ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু - নবম (শেষ) পর্ব - বালক হিমু - হুমায়ূন আহমেদ
১৫ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৫
হিমু হুমায়ূন আহমেদের এক অসাধারণ সৃষ্টি। হিমুর সৃষ্টি এবং পথচলা সম্পর্কে হুমায়ূন আহমেদ নিজেই লিগেছেন ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু। লেখাটি সম্ভবত কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। আমি এটা সংগ্রহ করেছি বাংলাদেশ ইনফো ডট কম থেকে। আমার কাছে অবশ্য হিমুর বইগুলো তেমন ভালো লাগে না। হিমুর চেয়ে আমার রবং মিসির আলীকেই বেশি পছন্দ। আমার কাছে ভালো না লাগলেও ব্লগে হয়তো এমন অনেক পাঠকই আছেন, যাদের প্রিয় চরিত্র হিমু। তাদের জন্যই এই লেখাটি দেওয়া হল।
পূর্ববর্তী পর্ব থেকে চলমান ...
পাঁচ-ছয় বছর আগে আমি অতি দু:সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম| একা থাকি দখিন হাওয়ার এক ফ্ল্যাটে| নিজের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। মাঝে মধ্যে নুহাশ আসে| হোটেল থেকে খাবার এনে দুজন মিলে খাই| সে কিছুক্ষণ থাকে| দুজন নানা বিষয়ে গল্প করি| একদিন সে হলুদ পাঞ্জাবি পরে উপস্থিত| আমি বললাম‚ বাবা পাঞ্জাবিটা সুন্দর তো!
সে খুশি খুশি গলায় বলল‚ মেজপা (শীলা) নিজের হাতে বানিয়েছে|
আমি বললাম‚ ভালো বানিয়েছে|
নুহাশ বলল‚ বাবা এটা হিমু পাঞ্জাবি| আমি হিমু হয়েছি|
আমি হিমুর পিঠে হাত রাখলাম| তাকিয়ে থাকলাম জানালার দিকে| কারণ চোখে পানি এসে যাচ্ছে| আমি চাচ্ছি না বালক হিমু পিতার চোখের পানি দেখুক|
শেষ কথা
দিন পনেরো আগের কথা| লেখালেখি করছি| হঠাৎ ধুপ করে আমার কোলে কী যেন পড়ল| তাকিয়ে দেখি‚ সর্বকনিষ্ঠ পুত্র নিষাদ হুমায়ূন| বয়স দুই মাস| তার মা তাকে সাজিয়ে এনে আমার কোলে ছেড়ে দিয়েছে| শাওন বলল‚ ছেলেকে দেখে কিছু কি বোঝা যাচ্ছে?
আমি বললাম‚ না|
ভালো করে তাকিয়ে দেখ|
আমি ভালো করে দেখলাম‚ কপালে কাজলের ফোঁটা ছাড়া আলাদা কিছু পেলাম না|
শাওন বলল‚ সে যে হিমু হয়েছে, এটা বুঝতে পারছ না? হলুদ পাঞ্জাবি‚ খালি পা|
আমি বললাম‚ আরে তাই তো!
দুই মাসের শিশু হিমু মহানন্দে হাত-পা ছুড়ছে| তার ভাব দেখে মনে হচ্ছে‚ রাস্তায় ছেড়ে দিলেই সে হাঁটতে শুরু করবে| একবারও পেছন ফিরে তাকাবে না| হিমুরা কখনো পেছনে তাকায় না| হিমু আইনে পেছনে ফিরে তাকানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ| তারা তাকিয়ে থাকবে ভবিষ্যতের দিকে|
সমাপ্ত
প্রকাশ করা হয়েছে: সাহিত্য সংগ্রহ বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ত্রিভুজ বলেছেন:
মনে হচ্ছে একটা ইন্টারেস্টিং পর্ব শেষ হলো.... আরেকটু লম্বা হোক... সমাপ্ত কেন?
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
আরেকটু লম্বা হোক? মূল লেখাটাই তো শেষ। আমি কি প্যারডি লিখে লম্বা করব?
বিবেক সত্যি বলেছেন:
আরেকটু লম্বা হোক.
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
ব্যাপারটা কি? গত আটটা পর্বে যারা একটা কমেন্টও দেয় নি, তারাই দেখি এখন "আরেকটু লম্বা হোক" দাবি করছে। একে কি যেন বলে? দন্ত থাকিতে ...
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
পূর্ববর্তী পর্বগুলো পড়ুন এখান থেকে - প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব
চতুর্থ পর্ব
পঞ্চম পর্ব
ষষ্ঠ পর্ব
সপ্তম পর্ব
অষ্টম পর্ব
ত্রিভুজ বলেছেন:
আগে পড়া হয়নি তো কি হইছে? এখন পড়ে নেব। আপনি লিখে যান। পর্বগুলোর লিংক দেয়ার জন্য থ্যাংকু.. :-)
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
ওকে। এখন সময় নেই। পরে পুরো পর্বটা একসাথে একটা পোস্টে দিয়ে দিব। তখন পড়তে সুবিধা হবে। ধন্যবাদ।
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
ভালোবাসা, আর নাই! আর নাই!
সম্ভব,অসম্ভব বলেছেন:
এ ধরনের আরো চাই
মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন:
সম্ভব, অসম্ভব, ধন্যবাদ। চেষ্টা করব এ ধরনের আরো দিতে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















