘুরিয়ে একই কথা বলেছেন। জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। অবশ্য জিয়া মুক্তিযোদ্ধা "না" হলেও, তারই দলের দয়া দাক্ষিণ্যে কোটি কোটি টাকা আয় করা (৯১ সালে বি এন পি ক্ষমতায় এলে, তাদের কাছ থেকে বহু সুবিধা ভোগ করে এই আয় করেছে তোফায়েল) তোফায়েলের যে আরো চাই। আছে মাত্র দুই বছর। এর পর আরো কত বছরের নির্বাসনে যাবে আওয়ামি লিগ তার ভরসা নেই। বয়স হয়েছে। বুদ্ধিতে ধারও নেই। তাই অক্ষমের শেষ অস্র ঐ জিয়া বিরোধীতা করেই যদি কিছু করা যায় আর কি ! তবে তোফায়েল ভাই। মুক্তিযুদ্ধে আপনি ঠিক কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই ইতিহাস কেউ তুলে আনতে চাইলে কিন্ত আপনার অবস্থা সাজেদার মতই উলঙ্গ হয়ে যাবে। তাই আপনার দেশের একটা প্রবাদই বলি। "পাগল হওন ভালো, কিন্তু খ্যাতাপুরা পাগল হওন ঠিক না।"

আজ এখানেই। তবে এটাই শেষ নয়। সামনে আরো আসবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29517282 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29517282 2012-01-06 11:32:20
টিপাইমুখ বাধ নিয়ে ঠান্ডা মেরে যাওয়া কিংবা তিতাসের বুকে বাধ নিয়ে নিস্তব্ধতা। কে কত টাকায় বিক্রি হলেন?


মইত্যা রাজাকার নং ২ এবং গং।



দেশের স্বার্থে চুপটি করে থাকা ব্যাঃ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং সুশিল রাহাত খান গংরাই আসল প্রতিবন্ধি ।



আওয়ামি লেজুড়বৃত্তি করাকেই স্বাধীনতার চেতনার জ্ঞান করে বড় গলার পেছনে আছে সুশিলীয় কায়দায় পকেট ভারি করার ফন্দি।আশা করি প্যাটলা সাগইরা বা টাউট সিরাজকে খুব অল্প টাকায় ম্যানেজ করা সম্ভব হয়নি।



সারা জীবন খদ্দর আর চটের ব্যাগ সাথে চপ্পল পড়া দাড়িয়াল নুর মিয়া কমুনিজমের গোলামি করলেন। শেষ বেলায় আওয়ামি লিগের সাওয়ার হয়ে এখনও মুখে ওই কমুনিজম। কিন্তু কাজে সাচ্চা পুজিপতি। নয়া মুসলমান হলে যেমন ধরাকে সরা জ্ঞান করা হয় তেমন বাম থেকে ডান হলেও একই হাল। তাকে সস্তায় কেনা যায়নি।


ঘাদানিকের ভাদা শাহরিয়ার কবিরকে নতুন করে কিনতে হয়নি। তাকে ওপার থেকে ভাতা দেয়া হয় ঘেউঘেউ করার জন্য। অবশ্য আঃ লিগ ক্ষমতাইয় থাকলে গলায় পাট্টা বেধে দেয়া হয়।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের লে যে হারুনকে ডেস্টিনি নামের বাটপারি ব্যাবসা করার লাইসেন্স দিয়ে বাংলাদেশিদের প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা রোজগার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাই নতুন করা কোন পয়সা দেয়া হয়নি।

সাংস্কৃতিক জগতের হালিম ফালিমরা অথবা বুদ্ধিজীবি নামের নব্য রাজাকাররা তো থেকেই পে রোলে আছে। তাই নতুন করে তাদের কোন বোকায় পয়সা দেবে।

প্রত্যকেকে চিনে রাখা হলো। সময়ে প্রচন্ডভাবে এদের প্রতিরোধ করা হবে।

পরিশেষ বলতে চাই তিতাস নদীদের অবস্থা দেখার জন্য কিছু ব্লগার কি পিকনিক সেরে আসলেন? নাকি নতুন কবিতার আইডিয়া নেবার জন্য। হেন করবো তেন করবো বলে গেলেন। আর ফিরে এসে কাব্য কবিতা লিখলেন। দুঃখিত। কবিতা লেখা লুতুপুতু সন্তানের চেয়ে বজ্রমুষ্ঠির প্রতিবাদি সন্তানই বাংলা মায়ের কাছে অধিক প্রিয় কাম্য এবং গ্রহনীয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29514742 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29514742 2012-01-02 14:11:16
কুমিল্লার পোলা নাকি ৮০ টাকা তোলা? যাদের নীরবতা আমাদের পীড়া দিল।

(আমার কুমিল্লার বন্ধুরা সুযোগ পেলেই শিরোনামের ৮০ টাকা তোলা বলে গর্ব করে। এতদিন যেটা কথার কথা ছিল, আজ সেটা প্রমানের সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে মনে করবো সেটা শুধু কথার কথাই।)

তিতাস নিয়ে অবশেষে দিনমজুর ভাইয়ের লেখাটি স্টিকি হলো। এর আগেও টিপাইবাধ নিয়েও তার লেখা স্টিকি করা হয়েছিল। এবং উভয় ক্ষেত্রেই ব্লগারদের ক্রমাগত অনুরোধ আর পীড়াপীড়িতে কর্তৃপক্ষ তাদের চক্ষুযুগল এবং কর্ণ কুহরকে নিরাপদ রাখার জন্য চিরতার পানি গলঃধরণ করলো আর কি !

এই দিক দিয়ে অবশ্য ব্লগার কৌশিক, অন্যমনস্ক শরৎ মায় আ মহিউদ্দিন বা সন্যাসি অনেক ভাগ্যবান। তারা মেঘ না চাইতেই জল লাভ করেন।

পোস্ট স্টিকি হলো। এখন করনীয় কি? স্টিকি পোস্টে দিন মজুর ভাই কিছু সমাধানের পথ বলেছেন। তিনি দশভুজা নন। তাই তিনি লিখেছেন বলেই তাকেই সব দায় নিয়ে সবকিছু করতে হবে, এ ভেবে বসে থাকাটা অকর্মন্যতারই নামান্তর।

এই অধমের সামান্য একটা লেখা ছিল।

একটি কোদাল, এক কোপ এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের সহজ কিছু পথ।

সেখানে একজন শ্রদ্ধেয় পাঠক বি এন পিকে ছাড় দেবার জন্য সমালোচনা করেছেন। তার সমালোচনা শিরোধার্য। তবে লোকমান হত্যায় খোকনকে জড়ানো, সানাউল্লাহ বাবু হত্যায় বি এন পির নেতা কর্মীদের নামে মামলা, পুলিশের তদারকিতে সাদেক হোসেন খোকাকে সরকারি দলের ক্যাডারদের ছুড়িকাঘাত। এখন তিতাস ইস্যুতে ট্যা ফু করলেই আরো কত মামলা হামলা হবে।

ঢাকাই ভাষায় "লৌড়ের" উপর থাকা বি এন পি আগ বাড়িয়ে রিস্ক নেবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া ব্রাক্ষ্মণবাদিদের সাথে সামাজ্যবাদিদের ঘনিষ্ঠ প্রেম পীরিতি চলার সময় , ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধাচারণ মানেই তো দুই সাপের মিলনে বাগড়া দিয়ে প্রাণ সংশয় ঘটানো। মনে হয় না, তারা এতটা দেশপ্রেমিক হবার যোগ্যতা রাখে।

আড়িয়াল বিল বা ফুলবাড়িতে জনতা কিন্তু কারো ডাকের জন্য বসে থাকেনি। যারা কুমিল্লার ব্লগার, স্টিকি পোস্টের কল্যাণে আপনারা এখন তিতাসের ব্যাপারে ভালোমতই অবগত। তাহলে বসে আছেন কেন? কিছু না পারেন। একটা মানববন্ধন তো করতে পারেন? আপনারা এলাকার লোক বলে সহজে যেটা করতে পারবেন, সেটা ঢাকা বা অন্য এলাকার লোকজন অতটা সহজে কি করতে পারবে? যদিও ব্যাপারটা জাতিয় স্বার্থের সাথে জড়িত। তবুও স্থানীয় পর্যায় থেকেই শুরুটা করতে হবে।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, শুধু কুমিল্লা নয়, বাংলাদেশি পোলা মানেই ৮০ টাকা তোলা। আর আমাদের গর্বের এই কথাটিকে কাজে পরিণত করার সুবর্ণ সুযোগ এখন কুমিল্লার পোলাদের হাতে। তুলে নিন কোদাল। এক কোপ হলেই তিতাসের বুকে জেগে উঠা পরাধীনতার চিহ্ন রাস্তার বুকে বসিয়ে, সারা বাংলাদেশকে জানিয়ে দিন, এ দেশ পরাধীনতার শৃংখল আর কোনদিন পরবে না। ১৬ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।


যাদের নীরবতা পীড়া দিল।



শেখ হাসিনা আর তার দল যে সিকিমের লেন্দুপ দর্জি এবং তার দলের বাংলাদেশি সংস্করন, এ কথা অন্ধ আওয়ামি লিগার বা তথাকথিত ভারতীয় দালাল ছাড়া সবাই জানে এবং বিশ্বাস করে।

কিন্ত যাদেরকে আমরা এতদিন নিরপেক্ষ নিপাট ভদ্রলোক বলে জানতাম, এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান নির্জীব কেন?



বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের দিকপাল আমার প্রিয় শিক্ষা ব্যাক্তিত্ব প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সাইদ আলোকিত মানুষ গড়ার কাজে নিজেকে উৎসর্গিত করেছেন। অথচ তিতাসের গলায় ফাস পড়ানোদের ভেতর তারই কিছু কিছু ছাত্র যে যুক্ত তিনি কি সেটা জানেন? শুধু একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক হিসাবেই নয়, বরং বাপার একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসাবে সর্বপরি একজন দ্বায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে এব্যাপারে তার নীরবতা আমার মত হাজারও ভক্তকে মর্মাহত করেছে।



প্রফেসর আনু মোহাম্মাদকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। তিনি আপন জ্যোতিতে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। কিছুদিন আগে তেল গ্যাস ইস্যুতে আওয়ামি পুলিশ বাহিনীর অত্যাচারে তিনি আহত হয়েছিলেন। টিপাই বা তিতাসের ব্যাপারে তিনি নীরব কেন? তিনি কি দমে গিয়েছেন? না ভয় পেয়েছেন? নাকি কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন? তার মত বরেণ্যরা যদি দমে যান, তাহলে তরুণদের আশা ভরসা জোগাবে কে?



প্রফেসর আসিফ নজরুলের ভাবনা চিন্তা বেশ আশাজাগানিয়া। দেশে যখন বুদ্ধিজীবি তকমাটাই একটা গালি, সেখানে আসিফ নজরুল একজন ব্যাতিক্রম। তাকেও দেখলাম এব্যাপারে চুপচাপ। কিন্ত কেন এই নিরবতা?



নাট্যকার মামুনুর রশিদ বিবিসির সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন যে সাধারণ মানুষের সুঃখ দুঃখ জীবনবোধ ইত্যাদি তুলে ধরার মাধ্যমেই তিনি তার নাট্যজীবন সফল করতে চান। বি টিভিতে প্রচারিত এখানে নোঙ্গর কিংবা মঞ্চপাড়ার সফল মঞ্চায়ন রাঢ়াং তার মন্তব্যের যথার্থতা প্রমান করে। অথচ যে ফারাক্কার কারনে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বশান্ত সেই ফারাক্কার বিরুদ্ধে তার শক্তিশালি কলম কোথায় হারালো? টিপাই এর কারনে সিলেট অঞ্চলে কিংবা অধুনা তিতাসের গলায় ফাস হয়ে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ হবু উদ্বাস্তের ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছে, সেটা নিয়ে আগাম কোন লেখা লিখতে মামুনর রশিদ কুন্ঠিত কেন হবেন?

দেশের বৃহত্তর স্বার্থের পক্ষ্যে বার বার লিখে হয়তো অনেকেরই বিরক্তির কারণ হয়তো হবো। সেটা মনখারাপের কারন হলেও আমাকে অবাক করবে না।



বেশ্যার চেয়েও অধম আর নিকৃস্ট পর্নস্টার বা ভারতীয় নায়িকাদের ছবি পোস্ট অথবা দেশীয় তারকাদের যৌনজীবন নিয়ে পোস্টের পঠিতের সংখ্যা যখন মুহুর্তেই ৪০০, ৫০০ বা হাজার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে দেশের স্বার্থে লেখাগুলিতে তুলনামুলকভাবে অনেক কম পাঠক আসেন।

অপরবাস্তব কিন্তু বাস্তবের কিছু মানুষদেরই চারণভুমি। তাই বাস্তবে যা ঘটছে, এখানে তারই প্রতিফলন দেখা যাবে এতে আর অবাক হবার কি আছে? অথচ ব্লগে কিন্ত শিক্ষিত সচেতন মানুষদেরই পদচারনা ! এর পরেও কেন দেশ নিয়ে আমাদের এই ভাবালেশহীনতা, উদাসীনতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা আর ভোগবাদিতায় মত্ত হয়ে থাকা?

তাহলে কি সমস্যার মুলে আমাদের শিক্ষা? নাকি জন্মপরিচয়?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29510264 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29510264 2011-12-26 09:13:48
একটি কোদাল, এক কোপ এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের সহজ কিছু পথ।
দেশের ইস্যুতে লিখতে গিয়ে নিজেকে ওই বন্ধুর মত মনে হচ্ছে। কথা আছে কিন্ত কর্ম নেই। নাকি যোগ্যতা নেই? নাকি আমাদের সবার শক্তি ওই চোয়ালেই আটকে আছে? )


টিপাইমুখ বাধ নির্মান শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখানে আমাদের অর্থমন্ত্রি আবার বিনিয়োগ করবারও ঘোষনা দিয়েছেন। থাপড় খেয়েছি আমরা, অথচ থাপড়দাতা হাতে ব্যাথা পাওয়াতে ঔষধ পথ্যের দামটাও আমরাই পকেট থেকে দেবো। মনে হয় না যে মীর জাফরও দালালিতে এদের ধারে কাছে আসতে পারবে।

সে যাই হোক। প্রথম কিস্তিতে টিপাইমুখের বিরুদ্ধে লেখায় লেখায় ব্লগ ভরে গিয়েছিল। এমনকি তেতো চিরতা গেলার মত এ সংক্রান্ত একটি পোস্টও সামুতে স্টীকি হয়েছিল। প্রতিবাদে সরগরম হয়ে পড়েছিল সমস্ত ব্লগ।

দ্বিতীয় কিস্তিতে কি হলো? টিপাই সংক্রান্ত ভালো লেখকদের (দিন মজুর) পোস্টে ঘু ঘু চড়লো। বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কয়েকজন প্রতিবাদ করলেন। এর পর সবাই সব ভুলে গেলো। যেন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। কারো কোন বিকার নেই। প্রতিক্রিয়া নেই। কেমন ঠান্ডা মেরে গেলো।

ভারতকে কড়িডোর দেয়া নিয়েও একই হাল। সরকার আর তার পদলেহি দুই উপদেস্টার মুখে সিঙ্গাপুর ব্যাংকক ইত্যাদি কত কিছু শুনলাম। জানলাম স্বাধীন দেশের মধ্যে বিদেশের যান চলবে, ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য চায়ের দোকান খুলে আমরা কোটিপতি হয়ে যাবো, শুল্ক নিলে আমরা নাকি অসভ্য বলে গণ্য হবো, আরো কত্ত কি !

নাহ এর পরেও আমরা ওই মাইরালামু কাইটালামুর বিবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছি।

এখন একুশে টিভির একটা প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে আবর আমাদের সরব হতে দেখা যাচ্ছে। তিতাস নদীর গলায় ফাস দিয়ে ভারতের জন্য কড়িডোরের রাস্তা বানিয়ে লাখ লাখ মানুষের জীবিকার উপর লাত্থি দেয়া হয়েছে। কোন সংবিধান, আইন মানা হয়নি। আমরা এখনো নির্বিকার।

ভারতী সিনেমা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য কেউ কেউ বি এন পি এবং খালেদা জিয়ার আহবানের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেন? দেশটা কি শুধু তাদের? আমার আপনার নয়? আমরা আছি বলেই তো তারা আছেন, নাকি? তাহলে তাদের ডাকের অপেক্ষায় আমাদের বসে থাকলে চলবে?

আমাদের প্রতিবাদের স্থানটি শহীদ মিনারের চত্ত্বর ছাড়িয়ে আরো প্রশস্ত করা দরকার। তিতাস নদীর বুক চিড়ে যে পরাধীনতার হিংস্র নখর বসে আছে, তার বিরুদ্ধে একটি করে কোদালের কোপ পড়লেই তো যথেষ্ঠ। আমরা নিজেরাই সংগঠিত হয়ে কোদাল হাতে পথে নামলে সাথে থাকবে লক্ষ লক্ষ জনতা। আর বাঙ্গালির হাত মুস্টিবদ্ধ হলে কি ঘটে যেতে পারে, সেটা বিশ্ববাসি সেই ৭১এই দেখেছে।

কিছুদিন আগে আরো ৪ জন বাংলাদেশিকে পাশের দেশের হিংস্র কুকুর বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। নতুন কিছু না। আর এক সময়ের ব্যাঘ্র শার্দুলদের নাম এবং চরিত্র এমনভাবে বদলে দেয়া হয়েছে, যে মানুষ ওদের আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম ডেকে থাকে।

এই ইস্যু নিয়েও আমরা অন্তর্জালে অনেক কথার কথা বলেছি , প্রতিবাদ করেছি। সীমান্তের একজন বাংলাদেশি মারা যাবার খবর পেলে যা যা করা যেতে পারে তা হলো,

হাতের সামনে যে ডিস লাইনই পাবেন কেটে দিন। নিজে না পারলে ১০-২০ টাকা খরচ করলে যে কোন দুস্ট পোলাপান কাজটা করে দিতে পারে।

আপনার মহল্লায় কোন ভারতীয় ভাড়া থাকলে মহল্লার সবাই মিলে তাকে এক ঘরে করে রাখুন।

ভারতীয় কোন নাগরিকের কাছে যে কোন দোকানদার কোন কিছু বিক্রি না করতে পারে, সেটা নিশ্চিতকরণ।মহল্লার তরূন যুবকরা সবাই যদি দোকানদারকে শক্তভাবে অনুরোধ করে, তাহলে সে অনুরোধ ন্ না রক্ষা করার মত বদসাহস দোকানির হবে বলে মনে হয় না।

ভারতীয় নাগরিকদের সাথে কথায় কথায় আলাপ করে জেনে নিন, ওর অভিবাসনের হাল। এর পর ভিসা অতিক্রান্ত বা ভিসা নেই এমন অভিবাসি ভারতীয় নাগরিকদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করুন। সেই সাথে ইন্ডিয়ানটির নাম ঠিকানা সহ পত্রিকায় খবর পাঠান।

এ রকম ছোট ছোট প্রতিক্রিয়া শুধু মাত্র ঢাকা শহরে দেখাতে পারলেই, ইন্ডীয়া বাপ বাপ করে সিধা হতে বাধ্য হবে।

তবে এ সংক্রান্ত আপনাদের আরো কোন পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন।

সরকার কিছু করবে না, বিরোধী দলের মুখে দিয়ে তাকিয়ে সময় নস্ট হবে। তাই সময় এসেছে বাস্তব কিংবা অপরবাস্তবে সমানভাবে প্রতিকার খুজে নেবার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29508362 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29508362 2011-12-23 08:51:04
ব্লগ দিবসে উপস্থিত সুধি ও সম্মানপ্রাপ্তদের নিয়ে আমার একান্ত কথন।
তবে আবেগি হোক কিংবা যৌক্তিক, লেখার সুযোগটা আমি ও অন্যান্য হাজারও লেখককে দেবার কৃতিত্বটা সামুর একান্ত্ নিজের। যাকে পাওনিয়ার বলে। সেই দেখানো পথেই আজ আরো নতুন নতুন বাংলা ব্লগের উপস্থিতি ঘটছে। ফলে দেশ ও প্রবাসের হাজার হাজার বাংলাদেশি নিজের কথাগুলিকে বলবার সুযোগ পাচ্ছেন।

যে কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে চিরস্মরনীয় করে রাখার জন্য প্রতি বছর একটি বিশেষ দিনকে চিহ্নিত করাটা অনেকদিনের চল। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলা ব্লগ দিবস বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য একটি মাইলফলক। গত তিন বছর ধরে সামু বাংলা ব্লগ দিবস আয়োজন করে যে ধারা সৃস্টি করেছে, আশা করি বাকি বাংলা ব্লগগুলিও সেই ধারা সচল রাখবে। সেটি যুগপৎ হলে আরো বেশি আকর্ষনীয় হতো। তবে যেহেতু আমরা জাতিতে বাঙালি সেহেতু, সেটি হবার সম্ভবনা খুবই ক্ষীণ।

শ্রেষ্ঠ ১০ ব্লগার চিহ্নিত করে সম্মাননা প্রদানের কাজটির উদ্দেশ্যে খুবই মহৎ। এভাবেই হয়তো ব্লগারদের আরো ভালো কিছু লেখার জন্য উৎসাহ যোগান দেবে।

অবশ্য অনেকে এই সম্মাননা প্রথার বিরুদ্ধে। তাদের যুক্তি যে স্বতঃস্ফুর্ত চিন্তা করে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের রাস্তায় এই সম্মাননা পাবার লোভটি অন্তরায় হয়ে দাড়াতে পারে।

এ বছর যারা শ্রেষ্ঠ সম্মাননয়া ভুষিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে কিছু, শুধুমাত্র ইতিবাচক কিছু কথা বলবো। যেটা একান্ত আমার পর্যবেক্ষণপ্রসুত।

১, ইমন জুবায়ের ---- প্রাচীন ভারতের ইতিহাস নিয়ে আমার ফ্যান্টাসি আছে। সময় পেলে খুজে খুজে এ সংক্রান্ত ছবি, চলচিত্র কিংবা সচিত্র প্রতিবেদন উপভোগ করি। কল্পনাবিলাসি হয়ে সে সময়ের মধ্যে নিজেকে অবগাহন করে বাস্তবতা থেকে কিছুক্ষণের ছুটি নেই। এ সংক্রান্ত ইমন ভাইয়ের লেখাগুলি আমার সেই তৃষ্ণাকে অনেক খানিই মিটিয়ে থাকে। তিনি কস্ট করে যোগাড় করেন। আমরা বিনা কস্টে সেই প্রতিশ্রমের ফল খাই। প্রতিদানে তাকে শ্রেষ্ঠত্যের আসনে তো বসানোই যায়।

২, মাহমুদুল হাসান কায়রো --- ইনার সব লেখা পড়া হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ডামাডোলে বিপর্যস্ত প্রবাসি বাংলাদেশিদের খবরাখবর নিয়ে তার রিপোর্টগুলি সময়োপযোগি হয়েছে। নিজের কস্ট উপেক্ষা করে লিবিয়ার সীমান্তে পড়ে থাকা অসহায় বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি তার মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত লেখাও পাঠিয়েছেন। তার সেই মহৎ উদ্দেশ্য এবং কস্টের বিপরীতে তাকে এই সম্মাননা প্রদানের কাজটি ভালো হয়েছে।

৩, জাহাজি পোলা --- শরৎচন্দ্রের সমুদ্রে সাইক্লোন পড়েননি এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। যারা পড়েননি, তাদের জন্য জাহাজি পোলার পেশাগত অভিজ্ঞতালব্ধ লেখাগুলি এ যুগের সমুদ্র সাইক্লোনের বা বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারবে নির্দ্বিধায়। যারা পড়েছেন, তাদের জন্য ভিন্ন আঙ্গিকে সমুদ্রে সাইক্লোনের চিত্রটি দেখা দেবে। ( এই চান্সে নিজের ঢোল বাজাচ্ছি। ভরা বর্ষায় একবার পদ্মা মেঘনার মিলনস্থলে লঞ্চে ঝড়ের মুখে পড়েছিলাম। এর পর কোটি টাকা দিলেও আমি ওই আবহাওয়ায় সে মুখো হবো না। আর জাহাজি পোলার সেই পোষ্ট পড়ে আমাকে সৈকতে নেয়া যাবে, কিন্তু সমুদ্রে? সে গুড়ে বালি !)

৪, শায়মা-- এ যে সেই অপ্সরা সেটা জানতে আমার অনেকদিন লেগে গিয়েছিল। অপ্সরার লেখা পড়তাম। খাদক হিসাবে আমার যে দুর্নাম সে কারণেই চিত্র দর্শন ও পঠনের লোভে ওর পোষ্টে যেতাম। সাধ্যের বাইরে বলে, ঘোলেই তৃপ্তি মেটানো আর কি ! তবে এই যান্ত্রিক জীবনে, হাজার ব্যাস্ততা আর জীবন সংক্রান্ত কমপ্লিকেশনের মাঝেও মেয়েটা যে তার মনের সরলতা আর চাঞ্চল্যকে ধরে রাখতে পেরেছে, তাতে ওকে অবশ্যই সম্মাননা দেয়াই যায়। ( রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আমার একটা লেখা হয়তো ওকে আঘাত করে থাকতে পারে। সে কারণে ওকে আমার কোন পোষ্টে আর দেখি না।) তবুও আমার শুভকামনা থাকলো ওর প্রতি।

৫, ফিউশন ফাইভ --- পঞ্চ পান্ডবের দ্রৌপদির মত এই নিকটিও শুনেছি ৫ জন ব্যাবহার করে। তবে এই ৫ জনের মধ্যে একজনের লেখার হাত এবং বিষয়বস্তু নির্বাচন আমার কাছে ভালো লেগেছিল।

Click This Link

৬, ডিস্কো বান্দর--- কাঠখোট্টা মানুষ বলে তার রম্য লেখাগুলির সবটাই পড়া হয়নি। যতটুকু পড়েছি, হাসতেই হয়েছে। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কাজটাই সবচেয়ে কঠিন । সেই মহা কঠিন কাজটা যিনি করতে পেরেছেন, তিনি অবশ্যই সম্মাননার যোগ্য।

বাকিদের মধ্যে

রেজোয়ানার লেখা পড়া হয়নি।

আরিয়ানার প্রবাস সংক্রান্ত কয়েকটা লেখা পড়েছি। বেশ গোছালো।

আলিম আল রাজি -- ভিকারুন্নেসা ইস্যুতে শক্ত জনমত গঠনে তার লেখার প্রশংসা করতেই হয়।

আসিফ মহিউদ্দিন -- দুঃখিত ইনার ব্যাপারে একটিও ইতিবাচক কথা বলার মত কিছুই খুজে পাচ্ছি না।

সম্মাননা পাবার যোগ্যদের মধ্যে অবশ্য আরো বেশ কিছু ব্লগার ছিলেন। বিভিন্ন শাখায় আলাদা করে সামনের বছর এই সম্মাননা প্রদান করলে মন্দ হতো না।


৩য় ব্লগ দিবসে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রের দুজন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক অংশ নিয়েছিলেন।তাদের মধ্যে ডঃ আনিসুজ্জামান একাধিকবার সামুর অতিথি হয়ে এসেছেন। তিনি ব্লগিং করেন না বা ব্লগিং জানেন না কথাটা শুনে মর্মাহত হতে হলো। যে বিষয়ে তিনি জানেন না, সে বিষয়ে কথা বলতে তাকে আনাটা আমার কাছে সঠিক মনে হয়নি।আর একজন অত্যন্ত মেধাবি মানুষ হিসাবে ব্লগিং সমন্ধে তার জানাটা কি খুব সময় সাপেক্ষ ছিল? এ বিষয়ে আমন্ত্রকদের একটা দ্বায়িত্ব ছিল বলে আমি মনে করি।

উপস্থাপক হিসাবে কৌশিক ভাইয়ের পাশাপাশি একজন নারী থাকলে ভালোই হতো। আর স্ক্রীপ্ট বিহীন উপস্থাপনায় কথায় জড়তা আসবেই।

যেহেতু সামু এবার যৌথভাবে ব্লগ দিবস পালন করলো, সেহেতু আসন সংকুলানের দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল। আসন না পেয়ে ব্লগাররা দাঁড়িয়ে থাকবেন, অথবা বাইরে বসে নিজেদের ভেতর আড্ডা দেবেন, ব্যাপারটা ব্লগারদের অথবা আয়োজনদের, কারো জন্যই কাম্য বা সম্মানের নয়।

পুনশ্চঃ ইয়ে মানে খাওয়া দাওয়ার আয়োজনটা আরেকটু ভালো করলে হতো না?







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29506934 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29506934 2011-12-21 03:35:30
রান ধইরা ছিড়া ফেলা দরকার।
বেশ কিছুদিন আগে লিখেছিলাম, ব্লগে জাতিয়বাদি ব্লগারদের কোনঠাসা করার জন্য রাম বামপন্থিদের সাথে কোটিপতি গুলশান নিবাসি পাড় পুজিবাদিদের মধুর মিলন ঘটেছে। তাই বিভিন্ন ছুতা নাতায় জাতিয়তাবাদি ব্লগারদের বিভিন্ন ব্যানের খাড়ায় কাটা পড়তে হয়েছে।

তার পুর্ণ সুযোগ নিয়ে ভারতীয় নষ্ট বীর্যের ফসল গুলি ভারতের পক্ষ্যে সাফাই গাইছে। এরা সবাই যে বাংলাদেশের তা না। কিছু ইন্ডীয়ান কুত্তাও বাংলাদেশি সেজে ব্লগে জাতিয়বাদিদের উপর চড়াও হচ্ছে। বছর দুয়েক আগে দীপংকর নামে কলিকাতার ড্রেন থেকে উৎপন্ন এক জন একই কায়দায় আক্রমন শুরু করেছিল। সেই কাজে তাকে কে সাহায্য করতো জানেন? যারা স্বাধীনতার চেতনার সোল এজেন্সি খুলে বসেছে। অথচ এরাই ভারত বা আওয়ামি লিগের ধুতি খুলে দিলে পাকি ফাকি বলে আক্রমন করে বসে। অর্থাৎ বাংলাদেশের পায়ুপথে বাশ প্রবেশ করালেও ভারত গংগাজলে ধোয়া তুলসি পাতা। তাদেরকে কিছু বলা যাবে না। যারা বলবে ওরা পাকি রাজাকার সাম্প্রদায়িক জঙ্গি ইত্যাদি ইত্যাদি।

যেহেতু তখনও সামু এত নষ্ট ছিল না। তাই উপযুক্ত গদাম দিয়ে ওই ইন্দিয়ান আর তার পৃষ্ঠপোষক নষ্ট বীর্যের ফসলগুলিকে সাইজ করা হয়েছিল।

সময় বদলেছে। তাই ওই যে বললাম রাম বাম দের সাথে ঘোর অউজিবাদিদের মধুর মিলন ঘটেছে। ফলে বাংলাদেশের পক্ষ্যে কথা বলার বা স্বার্থের পক্ষ্যে প্রতিবাদ করার মত লোকদের এখানে মতপ্রকাশ অসম্ভব হয়ে গিয়েছে।

একটা লিংক দিচ্ছি। তার কিছু নমুনা দেখুন। ভারতের নষ্ট বীর্যের ফসলগুলির ঔদ্ধত্যের নমুনা নিজেই যাচাই করে নিন।

Click This Link

সহব্লগার কয়েজনের মুখে জানলাম এ নাকি নিত্যদিনের ঘটনা। এখানে প্রায়ই ঘটে থাকে।

আপনি যদি সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন, তাহলে বুকে হাত দিয়ে বলুন, যখন আপনার দেশ করদ রাজ্য হবার পথে পা বাড়াচ্ছে, আপনি কি প্রতিবাদ করবেন না? যখন দেখবেন প্রতিবাদ করার জন্য আপনাকে দালালরা হুমকি ধমকি অপবাদ দিচ্ছে, তখন কি আপনার ক্রোধ জন্মাবে না? যখন সেই দালালিকে জায়েজ করার জন্য উলটো আপনাকে দালাল বলে গালি দেবে তখন কি আপনার হাত মুস্টিবদ্ধ হবে না?

ঠিক সেকারনেই এই লেখা। শুধু জানিয়ে দেবার জন্য যে ব্লগে যারা বড় বড় কথা বলে, তারা খালি কলসি। তাই বাজে বেশি। যারা সত্যিকারের দেশ ভাষা ও সংস্কৃতিতে বিশ্বাসি, যারা আগ্রাসনের জবাব প্রতিরোধে দিতে জানে, তারা বলবে কম, কাজ করবে বেশি। শুধু সময়ের ব্যাপার। তখন শিরোনামের কথাগুলি বাস্তব হয়ে ধরা যাবে। যদি না দালালগুলি পালিয়ে যায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29505121 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29505121 2011-12-18 12:21:37
একটি পর্ণগ্রাফিক পোস্ট। উৎসর্গ সৈয়দ আশরাফ। ( কঠোরভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক/মনস্কদের জন্য)

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মন্ত্রিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালি। প্রথমত তিনি আওয়ামি লিগের সাঃ সম্পাদক। দ্বিতীয়ত তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রানালয়ের মন্ত্রি। এমন একটি শক্তিশালি অবস্থান যিনি থাকেন স্বভাবতই তিনি সবচেয়ে দ্বায়িত্ববান হবেন, সেটিই স্বাভাবিক।

তবে দেশটা যখন আওয়ামি লিগ চালাচ্ছে, সেখানে হবুর রাজ্যে গবু দ্বায়িত্বশীল পদ পেতে পারে, এমনটি খুবই সম্ভব। তার কিছু কিছু প্রমানও আশ্রাফ সাহেব দিয়ে রেখেছেন।

যেমন ধরুন জিয়া এবং এরশাদের আমলের প্রজন্মকে তিনি নস্ট প্রজন্ম আখ্যা দিয়েছেন। যদিও খোদ এরশাদকে পাশে বসিয়েই তাদের রাজনীতি। আর আজ তিনি যে উড়ে এসে আওয়ামি লিগের গুরুত্বপুর্ণ পদে আসীন, সেটিও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেরই বদ্যনতায়।

আশরাফ সাহেবের নতুন উক্তি, বাংলাদেশের ব্লগগুলি নাকি পর্ণ স্থানে পরিণত হয়েছে।

আমার বন্ধুপত্নির মত আশরাফ বিদেশি বংশোদ্ভুত না হলেও বিদেশেই জীবন যৌবন কাটিয়েছে। সুতরাং পর্ণ কি সেটা তার না জানার কিছু নেই।

বাংলা ছবিতে অশ্লীলতা নতুন কিছু নয়। তবে সেটা মাত্রাছাড়া বা এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় অর্ধপর্ণের মতও না। কাটপিসের কথা উল্লেখ করা যুক্তিযুক্ত না, কারণ সেটা সেন্সর বোর্ড অনুমোদিত নয়।

আমার বন্ধুপত্নি একটা প্রি কন্সিভড নোশন নিয়েই বাংলাদেশে এসেছিলেন। কারণ তাদের মিডিয়াতে বাংলাদেশ মানেই দরিদ্র পীড়িত এক দেশ। যাদের ভাষা সংস্কৃতি তাদের সমমান তো দুরের কথা সভ্যতার মধ্যেও পড়ে না। সুতরাং তাদের ছবির গানকে পর্ণের সাথে তুলনা দিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সুযোগ তিনি ছাড়েননি। বলা বাহুল্য সেদিনের পর আমরা কোনদিন সেই বন্ধুপত্নীর সাথে কোন কথাও বলিনি। দরকার পড়েনি, কারণ বিয়েটাই টিকেছিল মাত্র ৩ সপ্তাহ।

বন্ধু পত্নি না হয় বিদেশি এবং মিডিয়ার কথা ১০০% বিশ্বাস করে বাংলাদেশের প্রতি একধরণের বিতৃষ্ণা পোষণ করতো। আশরাফ সাহেব যৌবনকাল বিদেশে কাটালেও তো জন্ম বেড়ে উঠা সবই বাংলাদেশে। তিনি কেন এ ধরণের বিতৃষ্ণা পোষন করবেন? বিশেষ করে ব্লগিং যখন খুব নতুন একটা ধারণা। এবং আমার বিশ্বাস আশরাফ সাহেব নিজে কোনদিন সেপথে হাটেননি।

আগে চলুন পর্ণগ্রাফির সংজ্ঞা এবং ইতিহাস জেনে নেই।

পর্ণগ্রাফি হচ্ছে মানুষের যৌনকর্মকে কথামালা, কিংবা স্থির চল চিত্রের মাধ্যমে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। আধুনিক পর্ণগ্রাফির যে চল, তার শুরু হয়েছিল ভিক্টোরিয়ান যুগের ইউরোপ থেকে।



ফ্রেঞ্চ চিত্রকর এদোওয়ার্ড মানেটের আকা অলিম্পিয়া নামের এই ছবিটিকেই আধুনিক পর্ণগ্রাফির শুরু মানা হয়ে থাকে।

১৮৬০ সালে ইটালির পম্পেই শহরে প্রত্মতাত্তিক খনন কার্য চালানোর সময় উদ্ধার করা হয় রোমান সম্রাজ্যের সময় আকা বিপুল পরিমান যৌনতা সর্বস্ব চিত্রকর্ম। রোমানদের উত্তরসুরি হিসাবে খ্যাতি পাওয়া ভিক্টোরিয়ানরা সে সময় রক্ষণশীল সমাজের কথা চিন্তা করে সাধারণের জন্য সেসব উন্মুক্ত করেননি। তবে উচুতলার মানুষদের জন্য এই বাধা কার্যকর ছিল না। সে সব চিত্রকর্ম নেপোলিতে খুবই গোপন একটা যাদুঘরে সেগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।

১৮৫৭ সালে পর্ণগ্রাফির বিরুদ্ধে বৃটেন এবং আয়ারল্যান্ডে কঠোর আইন প্রনয়ন করা হলেও, চলচিত্রে পর্ণগ্রাফির শুরু হয়ে যায় চলচিত্রের আবিস্কারের পর পরই ( ১৮৯৫ সালে)।

কঠোর আইনের কারণে এর বানিজ্যিকরণ বন্ধ থাকলেও, ১৯২০ সাল থেকেই ফ্রান্স আর যুক্তরাস্ট্রে ব্যাক্তিগত পর্যায়ে গোপণেই এগুলি তৈরি হতে থাকে। যার উপভোগকারিরা ছিলেন সমাজের প্রভাবশালিরাই।

তবে ১৯৬৯ সালে ডেনমার্ক পর্ণগ্রাফিক চলচিত্রকে আইনি অনুমোদন দিলে সারা বিশ্বে পর্ণগ্রাফিক চলচিত্র আমদানিরর হিড়িক পড়ে যায়। তবে যা ছিল গোপণে এবং বিশেষ শ্রেণীর কাছেই লভ্য।




বস্তুত অর্থনৈতিক লাভের কথা বিবেচনা করেই, পশ্চিমা বিশ্ব পর্ণগ্রাফির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সময়ে সাথে আজ পর্ণগ্রাফি সারা বিশ্বে প্রসার লাভ করেছে। আর অন্তর্জাল সৃস্টির পর পরই দেখা যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারিদের একটি বিশাল অংশ, তাদের ইন্টারনেট ব্যাবহারের একটা বড় অংশ পর্ণগ্রাফি উপভোগের পেছনে ব্যয় করছেন।

বাংলাদেশে পর্ণগ্রাফির প্রচলনের মুল হোতা কারা জানেন? যারা পুরানো ঢাকায় ভিসি আরে প্রথম ছবি প্রদর্শন শুরু করেছিল। গুঞ্জন রয়েছে যে, এর নেপথ্যে ছিল আজিজ মোঃ ভাই, তার শশুড় বান্টি (ভি ডিও কানেশনের মালিক) এবং জাহাঙ্গির মোঃ আদেল। এই সেই আদেল, যে হচ্ছে কুখ্যাত মোনায়েম খানের জামাতা। এই তো বেশ কিছু বছর আগেও যার বাড়িয়ে পাকিস্থানি পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছিল।

ধরে নিচ্ছি আশরাফ সাহেব পর্ণগ্রাফি উপভোগের বিপক্ষ্যে। ভালো কথা। তাহলে তার শক্তিশালি অবস্থান থেকে কেন মোবাইল কিংবা ভিসিডি পর্ণ বন্ধ করছেন না?

কেন অন্তর্জালে পর্ণগ্রাফি বন্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছেন না?



কেন গোপণে ধারণ করে পর্ণগ্রাফি ছড়িয়ে দেবার বিপক্ষ্যে কঠোর আইন প্রণয়ন করছেন না?



কেন সারা দেশের আনাচে কানাচে চলা প্রেমের নামে চলা উন্মুক্ত পর্ণগ্রাফির বিরুদ্ধে কথা বলছেন না?



আশরাফ সাহেবের শশুরবাড়ি থেকে যে ধরণের চলচিত্র বানানো হয়, সেটি পর্ণ না হলেও চরম অশ্লিল এবং সমাজ অবক্ষায়ক। কই, আশরাফ সাহেবদের দেখি সেটা নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা নেই।



যে সব উদ্যোগ প্রকৃত অর্থেই দেশ ও সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে সে সব উদ্যোগ নেবার পরিবর্তে নিতান্তই মুর্খের মত ব্লগগুলিকে পর্ণগ্রাফি বলে বক্তব্য দিলেন। যার মুল কারণ তিনি যতই আড়াল করতে চান, সচেতন মানুষের চোখকে ফাকি দিতে পারেনি।

দেশের মিডিয়াগুলিকে বলা যায় আওয়ামি বাপ বেটির বাক্স। চ্যানেল আই, একুশে টিভি, দেশ টিভি, আর টিভি , অমুক টিভি তমুক টিভির মালিকপক্ষ যে একনিস্ট আওয়ামি প্রেমিক সেটা মুখে বলার দরকার হবে না। পত্রিকাগুলির মধ্যেও একই অবস্থা। ব্যাতিক্রম শুধু আমার দেশ পত্রিকা।

যতই রাখ ডাক আর কথায় পেচিয়ে রাখা হোক না কেন, আওয়ামি লিগের "সুশাসন" আর ভারতপ্রেম ডেকে রাখা সম্ভব হয় না। মিডিয়াতে জনগণের কথা চিন্তা করে খুব হাল্কা করে প্রচার করা হয় এবং ফলো আপ না করে সেই ইস্যুটিকে জনগণের স্মৃতির পাতা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

কিন্তু ব্লগে সেটা সম্ভব হয় না। তাই আশরাফ সাহেবদের সব রাগ এখন ব্লগের উপরে। কেননা তিনি এবং তার দলের বহু জারিজুরি ফাস হয়ে যায় এই ব্লগেই। আর এই ব্লগ বিচ্ছুরা বরাবরই আশরাফ সাহেবদের আইন পুলিশ আর পেটোয়া বাহিনীর ধরাছোয়ার বাইরে থাকে।

ব্লগে এই বিচ্ছুদের এভাবে চলতে দিলে আশরাফ সাহেব এবং তার দলের মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠির প্রতাপ এবং সম্মান ধুলায় লুটিয়ে যাবে। তার এবং তার দলের পোষ্য লেজনাড়াদের প্রচার করা মিথ্যা ইতিহাস আর মানুষকে গেলানো যাবে না। একারনেই ব্লগের বিরুদ্ধে পর্ণগ্রাফির মত একটি বিশ্ব নিন্দিত এবং ঘৃণিত মিডিয়ার অপবাদ দিয়ে এর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতলবেই আশরাফ সাহেবের ঐ বালখিল্য উক্তি।

বিরোধীদের মতামত সহ্য করতে না পেরে, এবং স্বীয় দলের দুর্ণীতি লুটপাট আর সন্ত্রাসের খবরগুলি আড়াল করতেই ১৯৭৫ সাথে বাকশাল গঠন করা হয়েছিল। সেই "মহান কাজে" আশরাফ সাহেবের পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামও জড়িত ছিলেন।

আর ২০১১ সালে সৈয়দ আশরাফ সাহেবেও পিতার পদাংক অনুসরণ করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।

১৯৭৫ সাল আর ২০১১ সাল এক নয়, এই বাস্তবতাটি আশরাফ সাহেব ও তার দলকে বুঝতে হবে। আরো বুঝতে হবে যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অতীতেও হয়েছে। বর্তমানেও যে হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেবার মত আত্মবিশ্বাস কি আশরাফ সাহেব কিংবা তার দলের রয়েছে?

শেষ কথাঃ ব্লগে আছি ৩ বছর দুই মাস। ১৮+ পোস্ট দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের লোভ কোনদিন ছিল না, এখনও নেই। নব্য বাকশালিদের বিরোধী মত রুদ্ধ করার নব্য চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্যই এমন একটি পোস্ট দিতে বাধ্য হলাম।

আমার অনেক গুণমুগ্ধ গুরুজন সতীর্থ অনুজপ্রতিম এবং সমালোচক আছেন। তাদের মনে এই পোস্ট ও পোস্ট সংক্লিস্ট ছবি কস্ট দিয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ধন্যবাদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29496855 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29496855 2011-12-05 15:24:59
লক্ষাধিক ব্লগার এবং পাঠকদের প্রতি খোলা চিঠি

সুপ্রিয় ব্লগার এবং পাঠকবৃন্দ

দেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাড়িয়েছে, যা থেকে উত্তরণে আমাদের সমবেত প্রতিবাদের বিকল্প নেই। স্বাধীন বাংলাদেশে ২১শে এপ্রিল ১৯৭৫ সাল একটি কৃষ্ণ অধ্যায়ের নাম। এই দিনের বাংলাদেশের মরণ ফাদ নামে পরিচিত ফারাক্কা বাধ চালু করে দেয়া হয় । যদিও বলা হয়েছিল পরিক্ষামুলকভাবে মাত্র ৪০ দিনের জন্য এই বাধ চালু করা হয়েছে।

আজ ৩৬ বছর ধরে সেই মরণফাদ আমাদের গলায় আটকে আছে। গোদের উপর বিষফোড়ার মত অধুনা টিপাইমুখ বাধ নামের আরেকটি মরণ ফাদের চক্রে জড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপাক্ষিক কোন চুক্তি কিংবা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই এই বাধ গুলির মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতাকে অসম্মান করা হয়েছে।

ফারাক্কা চালুর দিন এবং বছরটির সাথে টিপাইমুখ বাধ তৈরির সময়ের বিস্তর ফারাক রয়েছে। সেদিন যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশের মানুষ দুর্ভিক্ষের মোকাবেলা করছিল। তাই দিনান্তে এক মুঠো অন্ন জোগাড়ের সংগ্রামে তারা অন্য দিকে তাকানোর সময় পায়নি।

আজ বাস্তবতা তেমন নেই। গুটি গুটি করে পা ফেলে হলেও অন্তত বাংলাদেশের মানুষ খেয়ে পড়ে ভালো আছে। শিক্ষায় দীক্ষায় অর্থনীতিতে উন্নয়নের ফলে দেশে বিশাল জনগোষ্ঠি দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে, ভবিষ্যত নিয়ে ভাববার এবং সেটি প্রকাশ করার পুর্ণ সুযোগ পাচ্ছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমান বাংলা ব্লগগুলিতে অসংখ্য শিক্ষিত মানুষের পদচারণা।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে টিপাইমুখ নিয়ে এই জাতির এই ক্রান্তিকালে আমাদের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে চরম অনৈক্য বিদ্যমান। যে যার পাতে ঝোল টেনে নেয়ায় ব্যাস্ত তারা।

এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষের ভরসার কেন্দ্রস্থল হতে পারে দেশের সচেতন শিক্ষিত মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যপ্রাচ্য অন্তর্জাল ভিত্তিক যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, সেটি উদাহারণ হিসাবে ব্যাবহার করে আমরা টিপাইমুখের বিরুদ্ধে দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনাবৃদ্ধি এবং প্রতিবাদ করতে পারি।

ফারাক্কার সেই দিনে আমাদের প্রতিবাদ করার মত অবস্থা ছিল না। কিন্তু এখন তো আছে? সেদিনের আমাদের নিরুপায় নিরবতা দেশের উত্তরাঞ্চল এবং প্রধান একটি নদীকে মুমুর্ষ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

আর টিপাইমুখ বাধের মাধ্যমে আরেকটি প্রধান নদীকে মৃতপ্রায় করে কোটি মানুষের রুটি রুজিতে শুধু আঘাত নয়, বরং অর্থনীতি এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

একজন শিক্ষিত এবং সচেতন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি হয়ে আপনি কি এখনো চুপ করে বসে থাকবেন? নাকি আপনার বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবাদ করবেন? সেটা বিচারে ভার আপনার উপরেই অর্পন করা হলো ।

আমরা যদি নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে বিশ্বাস করি, দাবি করি, তাহলে সেটা প্রমানের এখনই মোক্ষম সময়। এবং সেটা দলীয় আদর্শের বাইরে গিয়েই করা শ্রেয়। যাতে আপনার দেশপ্রেমপ্রসুত এই প্রতিবাদকে কেউ দলীয় স্ট্যান্টবাজি বলে অসম্মান না করতে পারে। ধন্যবাদ।

অটঃ টিপাইমুখ বাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদিদের বিরুদ্ধে অনেক বাধা বিপত্তি আসবে। বাধা তারাই দেবে যারা ৭১ এ স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করেছিল তাদেরই দোসর এবং সাঙ্গপাঙ্গরা। তারা যতই শক্তিশালি হোক না কেন, দেশপ্রেমিকদের একতার সামনে ওরা তুচ্ছ এবং নগণ্য। তাই কোন দ্বিধা নয় সংকোচ নয় এগিয়ে এতে হবে সামনের দিকে।


আপনাদের সুবিধার্থে টিপাইমুখ বাধের বিরুদ্ধে সুলিখিত কিছু পোস্টের লিংক দেয়া হলো।

টিপাইমুখঃ ভারতের হাইড্রোপলিটিক্সের রেসের ঘোড়া.... নিজের ল্যাজে পা পড়ার পর ভারতও এখন প্রতিবাদী!!! মঞ্জুরুল হক ভাইয়ের লেখা


সহব্লগার কিরিটী রায়ের সংগৃহিত টিপাইমুখের বিরুদ্ধে কিছু সুপাঠ্য লেখার সংকলন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29490869 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29490869 2011-11-26 13:24:47
ইনু মিয়া দেখি খুব বাইড়া গেছে! ঘটনা কি?
কয়েকদিন আগে দেখলাম ঘাদানিক এর সভায় গিয়া কইলো সংবিধান থেইকা রাস্ট্র ধর্ম বাদ দিতে হইবো, স্রস্টার প্রতি বিশ্বাস বাদ দিতে হইবো।চট্টগ্রাম থেইকা সেনাবাহিনী সরায়া আইন্যা সেইখানে আদিবাসি রাজ কায়েম করা লাগবো ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই সব দাবি করণের তুই কে রে ইনু? আইজকা আওয়ামি লিগ তোর মাথার উপর থেইকা হাত সরায়ে নিলে কুত্তায়েও তোরে পুছবো না। আর কিয়ের রাজনীতি করোস রে তুই? সর্বহারার? তুর গাড়ি বাড়ি ব্যাংক ব্যালেন্স সবই তো আছে। তুই আবার সর্বহারা হস কেমনে রে?

শেয়ার মার্কেটের ১৩টা বাজে। আইন শৃংখলার ১৪ টা। ব্যাবসা বানিজ্য সব যায়গায় আউলা ঝাউলা। ওই দিকে ইন্ডিয়ার খেয়াল খুশি আর হুকুমে সরকার চলে। কই? এব্যাপারে তো তোর রাও শুনা যায় না?এসব কি আমরা বুঝি না ভাদার বাচ্চা?

আর শুন। তো চ্যালা দের দিয়া যতই চেতনা মাড়াও লাভ নাই। আমরা জানি তুই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজি আরেফের খুনি। সাথে তুই রাজাকার ত্রিদিব রায়ের পোলা দেবাশীষ রায়ের পা চাটা কুত্তা। তাই মুখে চেতনা চেতনা করলেও তুই ৭১ সা ল থেইকাই রাজাকার। আর এই জন্যই সাধারণ মানুষের বিপক্ষ্যে যাইতে তোর এক সেকেন্ড সময় লাগে না।

তোর ইন্ডিয়া বাপের নাচুনিতেই তুই যে সংবিধান পাল্টানোর আর উপজাতি চাকমা গো দিয়া বিচ্ছিন্নতাবাদ চালাইতে চাও, এ কারণেই তুমার খবর আছে। সময় থাকতে ভালো হইয়া যাও।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29487315 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29487315 2011-11-21 07:57:37
টিপাইমুখ বাধ ! ইন্ডিয়ান প্রতিশ্রুতির মায়রে ** কিছু দেশদ্রোহি জারজদের নোংরা খেলা ।
সেদিনের পর থেকে সুরমা কুশিয়ারা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। আমাদের স্মৃতির মিনার থেকে হারিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের চুড়ান্ত মরণফাদ টিপাইমুখের কথা। তবে কয়েকজন কিন্তু ভোলেনি। সহব্লগার বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, স্বপ্নরাজ, বাবু>বাবুয়া>বাবুই এরা সবাই নো টু টিপাইমুখ ব্যানার নিওয়ে এখনো ব্লগিং করে যাচ্ছেন।

ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জিন্দাবাদকে সোলেমানি ব্যানের খাড়ায় আটকা পড়তে হয়েছে। কেননা লক্ষ্মী ট্যাড়া জনৈক মডু তাকে অসম্মান করলে তিনিও ছেড়ে কথা বলেননি। স্বপ্নরাজ ব্লগের কর্মকান্ডে বিতশৃদ্ধ হয়ে লেখাই ছেড়ে দিয়েছেন। একই কথা বাবু ভাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এছাড়াও এই ব্লগে বিভিন্ন খেলো অজুহাতে ভারত বিরোধী জাতিয়তাবাদি ব্লগারদের সামুর নব্য মডুরা লেখালিখিতে অনুৎসাহিত করতে চেয়েছে। ভাবখানা এমন যে, এই সরকার চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে। তাই চিরদিনই ভারতীয় পদলেহন করে পার পাওয়া যাবে।

কিছুদিন আগে ইন্ডিয়ান প্রধানমন্ত্রি মনমহনশিং বাংলাদেশে এসে কত প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন। বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ নাকি ইন্ডিয়া করবে না। ইন্ডিয়ান শাসকরা মুখ না পায়ুপথ দিয়ে কথা বলে। অথচ বাংলাদেশে থাকা ভারতপন্থিরা সেই পায়ু পথের গন্ধকেই সৌরভ জ্ঞান করে ভারতপ্রেমে বেহুশ।

এরা এতটাই সম্বিতহারা যে, ভারত বিরোধিতাকারিদের বিরুদ্ধে দাদাদের শেখানো পুরানো পচাগলা ভাঙ্গা রেকর্ড বাজাতে এক মুহুর্ত দ্বিধা করে না। এই পোস্টেও দাদাদের পাছায় মুখ ঢুকানো ভাদাদের মন্তব্য দেখতে পাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। আবার ল্যাঞ্জা পাছে উন্মুক্ত হয়ে যায়, সেকারনে চুপি চুপি এসে কোন মন্তব্য না করেই পালিয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের ব্যাপারে ইন্ডিয়ানরা যে মাদারচোদ, তার হাজারো প্রমান রয়েছে। যাদের স্মৃতির পাতায় ধুলি জমেছে, তাদের স্মৃতি শক্তি জাগানোর জন্য মাত্র কয়েকটা উদাহারণ দিতে চাই।

স্বাধীনতার কিছুদিন পরেই মাত্র ৪০ দিনের সাময়িক অনুমতি নিয়ে ফারাক্কা বাধ চালু করেছিল। সেই ৪০ দিন পার হয়ে আজ ৩৮ বছর পার হতে চললো। সেই মরণফাদ দিয়ে আজ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কি হাল করা হয়েছে, সেটা না হয় উত্তরাঞ্চলের ব্লগাররাই বলবেন। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ শত্রু ইন্দিরা কুত্তিটাকে মা বলা আমাদের তথাকথিত প্রধানমন্ত্রি সেটা নিয়ে কবিতা পড়েন "আমাদের ছোট নদীচলে বাকে বাকে, বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে।" কোন স্তরের ইন্ডিয়ান চামচা হলে কেউ একজন এধরণের দেশদ্রোহি কথা বলতে পারে ! এই মহিলাই নাকি আবার বলে তার মত দেশপ্রেমিক নাকি কেউ নেই। আ লো মাতারি, এইটাই দেশপ্রেম হলে, গো আযম নিজামিদের চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কেউ হতে পারে না।

আচ্ছা খুব সাম্প্রতিক আরেকটা উদাহারণ দেই। সিডরের মহা বিপর্যয়ের সময় হাসিনার প্রাণপ্রিয় দাদা প্রণাব বাসু এসে বলে গেলেন যে তিনি ৩০০-৩৫০ ডলারে সম্ভবত ৫০০ কি ১০০০ মেট্রিক টন চাল রফতানি করতে দেবেন। গোয়া দিয়ে যারা কথা বলে, ওরা কি আর কথা রাখতে পারে?

চালের আক্রায় বাংলাদেশের অবস্থা তখন বেশ নাজেহাল। কিন্ত দাদার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক চাল তো আর আসে না। নানা টালবাহানা করে শেষ মেষ সেই চালের দাম দ্বিগুণ করে দিল ইন্ডিয়া। আমাদের টাকা ছিল, তাই ইন্ডিয়ার চেয়ে অল্প দামে আমরা থাইল্যান্ড আর ভিয়েতনাম থেকে চাল কিনতে পেরেছিলাম। এপ্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, আরেক ইন্ডিয়ান মাদারচো* পিনুক চকোত্তি বলেছিল, আমরা না খেয়ে তো আর আপনাদের খাওয়াতে পারবো না। ফকিরন্নির পুত বলে কি? তোরা জন্ম ফকিন্নি। আমাদের কি খাওয়াবি রে? আমরা তো নগদ টাকা দিয়ে কিনতে চেয়েছিলাম। তাও তোদের সেই সময়ের পররাস্ট্র মন্ত্রির ধরে দেয়া দামেই। অথচ ফকিরন্নির পোলাদের মত আমাদের অবস্থার সুযোগ নয়ে ব্যাবসা করতে চেয়েছিলি। তোদের ওই গু মুখে লাত্থি দিয়ে আমরা ঠিকই অন্য যায়গা থেকে চাল কিনে এনেছিলাম।

আবার আসুন সীমান্ত হত্যায়। ইন্ডিয়ানদের পাছায় অত মুরোদ নেই বলেই, সীমান্তে নিরপরাধ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে, প্রতিশ্রুতি মাড়ায়। এ ব্যাপারে যেদিন হাসিনা -মনমহন শিং বৈঠক হয়েছিল, সেদিনও সীমান্তে ইন্ডিয়ান কাপুরুষ বাহিনী নিরপরাধ বাংলাদেশিদের হত্যা করেছিল।

এ হচ্ছে অনেক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাত্র কয়েকটি নমুনা।

আর সেই নির্লজ্জ দাসত্ব ঢাকতে তারা রাজনীতি, মিডিয়া আর ব্লগে বিভিন্ন নোংরামি শুরু করেছে।

ক্ষমতায় এসেই হাসিনা প্রথমে তার দাদারুপি আসল বাপকে ফোন করে আশির্বাদ চেয়েছিল। পিলখানা হত্যাকান্ডের সময় সেনা সদস্যদের হতায়কান্ডের জন্য আওয়ামি নেতাদের নাম আসার ফলে হাসিনা যখন যায় যায় , তখন সেই দাদাই আবার হুমকি দিলেন। হাসিনার কিছু হলে নাকি ভারতীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করবে। ক্ষমতার আসার প্রথম দিন থেকেই ভারতেকে চাহিদা মোতাবেক সর্বস্ব উজার করে দিচ্ছে ইন্ডিয়ান দালাল এই আওয়ামি সরকার।

যারাই এর বিরোধীতা করছে, তাদেরকে আওয়ামি সন্ত্রাসিদের দিয়ে হামলা আর আওয়ামি চামচা পুলিশ /উকিল আর বিচারপতিদের দিয়ে রিমান্ড মামলা ইত্যাদি দিয়ে জীবন সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। সাথে রামপন্থি বাম অধিকৃত মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্যা অপবাদে জর্জরিত করা হচ্ছে।

এই রামপন্থি বামরা আবার আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ভুমিকাকে বিশাল বড় করে দেখিয়ে ভারতকে মহান বানানোর চেস্টায় রত। তাদের দালালি এতটাই বেড়েছে যে, ওদের কথা শুনলে মনে হয় যেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা না, ভারতের নপুংশকগুলিই যুদ্ধ করে স্বাধিনতা এনে দিয়েছে।

যারা নতুন প্রজন্মের তারা অনেকেই এমন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে সেই মিথ্যাগুলিই সত্য বলে ভাবতে পারেন। আসল সত্য হলো, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে থেকেও শুধু নিখাদ দেশপ্রেম আর শৌর্য বীর্যের শক্তি দিয়ে ১৯৭১ এর নভেম্বর এর মধ্যেই পাকিস্থানিদের কোনঠাসা করে ফেলেছিল। পাকিদের পরাজয় ছিল শ্রেফ সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর চাম নেবার জন্যই তখনই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলে আমাদের কৃতিত্ব এবং সম্পদ হাইজ্যাক করার জন্যই ভারতীয় বাহিনী মাঠে নেমেছিল।

এইসব ভাদা কুকুরগুলি ইন্ডিয়ানদের সুরে গলা মিলিয়ে বলে থাকে যে, আমাদের স্বাধিনতা যুদ্ধে নাকি ১০,০০০ ইন্ডিয়ান সৈন্য মরেছিল। একথা আমি বিশ্বাস করতে অস্বীকার করতে বলি। কারণ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকালিন সময়ে কলিকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে রক্ষিত ইন্ডিয়ান বাহিনীর কর্মকান্ড রেকর্ড সবই ইন্ডিয়ানরাই পুড়িয়ে ফেলেছে। যাতে তাদের বীরপুঙ্গব প্রকৃত চিত্র কেউ দেখতে না পারে।

পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে যখন সারা দেশ শোকাকিভুত, তখন সেখান থেকে দৃস্টি ফেরাতে রামপন্থি বামদের অন্যতম মইত্যা তার প্র আলোয় লিড নিউজ করলেন ১০ ট্রাক অস্র মামলা । আরে ইন্ডিয়ানরা যখন শত শত ট্রাস্ক অস্র ট্রেনিং আর সাহায্য দিয়ে চাকমা সন্ত্রাসিদের বছরের পর বছর সাহায্য করতে পারে, আমরা কেন তাহলে উঃপুঃ ভারতের স্বাধীনতাকামিদের সাহায্য করতে পারবো না। কই কোন ইন্ডিয়ান পত্রিকা তো কোনদিন চাকমাদের দেয়া সাহায্য দেয়া নিয়ে কিছু বলেনি। তাহলে মইত্যার পশ্চাদদেশ জ্বলে কেন?

এই রামপন্থিরাই আবার সুশিল সমাজ, নারী অধিকার, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, প্রগতিশীলতা, মানবাধিকার ইত্যাদি নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলে। বিশেষ করে যখনই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত কোন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন শুরু করে, তখনই এই রাম পন্থি বামদের দেখা যায় অন্য ইস্যু নিয়ে শোরগোল তুলতে।

ব্লগেও এই ধরনের রামপন্থি বামদের অস্তিত্ব বেশ প্রকট। ঢাকার অভিজাত এলাকায় বসবাসরত কোটিপতি পাড় পুজিবাদি ধন্যাড্য বামপন্থির আশির্বাদে এরা সামুকে খোয়াড় বানিয়ে ফেলেছে।

আবার যেন জিজ্ঞেস করবেন না পাড় পুজিবাদি আবার বামপন্থি হয় কেমনে? একান্তই জিজ্ঞেস করলে বলবো, যেভাবে আসাদুজজামান নুর, মোজা বাবু টিভি চ্যানেলের মালিক হয়, যেভাবে কোন কাজ না করেও ইনু মেননরা দামি গাড়ি হাকিয়ে বেড়ায়, সেভাবে পুজিবাদিও বামপন্থি হতে পারে বৈকি।)

এখানে এদের মুখোশ হলো স্বাধীনতার চেতনা। এদের দেখবেন নারী অধিকার, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, প্রগতিশীলতা, মানবাধিকার ইত্যাদি নিয়ে চোয়ালবাজি করতে। অথচ যখনই ভারতের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোন ব্লগার প্রতিবাদ করে লেখা দিবে, তখনই এরা রাজাকার, মৌলবাদি জঙ্গি ইত্যাদি তকমা এটে চরিত্র হননে লিপ্ত হবে। অথচ ভারতের বিরুদ্ধে নিজেরা একটা কথ বলবে না। পরিমল ইস্যু হোক, কিংবা টিপাইমুখ, এদেরকে দেখবেন দলবল শুদ্ধা ব্লগ থেকে রীতিমত হাওয়া হয়ে যাবে। যাতে লেখা তো দুরের কথা মন্তব্যও না করতে হয়। পাছে ল্যাঞ্জা বের হয়ে যায়।

আর এরাই দেখা যায় ব্লগে যারা জাতিয়বাদি যারা দেশপ্রেমিক যারা ভারত/আঃলিগ বিরোধী তাদের কন্ঠরোধ করার জন্য কত কসরত করে। যুক্তি আর সত্যের চাবুকে ওদের পশ্চাদদেশে হাজার বাড়ি খেলেও চরিত্র বদল করে না। উলটো সিন্ডিকেট করে দলবদ্ধভাবে ব্লগারকে আক্রমন করে এবং নতুন ব্লগারদের মধ্যে বিভ্রান্ত্রি ছড়ায়।


এই নির্লজ্জ ভারতপ্রেমের কারনেই স্বাধীনতার স্থপতিকে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এখন যতই ইতিহাস উল্টো করে পাখি পড়ার মত শেখানো হোক না কেন, সেটা বদলাবে না। সেদিনের সেই বীরদের প্রহসনমুলক আওয়ামি বিচারে হত্যা করা হলেও, ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে না।

বাংলাদেশে এই রামপন্থি বাম আর ভারতবান্ধব আওয়ামি লিগ যতই নিজেদের শক্তিশালি ভাবুক না কেন, দেশদ্রোহিতার ফল তাদের ভোগ করতেই হবে। কিছুদিন আগে কিংবা কিছুদিন পরে। তবে এই সব কুলাঙ্গারদের পতনের আগে আমাদের নিজেদের সচেতন থাকতে হবে যেন, পরিবর্তনের সেই শুভদিন আসার আগে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব না হারিয়ে ফেলে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29486889 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29486889 2011-11-20 13:37:36
প্রসঙ্গ গেরিলা... একটি মিথ্যাকে চাপিয়ে দেবার জন্য মুক্তিযুদ্ধকেই অবমাননা?
আমাদের চলচিত্রে উপেক্ষিত মুক্তিযুদ্ধ
পাঠকদের কাছ থেকে সাড়া পাইনি তেমন। সে আমার লেখনির দৈন্যতাই হবে হয়তো।

মুক্তিযুদ্ধকে রুপালি পর্দায় দেখার নেশায় প্রায় প্রতিটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবিই দেখা হয়েছে।

এবার যখন খোদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু গেরিলা বানালেন, তখন প্রথম সুযোগেই দেখে ফেললাম।

ছবির টাইটেলেই প্রথম আলোর নাম দেখে মনে কুডাক দিয়েছিল। হাজার হোক, প্র আলো কিংবা মতি মিয়ার কাছ থেকে দেশাত্মবোধক কিছু আশা করা তো মহা পাপ। সেই কালে গোলাম আযম - নিজামিরা ছিল। আর একালেই সেই শুন্যস্থানে যাদের নাম নেয়া যায় তাদের মধ্যে মতি অবশ্যই শীর্ষস্থানীয়।

তবু আশায় বুক বেধে থাকলাম। কিন্তু একি? ২৫শে মার্চের ভয়াল কালো সেই রাত্রে, যেখানে ইতিহাস বলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন আর তৎকালিন ইপি আর রাই প্রথমে সশস্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল, সেখানে বাচ্চু কি দেখালেন? তিনি দেখালেন গুটি কয়েক লোক বঙ্গবন্ধু দেশে মুক্তিযুদ্ধ ঘোষনা করেছেন বলে আধুনিক কালের অস্ত্র নিয়ে পাকিস্থানিদের প্রতিরোধ করা শুরু করেছে।

এই কি বাচ্চুর ইতিহাস বোধ? বয়সের ভারে তিনি কি ভীমরতিতে আক্রান্ত? নাকি আওয়ামি লিগ করলেই মিথ্যা বলা জায়েজ? নাকি তিনি সারা জাতিকেই হিন্দি আর ফেন্সিডিলে আচ্ছন্ন বলে মনে করেছেন?

ছবির অর্ধেক ধরে দেখানো হলো জীবন যাত্রা (ঢাকায়) স্বাভাবিক। লকজন দিব্য আসছে যাচ্ছে, রিক্সা গাড়ি বাস ঠিকই চলছে। নায়িকা দিব্যি ব্যাংকে যাচ্ছে আসছে কাজ করছে। আবার মুক্তিযোদ্ধাদের লজিকাল সাপোর্টও দিচ্ছে। ২১ শতকের ঢাকার মতই ইভটিজিং ও চলছে।

ধরে নিচ্ছি বাচ্চু ঢাকা থেকে সেই সময় দূরে ছিলেন। তাই বলে এখনও কিন্ত অন্তত লাখ খানেক মানুষ আছেন, যারা সেই কালো রাত আর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ের প্রত্যক্ষদর্শি। তাদের কাছ থেকে কি সে সময়ের বাস্তব অবস্থাটা তিনি জেনে নিতে পারতেন না?

আরো আসুন শহিদ আলতাফ মাহমুদের ঘরের চালচিত্রে। খাবারের টেবিলে বসে নিঃসংকোচে গিন্নি তার সন্তানদের আরেকটা মাছ দেই বলে আদিখ্যেতা দেখাচ্ছে। নাইয়িকা সেখানে আসলে তাকে খেয়ে যাবারও অনুরোধ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছিল যেন ঢাকার সব কিছু স্বাভাবিক। যেমনটি তখন পাকিস্থানিরা সর্বান্তকরনে প্রচার করায় লিপ্ত ছিল। আলতাফ মাহমুদ বেশ আয়েশ করেই গান গাচ্ছেন, খাচ্ছে ঘুমাচ্ছে, গান লিখছেন। যেখানে প্রতিটা বাঙ্গালির জীবন শংকার মধ্যে ছিল, যেখানে যে কোন মুহুর্তে আজরাইরুপি হায়েনা পাকিস্থানি সেনাদের আগমনের উৎকণ্ঠায় উদ্বিগ্ন থাকতো মানুষ (ব্যাতিক্রম শুধু পাকিদের দোসর) সেখানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক মহান সৈনিক আলতাফ মাহমুদকে ওভাবে উপস্থাপন করে বাচ্চু তাকে অপমানই করলেন।

শুধু মুক্তিযুদ্ধকে অপমান নয়, বাচ্চু বরং তার চলচিত্র সহযোগিদের চমৎকার মেধারও অপচয় ঘটালেন। বিশেষ করে চলচিত্রগ্রহন ো আবহ সঙ্গিত এক কথায় অপুর্ব।

শেরে বাংলা একবার বলেছিলেন যে, ওরা (কলিকাতার বুদ্ধিজীবি আর আনন্দবাজার ওয়ালারা) যদি আমার প্রশংসা করে তাহলে বুঝবে আমি তোমাদের স্বার্থের বিপক্ষ্যে কাজ করছি।

বিকৃত ইতিহাস সম্বিলিত গেরিলা চলচিত্র নিয়ে দাদাদের আনন্দ উচ্ছাস দেখে সে কথাটাই মনে পড়ে গেলো।

নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সরাসরি আওয়ামি লিগ না করলেও লিগের পক্ষ্যে একজন রাজনৈতিক কর্মি যা করে তার চেয়ে কম কিছু করেন না। অবশ্য সংস্কৃতি চর্চার আড়ালে থেকেই করেন।

২০০৭ সাথে সিলেকশনের নির্বাচনে ব্রুট মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামি লিগ এবার ইতিহাস পালটে দেবার মতলবে বিভিন্ন আক কসছে। আর সেই আকের অংশ হিসাবেই মতি / বাচ্চুকে দিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করার নিমিত্তে বানিয়েছে গেরিলা।

বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি। কোন সন্দেহ নেই। তাই বলে তিনি যেটা করেননি, কোনদিন দাবিও করেননি, আজ তার কন্যা আর তস্য চামুন্ডারা সে কথাই প্রচার করতে চাইছে।

তবে মতি বাচ্চু গং যদি মনে করে থাকে যে সারা বাংলাদেশের মানুষ হিন্দি আর ফেন্সিডিলের নেশায় আচ্ছন্ন তাহলে ভুল করবে। আর এ কারণেই ছবিটি অনেকে অনেক উৎসাহ নিয়ে দেখতে গেলেও আশাভঙ্গ হয়ে বিতৃষ্ণা নিয়ে ফেরত এসেছে। এক কথায় সুপার ফ্লপ।

আমাদের দুর্ভাগ্য যে শ্রেফ রাজনৈতিক আদর্শকে প্রচার করার নেশায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহকারি একজন বীর মুক্তিযদ্ধা মিথ্যাবাদির ভুমিকায় অবতীর্ন হয়ে দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29482432 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29482432 2011-11-13 14:47:18
সখি প্রগতিশীল কাহারে বলে? বিভ্রান্ত কিংবা আচ্ছন্নদের জন্য সহজ পাঠ্য।
যখনই আওয়ামিলিগ ক্ষমতায় এসেছে তখনই এরা লাই পেয়ে মগডালে উঠে বসেছে।

চলুন আগে কিছু প্রগতিশীলদের কর্মকান্ড দেখে আসি।

সৈয়দ হাসান ইমামঃ ইনি ভারত থেকে বিতাড়িত একজন রিফিউজি। স্বাধীনতার পর ইনাকে অহঃনিশি ইন্ডিয়ান এমব্যাসিতে পড়ে থাকতে দেখা যেতো। কথায় বলে ইন্ডিয়ানদের দেশপ্রেম নাকি কিংবদন্তি তুল্য। তাই বিতাড়িত হয়েও তার ইন্ডিয়া প্রীতি শেষ হয় না। যখনই আওয়ামি লিগ ক্ষমতার বাইরে তখনই তিনিও নিরুদ্দেশ। ভারতের প্রতি তার একনিস্ট ভক্তি দেখে, বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা সাধারণ মানুষ তাকে ঢাকায় একবার ধাওয়া দিয়েছিল। সেই ধাওয়া খেয়ে তার সৌম্য চেহারাটা আর দেখতে পাওয়া যায়নি। ইতিহাস বিকৃতিতে ভয়ংকর রকমের পারদর্শি এই লোক। কোলকাতাইয়া উচ্চারণে মিস্টি মিস্টি কথায় তিনি লোক ভুলাতে পছন্দ করেন। তার আয়ের উৎস অজ্ঞাত। অথচ ছেলেকে পড়াচ্ছেন আমেরিকার নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘাদানিকের আড়ালে ভারতের স্বার্থউদ্ধারে বেশ তৎপর ইনি।

কবির চৌধুরিঃ জাতিয় অধ্যাপক তকমা এটে তিনি এখন চেতনাধারি তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের সর্দার। অথচ ১৯৭১ শালে তিনি এবং তার গুষ্ঠি পাকিদের তাবেদারিতে নিয়োজিত ছিলেন। তার এক ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে শহীদ মুনির চৌধুরিকে পাকি হানাদার আর মুক্তিযোদ্ধা দুই পক্ষই সন্দেহের চোখে দেখতো। (একথা বি বি সি বাংলায় এক সাক্ষাতকারে কবির চৌধুরি পত্নি লিলি চৌধুরি বেশ দুঃখের সাথেই বলেছেন)।

আজ এই কবির চৌধুরি নিজেকে শুধু প্রগতিশীল নয় বরং স্বাধীনতার সোল এজেন্ট বলে দাবি করে। আর পরাকাষ্ঠা দেখাতে একটি বিশেষ ধর্মের ধর্মীয় আচরণকেই সার্বজনিন বাঙ্গালিত্ব বলে জাহির করে। এর বিরোধীতা কারিদের এক বাক্য রাজাকার,পাকিস্থানিপন্থি ইত্যাদি নানা রকম বিশেষন দিয়ে অপবাদ দেবার চেস্টা করে।

শাহরিয়ার কবিরঃ ইনি শহীদ বুদ্ধিজীবি শহিদুল্লা কায়সারের চাচাতো ভাই। যতদিন শহিদুল্লা কায়সাররা জীবিত ছিলেন, ইনি পাত্তা পাননি। তবে ইদানিং শোনা যাচ্ছে কবির নাকি মুক্তিযোদ্ধা ! তবে এই দাবি করেছে শুধু ভারত বাংলাদেশ মৈত্রি সমিতির প্রেসিডেন্ট এবং চরম বাংলাদেশ ও ইসলাম বিরোধী ওয়েব সাইট মুক্তমনার প্রধান অজয় রায়।

বাম রাজনীতির ভড়ং ধরা এই প্রাণিটি স্বাধীনতার পর পর বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর সমর্থকদের মধ্যে ছিল। গিরিঙ্গি গুণ টুকু ছিল বলেই সে যাত্রায় তার পিঠের ছাল কেউ তুলেনি। আবার বঙ্গবন্ধুর পতনের পর সে জিয়া প্রশাসনে বেশ তেল মেখে ম্যাট্রিক পাশ হলেও বিচিত্রার সম্পাদকের পদে আসীন হয়। সে থেকেই মিডিয়াতে তার জয়যাত্রা। তবে ঝোপ বুঝে কোপ মেরে ঘাদানিকে যোগ দিয়ে সে আওয়ামি লিগের বি টিমে এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বি এন পি এর সমালোচনার অজুহাতে বহিঃবিশ্বে সে গোটা বাংলাদেশকেই একটি মৌলবাদি রাস্ট্র বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল। এই পথে তার সঙ্গি ছিল অজয় রায়, মিনা ফারাহ, সুনিল পাল, মায়ের ডাক, হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর মাইনরিটিস অফ বাংলাদেশ নামের ভারতীয় বি যে পির সমর্থনপুস্ট একদল বাংলাদেশ বিরোধী গোষ্ঠি। তবে পিঠ বাচাতে সে প্রচার করে যে, তার বিরোধীতাকারিদের সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদি রাজাকার গোষ্ঠি।


মতিউর রহমান (সম্পাদক-প্রথম আলো)ঃ এককালের বাম পুরো ডিগবাজি খেয়ে এখন রীতিমত পুজিবাদের পুজারি। হলুদ সাংবাদিকতা কত্ত প্রকার ও কি কি কেউ যেন তাকে দেখে শিখে। আর ভারতের প্রতি তার ভক্তির তুলনা করা যায় একমাত্র জামাতের পাকিস্থান প্রীতির সাথে। জাতির দুর্ভাগ্য, ইনিও নিজেকে প্রগতিশীল বলে দাবি করতে পারেন।

সুলতানা কামালঃ গত জোট সরকারের আমলে যখন র‍্যাব সন্ত্রাসিদের মেরে সাফ করছিল, তখন মানবতার দোহাই পেড়ে তিনি অনেক নর্তন কুদন করেছেন। তার খুটির জোর হচ্ছে বিদেশ থেকে আসা পয়সা কড়ি। যেটি তিনি নিজেও বি বি সি বাংলার সাথে সাক্ষাতকারে স্বীকার করেছেন। আর পশ্চিমাদের সুতার টানে নৃত্য করে, তিনি প্রকাশ্যেই পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসি বিচ্ছিন্নাবাদিদের পক্ষ্যে ওকালতি করে যাচ্ছেন। হায় এহেন দেশদ্রোহিও আজকাল সুশিল চেতনাধারিদের অন্তর্ভুক্ত।

ড: জাফর ইকবালঃ ইনাকে নতুন করে চিনিয়ে দেবার কিছু নেই। ব্লগেই শুনলাম ইনাকে নিয়ে বেশ হাঙ্গামা হচ্ছে। তিনিও সুলতানা কামালদের সাথে মিলে পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসি বিচ্ছিন্নাবাদিদের পক্ষ্যে ওকালতি করে যাচ্ছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে টগবগে তরুণ হয়েও যুদ্ধে যাননি। ঠিক আছে। সবার পৌরষত্ব থাকে না। তাই বলে বিচ্ছিন্নতাবাদের পক্ষ্যে কথা বলেও, স্বাধীনতার স্বপক্ষ্যের শক্তি বলে নিজেকে দাবি করেন কি করে? খালি জামাতের বিপক্ষ্যে বললেই যদি সেলেব্রেটি চেতনাধারি হওয়ার যোগ্য হওয়া যায় তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেটা দাবি করতে পারে। গোদের উপর বিষ ফোড়ার মত তিনি নতুন করে ইসলাম বিদ্বেষি কথা বার্তা শুরু করেছেন। তিনি এতটাই উগ্র ইসলাম বিদ্বেষি যে, বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধেয় আওলিয়া হযরত শাহজালাল (রঃ) এবং তার সঙ্গি সাথীদের নামে শাহজালাল প্রযুক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলির নামকরনের বিরোধীতা করেছিলেন। ইদানিং মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্রদের ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহনের প্রতিও রয়েছে তার ভয়াবহ এলার্জি।

তার ব্যাক্তিগত এবং পারিবাহিক জীবণ অনিয়ন্ত্রিত। বাংলা বাংলা করে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও তিনি তার স্নেহের ছাত্র ছাত্রিদের হিন্দি সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাবার পরমর্শ দিতে পারেন না। উল্ট উৎসাহ দেন। আর আওয়ামি লিগ ক্ষমতাইয় যাবার সাথে সাথেই তিনি দেশের স্বার্থ নিয়ে লেখালেখির কলমটা পকেটে পুরে ফেলেন। ভাবখানা এমন যে হুম সব কিছু ঠিক আছে।

এ রকম অনেকজনই আছে। যাদের মিডিয়া লেখালেখি আর সাংস্কৃতিক জগতে রয়েছে সদর্প বিচরণ।

এদের কর্মকান্ড দেখে নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্তে আসা কি খুবই অসমীচিন?

এরা প্রত্যেকেই নিজেদের স্বাধীনতার স্বপক্ষ্যের শক্তি হিসাবে দাবি করে। যদিও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদের ভুমিকা ধোয়াশে, রহস্যজনক কিংবা অস্পস্ট। তবে এরা খুন দৃস্টিকটু ভাবেই আওয়ামি লিগের পক্ষ্যে লেখালেখি করে থাকে।

এরা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বলেও দাবি করে। কিন্তু বাংলাদেশের সিংহ ভাগ লোকের ধর্ম নিয়ে এদের ভয়াবহ রকমের এলার্জি আছে। আর সেই এলার্জি সংক্রমন করার জন্য এরা ইসলাম ধর্ম পালনকারি মাত্রই উগ্রপন্থি সাম্প্রদায়িক তালেবান জঙ্গি ইত্যাদি বলতে ছাড়ে না। নিজেদের ধর্ম পালনের বালাই না থাকলেও, প্রতিবেশি ধর্মের আচারকে গদগদ ভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎসাহ প্রদানে ইনাদের কোন আপত্তি নেই।

জাতিয় বিবেক সেজে বসে থাকলেও, এরা গত ৪০ বছর ধরে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করে না। মাঝে মাঝে চাপে পড়ে খানিকটা ম্যা ম্যা করে বটে, তবেঁ সেটা যে লোক দেখানো এটা বুঝার জন্য সাধারণ বোধ বুদ্ধিই যথেষ্ঠ।

এরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যাবসা করে প্রত্যেকেই বেশ বিত্তশালি। অন্তত উচ্চ মধ্যবিত্তয়। অথচ এদের আয়ের উৎস কি, কত টাকা আয়কর দেন, সে ব্যাপারে আম জনতার কোন কিছু জানা নেই।

এদের যে কারো বিরোধীতা করা মাত্রই (সাথে আওয়ামি লিগ কিংবা ভারতের) এরা হিংস্র হায়েনার মত সর্বশক্তি দিয়ে বিরোধী মতকে দমন করার চেস্টা করবে। শক্তি দিয়ে না পারলে কুৎসা আর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নায়ককেও খল নায়ক বানিয়ে দেবে।

এরা প্রত্যেকেই আওয়ামি চাটুকার। তবেঁ কোন দিন আওয়ামি লিগে যোগ দেবে না। প্রকাশ্যে রাজনীতিও করবে না। সব সময়ে নেপথ্যে থেকে গুটি চালবে।

এদের প্রত্যেকের সাথে ভারতের সুমধুর সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশের হাজারো ক্ষতি হোক, এরা সেদিক নিয়ে একটি বাক্যও উচ্চারণ করবে না। উলটো ভারত বিরোধীতাকে একটি পাকিস্থানি ষড়যন্ত্র বলে প্রচার করবে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, আমাদের দেশে প্রগতিশীল নামের সুশীলরা আসলে একটি ভারতীয় বংশদবত, বাংলাদেশ বিরোধী, চরম ইসলাম বিদ্বেষি একদল আওয়ামি চাটুকার। তাই প্রগতিশীল পরিচয়ে কেউ দিলেই তাকে সন্দেহের দৃস্টি দেখাই শ্রেয়। এবং তাদের মুখ দিয়ে যত মধুর বাণীই বর্ষিত হোক না কেন, সেগুলিকে ভাল করে পর্যালোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা।

জানি, এ ধরণের লোকেরা কিছু কিছু ব্লগেও বিচরণ করছে। একটি ব্লগে এরা তো রীতিমত স্বর্গ সুখে আছে। তাই যে সব সতর্কতা মুলক পদক্ষেপ ওই চেতবাধারিদের বিরুদ্ধে নেবার কথা বললাম, একই কথা ব্লগিয় প্রগতশীলদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর ওরা খুব বেশি বাড়াবাড়িতে নামলে আপনিও কেন হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন?

দেশদ্রোহি আর ঘৃণাবাদিদের যেখানেই পাবেন প্রতিরোধ করুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29479675 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29479675 2011-11-08 12:00:56
খালেদা জিয়াকে যে কথাগুলি স্পস্ট করতে হবে।
যাই হোক, আওয়ামি নামা লিখতে গেলে মহাভারত লেখা হয়ে যাবে। তাই সেই প্রসঙ্গ বাদ।

ইতিমধ্যেই যখন আওয়ামি প্রতারণা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে, তাই বঞ্চিত মানুষগুলি আজ বি এন পির দিকে ঝুকছে। কি করার? আমাদের এতই দুর্ভাগ্য যে আওয়ামি বি এন পির বাইরে কোন দিকে যাবার যোগাড় নেই। ঘুরে ফিরে এই দুই দলই।

আওয়ামি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনমানুষের এই ক্ষোভকে পুজি করে এখন বি এন পি রোড শো করছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষও জড়ো হচ্ছে। সেখানে খালেদা জিয়া যা বলছেন, সেগুলি নতূন কোন কথা নয়। মানুষ সেগুলি ইতিমধ্যে জানে বলেইতার দিকে ধাবিত।

কিন্তু জানা কথাগুলির পুনরাবৃত্তি করলেই কিন্ত সমস্যার সমাধান হবে না। তাই কিছু কথা খালেদা জিয়াকে স্পস্ট করতেই হবে।

ভারতকে করিডোর প্রদানঃ

একথা প্রমানিত হয়েছে যে, ভারত নামের প্রভুর অর্থ এবং বুদ্ধির জোগান পেয়েই আঃ লিগ ক্ষমতায় এসেছে। কারণ একের পর এক যেভাবে ভারতের স্বার্থদ্ধারে যেভাবে আঃ লিগ পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটা এক মাত্র ভারতের অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রিরই শোভা পায়।

এর বিপরীতে খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে ঘোষনা করতে হবে যে, তিনি ক্ষমতায় গেলে ভারতের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি তিনি বাতিল করবেন। নতুবা তার এই বিরোধিতা শুধু বিরোধীতার খাতিরেই করা হয়েছে বলে গ্ণ্য হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারঃ

নামে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুনাল হলেও, দেশের বেকার এবং ফেল্টু টাইপের কিছু আওয়ামি বটতলার উকিল দিয়ে যেভাবে যেন তেন করে তদন্ত এবং বিচার কাজ চলছে, তাতে নিজেদের স্বাধীনতার সোল এজেন্ট প্রমানের হাস্যকর প্রচেস্টা ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না।

খালেদা জিয়াকে স্পস্ট করে বলতে হবে যে তিনি ক্ষমতায় গেলে রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের কোন রকম আস্কারা দেয়া তো দুরের কথা, বরং সর্বজন গ্রাহ্য শক্তিশালি এবং মেধাবি আইনজীবিদের দিয়ে এই বিচার শুরু এবং শেষ করবেন। এটা যে শুধু সাধারণ মানুষের দাবি তাই নয়, বরং রাজনৈতিক দিক দিয়েও এটা গুরুত্বপুর্ণ। এই বিচার কাজ শেষ হলে, আওয়ামি লিগের রাজনীতি করার ইস্যুর একটা প্রধান মাধ্যম শেষ হয়ে যাবে।


পানি চুক্তিঃ

ভারত তথাকথিত পানি চুক্তি করে বছরের পর বছর বিভিন্ন নাটক করে চলেছে। এর অবসান ঘটাতে হবে। খালেদাকে স্পস্ট করে বলতে হবে যে তিনি ক্ষমতায় গেলে সরাসরি এই ইস্যুটি জাতিসংঘে তুলবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অজুহাতে ভারত অনেক টালবাহান করেছে। আর টালবাহার সুযোগ নেই। এমনিতে আমাদের পানি এবং পানি সম্পদ আশংকজনকভাবে কমে গিয়েছে। তাই সময় থাকতেই এই বিশঅয়ে সুরাহা হওয়া দরকার।

দেশদ্রোহিদের বিচার এবং ফায়ারিং স্কোয়াডঃ

বর্তমান প্রধানমন্ত্রির উপদেস্টারা বিশেষ করে এইচ টি ইমাম, গওহর রিজভি এবং মশিয়ুর রহমান যেভাবে প্রকাশ্যে ভাররের সেবাদাসের ভুমিকায় অবতীর্ন, সেটা এক মাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধকালিন সময়ে গোলাম আযম নিযামিদের কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়। এধরনের বিপদজনক দেশদ্রোহিদের বিচারের কাঠগড়ায় দার করিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ঘোষনা শুনতে চাই খালেদা জিয়ার কণ্ঠে। সাথে যুগে যুগে আওয়ামি সন্ত্রাসের কারণে নিহত হজ্র হাজার মানুষের প্রাণ ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্যও আওয়ামি নেতাদের বিচার করার ঘোষনা আসতে হবে। বিডিয়ার বিদ্রোহের সময়ে সামনে পেছনে ইন্ধনদাতাদের পরিণতিও দেশদ্রোহিদের সমান হওয়াটাই উপযুক্ত বলে মনে করছি।


যদি খালেদা জিয়া বিবেকের কাছে পরিস্কার হন, তাহলে দেশবাসির এই সামান্য কিছু চাওয়া পাওয়াকে তিনি অবশ্যই সম্মান দেখাবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29474728 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29474728 2011-10-30 01:47:32
কাজ নেই তাই খই ভাজো...আপনি কি উত্তর না দক্ষিণ?


হঠাৎ এ রকম বেমাক্কা প্রশ্নে সকালের চা টা বিস্বাদ মনে হতে পারে। কি আজব প্রশ্ন রে বাবা। উত্তর দক্ষিণ আবার কি? বিশ্বরাজনীতিতে দক্ষিণপন্থি বলে একটা কথা আছে বটে। কিন্তু উত্তরপন্থি নেই। তাই রাজনৈতিক দৃস্টিকোণ থেকে প্রশ্নটা মুল্যায়ন করা যায় না।

কাজ নেই তাই খই ভাজার শখের মত লেখাটা লিখছি, এমনটি ভাবারও কারণ নেই। তবে প্রশ্ন কেন?




খবরটা শুনুন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর এলাকা দু ভাগ করে উত্তর দক্ষিণ করে দেয়া হয়েছে।

মানুষ বাড়ার সাথে সাথে শহরের পরিধির সাথে মিল রেখে কর্পোরেশনের সীমানাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু লোকবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। তাই নাগরিক সুবিধা বলতে যা বুঝায় সেটি সোনার পাথর বাটি হয়েই রয়েছে।

আর বাংলাদেশে কোন রকমে ক্ষমতায় যাওয়া মানেই তো হলো সরকারি মাল পকেটে ঢাল এর মহোৎসব। তাই নগর পিতা থেকে শুরু করে পুত্র তস্য পুত্র নাতি পুতি ধুতি এমনকি রক্ষিতা পুত্ররাও যেভাবে খাওয়া দাওয়ায় শুরু করে, তাতে রুপকথার রাক্ষস খোক্কসদের একেবারে বাস্তব চিত্র খুজে পাওয়া সম্ভব।

হা মানলাম সে সব কথা। তা সর্ষের ভেতর ভুত রেখে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর অজুহাতে শহরকে দু ভাগ করার যৌক্তিকতা কোথায়? দুর্ণীতির বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষনা করে হাসিনা সরকার, এক শেয়ার বাজারেই যেভাবে বাজিমাৎ করলো, তাতে তো চোরের মার বড় গলার চেয়ে ভালো কিছু শুনালো না।




তাদেরই মুখে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য শহর ভাগের এই পরিকল্পনা কি বিশ্বাস করা যায়? যেত যদি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ১০ টাকা সের চালের ব্যাপারে প্রতিশ্রতিটা অন্তত রক্ষা করার চেস্টা করতো।

কেমনি কি? উলটো তারা প্রতিশ্রুতিটাই যে অস্বীকার করে বসলো। এখন নেড়া ক বার বেল তলায় যাবে যে সরল বিশ্বাসে তাদের কথা মেনে নেবো?

হাসিনা সমর্থিত তথাকথিত তত্ত্ববধায়ক সরকার বিগত নির্বাচনে ধানমন্ডিকেও দু ভাগ করে দিয়েছিল। সেখান থেকে "নির্বাচিত" হলেন কারা? ঠান্ডা মাথার খুনি নানক আর বাংলাদেশের জঘন্যতম ক্রিমিনাল ফজলুল হক মণি পুত্র আরেক ক্রিমিনাল তাপস।

শোনা কথা। ধানমন্ডির এই আসনের প্রতি ওই দুই ক্রিমিনালেরই চোখ ছিল। তাই ধানমন্ডি ভাগ করে দু জনের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হয়েছিল। ফলাফল? এক পাশ থেকে নানক খাচ্ছে আরেক পাশে তাপস।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রি হবার সুযোগে অন্যান্য খাত থেকে খাওয়া দাওয়ার বিশাল সুবিধা পাওয়ায় নানক আপাতত চুপ। কিন্ত তাপসের কি হবে? ঐ দিকে ঢাকার আদিবাসি ভোট, মীর্জা আব্বাসের হাত ধরে বি এন পিতে চলে যাবে, সেটা আটকাতে সাবেক মেয়র মোঃ হানিফ পুত্র সাইদ খোকনকেও দরকার।



তাই ঢাকা শহরকেও এই দুজনের মধ্যে ভাগ করার চিন্তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। এক ভাগ তাপসের এক ভাগ খোকনের। নিজেরাও খাবে, বি এন পিরও ব্যাবস্থা করা যাবে। উইন উইন সিচুয়েশন।

দেশের কি সমস্যার আকাল পড়েছে? সে ব্যাপারে মাথা ব্যাথা নেই সরকারের । তাছাড়া চোর ছ্যাচর দুর্নীতিবাজদের আখরা যে সিটি কর্পোরেশন, তাদের সেখানে বহাল রেখে শহর কে দু ভাগ কেন, ১০০ ভাগ করলেও নাগরিক সুবিধা বলতে যা বুঝায় তা কোনদিনও পাওয়া সম্ভব না।

যারা দেশ চালান, তারা আমাদের মত আম জনতার চেয়ে ঢের বেশি বুঝেন। তা এই সত্যটা বুঝেন না, সেটি বিশ্বাসযোগ্য না। সারা দেশ থেকেই যখন লুটে পুটে খাচ্ছে হাসিনা গং, এখন ক্ষমতার পড়ন্ত বেলায় খাই বেড়ে যাওয়াতে এই রকম সিদ্ধান্ত। খোকা বি এন পির হয়ে খাবে আর আওয়ামিরা ভরপেটে আরো কিছু খেতে পারবে না, সেই হিংসা তো হাসিনার মনে অবশ্যই আছে।

হাসিনার যে রকম দাদাপ্রেম, তাতে অবশ্য আরেকটা সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। কলিকাতায় উত্তর দক্ষিণ আছে। তাই ঢাকাকেও উত্তর দক্ষিণ না করা গেলে দাদাদের সঠিক অনুসরণ সম্ভব না। সেকারণেও এই রকম খই ভাজার কর্ম করে থাকতে পারে হাসিনা।



এই তত্ত্বের বিরোধীতাকারিদের শুধু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, নির্বাচনে সিলেক্টেড হয়ে খুশিতে গদগদ হাসিনা প্রথমে তার প্রণব দাদা বাবুকে ফোন করে জানিয়েছিলেন। এ রকম কর্মের উদাহারণ সেই ১৭৫৭ সালে মীর জাফর নবাব হবার পরেই দেখা গিয়েছিল।

আবার তিস্তার পানি নিয়ে মমতা দিদি লোক দেখানো সস্তা বিরোধিতা করার পরেও টন টন ইলিশ আর কত কি পাঠাতে হাসিনা কার্পণ্য করেনি। এই সব সেবাদাগিরির চাক্ষুষ প্রমান। আর এই মত ও পথের মানুষদের ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল নয়।

এমনিতে তো ছোট খাট বিষয়ে আমাদের অনৈক্যের ছড়াছড়ি। এখন এই উত্তর দক্ষিণ নিয়েও যে বৈষম্য আর ক্যাচাল সৃস্টি হবে না সে দিব্যি কেউ দিতে পারবে না। আর সেই ফাকতালে নেপোয় দই মেরে যাবে। তাতে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন দেশের অস্তিস্ত্ব থাকুক কিংবা নাইই থাকুক।

সেই সুদুর প্রসারি চানক্য বুদ্ধির ইশারা পেয়েই যে তাপস আর খোকনের মধ্যে ঢাকা বাটওয়ারা করার ষড়যন্ত্র, সেটা রুখতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন প্রয়োজন। কারণ এই সব কাজ ভারতপন্থি ঝুটিবাধা বামদের কাজ নয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29468301 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29468301 2011-10-18 05:04:52
উন্নত মমশির আজ মরুভুমির পথে লুটায়।


৭০০ খ্রীষ্টাব্দের শুরু দিকে ভারতবর্ষে আরবরা ব্যাবসা বাণিজ্য শুরু করেছিল। তেলের কারণে তৈলাক্ত হবার আগ পর্যন্ত সেটি চালু ছিল।

হাজার অত্যাচার নির্যাতনের পরেও সোনার বাংলা সোনার না থাকলেও, এই বাংলাদেশেই হজ্জ্বযাত্রি যোগাড় এবং ধর্মিয় সাম্রগি( টুপি, খেজুর, তসবিহ, জায়নামাজ) ইত্যাদি বেচাকেনা করাটাই ছিল আরবদের উপর্যানের একটি প্রধান উৎস। সেটা ভারত ভাগ হবার বেস কিছুদিন আগেরকার কথা।

যতদুর শুনেছি, এমন কি সিরাজুদ্দৌলার আমল পর্যন্তও নাকি শাহি খাজানার পয়সায় আরবে লঙ্গরখানা চলতো। গরিব আরবরা খেয়ে বাঁচতো।




ক্ষমতার হাত বদলের ধারাবাহিকতায় আরব, তুর্কি সামাজ্য থেকে বৃটিশদের হাতে পড়লেও ভাগ্য পরিবর্তন হতে অনেক অনেকদিন সময় লেগেছিল।

আরবে তেলের আবিস্কার ছিল ইউরোপীয় যান্ত্রিক সভ্যতার সাথে মণিকাঞ্চন যোগ। বর্তমান সময়ে বসে আগামি কয়েশ বছরের ছক কাটার সামর্থ্য থেকেই বৃটিশরা দিব্যি বুঝতে পেরেছিল, আরব এক সময় তাদের ক্ষমতা এবং সামর্থ্যের প্রাণভোমরা। তাই সুকৌশলে একে এমনভাবে ভাগ ভাগ করে দিয়েছিল, যাতে আরবরা কোনদিন একতাবদ্ধ না হতে পারে। চাই কি নিজেদের মধ্যেও যেঁ সবসময় ঝগড়া বিবাদে মত্ত থাকে।

আধুনিক সময়ের ইরাক কুয়েত যুদ্ধ নতুন কিছু ছিল না। বরং শত বছরের আগে বোনা বৈষম্যের যে বীজ বৃটিশরা বুনেছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ। আজ আরবে যে রাজতন্ত্রের উদ্ভব (স্বৈরশাসকও যোগ করতে পারেন) তার সৃস্টিকর্তা আর কেউ নয়, বৃটিশরা।

এই স্বঘোষিত রাজতন্ত্রে কর্তারা তাদের দেশ এমনভাবে পরিচালনা করে, যেখানে ইঙ্গ মার্কিন সামাজ্যবাদিদের স্বার্থ ১০০ ভাগ সমুন্নত থাকে। এবং শাসন পরিচালনায় এমন আইন কানুন বলবত করা, যা বাহ্যত "ইসলামি" আইন হলেও এর প্রয়োগ করার ব্যাপারে সাংঘাতিক বৈষম্য করে থাকে। ধরুণ রাজ পরিবারের সদস্যরা কিংবা সরকারের মধ্যে থাকা প্রভাবশালিরা এই আইনের প্রয়োগের বাইরে থাকে। (উদাহারণ, রাজ পরিবারের সদস্যদের শুধু ব্যাভিচারের হিসাব করলে এমনকি অনেক প্রাক্তন সৌদি বাদশাও ইসলামি আইনে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে পারতেন। বাকি সব অনিসলামি কার্যকলাপের কথা বাদই দিলাম।)

তাছাড়া রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোন রকম প্রতিবাদ কিংবা বিরোধীতাকে ইনারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করে থাকে। এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল মনে হয় ৮০ এর দশকে, যেখানে মার্কিন বাহিনীর সমর্থন নিয়ে শত শত বিদ্রোহির কল্লা কাটা হয়েছিল। তাছাড়া সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানে আসলে কি ঘটছে, সেটি বাইরে প্রকাশ হবার জো নেই।

অবশ্য অঢেল সম্পদ আর খুব স্বল্প জনসংখ্যার কারণে সেখানে অন্তত অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে তেমন উচ্চবাচ্য করে না।




বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে বিদ্রোহি কবি কাজী নজরল ইসলামের উন্নত মম শিরের মন্ত্রে উদ্বেলিত এক সময় যে বাঙ্গালিরা বৃটিশ থেকে শুরু করে পাকিস্থানিদের ঝেটিয়ে বিদায় করেছিল, স্বাধীনতার পর যতই সময় যাচ্ছে, তাদের শৌর্য বীর্য ততই লোপ পাচ্ছে।

স্বাধীনত্তোর বাংলাদেশে যেখানে দুর্ণীতিমুক্ত একটি সরকার পারতো দেশের অর্থনীতিকে একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাড় করিয়ে দিতে পারতো, সেখানে বিপরীত স্রোতে চলে আজ এমন অবস্থা হয়েছে যে, শৌর্যবীর্যের সাথে সাথে আত্মসম্মানবোধটুকুও জাতিয়ভাবে হারিয়ে গিয়েছে।

নইলে যেখানে আমরা নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিতে পেরেছি, সেখানে স্বাধীনতার পর একই ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকারি বিশাল জনগোষ্ঠি সেখানে রাজনৈতিক আদর্শের নামে শতভাগে ভাগ হয়ে রয়েছি।

ফলে অসৎ রা প্রভাবশালি হয়েছে। ফলাফল? স্বার্থপরতা, বিশাল সম্পদের অসম বন্টন, সন্ত্রাসিদের উত্থান, কয়েক পরিবারের মাধ্যমে প্রিয় দেশের ধর্ষন ইত্যাদি কারণে সোনার বাংলাদেশ শশ্মানে পরিণত হয়েছে।

অর্থনৈতিক এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই, শিক্ষাবঞ্চিত, অভাবের তাড়নায় নুজ্বপ্রায় দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠিকে প্রবাসি হতে বাধ্য করেছে।

না। সেই দেশত্যাগ ছিল কাঁটা বিছানো পথে পা রক্তাক্ত করা। বেচে থাকার সব সম্বল বিক্রি করে আদম ব্যাপারিদের হাতে তুলে দিয়ে শ্যামল বাংলার আলো হাওয়া ছেড়ে মরুভিমির পথে মানবেতর পরিবেশে মাত্র কয়েক হাজার টাকার জন্য হাজার হাজার বঙ্গ সন্তান আজ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসি।

যাদের রক্ত ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় আজ আমাদের অর্থনীতি খানিকটা সুস্থতার মুখ দেখছে, তাদের জন্য আমি কি করছি? এয়ারপোর্টে কুকুর বিড়ালের মত ব্যাবহার আর সমাজে মফিজ ইত্যাদি কুবিশেষনে বিশেষিত করে "যোগ্য" প্রতিদানই দিচ্ছি।

দস্যুতা এবং হত্যার অভিযোগে ৮ জন বাংলাদেশির শিরোচ্ছেদ করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্লগে পক্ষ্যে বিপক্ষ্যে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপি কর্মি হিসাবে বাংলাদেশিরা প্রচুর সুনাম অর্জন করেছে। সেই সুনামের অধিকারিরা কেন দস্যুতা এবং হত্যার মত জঘণ্য কর্মে নিয়োজিত হলো সেই প্রশ্নটি কেউ করেছেন কি?

দেশ থেকে অনেক দূরে বিশেষ করে যেখানে চুরি করলে হাত কাটার বিধান রয়েছে, এবং অপরাধ করে পার পাবার উপায় নেই, সেখানে কোন দুঃসাহসে এতগুলি বাংলাদেশি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়লো?

প্রথম প্রথম যখন সৌদি আরবে লোক নেয়া শুরু হয়েছিল তখন তাদের বেতন অনেক বেশি ছিল। দিন দিন আরবরা সেই বেতন একদিকে যেমন কমিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে অত্যচার আর নিপীড়নের মাত্রাটাও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কেন হঠাৎ এই মানসিকতার বদল?

উত্তরটা পেয়েছি সৌদি আরবে এক সময় প্রবাসি আমার এক ঘনিষ্ট আত্মিয়র সুবাদে। তার ভাষ্য মতে আমাদের দেশের আদম ব্যাপারিরা নিজেদের ব্যাবসার খাতিরে, শ্রমিকের বেতন নিয়ে প্রতিযোগিতা করতো। একজন শ্রমিক প্রতি একজন বেপারি যদি ১০০ টাকা বলতো, আরেক আদম বেপারি সেখানে দর বলতো ৮০ টাকা। এভাবেই নিজেদের কামড়া কামড়িতে সৌদিদের কাছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মুল্যমানের সাথে সাথে মর্যাদাটাও ভুলন্ঠনিত হয়েছে।

যে দেশের মানুষরাই এই শ্রমিকদের দুই পয়সা দাম দেয় না, সেখানে সৌদি বা অন্যদের কি দায় পড়েছে বলুন?

সহায় সম্বল বিক্রি করে অল্প বেতনে এই শ্রমিকরা যখন আরবে গিয়ে আশাভঙ্গ, নির্যাতন নিপীড়ন আর বৈষম্যের শিকার হয়, তখন তার ভেতরে কি ক্রোধ জন্ম নেয়াটাই কি স্বাভাবিক নয়।

আর সেই ক্রোধের আগুণে স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি লোপ পাওয়ার কারণেই তারা এই বিপদজনক বিপথে পা বাড়িয়েছিলেন, সন্দেহ কি?

যে দেশের যা আইন সেটাকে মেনে নেয়া ছাড়া আমাদের দেশের মত গরিব দেশের উপায় কি? আজ যদি আমেরিকা বা ইউরোপীয় কোন দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিযোগ আসতো, আমি নিশ্চিত এই আইনের ফাক ফোকর গলিয়ে ঠিকই তারা বের হয়ে যেতো।

আমাদের না আছে অর্থ শক্তি, না প্রভাব না অন্যকিছু। এহেন দুর্বল শক্তির একটি দেশের নাগরিক অন্য দেশের আইন ভঙ্গ করে পার পেয়ে যাবে, সেটি ভাবাটা অবিবেচনার কাজ হবে।

আজ আমরা ৮ জন উন্নত মমশিরের মরু ধুলায় ভুলন্ঠনে ক্রোধান্বিত, দুঃখিত, বিষাদগ্রস্থ। অনেকে ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া খাওয়া নিয়োজিত। তখন আমরা কেন এই ক্রোধ আর শোককে শক্তিকে পরিণত করে নিজেদের আগে অর্থনীতিতে শক্তিশালি করি না কেন? বিশ্ব শক্তিশালিদের নমস্য জ্ঞান করে, দুর্বলকে নয়। আর এই শক্তি বাক শক্তি না, কর্মের শক্তি হওয়াই কাম্য।


সেই শক্তি অর্জন না করা পর্যন্ত এক সময় আমাদের দান খয়রাতের পয়সায় প্রাণে বেচে থাকা আরবেরা তেলের পয়সার গরমে আমাদেরকে দাসানুদাসই গণ্য করে থাকবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29462681 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29462681 2011-10-09 12:05:09
আন্দোলন করে রথি মহারথি, ধরা পড়ে চুনোপুটি... নতুন করে কিছু পুরানো কথা।
সামু মুক্তচর্চার মঞ্চ হিসাবে আবির্ভুত হলেও, কিছু ভুতের কারনে এটা যে এক বিশেষ গোষ্ঠির মুখপাত্র হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে, সে ব্যাপারে একেবারে নতুনদের সন্দেহ থাকলেও কিছুটা পুরানো যারা তাদের মধ্যেও নেই।

তারই ধারাবাহিকতায় দেখা গেলো, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতৃত্বে জবি নিয়ে যে আন্দোলন, সেখানে ব্লগার একটিভিস্ট ফোরাম নামে একটা সদ্য গজানো ব্যানার থেকে সেখানে সমর্থন দিতে গিয়ে এক চুনোপুটি ডিবির খপ্পরে পড়লো।

জবি নিয়ে যে ইস্যু, তাতে সম্পৃত্ততা প্রয়োজন ছিল সর্বসস্তরের মানুষের। এবং দলীয় আদর্শের বিবেচনার উবর্ধে থেকে প্রতিটা ছাত্র সংগঠনের এগিয়ে আগা উচিত ছিল। এর পরেও বামপন্থি যে ছাত্র সংগঠনটি এগিয়ে এসেছে, তাতে সমর্থন না দেয়াটা আমার চোখে অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

এমনিতে তো রা-বির ভিসির বক্তব্য অনুযায়ি গরিব মানুষের উচ্চশিক্ষার দরকার নেই। যদিও তিনি নিজে কৃষকের সন্তান। এর পরে যদি আবার বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ৩ হাজার টাকার টিউশন ফি ২০ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশের সিংহ ভাগ মানুষের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার দ্বার চিরিতরে রুদ্ধ হয়ে যাবে। এতে কার লাভ হবে জানি না, তবে দেশের ক্ষতি হবে সেটা মানি।

জবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই অনেক ছাত্রকেই জেলে পুরে পুলিশি আদর করা হচ্ছে। জামিন হবে কি না সন্দেহ। এই সব জেনে শুনে হঠাৎ অনলাইন ব্লগার ফোরাম কোন উদ্দেশ্যে ঝাপিয়ে পড়লো, সেই প্রশ্ন উদয় হয় বৈ কি !

প্রশ্নটা একারণে যে, অতীতের অনেক ইস্যুতে এই ফোরামের সদস্যদের বাস্তবে তো অনেক দূর, ব্লগেও কিছু বলতে দেখা যায়নি।

শুরু করছি টিপাইমুখ বাধের বিরুদ্ধে লেখা দিয়ে। এই বাধের খবর যখন প্রকাশিত হয় তখন সামুতে এর বিরুদ্ধে লেখার পর লেখা দ্যা হয়েছিল। অন্তত একটি লেখা স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনেক অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্ত কিসের কি? উপরমহলকে কোনমতেই কনভিন্স করা যাচ্ছিল না। শেষমেসঃ দিনমজুর ভাইয়ের লেখাটি স্টিকি করে সামু দায় সেরেছিল।

এর পর ফেলানি হত্যাকান্ড নিয়ে। ব্লগের মা বাবাদের বিকার নেই। বেশ কিছুদিন পর স্টিকি করা হলো। এ নিয়ে যখন বাস্তবেও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল, তখন সেখানে "শিবির" সম্পৃত্ততার "অভিযোগ" তুলে এই আন্দোলনের আয়োজক বিরুদ্ধে
"ছাগু" ইত্যাদি অপবাদ দিয়ে পেছন থেকে ছুরি মারা হলো। এমনকি সেখানে যাবার অপরাধে সামুর একান্ত স্নেহভাজন ব্লগার শামসির এবং কৌশিককেও একই কাতারের বলে অপবাদ দেবার অপচেস্টা করা হয়েছিল। যার নেতৃত্বে ছিল সামুর গালিবাজ চ্যাম্পিয়ান এবং সদ্য পুলিশের হাতে ধরা খাওয়া চুনোপুটিটি।

আসুন পরিমল প্রসঙ্গে। সেখানেও দলবল সুদ্ধ এরা রীতিমত গায়েব হয়ে গিয়েছিল। সামুও অনেক টালবাহানা করে শেষতক রাগ ইমনের একটি পোস্ট স্টিকি করেছিল।

পারসোনা ইস্যুতেও কোন পোস্ট আদৌ স্টিকি হবে কিনা সন্দেহ। হতে পারে, যদি সেটা লিখেন সামুর আস্থাভাজন কেউ।

এর আগে সামুর আদর্শে লালিত এক ইসলামদ্বেষি ব্লগার সন্যাসির স্টিকি পোস্টে যে হারে মাইনাস পড়েছিল, তা দেখে অদ্ভুতুড়ে এক অজুহাত তুলে কর্তৃপক্ষ মাইনাস বাটনটাই হাওয়া করে দিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে দলে দলে প্রতিবাদি অনেক লেখা আসলে, লেখকদের বিভিন্ন মেয়াদে "শাস্তি" দেয়া হয়েছিল। এখনও তাই হয়ে থাকে। সামুর আদর্শের বাইরে কেউ ট্যা ফু করলে তাদের কন্ঠ স্তব্ধ করে দেয়া হয়।

যেমনটি সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালি আরেক ব্লগার বাংলাদেশ জিন্দাবাদের বেলায় ঘটেছে। তার একটি লেখায় সামুর চিহ্নিত কিছু গালিবাজ গালি দেয়ায় তিনিও প্রতিবাদে গালি দিয়েছিলেন। ফলাফল। সামুর আস্থাভাজন হওয়াতে আসল গালিবাজদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ প্রতিবাদ করায় সোলেমানি ব্যান খেয়ে গেলেন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। এ রকম অনেক উদাহারণ দেয়া যায়।

প্রসঙ্গে ফিরে আসি। যে সমস্ত ইস্যুতে দেশের স্বার্থহানি ঘটছে, কিংবা সার্বভৌমত্বহানি হতে পারে, কিংবা একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যেতে পারে, সে সমস্ত ইস্যুতে যারা নির্বিকার কিংবা চরম বিরোধী, তারা যখন হঠাৎ করে জনসম্পৃক্ত কোন বিষয় নিয়ে হঠাৎ সরব হয় তখন সন্দেহ হওয়াই তো স্বাভাবিক। তাই নয় কি?

জবি নিয়ে ব্লগারস ফোরামে অনেক রথি মহারথিই তো ছিলেন। এদের মধ্যে দিনমজুর ভাইয়ের নাম ডিবি লিস্টে একাধিকবার থাকার কথা। কিন্তু তাদের কেউওকে না ধরে কোথাকার কোন চুনোপুটিকে ধরে নিয়ে গেলো। আর এই নিয়ে কয়েকটি চিহ্নিত নিক থেকে একাধিক বার আহা উহু হয়ে সামু গরম করার চেস্টা হলো কি কারণে?

নাকি চুনোপুটিটাকে সামনে এগিয়ে কেউ কেউ নিজেদের আপন স্বার্থ চরিতার্থের খেলা খেলতে চাইছে? হয়তো চুনোপুটিটা জানে না যে তাদের তালে নৃত্য করে যে অনবরত ইসলামকে ঘৃণা কে পোস্ট দিয়ে চলেছে, সেই সব নাটের গুরুরা অনেক বেশি সেয়ানা। তাদের কিছুই হবে না, কিন্তু লেখাপড়া কিংবা ক্যারিয়ার অথবা সামাজিক জীবনে পুলিশে ধরার এই কালো দাগ কোনমতেই মুছবে না। শুধু তাই না, ডিবির অসাধু অফিসারদের টাকার প্রয়োজন হলে কিন্ত আগে ধরা পড়াদেরই বার বার ডেকে নিয়ে হুমকি ধমকি কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়।

নিরাপদে কি বোর্ডের আড়ালে হাতি ঘোড়া মারা এক জিনিস, আর বাস্তবে পুলিশ কিংবা শত্রু সৃস্টি করা আরেক জিনিস। এই সত্যটা চুনোপুটি যত তাড়াতাড়ি বুঝবে ততই মঙ্গল। আর সেটা না বুঝিলে অভিজিৎ রায় অজয় রায়, কিংবা পারভেজ আলম, অথবা শরৎবাবুরা যতই মিস্টি কথা বলুক না কেন, সেই গাড্ডা থেকে মুক্তি পাবার কোন উপায় নেই। সাথে যদি অন্য মতাদর্শিদের ইন্ধন থাকে, তাহলে তো পুরা গেছো বাবা। স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরে আসতে হবে না।

সামু যে কয়েকজন ঘৃণাবাদিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে পালন করে, এবং ওদের কথায় উঠে আর বসে, সাম্প্রতিক স্টিকি পোস্টই তার প্রমান। যদিও অনেকেরই জানা, তাও নতুন করে পুরানো কথা বলার উদ্দেশ্যে স্মৃতি শক্তিকে আরেকবার জাগ্রত করা। আর নতুন যারা আছেন তাদেরকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করা। ধন্যবাদ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29459171 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29459171 2011-10-03 03:23:18
৪০ বছরের অপেক্ষা এবং অভিন্ন ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির পুনর্মিলন।

ধরুন নিখিল বঙ্গ রাজাকার সমিতির এক সভায় কোন প্রভাবশালি রাজনৈতিক দলের সাঃ সম্পাদক বলে বসলেন, আমাদের আর পাকিস্থানের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি এক ও অভিন্ন। আরেকজন উড়ে এসে জুড়ে বসা প্রভাবশালি বলে বসলেন, ৪০ বছর অপেক্ষা করেছি, পাকিস্তানকে সব রকম সুযোগ সুবিধা দেবার জন্য।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? যদি পাকিপ্রেমি হন, তাহলে গদ গদ হয়ে যাবেন। ভাববেন হ্যা, ঠিকই তো ! এতো মহা যুক্তির কথা।

আর যদি দেশপ্রেমিক হন, তাহলে বাংলা ভাষাইয় যাবতীয় "সুখশ্রাব্য" বাক্যবলি ঐ বক্তাদ্বয় এবং তার ১৪ পুরুষের উপর বর্ষন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না। চাই কি সামনে পড়লে ওই ব্যাক্তিদ্বয়ের উপর দেশপ্রেমিকের মুষ্ঠাঘাত বর্ষনও বিচিত্র কিছু নয়।

যদি বলি এসবই আপনারা করতে পারবেন না। যদি বলি, আপনি আত্মকেন্দ্রিক উদাসীন এক চরম কাপুরুষ? মেনে নিতে কস্ট হবে। কারণ আমরা মুখে যত দেশপ্রেমিক, কাজে ও বাস্তবে ততটাই দেশবিদ্বেষী।


প্রমান চান? ঠিক আছে চলুন প্রমান করে দেই।

প্রমান একঃ



ভারতীয় বংশদ্ভুত বৃটিশ বাংলাদেশ দ্বৈত নাগরিকত্বধারি জনৈক ডঃ গওহর রিজভি, ট্রাঞ্জিট প্রসঙ্গে বলেছিল যে, ৪০ বছর অপেক্ষা করেছি। ভারতকে "ট্রানজিট" দেবার জন্য । আর অপেক্ষা করা যায় না।

বাহ ! কি চমৎকার। যার জন্ম বাংলাদেশের মাটিতে হতে পারে না, যে বাংলা ভাষাটাও জানে না, যার চিন্তা চেতনা আর গবেষনার বিষয় শুধু ভারত, যে কিনা গত ৪০ বছরে বাংলাদেশেই ছিল মাত্র বছর দেড়েক তাও আবার হাসিনা তাকে উপদেস্টা নিয়োগ করার পর, তার এত স্পর্ধা?

(তুই অপেক্ষা করার কে রে মাউড়ার পুত? তোর বাপের কবরটুকুও তো বাংলাদেশে নেই। তোর জন্মসনদও বাংলাদেশে কোথাও পাওয়া যাবে না। যে বাংলাদেশের মানুষের পবিত্র রক্তে স্বাধীনতার সোপান রচিত, সেখানে তোর মত এক বিদেশি বেজন্মা শুয়োরের কাছ থেকে অপেক্ষার কথা শুনতে বাংলাদেশি মানুষ নারাজ।)

এই লোকটির বিরুদ্ধে কি করেছেন? কি বলেছেন? পারবেন সামনে পড়লে এই লোকটাকে ধরে ইচ্ছামত ধোলাই দিতে? ভাবছেন, তা কি করে সম্ভব? উনি ক্ষমতাবান। উনার গায়ে হাত পড়লে গুষ্টিসুদ্ধা জান নিয়ে টানাটানি। না বাবা থাক, কি দরকার? যা খুশি বলুক করুক। জেনে রাখুন, আপনার মত চিন্তা করলে আমাদের বীরমুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতেন না। এখনও পাকিদের লাত্থি উষ্টা খেয়েই জীবন ধারণ করতে হতো। মাঝে মাঝে ভাবি, আমরা কি সেই মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসুরি? যদি তাই হয়, তাহলে আমরা কি করে এমন নপুংশক হলাম?

চলুন দ্বিতীয় প্রমানে যাওয়া যাক।



হিন্দি টিভি সিনেমা, ব্যান্ড সঙ্গিত, বলিউড, রক এন্ড রোল, এম টিভি, মিলা প্রভা, ডিজে-আর জের
ডিজুস ইত্যাদিতে মগ্ন আমরা। ইতিহাস চর্চার সময় কি আমাদের আছ? যারা জানেন তাদেরকে নস্ট প্রজন্ম আখ্যা দিয়ে আঃলিগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ তো আগেই গোনার বাইরে রেখেছেন। ইতিহাস বিস্মিতীর সুযোগ নিয়ে তাই এক উন্মাদীয় দালালি আবেগে তিনি বলেই বসেছেন, ভারত আর আমাদের দেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি নাকি এক।

১৯৭৫ সালে বাকি তিন নেতার সাথে সৈয়দ আশরাফের পিতাও মারা গিয়েছিলেন। সেই থেকে আশরাফ মিয়া লন্ডন প্রবাসি। বৃটিশরা মিনি মাগনায় তাকে তো খাওয়ায় পড়ায়নি। পিতৃহীন এই আশরাফের ভরণপোষন তাহলে করেছে কে? এমন তো না যে সৈয়দ নজরুল ইসলামের টাকার পাহাড় ছিল? পড়াশুনার নামে আশরাফ লন্ডনে কি ভেরেন্ডা ভেজেছেন, সেটা তিনি জানেন। তবে শিক্ষালাভ কিছু হোক বা না হোক, কুটচাল আর সময়ে সময়ে একবার ফক্রু-মইন-ডিজি এফ আই আরেকবার ইন্ডীয়ার পাচাটাতে তিনি যে শীর্ষস্থানেই আছেন, সেটা তার ঐ উক্তিতেই প্রমানিত।

এত বড় দালাল বলেই তিনি ইতিহাসকে পাতিহাস বানিয়ে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ভাষা আর সংস্কৃতিকে ভারত মাতার পদতলে উৎসর্গিত করার দুঃসাহস দেখাতে পেরেছেন। অবশ্য এই দুঃসাহস আমাদের তথাকথিত বেশ কিছু বুদ্ধিজীবি এবং সাংস্কৃতিক জগতের একটা বিশাল অংশের মধ্যেও বেশ ভালো ভাবেই রয়েছে।

আপনারা কেউ আছেন, যিনি এই মহাপাতক পাষন্ড ভারতের দালালের মুখে জুতা নিক্ষেপ নিদেনপক্ষে থুথু নিক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখেন? কেউ কি আছেন যিনি ওর মুখের উপরে বলতে পারেন তুই নব্য রাজাকার তুই দালাল।

কেউ কি এই রকম দিয়ে বলতে পারবেন,




জানি আমরা কেউই সেটা পারবো না। আমাদের এই অক্ষমতা আর নপুংশকতার সমন্ধে এই গওহর আশরাফ গং ভালোভাবেই অবগত। তাই নিঃসংকোচে এরা প্রকাশ্যেই দেশদ্রোহিতায় দুঃসাহসি হয়ে উঠেছে।

এর পরেও আপনি আমি দেশপ্রেমিক বলে বড়াই করতে পারি। বলতে তো আর বাধা নেই। অথচ ভয়ে মুখে কুলুপ এটে কাপুরুষতা আর বিশ্বাসঘাতকতার ফল কিন্ত ভোগ করতে হবে আমাদেরই। যেমনটি করছে কাশ্মির, নিজামের হায়দারাবাদ, গোয়া দিউ দমন আর সিকিমের স্বাধীনতাকামি মানুষগুলি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29454785 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29454785 2011-09-25 15:45:40
এরা গণশত্রু, যেখানেই পাবেন গদাম দিন (ছবি ব্লগ)






































































সবশেষে পালের গোদা।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29443682 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29443682 2011-09-06 10:43:40
বাংলা চলচিত্রের সুরের যাদুকরেরা। (কিছু ছবি এবং গানের সংকলন)

সবাই ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

বাংলা চলচিত্রের স্বর্ণ যুগ বলতে ৬০ এর দশককেই বুঝায়। তখন যেমন মেধাবি পরিচালক ছিলেন, তেমনি তাদের মেধা বিকাশের জন্য তেমনি উপযুক্ত প্রযোজকের পৃষ্ঠপোষকতাও ছিল। ছিল দর্শকদের আগ্রহ। আর তাদের সঙ্গি ছিলেন একদল পরিশ্রমি অভিনয় শিল্পি আর চিত্রনাট্ট রচয়িতা।আর তাদের সবার ঐকান্তিক চেস্টার ষোল কলাপুর্ণ হতো সুরের যাদুকরদের মাধ্যমেই। তাদেরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

রবিণ ঘোষ

বাংলা গানে পাশ্চাত্যের যন্ত্র সংগিতের ব্যাবহার করে চমৎকার মেলোডিয়াস সংগিতের জন্য ইনি এতটাই খ্যাতি লাভ করেছিলেন যে স্বাধীনতার উষালগ্নে পাকিস্থানিরা তাকে পাকিস্থানে নিয়ে যায়। বলা বাহুল্য যে এই বঙ্গসন্তান বহু বছর ললিউডে রাজত্ব করেছিলেন।



খান আতাউর রহমান

ইনাকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতা, গীতিকার, এবং অবশ্যই সংগিত পরিচালক। ইনার সমন্ধে বলতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছিলেন যে, খান আতা ভাইয়ের গান গাইতে একটুও কস্ট হয় না। অথচ গানগুলি হয় মেলোডিয়াস।


আনোয়ার পারভেজ

স্বাধীনতা পরবর্তি প্রায় ২০ বছর একের পর এক সুপারহিট রোমান্টিক গানের সুরের স্রস্টা ছিলেন ইনি। অথচ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রি এই অসহায় মানুষটির প্রতি চলচিত্র পরিবারের অবজ্ঞা আর অবহেলা দেখে অভিমানে একসময় প্রায় নিভৃতেই হারিয়ে যান উনি। এ লজ্জা জাতি হিসাবে আমাদের সবারই।



আলম খান

বাংলা ছবিতে হিট আর চটকদার গানের স্রস্টা বলা যায় ইনাকে। কিন্ত না, এককথা বলতে যেন ভাববেন না যে তিনি "ফাইট্টা যায়", অথবা "সোনাবন্ধু তুই আমারে কাইট্টালা" টাইপের গানে সুর করতেন। বানিজ্যিক ছবিতে সুর করলেও, ইনি নিজ স্বাতন্ত্র কোনমতেই বিসর্জন দেননি।


সত্য সাহা

শুরু স্বাধীনতার অনেক আগে। স্বাধীনতার অনেকদিন পর্যন্ত বাংলা চলচিত্র জগতে যে নামটি শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হতো, সেটি হলো সত্য সাহা। তার সুর করা গানগুলি আজও শ্রোতাদের মনে দাগ কেটে যাবে। তিনি চলে গিয়েছেন। রেখে গিয়েছেন সুযোগ্য এক পুত্র ইমন সাহা। যিনি পিতার পদাংক অনুসরণ করেছেন।


আলাউদ্দিন আলি

সঙ্গিত পরিবারের এই গুণি সুরকার এক সময় দোর্দন্ড প্রতাপে চলচিত্রে রাজত্ব করেছেন। রোমান্টিক আধুনিক গান থেকে শুরু করে সঙ্গিতের এমন ধারা নেই যেখানে তার বিচরণ নেই। তাই ৯০ এর দশকে তাকেই সঙ্গিত সম্রাটের উপাধি দেয়া যায় অনায়াসেই।


আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

অবক্ষয়ের হাতে বাংলা চলচিত্র ধবংস হলে, দর্শকদের সাথে সাথে অনেক গুণি নির্মাতাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সুরের যাদুরকরেরাও তেমনি কেউ হারিয়ে গিয়েছেন, কেউ স্বকীয়তা বর্জন করে হাওয়ায় গা ভাসিয়েছেন, কেউ কোনমতে টিকে আছেন। বুলবুল এই টিকে থাকাদের মধ্যেই একজন।


ইমন সাহা
(গুগুল মামার কান্ড। ইমনের কোন ছবি পেলাম না)
আগেই বলেছি, ইনি সত্য সাহার সুপুত্র। তাই পিতার সুনামের প্রতি সুবিচার করেছেন। তার অসংখ্য মেলোডিয়াস সঙ্গিতে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা চলচিত্র। ফিউশনের যুগে তিনি বাংলা গানকে যোগ্যতার সাথেই যুক্ত করেছেন। অভিনন্দন ইমন সাহা।

(সাম্প্রতিক কালে আমার শোনা এই গানটিই সবচেয়ে মেলোডিয়াস লেগেছে।)


বেশি করে গান শুনুন। গান আত্মাকে আনন্দ দেয়। সবাইকে আবারও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের মত ইতি। আর হ্যা, আমাকে ঈদের দাওয়াত দিলে আজকেই যোগাযোগ করুন, ঠিকানা ও ফোন নং সহ। খিক খিক। আনন্দে মাতুক সারা বিশ্ব।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29440361 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29440361 2011-08-29 11:14:43
ওই বন্দু কেডা, বন্দু কেডা? দিমু চটকানা !

দেশের মানুষের প্রতি রাজনীতিবিদদের আস্থা কোনদিন ছিল কিনা, সেটা একটি মুল্যবান প্রশ্ন হতে পারে। এই সংশয় এজন্য চলে আসলো, কেননা রাজনীতিবিদদের কথার সাথে কাজের মিল খুজে পাওয়া দুস্কর।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নেতা নেত্রিদের যে কর্মক্ষতিয়ান, তাতে তাদের ভাষণের সাথে মিল খায় না।



ধরছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকে। মুক্তিযুদ্ধপুর্ব বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একচ্ছত্র নেতা। যার মুখের একটি কথায় সাধারণ মানুষ প্রাণ পর্যন্ত দিতে প্রস্তত ছিল। যার প্রমাণ আমরা পাই ৩০ লাখ বাঙ্গালির আত্মত্যাগের মাধ্যমে। পৃথিবিতে বোধ হয় এটাই একমাত্র দৃস্টান্ত যেখানে সেনাপতির অনুপস্থিতির মধ্যেও একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছে, এবং স্বাধীনতা লাভ করেছে।

এই সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির রোষের অনলে পুড়ে মরার ভয় থেকেই, তৎকালিন পাকিস্থানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুর উপর ফুলের টোকাটি দেবার সাহস করেনি।



বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফেরৎ আসেন, তখন এই জনগণই তাকে মাথায় করে ক্ষমতার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

সাধারণ মানুষের আশাভঙ্গ হতে বেশি সময় লাগেনি। নিজ সরকারের অদক্ষতা, স্বজন এবং দলীয় লোকদের সীমাহীন দুর্ণীতি সন্ত্রাস এসব রুখতে ব্যার্থ হয়ে তিনি ক্ষমতা হারানোর আতংকে বঙ্গবন্ধু তার চিরচারিত দৃঢ়তা আর জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন।



তথাকথিত কিছু প্রভাবশালি ভারতপন্থি বামদের কুমন্ত্রণায় বাকশাল গঠন করেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই সব দেশদ্রোহি মতলববাজ বামরা বঙ্গবন্ধুকে বুঝিয়েছিল, বাকশাল গঠন করলে, ভারত আর সোভিয়েত ইউনিয়নের দোয়ায় সব ঠিক হয়ে যাবে। দেশে প্রতিটা কোণায় ভারতের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা \"র\" এর এজেন্টরা সক্রিয় থাকলেও, তাকে এই অভ্যুত্থানের ব্যাপারে কোন সাবধানবাণী দেয়নি।


জে এন দীক্ষিতের মতে, ভারতের হুকুমকে অমান্য করে ও আই সি তে বঙ্গবন্ধুর যোগদান, এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ভারতীয় বাহিনীকে প্রত্যাহার করানোতে এমনিতেই ইন্দিরা গান্ধী, বঙ্গবন্ধুর উপরর নাখোস ছিলেন। এর মধ্যে নিজেদের অদক্ষতার কারণে দেশের অবস্থা লেজেগোবরে করে যেহেতু বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায় নেমে গিয়েছিল, তাই ঠ্যাং ভাঙ্গা ঘোড়ার উপর বাজি রাখার মত বোকামি করা ইন্দিরা করতে চাননি।



৭৫ এ পট পরিবর্তনের পর তাই দেশে কোনরকম প্রতিবাদ দেখা যায়নি। কারণ এই পরিবর্তন জনগণের কাম্য ছিল। যদিও আজকাল বিভিন্ন কুতুব বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বোঝানোর চেস্টা করছে যে, এই অভ্যুত্থান ছিল জনসমর্থনবিহিন একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটা একটি জঘণ্য ধরণের
তৃতীয় শ্রেণির আওয়ামি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।



প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসক। তিনি যেহেতু সেনাছাউনির মানুষ, তাকেও জনগণের কাছে যেতে হয়েছিল। ব্যাক্তিগতভাবে যার দুর্ণীতি প্রশ্নাতীত, তাকেও শ্রেফ জনগণের কাছে পৌছানোর জন্য কিছু রাজনীতিবিদের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল, যাদের চরিত্র নিস্কলুষ ছিল না। তাছাড়া তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ যে ভয়ংকর অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যে ছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য জিয়া আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাহায্য গ্রহন করতে হয়েছিল। এই সেই আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যাদের সমর্থন ছিল বিপরীত পক্ষ্যে। তাদের চাপেই জিয়াকে বাধ্য হয়ে রাজাকার জামাত এ ইসলামিকে আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতে হয়েছিল।



৮০এর দশকে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তৎকালিন নৌবাহিনী প্রধান এ এইচ খানের (বর্তমানে তারেক জিয়ারর শশুড়) একটি সাক্ষাতকারে জানা যায় যে, ভারত যখন নৌবাহিনী পাঠিয়ে দঃ তালপট্টি দখল করে নেয়, তখন জিয়াকে সেটা জানানো হলেও, তিনি বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। কারণটা বোধ করি, ভারতকে তিনি চটাতে চাননি। যদিও এর আগেই তার নামে মৃত্যুপরোয়ানায় সই করে রেখেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। অর্থাৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাস্ট্রনায়ককেও শত্রুভাবাপন্ন হলেও বিদেশি রাস্ট্রকে গোনায় ধরতে হয়েছিল।


জিয়ার মৃত্যুর পর, তৎকালিন সাত্তার সরকারের প্রশাসনে চালানোতে ব্যার্থতার কারণে এরশাদ ক্ষমতায় আসেন। যদিও ভারতে চিরচারিত গণতান্ত্রিক শাসন চলে আসছিল, এর পরেও \"অজানা\" কারণে এই সামরিক শাসককে প্রথম যে বিদেশি রাস্ট্র স্বাগত জানিয়েছিল সে ছিল ভারত।


তবে এরশাদ শাসক হিসাবে, অন্তত গত ২০ বছরের \"গণতান্ত্রিক\" শাসনামলের চেয়ে ভালো ছিল। কিন্ত হাসিনা খালেদার ক্রমাগত গণতান্ত্রিক পিপাসার কারণে, দেশের মানুষের মতের বিরুদ্ধে মার্কিনিদের পক্ষ্যে কুয়েতে বাংলাদেশি সেনা পাঠিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ঢাকা কেন্দ্রিক \"গণ অভ্যুত্থানে\" এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।



৯১ সালে সংসদ নির্বাচনটি ছিল জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিচ্ছবি। তবে সেখানেও বিদেশি রাস্ট্র বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র এবং ভারত নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেস্ট ছিল। বি এন পি জেতার ফলে ভারত নাখোশ হয়েছিল। ফলে \"সুক্ষ্ম\" কারপচুপির দোহাই পেরে আঃ লিগ, বি এন পির শাসনামলকে কন্টকাকীর্ণ করে তুলেছিল। নেপথ্যে ছিল ভারতের ইশারা।



৯৬ সালে ক্ষমতায় আরোহন করে আঃ লিগ বাকশাল আমলের সামান্য ট্রেইলার দেখিয়েছিল। ফলে ২০০১ সালে তাদের চরম ভরাডুবি হয়েছিল।



২০০১ সালে ব্রুট মেজরিটি নিয়ে বি এন পি ক্ষমতায় আসলেও, ভবিষ্যত ক্ষমতারোহন নিস্কন্টক করতে ইঙ্গ মার্কিন ভারতের নেকনজরে থাকার জন্য আমাদের সংস্কৃতি ধবংসি আকাশ সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে মুক্তকচ্ছ অর্থনীতি চালু করে দেয়।



ফলাফল আজকের এমন একটি প্রজন্ম, যাদের না আছে দেশের ইতিহাস সমন্ধে জ্ঞান, না আছে দেশপ্রেম, না আছে ভাষা সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা। জাতিগতভাবে সচেতনা আর আত্মসম্মানবোধের কথা নাই বা বললাম।

যত কিছুই ঘটুক, সরাসরি ভারতের স্বার্থ সংরক্ষণে \"ব্যার্থতার\" কারণে বি এন পি র বিরুদ্ধে আঃ লিগ আবারো মাঠে নামে। এর পরেও সুবিধা করতে না পারার কারণে ওয়াশিংটন আর দিল্লির যৌথ প্রযোজনাইয় ৩ মাসের অন্তর্বর্তিকালিন সরকার ২ বছর বিনা প্রশ্নে ও বিরোধিতায় অবৈধভাবে বাংলাদেশ শাসন করে যায়।



ফকরুদ্দিন ছিল বিশ্ব ব্যাংকের চাকুরে। আর মইন ইউ আহমেদকে যেভাবে ভারত সরকার বিশেষ সম্মান দিয়েছে, তাতে তো একথা স্পস্ট যে কাদের আশির্বাদে গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে হত্যাকারিরা স্বৈরতন্ত্রকে দুবছর শাসন করাতে ভেতর বাইরে সমর্থন দিয়ে গিয়েছে।



ওয়াশিংটন আর দিল্লির বেদিতে মাথা ঠুকার যথাযোগ্য ফল হাসিনা পেয়েছেন। তাই তিনি এবার ক্ষমতায় এসেছেন ব্রুট মেজরিটি নিয়ে। আর তার যোগ্য প্রতিদান দিতেই দিল্লির প্রতিটা চাওয়া পাওয়ায় অনুগত ভৃত্যের মত সায় দিয়ে চলেছেন। তা দেশ ও দেশের মানুষ উচ্ছন্নে যাক, তিনি কোন পরোয়া করছেন না।



এই দেখে বি এন পি ও মনে হয় ওই গোলামির দিকে ঝুকতে চলেছে। নইলে স্বাধীনতার পর প্রতিটা পদক্ষেপে বাংলাদেশের চিহ্নিত শত্রুদের আগমনে কি করে স্বাগত জানাচ্ছে? কি করে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফকরুল ইসলাম আলমগির নির্লজ্জের মত বলতে পেরেছেন, তারা ভারতের বন্ধুত্ব চান?

এসব দেখে বলতে ইচ্ছা করছে, বন্দু কেডা, বন্দু কেডা? দিমু চটকানা। ক্ষমতার লোভে আজ শত্রুদেরও বন্ধুত্ব কামনা করা? তাহলে আর দেশের মানুষের কথা বলেন কোন মুখে?



এই যে জনগণের উপর রাজনীতিবিদদের আস্থার অভাব, এর কারণ কি এই যে শুধু দুর্বৃত্তরাই রাজনীতি করে? আমরা যারা সাধারণ জনগণ, এই অবস্থার জন্য কি আমাদের দায় নেই? আমরা কি নিজেদের কলুর বলদ বলে নিজেদেরই উপস্থাপন করি না? যার ফলে রাজনীতিবিদরা আমাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরায়? আমরা কি কাপুরুষত্বের চুড়ান্ত সীমায় পৌছে যাইনি, যার কারণে পেশিসর্বস্ব গুটি কয়েক সন্ত্রাসি আমাদেরই নেতা হয়ে গিয়েছে? আমাদের দেশপ্রেম কি প্রশ্নাতীত, যার কারনে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নেতারা যা খুশি করবে, বিদেশের আশির্বাদ নিয়ে নির্বাচনে জয়ি হবে আর আমরাও জয় আর জিন্দাবাদ বলে খুশিতে বগল বাজাবো। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে যে উদাসীনতা আর বিদেশি কুকুর দেখলেও আনন্দে গদগদ হয়ে যাবার কারনেই কি আমরা স্বকীয়তা হারাতে বসিনি?

উত্তর যদি হ্যা হয়, তাহলে আপনিই বলুন, যে চটকানা রাজনীতিবিদদের মুখে মারতে ইচ্ছা করে, সেই থাপ্পড়টি আমাদেরই গালে আগে পড়া উচিত কি না? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29436478 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29436478 2011-08-22 08:47:04
ওই বন্দু কেডা, বন্দু কেডা? দিমু চটকানা !

দেশের মানুষের প্রতি রাজনীতিবিদদের আস্থা কোনদিন ছিল কিনা, সেটা একটি মুল্যবান প্রশ্ন হতে পারে। এই সংশয় এজন্য চলে আসলো, কেননা রাজনীতিবিদদের কথার সাথে কাজের মিল খুজে পাওয়া দুস্কর।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নেতা নেত্রিদের যে কর্মক্ষতিয়ান, তাতে তাদের ভাষণের সাথে মিল খায় না।



ধরছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকে। মুক্তিযুদ্ধপুর্ব বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একচ্ছত্র নেতা। যার মুখের একটি কথায় সাধারণ মানুষ প্রাণ পর্যন্ত দিতে প্রস্তত ছিল। যার প্রমাণ আমরা পাই ৩০ লাখ বাঙ্গালির আত্মত্যাগের মাধ্যমে। পৃথিবিতে বোধ হয় এটাই একমাত্র দৃস্টান্ত যেখানে সেনাপতির অনুপস্থিতির মধ্যেও একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছে, এবং স্বাধীনতা লাভ করেছে।

এই সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির রোষের অনলে পুড়ে মরার ভয় থেকেই, তৎকালিন পাকিস্থানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুর উপর ফুলের টোকাটি দেবার সাহস করেনি।



বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফেরৎ আসেন, তখন এই জনগণই তাকে মাথায় করে ক্ষমতার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

সাধারণ মানুষের আশাভঙ্গ হতে বেশি সময় লাগেনি। নিজ সরকারের অদক্ষতা, স্বজন এবং দলীয় লোকদের সীমাহীন দুর্ণীতি সন্ত্রাস এসব রুখতে ব্যার্থ হয়ে তিনি ক্ষমতা হারানোর আতংকে বঙ্গবন্ধু তার চিরচারিত দৃঢ়তা আর জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন।



তথাকথিত কিছু প্রভাবশালি ভারতপন্থি বামদের কুমন্ত্রণায় বাকশাল গঠন করেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই সব দেশদ্রোহি মতলববাজ বামরা বঙ্গবন্ধুকে বুঝিয়েছিল, বাকশাল গঠন করলে, ভারত আর সোভিয়েত ইউনিয়নের দোয়ায় সব ঠিক হয়ে যাবে। দেশে প্রতিটা কোণায় ভারতের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা \"র\" এর এজেন্টরা সক্রিয় থাকলেও, তাকে এই অভ্যুত্থানের ব্যাপারে কোন সাবধানবাণী দেয়নি।


জে এন দীক্ষিতের মতে, ভারতের হুকুমকে অমান্য করে ও আই সি তে বঙ্গবন্ধুর যোগদান, এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ভারতীয় বাহিনীকে প্রত্যাহার করানোতে এমনিতেই ইন্দিরা গান্ধী, বঙ্গবন্ধুর উপরর নাখোস ছিলেন। এর মধ্যে নিজেদের অদক্ষতার কারণে দেশের অবস্থা লেজেগোবরে করে যেহেতু বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায় নেমে গিয়েছিল, তাই ঠ্যাং ভাঙ্গা ঘোড়ার উপর বাজি রাখার মত বোকামি করা ইন্দিরা করতে চাননি।



৭৫ এ পট পরিবর্তনের পর তাই দেশে কোনরকম প্রতিবাদ দেখা যায়নি। কারণ এই পরিবর্তন জনগণের কাম্য ছিল। যদিও আজকাল বিভিন্ন কুতুব বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বোঝানোর চেস্টা করছে যে, এই অভ্যুত্থান ছিল জনসমর্থনবিহিন একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটা একটি জঘণ্য ধরণের
তৃতীয় শ্রেণির আওয়ামি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।



প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসক। তিনি যেহেতু সেনাছাউনির মানুষ, তাকেও জনগণের কাছে যেতে হয়েছিল। ব্যাক্তিগতভাবে যার দুর্ণীতি প্রশ্নাতীত, তাকেও শ্রেফ জনগণের কাছে পৌছানোর জন্য কিছু রাজনীতিবিদের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল, যাদের চরিত্র নিস্কলুষ ছিল না। তাছাড়া তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ যে ভয়ংকর অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যে ছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য জিয়া আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাহায্য গ্রহন করতে হয়েছিল। এই সেই আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যাদের সমর্থন ছিল বিপরীত পক্ষ্যে। তাদের চাপেই জিয়াকে বাধ্য হয়ে রাজাকার জামাত এ ইসলামিকে আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতে হয়েছিল।



৮০এর দশকে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তৎকালিন নৌবাহিনী প্রধান এ এইচ খানের (বর্তমানে তারেক জিয়ারর শশুড়) একটি সাক্ষাতকারে জানা যায় যে, ভারত যখন নৌবাহিনী পাঠিয়ে দঃ তালপট্টি দখল করে নেয়, তখন জিয়াকে সেটা জানানো হলেও, তিনি বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। কারণটা বোধ করি, ভারতকে তিনি চটাতে চাননি। যদিও এর আগেই তার নামে মৃত্যুপরোয়ানায় সই করে রেখেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। অর্থাৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাস্ট্রনায়ককেও শত্রুভাবাপন্ন হলেও বিদেশি রাস্ট্রকে গোনায় ধরতে হয়েছিল।


জিয়ার মৃত্যুর পর, তৎকালিন সাত্তার সরকারের প্রশাসনে চালানোতে ব্যার্থতার কারণে এরশাদ ক্ষমতায় আসেন। যদিও ভারতে চিরচারিত গণতান্ত্রিক শাসন চলে আসছিল, এর পরেও \"অজানা\" কারণে এই সামরিক শাসককে প্রথম যে বিদেশি রাস্ট্র স্বাগত জানিয়েছিল সে ছিল ভারত।


তবে এরশাদ শাসক হিসাবে, অন্তত গত ২০ বছরের \"গণতান্ত্রিক\" শাসনামলের চেয়ে ভালো ছিল। কিন্ত হাসিনা খালেদার ক্রমাগত গণতান্ত্রিক পিপাসার কারণে, দেশের মানুষের মতের বিরুদ্ধে মার্কিনিদের পক্ষ্যে কুয়েতে বাংলাদেশি সেনা পাঠিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ঢাকা কেন্দ্রিক \"গণ অভ্যুত্থানে\" এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।



৯১ সালে সংসদ নির্বাচনটি ছিল জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিচ্ছবি। তবে সেখানেও বিদেশি রাস্ট্র বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র এবং ভারত নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেস্ট ছিল। বি এন পি জেতার ফলে ভারত নাখোশ হয়েছিল। ফলে \"সুক্ষ্ম\" কারপচুপির দোহাই পেরে আঃ লিগ, বি এন পির শাসনামলকে কন্টকাকীর্ণ করে তুলেছিল। নেপথ্যে ছিল ভারতের ইশারা।



৯৬ সালে ক্ষমতায় আরোহন করে আঃ লিগ বাকশাল আমলের সামান্য ট্রেইলার দেখিয়েছিল। ফলে ২০০১ সালে তাদের চরম ভরাডুবি হয়েছিল।



২০০১ সালে ব্রুট মেজরিটি নিয়ে বি এন পি ক্ষমতায় আসলেও, ভবিষ্যত ক্ষমতারোহন নিস্কন্টক করতে ইঙ্গ মার্কিন ভারতের নেকনজরে থাকার জন্য আমাদের সংস্কৃতি ধবংসি আকাশ সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে মুক্তকচ্ছ অর্থনীতি চালু করে দেয়।



ফলাফল আজকের এমন একটি প্রজন্ম, যাদের না আছে দেশের ইতিহাস সমন্ধে জ্ঞান, না আছে দেশপ্রেম, না আছে ভাষা সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা। জাতিগতভাবে সচেতনা আর আত্মসম্মানবোধের কথা নাই বা বললাম।

যত কিছুই ঘটুক, সরাসরি ভারতের স্বার্থ সংরক্ষণে \"ব্যার্থতার\" কারণে বি এন পি র বিরুদ্ধে আঃ লিগ আবারো মাঠে নামে। এর পরেও সুবিধা করতে না পারার কারণে ওয়াশিংটন আর দিল্লির যৌথ প্রযোজনাইয় ৩ মাসের অন্তর্বর্তিকালিন সরকার ২ বছর বিনা প্রশ্নে ও বিরোধিতায় অবৈধভাবে বাংলাদেশ শাসন করে যায়।



ফকরুদ্দিন ছিল বিশ্ব ব্যাংকের চাকুরে। আর মইন ইউ আহমেদকে যেভাবে ভারত সরকার বিশেষ সম্মান দিয়েছে, তাতে তো একথা স্পস্ট যে কাদের আশির্বাদে গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে হত্যাকারিরা স্বৈরতন্ত্রকে দুবছর শাসন করাতে ভেতর বাইরে সমর্থন দিয়ে গিয়েছে।



ওয়াশিংটন আর দিল্লির বেদিতে মাথা ঠুকার যথাযোগ্য ফল হাসিনা পেয়েছেন। তাই তিনি এবার ক্ষমতায় এসেছেন ব্রুট মেজরিটি নিয়ে। আর তার যোগ্য প্রতিদান দিতেই দিল্লির প্রতিটা চাওয়া পাওয়ায় অনুগত ভৃত্যের মত সায় দিয়ে চলেছেন। তা দেশ ও দেশের মানুষ উচ্ছন্নে যাক, তিনি কোন পরোয়া করছেন না।



এই দেখে বি এন পি ও মনে হয় ওই গোলামির দিকে ঝুকতে চলেছে। নইলে স্বাধীনতার পর প্রতিটা পদক্ষেপে বাংলাদেশের চিহ্নিত শত্রুদের আগমনে কি করে স্বাগত জানাচ্ছে? কি করে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফকরুল ইসলাম আলমগির নির্লজ্জের মত বলতে পেরেছেন, তারা ভারতের বন্ধুত্ব চান?

এসব দেখে বলতে ইচ্ছা করছে, বন্দু কেডা, বন্দু কেডা? দিমু চটকানা। ক্ষমতার লোভে আজ শত্রুদেরও বন্ধুত্ব কামনা করা? তাহলে আর দেশের মানুষের কথা বলেন কোন মুখে?



এই যে জনগণের উপর রাজনীতিবিদদের আস্থার অভাব, এর কারণ কি এই যে শুধু দুর্বৃত্তরাই রাজনীতি করে? আমরা যারা সাধারণ জনগণ, এই অবস্থার জন্য কি আমাদের দায় নেই? আমরা কি নিজেদের কলুর বলদ বলে নিজেদেরই উপস্থাপন করি না? যার ফলে রাজনীতিবিদরা আমাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরায়? আমরা কি কাপুরুষত্বের চুড়ান্ত সীমায় পৌছে যাইনি, যার কারণে পেশিসর্বস্ব গুটি কয়েক সন্ত্রাসি আমাদেরই নেতা হয়ে গিয়েছে? আমাদের দেশপ্রেম কি প্রশ্নাতীত, যার কারনে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নেতারা যা খুশি করবে, বিদেশের আশির্বাদ নিয়ে নির্বাচনে জয়ি হবে আর আমরাও জয় আর জিন্দাবাদ বলে খুশিতে বগল বাজাবো। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে যে উদাসীনতা আর বিদেশি কুকুর দেখলেও আনন্দে গদগদ হয়ে যাবার কারনেই কি আমরা স্বকীয়তা হারাতে বসিনি?

উত্তর যদি হ্যা হয়, তাহলে আপনিই বলুন, যে চটকানা রাজনীতিবিদদের মুখে মারতে ইচ্ছা করে, সেই থাপ্পড়টি আমাদেরই গালে আগে পড়া উচিত কি না? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29434880 http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29434880 2011-08-19 13:03:31