বেনারস পৌঁছলাম ৭ টা ৫০ এ। শহরের কোথাও তেমন কোন আলো নেই। লোডশেডিং চলছে মনে হয়। একটু যেন ভয় ভয় করছে। জানলাম আগ্রা আর জয়পুর যাবার সর্বশেষ বাস ছেড়েঁ গেছে ৫ মিনিট আগে। খুপড়ি দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। চোখ ব্যাগগুলোর দিকে। কেউ একজন বলল্ কানপুর হয়ে আগ্রা যাওয়া যায়, বাস সর্বশেষ ৮ টায়। সাত-পাঁচ না ভেবে উঠে পড়লাম বাসে। আগ্রা, কানপুর কোন্টা কোথায় জানা নেই আমাদের। রাজ্যের ক্লান্তি ভর করেছে। তেমন কিছুতো খাইওনি। পানির বোতল আর বিস্কিট কিনলাম। বাস ছাড়ল ঠিক ৮টায়। কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি, কখন পৌঁছব জানি না। শুধু জানি আমাদেরকে যেতে হবে।
শহর ছেড়েছে বাস। বাইরে নিকশ কালো অন্ধকার। আজ কি জ্যোৎস্না রাত হতে পারত না! আমাদের ভয় করতে লাগলো। গাড়ীতে বেশি যাত্রী নেই। আমরা ছাড়া ১০/১২ জন হবে। মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে ব্যাগপত্র কেড়ে নিলে কিছুই করার থাকবে না। আর মেয়েরা তো আছেই।
ক্লান্তিতে-শ্রান্তিতে ঘুমে ঢুলুঢুলু সবাই। ঘুমাতে পারছিনা এক রত্তিও। গাড়ি চলছে তো চলছেই। সবাই ঘুমিয়েছে এখন। আমি আর মুন জেগে। রাত তখন ২ টা। কিছুটা সময় বিরতি। একজন চাওয়ালাকে পাওয়া গেল। মাটির কাপে চা অপূর্ব লাগল। আবার চলতে শুরু করেছি। নিস্তব্ধতা ভেংগে বাসের এগিয়ে চলা, শমরেশের গল্পের বইয়ের মতো। ভোর সাড়ে ৪ টায় এসে পৌঁছলাম কানপুর। ছোট্ট বাস স্টেশন। কেউ একজন আছেন ভিতরে। জানা গেলো আগ্রার বাস আসবে সকাল ৬ টায়, ছেড়ে যবে সাড়ে ৬ টায়। সবাই অপেক্ষা করছি। কিছুটা সময় পর আমি আর শামীম হাঁটছি রাস্তার ধারে। একটা টং দোকান খুলেছে। পাউরুটি ডিম দিয়ে ভাজছে। কিনে নিলাম। সবাই খাব ভাবছি। মুন মুখে তুলেই বমি করে দিলো। আমাদের আর খাওয়া হল না। ৬.৩০ এ বাস ছাড়ল।
এখন দিন, ভয়টা নেই। রাতের অচেনা পৃথিবীটা এখন অনেক বেশি চেনা। বাড়ি, ঘর, রাস্তা, গাছ-গাছালি আমাদের দেশের মতোই। শুধু ভাষাটা আলাদা। আগ্রাতে কোথায় উঠব জানি না। লোকজনের সাথে কথা বলছি। দুপুর ২.৩০ এ আগ্রায় এসে পৌঁছলাম। আমাদের আগের একটা গ্রুপ 'হোটেল আগ্রা' তে ছিল। সেখানেই থাকার জায়গা মিল্ল। আমাদের শক্তি বলতে অবশিষ্ট কিছু নেই। খাইনি তখনো। চারজন একসাথে বাথরুমে ঢুকে নোংরা কাপড় ধুতে লাগলাম। শামীম সাবান মাখছে, আমি কেচে দিচ্ছি, রাসেল ধুয়ে দিচ্ছে আর মটু মুন ছড়িয়ে দিচ্ছে। গোসল সেরে দিলাম ঘুম। কত ঘুম যে ভর করেছিল! (শেষ পর্ব বাকি)
১ম পর্ব Click This Link
শেষ পর্ব Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

