ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু - চতুর্থ পর্ব - হিমু হওয়ার নিয়মাবলি - হুমায়ূন আহমেদ
০৯ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৮
হিমু হুমায়ূন আহমেদের এক অসাধারণ সৃষ্টি। হিমুর সৃষ্টি এবং পথচলা সম্পর্কে হুমায়ূন আহমেদ নিজেই লিগেছেন ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু। লেখাটি সম্ভবত কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। আমি এটা সংগ্রহ করেছি বাংলাদেশ ইনফো ডট কম থেকে। আমার কাছে অবশ্য হিমুর বইগুলো তেমন ভালো লাগে না। হিমুর চেয়ে আমার রবং মিসির আলীকেই বেশি পছন্দ। আমার কাছে ভালো না লাগলেও ব্লগে হয়তো এমন অনেক পাঠকই আছেন, যাদের প্রিয় চরিত্র হিমু। তাদের জন্যই এই লেখাটি দেওয়া হল।
পূর্ববর্তী পর্ব থেকে চলমান ...
বইমেলার ওই ঘটনার পর আমি হিমু হওয়ার নিয়মকানুন নিয়ে ভেবেছি| কিছু নিয়ম এখানে দিয়ে দিলাম| আরও কিছু মনে এলে সংশোধনী দেওয়া হবে|
হিমু হওয়ার নিয়মাবলি :
১| বয়স আঠারোর উপর হতে হবে| আঠারোর নিচে হিমু হওয়া যাবে না| বিশেষ ব্যবস্থায় আঠারোর নিচেও হিমু হওয়া যাবে‚ তখন বাবা-মা এবং স্কুলের হেডমাস্টার সাহেবের অনুমতি লাগবে|
২| হলুদ পাঞ্জাবি বাধ্যতামূলক| শীতকালে হলুদ চাদর পরা যেতে পারে| বাংলাদেশের সীমানার বাইরের হিমুরা হলুদ পাঞ্জাবির বদলে হলুদ শার্ট বা জ্যাকেট পরতে পারবে|
৩| খালি পা বাধ্যতামূলক না| কম দামি চামড়ার স্যান্ডেল পরা যেতে পারে| শীত প্রধান দেশের হিমুরা জুতা-মোজা পরতে পারবে|
৪| প্রতি পূর্ণিমায় পূর্ণচন্দ্রের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকা বাধ্যতামূলক| মেঘ-বৃষ্টির কারণে চাঁদ দেখা না গেলে কল্পনায় চাঁদ দেখতে হবে|
৫| বৃষ্টি বাদলার দিনে ছাতা ব্যবহার করা যাবে না| এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে যেতে হবে| ঠাণ্ডা লেগে গেলে চিকিৎসা নিতে হবে| হিমুরা শরীর ঠিক রাখার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে| এতে কোনো বাধা নেই|
৬| রাতে নির্জন রাস্তায় হাঁটার বিধান শিথিলযোগ্য| বইপত্রে দেখা যায়‚ হিমুরা সন্ত্রাসী এবং পুলিশের সঙ্গে ঠাট্টা তামাশা করে| নব্য হিমুদের এই কাজ করতে কঠিনভাবে নিষেধ করা হচ্ছে| র্যাবের হাত থেকে শত হস্ত দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়|
৭| হিমুরা কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা সমর্থনকারী হতে পারবে না| তাদের একটাই নীতি হিমুনীতি‚ রাজনীতি নয়|
৮| হিমুদের জন্য সপ্তাহে দুইদিন নিরামিষ আহার বাধ্যতামূলক| বাকি দিনগুলোতে মনের সুখে খাওয়া-দাওয়া করা যাবে|
ঌ| হিমুদের পাঞ্জাবিতে পকেট থাকে না| তবে কেউ যদি পকেট রাখেন তবে দোষ হবে না|
১০| হিমুরা কখনোই মানিব্যাগ ব্যবহার করতে পারবে না|
১১| তারা সব সময় হাস্যমুখে থাকবে‚ সবার সঙ্গে ঠাট্টা ফাজলামি ধরনের কথা বলবে‚ তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যদের সঙ্গে কখনো না| তারা ঠাট্টা ফাজলামি বুঝে না|
১২| আদি হিমুর পিতা যেসব নীতিমালা হিমুর জন্য লিখে গেছেন সেইসব নীতিমালা নিয়মিত পাঠ করতে হবে| সেই মতো জীবনচর্যাও পরিচালিত করতে হবে|
১৩| হিমুরা কখনোই কোনো তরুণীর সঙ্গে হৃদয়ঘটিত ঝামেলায় জড়াবে না| একসঙ্গে ফুচকা খাওয়া‚ ফাস্টফুড খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ|
১৪| এক হিমু অন্য হিমুকে আপন ভাইয়ের মতো দেখবে|
১৫| বিশেষ বিশেষ উৎসবে‚ যেমন পহেলা বৈশাখ‚ বিজয় দিবস‚ একুশে ফেব্রুয়ারিতে সব হিমুরা একত্রিত হয়ে হিমু সঙ্গীত গাইবেন| হিমু সঙ্গীত এখনো লেখা হয়নি| সঙ্গীত লেখা এবং সুর দেওয়া হিমু গেজেটে প্রকাশ করা হবে|
চলবে ..
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হিমু ;
প্রকাশ করা হয়েছে: সাহিত্য সংগ্রহ বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
চানাচুর বলেছেন:
একটা বই ছাপালেই পারতেন। এখানে লেখার কি দরকার ছিল। আর হিমু সঙ্গীত গাইবেন কেন?
চানাচুর বলেছেন:
আপনি সামনে থাকলে আপনাকে কয়টা কথা শুনায়ে দিতাম।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
চানাচুর তুমার বয়স হয় নাই!
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
আপনি কি লেখাটা ভালো করে পড়েছেন? আমি প্রথমেই লিখেছি এটা আমি বাংলাদেশ ইনফো ডট কম থেকে সংগ্রহ করেছি। টাইপ করিনি, জাস্ট এস.এম. মাহবুব মোর্শেদের কনভার্টার দিয়ে বৈশাখী থেকে ইউনিকোডে কনভার্ট করে নিয়েছি।
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
চানাচুর, আপনি কাকে কি বলছেন বুঝা যাচ্ছে না। হিমু সঙ্গীত গাওয়ার কথা আমার না, হুমায়ূন আহমেদের। তাকে সামনে পেলে যদি সাহস থাকে কয়েকটা কথা শুনিয়ে দিতে পারেন।
অণৃণ্য বলেছেন:
হিমু নায়ক এমন সবগুলি পড়েছি।আপনারএই লেখাটা প্রথম থেকে পড়ছি!অনেক ধন্যবাদ।পুরো লেখাটা একবারে দিলে পড়তে আনন্দ হতো!!!
অণৃণ্য বলেছেন:
৫/৫
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
সংস্থাপক, আমার আবারও মনে হচ্ছে যেসব ব্লগার পুরো লেখা না পড়েই কমেন্ট করে, আপনি তাদেরই একজন। কারণ আমি প্রথমেই বলেছি হিমু বিষয়ক লেখাগুলো আমার মোটেই ভালো লাগে না। কাজেই হুমায়ূন আহমেদ আমার মাথা খাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং না বুঝে কমেন্ট করার রোগে আমার মাথা শেষ হয়েছে ...
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
ধন্যবাদ অণৃণ্য।
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
আসলে শুধু কনভার্ট করেই পোস্ট করতে পারলে একবারেই দিয়ে দিতাম। কিন্তু কনভার্ট করার পর কিছু পরিবর্তন করতে হয়। তাই ধাপে ধাপে দিচ্ছি। পুরোটা দেওয়া হয়ে গেলে একবার একসাথে দিয়ে দিব।
। স্যরি ত্বোহা।এক সময় আমি মিসির আলীর সব পড়ে ফেলেছিলাম। মিসির আলী সিরিজের মধ্যে আমার কাছে সব চেয়ে ভাল লেগেছে দেবী। তোমার?
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
ধন্যবাদ সংস্থাপক। দেবীর পরেরটা কি যেন? নিশিথীনি (বানান টা ঠিক হল কি?) না? আমার কাছে ওটাই বেশি ভালো লেগেছে।
মানবী বলেছেন:
পর্ব গুলোর মাঝে বিরতি একটু কম হলে আরো ভালো হতো। ৪র্থ পর্বের জন্য ধন্যবাদ মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা)।
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
ধন্যবাদ মানবী। আসলে আমার বাসায় ইন্টারনেট নেই। সাইবার ক্যাফে থেকে ব্যবহার করি। তাই নিয়মিত আসতে পারি না।
ইেলারা বলেছেন:
ভাল লাগল বলে বারবার পড়ি। আরো লিখবেন আশা করি।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
ভালো লাগলো ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














