somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিবিয়া যুদ্ধে আমি এবং আমাদের নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স - পর্ব ৫

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লিবিয়া যুদ্ধে আমি এবং আমাদের নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স - পর্ব ৪

৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। সকাল নয়টার দিকে আমরা শামীমদের বাসা থেকে বেরিয়ে আমাদের বাসার দিকে যাত্রা শুরু করলাম। রক্বম ওয়াহেদে অবস্থিত ন্যাটোর বোমায় বিদ্ধস্ত একটা স্কুল, বিদ্রোহীদের মিসাইলে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া ওয়াহদা ব্যাংক এবং মেইন রোডের দুপাশে লুটপাট হওয়া দোকানপাটগুলো দেখতে দেখতে আমরা এগোচ্ছিলাম। রাস্তাগুলো গাড়ি চলার অযোগ্য। রকেট পড়ে জায়গায় জায়গায় রাস্তা গর্ত হয়ে আছে। হাইডলার রোড থেকে শুরু করে রক্বম ওয়াহেদ এবং রক্বম এতনীনের সামনের মেইড রোড এক থেকে দেড় ফিট পানির নিচে তলিয়ে আছে। সম্ভবত গোলার আঘাতে জায়গায় জায়গায় ফেটে যাওয়া পানির পাইপের কারণেই এ অবস্থা। বোঝা গেল, রক্বম তালাতা এবং সাওয়াবার দিকেই এখনও যা কিছু মানুষের বসবাস আছে, রক্বম ওয়াহেদ প্রায় ফাঁকা। আর রক্বম এতনীন যেন একটা নির্জন ভূতুড়ে নগরীর কংকাল। পুরো রক্বম এতনীনে মাত্র একটা ফ্যামিলি ছাড়া আর কাউকে দেখতে পেলাম না।

রাস্তার গার্ডরা এদিন আমাদের থামিয়ে পরিচয় এবং গন্তব্য জানতে চাইল, কিন্তু বাধা দিল না। বাসার কাছাকাছি পৌঁছে দেখতে পেলাম আমাদের বাসার পূর্বে যে রাস্তাটা সমুদ্রের পাড়ে উঠে গেছে, তার অপর পাশে মাতব্বর আংকেলদের বাসার ঠিক সামনে গাদ্দাফী বাহিনী বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বসে আছে। বোঝা গেল এই এলাকাতে এটাই গাদ্দাফী বাহিনীর মূল ঘাঁটি। সেখানে যে লিবিয়ান কমান্ডার, সে শাওন ভাইয়ার পূর্ব পরিচিত। সেও আমাদেরকে বাধা দিল না। তার কাছ থেকে জানতে পারলাম মাতব্বর আংকেলরা আরো আগেই বাসা ছেড়ে চলে গেছে। বাসা পর্যন্ত যেতে আমাদের বেশ ঝামেলা হল। রাস্তাগুলো উঁচু করে মাটি ফেলে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া জায়গায় জায়গায় পানিও জমে আছে। অবশেষে বাসায় এসে পোঁছলাম। বাসার কাছাকাছি আসতেই দেখি আমাদের মিনি বিড়ালটা আমাদেরকে দেখে পাগলের মতো মিঁয়াও মিঁয়াও চিত্‍কার করছে। দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও সে আমাদের বাসা ছেড়ে যায় নি।

এলাকার ভেতর দিয়ে আসার সময়ই লক্ষ করেছিলাম প্রতিটা বাড়ি খালি, কিন্তু বাড়িগুলোর দরজা-জানালা সব খোলা। তখন কারণটা বুঝতে পারিনি। আমাদের বাসায় ঢুকে দেখলাম বাসার সামনে যে উঠোনটা আছে, তার একপাশের দেয়াল ভাঙ্গা, অন্যপাশে একটা কাঠের দরজা ছিল বুড়ীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য, সেটাও খোলা। স্পষ্টতই, গাদ্দাফীর যোদ্ধারা প্রতিটা বাসার ভেতরে ঢুকে নিজেদের প্রয়োজন মত দেয়ালগুলো ভেঙ্গে রাস্তা তৈরি করে নিয়েছে, যেন জরুরী অবস্থায় যেকোন দিক দিয়ে আসা যাওয়া করতে পারে। উঠানে মাটির চুলাটার পাশেই একটা করলা গাছ লাগানো ছিল, সেই গাছের চালার উপরে দেখলাম একটা কালাশনিকভ রাইফেল রাখা। নামালে কোন ঝামেলায় পড়ি, আব্বু তাই সেটাকে না নামিয়ে গাছের পাতাগুলো দিয়ে আরো ঢেকে ঢুকে রাখল।

বাসার অবস্থা কাহিল। ধুলাবালি আর বুলেটের খোসায় উঠান ভর্তি হয়ে আছে। সেগুলো পরিষ্কার করে তাড়াতাড়ি লাকড়ির চুলায় রান্না চড়িয়ে দিলাম, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে আর বাহিরে রান্না করা যাবে না। রান্নাবান্না সেরে পাশের মুক্তাদের বাসায় গেলাম তাদের খোঁজ নিতে। দেখলাম ওরা ভালোই আছে। মুক্তার আব্বা আমিনুর আংকেলের দুইজন বন্ধু খান এবং শাহীনও তাদের সাথে আছে। এছাড়া আরেকটু দূরে রাস্তার মুখে থাকত হিরণ ভাইয়ের ফ্যামিলি, তারাও মুক্তাদের বাসায় এসে উঠেছে। তাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম নবী স্যাররা, রমজান আংকেলরা আর আলিম আংকেলরা সবাই সিরতের দক্ষিণে অবস্থিত গার্বিয়াত নামক এলাকায় গিয়ে উঠেছে। ঐ এলাকার অধিবাসীরা অধিকাংশই ফারজানী ক্বাবিলার, এবং তারা ভেতরে ভেতরে বিদ্রোহীদের পক্ষে আছে। কাজেই আশা করা যায়, ঐ এলাকায় যুদ্ধ হবে না এবং তারা নিরাপদেই থাকবে। সৌরভদের কথা কেউ বলতে পারল না। তারাও হয়তো গার্বিয়াতে গিয়ে থাকতে পারে, অথবা ইবনে সীনা হসপিটালের আবাসিক ভবনেও গিয়ে উঠতে পারে।

জাফরানের দিকে বেশ কদিন ধরে যুদ্ধ হয় নি, এদিনও হল না। তবে রক্বম তালাতার দিক থেকে সারাদিনই যুদ্ধের আওয়াজ পাওয়া যেতে লাগল। সারাদিন আমরা ঘরেই কাটালাম আর দেখলাম আশেপাশে গাদ্দাফীর সৈন্যরা হেঁটে হেঁটে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। মাতব্বর আংকেলের বাসার সামনে দেখা কমান্ডারটা লিবিয়ান হলেও এলাকার ভেতরে যেসব সৈন্য ঘুরছিল, তাদের অধিকাংশই নিগ্রো। হয়তো চাদ, নাইজার বা মৌরিতানিয়ার, অথবা তাওয়ার্গার আফ্রিকান বংশোদ্ভুত লিবিয়ান। তাদের অনেককেই দেখলাম টহল দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দরজা খোলা বাসার ভেতরে ঢুকছে এবং বস্তায় ভরে বিভিন্ন জিনিস ভরে নিয়ে যাচ্ছে।


শনিবারে সকাল থেকে রক্বম তালাতার দিক থেকে ভয়াবহ যুদ্ধের আওয়াজ আসতে লাগল। সারাদিন প্রচন্ড যুদ্ধ চলল। রবিবার বিকেলে আ'তেফ আর হামজা বাসায় ফিরল। জানাল রক্বম তালাতায় থাকা সম্ভব না। সেখানে জয়নবের বাবাদের সামনের বাসাতেই মিসাইল পড়েছে। সেই বাসার দেয়ালের ভাঙ্গা টুকরা জয়নবের বাবাদের বাসায় এসে ঢুকেছে। এছাড়া বিদ্রোহীরা সিরতবাসীকে আত্মসমর্পন করার নইলে সিরত ছেড়ে যাওয়ার জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছে। তাই বুড়ীরা এবং জয়নবের বাবারা সবাই আগামীকাল ভোরেই ঘর ছেড়ে গার্বিয়াতে তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে উঠবে। আম্মু আর তিথিকে তারা তাদের সাথেই নিয়ে যাবে, কিন্তু গাড়িতে জায়গা হবে না বলে আমাদেরকে নিতে পারবে না। যদি পরে সুযোগ পায় তাহলে এসে আমাদেরকে নিয়ে যাবে। আ'তেফ আর হামজা যাওয়ার সময় বুড়ীর বাড়ির স্টোরের চাবি আমাদেরকে দিয়ে বলে গেল যুদ্ধ যখন চলবে না তখন সময় বুঝে আ'তেফের বাসা থেকে জামা-কাপড়, কার্পেট ইত্যাদি এনে স্টোরে রাখতে। আ'তেফের বাসাটা এই এলাকার সবচেয়ে বিলাসবহুল বাসার মধ্যে একটা। কিন্তু প্রথম দিকের গোলাগুলিতেই তার বাসার বিভিন্ন কাঁচের দেয়াল, জানালা ভেঙ্গে পড়ে গেছে, মূল দরজা ভেঙ্গে গেছে। তার ভয় যেকোন সময় একটা শেল এসে পড়লে ঘরে আগুন ধরে যেতে পারে। যাওয়ার সময় আমাদেরকে প্রয়োজনে স্টোর থেকে তেল-চিনি সহ বিভিন্ন খাবার জিনিস ব্যবহার করতেও বলে গেল।

পরদিন সোমবার থেকে জাফরানের দিকেও যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। তবে যুদ্ধ শুধু বিকেল বেলাই হতো। সন্ধ্যার আগে আগে হঠাত প্রচন্ড আকার ধারণ করত, এরপর হঠাত করেই আবার থেমে যেত। সকালের দিকে আমরা আ'তেফের বাসায় গিয়ে তার কাপড়-চোপড়গুলো সরিয়ে আনতাম। কিন্তু দু'দিন না যেতেই একটা জিনিস লক্ষ করলাম, রাতের বেলা আ'তেফের বাসায় মানুষ ঢোকে। কারণ প্রতিদিন গিয়েই দেখি কিছু না কিছু জিনিস নেই। অবশ্য বেশির ভাগই খাবার-দাবার আর ছোটখাটো দামি জিনিস। টিভি, স্যাটেলাইট রিসিভার সহ দামি জিনিসগুলো বাঁচানোর জন্য একদিন আমি সেগুলো একটা রুমে ঢুকিয়ে সেই রুমটা লক করে তার চাবি বাথরুমে লুকিয়ে রাখলাম। পরদিন সকালে গিয়ে দেখি হিতে-বিপরীত। সেই রুমের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে সব জিনিসপত্র উলোট-পালট করে তন্ন তন্ন করে তল্লাশী চালানো হয়েছে। রাতের বেলা কারেন্ট থাকে না, ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকারের মধ্যেও প্রতিদিন কে ঢুকে সেটা একটা রহস্যই বটে! পরদিনই অবশ্য রহস্যের আংশিক সমাধান হল। সকালে গিয়ে দেখি আ'তেফের রান্নাঘরে একটা রকেট লঞ্চারের রকেটের প্যাকেট রাখা, একেবারে নতুন, এখনও খোলা হয়নি। সম্ভবত যে সৈন্যটা ঢুকেছিল সে তল্লাশী চালানোর জন্য প্যাকেটটা এখানে রেখে গিয়েছিল, পরে ভুলে গেছে। এদিন গিয়ে দেখি ফ্রিজের মধ্যে হাফ কেজি বাটারের যে প্যাকেটটা ছিল, সেটাও গায়েব। আমাদের ঘরে নাশতা করার কিছু নেই, আর গাদ্দাফীর সৈন্যরা কি না পাশের ঘরে ঢুকে মানুষের ঘর থেকে খাবার চুরি করে নিয়ে যায়! কাজেই এদিন আমরা আ'তেফের রান্নাঘর থেকে কফির বোতল, টুনা মাছ সহ টুকটাক যেসব খাবার ছিল, সেগুলো নিয়ে গেলাম। শুধু কিছু পেঁয়াজ-রসুন ছিল, সেগুলো নিলাম না। পরদিন গিয়ে দেখি সেগুলোও নেই।

ঘরে আমাদের জীবন প্রচন্ড একঘেঁয়েমির মধ্যে কাটতে লাগল। সকাল ছয়টা-সাতটার দিকে ঘুম থেকে উঠে লাকড়ির চুলায় রুটি বানানো শুরু করি। নাশতা খেয়ে সেরেই আবার ভাত আর তরকারি রান্না শুরু করে দেই। তরকারি বলতে গাছের পেঁপে, করলা আর ডাল। রান্না-বান্নার কাজ মূলত শাওন ভাইয়াই করে, আমি মাঝেমাঝে সাহায্য করি। দুপুরের খাওয়া শেষ হতে না হতেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আমরা সবাই ঘরের একেবারে মাঝখানে তিথির রুমটাতে মাটিতে ম্যাট্রেস বিছিয়ে তার উপরে বসে থাকি। আশেপাশে মিসাইল এসে পড়তে থাকে, মেশিনগানের একটানা শব্দে কান বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। এর মধ্যে আমরা বসে বসে আল্লাহ‌্‌ আল্লাহ্‌ করতে থাকি। ঘর থেকে তো বের হতে পারিই না, ঘরের ভেতরও একটু জোরে কথা বলতে পারি না। কারণ আমাদের বাসার ঠিক সামনে থেকেই গাদ্দাফীর তিন-চারটা সৈন্য ফায়ার করতে থাকে। মাঝে মাঝে গুলি ভরার জন্য বুড়ীর গ্যারেজেও ঢুকে যায়। ছোট্ট একটা বাসার মধ্যে দিনের পর দিন বন্দীর মতো কাটানোটা অসহ্য হয়ে উঠে। মাঝে মাঝে মনে চায় ডাক ছেড়ে কাঁদি। প্রচন্ড একাকীত্বে হতাশ মানুষ কেন আত্মহত্যা করে, তার কিছুটা এখন অনুমান করতে পারি।

সন্ধ্যার দিকে যুদ্ধ থেমে যায়, কিন্তু শুরু হয় ন্যাটোর উড়াউড়ি। এরা যে কি জন্য উড়ে, কে জানে? ১৯শে মার্চ, যেদিন গাদ্দাফী বাহিনী শত শত ট্যাংক নিয়ে বেনগাজী ঢুকে পড়ছিল, সেদিন সেই ট্যাংকগুলো ধ্বংস করাই সম্ভবত ন্যাটোর একমাত্র কাজের কাজ ছিল। কিন্তু এরপর থেকে যত আক্রমণ করেছে, তার অধিকাংশই অপ্রয়োজনে। এপ্রিল মে'র দিকে তো বিদ্রোহীদের উপরও বেশ কয়েকবার ন্যাটো হামলা করেছে। সিরতে ন্যাটো যতগুলো হামলা করেছে, তার অধিকাংশই খালি জায়গায় অথবা বিভিন্ন আর্মি অফিসারের ফাঁকা বাড়িতে, অথবা এমন অস্ত্রভান্ডারে যেখান থেকে মাত্র কয়েকদিন আগে সব অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোযার মাসে একদিন সিরতের একটা রেস্ট হাউজে গাদ্দাফীর দুই ছেলের পরিবার এসে উঠেছে, এরকম একটা গুজব শোনা গেল। সেদিন ন্যাটো ঐ এলাকায় লিফলেট ফেলল যেন সাধারণ মানুষ ঐ এলাকা ছেড়ে চলে যায়, ওখানে হামলা করা হবে। ঠিকই তার দুই দিন পর, যখন গাদ্দাফীল ছেলের পরিবার ঐ এলাকা ছেড়ে চলে গেল, ভেতরে রাখা অস্ত্র-শস্ত্র সরিয়ে ফেলা হল, তারপর ন্যাটো ওখানে বোমা মারল। ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্য মনে হয় লিবিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংস করা, যেন পশ্চিমা দেশগুলোই যুদ্ধের পরে রিকনস্ট্রাকশনের কাজগুলো পায় আর সেই সাথে লোক দেখানো বোমা মেরে যুদ্ধটাকে যথাসম্ভব দীর্ঘায়িত করা।

এই যেমন এখন সিরতে যে যুদ্ধটা চলছে, গাদ্দাফী বাহিনী অল্প কয়েকটা জায়গা থেকে মিসাইল মারছে। রক্বম তালাতায় শামীমদের বাসার পেছনের সেই গাছপালা ঢাকা বাড়িটা থেকে, আর রক্বম এতনীনে মাতব্বর আংকেলের বাসার সামনে থেকে। এছাড়া আরো কয়েকটা হাতে গোনা দোতলা বাড়ির ভেতর থেকে। আমরা আ'তেফের দোতলায় উঠে জানালা দিয়ে তাকালে দিনের বেলাতেও স্পষ্ট দেখতে পাই আগুনের গোলা ঠিক কোথা থেকে বেরিয়ে কোথায় গিয়ে পড়ছে। আর দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা উড়ে ন্যাটো সেটা দেখতে পায় না? এই কয়েকটা পয়েন্টে বোমা মারলেই যুদ্ধটা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ন্যাটো এখানে না মেরে মারে অপ্রয়োজনীয় জায়গায়। তবে একটা কথা স্বীকার করতেই হবে, আফগানিস্থান, ইরাক আর পাকিস্তানে ন্যাটো যেরকম উল্টাপাল্টা সাধারণ জনগণের উপর আক্রমণ করে, লিবিয়াতে সেরকম করে নি। জুন মাসের দিকে ব্রেগায় একটা রেস্ট হাউজে ষোলজন ঈমামের উপর, জুলাইয়ে ত্রিপলীতে একটা বিল্ডিংয়ে ২২ জনের উপর, জিলিতনে আরেকটা পাঁচতলা বিল্ডিংয়ে ৮৫ জনের উপর, এরকম পাঁচ-ছয়টা কেস ছাড়া বাকি সবগুলো মিলিটারিদের উপর এবং মিলিটারি সম্পর্কিত জায়গাতেই মেরেছে। ত্রিপলী দখল হওয়ার দিন পর্যন্ত লিবিয়াতে ন্যাটো মোট বোমা মেরেছে সাড়ে সাত হাজার। এর মধ্যে গোটা দশেক যদি সিভিলিয়ানদের উপর পড়ে, তবে ন্যাটোর বিশ্বব্যাপী ভূমিকার তুলনায় সেটাকে কমই বলতে হবে।

প্রথম সপ্তাহটা মোটামুটি একই রকম কাটল। দুপুরের পর যুদ্ধ শুরু হয়ে সন্ধ্যার দিকে থেমে যায়। কিন্তু ৭ অক্টোবর শুক্রবার থেকে রুটিন পরিবর্তন হয়ে গেল। এদিন ভোর ছয়টার সময় যুদ্ধ শুরু হয়ে সারাদিন চলল। এরপর থেকে প্রতিদিনই সকাল দশটার দিকে যুদ্ধ শুরু হয়, সারাদিন চলে সন্ধ্যার দিকে শেষ হয়। এই গোলাগুলির মধ্যে লাকড়ির চুলায় রান্না করা অসম্ভব তাই আমরা বুড়ীর স্টোরে একটা অর্ধেক ভরা গ্যাস সিলিন্ডার পেলাম, সেটা এনে ব্যবহার করা শুরু করলাম। সারাদিন আমরা রান্নাবান্না ছাড়া বাকি পুরো সময়টা তিথির রুমে নিচে বসে থাকি। সন্ধ্যার পর শুধু এশার আজানের জন্য অপেক্ষা করি। আশেপাশের মসজিদগুলোদে পরিত্যাক্ত, তাই অনুমান করে আটটার দিকে নামাজ পড়ে খেয়েই শুয়ে পড়ি। আগে শুধু দিনেই যুদ্ধ হতো। কিন্তু এখন দু ঘন্টা ঘুমানোর পরেই মিসাইলের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। রাত দশটা-এগারোটার দিকে একবার ঘন্টা খানেকের জন্য আবার রাত তিনটা-চারটার দিকে আরেকবার ঘন্টা খানেকের জন্য মিসাইল আক্রমণ শুরু হয়।

দিন যত এগোতে লাগল, যুদ্ধের তীব্রতা ততই বাড়তে লাগল। সারাদিন প্রচন্ড রকেট হামলা আর গোলাগুলির পর সন্ধ্যার সময় যখন থামে, তখন ওয়ালের উপর দিয়ে উঁকি মেরে দেখি পুরা রক্বম এতনীনে আগুনের ধোঁয়ার জন্য কিছু চোখে দেখা যাচ্ছে না। শব্দ শুনে অনুমান করছিলাম বিদ্রোহীরা সম্ভবত একদিকে হাইডলার আর অন্যদিকে বিন হাম্মাল মসজিদ পর্যন্ত ঢুকে গেছে। ন্যাটোর উপড়াউড়ি দেখে সেটা আরো পরিষ্কার বুঝা গেল। আগে ন্যাটো এতো উপর দিয়ে উড়ত যে দেখাই যেত না, কিন্তু এখন একেবারে পরিষ্কার দেখা যায়। আর এখন ঠিক আমাদের মাথার উপর দিয়েই, অর্থাত শুধু রক্বম এতনীন আর রক্বম ওয়াহেদের উপর দিয়েই বারবার ঘুরে ঘুরে উড়ে। কিন্তু কথা হচ্ছে মাত্র এই এতটুকু এলাকাই যদি দখল করা বাকি থাকে, তাহলে বিদ্রোহীরা এখনও দখল করতে পারছে না কেন? মূল যারা লিবিয়ান, তাদের অধিকাংশই পালিয়েছে। যুদ্ধ যারা করছে তাদের অধিকাংশই আফ্রিকান মোরতাজাক্বা (মার্সেনারি)। আমরা যতটুকু দেখছি, আমাদের এলাকাটায় গাদ্দাফীর সৈন্যের সংখ্যা খুব বেশি হলে পঞ্চাশ জন। পুরো সিরতে এই মুহূর্তে গাদ্দাফীর সৈন্য সংখ্যা খুব বেশি হলে তিনশ জন। এই কয়জনকে বিদ্রোহীরা হারাতে পারছে না! তবে কি এতোদিন ধরে যেগুলোকে আমরা গাদ্দাফীর মিডিয়ার প্রপাগান্ডা মনে করতাম, সেগুলোই আসলে সত্য। পশ্চিমা মিডিয়ার সংবাদগুলোই প্রপাগান্ডা? বিদ্রোহীরা আসলেই সংখ্যায় খুবই কম? মাত্র কয়েকশো? কিন্তু তাহলে মাত্র এক রাতের মধ্যে ত্রিপলী দখল করল কিভাবে? একই সাথে সিরত, সাবহা আর বেনওয়ালিদের মতো তিনটা শব্তিশালী শহর আক্রমণ করার মতো সাহস পেল কিভাবে? আমি কোন যুক্তি খুঁজে পাই না।

১০ তারিখের দিকে যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করল। এখন প্রায় চব্বিশ ঘন্টাই যুদ্ধ চলে। কামালের বাসায় আগেই একদিন একটা রকেট পড়ে দুইটা রুম পরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এদিন সন্ধ্যার সময় আ'তেফের বাড়িতেও দুইটা মিসাইল এসে ঢুকে একতলা-দোতলা দুটোকরই ধ্বংস করে দিল। প্রচন্ড শব্দে আর গরম বাতাসের ঝাপটায় আমরা কেঁপে উঠলাম। ঘরের ভেতর কুপি বাতি জ্বলছিল, সেটাও নিভে গেল। এই প্রথম আমাদের এতো কাছাকাছি মিসাইল পড়ল। মিসাইল যখন দূরে পড়ে, তখন পড়ার আগে কয়েক সেকেন্ড ধরে শোঁ করে বাতাস কেটে যাওয়ার একটা শব্দ শোনা যায়, এরপর ফাটার আওয়াজটা আসে। কিন্তু যখন একেবারে কাছে পড়ে, তখন শোঁ শব্দটা শুনা যায় না, কিছু বুঝে উঠার আগেই একেবারে হঠাত করেই প্রচন্ড শব্দে ফেটে পড়ে।

পরদিন ১১ তারিখ দুপুরে আমি আমার টিনের ছাদওয়ালা রুমটাতে বসেছিলাম। হঠাত উঠোনের ঠিক বাইরেই একটা রকেট এসে পড়ল, ধোঁয়ায় চারদিক ভরে গেল, রকেটের ভাঙ্গা লোহার টুকরাগুলো উঠানে এসে পড়তে লাগল। আমি একটা চিতকার করে লাফিয়ে তিথির রুমে গিয়ে ঢুকলাম। এর কিছুক্ষণ পরেই আশেপাশে একেবারে কাছেই আরো কয়েকটা মিসাইল এসে পড়ল, সেগুলো পড়ার সাথে সাথে ঘরের ছাদ আর ছাদে ঝুলানো সিলিং ফ্যান এমন ভাবে কাঁপতে লাগল, মনে হল যেন ছাদ ভেঙ্গে মাথার উপর এসে পড়বে। তারপর দিন ১২ তারিখে ঘুম থেকে উঠে দেখি লাইনে পানি নেই। হয়তো বিদ্রোহীরা লাইন কেটে দিয়েছি, অথবা মিসাইল পড়ে কোথাও পাইপ ফেটে গেছে। আশেপাশে পানি আছে কি না দেখার জন্য একটু বের হলাম, দেখি মুক্তাদের বাসার সামনে সালেম মেরোয়াহ্‌দের বাসার দোতলার বারান্দা ভেঙ্গে পড়ে আছে, মোহাম্মদের বাসার একপাশের দেয়াল ভেঙ্গে আছে। তার সামনে ওমর ক্বাসেমদের বাড়ির দোতলার ভেতরে আগুন জ্বলছে। আমার আরেকটু সামনে গিয়ে দেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু দেখি গাদ্দাফী বাহিনীর পনের-বিশ জন নিগ্রো সৈন্য লাইন ধরে দেয়াল ঘেঁষে ঘেঁষে সামনের দিকে যাচ্ছে সম্ভবত কোন অ্যাটাক করার জন্য।

আশেপাশে বোমা পড়ার কম্পনে আমাদের বেডরুমের কাঠের জানালাটা প্রায় ভেঙ্গে যাচ্ছিল। দুপুরের দিকে আব্বু যখন সেটা ঠিক করছিল, তখন শব্দ শুনতে পেয়ে দুইজন সৈন্য দেয়াল টপকে আমাদের বাসায় ঢুকে গেল। দুজনই আমাদের দিকে রাইফেল তাক করে ধরে আছে। এলাকার লিবিয়ান যোদ্ধা হলে কথা ছিল না, তারা সবাই আমাদেরকে চিনে, কিন্তু এরা আফ্রিকান, জীবনে কখনো দেখিনি। তারাও আমাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখতে লাগল। বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগল, কি করছি, আর কে আছে, বিদ্রোহীদের দেখেছি কি না, ইত্যাদি। তাদের কাছ থেকেই জানতে পারলাম বিদ্রোহীরা খুব কাছে এসে গেছে, রাতের বেলা তারা গোপনে এই এলাকাতেও ঢোকে। সৈন্য দুটো আমাদেরকে জিজ্ঞেস করল এলাকায় বাংলাদেশী আর কে আছে। আমরা মুক্তাদের বাসাটা দেখানোর জন্য হুট করে দরজা খুলতে যেতেই সে ধমকে উঠল আস্তে দরজা খোলার জন্য। তারপর নিজের হাতেই খুব ধীরে ধীরে দরজা খুলে একটু মুখ বের করে দুই পাশে উঁকি মারল। তারপর দেয়াল ঘেঁষে ঘেঁষে হেঁটে চলে যেতে লাগল। আমাদেরকে বলে গেল ঘর থেকে যেন বের না হই, আর যদি জেরদানদেরকে (ইঁদুরগুলোকে, অর্থাত বিদ্রোহীদেরকে) দেখি তাহলে যেন তাদেরকে জানাই।

দুপুরের দিকে হিরণ ভাই আমাদের বাসায় এল পানি আছে কি না দেখার জন্য। হিরণ ভাই জানাল সকালে সে তার বাসার সামনের বাগানে গিয়েছিল গাছ থেকে লাউ-টাউ কিছু পাওয়া যায় কি না, দেখতে। এমন সময় চার-পাঁচজন গাদ্দাফীর সৈন্য এসে তার গলার মধ্যে রাইফেল ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল, তার ঘর চেক করল। পরে যখন বুঝতে পারল যে সে সাধারণ মানুষ তখন ধাক্কা দিয়ে বলল, যেখানে ছিলা সেখানে যাও। আর যদি কখনো বাইরে দেখি সোজা গুলি করে দিব। হিরণ ভাই তখন বলল, ঘরে পানি নাই, তাছাড়া যেভাবে মিসাইল পড়ে, ঘরে থাকা সম্ভব না। সৈন্যগুলো বলল, সেটা আমরা জানি না। ঘরে ঢুকে বসে থাক। আমরা কিছু করতে পারব না।

১৩ তারিখ আমাদের বাসার দুই পাশের দরজার সামনে আরো দুটো মিসাইল পড়ল। লোহার তৈরি দুটো দরজাই গরম লোহার টুকরার আঘাতে ছিদ্র ছিদ্র হয়ে গেল। এদিন বুড়ির বাসার দেয়ালেও একটা রকেট এসে পড়ল, কিন্তু ফাটল না। মোহাম্মদের বাসার একপাশে আগেরদিন একটা পড়েছিল, এদিন উল্টাপাশেও একটা ১০৬ মিমি মিসাইল এসে পড়ল। বোমার আঘাতে মোহাম্মদের দুটো দরজাই ভেঙ্গে গেল। দেখার জন্য আমরা ভেতরে ঢুকলাম। ঢুকে দেখি এর মধ্যেই কেউ এসে ম্যাট্রেস, কার্পেট, জামা-কাপড় উল্টেপাল্টে তল্লাশী চালিয়ে গেছে। কামালের বাসায় আগেই মিসাইল পড়েছিল। এদিন সেটা দেখতে গিয়ে দেখি সেখানে একইভাবে তল্লাশী চালানো হয়েছে। এছাড়া সেখানেও একটা আরপিজির রকেটের প্যাকেট দেখতে পেলাম। আ'তেফের বাসায় এদিন আর ঢুকতে পারলাম না। কারণ বাহির থেকেই বুঝতে পারলাম কেউ একজন ভেতরে আছে। আগে শুধু রাতের বেলাই আ'তেফের বাসায় ঢুকত, এখন দিনের বেলাও ঢুকে। বাসাটার সিঁড়িঘরে উঠলে পুরো এলাকাটা নজরে পড়ে। তাই সম্ভবত একজন স্নাইপার মাঝে মাঝে ওখানে ওঠে। এদিন বিকেলে আমার টিনের রুম ছিদ্র হয়ে একটা বুলেট ঢুকে ঘরের ভেতর পড়ল। ভাগ্য ভাল, ঐ মুহূর্তে কেউ ঐ রুমে ছিলাম না।

১৪ই অক্টোবর, ২০১১। আমাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ রাত। সারাদিন যুদ্ধ চলার পর এদিন রাত তিনটার দিকে হঠাত প্রচন্ড মিসাইল আক্রমণ শুরু হল। এবং সবগুলো মিসাইল একেবারে আমাদের ঘরের আশেপাশেই পড়ছে। শব্দ শুনে বোঝা যাচ্ছে মিসাইলগুলো মারা হচ্ছে এক কিমি এরও কম দূর থেকে। একেকটা মিসাইল পড়ার সাথে সাথে পুরো ঘর ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে উঠছে। আর তার প্রায় সাথে সাথেই মিসাইলের ছোট টুকরাগুলো আমাদের ছাদে এবং উঠানে এসে পড়ছে। শুয়ে থাকা অসম্ভব, আমরা উঠে সিদ্ধান্ত নিলাম, হামজার নতুন তৈরি করা বাসায় গিয়ে ঢুকব। যে হারে মিসাইল আসছে, যেকোন মুহূর্তে আমাদের ঘরেও পড়তে পারে। আর একটা পড়লেই পুরানো আমলের বাড়ির ছাদ একেবারে ধসে যাবে। ঘুটঘুটে অন্ধকার, তাই আমরা কুপি বাতি জ্বালিয়ে একজন একজন করে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম। একটা করে মিসাইল পড়ে, সাথে সাথে একজন করে দৌড়ে হামজার বাড়িতে ঢুকে যাই। আমরা হামজার বাড়িতে ঢুকার সাথে সাথেই গাদ্দাফী বাহিনী খুব কাছ থেকেই মেশিনগানের ফায়ার শুরু করল। আমরা প্রচন্ড ঘাবড়ে গেলাম। কারণ রাতের বেলা মিসাইল আক্রমণ নিয়মিত ঘটনা, কিন্তু মেশিনগানের ফায়ার এই প্রথম। আমাদের সন্দেহ হল, আমাদের কুপিবাতির আলো দূর থেকে দেখে ফেলে সন্দেহ করে বসে নি তো? মাটিতে বসে বসে আমরা মনে মনে দুরূদ পড়তে লাগলাম।

কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীদের দিক থেকেও পাল্টা ফায়ার শোনা যেতে লাগল। সাথে সাথে মনে হল রমজান আংকেলদের বাসার দিক থেকে বিরোধীদের চিতকার-চেঁচামেঁচির আওয়াজও শুনতে পাচ্ছি। বিদ্রোহীরা সম্ভবত রাতের অন্ধকারেই ঢুকে যেতে চেষ্টা করছে। আমাদের ভয় হল, এখন যদি বিদ্রোহীরা এই এলাকায় ঢুকে পড়ে, আর কোন ভাবে টের পায় এই বাসার ভেতরে কেউ আছে, তাহলে নিঃসন্দহে ব্রাশ ফায়ার করে দিবে। কারণ ওরা তো আর জানে না, শহরের ভেতরে এখনও কোন সিভিলিয়ান আছে। তাই আমরা এই প্রচন্ড মিসাইল আক্রমণ আর মেশিনগানের গোলাগুলির মধ্যেই আবারও বাতি না জ্বালিয়েই হাতড়ে হাতড়ে ঘরে ফিরে এলাম। সেদিন আমাদের বাসার ১০০ মিটার পরিধির মধ্যে অন্তত দুই-তিন শো মিসাইল মারল বিদ্রোহীরা। আল্লাহ‌্‌র অশেষ রহমতে আমাদের উপর একটাও পড়ল না। কিছুক্ষণ পরেই ধীরে ধীরে মিসাইলগুলো আরেকটু পূর্ব দিকে, অর্থাত রক্বম এতনীনের ভিতর দিকে গিয়ে পড়তে লাগল। বুঝতে পারলাম, বিদ্রোহীরা একটা একটা করে এলাকা ক্লিয়ার করছে। বুঝতে পারলাম সিরত যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। কিন্তু এই শেষটা কি আমাদের জন্য ভালো হবে না খারাপ হবে? প্রথমে যখন ন্যাটো বোমা মারত, তখন আমি মোটেই ভয় পেতাম না। মনে হতো, কত বড় দেশ, এর মধ্যে ঠিক কি আমাদের উপরেই বোমা এসে পড়বে? প্রবাবিলিটি বলে একটা কথা আছে না? কিন্তু এখন যে হারে মিসাইল পড়ছে, প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মনে হয়, আজই বুঝি জীবনের শেষ রাত। এতোদিন যে বেঁচে আছি, সেটাই তো ভাগ্য! এই যুদ্ধ আর নার্ভে সহ্য হচ্ছে না। মনে হচ্ছে মরলে মরি, তবুও যেন বিদ্রোহীরা ঢুকে যায়, তবুও যেন যুদ্ধটা শেষ হয়!

... চলবে ...
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:২৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×