আমার প্রিয় পোস্ট

মুক্ত আকাশ দেখব বলে বয়ে চলা। আকাশ কেন মুক্ত হয় না।

তাজমহল দেখার গল্প '০১ (দ্বিতীয় পর্ব)

২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৪৪

শেয়ারঃ
0 0

বেনারস পৌঁছলাম ৭ টা ৫০ এ। শহরের কোথাও তেমন কোন আলো নেই। লোডশেডিং চলছে মনে হয়। একটু যেন ভয় ভয় করছে। জানলাম আগ্রা আর জয়পুর যাবার সর্বশেষ বাস ছেড়েঁ গেছে ৫ মিনিট আগে। খুপড়ি দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। চোখ ব্যাগগুলোর দিকে। কেউ একজন বলল্‌ কানপুর হয়ে আগ্রা যাওয়া যায়, বাস সর্বশেষ ৮ টায়। সাত-পাঁচ না ভেবে উঠে পড়লাম বাসে। আগ্রা, কানপুর কোন্‌টা কোথায় জানা নেই আমাদের। রাজ্যের ক্লান্তি ভর করেছে। তেমন কিছুতো খাইওনি। পানির বোতল আর বিস্কিট কিনলাম। বাস ছাড়ল ঠিক ৮টায়। কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি, কখন পৌঁছব জানি না। শুধু জানি আমাদেরকে যেতে হবে।

শহর ছেড়েছে বাস। বাইরে নিকশ কালো অন্ধকার। আজ কি জ্যোৎস্না রাত হতে পারত না! আমাদের ভয় করতে লাগলো। গাড়ীতে বেশি যাত্রী নেই। আমরা ছাড়া ১০/১২ জন হবে। মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে ব্যাগপত্র কেড়ে নিলে কিছুই করার থাকবে না। আর মেয়েরা তো আছেই।

ক্লান্তিতে-শ্রান্তিতে ঘুমে ঢুলুঢুলু সবাই। ঘুমাতে পারছিনা এক রত্তিও। গাড়ি চলছে তো চলছেই। সবাই ঘুমিয়েছে এখন। আমি আর মুন জেগে। রাত তখন ২ টা। কিছুটা সময় বিরতি। একজন চাওয়ালাকে পাওয়া গেল। মাটির কাপে চা অপূর্ব লাগল। আবার চলতে শুরু করেছি। নিস্তব্ধতা ভেংগে বাসের এগিয়ে চলা, শমরেশের গল্পের বইয়ের মতো। ভোর সাড়ে ৪ টায় এসে পৌঁছলাম কানপুর। ছোট্ট বাস স্টেশন। কেউ একজন আছেন ভিতরে। জানা গেলো আগ্রার বাস আসবে সকাল ৬ টায়, ছেড়ে যবে সাড়ে ৬ টায়। সবাই অপেক্ষা করছি। কিছুটা সময় পর আমি আর শামীম হাঁটছি রাস্তার ধারে। একটা টং দোকান খুলেছে। পাউরুটি ডিম দিয়ে ভাজছে। কিনে নিলাম। সবাই খাব ভাবছি। মুন মুখে তুলেই বমি করে দিলো। আমাদের আর খাওয়া হল না। ৬.৩০ এ বাস ছাড়ল।

এখন দিন, ভয়টা নেই। রাতের অচেনা পৃথিবীটা এখন অনেক বেশি চেনা। বাড়ি, ঘর, রাস্তা, গাছ-গাছালি আমাদের দেশের মতোই। শুধু ভাষাটা আলাদা। আগ্রাতে কোথায় উঠব জানি না। লোকজনের সাথে কথা বলছি। দুপুর ২.৩০ এ আগ্রায় এসে পৌঁছলাম। আমাদের আগের একটা গ্রুপ 'হোটেল আগ্রা' তে ছিল। সেখানেই থাকার জায়গা মিল্‌ল। আমাদের শক্তি বলতে অবশিষ্ট কিছু নেই। খাইনি তখনো। চারজন একসাথে বাথরুমে ঢুকে নোংরা কাপড় ধুতে লাগলাম। শামীম সাবান মাখছে, আমি কেচে দিচ্ছি, রাসেল ধুয়ে দিচ্ছে আর মটু মুন ছড়িয়ে দিচ্ছে। গোসল সেরে দিলাম ঘুম। কত ঘুম যে ভর করেছিল! (শেষ পর্ব বাকি)

১ম পর্ব Click This Link

শেষ পর্ব Click This Link

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): তাজমহল ;
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:১১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০১
দিগন্ত বলেছেন: বেনারস খুব নোংরা জায়গা।
২. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০৫
তিতাস একটি নদীর নাম বলেছেন: ধন্যবাদ।
আমার ও তাই মনে হয়।
৩. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৩
নেমেসিস বলেছেন: আর মোটে এক পর্ব ??

কারনটা কি আলসেমী ?? হাহাহা ......... :)
২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: হাহাহাহাহা কিছুটা আলসেমী বটে।

৪. ২১ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫২
দুঃখবিলাস বলেছেন: পূর্ণিমা রাতে তাজমহলের বিকিরণ চোখ ঝলসানোর মত। আশা করি, দেখেছেন
২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আমরা যেদিন গিয়েছিলাম অন্ধকার রাত ছিল। তাই পূর্ণিমা রাতের সৌন্দয্য দেখা হয়নি।

৫. ২১ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:৩০
ময়ুরবাহন বলেছেন: ভাল লেগেছে। তবে ভ্রমন কাহিনী ছবির সাথে পড়লে মানস ভ্রমন হয়। +
২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্য আর + এর জন্য।
আসলে আমি এখানে নতুন, সবকিছু বুঝে উঠতে পারিনি এখনো।
পরেরবার ছবি দিব আশা করছি।

২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ছবি দিব আশা করছি।

৭. ২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩৬
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: কাটমুন্ডু নিয়ে নানা ধরনের গল্প শুনি.....ঠিক নাকি?
২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
শুধু কাটমন্ডু কেন সব দেশের রাজধানী নিয়েই তো নানা ধরনের গল্প শোনা হয় আমাদের। কোনটা বিশ্বাসযোগ্য কোনটা অবিশ্বাস্য।

৮. ২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৪৪
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: কিন্তু নেট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় কাটমুন্ডুর কাহিনী সত্যি
৯. ২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৫৬
তিতাস একটি নদীর নাম বলেছেন: কি জানি রন্টি ভাই আমি বলতে পারবনা।
কি কাহিনী, কি বিষয়...হতেও পারে হয়ত।
১০. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৮
বীথিলতা বলেছেন: তিতাস, তাজমহল দেখতে গেছিলে কবে?
sorry, তোমার লেখাগুলো পড়তে দেরী হয়ে গেলো...
আর হ্যাঁ, তোমার একখানা ছবি আপলোড করো...
২৪ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:২৫

লেখক বলেছেন: আরে কি মজা। তুমি মন্তব্য করেছ!! ২০০১ সলে গিয়েছিলাম।
ছবি আপলোড করব। ভালো থেকো।

৩১ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
চেষ্টা করে যাবো।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৮২৭৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নদীর মত বয়ে চলা--এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। দিগন্ত দেখা হয় না। কিন্তু উৎস পিছু টানে। ফিরে যেতে পারি না।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই