কী-বোর্ডর ভেতর চায়ের ফোঁটা!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
দিনটি ছিল ২২শে জুন, ২০০৪৷ এক ফিলিস্তিনি ভদ্রলোকের সহায়তায় এক মিসরীয় ভদ্রলোকের দোকান থেকে সবেমাত্র কম্পিউটারটা কিনে এনেছি৷ সবকিছু টেস্ট করে দেখলাম বেশ ভালোই সার্ভিস দিচ্ছে৷ এরপর এক কাপ গরম চা নিয়ে স্ক্রীনের সামনে বসে বসে আলপিনের ইন্টারনেট সংস্করনটা পড়তে শুরু করলাম৷
নওরীণ সুলতানার ই-পিন পড়তে পড়তে এতই তন্ময় হয়ে গিয়েছিলাম যে, কোন সময় চা মুখে দিতে গিয়ে একটু খানি চা ছলকে কী বোর্ডের মধ্যে ঢুকে গেছে, সেটা বুঝতেই পারিনি৷ আলপিন পড়া শেষ করে যখন সিরত বাংলাদেশী স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদযাপন উপলক্ষে ত্রিপলীস্থ রাষ্ট্রদূতের কাছে নিমন্ত্রণ পত্রটা কম্পোজ করার জন্য এম এস ওয়ার্ড খুলেছি, তখনই টের পেলাম যে কী বোর্ডটা ঠিক মতো কাজ করছে না৷
সাথে সাথে সেটাকে দোকানে নিয়ে গেলাম৷ মিসরীয় ভদ্রলোক আরবী-ইংলিশ মিশিয়ে যে একগাদা লেকচার দিলেন, তার মূল বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমান যুগ হচ্ছে ওয়ান টাইম ইউজের যুগ৷ কাজেই আমার উচিৎ কী বোর্ডের ড্রাইভারটাকে কম্পিউটারের রিসাইকেল বিনে এবং কীবোর্ডটাকে দোকানের ট্র্যাশ বিনে ফেলে দেওয়া এবং নতুন একটা কীবোর্ড কিনে সন্তুষ্টচিত্তে বাসায় ফিরে যাওয়া৷ আমি তার উপদেশ মতো সবই করলাম কিন্তু চিত্তটাকে কোনমতেই সন্তুষ্ট করতে পারলাম না৷
ক্লাস সেভেনের বাংলা পাঠ্যবই সপ্তবর্ণায় ফ্লেরেন্স নাইটিঙ্গেল সম্পর্কে হাতে নিয়ে আলোকবর্তিকা নামে একটা প্রবন্ধ আছে, যেখানে আর্ত মানবতার সেবায় নাইটিঙ্গেলের অপরিসীম অবদানের কথা উল্লেখ করে শেষে মন্তব্য করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের কথা জানে, কোথাও কোন নার্স তথা সেবিকা দেখার সাথে সাথে তার মনে নাইটিঙ্গেলের কথা ভেসে উঠে৷ কিন্তু সত্যি কথা হল, বিভিন্ন কারণে প্রায় প্রতি মাসেই দু-তিন বার করে হসপিটালে যাওয়া সত্ত্বেও আমার মনে কখনোই নাইটিঙ্গেলের কথা ভেসে উঠে না৷ বাস্তবে, সরকারি হসপিটাল ইবনে সীনাই হোক আর প্রাইভেট ক্লিনিক এয়াদা খালীজই হোক, সেখানে লিবিয়ান সুন্দরী তরুণী নার্সদের দেখে সেভেনের বইয়ে আঁকা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের কিম্ভুতকিমাকার সেই কৃষ্ণমূর্তিটির কথা মনে পড়ার কোনই কারণ নেই৷
কিন্তু আমার কীবোর্ডটা নষ্ট হওয়ার পর থেকে চা খেতে গেলেই ঘুরে ফিরে সে কথা মনে পড়ে৷ এই যেমন এই লেখাটি লেখার সময়ও শুধু সে কথাই আমার মনে পড়ছে আর মনে হচ্ছে, অন্তত একদিক থেকে আমার ভাগ্যটা ভালো৷ কারণ আমি যদি নারী বা শিশুর মতো আবেগ প্রবণ হতাম এবং এই লেখাটি লেখার সময় নিজের অজান্তেই কয়েক ফোঁটা চোখের পানি পড়ে কীবোর্ডটা আবার নষ্ট হয়ে যেত, তা হলে সেটা কত বড় দুঃখজনক ব্যাপার হত!
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।