দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। বিকেল ঠিক ৫ টায় রিসিপ্সন থেকে ফোন এল। অনেক্ষন হয়ত: বেজেছে। আমরা ঘুমের রাজ্যে ছিলাম। বলল যদি তাজমহল দেখতে চান এক্ষুনি তৈরী হয়ে চলে যান। কিসের ঘুম--হুড়মুড় করে ওঠে পড়লাম। উঠালাম অন্য সবাইকে। পোশাক বদলাতে ১০ মিনিট এর বেশি লাগেনি। মেয়েদেরকেও খবর দেয়া হয়েছে। মেয়েরাও ১০ মিনিটের বেশি সময় নেয়নি......এ এক আশ্চর্য বিষয়। হেঁটে যেতে ১০ মিনিট লাগবে। মনে মনে সপ্তাশ্বর্যের একটা দেখতে যাওয়ার তাড়না।
পিচঢালা পথে আমাদের পায়ের স্পর্শ রেখে হেঁটে চলেছি। আমাদের জানা ছিল টিকিট বিদেশীদের জন্য ২০ ডলার আর ভারতীয়দের জন্য ২০ রূপি। আমাদের কাছে ২০ ডলার অনেক। আমরা আলাদা-আলাদা গেলাম, যাতে কেউ বুঝতে না পারে। জীবনে দু'একটা যা হিন্দি শিখেছিলাম সবটুকু জাহির করে টিকিট কাটলাম। তারপর দুটো গেট পার হয়ে......................আহ্ কি শান্তি!!!! ২ দিনের সব ক্লান্তিকে ছাপিয়ে বিশাল কিছু পাওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা আমরা। কি অপূর্ব, কি অপরূপ সে দৃশ্য। মানুষে মানুষে সয়লাব। আফ্রিকা থেকে আমেরিকা, ইউরোপ থেকে অষ্টেলিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ.....সব মানুষ মিলেছে একসাথে। সাদা মার্বেল পাথরের আভায় ভরে আছে পরিবেশ। ঘাসের কোনায় স্নিগ্ধতার ছোঁয়া।
সবাই তাজমাহলের বাধানো পাথরের উপর বসে গল্পে মত্ত হলাম। যমুনা নদীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছি। ঐ দূরে নদীর জলের সীমা ছাড়িয়ে আকাশ মাটিতে মিশেছে কি? পাখিরা ডাকছে কি ঐ দূর নীলিমায়? দেয়ালে হেলান দিয়ে একদল বাংলাদেশী যুবক-যুবতী তাজমহল দেখ্ছে। তাজমহলটা একটু হেলে আছে কি নদীর দিকে!! এই গোধূলী বেলায় নুয়ে পরা সূর্যদেব দেখছে কি ছেলেমেয়েদের মানসিক উন্মত্ততা?
তারপর শায়িত মমতাজের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। ভালবাসার নিদর্শন এখন ঘুমে অচেতন। বিল ক্লিনটন বলেছিলেন, পৃথিবী ২ ভাগে বিভক্ত.যারা তাজমহল দেখেছে আর যারা দেখেনি। আমরা এখন দেখতে পারাদের দলে। আমাদের সবার ক্লান্তি উধাও। সন্ধ্যা ৭ টার পর বাইরে বের হলাম। রাস্তায় আলো নেই। তাজমহলের আশে পাশে রাতে আলো জ্বালানো হয় না। অন্ধকার কালো রাত। আমরা একে অপরের হাত ধরে সেতুবন্ধন রচনা করেছি....পরম ভাললাগায়। অন্ধকার গলিয়ে হাঁটছি আমরা--জীবনের গন্তব্য কোথায় জানি না।
বি. দ্র. গ্রুপের অন্যরা কিন্তু তাজমহল দেখতে পারেনি, আগ্রাতে পৌঁছেও।
১ম পর্ব Click This Link
২য় পর্ব Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


